ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া আলোচনায় বসছে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ২৭ ১০:০৬:৫৭
ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া আলোচনায় বসছে
ছবিঃ সংগৃহীত

টানা তিনদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থাইল্যান্ড অবশেষে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে। এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং এক লাখ পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

শনিবার (২৬ জুলাই ২০২৫) রাতে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটি "নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে রাজি" হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের প্রেক্ষিতে, যিনি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাইয়ের ফোনালাপ হয়। সেখানে থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রতি আগ্রহ জানানো হয়, তবে এতে “কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে আন্তরিকতার প্রকাশ” প্রত্যাশা করা হয়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, থাইল্যান্ড চায় যেন যত দ্রুত সম্ভব দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে যুদ্ধবিরতির কার্যকর পদ্ধতি ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তিপূর্ণ সমাধানের রূপরেখা নির্ধারণ করা যাবে।

এদিকে, ট্রাম্প স্কটল্যান্ড সফরের সময় তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে জানান, “কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তারা সম্মত হয়েছে অবিলম্বে বৈঠকে বসে যুদ্ধবিরতি ও চূড়ান্ত শান্তির পথ খুঁজে বের করতে।”

গত তিনদিন ধরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। সংঘর্ষের ফলে উভয় দেশেই উদ্বেগ ও উদ্বাস্তু সংকট বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন এই অঞ্চলের দিকেই।

-হাসানুজ্জামান, নিজস্ব প্রতিবেদক


হরমুজ প্রণালী চিরতরে বন্ধের হুমকি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ২১:২০:৩৯
হরমুজ প্রণালী চিরতরে বন্ধের হুমকি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ 'ব্ল্যাকআউট' বা অন্ধকারচ্ছন্ন ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের জবাবে পাল্টা চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি তাদের দেশের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি স্থাপনাও আক্রান্ত হয়, তবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এবং সেই পথ ততক্ষণ খোলা হবে না, যতক্ষণ না ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়।

আইআরজিসি-র এই বার্তায় আরও ভয়াবহ কিছু লক্ষ্যবস্তুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এমনকি যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এই হুমকির সুর আরও চড়িয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর আঘাত এলে পুরো অঞ্চলের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে পড়বে। ট্রাম্পের 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করার হুমকির বিপরীতে ইরানের এই 'মহাপ্রলয়' ডাকার সংকেত বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে।

/আশিক


ইসরায়েল ও আমিরাত লক্ষ্য করে ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ২১:০৯:৪৫
ইসরায়েল ও আমিরাত লক্ষ্য করে ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনার চূড়ায়। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) ইরান থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ফের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের এই নতুন ধাপের হামলায় ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেরুজালেম ও তেল আবিবসহ ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

অন্যদিকে, ইরানের এই ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) বড় ধরনের সাফল্য দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার তারা ইরান থেকে ছোড়া ৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউএই-র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৩৪৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৭৭৩টি ড্রোন ধ্বংস করেছে বলে এক্স (পূর্বের টুইটার) বার্তায় জানানো হয়েছে। ওদিকে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দিমোনা ও আরাদ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে, যাতে অন্তত ২০০ জন আহত হয়েছেন।

/আশিক


নিজের রক্ষকই যখন ভক্ষক: বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিপর্যয়ের গোপন খবর ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১৭:৪৯:৫১
নিজের রক্ষকই যখন ভক্ষক: বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিপর্যয়ের গোপন খবর ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান অসম যুদ্ধের দশম দিনে (৯ মার্চ ২০২৬) বাহরাইনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) একদল একাডেমিক গবেষকের বিশ্লেষণ পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, ওই দিন বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় যে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তাতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘প্যাট্রিয়ট’ (Patriot) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।

দীর্ঘ নীরবতার পর বাহরাইন সরকার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, রাজধানী মানামার উপকণ্ঠে তেল শোধনাগার সংলগ্ন ওই এলাকায় বিস্ফোরণে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র জড়িত ছিল। তবে বাহরাইনের সরকারি মুখপাত্রের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশেই একটি ইরানি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছিল, যার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তাদের মতে, ভূমিতে যে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা সরাসরি ড্রোনের আঘাত নয় বরং ধ্বংসাবশেষের কারণে হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চের ওই হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩২ জন বাহরাইনি নাগরিক আহত হয়েছিলেন, যাদের অনেকেরই অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরপরই বাহরাইন ও ওয়াশিংটন এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও এখন পর্যন্ত এর স্বপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ উপস্থাপন করতে পারেনি।

বিস্ফোরণ পরবর্তী ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, মাহাজ্জা এলাকার ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং রাস্তায় ধুলোর আস্তরণ ও বাসিন্দাদের আর্তনাদে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তির এই মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম কেন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন বিপর্যয় ঘটাল, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

/আশিক


বিশ্ব তেলের বাজারে স্বস্তি না কি নতুন সংকট? ইরানের কূটনৈতিক চালে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১৭:৩২:১৭
বিশ্ব তেলের বাজারে স্বস্তি না কি নতুন সংকট? ইরানের কূটনৈতিক চালে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘শত্রু দেশ’ ছাড়া বিশ্বের অন্য সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য এই সামুদ্রিক পথটি উন্মুক্ত থাকবে। তবে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই সুবিধা পাবে না।

ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির (Mehr News Agency) বরাতে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে (IMO) নিযুক্ত ইরানি প্রতিনিধি আলি মুসাভি এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক চলাচল সচল রাখতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমানে এই পথটি অচল হয়ে পড়ার জন্য তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসন’কে দায়ী করেছেন।

মুসাভি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান সবসময় কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে এর জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে তাদের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় ইরানের এই নতুন সিদ্ধান্তকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই শুরু মহাপ্রলয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১০:৩০:৫১
তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই শুরু মহাপ্রলয়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের শহরগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ‘ভয়াবহ বিস্ফোরণ’ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) সকালে ইরানি ব্লগার ওয়াহিদ অনলাইন জানিয়েছেন, রাজধানীর পূর্ব শহরতলী পারদিস এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দামাভান্দ শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে।

ব্লগারদের অন্য একটি গোষ্ঠী ‘মামলেকাতে’ দামাভান্দ এলাকায় অন্তত তিনটি প্রচণ্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই এই হামলাগুলো তেহরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের নিকটবর্তী দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড, যার উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮৬৮ মেগাওয়াট। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের কেরমান (১ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট) এবং খুজেস্তান প্রদেশের রামিন স্টিম পাওয়ার প্ল্যান্ট (১ হাজার ৮৯০ মেগাওয়াট) দেশটির প্রধান বিদ্যুৎ উৎস।

ট্রাম্পের হুমকির পরপরই এই বিস্ফোরণগুলো আসায় ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পাওয়ার গ্রিড অচল করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে বর্তমানে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎ বা জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন স্থাপনায় তারা পাল্টা ভয়াবহ আঘাত হানবে।

সূত্র: আল জাজিরা


হরমুজ প্রণালী না খুললে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১০:২১:৫৪
হরমুজ প্রণালী না খুললে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক চূড়ান্ত ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলা শুরু করা হবে দেশটির বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে।

ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানও অত্যন্ত কঠোর পাল্টা হুমকি দিয়েছে। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো আঘাত হানা হলে এর ফলাফল হবে ভয়াবহ। তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন হামলা শুরু হওয়া মাত্রই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব জ্বালানি অবকাঠামো, পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালাবে তেহরান।

এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান আলী লারি জানি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিদ্যুৎ গ্রিড আক্রান্ত হলে আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য অন্ধকারে ডুবে যাবে।

এদিকে, এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদ ও দিমোনায় ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে অন্তত দুটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে।

এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফার্স নিউজ এজেন্সিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করলে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে মহাবিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


ইরানি কূটনীতিকদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: সৌদির কড়া পদক্ষেপে তোলপাড় মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ০৯:৫২:৪৯
ইরানি কূটনীতিকদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: সৌদির কড়া পদক্ষেপে তোলপাড় মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ এবার চরম কূটনৈতিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। নিজ ভূখণ্ডে ‘বারবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার’ অভিযোগে ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের চার কর্মীকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার (২২ মার্চ ২০২৬) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে এই বহিষ্কারের আদেশ নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রচার করেছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবে নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং মিশনের আরও তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মীকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তেহরান এখন সরাসরি সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সমরাস্ত্র রয়েছে, সেখানে ইরান ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরব দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে, যার বেশিরভাগই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

গত কয়েক দিনে এই উত্তেজনার পারদ আকাশচুম্বী হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগর তীরের ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যখন নিকটবর্তী আরামকো-এক্সন শোধনাগারের ওপর একটি ইরানি ড্রোন আছড়ে পড়ে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরটিই সৌদি আরবের তেলের একমাত্র রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এর আগে রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসেও দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছিল। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ জানিয়েছেন, ইরানের ওপর থেকে তাদের আস্থা ‘চুরমার’ হয়ে গেছে এবং দেশ রক্ষায় সৌদি আরব তার বিশাল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। উল্লেখ্য, গত বুধবার কাতারও একই পদ্ধতিতে ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছিল, যা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।

/আশিক


রুটিন মিশনে হঠাৎ বিধ্বস্ত কাতারের সামরিক হেলিকপ্টার: নিখোঁজদের সন্ধানে হাহাকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ০৯:৩৫:৪৬
রুটিন মিশনে হঠাৎ বিধ্বস্ত কাতারের সামরিক হেলিকপ্টার: নিখোঁজদের সন্ধানে হাহাকার
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের সামরিক বাহিনীতে এক বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে গেছে। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, রুটিন মিশন চলাকালীন যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার আঞ্চলিক জলসীমায় বিধ্বস্ত হয়েছে। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি (Anadolu Agency) এই খবর নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি সাগরে ‘রুটিন ডিউটি’ পালন করার সময় হঠাৎ কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হয়ে সরাসরি সাগরের বুকে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই নিখোঁজ ক্রু সদস্য এবং আরোহীদের খুঁজে বের করতে কাতারের কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী এক বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। কাতার কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এটি কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশের হামলা বা নাশকতামূলক কাজ নয়; বরং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই দুর্ঘটনাটি এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্য কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাতার বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র 'রাস লাফান' এবং দোহার অদূরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি 'আল-উদেইদ'। যদিও আল-উদেইদ লক্ষ্য করে ছোড়া বেশিরভাগ ইরানি অস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, তবুও এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি বিশেষ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


ইরানের দুঃসময়ে পুতিনের ঘোষণা; মস্কো থাকবে ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হয়ে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ১৬:৪৩:২৫
ইরানের দুঃসময়ে পুতিনের ঘোষণা; মস্কো থাকবে ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হয়ে
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য নববর্ষ 'নওরোজ' উপলক্ষে ইরানের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) ক্রেমলিন থেকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় পুতিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে তেহরানের পাশে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে থাকবে মস্কো।

ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে আলাদা আলাদা বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় তিনি ইরানি জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি চলমান সংকট মোকাবিলায় তেহরানের দৃঢ়তা কামনা করেন। পুতিন আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য আজ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একইসঙ্গে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডকে পুতিন ‘নির্মম ও নিন্দনীয়’ বলে কঠোর সমালোচনা করেন।

তবে রাশিয়ার এই মৌখিক সমর্থনের বিপরীতে বাস্তব সহায়তার মাত্রা নিয়ে খোদ ইরানি মহলেই প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মস্কোর কাছ থেকে যে ধরনের কার্যকর সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে পুতিনের এই ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’র আশ্বাস কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার না কি ভবিষ্যতে কোনো বড় সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সূত্র: রয়টার্স

পাঠকের মতামত: