রাজধানীতে অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

রাজধানী ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১৩ ১৬:০১:৪৬
রাজধানীতে অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

ঢাকার ব্যস্ত সড়কে আবারও সৃষ্টি হয়েছে যাত্রীভোগান্তি। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভের কারণে মহাখালী রুটে ঢোকা ও বের হওয়ার পথে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এই অবস্থার কারণে উত্তরা থেকে মহাখালী এবং মহাখালী থেকে উত্তরা গন্তব্যে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রীকে পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে।

রোববার (১৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক গুলশান বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিভাগটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আনিসুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানান, বনানী এলাকার বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে রাজধানীর বাইরে থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা রাজধানীতে চলাচলের অনুমতির দাবিতে মূল সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে উত্তরা থেকে মহাখালীগামী এবং মহাখালী থেকে উত্তরাগামী সব ধরনের যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প রুটের নির্দেশনা দিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ। উত্তরা থেকে যারা ঢুকতে চাচ্ছেন, তাদের গুলশান-২ হয়ে গুলশান-১ এবং সেখান থেকে আমতলী কিংবা পুলিশ প্লাজার রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে যারা ঢাকার কেন্দ্র থেকে বের হতে চাইছেন, তাদেরও এ রুটেই যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এছাড়া আউটগোয়িং যান চলাচলের জন্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরা থেকে তেজগাঁও ও হাতিরঝিলমুখী যাত্রীরা এই এক্সপ্রেসওয়েটিকে বিকল্প পথ হিসেবে গ্রহণ করতে পারছেন।

অটোরিকশাচালকদের দাবি, ঢাকা মহানগরীতে চলাচলের অনুমতি না থাকায় তারা কর্মসংকটে পড়েছেন। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবির বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে অবশেষে তারা রাস্তায় নেমেছেন।

অবরোধের কারণে শুধু যাত্রী নয়, প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। অনেক জরুরি কাজে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করছেন এবং সিএনজিচালকদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে।


ধানমন্ডির বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

রাজধানী ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৯:৪৬:১১
ধানমন্ডির বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পর মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাত মসজিদ রোডের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদের ওপর থাকা একটি কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

জানা গেছে, ভবনটিতে বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সির অফিস রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি ফায়ার সার্ভিস।

/আশিক


আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: ভরিপ্রতি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে রিট

রাজধানী ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১৭:১৯:১৪
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: ভরিপ্রতি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে রিট
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত মাসের শেষভাগে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আজ রবিবার (৭ জুন) সকালে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ। রিটে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

দায়েরকৃত এই রিট আবেদনে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে মূলত এই নির্মম ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।

পুরো ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও গাফিলতি ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সাথে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত এই হাসপাতাল ভবনটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) যথাযথ নিয়ম ও বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এই আইনজীবী। তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আসার পূর্বেই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও রিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (৮ জুন) হাইকোর্টের এই দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভর্তি থাকা ছয়টি নবজাতক শিশু মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একে একে মারা যায়। এই রহস্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে এখন আদালতের দ্বারস্থ হলেন এই আইনজীবী।

/আশিক


আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট

রাজধানী ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১৮:৩৩:৪০
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট। হাসপাতালটির ভেতরে কোনো ধরনের বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই নিহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, মূলত সেই রহস্য উদঘাটন ও তদন্ত করতেই বিশেষায়িত এই দলটিকে সেখানে পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করার জন্য তারা বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তির ডিভাইস ও সরঞ্জাম সাথে নিয়ে এসেছেন। যে বিশেষ কক্ষে নবজাতকরা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারা গেছে, সেই কক্ষের ভেতরের বাতাস ও পরিবেশ এই ডিভাইসগুলোর সাহায্যে বিশদভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। সেখানে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক বা বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়েছিল কি না, এবং ছড়ালে তা ঠিক কোন ধরনের গ্যাস ও কী পরিমাণে উপস্থিত ছিল, তা এই কারিগরি তদন্ত শেষেই সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।

বোম ডিসপোজাল ইউনিটের আসার আগেই আজ সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিআইডির সদস্যরা হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ রুমসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থান থেকে প্রয়োজনীয় আলামত ও নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, আজ বুধবার সকালের দিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একে একে ছয়টি নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটিকে একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা বলে দাবি করলেও, নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা একে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ তুলছেন। স্বজনদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, নবজাতক ওয়ার্ডে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির গ্যাস লিকেজ হয়ে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেই বিষাক্ত গ্যাস শ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশের কারণেই মূলত শিশুরা মারা গেছে।

/আশিক


পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: ৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে পৈশাচিকতার লোমহর্ষক বিবরণ

রাজধানী ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৮:১৮:৩৭
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: ৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে পৈশাচিকতার লোমহর্ষক বিবরণ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় আদালতে ৪৭ পৃষ্ঠার এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে দ্রুততম তদন্ত শেষ করে গত রবিবার পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন। পরে মামলাটি পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে বিচারক মাসরুর সালেকিন তা আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নেন। আদালত আগামী ১ জুন এই মামলার অভিযোগ গঠনের (চার্জ ফ্রেম) শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য এই মামলায় আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান অভিযুক্তের পক্ষে আইনি সহায়তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহকে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী করা হয়েছে। অভিযোগপত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মূল অভিযুক্ত ও অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানা (৩০) নিজের ওপর আনা পাশবিক অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেন।

তিনি জানান, সাবলেট বাসার অন্য সদস্যরা প্রতিদিন সকালে কাজে চলে যাওয়ার পর তিনি নিয়মিত ঘরে বসে মাদক সেবন করতেন। ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার শিশু রামিসাকে একাকী দেখে নিজের ঘরে ডেকে নেন সোহেল। এরপর তাকে বাথরুমে নিয়ে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করেন। রামিসা চিৎকার করতে চাইলে তিনি তার মুখ শক্ত করে চেপে ধরেন এবং মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে নির্যাতন চালান।

জবানবন্দিতে সোহেল আরও স্বীকার করেন, ধর্ষণের একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তিনি ধরে নেন রামিসা মারা গেছে। এরপর অপরাধের প্রমাণ চিরতরে মুছে ফেলার ও লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা কেটে ধড় থেকে আলাদা করাসহ মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও চিকিৎসকেরা এই পৈশাচিকতার সত্যতা পেয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকের (Shock) ফলেই মূলত রামিসার মৃত্যু হয় এবং তার শরীরের ক্ষতগুলো সে জীবিত থাকা অবস্থাতেই তৈরি করা হয়েছিল।

সোহেলের জবানবন্দিতে অপরাধের পর পালিয়ে যাওয়ার রোমহর্ষক ঘটনাপ্রবাহও উঠে এসেছে। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবাই যখন রামিসাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল, তখন রামিসার মা সোহেলদের ঘরের দরজার সামনে মেয়ের জুতো দেখতে পান। তিনি চিৎকার করে রামিসাকে ডাকতে থাকেন এবং কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের জড়ো করে দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করেন। সোহেল বলেন, ‘পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমার স্ত্রী আমাকে পালিয়ে যেতে বলে।

আমি তখন রেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল ভেঙে ফেলি। লোকজন যখন বাইরে থেকে প্রধান দরজায় সমানে ধাক্কা দিচ্ছিল, তখন আমার স্ত্রী ভেতর থেকে দরজা শক্ত করে চেপে ধরে রেখে আমাকে জানালা দিয়ে পালাতে সাহায্য করে।’ সোহেল নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার পরই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাইরের মানুষের জন্য ঘরের দরজা খুলে দেয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পিপি ও নিহতের পরিবার।

/আশিক


পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার লোমহর্ষক চার্জশিট দাখিল

রাজধানী ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১১:২১:০১
পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার লোমহর্ষক চার্জশিট দাখিল
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা এবং পরবর্তীতে মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুমের চেষ্টার ঘটনায় আদালতে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। গত ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে সংঘটিত এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নথিতে।

রোববার (২৪ মে ২০২৬) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান। আদালত সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে মামলাটি পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়েছে।

দাখিলকৃত চার্জশিটে ঘটনার মূল হোতা ও অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে স্বামীকে এই নৃশংস অপরাধের আলামত গোপন ও পালিয়ে যেতে সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের তথ্যমতে, আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পরকীয়া প্রেমের জেরে বিয়ে হয়েছিল এবং তারা পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ২ নম্বর লেনের একটি তিন রুমের ফ্ল্যাটের একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকত।

ওই ফ্ল্যাটের বাকি দুটি রুমে মাসুদ পারভেজ এবং জেসমিন আক্তার নামে এক চাকরিজীবী দম্পতি থাকতেন, যারা ঘটনার দিন সকাল ৬টার মধ্যে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এই সুযোগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা প্রতিবেশী শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজের রুমে ডেকে নেয় সোহেল এবং অ্যাটাচড বাথরুমে নিয়ে তাকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের সময় শিশু রামিসা চিৎকার শুরু করলে সোহেল তার মুখ ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। চার্জশিটের বিবরণ অনুযায়ী, হত্যার পর অপরাধ ধামাচাপা দিতে ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে রুম থেকে ধারালো ছুরি এনে রামিসার মাথা কেটে ধড় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা হয়। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে এবং ধারালো ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে নিথর দেহটি বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। আর বিচ্ছিন্ন মাথাটি ঘরের ভেতরে একটি বড় প্লাস্টিকের বালতির মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

এদিকে শিশু রামিসাকে দীর্ঘক্ষণ খুঁজে না পেয়ে পরিবারের লোকজন ও তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সোহেলদের রুমের দরজার সামনে রামিসার একটি জুতো পড়ে থাকতে দেখে মায়ের সন্দেহ হয় এবং তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন। লোকজন দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে ঘরের ভেতর থাকা সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না পুরো ঘটনা দেখেও প্রধান দরজা ভেতর থেকে শক্ত করে আটকে দেয় এবং স্বামীকে সহযোগিতার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ জনতা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে খাটের নিচে রামিসার রক্তাক্ত মরদেহ ও বালতিতে কাটা মাথা উদ্ধার করে।

এ সময় সোহেলের অবস্থান জানতে চাইলে স্ত্রী স্বপ্না মিথ্যা নাটক সাজিয়ে দাবি করে যে, সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে। তবে পুলিশি তৎপরতায় পরবর্তী সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই পৈশাচিক ও অবর্ণনীয় অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

/আশিক


লাশ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় চূড়ান্ত অভিযোগপত্র: রামিসা হত্যায় দ্রুততম বিচারের রেকর্ড

রাজধানী ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ২০:০৫:৫৮
লাশ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় চূড়ান্ত অভিযোগপত্র: রামিসা হত্যায় দ্রুততম বিচারের রেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা ও লাশ খণ্ডিত করার চাঞ্চল্যকর মামলায় ফরেনসিক ও আইনি তদন্তে এক মেগা অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি পাষণ্ড সোহেল রানার ডিএনএ (DNA) প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) তদন্তকারী কর্মকর্তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে এই অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলো সংগ্রহ করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, রামিসা হত্যা মামলার মূল তদন্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সিআইডির ডিএনএ রিপোর্ট এবং ফরেনসিক ল্যাবের ভিসেরা ও ময়নাতদন্তের এই অকাট্য রিপোর্টগুলো হাতে পাওয়ায় আজ দুপুর থেকেই আদালতে পেশ করার জন্য চূড়ান্ত চার্জশিট বা অভিযোগপত্র তৈরির কাজ শুরু করেছে পল্লবী থানা পুলিশ।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল রোববার (২৪ মে) সকালের মধ্যেই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালতে এই মেগা চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে। উল্লেখ্য, আজ দুপুর ও বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খুনি সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ‘মৃত্যুদণ্ড’ আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করার যে সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক ডেডলাইন দিয়েছিলেন—পুলিশের এই অতি দ্রুততম চার্জশিট দাখিলের পদক্ষেপ তারই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর পল্লবীর একটি বহুতল আবাসিক ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ, যা পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই ঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত লম্পট সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তাঁর সহযোগী ও স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (DB) ও পল্লবী থানার একটি বিশেষ টিম প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শিশু রামিসাকে একাকী ফ্ল্যাটে পেয়ে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে গলা টিপে হত্যা করে লাশ খণ্ডবিখণ্ড করার লোমহর্ষক ও নৃশংস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি (১৬৪ ধারা) দেয় এই নরপিশাচ।

/আশিক


দৈনিক আজাদ বাণী পত্রিকার ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানী ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ২১:১৪:৪১
দৈনিক আজাদ বাণী পত্রিকার ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

সত্যের সন্ধানে সচেষ্ট দৈনিক আজাদ বাণী পত্রিকার উদ্দ্যোগে ৪ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার বিকাল ৫ টায় রাজধানীর শিশু কল্যাণ পরিষদ হলে গোল টেবিল বৈঠকে ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে গণ মাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভাপতিত্বে দৈনিক আজাদ বাণী’র প্রকাশক ও সম্পাদক লায়ন এইচ এম ইব্রাহিম ভৃইয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক সৈয়দ দিদার বখত, প্রধান আলোচক সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী।

আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম মনিরুজ্জামান। নিচিচা চেয়ারম্যান যুবরাজ খান। ব্রেন্ড এন্ড লাইফ হাসপাতালের পরিচালক মোঃ ফখরুল ইসলাম, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা প্রকাশক ও সম্পাদক কবি অশোক ধর। সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় কমিটি’র সাংগঠনিক সচিব কবি মহিবুর রহমান চৌধুরী, মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব মনিরুল ইসলাম মনির প্রমুখ।

মহিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে গণ মাধ্যমের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো, যোগ্য ব্যক্তি কে সংবাদ পরিবেশনে নিয়োগ করার আহবান জানাই। সাংবাদিকদের কলমের মাধ্যমে একটি দেশ ও একটি সমাজ অনেক ক্ষেত্রে আলোকিত হয়। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে আরোও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন যাবত পদোন্নতি বঞ্চিত, শিক্ষকরা যে বেতন পান তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার শিক্ষকদের কল্যাণে একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো করার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। বেশিরভাগ শিক্ষক ঋণগ্রস্থ। তিনি শিক্ষকদের কল্যাণে একটি কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে এই ঋণের বোঝা থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আর বেশিরভাগ মহিলা শিক্ষক অনেক দূর দূরান্তে শিক্ষকতা করছেন, বদলী নীতিমালা সহজ করে মহিলা শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

এসময় বক্তারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম এর প্রতি বেশি গুরুত্ব আরোপ করেন।


৩ দফা দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাও করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রাজধানী ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৬:২১:৫৫
৩ দফা দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাও করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের বর্বর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহবাগ এলাকা। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমের প্রত্যক্ষ মদতে এই হামলা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত ডিসিসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১টার পর থেকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাপর ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুদ্দীনের ওপর কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ হামলা চালায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, নাইমুদ্দীন কোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তাঘাটে পুলিশ যাকে-তাকে বিনা কারণে মারবে, এই অধিকার তাদের কে দিয়েছে? রাস্তা কি পুলিশের ব্যক্তিগত সম্পত্তি? মানুষ কি এখন ক্যাম্পাসের পাশেও নিরাপদে হাঁটতে পারবে না?”

শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি

১. ডিসি মাসুদসহ হামলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও এর আশেপাশে সব ধরনের অযাচিত পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

ঘেরাও কর্মসূচির কারণে শাহবাগ ও মৎস্য ভবন মোড় এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শাহবাগ থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন।

/আশিক


আজ ৫ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

রাজধানী ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ০৯:৩০:১২
আজ ৫ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
ছবি : সংগৃহীত

জরুরি পাইপলাইন প্রতিস্থাপন ও সংস্কার কাজের জন্য আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বড় অংশে টানা ৫ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। দেশের বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি গতকাল রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্যাসের স্বল্পচাপ জনিত সমস্যা সমাধান এবং পুরোনো পাইপলাইন আধুনিকায়নের লক্ষ্যেই এই সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।

গ্যাসহীন থাকবে যেসব এলাকা

শহীদ ফারুখ সড়ক

রমজান ভাইয়ের গলি

পশ্চিম যাত্রাবাড়ী

এছাড়াও সংস্থাটি জানিয়েছে, মূল সংস্কার কাজ চলাকালীন এই এলাকাগুলোর আশেপাশে অবস্থিত এলাকাগুলোতেও গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকতে পারে। দুপুর ২টার পর কাজ শেষ হওয়া মাত্রই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। রমজান মাসের এই সময়ে দুপুরের রান্না বা আনুষঙ্গিক কাজের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিতাস গ্যাস নিয়মিতভাবে ঢাকার বিভিন্ন জোনে এই ধরণের সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে গ্রাহকরা ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সেবা পেতে পারেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: