রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের হেলিকপ্টারে ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ২৬ ২১:৪২:২২
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের হেলিকপ্টারে ড্রোন হামলা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টারের ওপর ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। এমন বিস্ফোরক দাবি করেছেন রাশিয়ার এয়ার ডিফেন্স বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউরি দাশকিন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চল দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় থাকা একটি হেলিকপ্টার বহরকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন পাঠানো হয়। যদিও ড্রোনটি হেলিকপ্টার বহরের কাছাকাছি আসার আগেই ধ্বংস করে ফেলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউরি দাশকিন বলেন, “রাডার সিস্টেমে একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর গতিবিধি শনাক্ত করা হয়, যা পুতিনের হেলিকপ্টার বহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। আমাদের প্রতিরক্ষা ইউনিট দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সেটিকে মাঝপথেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট থেকেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি এবং রাষ্ট্রপতির সফরসূচিও ব্যাহত হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে ইউক্রেন আগেও রাশিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে এটি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের উত্তেজনাকর মোড় নিতে পারে। কারণ এই প্রথমবারের মতো সরাসরি পুতিনকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ আসছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ ঘটনার পর প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে মস্কোয়।


হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে চরম উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ১৯:৫২:৩৪
হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে চরম উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি জরুরি বিবৃতিতে সামরিক কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসন মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তির চরম লঙ্ঘন। আর এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দাঁতভাঙা জবাব দিতেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-পথটি অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরানি সামরিক কমান্ড তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, "হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করা হলো। এটি শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ।" একই সাথে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ না হলে এবং শত্রুপক্ষ তাদের বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তেহরানের দাবি, লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর ইসরায়েলের এই নগ্ন হামলা মূলত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সই হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতার মূল চেতনার পরিপন্থী। ইরান স্পষ্ট করে বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মদদে কিংবা তাদের নীরব সম্মতি ও সবুজ সংকেত পেয়েই ইসরায়েল এই বেপরোয়া হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এর দায় যুক্তরাষ্ট্রকেও নিতে হবে। ওল্ড ওয়ার্ল্ডের জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


ইরানকে ট্রাম্পের ৬০ দিনের আলটিমেটাম, চুক্তি না হলে ‘অসুখকর’ পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ১৮:৩৩:১৬
ইরানকে ট্রাম্পের ৬০ দিনের আলটিমেটাম, চুক্তি না হলে ‘অসুখকর’ পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চূড়ান্ত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানকে নতুন করে আরও ৬০ দিনের কঠোর সময়সীমা (আলটিমেটাম) বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী ও সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে ওয়াশিংটন এমন কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেবে, যা তেহরানের জন্য মোটেও সুখকর বা স্বস্তিদায়ক হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

মার্কিন অঙ্গরাজ্য মেরিল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটি ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ’-এ কাতারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া একটি অত্যাধুনিক বিমান উন্মোচনের বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম সামা টিভিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

বক্তব্যের শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটের ক্ষেত্রে সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষপাতি। তবে ইরান যদি এই সুযোগের সঠিক ব্যবহার না করে এবং কূটনৈতিক আলোচনা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, “আসন্ন ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের অবশ্যই একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায়, আমরা এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হব—যা তাদের (তেহরানের) জন্য মোটেও ভালো লাগবে না।” তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ানো এই সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি কিছুটা আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প মনে করেন, দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত হয়তো সেই চরম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যাবে না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই প্রাথমিক সমঝোতাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা কারিগরি পর্যায়ের (Technical Level) গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুই দেশের মধ্যে এই সংবেদনশীল ও কারিগরি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কঠোর ও পরোক্ষ সামরিক হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে চাপ ও অস্থিরতা তৈরি করল।

/আশিক


তিব্বতে চীনের মেগা বাঁধ, নতুন দুশ্চিন্তায় ভারত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ১৪:১৮:০৫
তিব্বতে চীনের মেগা বাঁধ, নতুন দুশ্চিন্তায় ভারত
ছবি: সংগৃহীত

তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে ভারতজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ার জলনিরাপত্তা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের নির্মাণাধীন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা হবে প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট, যা বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চীন শুধু জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে চায় না, বরং গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর ওপর নিজেদের কৌশলগত প্রভাবও আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের এই পদক্ষেপের জবাবে ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোরদার করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান।

তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। যেখানে চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, সেখানে ভারতের প্রকল্প এখনও সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রমও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি।

ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের কৃষি, জীবিকা, পরিবেশ এবং অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে নদীর প্রবাহে যেকোনো পরিবর্তন বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর প্রভাব কৃষিজমি, জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লোকসভায় দেওয়া লিখিত জবাবে সরকার জানিয়েছে, নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন, সম্পদ ও জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, তথ্য বিনিময় এবং আগাম পরামর্শের বিষয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

-রাফসান


ইরান যুদ্ধে কৌশলগতভাবে পরাজিত ট্রাম্প: নিউইয়র্ক টাইমস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ১২:২৯:৪৪
ইরান যুদ্ধে কৌশলগতভাবে পরাজিত ট্রাম্প: নিউইয়র্ক টাইমস
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় চার মাসের সংঘাতের পর অবশেষে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধবিরতির এই উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর আড়ালে নতুন কিছু কৌশলগত বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই পরিবর্তন আনেনি, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকেও নতুন করে সাজিয়ে দিয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই তিনটি ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। ফলে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে ওয়াশিংটনকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সমালোচকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দ্রুত ফল পাওয়ার প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দিতে পারেনি।

যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইরানকে শর্তহীন আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হবে। একই সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছিল।

তবে যুদ্ধ শেষে দেখা যাচ্ছে, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও টিকে আছে এবং দেশটি আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের পূর্বঘোষিত লক্ষ্যগুলোর বাস্তবতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু কঠোর শর্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে অনেক বিশ্লেষক এটিকে পূর্ণ বিজয়ের পরিবর্তে একটি আপসনির্ভর সমঝোতা হিসেবে দেখছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনের দুই মাসের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে। অনেকেই মনে করছেন, আলোচনা শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির কাছাকাছি কোনো কাঠামোয় পৌঁছাতে পারে।

এ বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে কারণ ট্রাম্প ২০১৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা সেই চুক্তি বাতিল করেছিলেন। তখন তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল চুক্তিগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এখন সামরিক সংঘাতের পর প্রায় একই ধরনের সমঝোতার পথে হাঁটতে হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এটিকে নতুন কোনো অর্জন বলা যাবে না। বরং এটি যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া মাত্র।

সংঘাতের সময় ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করে বিশ্ব অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় তেহরানের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

চার মাসের সংঘাতে ইরানের সামরিক স্থাপনা, প্রতিরক্ষা অবকাঠামো এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে রাজনৈতিকভাবে দেশটি ভেঙে পড়েনি। বরং অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, যুদ্ধ শেষে ইরান নতুন করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ পেয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এখনও দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তারপরও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দর-কষাকষির সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে তেহরান।

একই সঙ্গে ইরান দেখিয়েছে, শক্তিশালী আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও তারা দীর্ঘ সময় টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে। এটিও দেশটির কৌশলগত অবস্থানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যকারিতা ও বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল সামরিক শক্তি, উন্নত প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের পরও ওয়াশিংটন প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি। ফলে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোও এখন যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সামরিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা নীতিতেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর অনেক আগ থেকেই ইরান বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংকটে ভুগছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ইসরায়েলের অভিযানে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো ইরানপন্থি শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

এছাড়া সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত কাঠামোও চাপে পড়ে। একই সময়ে অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা দেশটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবুও সংঘাত শেষে ইরান আবারও আলোচনার টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ফিরে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে।

যদি ভবিষ্যতে ইরান আবারও এই নৌপথ বন্ধ করার হুমকি দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটিই এখন বৈশ্বিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ভারতের জন্য কঠোর বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ১০:৩৫:৪৯
ভারতের জন্য কঠোর বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কঠোর অবস্থানের কথা জানাল পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারত যদি কোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক দুঃসাহসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে ইসলামাবাদ আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। পাকিস্তানি গণমাধ্যম সামা টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খাজা আসিফ ভারতের সাম্প্রতিক নীতিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ভারতের যে কৌশলগত ব্যর্থতা দেখা গেছে, তা দেশটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা হয়ে থাকবে। তার ভাষায়, এই অভিজ্ঞতা ভারত বহু বছর ধরে স্মরণে রাখতে বাধ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খাজা আসিফ আফগানিস্তান প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তার অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় কিছু ভারত-সমর্থিত গোষ্ঠী পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এসব কার্যক্রম মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সেখানে যেসব বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তা পাকিস্তানি বা কাশ্মীরি জনগণের স্বাভাবিক অবস্থান নয়; বরং ভারতের কৌশলগত অবস্থানের প্রতিফলন বলেই মনে হচ্ছে।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি এবং ভারত-সমর্থিত গোষ্ঠী এসব কর্মকাণ্ডে আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা দিচ্ছে। যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি।

পানি ইস্যুতেও কড়া অবস্থান নিয়েছে ইসলামাবাদ। খাজা আসিফ বলেন, সম্ভাব্য ‘পানি আগ্রাসন’ মোকাবিলায় সরকার পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পাকিস্তানের পানিসম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

তার ভাষায়, পাকিস্তানের এক ফোঁটা পানিও অন্য কাউকে নিতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান চুক্তির আলোকে দেশটির পানির অধিকার রক্ষা করা হবে।

-রফিক


যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মানবে না ইরান: খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ১৫:২০:৪২
যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মানবে না ইরান: খামেনি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও নিজেদের কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে আসছে না ইরান। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, ওয়াশিংটনের উত্থাপিত সব অতিরিক্ত দাবি তারা মেনে নেবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও তা কখনোই প্রতিপক্ষের সব শর্ত নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করার সমতুল্য নয়।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে খামেনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত বা সরাসরি বৈঠকের পথ খোলা থাকলেও ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং কৌশলগত স্বার্থ কোনোভাবেই আপসের বিষয় নয়।

তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আলোচক দলের একাধিক আশ্বাসের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তার কিছু ভিন্নমত ছিল, তারপরও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

খামেনি বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সংরক্ষণ, প্রতিরোধ ফ্রন্টের অধিকার রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির কারণেই তিনি আলোচনার সুযোগ দিয়েছেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে পাঠানো হবে না। তবে আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় ইউরেনিয়ামকে নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ করার (ডাইলিউশন) বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান কিছু কারিগরি সমাধানে আগ্রহী হলেও দেশের ভেতরে থাকা কৌশলগত সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, তেহরান আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে ঠিকই, কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্নে কোনো ধরনের মৌলিক ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি।

চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে চার মাস ধরে চলা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে সার্ভিস ফি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ একাধিক জটিল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি/ দ্য জেরুজালেম পোস্ট/রয়টার্স


সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ১০:৩৩:৩৩
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

ভারত পানি ইস্যুকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার সতর্ক করে বলেছেন, পানির মতো মৌলিক সম্পদকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসরণ করা ভারতের বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে। পাকিস্তানের জনগণের ন্যায্য পানির অধিকার খর্ব করার যেকোনো উদ্যোগের সুদূরপ্রসারী এবং নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

ইসহাক দার অভিযোগ করেন, ভারত একতরফাভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থীভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি সংশ্লিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তার ভাষায়, এই চুক্তির মধ্যেই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শান্তিপূর্ণ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, যা উপেক্ষা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামাবাদ সবসময় আলোচনাকেন্দ্রিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বিপক্ষীয় যেকোনো সমস্যা কূটনৈতিক সংলাপ ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে ইসহাক দার বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম পাকিস্তান। তাই পানি নিরাপত্তা ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

তিনি দাবি করেন, সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় বিরোধ নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের পদক্ষেপ খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং মানবিক পরিস্থিতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা আজকের বিশ্বে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা অপরিহার্য।

ভারতের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, সিন্ধু নদী অববাহিকায় জলাধার সম্প্রসারণ এবং পানি সরিয়ে নেওয়ার কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আনতে পারে।

তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসহাক দার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পানি কখনোই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, চাপ প্রয়োগ কিংবা কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার এবং এটি কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

-রাফসান


কোন চাপের মুখে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ০৯:৫৯:১৮
কোন চাপের মুখে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগেও ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। সে সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবে না ওয়াশিংটন। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন পথে এগিয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) প্রকাশিত সমঝোতা স্মারকের তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি কোনো আত্মসমর্পণের দলিল নয়; বরং এতে ইরানের জন্য বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো তেল রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে চাপে থাকা ইরান নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এর ফলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প প্রশাসন যে লক্ষ্যগুলোর কথা বলেছিল, তার মধ্যে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা এবং দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তবে বর্তমান চুক্তিতে এসব লক্ষ্যের অনেকগুলোই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে।

ট্রাম্প অবশ্য চুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। তার দাবি, এই সমঝোতার মাধ্যমে অন্তত আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি এটিকে ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়ানোর একটি কার্যকর পদক্ষেপ বলেও বর্ণনা করেছেন।

তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার রাজনীতি ও কঠোর দর-কষাকষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া ট্রাম্পের কাছ থেকে এমন নমনীয় অবস্থান অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে।

চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি নিয়েও ভবিষ্যৎ আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে ইরানের জব্দ বা স্থগিত থাকা কিছু সম্পদ ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো বিনা শর্তের সুবিধা নয়; বরং ইরানের ইতিবাচক আচরণ ও চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

তবে সমালোচকদের মতে, এই ছাড় অনেকাংশে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে মিল রয়েছে। উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সেই চুক্তির অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিলেন ট্রাম্প নিজেই।

এদিকে রিপাবলিকান পার্টির রক্ষণশীল অংশ এবং ইসরায়েলের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে।

বিশেষ করে লেবাননকে ঘিরে নতুন শর্তাবলি ইসরায়েলের জন্য নতুন কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করছিল। তার মতে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারত।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথে যেতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছিল।

অন্যদিকে ট্রাম্প একদিকে ইরানকে উত্তর কোরিয়ার মতো পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হতে না দেওয়ার কথা বললেও, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন। তিনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ৬০ দিনের নির্ধারিত সময়ের পরও আলোচনা চলতে পারে।

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

-রফিক


ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ০৯:৩৯:৪৮
ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারককে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লেবানন-সংক্রান্ত শর্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, চুক্তির আওতায় থাকা বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

আল জাজিরার ওয়াশিংটনভিত্তিক সাংবাদিক মাইক হানার বরাতে জানা গেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, লেবাননে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের আশঙ্কা ছিল, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে লেবাননকে একটি পৃথক ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এখন স্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে, লেবানন এই সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সেখানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ইসরায়েল-সমর্থক সদস্য ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে হোয়াইট হাউজ তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সে কারণে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হতে এখনো প্রায় দুই মাস সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ধারা ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তির বর্তমান রূপ নিয়ে সন্তুষ্ট নন বলে জানা গেছে।

সিএনএনের বরাতে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু এখন নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন। তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়বস্তু এমনভাবে প্রভাবিত করা, যাতে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এ উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু নিজের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সিনেটরকে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।

ইসরায়েলি নেতৃত্বের ধারণা, ইরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর ও কার্যকর সীমাবদ্ধতা মেনে নেবে না। সেই কারণে তারা পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়া নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।

একই সঙ্গে নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি বা লেবানন-সংক্রান্ত কিছু ধারা ইসরায়েলের জন্য বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচিত হবে না। এই অবস্থান ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নতুন মতপার্থক্যের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

পাঠকের মতামত: