পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্নবাণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১৪ ০৯:০৩:১৩
পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্নবাণ

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে সহিংসতা ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। গণপিটুনি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, রাজনৈতিক শত্রুতার জের, আধিপত্য বিস্তার কিংবা পারিবারিক দ্বন্দ্ব প্রতিদিনই কোনো না কোনো প্রেক্ষাপটে ঘটছে হত্যার নির্মমতা। এর পেছনে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোগত দুর্বলতা, পুলিশের মানসিক ট্রমা, অপরাধীদের বেপরোয়া মনোবৃত্তি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম সাড়ে ৬ মাসে দেশজুড়ে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ৯৪ জন। শুধু রাজধানী ঢাকায় এ সময়ের মধ্যে খুন হয়েছেন ১৯০ জন। আর এসব সংখ্যাই শুধু সরকারি নথিভুক্ত। আসল চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

মিটফোর্ডে নির্মমতা, চারদিকে নিরব দর্শক

গত ১০ জুলাই মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩ নম্বর গেটের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ কেবল দেখেছেন, কেউ ভিডিও করেছেন, কিন্তু কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি। এই নিষ্ঠুর দৃশ্য দেশজুড়ে চরম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

এর আগে কুমিল্লার মুরাদনগরে একদিনে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা, চাঁদপুরে মসজিদের ভেতরে জুমার নামাজ শেষে ইমামকে কুপিয়ে জখম এবং খুলনায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা এসব ঘটনাও সমাজে ভয়, হিংসা ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়িয়ে তুলছে।

ভেঙে পড়ছে পুলিশের মনোবল, টহল সীমিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বাহিনীতে পরিণত হওয়া পুলিশের কাঠামো এক ধাক্কায় ভেঙে পড়ে ৫ আগস্টের পর। নতুন বাস্তবতায় পুলিশ বাহিনী কার্যত এক রকম ট্রমার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। অভিযানে গেলে হামলার শিকার হচ্ছে, রাতের টহল দিতে দ্বিধান্বিত। এতে অপরাধীরা দমনের সুযোগ নিচ্ছে।

একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, রাতে আগে যেখানে ৭–৮ জন পুলিশ সদস্য মিলে নিয়মিত টহল দিত, এখন সেই সংখ্যা অনেক কম। মামলার তদন্তে আগে যেসব কর্মকর্তা সরেজমিনে যেতেন, এখন তারা অনুপস্থিত থাকেন। পুলিশ এখন শুধু ঘটনার পরে কাগজে কলমে ব্যবস্থা নিতে ব্যস্ত, কিন্তু বাস্তবতায় সেই হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

অপরাধী ধরতেও দ্বিধা, রাজনৈতিক পরিচয় বড় বাধা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছে না। অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়াটা আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে। কখনো কখনো পুলিশ নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, আবার ব্যবস্থা নিতে গিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে।”

অপরাধ বাড়লেও পুলিশ বলছে ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ চলছে

তবে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) ইনামুল হক সাগর বলেন, “অপরাধ প্রতিরোধে আমাদের কোনো কার্পণ্য নেই। সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, প্রয়োজনে পরিবার ও সমাজের সচেতন অংশেরও এগিয়ে আসা দরকার।” তিনি অনুরোধ জানান, “যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে আইন নিজের হাতে না তুলে পুলিশকে জানাতে হবে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

‘ডেভিল হান্ট’ অপারেশনেও নেই বাস্তব সুফল

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চালু করলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নাগরিক সমাজ। বিভিন্ন থানায় মতবিনিময় এবং নির্দেশনার পরও মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি চোখে পড়ছে না। অপরাধীরা আজও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিশেষত রাতের বেলায় তারা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে।

গণপিটুনির মতো ঘটনায় সাধারণ জনগণই বিচারকের ভূমিকা নিচ্ছে। সমাজে ক্রমেই ভাঙছে আইন ও মানবতা। কেউ এগিয়ে এসে বাধা দিচ্ছে না, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটি সমাজে অসহনশীলতা, বিচারহীনতা এবং মানসিক বিকৃতিরই পরিচায়ক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দ্বিগুণ হতে পারে সরকারি চাকুরের বেতন, যা আছে নতুন সুপারিশে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১১:১০:০৪
দ্বিগুণ হতে পারে সরকারি চাকুরের বেতন, যা আছে নতুন সুপারিশে
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি করার সুপারিশ করেছে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন। গত ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। কমিশনের এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকুরেদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে সরকারের ব্যয় হয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা, যা নতুন কাঠামোতে আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে।

কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ বেতন বৃদ্ধির হার হতে পারে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত। প্রস্তাবিত কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের বৈষম্য কমাতে অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বেতন বৃদ্ধির এই ব্যাপক পরিবর্তনের মাঝেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।

বেসামরিক কর্মচারীদের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের কারিগরি ও আর্থিক দিক পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটি মূলত তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করবে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সিনিয়র সচিবদের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য প্রচলিত ধাপের বাইরে বিশেষ ধাপ নির্ধারণের সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

/আশিক


বাংলাদেশ হবে বিশ্বের সেরা এডুকেশন হাব:  শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১০:৪৯:২৪
বাংলাদেশ হবে বিশ্বের সেরা এডুকেশন হাব:  শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সেরা শিক্ষা হাবে পরিণত করার সব ধরনের সক্ষমতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রয়োজনীয় মেধা, প্রোগ্রাম এবং ইচ্ছা সবই রয়েছে; এখন শুধু প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থেকেও অভাবনীয় অবদান রেখেছিলেন। মাত্র ১৬ দিনে তিনি যে কাজ করেছিলেন, তা ১৬ বছরেও করা কঠিন। এছাড়া তিনি দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা দর্শনের প্রশংসা করার পাশাপাশি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাকেন্দ্রিক গুরুত্বারোপের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে শিক্ষা সবসময়ই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে।

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোকে আকৃষ্ট করার কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতেও বাংলাদেশ বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করত এবং সেই গৌরবোজ্জ্বল সম্ভাবনা আবারও ফিরিয়ে আনা হবে।

একইসঙ্গে বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে মেধাবীদের দেশে ফিরে আসার ওপর তিনি জোর দেন। টেকসই সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্টেকহোল্ডারদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক ও ট্রাস্টভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সরকার দ্রুত সংস্কার সম্পন্ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

/আশিক


ইতিহাসে সেরা নির্বাচন! সেনাপ্রধানের কণ্ঠে অসামরিক প্রশাসনের জয়গান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ২১:২৪:২৮
ইতিহাসে সেরা নির্বাচন! সেনাপ্রধানের কণ্ঠে অসামরিক প্রশাসনের জয়গান
ছবি : সংগৃহীত

দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনকে অন্যতম সফল ও সুশৃঙ্খল হিসেবে অভিহিত করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, সামরিক ও অসামরিক প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেকোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব, যার বাস্তব উদাহরণ এই নির্বাচন। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের একটি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন আয়োজনে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে সেনাপ্রধান বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ায় পুরো দেশ আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সেনাবাহিনী এই প্রক্রিয়ায় কেবল সহযোগীর ভূমিকায় থাকলেও মূল দায়িত্ব পালনে ডিসিরা যে দক্ষতা দেখিয়েছেন, তা অনন্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এক সময় দেশে নির্বাচন হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সকল জল্পনা-কল্পনা ও বাধা কাটিয়ে জাতিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে সেনাপ্রধান বেসামরিক প্রশাসনের সাথে সেনাবাহিনীর সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জেলা প্রশাসকদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাইলে তা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট সেনা ফরমেশনগুলো বেসামরিক প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই বাহিনীর এই সমন্বয় ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, একই অধিবেশনে সেনাপ্রধানের বক্তব্যের আগে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাও বক্তব্য প্রদান করেন। তারা সবাই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কাজে প্রশাসনের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে সামরিক ও অসামরিক নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


বাড়ি ফিরতে দুশ্চিন্তা শেষ! দেখে নিন আপনার রুটের ঈদ স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ২১:১৯:৪৩
বাড়ি ফিরতে দুশ্চিন্তা শেষ! দেখে নিন আপনার রুটের ঈদ স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচী
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত আরামদায়ক ও যানজটমুক্ত করতে ১০ জোড়া বিশেষ বা ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গত ৩০ এপ্রিল রেলওয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মূলত ঈদের সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতেই প্রতিবছরের মতো এবারও এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ের সূচী অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য 'চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১' ট্রেনটি বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে রওনা হয়ে রাত ৮টা ২০ মিনিটে চাঁদপুর পৌঁছাবে। একইভাবে 'চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২' বিকেল ৪টায় চাঁদপুর থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ রুটের যাত্রীদের জন্য 'তিস্তা স্পেশাল-৩' সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা ছাড়বে এবং 'তিস্তা স্পেশাল-৪' বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে নামাজ পড়তে ইচ্ছুক মুসল্লিদের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ রুটে 'শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ও ৬' এবং ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে 'শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭ ও ৮' শুধুমাত্র ঈদের দিন চলাচল করবে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য জয়দেবপুর থেকে পার্বতীপুর রুটে 'পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ ও ১০' ট্রেনটি বিশেষ সূচীতে পরিচালনা করা হবে। এই ট্রেনটি জয়দেবপুর থেকে সকাল ৭টায় ছেড়ে দিবাগত রাত ২টায় গন্তব্যে পৌঁছাবে।

ট্রেন চলাচলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে যাত্রীদের আসা ও যাওয়ার সুবিধার্থে। চাঁদপুর ও তিস্তা ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলো আগামী ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের পর ৩০ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত নিয়মিত চলবে। পার্বতীপুর স্পেশাল ট্রেনটি ঈদের আগে ২৪ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত এবং ঈদের পরের দিন থেকে টানা তিন দিন যাতায়াত করবে। যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

/আশিক


পুলিশে বড় রদবদল: চট্টগ্রামের নতুন এসপি আলোচিত মাসুদ আলম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ২০:০২:০০
পুলিশে বড় রদবদল: চট্টগ্রামের নতুন এসপি আলোচিত মাসুদ আলম
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল এনে দেশের ১২ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। এই রদবদলের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম ডিএমপির রমনা বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম, যাকে চট্টগ্রামের নতুন এসপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমের বাড়ি বগুড়া জেলায়। ডিএমপির রমনা বিভাগে ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিভিন্ন সাহসী ও পেশাদার পদক্ষেপ পুলিশ বাহিনীতে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবার চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে দিল সরকার। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের বর্তমান এসপি মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনকে এপিবিএন-এ বদলি করা হয়েছে।

একই প্রজ্ঞাপনে ডিএমপির উপ-কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীকে নড়াইল জেলার এসপি করা হয়েছে। সাতক্ষীরার বর্তমান এসপি আরেফিন জুয়েলকে এপিবিএন-এ সরিয়ে সেই স্থলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমকে। চাঁদপুরের এসপি রবিউল হাসানকে ডিএমপিতে বদলি করে তাঁর জায়গায় ঝালকাঠির এসপি মিজানুর রহমানকে পদায়ন করা হয়েছে। ঝালকাঠির নতুন এসপি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার।

মৌলভীবাজার জেলাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে; সেখানকার এসপি মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে নৌ পুলিশে বদলি করে আরএমপির রিয়াজুল ইসলামকে নতুন এসপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফেনীর বর্তমান এসপি শফিকুল ইসলামকে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি করা হয়েছে এবং তাঁর স্থলে সিএমপির উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর নতুন এসপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনস্বার্থে এবং পুলিশ প্রশাসনের কাজের গতিশীলতা ফেরাতে এই রদবদল করা হয়েছে। অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২ জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


টাকা নষ্টের মেগা প্রকল্প আর নয়: সেতুমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১৯:৪৭:২৮
টাকা নষ্টের মেগা প্রকল্প আর নয়: সেতুমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো যথাযথ বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া অলাভজনক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়ে জনগণের অর্থের অপচয় করতে বর্তমান সরকার আগ্রহী নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আগের আমলের মতো কেবল প্রকল্প দেখানোর উদ্দেশ্যে জনগণের করের টাকা নষ্ট করার দিন শেষ। প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের আগে তার বাস্তব উপযোগিতা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রকল্পের সুফল কেবল কাগজে-কলমে বা তাত্ত্বিক পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং সাধারণ মানুষ যেন সরাসরি সেই সুবিধা ভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বড় প্রকল্প নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি গভীর বিশ্বাস জন্মেছে যে বড় প্রকল্প মানেই বড় অংকের দুর্নীতি। বর্তমান সরকারকে কাজের স্বচ্ছতা ও সততার মাধ্যমে জনগণের এই ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন প্রতিটি প্রকল্পে ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হয় এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, বড় প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দুর্নীতির যে দুর্নাম মেগা প্রকল্পগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে, তা দূর করতে কঠোর মনিটরিং ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। কাজের গুণমান নিশ্চিত করে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পটি সাভার, কেরানীগঞ্জ, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর এলাকার মধ্যে একটি সরাসরি ও শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বাজেটের এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর চিরচেনা যানজট পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন হলে আর ছাড় নয়! ভারতকে কড়া বার্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১৮:১৬:০১
সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন হলে আর ছাড় নয়! ভারতকে কড়া বার্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে 'পুশ-ইন' বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে বর্তমান সরকার কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের এই অনড় অবস্থানের কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে সীমান্তে যদি পুশ-ইনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে ঢাকা তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। একই সাথে তিস্তা নদীকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে ভারতের ইতিবাচক ভূমিকার প্রত্যাশা করেন তিনি। তবে শুধু ভারতের আশ্বাসে বসে না থেকে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে ঢাকা তাদের আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

এই ব্রিফিংয়ের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফররত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা সমালোচনার জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে। যারা সমালোচনা করছেন, তাদের অন্যান্য দেশের সাথে সম্পাদিত চুক্তির তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণ করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এই চুক্তির সুফল দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সাথে আলোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, তার আসন্ন চীন সফরে এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে স্থান পাবে। চীন সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে মঙ্গলবারই বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার। সফরসূচী অনুযায়ী, আগামী ৭ মে পর্যন্ত তিনি চীনে অবস্থান করবেন এবং সেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


লুটপাট বন্ধে ডিসিদের হাতে বিশেষ ক্ষমতা? নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১৮:০১:৫১
লুটপাট বন্ধে ডিসিদের হাতে বিশেষ ক্ষমতা? নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কেবল সচল রাখাই নয়, বরং একে পুরোপুরি কার্যকর এবং দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার হচ্ছে যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি এবং তৃণমূল পর্যায়ের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে যদি শক্তিশালী ও মজবুত করা যায়, তবে দেশের সামগ্রিক গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে।

অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল জানান, ডিসিরা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে বিশদ জানতে চেয়েছেন এবং মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। সরকার এসব ইতিবাচক পরামর্শ গ্রহণ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে জেলা প্রশাসকদের স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং সরকারের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ এ দেশের প্রকৃত মালিকই হচ্ছে সাধারণ জনগণ।

বিগত দেড় দশকের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি জেঁকে বসেছিল। এসব দুর্নীতি ও লুটপাট চিরতরে বন্ধ করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। স্থানীয় পর্যায়ের অনিয়ম ঠেকাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


লোডশেডিংমুক্ত এক সপ্তাহ: বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন স্বস্তি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১২:৫০:৪১
লোডশেডিংমুক্ত এক সপ্তাহ: বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন স্বস্তি
ছবি : সংগৃহীত

দেশে বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ায় টানা এক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে কোনো লোডশেডিং হয়নি। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে গ্রাহকদের কোনো প্রকার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হতে হয়নি। মূলত দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ফলে সেচ কাজের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি চাপ না থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। আগে ছোট কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উৎপাদনে সামান্য ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে তা কাটিয়ে ওঠা গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বজায় রাখতে কয়লার নিয়মিত জোগান নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করায় সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটিও দ্রুত যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট এবং সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে লোডশেডিং শূন্যে রাখা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও চাহিদার ওঠানামা থাকলেও (১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে) সরবরাহে কোনো ঘাটতি ছিল না। মে মাসের প্রথম তিনদিনেও এই ধারা বজায় ছিল, যা বিদ্যুৎ খাতে এক ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকারি কিছু কৌশলী পদক্ষেপও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ এবং এসি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর চালানোর নির্দেশনা। এছাড়া এলএনজি, জ্বালানি তেল ও কয়লা আমদানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং দেশের বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত উৎপাদন জাতীয় গ্রিডকে সমৃদ্ধ করেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে দিনে বা রাতে কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট লক্ষ্য করা যায়নি। তবে জাতীয়ভাবে লোডশেডিং না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে গাছ কাটা বা লাইন রক্ষণাবেক্ষণের মতো কারিগরি কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। গ্রামাঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক সময় সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হলেও সেটিকে আনুষ্ঠানিক লোডশেডিং হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

দেশের পুঁজিবাজারে মঙ্গলবারের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকায় বহুমুখী খাতের কোম্পানির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে বিস্তৃত ভিত্তিতে আস্থার ইঙ্গিত... বিস্তারিত