পবিত্র হজ: এক আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ইতিহাস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ১৫ ২১:৫১:৩৭
পবিত্র হজ: এক আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ইতিহাস

সত্য নিউজইসলাম ডেস্ক: প্রতি বছর যখন লাখো মুসলমান সাদা কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় কাবার উদ্দেশে যাত্রা করেন, তখন সেই দৃশ্য শুধু একটি ইবাদতের প্রতিফলন নয়, বরং হাজার বছরের এক ঐতিহাসিক ধারার অংশ হয়ে ওঠে। হজ ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি, যা কেবল শারীরিক কর্ম নয়, বরং আত্মিক, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিকভাবে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। এই ইবাদতের পেছনে আছে বিস্ময়কর সব কাহিনি—আদি মানব থেকে শুরু করে নবী ইবরাহিম (আ.) এবং সর্বশেষে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাধ্যমে পূর্ণতা পাওয়া এক ঐশী সফর।

আদি সূচনা: ফেরেশতাদের নির্মিত কাবা ও আদম (আ.)-এর ইবাদত

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, কাবা পৃথিবীর প্রথম ঘর যা মানুষের ইবাদতের জন্য নির্ধারিত হয়েছিল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, “নিঃসন্দেহে প্রথম ঘর যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল, তা মক্কায়।” হাদিস ও কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, কাবা ঘর প্রথম নির্মাণ করেছিলেন ফেরেশতারা, আল্লাহর নির্দেশে। পরে হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) পৃথিবীতে মিলিত হওয়ার পর, আদম (আ.) আল্লাহর নিকট ইবাদতের স্থান কামনা করেন। তখন ফেরেশতারাই তাঁকে পথ দেখান এবং একটি ঘর নির্মাণের নির্দেশ দেন, যা ছিল স্বর্গীয় ঘর ‘বাইতুল মামুর’-এর প্রতিরূপ। সেখানে তিনি আল্লাহর ইবাদত শুরু করেন, আর সেটিই ছিল হজের প্রাথমিক রূপ।

ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.): হজের রূপকার

পরে নূহ (আ.)-এর সময় এক মহাপ্লাবনে কাবা ঘর বিলীন হয়ে যায়। বহু বছর পর, আল্লাহর আদেশে ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.) মক্কায় সেই পুরাতন জায়গায় কাবাঘর পুনরায় নির্মাণ করেন। আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে হজের নিয়মাবলি নির্ধারণ করেন। ইবরাহিম (আ.)-কে হজের রীতি শেখানো হয় ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে। তাঁরা কাবার তাওয়াফ করেন, জমজম কূপ আবিষ্কৃত হয়, হাজেরা (আ.)-এর সাফা-মারওয়ার মধ্যকার দৌড় সংযোজন হয় এবং শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ ও কোরবানির রীতি চালু হয়। এসব ঘটনাই আজকের হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রাক-ইসলামি যুগে হজ: বিকৃতি ও বিভ্রান্তি

ইবরাহিম (আ.)-এর মৃত্যুর বহু বছর পর হজের প্রকৃত রূপ বিকৃত হয়ে পড়ে। আরবের কুরাইশসহ বিভিন্ন গোত্র কাবা ঘরকে কেন্দ্র করে মূর্তি পূজায় লিপ্ত হয়। হজের সময় মানুষ নগ্ন হয়ে তাওয়াফ করত এই বিশ্বাসে যে, পোশাক তাদের গুনাহর স্মারক। হজ পরিণত হয় সামাজিক উৎসবে— মদ, গান, জুয়া ও অশ্লীলতায় ভরে যায় এই পবিত্র সময়। কোরবানির মাংস কাবার সামনে ফেলে রেখে বলা হতো— এটি আল্লাহর জন্য। এভাবে আত্মশুদ্ধির ইবাদত হজ এক বিভ্রান্ত সংস্কারে পরিণত হয়।

ইসলামি যুগে নবজাগরণ: হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পুনঃপ্রবর্তন

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আবির্ভাবের পর ইসলাম আবার ইবরাহিম (আ.)-এর প্রকৃত পথকে ফিরিয়ে আনে। ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর তিনি কাবাঘরকে মূর্তিমুক্ত করেন এবং ঘোষণা দেন— হজ হবে শুধু আল্লাহর নামে। নবম হিজরিতে হজ ফরজ করা হয় এবং পরের বছর রাসুল (সা.) আবু বকর (রা.)-কে পাঠান হজ পরিচালনার জন্য। সেই হজে মুশরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়, নগ্ন হয়ে তাওয়াফের রীতি বাতিল করা হয় এবং ইসলামী বিধি অনুযায়ী হজ আদায়ের নতুন যুগ শুরু হয়।

বিদায় হজ: একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত

দশম হিজরিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে হজে অংশগ্রহণ করেন— এটিই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র হজ এবং মুসলমানদের জন্য চিরন্তন আদর্শ। প্রায় এক লক্ষেরও বেশি সাহাবি সেই হজে অংশ নেন। আর এই হজেই তিনি প্রদান করেন ‘বিদায় হজের ভাষণ’— যা আজও মানবজাতির জন্য এক মহা-ঘোষণা। সেখানে তিনি বলেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ কারো রক্ত ও সম্পদ নষ্ট করতে পারবে না। সুদ চিরতরে হারাম। নারীজাতির অধিকার রক্ষা করো। তোমরা সবাই এক, কোনো আরব অ-আরবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়।” এই ভাষণে কেবল হজের শিক্ষা নয়, বরং এক সমতাভিত্তিক সমাজব্যবস্থার দিকনির্দেশনাও পাওয়া যায়।

হজ কেবল শারীরিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ইবাদত নয়, এটি ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় একজন ঈমানদারকে আত্মত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের এক মহা-সংকল্পে নিয়ে যায়। আদম (আ.) থেকে শুরু করে ইবরাহিম (আ.) ও শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর হাতে পূর্ণতা পাওয়া এই হজ আজও কোটি কোটি মানুষের অন্তর ছুঁয়ে যায়। প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতায় রয়েছে এক গহীন আধ্যাত্মিক অর্থ— যা হজকে শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং একটি জীবন্ত ঐতিহাসিক অধ্যায়ে পরিণত করেছে।


কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি: সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৯:৫৬:৪৫
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি: সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

সকালে পেট পরিষ্কার না হওয়া, মলত্যাগের জটিলতা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তির মতো কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ঘরোয়া সমাধান হিসেবে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রাকৃতিক ফাইবার ‘ইসবগুলের ভুষি’ (সাইলিয়াম হাস্ক)। এটি মূলত ‘প্ল্যান্টাগো ওভাটা’ বীজের আবরণ থেকে প্রস্তুতকৃত একটি দ্রবণীয় আঁশ। এটি ওষুধের মতো কৃত্রিমভাবে অন্ত্রকে উত্তেজিত না করে প্রাকৃতিক ‘বাল্ক-ফর্মিং ল্যাক্সেটিভ’ হিসেবে কাজ করে; পানির সংস্পর্শে এলে জেলির মতো ফুলে ওঠে অন্ত্রে পানি ধরে রাখে এবং মল নরম ও ভারী করে সহজে নিঃসরণে সহায়তা করে। তবে এর যথাযথ কার্যকারিতা পেতে সঠিক মাত্রা ও গ্রহণের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা প্রাথমিক অবস্থায় দৈনিক প্রায় ৫ গ্রাম বা ১ থেকে ২ চা-চামচ ইসবগুল দিয়ে শুরু করতে পারেন। অতিরিক্ত মাত্রা একবারে গ্রহণ করলে উপকারের বদলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অন্ত্রে ব্লকেজ তৈরির ঝুঁকি থাকে। এটি খাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করা।

প্রায় ২৪০ মিলিলিটার বা এক গ্লাস পানিতে ইসবগুল মিশিয়ে বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক পান করতে হবে এবং দিনভর প্রচুর পানি খেতে হবে; অন্যথায় এটি অন্ত্রের পানি শুষে নিয়ে মলকে উল্টো শক্ত করে ফেলতে পারে। দিনের যেকোনো সুবিধাজনক সময় বা সন্ধ্যায় এটি খাওয়া গেলেও যারা নিয়মিত অন্যান্য ওষুধ সেবন করেন, তাদের ওষুধের কার্যকারিতা ও পুষ্টি শোষণ ঠিক রাখতে ইসবগুল খাওয়ার মাঝে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান বজায় রাখা আবশ্যক।

তবে খাবার গিলতে সমস্যা, অন্ত্রে প্রতিবন্ধকতা, তীব্র পেটব্যথা, বমি ভাব কিংবা মলদ্বারে রক্তপাতের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ইসবগুল গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ইসবগুল খাওয়ার পর যদি তীব্র পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা সমস্যা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

/আশিক


টানা ১৪ দিন গ্রিন টি পানে শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটে: বিশেষজ্ঞের তথ্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯:৫৯:১৯
টানা ১৪ দিন গ্রিন টি পানে শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটে: বিশেষজ্ঞের তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

সকালে এক কাপ গরম গ্রিন টি পান করার অভ্যাস এখন অনেকের দৈনন্দিন রুটিনের একটি পরিচিত অংশ হয়ে উঠেছে, তবে সাধারণ এই পানীয়টি মানবদেহে কতটা গভীর ইতিবাচক রূপান্তর ঘটাতে পারে তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট এবং হেপাটোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি উল্লেখ করেছেন যে, টানা ১৪ দিন বা দুই সপ্তাহ নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় গ্রিন টি পান করলে শরীরে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞের অভিমত অনুযায়ী, টানা দুই সপ্তাহ গ্রিন টি পানের ফলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব পড়ে মানুষের লিভারের ওপর। গ্রিন টিতে ‘ইজিসিজি’ (EGCG)-এর মতো অত্যন্ত শক্তিশালী ক্যাটেকিন এবং কার্যকর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান, যা লিভারের ভেতরের প্রদাহ প্রশমিত করার পাশাপাশি সামগ্রিক মেটাবলিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এর বিভিন্ন সক্রিয় উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন লড়াই চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ক্রনিক রোগের ঝুঁকি থেকে মানবদেহকে সুরক্ষিত রাখে।

লিভারের সুরক্ষার পাশাপাশি বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি ও শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণেও পানীয়টি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। গ্রিন টির উপাদানগুলো শরীরের স্বাভাবিক বিপাক হার বা মেটাবলিজম গতিশীল করে এবং অতিরিক্ত চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়া বা ফ্যাট মেটাবলিজমকে আরও ত্বরান্বিত করে। একই সাথে এটি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করতে ভূমিকা রাখে, যা স্বাস্থ্য সচেতন ও ফিটনেস বজায় রাখতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য দুই সপ্তাহের মধ্যে আশাব্যঞ্জক বিপাকীয় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

গ্রিন টি মানসিক কর্মক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের একাগ্রতা বাড়াতেও সহায়ক। সাধারণ কফি পানের পর অনেকের মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা বা নার্ভাসনেস দেখা দেয়, গ্রিন টির ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি থাকে না। এতে কফির চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম ক্যাফেইন থাকে এবং যুক্ত থাকে ‘এল-থিয়ানিন’ নামক এক বিশেষ অ্যামাইনো অ্যাসিড। এই দুই উপাদানের সম্মিলিত ক্রিয়া মস্তিষ্ককে শান্ত ও স্থির রাখে, যা অস্থিরতা তৈরি না করেই দীর্ঘক্ষণ নিরবচ্ছিন্ন মানসিক সতর্কতা, স্থায়িত্বশীল শক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্যগত অসংখ্য গুণাবলি থাকা সত্ত্বেও গ্রিন টি গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সতর্কতা এবং সঠিক নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন ডা. শেঠি। তিনি দৈনিক এক থেকে সর্বোচ্চ তিন কাপ গ্রিন টি পানের পরামর্শ দিয়েছেন এবং অতিরিক্ত ঘন গ্রিন টি নির্যাসের (Green Tea Extract) ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করার কড়া সতর্কতা দিয়েছেন। অতিরিক্ত মাত্রায় ঘন নির্যাস সেবনের ফলে বিরল ক্ষেত্রে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যার কারণে পরিমিত ও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় পান করাই এই অভ্যাসের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


বুকের ব্যথাই শেষ কথা নয়: হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলো জানেন কি?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২০:৫৪:০৩
বুকের ব্যথাই শেষ কথা নয়: হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলো জানেন কি?
ছবি : সংগৃহীত

সিনেমার মতো নাটকীয়ভাবে হঠাৎ বুকে চেপে ধরে লুটিয়ে পড়ার বাইরেও অত্যন্ত ধীর ও বিভ্রান্তিকর উপসর্গে বাস্তব জীবনে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় সাধারণ অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, অল্পতেই অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা সাধারণ পেশির ব্যথার আড়ালে প্রাণঘাতী এই সমস্যার প্রাথমিক সতর্কসংকেত লুকিয়ে থাকে। মানুষ প্রায়ই খাদ্যাভ্যাস বা কাজের চাপকে দায়ী করে এসব লক্ষণ অবহেলা করেন, যার ফলে হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নষ্ট হয় এবং হৃৎপিণ্ডের স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়।

চিকিৎসকদের মতে, বুকে তীব্র ব্যথা না হয়ে কেবল মাঝখানে চাপ লাগা, ভারী ভাব, আঁটসাঁট লাগা কিংবা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে, যা কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়ে আবার ফিরে আসে। এই অস্বস্তি শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্নায়ুর মাধ্যমে এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে তীব্র ব্যথার বদলে কেবল বমিভাব, পেটের সমস্যা কিংবা চরম ক্লান্তির মতো অপ্রচলিত উপসর্গ দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, কারণহীন যেকোনো বুকজ্বালা বা অস্বস্তিকে কেবল গ্যাস্ট্রিক ভেবে অ্যান্টাসিড খেয়ে সময়ক্ষেপণ করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এমন উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সব শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হবে এবং দ্রুততম সময়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। রোগী অচেতন হয়ে পড়লে এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ থাকলে অবিলম্বে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) শুরু করা এবং প্রয়োজনে ডিফিব্রিলেটর (এইডি) ব্যবহার করে রোগীকে বাঁচানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

/আশিক


ওষুধ বা সিরাম নয়, খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচ খাবারেই মিটবে চুল পড়ার সমস্যা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৯:৫৭:০৯
ওষুধ বা সিরাম নয়, খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচ খাবারেই মিটবে চুল পড়ার সমস্যা
ছবি : সংগৃহীত

অল্প বয়সেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা এখন প্রায় ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা ও ব্যস্ত নাগরিক জীবনের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে চুলের স্বাস্থ্যে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই দ্রুত সমাধান পেতে কৃত্রিম রাসায়নিক প্রসাধন, নামীদামি সিরাম বা নানা ধরনের ওষুধের শরণাপন্ন হন, যা ক্ষেত্রবিশেষে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে চুলকে আরও বেশি ভঙ্গুর ও দুর্বল করে তোলে। অথচ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের স্থায়িত্ব ও উজ্জ্বলতা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে অভ্যন্তরীণ পুষ্টির ওপর, যার প্রধান জোগান আসে দৈনন্দিন সুষম খাবার থেকে। নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতন পরিবর্তন এনে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করতে পারলে চুল পড়ার হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

চুলের গোড়া শক্ত করতে এবং মাথার ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের বাদাম রাখা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। বিশেষ করে আখরোট, আমন্ড ও কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে, যা চুলের ফলিকলকে গভীর থেকে শক্তিশালী করে এবং চুলের প্রাকৃতিক জেল্লা ধরে রাখতে সাহায্য করে। একইভাবে চিয়া বীজে থাকা উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের সার্বিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত সালাদ কিংবা টকদইয়ের সঙ্গে পরিমিত চিয়া বীজ গ্রহণের অভ্যাস চুলের শুষ্কতা দূর করে গোড়া মজবুত রাখতে সহায়ক।

চুলের মূল গাঠনিক উপাদান যেহেতু প্রোটিন, তাই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য হিসেবে শিমের বীজ একটি উৎকৃষ্ট উপাদান হতে পারে। পর্যাপ্ত শিমের বীজ খাওয়ার ফলে চুলের ভঙ্গুরতা রোধ হয় এবং নতুন চুল গজিয়ে ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি সবুজ শাকসবজির মধ্যে পালং শাক ভিটামিন এ-এর একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা মাথার স্ক্যাল্প বা ত্বককে সুস্থ রাখার পাশাপাশি চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। এর বাইরে দেশীয় ভেষজ ফল আমলকী চুলের সুরক্ষায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকা রাখে। আমলকীতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের গোড়ায় পুষ্টি সরবরাহ বাড়িয়ে চুলকে ভেতর থেকে প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী করে তোলে। মূলত বাহ্যিক পরিচর্যার চেয়ে সুষম খাদ্যের সমন্বয়ে চুলের অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধি করাই দীর্ঘমেয়াদে চুল পড়া মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর ও স্থায়ী উপায়।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


ক্যালেন্ডারের সংখ্যা নাকি মনের অনুভূতি: বার্ধক্যের আসল পরিচয় আসলে কী?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ২১:২৭:১৯
ক্যালেন্ডারের সংখ্যা নাকি মনের অনুভূতি: বার্ধক্যের আসল পরিচয় আসলে কী?
ছবি : সংগৃহীত

সময়ের আবর্তনে মানুষের বয়স বৃদ্ধি পাওয়া একটি স্বাভাবিক জৈবিক নিয়ম। কিন্তু জীবনের নির্দিষ্ট কোনো অঙ্কে পা রাখলেই কি একজন মানুষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধ হয়ে যান, নাকি অন্তরের অনুভূতি তাকে প্রবীণ হিসেবে ভাবতে শেখায়—তা নিয়ে গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিতর্ক রয়েছে। বাস্তব জীবনের নানা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বয়স বেড়ে যাওয়া মানেই কোনো ব্যক্তির কর্মক্ষমতা নিঃশেষ হওয়া, উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া কিংবা সমসাময়িক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া নয়। এক লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি জেবেল আলীর একটি গির্জার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান, উপাসনালয়ের বেদির কাছে অসুস্থ ও প্রবীণ উপাসকদের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি সংরক্ষিত আসন থাকত। আসনগুলো সচরাচর ফাঁকাই পড়ে থাকত, তবে ভিড়ের দিনে অন্য কেউ সেখানে বসলেও সাধারণত কেউ বাধা দিত না।

লেখক ও তার সঙ্গী দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের সেই আসনগুলোর উপযুক্ত মনে না করে তা এড়িয়ে চলতেন। তাদের ধারণা ছিল, যাদের সত্যিই শারীরিক সহায়তা বা বিশ্রামের প্রয়োজন, জায়গাগুলো কেবল তাদের জন্যই ছেড়ে রাখা উচিত। তবে একদিন গির্জায় উপচে পড়া ভিড়ে বসার জায়গা না পেয়ে তারা নিরুপায় হয়ে ওই সংরক্ষিত আসনে গিয়ে বসেন। প্রার্থনার কিছুক্ষণ পরেই এক আয়োজক অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাদের মনে করিয়ে দেন যে আসনগুলো প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ।

তখন লেখকের মনে প্রশ্ন জাগে, ঠিক কত বছর বয়স হলে একজন মানুষ নিজেকে বয়োবৃদ্ধ বিবেচনা করবেন এবং বার্ধক্যের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ঠিক কখন আসে। এই সাধারণ ঘটনাটি বয়সের মনস্তত্ত্ব নিয়ে এক জটিল সত্যকে সামনে এনেছে। অনেকের পক্ষেই নিজের বয়স বাড়ার চেয়ে সমাজ বা পারিপার্শ্বিক মানুষ তাকে বৃদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করছে—এই মানসিক রূপান্তর মেনে নেওয়া সবচেয়ে বেশি কঠিন ঠেকে। অথচ বাস্তবতা হলো, বয়সের অঙ্ক বাড়লেও বহু মানুষ এখনো নিয়মিত চাকরি করছেন, গাড়ি ড্রাইভ করছেন, দেশ-বিদেশে ঘুরছেন, শরীরচর্চা বজায় রাখছেন এবং নতুন নতুন সৃজনশীল কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখছেন, যা বার্ধক্য নিয়ে সমাজের গতানুগতিক ধারণার সাথে কোনোভাবেই মেলে না।

মানুষের নিজের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বয়স সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তিত হতে থাকে। শৈশবে কোনো শিশুর কাছে পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন ব্যক্তিকে অনেক বৃদ্ধ মনে হতে পারে, কিন্তু সেই ব্যক্তি নিজে যখন জীবনের সেই প্রান্তে পৌঁছান, তখন তিনি নিজেকে যথেষ্ট কর্মক্ষম ও তরুণ অনুভব করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য বহু পরিকল্পনা দেখতে পান। এখানেই কেবল একটি সংখ্যামান এবং প্রকৃত বার্ধক্যের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়। জন্মসনদ বা পরিচয়পত্রের তারিখ শুধু এটুকু প্রমাণ করে যে পৃথিবীতে একজন মানুষ কতগুলো বছর পার করেছেন। কিন্তু সেই সংখ্যা কখনোই পরিমাপ করতে পারে না ব্যক্তির প্রাণচাঞ্চল্য, সক্ষমতা কিংবা তার অন্তর্নিহিত স্বপ্নকে।

ইতিহাসে প্রবীণ বয়সকে যেভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছিল, আধুনিক যুগে তার সংজ্ঞা পুরোপুরি বদলে গেছে। উইলিয়াম শেক্সপিয়র তার বিখ্যাত ‘অ্যাজ ইউ লাইক ইট’ নাটকে জীবনের অন্তিম অধ্যায়কে শৈশবের অসহায়ত্ব ও স্মৃতিভ্রমের এক পর্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু আজকের দিনের আধুনিক জীবনধারায় সেই ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা অচল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সচেতনতার কারণে প্রবীণরা এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভ্রমণ করছেন, স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখছেন, নতুন জ্ঞান আহরণ করছেন এবং ম্যারাথনের মতো কঠিন শারীরিক প্রতিযোগিতাতেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন।

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রবীণ প্রজন্মকে সমাজের মূলধারার সাথে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে। স্মার্টফোনের ব্যবহার, ভিডিও যোগাযোগ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও সামাজিক মাধ্যমের সংযোগ প্রবীণদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ফলে বয়স বৃদ্ধি মানেই আধুনিক পৃথিবীর অগ্রযাত্রা থেকে ছিটকে পড়া নয়। জীবন উপভোগ করা, নিত্যনতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া কিংবা ব্যক্তিগত স্বপ্ন বাস্তবায়নে বয়স কখনোই অন্তরায় হতে পারে না। তাই মানুষের জীবনকে কেবল কত বছর অতিবাহিত হলো তা দিয়ে না মেপে, সেই সময়গুলো মানুষ কতটা সার্থকতা ও আনন্দের সাথে অতিবাহিত করছে, তা দিয়েই প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত। গির্জার সেই অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার পর লেখকের কাছেও প্রবীণদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে গেছে। ভবিষ্যতে এমন কোনো সংরক্ষিত জায়গা দেখলে তিনি হয়তো আর সংকোচ বোধ করবেন না। কারণ বার্ধক্য কোনো পালিয়ে বেড়ানোর মতো দুর্বলতা নয়, বরং দীর্ঘ এক জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের গৌরবময় প্রতীক।

/আশিক


পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ২০:০২:২৭
পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
ছবি : সংগৃহীত

ডাল, ছোলা, রাজমা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু সবজি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হলেও অনেকের ক্ষেত্রেই এগুলো খাওয়ার পর পেটে গ্যাস, পেটফাঁপা বা অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে রান্নার পদ্ধতি সঠিক না হলে কিংবা পরিপাকতন্ত্র দুর্বল থাকলে এই সমস্যাগুলো আরও প্রকট রূপ নেয়। তবে খাবার পরিপাকে সহায়তা করতে এবং হজমপ্রক্রিয়া সহজ করতে হেঁশেলে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে একটি পরিচিত ভেষজ মসলা—হিং।

ইন্টিগ্রেটিভ লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ লুক কৌতিনহো সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিংয়ের স্বাস্থ্যগত কার্যকারিতা তুলে ধরেছেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, রান্নায় সামান্য বা এক চিমটি হিং যোগ করলে তা গ্যাস, পেটফাঁপা এবং পেট ফাঁপার কারণে তৈরি হওয়া অস্বস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ডাল, শিম, ছোলা ও রাজমা রান্নায় ঐতিহাসিকভাবেই হিং ব্যবহারের চল রয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হিংয়ে থাকা সক্রিয় উপাদানগুলো পরিপাকতন্ত্রের প্রয়োজনীয় এনজাইমের ক্ষরণ ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে প্যানক্রিয়াটিক অ্যামাইলেজ ও লাইপেজের মতো এনজাইমের গতিশীলতা বাড়াতে হিং সহায়ক, যা জটিল খাদ্য উপাদান সহজে ভাঙতে সাহায্য করে।

তবে কেবল মসলা ব্যবহারের ওপর নির্ভর না করে রান্নার পূর্বপ্রস্তুতিতেও সতর্ক হওয়া জরুরি। ডাল বা শক্ত দানাযুক্ত শস্য রান্নার আগে দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখা, অঙ্কুরোদগম (স্প্রাউটিং) করা এবং হালকা আঁচে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সেদ্ধ করে রান্না করলে তা হজমের জন্য অনেক বেশি উপযোগী হয়ে ওঠে। ব্রকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ছোলা কিংবা রাজমার মতো সবজিতে রান্নার সময় জিরা, আদা ও হলুদের পাশাপাশি সামান্য হিং ব্যবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে খাবারের গন্ধ ও স্বাদে নেতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে, তাই প্রতি রান্নায় মাত্র এক চিমটি হিং ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

/আশিক


দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য বদলেই কমবে মাসের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:৩২:২৬
দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য বদলেই কমবে মাসের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল
ছবি : সংগৃহীত

সাধারণত গ্রীষ্মকালে এসি, ফ্রিজ কিংবা ফ্যানের বাড়তি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ বিলের অঙ্ক দ্রুত বেড়ে যায়। তবে শীতের মৌসুমেও অনেকের ঘরে ধারণার চেয়ে বেশি বিল আসার অভিযোগ থাকে। অপ্রয়োজনে বাতি-পাখা সচল রাখা, বেশি ওয়াটের অ্যানালগ বাতি ব্যবহার কিংবা গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাস শেষে বিদ্যুতের এই অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হয়। অথচ দৈনন্দিন অভ্যাসে কয়েকটি সহজ ও কার্যকর কৌশল অনুসরণ করলে স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রেখেই মাসের বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাধারণ ফিলামেন্ট বাল্বের পরিবর্তে আধুনিক এলইডি বা সিএফএল বাতি ব্যবহার করা উচিত। এসব সাশ্রয়ী বাতি অতি সামান্য বিদ্যুৎ খরচ করে ঘরে পর্যাপ্ত আলো সরবরাহ করে, যা দীর্ঘ মেয়াদে বিল কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এছাড়া ফ্রিজের সঠিক যত্ন নেওয়াও অত্যন্ত জরুরি; ফ্রিজের ভেতরে অতিরিক্ত বরফ জমলে এর শীতলকরণ কার্যকারিতা হ্রাস পেয়ে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত ফ্রিজ ডিফ্রস্ট করার পাশাপাশি রান্না করা গরম খাবার কিছুটা ঠান্ডা করে তবেই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা ভালো।

অনেক ক্ষেত্রে টেলিভিশন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইল চার্জার কেবল রিমোট বা সফটওয়্যার দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়, কিন্তু মূল প্লাগ পয়েন্টের সুইচ চালু থাকে। স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকা এই যন্ত্রগুলো সার্বক্ষণিক অল্প পরিমাণে বিদ্যুৎ টানতে থাকে। তাই কাজ শেষে সরাসরি প্রধান সুইচটি বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

গ্রীষ্মকালে এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঘরের দরজা, জানালা ও ফাঁকফোকর ভালোভাবে বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বের হতে না পারে। ঘর দ্রুত ঠান্ডা হলে এসির কম্প্রেশার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম শক্তি ব্যবহার করে এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকে। অতিরিক্ত গরম না থাকলে এসির বদলে সাধারণ সিলিং বা টেবিল ফ্যান ব্যবহার করাও সাশ্রয়ের একটি ভালো উপায়। এছাড়া দিনের বেলায় কৃত্রিম আলোর ওপর নির্ভর না করে সূর্যের স্বাভাবিক আলো কাজে লাগানো এবং ঘর ছাড়ার আগে সব বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ রাখার মতো সচেতনতাই পারে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে।

/আশিক


সামান্য ভুলেই বেহাত হতে পারে ফোনের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২০:৩১:৩৯
সামান্য ভুলেই বেহাত হতে পারে ফোনের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোন বর্তমান জীবনে অপরিহার্য এক অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত দৈনন্দিন কাজের একটি বড় অংশই এখন এই যন্ত্রটির ওপর নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, পারিবারিক ছবি কিংবা ভিডিও—সবই সংরক্ষিত থাকে ডিভাইসে। কোনো কারণে এসব তথ্য বেহাত হলে কেবল সামাজিক সম্মানহানি নয়, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ডিভাইসের প্রাথমিক সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা পিন ব্যবহার করা আবশ্যক। নিজের নাম, জন্মতারিখ কিংবা ক্রমানুযায়ী সংখ্যা ব্যবহারের মতো অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া সামাজিক মাধ্যম ও আর্থিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্ন ও জটিল পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করা এবং টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখা উচিত।

ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় অপরিচিত ও সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করা যাবে না। বিশেষ করে লোভনীয় অফারের ফাঁদে ফেলে পাঠানো লিংক থেকে সাইবার অপরাধীরা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়। পাশাপাশি অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোরের বাইরে কোনো থার্ড পার্টি প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকর অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি বা ভিডিও সুরক্ষিত রাখতে ডিভাইসের নিজস্ব লকড ফোল্ডার কিংবা অ্যাপ লকের সুবিধা নেওয়া প্রয়োজন। ফোন সাময়িকভাবে অন্যের হাতে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব না হয়। এছাড়া পুরোনো ডিভাইস বিক্রি বা হাতবদলের আগে ফ্যাক্টরি ডেটা রিসেট দিয়ে অভ্যন্তরীণ সব তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা উচিত।

অনেকের ধারণা, কেবল জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করে হ্যাকিং করলেই তথ্য চুরি হয়। তবে ব্যবহারকারীর অসচেতনতা, দুর্বল পাসওয়ার্ড নির্বাচন এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশনের অনুমোদনের ফলেও ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত নথি অন্যের হাতে চলে যেতে পারে। তাই তথ্য সংরক্ষণে অপ্রয়োজনীয় নকল কপি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পদক্ষেপ মেনে চলা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

/আশিক


কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২১:১৩:২৩
কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক ব্যস্ত জীবনধারা, কায়িক শ্রমের অভাব এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্কফুড খাওয়ার প্রবণতায় মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভারের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও এখন ফ্যাটি লিভার বা যকৃতে ক্ষতিকর চর্বি জমার সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মানবদেহে বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি শোষণ ও ক্ষতিকর টক্সিন অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো লিভারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সঠিক সময়ে যত্ন না নিলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য দ্রুত ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যতালিকায় সচেতনতা এবং বিশেষ করে রান্নায় সঠিক ভোজ্যতেল নির্বাচনের মাধ্যমে এই রোগ বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আল্-হায়াত হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কনসালটেন্ট ডায়টেসিয়ান ও পুষ্টিবিদ মোহাম্মদ আরিফ ইকবালের মতে, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য রান্নায় সবচেয়ে উপকারী উপাদান হলো অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল। এই তেলে থাকা স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারে নতুন চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং অঙ্গটির অভ্যন্তরীণ প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

পাশাপাশি সয়াবিন তেল ও ক্যানোলা তেলও পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করাকে নিরাপদ বলে উল্লেখ করেছেন এই পুষ্টিবিদ। কারণ এগুলোতে ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকায় লিভারের কোষে প্রদাহের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

তবে সরিষার তেল, নারিকেল তেল কিংবা পাম তেলের মতো অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত তেল পরিহার করার জোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, যা যকৃতে চর্বির সঞ্চয় বাড়িয়ে বিদ্যমান ফ্যাটি লিভারের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। খাদ্যতালিকায় তেলের সঠিক নির্বাচনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার বর্জন, নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম ও পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যমে লিভার সুস্থ রাখা সম্ভব।

/আশিক

পাঠকের মতামত: