যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় নারীর দুর্ধর্ষ চুরি, মার্কিন ভিসা বাতিলের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যের একটি ডেইলি শপিং স্টোর থেকে এক ভারতীয় নারী প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকার (১৩০০ মার্কিন ডলার) পণ্য চুরি করে পালানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। এ ঘটনার পর মার্কিন দূতাবাস ভারতসহ বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য একটি ভিসা সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—চুরি, ডাকাতি কিংবা সহিংসতায় জড়ালে ভিসা বাতিল বা ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে গত ১ মে, ইলিনয়ের একটি সুপারশপে। অভিযুক্ত ভারতীয় নারী দোকানে প্রবেশ করে সাত ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পণ্য বাছাই করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি দোকানের পশ্চিম গেট দিয়ে কোনো মূল্য পরিশোধ না করেই বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
দোকানের এক কর্মচারী বিষয়টি লক্ষ্য করে তাকে থামান এবং চ্যালেঞ্জ করেন। ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং পরে স্থানীয় পুলিশের বডিক্যাম ফুটেজও প্রকাশ্যে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, কর্মচারী বলছেন, “এই মহিলা সাত ঘণ্টা ধরে দোকানে ঘুরছিলেন, জিনিস তুলছিলেন, ফোনে ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু কিছু না দিয়েই বেরিয়ে যাচ্ছিলেন।”
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী দাবি করেন, তিনি পণ্যের দাম পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন। তবে তখনই পুলিশ তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে প্রশ্ন করেন, “আপনার দেশে কি চুরি বৈধ? আমার তো মনে হয় না।”
যদিও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়নি, তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন দূতাবাসের হুঁশিয়ারি
এই ঘটনার পর ভারতের মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)–এ একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করে। বার্তায় বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রে হামলা, চুরি বা ডাকাতির মতো অপরাধ শুধু আইনি ঝামেলায় ফেলবে না, বরং এতে আপনার ভিসা বাতিল হতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের যোগ্যতা হারাতে পারেন।”
দূতাবাস আরও বলেছে, “মার্কিন নাগরিকেরা আইন মেনে চলে এবং আশা করা হয়, বিদেশি দর্শনার্থীরাও একইভাবে আইনশৃঙ্খলা মেনে চলবেন।”
ভিসা ও অভিবাসন ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, চুরি, জালিয়াতি, ডাকাতি বা বেআইনি প্রবেশের মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তা শুধু কারাদণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বিদেশি নাগরিকের অভিবাসন বা পর্যটন ভিসা বাতিল হতে পারে এবং ভবিষ্যতে পুনঃভিসা প্রাপ্তিও অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।
এই ঘটনায় মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা মূলত একটি কড়া বার্তা—যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বা সেখানে যেতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের জন্য। বিশেষ করে ভারতীয় শিক্ষার্থী, পর্যটক ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত সতর্কসংকেত।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নাগরিকদের ওপর আস্থার প্রশ্নও তৈরি করে। তাই ভিসা পাওয়া বা বিদেশে সম্মানের সঙ্গে অবস্থানের জন্য সুনাগরিকসুলভ আচরণ অপরিহার্য।
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান
ভারত পানি ইস্যুকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার সতর্ক করে বলেছেন, পানির মতো মৌলিক সম্পদকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসরণ করা ভারতের বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে। পাকিস্তানের জনগণের ন্যায্য পানির অধিকার খর্ব করার যেকোনো উদ্যোগের সুদূরপ্রসারী এবং নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ইসহাক দার অভিযোগ করেন, ভারত একতরফাভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থীভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি সংশ্লিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তার ভাষায়, এই চুক্তির মধ্যেই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শান্তিপূর্ণ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, যা উপেক্ষা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামাবাদ সবসময় আলোচনাকেন্দ্রিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বিপক্ষীয় যেকোনো সমস্যা কূটনৈতিক সংলাপ ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে ইসহাক দার বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম পাকিস্তান। তাই পানি নিরাপত্তা ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
তিনি দাবি করেন, সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় বিরোধ নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের পদক্ষেপ খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং মানবিক পরিস্থিতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা আজকের বিশ্বে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা অপরিহার্য।
ভারতের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, সিন্ধু নদী অববাহিকায় জলাধার সম্প্রসারণ এবং পানি সরিয়ে নেওয়ার কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আনতে পারে।
তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসহাক দার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পানি কখনোই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, চাপ প্রয়োগ কিংবা কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার এবং এটি কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
-রাফসান
কোন চাপের মুখে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প
মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগেও ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। সে সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবে না ওয়াশিংটন। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন পথে এগিয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) প্রকাশিত সমঝোতা স্মারকের তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি কোনো আত্মসমর্পণের দলিল নয়; বরং এতে ইরানের জন্য বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো তেল রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে চাপে থাকা ইরান নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এর ফলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প প্রশাসন যে লক্ষ্যগুলোর কথা বলেছিল, তার মধ্যে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা এবং দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তবে বর্তমান চুক্তিতে এসব লক্ষ্যের অনেকগুলোই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে।
ট্রাম্প অবশ্য চুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। তার দাবি, এই সমঝোতার মাধ্যমে অন্তত আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি এটিকে ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়ানোর একটি কার্যকর পদক্ষেপ বলেও বর্ণনা করেছেন।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার রাজনীতি ও কঠোর দর-কষাকষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া ট্রাম্পের কাছ থেকে এমন নমনীয় অবস্থান অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে।
চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি নিয়েও ভবিষ্যৎ আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে ইরানের জব্দ বা স্থগিত থাকা কিছু সম্পদ ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো বিনা শর্তের সুবিধা নয়; বরং ইরানের ইতিবাচক আচরণ ও চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
তবে সমালোচকদের মতে, এই ছাড় অনেকাংশে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে মিল রয়েছে। উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সেই চুক্তির অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিলেন ট্রাম্প নিজেই।
এদিকে রিপাবলিকান পার্টির রক্ষণশীল অংশ এবং ইসরায়েলের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে।
বিশেষ করে লেবাননকে ঘিরে নতুন শর্তাবলি ইসরায়েলের জন্য নতুন কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করছিল। তার মতে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারত।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথে যেতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছিল।
অন্যদিকে ট্রাম্প একদিকে ইরানকে উত্তর কোরিয়ার মতো পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হতে না দেওয়ার কথা বললেও, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন। তিনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ৬০ দিনের নির্ধারিত সময়ের পরও আলোচনা চলতে পারে।
এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
-রফিক
ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারককে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লেবানন-সংক্রান্ত শর্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, চুক্তির আওতায় থাকা বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
আল জাজিরার ওয়াশিংটনভিত্তিক সাংবাদিক মাইক হানার বরাতে জানা গেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, লেবাননে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের আশঙ্কা ছিল, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে লেবাননকে একটি পৃথক ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এখন স্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে, লেবানন এই সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সেখানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান গ্রহণযোগ্য হবে না।
এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ইসরায়েল-সমর্থক সদস্য ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে হোয়াইট হাউজ তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সে কারণে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হতে এখনো প্রায় দুই মাস সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ধারা ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তির বর্তমান রূপ নিয়ে সন্তুষ্ট নন বলে জানা গেছে।
সিএনএনের বরাতে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু এখন নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন। তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়বস্তু এমনভাবে প্রভাবিত করা, যাতে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এ উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু নিজের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সিনেটরকে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।
ইসরায়েলি নেতৃত্বের ধারণা, ইরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর ও কার্যকর সীমাবদ্ধতা মেনে নেবে না। সেই কারণে তারা পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়া নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।
একই সঙ্গে নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি বা লেবানন-সংক্রান্ত কিছু ধারা ইসরায়েলের জন্য বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচিত হবে না। এই অবস্থান ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নতুন মতপার্থক্যের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
চুক্তিতে লাভবান ইরান, ধাক্কায় নেতানিয়াহু সরকার
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের বৈরী দুই শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইরানের প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। সমর্থকদের কাছে এটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হলেও ইসরাইল এবং কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের কাছে এটি নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন একটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে প্রায় তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটে এবং নতুন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ দফার এই সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননের পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি যুদ্ধবিরতি নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনের সূচনা হতে পারে। তাদের মতে, অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ইরান আর দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা বহন করতে পারছে না, আবার ট্রাম্প প্রশাসনও নতুন কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়।
লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সারকিস নাওম মনে করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষের জন্যই এটি একটি বাস্তববাদী সমঝোতা। তার মতে, অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে ইরানের বিকল্প খুব সীমিত ছিল, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে চেয়েছে।
অন্যদিকে, এই সমঝোতাকে ইসরাইলের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ এটিকে একটি কৌশলগত বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার মতে, যে অভিযানের মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল বা পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়াই উল্টো ইরানের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের অন্যতম প্রধান দাবিগুলোর কোনোটি এই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীর কার্যক্রম কিংবা পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
তাদের মতে, এর ফলে ইরান নতুন কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতেও পড়েছে।
চুক্তি কার্যকর থাকলে ইরানের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, তেল রপ্তানি বাড়বে এবং পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রবাহিত হতে পারে।
-রাফসান
জব্দ করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ইরানের সম্পদ: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের জব্দ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ শেষ পর্যন্ত তাদের ফেরত দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো সম্পদ নয়, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের। এই অর্থ যথাসময়ে ফেরত দেওয়া না হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মার্কিন ডলারের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি সতর্কবার্তা দেন। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি-৭ সম্মেলন শেষে বুধবার ফ্রান্সে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিশাল অঙ্কের অর্থ আটকে রেখেছে, যা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে এসে তেহরানকে ফিরিয়ে দিতেই হবে। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন অতীতে ইরানের অনেক অর্থ জব্দ করেছিল এবং সেই অর্থ এখনও মার্কিন হেফাজতে রয়েছে। তবে এটি আমেরিকার অর্থ নয়। তার মতে, বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের আধিপত্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ ধরে রাখতেই এই অর্থ ফেরত দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র যদি অন্যের অর্থ এভাবে আটকে রাখে, তবে ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ডলারে বিনিয়োগ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।
এর আগে, গত রবিবার এক তীব্র কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতার প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—উভয় পক্ষের সব ধরনের সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। এর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার বিষয়টিও এই প্রাথমিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই সমঝোতার আওতায় আঞ্চলিক অংশীদারদের যৌথ সহযোগিতায় ইরানের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই তহবিলের অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগার থেকে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ওয়াশিংটন কোনো নগদ অর্থ দিচ্ছে না; বরং ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সঠিকভাবে আচরণ করলেই কেবল এই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তেহরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে এবং অন্য কোনো দেশ বা সংস্থা সেখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়, তবেই তারা সেটি করতে পারবে। ফলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই পুরো তহবিলটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের আগামী দিনের ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদি বৈরিতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান ইতিমধ্যে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরান ইতিবাচক আচরণ শুরু করলে ধাপে ধাপে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। বুধবার রাতে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। উভয় দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতাটি ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
/আশিক
শর্ত না মানলে ইরানে কঠোর নৌ-অবরোধের হুমকি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
তেহরান যদি সদ্য স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির শর্ত ও প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে ওয়াশিংটন পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করবে এবং কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। হেগসেথ স্পষ্ট করে জানান, চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন। চলমান এই সমঝোতা ও আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে না পারে, তবে মার্কিন বাহিনী আবারও সামরিক পদক্ষেপ শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এর পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক যাতায়াত পথ বন্ধ করার দিকেও ইঙ্গিত করেন পিট হেগসেথ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি এই চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তবে পারস্য উপসাগর তথা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আবারও একটি ‘ইস্পাত কঠিন’ নৌ-অবরোধ আরোপ করার মতো পূর্ণ সক্ষমতা ও প্রস্তুতি মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈরিতার পর গত কয়েক দিনের তীব্র কূটনৈতিক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছিল। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন এবং কঠোর হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ও চাপ সৃষ্টি করল।
/আশিক
ইরান সমঝোতার শর্ত গোপন রাখছে যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু কেন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। চুক্তির প্রকৃত শর্ত গোপন রাখা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা বাড়তে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন চুক্তির একাধিক খসড়া নথি বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস হতে শুরু করে। এরপর বাড়তে থাকা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে হোয়াইট হাউজ সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি বিশেষ ফোন ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।
সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা পুরো সমঝোতা স্মারকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরেন এবং বিতর্কিত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দেন।
ব্রিফিংয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, তা হলো—ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে হস্তান্তর করতে হবে না।
পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বর্তমান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তাত্ত্বিকভাবে প্রায় ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা রাখে। ফলে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এই সংবেদনশীল বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে আগামী দুই মাসের মধ্যে পৃথক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে নিম্নমাত্রায় রূপান্তরের একটি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হবে।
এদিকে ফ্রান্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরেনিয়াম মজুতের গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ইরান ওই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করার মতো অবস্থানে নেই এবং তা কার্যত অপ্রবেশযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, গত বছরের মার্কিন বিমান হামলার পর ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের গভীরে তথাকথিত ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ চাপা পড়ে আছে।
তার ভাষ্যমতে, এই উপাদানগুলো উদ্ধার করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কাছেই রয়েছে।
তিনি বলেন, “বাস্তবে এটি খুব বেশি মূল্যবান নয়। তবে মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। বর্তমানে কেউ সেই স্থাপনাগুলো স্পর্শ করছে না।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা দিয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি, যা নিশ্চিত করে যে ইরানের সব উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ওই তিনটি স্থাপনাতেই সংরক্ষিত ছিল।
বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ইরানের বিভিন্ন স্থানে নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের আরও মজুত রয়েছে, যেগুলো ভবিষ্যতে উন্নত প্রক্রিয়ায় অস্ত্রমানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হতে পারে।
এ কারণে আগামী দুই মাসের আলোচনায় ইউরেনিয়াম ইস্যুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্পও বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এই বিষয়ে ইরান আপত্তি জানাতে পারে এবং আলোচনার পথ সহজ হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আলোচনার অগ্রগতি, আইএইএর ভূমিকা এবং ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে পারবে কি না।
-রফিক
ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা ‘ভুল’ ছিল: ট্রাম্প
দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলাকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং যুদ্ধের বাস্তবতায় এমন ভুল ঘটতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, হামলার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত হবে না।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সামরিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে এবং কখনও কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলত্রুটি ঘটতে পারে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৭৫ জনের বেশি শিশু ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, বিভিন্ন দেশ এবং কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক তদন্তে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে হামলার পেছনে মার্কিন বাহিনীর ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার করেনি।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি অত্যন্ত জটিল একটি তদন্ত এবং এতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে মিনাব হামলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই একটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে পুরো প্রেক্ষাপট বোঝা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের কর্মকাণ্ডের কারণেও অতীতে বহু মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি বিদ্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। যুদ্ধ অত্যন্ত নির্মম একটি বাস্তবতা এবং সেখানে ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুল শনাক্তকরণ ঘটতে পারে।”
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হামলার পরপরই ট্রাম্প কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই ইরানকেই দায়ী করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এখন তিনি বলছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে সরাসরি দায়ী করা উচিত হবে না এবং তদন্তের ফলাফল যাই হোক, তা গ্রহণ করা হবে।
মার্কিন সামরিক কমান্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছেন, মিনাব হামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে ঘটনাটি জটিল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার খুব কাছাকাছি অবস্থিত ছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ওই বিদ্যালয়টি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সীমানার ভেতর বা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। ফলে লক্ষ্য নির্ধারণের সময় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা সম্ভবত পুরোনো বা হালনাগাদ না হওয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করা হয়ে থাকতে পারে।
সূত্র: স্কাই নিউজ, রয়টার্স
অন্যদের থাকলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রেও আপত্তি নেই: ট্রাম্প
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে নতুন এক ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশ যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মালিক হতে পারে, তাহলে ইরানের কাছেও সীমিত পরিসরে এমন অস্ত্র থাকা অন্যায্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত নয়।
বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সের প্যারিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ গত কয়েক বছর ধরে ওয়াশিংটন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরছিল।
ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক ভারসাম্যের প্রশ্নটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার মতে, সৌদি আরব, কাতার এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশের কাছে যদি আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থাকে, তাহলে ইরানকে পুরোপুরি এই সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।
তবে তিনি একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন যে, ক্ষেপণাস্ত্রকে তিনি বর্তমান সংকটের মূল সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষায়, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো পারমাণবিক অস্ত্র। কারণ ক্ষেপণাস্ত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা অনেক বেশি ভয়াবহ এবং তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আগের কূটনৈতিক অবস্থানের তুলনায় কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত বহন করছে। এর আগে ওয়াশিংটন বহুবার অভিযোগ করেছিল যে, ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচির একটি নিরাপত্তা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সময় তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংস করাকে অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে চুক্তি হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে না। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আরও কিছু সময় মার্কিন বাহিনী সেখানে মোতায়েন থাকবে।
অন্যদিকে, আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচির অংশ হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অর্থাৎ, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সমাধান এখনো আসেনি।
ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেয়। তারা জানায়, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন।
ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্পও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, গত রোববার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটাল মাধ্যমে স্মারকটিতে প্রাথমিক স্বাক্ষর করেন। পরে ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএর সঙ্গে আলাপকালে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সমঝোতার পাঠ্য চূড়ান্ত হয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা।
সূত্র: আল-জাজিরা
পাঠকের মতামত:
- জুমার দিনের ৫ বিশেষ আমল, যা বদলে দিতে পারে জীবন
- সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান
- বড় ধাক্কা শেষে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে যত
- ইরাক ম্যাচের আগে নতুন পরিকল্পনায় ফ্রান্স
- কোন চাপের মুখে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প
- বের হওয়ার আগে দেখে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
- স্বর্ণবাজারে নতুন রেকর্ড, বেড়েছে সব ক্যারেটের সোনার দাম
- সূর্যোদয়-সূর্যাস্তসহ আজকের পূর্ণ নামাজের সময়সূচি
- ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- ১৩ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে সংকেত
- আজ টিভিতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়াসহ যত খেলা
- চুক্তিতে লাভবান ইরান, ধাক্কায় নেতানিয়াহু সরকার
- নর্থহ্যাম্পটনের মেয়র কর্তৃক ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ কমিউনিটি লিডার সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত
- হাইকোর্টে জামিন পেলেও কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনকে
- ঋণখেলাপিদের সংসদ মন্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক
- সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত রেকর্ড বৃদ্ধি, তথ্য দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
- ৪১ বছরেও ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে রোনালদো, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ডার্ক হর্স কারা?
- মমতাকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নতুন বিতর্কে বিজেপির মন্ত্রী
- মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার বড় জয়, মিলে গেল অধিনায়কের আগাম ভবিষ্যদ্বাণী
- বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতেই ব্রাজিলের সুখবর
- লোডশেডিংয়ে নাকাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও অন্ধকারে ২১ জেলা
- জব্দ করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ইরানের সম্পদ: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- এমপিদের জন্য ওভেন-ওয়াশিং মেশিনের দাবি, জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক
- শর্ত না মানলে ইরানে কঠোর নৌ-অবরোধের হুমকি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
- এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ চূড়ান্ত, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- এসএসএফ-এর ফায়ারিং রেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিশানা পরীক্ষা
- মাথা ঝুঁকিয়ে নয়, সংসদে স্পিকারকে সম্মান জানাতে হবে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিতে
- ১৮ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- কবে সরছে গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড জানালেন সেতুমন্ত্রী
- সমালোচনার মুখে রোনালদো, সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেন কোচ
- ইরান সমঝোতার শর্ত গোপন রাখছে যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু কেন
- চীন সফরে তারেক রহমান, যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে
- ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা ‘ভুল’ ছিল: ট্রাম্প
- ভ্যাটসহ স্বর্ণের দাম প্রকাশ করলো বাজুস
- অন্যদের থাকলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রেও আপত্তি নেই: ট্রাম্প
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, দেখুন বিস্তারিত
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- রোনালদো ব্যর্থ, ডিআর কঙ্গোর কাছে হোঁচট খেল পর্তুগাল
- বের হওয়ার আগে দেখে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কী? এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি
- ‘সব জায়গায় বোমা ফেলতে চান নেতানিয়াহু’: ট্রাম্প
- ১৮ জুন কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ? জেনে নিন নতুন দর
- পর্তুগালের লাকি সিক্স ও ২০২৬ বিশ্বকাপ: ভাগ্য কি এবার রোনালদোর পাশে থাকবে?
- প্রস্তাবিত বাজেট চানাচুর মার্কার মতো শুনলে ভালো লাগে খেলে পেট খারাপ হয়: আমির হামজা
- জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর আই হ্যাভ এ প্লান এর ব্যাখ্যা: লক্ষ্য জলবায়ু-সহিষ্ণু স্মার্ট কৃষি
- ৯ম পে স্কেলের সবুজ সংকেত: জেনে নিন কোন গ্রেডের মূল বেতন কত
- অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে সরকার
- আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা: বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় আশাবাদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- মদ ও সিগারেটের কর বৃদ্ধি নিয়েও আপত্তি বিরোধী দলের: প্রধানমন্ত্রী
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ‘এটা শান্তি নয়, আত্মসমর্পণ’—ট্রাম্পকে নিশানা
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রূপপুর নিয়ে বড় ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর
- সুইডেন থেকে স্পেন, আজ জমজমাট বিশ্বকাপ সূচি








