ব্রিটিশ গোয়েন্দা-তথ্য ফাঁস, তালেবানের টার্গেটে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১৮ ১১:২১:২৮
ব্রিটিশ গোয়েন্দা-তথ্য ফাঁস, তালেবানের টার্গেটে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা!

যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে। দেশটির গোপনচর সংস্থা এমআই-সিক্স এবং স্পেশাল ফোর্সের শতাধিক সদস্যের পরিচয়সহ হাজার হাজার আফগান নাগরিকের সংবেদনশীল তথ্য চুরির ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। ব্রিটিশ হাইকোর্টের এক বিচারক গোপনীয়তা সংক্রান্ত এক বিশেষ নিষেধাজ্ঞার অংশ প্রত্যাহার করায় বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) মিডিয়া সংস্থাগুলো এই ঘটনা প্রচার করতে সক্ষম হয়।

ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে বিশেষ বাহিনী ও গোপনচরদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এবং আফগানিস্তানে ব্রিটিশ বাহিনীর হয়ে কাজ করা প্রায় ১৯,০০০ আফগান নাগরিকের বিস্তারিত আবেদনপত্র। আফগানিস্তানে তালেবানের প্রতিশোধের আশঙ্কা থাকায় এদের অনেকেই এখন মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আফগানিস্তানে দীর্ঘ ২০ বছরের সামরিক উপস্থিতির সময় যারা ব্রিটিশ বাহিনীর হয়ে কাজ করেছিলেন, তাদের তথ্য এবং যুক্তরাজ্যে পুনর্বাসনের জন্য জমা দেওয়া আবেদনপত্র অনিরাপদ একটি ডেটাবেসে সংরক্ষিত ছিল। ডেটাবেসে যুক্ত ছিল ব্রিটিশ সেনা ও গোয়েন্দাদের স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্যও।

এই ভয়াবহ তথ্য ফাঁস ঘটে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, কিন্তু ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত সরকার বুঝতেই পারেনি যে ডেটাবেসটি ভেঙে তথ্য চুরি করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের কিছু অংশ একটি আফগান ব্যক্তি ফেসবুকে প্রকাশ করে, এবং ইঙ্গিত দেয় যে, তার কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।

তথ্য ফাঁসের পরিপ্রেক্ষিতে তালেবানের হুমকি আরও বাস্তব হয়ে ওঠে, কারণ তারা আগেই বলেছিল—পশ্চিমা বাহিনীর হয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এসব আফগান নাগরিকের জীবন ঝুঁকিতে পড়ায় ঘটনাটিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা বিপর্যয়’ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘Afghan Relocations and Resettlement (ARR)’ নামে একটি বিশেষ পুনর্বাসন প্রকল্প গোপনে চালু করা হয়, যার মাধ্যমে ৪,৫০০ জন আফগান ও তাদের পরিবার যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২,৪০০ জনকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন পাউন্ড।

এই ফাঁসের ঘটনাটি এতটাই স্পর্শকাতর ছিল যে, আদালতের ‘সুপার ইনজাংশন’ আদেশের মাধ্যমে শুধু বিষয়বস্তু নয়, আদেশের অস্তিত্বও গোপন রাখা হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষেও এতদিন সেটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে তথ্য ফাঁসকারী ব্যক্তি ব্রিটেনে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তার আবেদন দ্রুত নিষ্পন্ন করে তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসে। এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের ছাপ রয়েছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে তারা জানিয়েছে যে কেউ যদি ARR প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাজ্যে আসে, তাকে কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

-রাফসান, নিজস্ব প্রতিবেদক


পুতিন-ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: মানবাধিকারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছেন কারা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১২:২১:২৯
পুতিন-ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: মানবাধিকারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছেন কারা?
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্ব রাজনীতির ‘ভয়ংকর শিকারি’ হিসেবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

লন্ডনে সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এই তিন নেতার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তাঁরা কেবল নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ৪০০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে গাজা, ইরান, লেবানন ও ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে।

এছাড়া লেবাননে ২ হাজার ৪০০, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ৩ হাজারের বেশি এবং চার বছর ধরে চলা রুশ অভিযানে ইউক্রেনে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নেতাদের কারণে হত্যাযজ্ঞ এখন বিশ্বে একটি ‘স্বাভাবিক’ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অ্যাগনেস ক্যালামার্ড অভিযোগ করেন, এই নেতারা অত্যন্ত লোভী এবং তাঁরা বিশ্বের সম্পদ লুণ্ঠন ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করছেন। তিনি আরও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ সরকার এই ‘শিকারিদের’ অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে উল্টো তাঁদের তোষণ করছে।

তবে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে স্পেনের সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি। প্রতিবেদনে আফগানিস্তান থেকে জিম্বাবুয়ে পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে


হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক: শেষ মুহূর্তে কেন মত বদলালেন ট্রাম্প?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১২:১৪:০৬
হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক: শেষ মুহূর্তে কেন মত বদলালেন ট্রাম্প?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নাটকীয় মোড় নিল। হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সাথে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনিশ্চয়তা আর উত্তেজনার মাঝে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। আলোচনার মূল বিষয় ছিল—ইরান থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না মেলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।

একদিকে পাকিস্তানে আলোচনার জন্য জেডি ভ্যান্সের বিমান প্রস্তুত ছিল, অন্যদিকে ইরানের নীরবতা প্রশাসনকে উভয়সংকটে ফেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প সামরিক অভিযানের চেয়ে কূটনৈতিক পথকেই বেছে নেন এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ আগের মতোই কঠোর থাকবে।

ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিভেদই আলোচনার প্রধান বাধা। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পারমাণবিক মজুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তেহরান কোনো একক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না। ট্রাম্প তাঁর 'ট্রুথ সোশ্যাল' পোস্টে সরাসরি ইরানি নেতৃত্বকে "বিভক্ত" বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থানে অনড়। ইরানের আলোচক প্রতিনিধি মাহদি মোহাম্মদী সাফ জানিয়েছেন, "অবরোধ চালিয়ে যাওয়া বোমাবর্ষণের মতোই অপরাধ।" তেহরান দাবি করেছে, আলোচনার টেবিলে বসার আগে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু ট্রাম্প সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি খোলা হবে না।”

এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির কর্মকর্তাদের অব্যাহত চাপের মুখেই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়াতে রাজি হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ইরানের পক্ষ থেকে সময়ক্ষেপণের কৌশলও হতে পারে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি আগের সব চুক্তির চেয়েও "উন্নত ও শক্তিশালী সমাধান" নিশ্চিত করবেন।

সূত্র: সিএনএন


ফুরিয়ে যাচ্ছে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র! ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের ভাণ্ডারে টান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১১:৪৯:৪৮
ফুরিয়ে যাচ্ছে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র! ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের ভাণ্ডারে টান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সাত সপ্তাহের বিধ্বংসী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোলাবারুদের ঘাটতি ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘তাৎক্ষণিক ঝুঁকি’ তৈরি করেছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাত সপ্তাহের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের অন্তত ৪৫ শতাংশ খরচ করে ফেলেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার জন্য ব্যবহৃত ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৫০ শতাংশই ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। পেন্টাগনের গোপন তথ্যের সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের মিল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

সিএসআইএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যে পরিমাণ বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, তা দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও চীনের মতো কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবিলা করার সক্ষমতা আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের নেই। বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এখন এক চরম দুর্বলতার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ পুনরায় পূর্ণ করতে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র তার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ৩০ শতাংশ এবং দূরপাল্লার জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ ক্ষেপণাস্ত্রের ২০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করেছে। এছাড়া এসএম-৩ ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ২০ শতাংশ খরচ হয়ে গেছে। এসব উন্নত অস্ত্র পুনরায় তৈরি করে আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে যে কোনো স্থানে অভিযান চালানোর মতো সক্ষমতা ও অস্ত্রের গভীর ভাণ্ডার রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প একদিকে অস্ত্রের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করছেন, আবার অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাব সামলাতে ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন চেয়েছেন।

এর আগে যুদ্ধ শুরুর সময় জেনারেল ড্যান কেইনসহ শীর্ষ সামরিক নেতারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে, দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে অস্ত্রের মজুদ শেষ হয়ে যেতে পারে, যা ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা করার সক্ষমতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বর্তমানে এই গোলাবারুদ সংকট মার্কিন সিনেটেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

/আশিক


হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের! অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ল ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১০:১৬:০৭
হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের! অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ল ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে এক নতুন মোড়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) এক বিশেষ ঘোষণায় ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে এসে রক্তক্ষয়ী হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, "আমি আমাদের সেনাবাহিনীকে অবরোধ চালিয়ে যেতে এবং সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছি। ইরানের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকবে।" তবে হামলা স্থগিত থাকলেও ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ আগের মতোই কঠোরভাবে চলবে বলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই নমনীয়তা বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে, কারণ মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি ‘বোমাবর্ষণের মানসিকতা’ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় উভয় পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

তবে নৌ-অবরোধ চলমান থাকায় ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই অবরোধকে ‘যুদ্ধের শামিল’ এবং যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান জানে কীভাবে এই বাধা এড়িয়ে নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়। ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের ‘বিভাজনের’ দাবিকেও নাকচ করে দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। আল জাজিরার তথ্যমতে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর নতুন নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে ইরানি নেতৃত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি একতাবদ্ধ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি এখন অনির্দিষ্টকালের রূপ নিল। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং হিজবুল্লাহ-হামাসকে সমর্থন ত্যাগের মতো কঠিন শর্ত নিয়ে দুই পক্ষ এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে।

/আশিক


প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন থাবা: এবার তেলবাহী বিশাল জাহাজ জব্দ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ২২:০১:৩২
প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন থাবা: এবার তেলবাহী বিশাল জাহাজ জব্দ
ছবি : সংগৃহীত

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও একটি তেলবাহী বিশাল জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চালানো এই অভিযানকে ওমান সাগরের উত্তেজনারই একটি নতুন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পেন্টাগন তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় গত রাতে ‘এম/টি টিফানি’ নামের একটি রাষ্ট্রহীন ও নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজে কমান্ডো অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। কোনো ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছাড়াই সেনারা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার থেকে মার্কিন কমান্ডোরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কমলা রঙের বিশাল জাহাজটিতে অবতরণ করছে। অভিযানটি প্রশান্ত বা ভারত মহাসাগরের ঠিক কোথায় হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো না হলেও, পেন্টাগন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে—আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিষেধাজ্ঞাভুক্ত কোনো জাহাজ নিরাপদ আশ্রয় পাবে না।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জব্দ করা এই ‘টিফানি’ জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার পর আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ এবং জাহাজ জব্দ করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্পের এমন অনড় অবস্থানের কারণেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য, এটি গত কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় নৌ-অভিযান। এর আগে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজ জব্দ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই অভিযানে মার্কিন সেনারা সতর্কতা উপেক্ষা করায় জাহাজটির ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়েছিল, যার ফলে জাহাজটি মাঝসমুদ্রেই অচল হয়ে পড়ে। একের পর এক জাহাজ জব্দের এই ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

/আশিক


বুধবারের আগেই যুদ্ধের দামামা? ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে দোদুল্যমান মধ্যপ্রাচ্য শান্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ২১:৩২:৫৯
বুধবারের আগেই যুদ্ধের দামামা? ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে দোদুল্যমান মধ্যপ্রাচ্য শান্তি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরানের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই; প্রতিনিধি পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আসা ছাড়া তেহরানের আর কোনো উপায় নেই।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, তিনি নিশ্চিত যে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘দারুণ চুক্তিতে’ পৌঁছাতে পারবে। তবে আলোচনার পাশাপাশি তিনি সামরিক হুমকি দিতেও ছাড়েননি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা খুব কঠোর অবস্থানে আছি। যদি কোনো কার্যকর চুক্তি না হয়, তবে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর এক মুহূর্তের জন্যও বাড়ানো হবে না।"

ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধের সুর আরও প্রকট হয়ে ওঠে যখন তিনি বলেন, "আমি মনে করি বোমা হামলা হওয়াই শ্রেয়, কারণ সেটাই হবে এখনকার জন্য সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। চুক্তি করার জন্য হাতে বেশি সময় নেই।" তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে পৌঁছালেই কেবল ইরান শান্তিতে থাকতে পারবে। এর কিছুক্ষণ পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন তিনি।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা সর্বোচ্চ চাপের মুখেও নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ইরান এখনো ইসলামাবাদে আলোচনায় যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, "ইরান কোনো ধরনের হুমকির কাছে মাথা নত করবে না।"

সূত্র: বিবিসি বাংলা


হরমুজের চাবিকাঠি কি তবে ইরানের হাতেই? মার্কিন নৌ-অবরোধের মাঝেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ২১:২৫:০১
হরমুজের চাবিকাঠি কি তবে ইরানের হাতেই? মার্কিন নৌ-অবরোধের মাঝেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট
ছবি : সংগৃহীত

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আসন্ন শান্তি আলোচনার টেবিলে এখন প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থা নিরসনে উভয় পক্ষ আলোচনার প্রস্তুতি নিলেও, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে জ্বালানি সরবরাহ তলানিতে ঠেকলেও, বর্তমানে যে সামান্য পরিমাণ তেল পরিবহন করা হচ্ছে, তার অধিকাংশই ইরানের। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের ওপর নিজেদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব বজায় রাখতে মরিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানি কর্তৃপক্ষ কার্যত এই জলপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যের ওপর।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ইরান একটি স্থায়ী টোল বা মাশুলব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো সিদ্ধান্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে, কারণ এতে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ইরানের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

পরিসংখ্যান বলছে ভয়াবহ চিত্র

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের আগে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচল করলেও গত শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে মাত্র ৩৬টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে শিপিং অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলার নিশ্চিত করেছে যে, গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন অবরোধ আরোপের পর থেকে অন্তত ২৭টি ইরানি জাহাজ এই চ্যানেলটি ব্যবহার করেছে। বিপরীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সমসংখ্যক জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।

পণ্যমূল্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিআরইউ গ্রুপ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মে মাসের শেষ পর্যন্ত এই অচলাবস্থা চলার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে জ্বালানি বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু করার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি এবং ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। বর্তমানে হাজার হাজার নাবিক এই বিপজ্জনক জলসীমায় আটকা পড়ে আছেন, যা একটি চরম মানবিক সংকটেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন


বোমাবর্ষণের মানসিকতা নিয়েই এগোবো: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৯:৫৫:১১
বোমাবর্ষণের মানসিকতা নিয়েই এগোবো: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে চরম সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়ে আলোচনার টেবিলে আত্মসমর্পণের চাপ বাড়িয়েছেন। সিএনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, "ইরানে বোমাবর্ষণের মানসিকতা নিয়ে এগোনোই এখন শ্রেয়।" তিনি আরও দাবি করেন যে, মার্কিন সেনাবাহিনী লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তারা ‘মুখিয়ে আছে’।

ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন ওমান সাগরে নৌ-অবরোধ এবং জাহাজ জব্দ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা চরমে। পিবিএস নিউজকে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারেও তিনি একই সুরে কথা বলেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) শেষ হতে যাওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ যুক্তরাষ্ট্র আর বাড়াবে না। তাঁর মতে, হাতে সময় খুব কম এবং যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি ‘চমৎকার চুক্তি’র দিকে নিয়ে যেতে পারে।

তবে ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা সর্বোচ্চ চাপের কৌশলের বিপরীতে ইরান এখনো দোটানায় রয়েছে। তেহরান এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। যদিও রয়টার্স এক গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বুধবার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনো জোরালো এবং সবকিছু সঠিক পথেই এগোচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ট্রাম্প নিজে সরাসরি বা ভার্চুয়ালি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।

/আশিক


মার্কিন অবরোধ গুঁড়িয়ে ইরানি বন্দরে তেলের জাহাজ! সাগরে স্নায়ুযুদ্ধের নতুন মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৯:২৪:৩৮
মার্কিন অবরোধ গুঁড়িয়ে ইরানি বন্দরে তেলের জাহাজ! সাগরে স্নায়ুযুদ্ধের নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ আর সতর্কবার্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দক্ষিণ ইরানের বন্দরে নোঙর করেছে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সরাসরি সহায়তায় ‘সিলিকা সিটি’ নামের এই জাহাজটি সফলভাবে ইরানি জলসীমায় প্রবেশ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরব সাগর থেকে বন্দরে পৌঁছানো পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনী একাধিকবার হুমকি ও সতর্কবার্তা দিলেও ইরানি বাহিনী তা তোয়াক্কা করেনি। তবে এই সাহসিকতাপূর্ণ অভিযানের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ শুরুর পর থেকে তারা এ পর্যন্ত ২৭টি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে। এমনকি সোমবার রাতে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ‘এম/টি টিফানি’ নামের একটি তেলের ট্যাঙ্কার দখল করে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে থাকা মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগন (যার বর্তমান নাম 'যুদ্ধ মন্ত্রণালয়') জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: