জাতীয় পরিচয়পত্র চাই? ধাপে ধাপে সহজ আবেদন পদ্ধতি জেনে নিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৯ ১১:৩৫:০৭
জাতীয় পরিচয়পত্র চাই? ধাপে ধাপে সহজ আবেদন পদ্ধতি জেনে নিন

বাংলাদেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) শুধু একটি কাগজ নয় বরং এটি নাগরিক অধিকার, পরিচয় এবং নানা রকম সরকারি ও বেসরকারি সেবার ক্ষেত্রে প্রবেশদ্বার। এটি ব্যাংকিং, জমি রেজিস্ট্রেশন, চাকরি আবেদন, মোবাইল সিম নিবন্ধন থেকে শুরু করে পাসপোর্ট গ্রহণ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরিহার্য।

কারা জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য যোগ্য?

জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার জন্য কয়েকটি মৌলিক শর্ত রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। দ্বিতীয়ত, তার বয়স অবশ্যই ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব হতে হবে, যা নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত জন্মতারিখ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তৃতীয়ত, তিনি পূর্বে কখনও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত না হয়ে থাকলে তবেই নতুন করে এনআইডির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ: অনলাইন ফরম পূরণ

প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট (https://services.nidw.gov.bd) এ গিয়ে “নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করুন” অপশনে ক্লিক করে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর ফরম-২ নামক ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের সময় তথ্য ভুল দেওয়া হলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে, তাই সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। ফরম পূরণ শেষে তা ডাউনলোড করে দুই পৃষ্ঠায় প্রিন্ট নিতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: যা সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক

ফরমের সঙ্গে ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ সংযুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া পিতামাতার এনআইডি ও প্রয়োজনে তাদের মৃত্যুসনদ, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে কাবিননামা ও স্ত্রীর/স্বামীর এনআইডি, শিক্ষাগত সনদের ফটোকপি, নাগরিকত্ব সনদ, ঠিকানার প্রমাণপত্র (যেমন বাড়িভাড়া রসিদ, বিদ্যুৎ বিল), পাসপোর্টের কপি (প্রবাসীদের ক্ষেত্রে), এবং চাকরিজীবীদের জন্য সার্ভিস বা পেনশন বহির কপি দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব কাগজ সত্যায়ন করাও বাধ্যতামূলক।

শনাক্তকারী ও যাচাইকারীর স্বাক্ষর

ফরম-২-এ শনাক্তকারী হিসেবে নিকটাত্মীয় যেমন পিতা, মাতা বা ভাই/বোনের এনআইডি নম্বর ও স্বাক্ষর দিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা ইউনিয়ন সদস্যের স্বাক্ষর ও সিল লাগবে যাচাইকারী হিসেবে। এটি প্রমাণ করে যে, আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য সঠিক।

বায়োমেট্রিক ধাপ: ছবি, আঙুলের ছাপ, আইরিশ স্ক্যান

উপযুক্ত ফরম ও কাগজপত্রসহ আবেদনকারীকে উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে যেতে হবে। সেখানে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশ স্ক্যান নেওয়া হয়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হলে আবেদনকারীকে একটি প্রাপ্তিস্বীকার স্লিপ দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে তিনি পরবর্তীতে এনআইডি সংগ্রহ করতে পারবেন।

এনআইডি সংগ্রহ এবং ভার্চুয়াল সেবা

আবেদন অনুমোদনের পর নির্ধারিত তারিখে বা এসএমএস পাওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা যায়। তবে অনেক সময় এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপ বা এনআইডিডব্লিউ সাইট থেকেও ভার্চুয়াল কপি ডাউনলোড করে ব্যবহারের সুযোগ থাকে, বিশেষ করে ই-নির্ভর সেবাগুলোর জন্য।

প্রবাসীদের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া

প্রবাসী বাংলাদেশিরাও জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে পারেন। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাসে আবেদন করতে পারেন। তবে প্রবাসীদের জন্য কিছু অতিরিক্ত কাগজপত্র এবং আলাদা প্রক্রিয়া রয়েছে, যা হাইকমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হয়।

সতর্কতা ও প্রতারণা এড়ানোর পরামর্শ

জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর শরণাপন্ন না হওয়াই উত্তম। নির্বাচন কমিশনের সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। প্রতারণা ও ভুয়া এনআইডি তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

তথ্য সংশোধন ও হেল্পলাইন সেবা

যদি এনআইডির তথ্য ভুল হয়, তাহলে নির্ধারিত ফরম ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে সংশোধনের সুযোগ আছে। এ সংক্রান্ত সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশনের ১০৫ নম্বর হেল্পলাইনে ফোন করা যায়, অথবা ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।


জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা, দাবি ও প্রত্যাশা: জামায়াত, এনসিপি ও বিএনপির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩১ ২২:১৫:৫০
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা, দাবি ও প্রত্যাশা: জামায়াত, এনসিপি ও বিএনপির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একদিনে তিনটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিএনপি—প্রতিটি দলই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের উদ্বেগ, দাবি ও প্রত্যাশার কথা প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেছে।

চাঁদাবাজি দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলল জামায়াত

বিকেলে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের সাংবাদিকদের বলেন, “চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।”তিনি অভিযোগ করেন, আগে একদল বাসস্ট্যান্ড দখল করত, এখন আরেকটি গ্রুপ নিয়েছে, অথচ সরকার কোনো ভূমিকা নেয়নি।

তাহের আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে কার্যকারিতা নিয়ে তাঁদের দ্বিমত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, “সরকার লন্ডনে গিয়ে একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে—এটি নজিরবিহীন, যা সরকারের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”

জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গেও জামায়াত নেতারা সরকারের কাছে দাবি উত্থাপন করেছেন। তাঁদের মতে, আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে কাজ করায় জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও একই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।

গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি তুলল এনসিপি

এর আগে এনসিপি নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সাংবাদিকদের বলেন, “জুলাই সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি রক্ষার জন্য আগামী নির্বাচন অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে। এর মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট ও একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ধারা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।”

এনসিপি আরও দাবি তোলে—

  • গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা
  • প্রবাসে আটক সমর্থকদের দেশে ফিরিয়ে আনা
  • গুম কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া
  • নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যকর ভূমিকা রাখা
  • জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতের দাবিও প্রধান উপদেষ্টার কাছে জানিয়েছেন এনসিপি নেতারা।

ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে: বিএনপির আশ্বাস

সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। প্রধান উপদেষ্টাও এ বিষয়ে একমত। দেশবাসী আশ্বস্ত থাকতে পারে।”

তিনি অভিযোগ করেন, একটি শক্তি নির্বাচন বিলম্বিত করতে চায়। তবে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। ফখরুল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনাকে ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেন।

জামায়াত নেতার লন্ডন বৈঠক নিয়ে মন্তব্যের প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “এটি একেবারেই অমূলক দাবি। প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণ অধিকার রয়েছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করার।”

একই দিনে জামায়াত, এনসিপি ও বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন দলের শঙ্কা ও প্রত্যাশা শুনেছেন। নির্বাচনকে ঘিরে এখনো রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা, সন্দেহ ও দাবি–দাওয়ার বহর থাকলেও প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব এখন—জনআস্থার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরি করা।


যারা নির্বাচনের বিকল্প ভাবে, তারা জাতির জন্য বিপজ্জনক: প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩১ ২১:৪৯:৩৪
যারা নির্বাচনের বিকল্প ভাবে, তারা জাতির জন্য বিপজ্জনক: প্রধান উপদেষ্টা
ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই এবং কেউ যদি বিকল্প নিয়ে ভাবে, তাহলে তা হবে ‘এই জাতির জন্য গভীর বিপজ্জনক।’ রবিবার (৩১ আগস্ট) রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি নির্বাচনের যে সময় ঘোষণা করেছেন, সেই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। বৈঠকে তিনি সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন নিয়ে তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠকের মাঝখানে ঐকমত্য কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ জুলাই সনদ নিয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে দলগুলোকে অবহিত করেন।

শফিকুল আলম আরও বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেন কেউ কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা চেয়েছেন।

জাতীয় পার্টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য প্রধান উপদেষ্টা শুনেছেন।


নুরের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার হবে, আশ্বাস দিলেন উপদেষ্টা আসিফ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩১ ১৮:৫৮:৪৯
নুরের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার হবে, আশ্বাস দিলেন উপদেষ্টা আসিফ
ছবি: সংগৃহীত

নুরের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার হবে: আশ্বাস দিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদজাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শারীরিক খোঁজ নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রোববার (৩১ আগস্ট) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরকে দেখে এসে তিনি এই হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, “ফ্যাসিবাদের পক্ষের শক্তিদের আশ্রয় দিতেই একটি পক্ষ গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের টার্গেট করছে।” তিনি জাতীয় পার্টিকে চিহ্নিত ফ্যাসিবাদী শক্তি বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, জাতীয় পার্টি তাদের ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই নুরুল হকের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে এবং নুরুল হকের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩১ ১৮:০২:১১
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা (পিআর) পদ্ধতিতে করার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশন বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ও ই-মেইলে এই নোটিশটি পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে আয়োজনের জন্য সরকারকে অবিলম্বে সংবিধান সংশোধন এবং নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও বিধান জারি করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারে। নোটিশে আরও বলা হয়, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে।

নোটিশে বলা হয়, বর্তমান নির্বাচনব্যবস্থায় জনগণের ভোট সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কমসংখ্যক ভোট পেয়েও প্রার্থীরা নির্বাচিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক ভোট কোনোভাবেই সংসদে প্রতিফলিত হচ্ছে না। এতে জনগণের ভোটের মর্যাদা লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সংসদে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটছে না।

পিআর পদ্ধতি সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো অনেক উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সফলভাবে চালু আছে।

/আশিক


নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩১ ১৪:২০:২২
নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে এবং করবে। তাদের প্রতিহত করতে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তা ধরে রাখতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঐক্যে ফাটল ধরলে ‘দোসররা’ নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আছে। তবে এ জন্য রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং দেশের সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ রোববার (৩১ আগস্ট) বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠক করবেন।

শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “বিকেল ৩টার সময় বিএনপির সঙ্গে, সাড়ে ৪টায় জামায়াত এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি এবং নির্বাচন নিয়ে আলাপ আলোচনা হবে।”

/আশিক


জুলাই সনদ নিয়ে মতভেদ চরমে, আজ তিন দলের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্বর্তী সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩১ ১০:৩৯:৩৮
জুলাই সনদ নিয়ে মতভেদ চরমে, আজ তিন দলের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্বর্তী সরকারের

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান মতভিন্নতার পাশাপাশি নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ রবিবার আলাদাভাবে বৈঠক করবেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে। বৈঠকগুলো প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে, যখন জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা লাঠিপেটা চালায় এবং এতে গুরুতর আহত হন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই বিবৃতি দিয়েছে, আর অন্তর্বর্তী সরকারও দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বৈঠকের সময়সূচি ইতিমধ্যেই নির্ধারণ করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে চারটায় জামায়াতে ইসলামী, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং রাত সাড়ে সাতটায় বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আমন্ত্রণ তাঁরা গ্রহণ করেছেন। তবে একই সময়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান থাকায় সময় সমন্বয়ের অনুরোধ জানানো হতে পারে। অন্যদিকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, তাঁদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। জামায়াতে ইসলামী থেকেও বৈঠকে উপস্থিতির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট এজেন্ডা সম্পর্কে তাঁরা মুখ খুলতে চাননি।

এদিকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, আলোচনায় জাতীয় পার্টির (জাপা) ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলাপ হতে পারে। সমালোচকদের মতে, জাপা একদিকে অতীতে সামরিক শাসনের সহযোগী ছিল, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গণ অধিকার পরিষদ ইতোমধ্যেই দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এ বিষয়ে আইনগত পর্যালোচনা চলছে।

রাজনৈতিক সঙ্কটের পাশাপাশি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সময়মতো— অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে— অনুষ্ঠিত হবে কি না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে এবং জনগণের ইচ্ছার বিপরীতে কোনো শক্তিকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বাধা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে জুলাই সনদের সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য গঠনের প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়েছে। বিএনপি চায় সাংবিধানিক সংস্কারগুলো নির্বাচনের পরবর্তী সংসদে কার্যকর হোক। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি চাইছে নির্বাচনের আগেই সংস্কার কার্যকর করা হোক এবং সেই ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কমিশনের নেপথ্য আলোচনায়ও স্পষ্ট হয়েছে, এই মতভেদই ঐকমত্য তৈরির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আজকের বৈঠক তিন দলের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার দরজা খুললেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা ও সমঝোতার মনোভাবই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ।


কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ১৭:১৮:৪৪
কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের
ছবিঃ সংগৃহীত

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং জড়িত কোনো ব্যক্তি প্রভাব কিংবা পদমর্যাদা দেখিয়ে জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না।

বিবৃতিতে নূরকে কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবেই নয়, বরং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম অগ্রণী মুখ, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য সাহসী সংগ্রামী এবং জনগণের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। নূরের ওপর এই হামলাকে শুধু একজন রাজনীতিবিদের ওপর আঘাত নয়, বরং ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জনগণের মুক্তির সংগ্রামে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মর্মভূমির ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, নৃশংস এই ঘটনার তদন্ত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পন্ন করা হবে। সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা হলো—স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা ও দ্রুততার সঙ্গে এর বিচার নিশ্চিত করা হবে, এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক, সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় কোনোভাবেই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারবে না।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, নূর ও তার দলের আহত সহযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে নূরের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নূর ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। একজন নির্ভীক ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন, বিভক্ত মত ও কণ্ঠকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অকুতোভয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং হেফাজতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এসব অভিজ্ঞতা তাকে জনগণের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ে এক অবিচল প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সংকটময় সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। জনগণের আন্দোলনের অর্জন রক্ষা করতে, জনবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণকে সুরক্ষিত করতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।

অবশেষে বিবৃতিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার যেকোনো ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে সরকার এবং গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ, এবং কোনো অশুভ শক্তিকে গণতন্ত্রের পথে দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না।

-রফিক


নাকের হাড় ভেঙেছে নুরের, অবস্থা স্থিতিশীল: ঢামেক পরিচালক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ১১:২৪:৪৬
নাকের হাড় ভেঙেছে নুরের, অবস্থা স্থিতিশীল: ঢামেক পরিচালক
ছবি: সংগৃহীত

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে। তার চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে একটি উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।

ঢামেক পরিচালক জানান, সংঘর্ষে নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়াও তার চোখের ওপরে আঘাত রয়েছে এবং মাথায় সামান্য রক্তক্ষরণ হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে রাতে হাসপাতালে আনা হলে প্রথমে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দেখেন। পরে রাতেই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাতেই পাঁচ বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী নুরকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নুরের বর্তমান অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ৪৮ ঘণ্টা না যাওয়া পর্যন্ত তাকে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। তার মস্তিষ্কে যে রক্তক্ষরণ হয়েছে, তা ওষুধেই সেরে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নুরুল হক নুরের চিকিৎসায় গঠিত ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডে ঢামেকের পরিচালকসহ অ্যানেস্থেশিয়া, ক্যাজুয়ালটি, নাক-কান-গলা, নিউরোসার্জারি ও চক্ষু বিভাগের একজন করে চিকিৎসক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণ অধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এই সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

/আশিক


ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন: অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিলেই কারাদণ্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ২৩:৩৮:৫২
ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন: অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিলেই কারাদণ্ড

বাংলাদেশে দ্রুত প্রসারমান ই-কমার্স খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে এবং ক্রেতাদের অধিকার সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নতুনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ’, যেখানে অনলাইন বিক্রেতাদের প্রতারণা ও অনিয়ম ঠেকাতে কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং অনাদায়ে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য বা সেবা সরবরাহ না করলে মূল্যের কয়েক গুণ জরিমানা আরোপ করা হবে। নিষিদ্ধ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২১–২২ সালে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণার কারণে হাজার হাজার গ্রাহক পণ্য না পেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন। তখন টাকা ফেরতের দাবিতে মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ পর্যন্ত হয়েছিল। এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়েই নতুন আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রিসভায় এ খসড়ার অনুমোদন হয়েছিল। তবে সরকার পতনের পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখন অন্তর্বর্তী সরকার খসড়াটি নতুন করে সামনে এনেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত খসড়া অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। এরপর যাবে ‘আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক মতামত প্রদান কমিটি’র বৈঠকে। যদিও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বিষয়টি এখনো তার নজরে আসেনি, তবে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন।

খসড়ায় বলা হয়েছে, যেকোনো ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে পণ্য ও সেবা কেনাবেচাকে ‘ডিজিটাল বাণিজ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নিবন্ধিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা নিজস্ব নামে ওয়েবসাইট, মার্কেটপ্লেস বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বা সেবা বিক্রি বা প্রদর্শন করবে, তাদেরই ‘ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে গণ্য করা হবে। অনুমতি ছাড়া গিফট কার্ড, ওয়ালেট, ক্যাশ ভাউচার বা ডিজিটাল ভাউচার চালু করলে জরিমানা করা হবে। অনলাইন লটারির আয়োজন করলেও বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে। প্রতিটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স ও ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নিতে হবে। প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে কর্তৃপক্ষ তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।

অধ্যাদেশ পাস হলে গঠিত হবে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান দায়িত্ব হবে ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসার ও শৃঙ্খলা রক্ষা, বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি, প্রতারণা ও অপরাধ প্রতিরোধ, অনলাইন কার্যক্রম পরিদর্শন, ভুয়া বিজ্ঞাপন ও নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি ঠেকানো এবং ভোক্তা প্রতারণা রোধে তদারকি। এই কর্তৃপক্ষের কাঠামোতে থাকবেন একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী বা বাণিজ্য উপদেষ্টা প্রধান করে গঠন করা হবে উপদেষ্টা পরিষদ।

অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইন ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা, মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম, অনলাইন জুয়া, লটারি, যৌন উত্তেজক দ্রব্য বা অনলাইন এসকর্ট সেবা এ আইনের আওতার বাইরে থাকবে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) তথ্যমতে, দেশে ই-কমার্স কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৯ সালে, তবে পূর্ণাঙ্গ যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে এবং ২০১৪ সালের পর থেকে খাতটির উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটে। ২০১৮ সালে প্রণয়ন করা হয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, যা ২০২০ সালে বিদেশি বিনিয়োগ উন্মুক্ত করে সংশোধন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের অধ্যাপক সুবর্ণ বড়ুয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, ই-কমার্স খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই একটি শক্তিশালী আইন এবং কর্তৃপক্ষ গঠন এখন অত্যন্ত জরুরি, যা কার্যকর হলে অনলাইন কেনাবেচার নানা সমস্যা সমাধানে বাস্তব অগ্রগতি হবে।

পাঠকের মতামত: