জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রক্তপাত: শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন

সত্য নিউজ:গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ছয় মাস ২৮ দিনের দীর্ঘ তদন্ত শেষে গতকাল সোমবার সকালে তদন্ত প্রতিবেদনটি চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেন তদন্ত সংস্থার প্রধান আনসার উদ্দিন খান পাঠান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ওই সময়কার সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড), নির্দেশদাতা (হুকুমদাতা) এবং সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি (সুপিরিয়র কমান্ডার)। তাঁর পাশাপাশি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকেও আসামি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনে 'সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি'সহ একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু ও অভিযোগসমূহ
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণাদি, কল রেকর্ড, ভিডিও ফুটেজ, অডিও ক্লিপ, আহতদের শরীর থেকে উদ্ধার হওয়া গুলি, হেলিকপ্টার ও ড্রোনের উড্ডয়ন-অবতরণ রেকর্ড, এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে—গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পাঁচটি প্রধান অভিযোগের মধ্যে দুটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয় সংবাদ সম্মেলনে:
উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগ — গত বছরের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকার’ বলে আখ্যায়িত করে বাহিনীগুলোকে তাদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক অভিযান চালাতে প্ররোচিত করেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়।
সরাসরি হত্যার নির্দেশ — হেলিকপ্টার, ড্রোন, এপিসি এবং উন্নত মারণাস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। প্রতিবেদনে তাঁর একাধিক টেলিফোন আলাপ, যেখানে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে সংযুক্ত রয়েছে।
বাকি তিনটি অভিযোগ নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও পরিকল্পিত সহিংসতা সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আনা হয়েছে বলে জানায় তদন্ত সংস্থা।
গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যা নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ
চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে বলেন, “যদিও দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, লাশ পোড়ানো, শিশু-নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটেছে, তবুও আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী এগুলো গণহত্যা নয় বরং মানবতাবিরোধী অপরাধ।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের দমন করতে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে আহত করা হয়। আহতদের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়, হাসপাতাল থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি, ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনা নিজে চিকিৎসকদের রোগীদের চিকিৎসা না দিতে নির্দেশ দেন বলেও উল্লেখ রয়েছে।
তদন্ত সংস্থা আরও দাবি করেছে, অপরাধের দায় আন্দোলনকারীদের ঘাড়ে চাপাতে সরকার নিজেদের লোক দিয়ে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন লাগানোর নির্দেশ দেয়। এসব নির্দেশনার টেলিফোন রেকর্ড তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে বলে জানানো হয়।
পূর্ববর্তী ও চলমান মামলাসমূহ
এ মামলার বাইরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মানবতাবিরোধী মামলার তদন্ত চলছে:
গুম-খুনের অভিযোগ — আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ২৪ জুন।
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড — ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম কর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়ে ১২ আগস্ট করা হয়েছে।
একইসঙ্গে, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকার চানখাঁরপুল ও উত্তরা এলাকায় সংঘটিত অপরাধের দুটি মামলায়ও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ নেতা এবং যুবলীগ নেতাসহ অনেকেই আসামি।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও বিচারিক প্রক্রিয়া
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে যদি অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায়, তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করা হবে। এটি ট্রাইব্যুনালে দাখিলের পর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।
এই মামলাগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনি ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এই ধরনের তদন্ত এবং সম্ভাব্য বিচার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কাড়বে নিঃসন্দেহে। তবে এর চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।
লোডশেডিংমুক্ত এক সপ্তাহ: বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন স্বস্তি
দেশে বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ায় টানা এক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে কোনো লোডশেডিং হয়নি। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে গ্রাহকদের কোনো প্রকার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হতে হয়নি। মূলত দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ফলে সেচ কাজের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি চাপ না থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। আগে ছোট কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উৎপাদনে সামান্য ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে তা কাটিয়ে ওঠা গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বজায় রাখতে কয়লার নিয়মিত জোগান নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করায় সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটিও দ্রুত যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট এবং সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে লোডশেডিং শূন্যে রাখা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও চাহিদার ওঠানামা থাকলেও (১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে) সরবরাহে কোনো ঘাটতি ছিল না। মে মাসের প্রথম তিনদিনেও এই ধারা বজায় ছিল, যা বিদ্যুৎ খাতে এক ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকারি কিছু কৌশলী পদক্ষেপও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ এবং এসি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর চালানোর নির্দেশনা। এছাড়া এলএনজি, জ্বালানি তেল ও কয়লা আমদানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং দেশের বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত উৎপাদন জাতীয় গ্রিডকে সমৃদ্ধ করেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে দিনে বা রাতে কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট লক্ষ্য করা যায়নি। তবে জাতীয়ভাবে লোডশেডিং না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে গাছ কাটা বা লাইন রক্ষণাবেক্ষণের মতো কারিগরি কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। গ্রামাঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক সময় সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হলেও সেটিকে আনুষ্ঠানিক লোডশেডিং হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে।
/আশিক
অনলাইন লেনদেনে সাবধান! কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নির্দেশনা জারি
ডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগে কেনাকাটা থেকে শুরু করে মোবাইল রিচার্জ—সবকিছুতেই অনলাইন লেনদেন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এই সুবিধার সমান্তরালে বাড়ছে আর্থিক ঝুঁকির আশঙ্কা। সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো মুহূর্তে আপনিও হতে পারেন বড় কোনো প্রতারণার শিকার। এই প্রেক্ষাপটে অনলাইনে অর্থ লেনদেন, মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জরুরি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বেশ কিছু গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে এবং গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসব নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন (PIN), পাসওয়ার্ড কিংবা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। এমনকি ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও এই গোপনীয় তথ্যগুলো প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করা, অজানা উৎস থেকে থার্ড পার্টি অ্যাপ ইনস্টল করা এবং অনলাইন জুয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ কিংবা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে অনেক সময় ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। বিশেষ করে জামানতবিহীন ঋণ বা অতি মুনাফার অনলাইন বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো লাইসেন্সবিহীন অ্যাপগুলো থেকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে। কোনো প্রলোভনমূলক অফার, লটারি জয় বা পুরস্কারের খবর পেলে তা যাচাই না করে বিশ্বাস না করার অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অপরিচিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অনলাইনে আর্থিক লেনদেন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনলাইন লেনদেনে কোনো প্রকার সন্দেহ বা প্রতারণার আভাস পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদ থেকে বাঁচতে এবং অন্যদের সচেতন করতে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা কাম্য। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা হয়রানির শিকার হলে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর ১৬২৩৬-এ কল করে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
/আশিক
হাম নিয়ে ইউনিসেফের আগাম সতর্কবার্তা কানে তোলেনি অন্তর্বর্তী সরকার
বাংলাদেশে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব ও টিকাদান কর্মসূচির সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, দেশে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি, যার ফলে টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউনিসেফ কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে আসছে। সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টায় দেশে পোলিও ও টিটেনাস নির্মূলসহ টিকাদানের হার ১৯৮০ সালের ২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩ সালে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়। বিশেষ করে স্কুলভিত্তিক পুষ্টি ও স্যানিটেশন কার্যক্রমের সাথে টিকাদানকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত সফল মডেল তৈরি করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার টিকা কেনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে উন্মুক্ত দরপত্র বা ওপেন টেন্ডার মেথড অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিলে এই সফল ধারায় স্থবিরতা নেমে আসে।
স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার মতে, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কিনতে গেলে সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১২ মাস পর্যন্ত দেরি হতে পারে বলে ইউনিসেফ আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সেই আপত্তি উপেক্ষা করেই নতুন পদ্ধতিতে এগোয় তৎকালীন সরকার। ফলস্বরূপ টিকা সংগ্রহে ব্যাপক বিলম্ব ঘটে এবং দেশের অনেক স্থানে টিকার মজুত শেষ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২৫ সালে ইউনিসেফ নিজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার আগাম অর্থায়ন করে কিছু টিকার মজুত নিশ্চিত করলেও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। মূলত অর্থছাড় না করা এবং ক্রয় নীতিমালার পরিবর্তনের কারণেই এই সংকট ঘনীভূত হয়।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতি পুনরায় মূল্যায়ণ করা হয়। নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্চ মাসে বিতর্কিত সেই উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশ দেন এবং এপ্রিলে আবার ইউনিসেফের মাধ্যমেই টিকা সংগ্রহের পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে আসে বাংলাদেশ। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে ইউনিসেফ কেবল ২০২৫ সালেই নয়, বরং ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যেও প্রায় ২ কোটি ডলার আগাম ব্যয় করেছিল। বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সংস্থাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে উন্নতমানের টিকা সংগ্রহ ও জরুরি তহবিল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক দাতাদের সাথে কাজ করছে।
সংকটের গভীরতা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, দেশে রোগ নজরদারি ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের দুর্বলতা ছিল। ইউনিসেফ জানায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই তারা সম্ভাব্য ক্যাম্পেইনের জন্য হামের টিকা সংগ্রহ করে রেখেছিল, অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ আনুষ্ঠানিকভাবে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির তথ্য পায় ২০২৬ সালের মার্চের শেষ দিকে। ক্রয় জটিলতার কারণে টিকার অভাব, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ধাপ পরিচালনা করতে না পারা এবং নজরদারি ব্যবস্থার ধীরগতির সম্মিলিত প্রভাবে হামের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে।
ইউনূস সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে একাধিক বৈঠকে ইউনিসেফ টিকার ঘাটতি এবং এর ফলে শিশু মৃত্যুহার বাড়ার ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কবার্তা দিয়েছিল। প্রতিটি বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমেও এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা (এমআর) ক্যাম্পেইন শুরু হলেও বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে টিকাদান কাভারেজে যে বড় ধাক্কা লেগেছে, তা এখন স্পষ্ট।
/আশিক
মহাসড়কে চাঁদাবাজদের সরাসরি যুদ্ধের হুমকি সেতুমন্ত্রীর
সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সোমবার জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঈদযাত্রায় মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মন্ত্রী বলেন, "আগামী ঈদে সড়কে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। তবে আমরা মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি।" তিনি ঘোষণা করেন, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর ফলে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
সড়ক খাতের উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রী একটি বড় অংকের হিসাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত দুই মাসে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে যে পরিমাণ রাস্তা প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের চাহিদাপত্র জমা পড়েছে, তা বাস্তবায়নে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন। তবে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম (৪০ হাজার কোটি টাকা) হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করবে সরকার। সীমিত বাজেটেও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
/আশিক
বিগত ১৬ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল জনগণ: হাফিজ উদ্দিন
বিগত সরকারের আমলে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “বিগত ১৬ বছরের নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আবারও সমুন্নত হয়েছে।” সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি হজ পালন করতে মক্কা ও মদিনায় গমন করেন, যা দুই দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসংসদীয় সম্পর্ক জোরদারকরণ এবং সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে স্পিকার ও রাষ্ট্রদূত চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় স্পিকার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি-কে (OIC) আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রস্তাব করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সৌদি আরব এই মানবিক সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। অনুষ্ঠানে সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সৌদি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদলে প্রভাব পড়বে না ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে: শামা ওবায়েদ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা এবং তৃণমূলের সম্ভাব্য পরাজয়ের খবরের মাঝেই বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।" উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশেও নতুন সরকার (বিএনপি নেতৃত্বাধীন) দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ভারতের কোনো বড় রাজ্যে প্রথম নির্বাচন।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে এবং বাংলাদেশ একটি ন্যায়সংগত ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী।" এছাড়া সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
গত কয়েকমাস ধরে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশিদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তা দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, "ভারতের সঙ্গে শিগগিরই ভিসা প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশা করছি।" উল্লেখ্য যে, মে মাসের শুরু থেকেই ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো তাদের কার্যক্রম পুনরায় পুরোদমে শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও চাঙ্গা করবে।
/আশিক
হামে মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড: আতঙ্কে অভিভাবকরা
সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাম। সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৫ জনসহ মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সময়ে নিশ্চিত হামে ৫২ জন এবং হাম সন্দেহে ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৩০২ জন নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭৯৩ জনে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৪৬৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৮ হাজার ৮৪২ জন ভর্তি রয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বমুখী হার প্রতিরোধে শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
/আশিক
মাদক ও চাঁদাবাজদের দিন শেষ! সারাদেশে বিশেষ যৌথ অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সচিবালয়ে ‘বলপ্রয়োগ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে সংস্থাগুলোকে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় লাগলেও সরকার এখন সঠিক পথেই আছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান এবং মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের ধরতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া চিহ্নিত অপরাধীদের বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। মন্ত্রী জানান, আদালত থেকে জামিন পাওয়া আইনি বিষয় হলেও তারা যাতে পুনরায় অপরাধ করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নভঙ্গ! পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহবাহী বিমান এখন ঢাকায়
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর শোকের ছায়া মাড়িয়ে দেশে ফিরল ফ্লোরিডায় খুন হওয়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ। সোমবার সকালে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। এর আগে গত শনিবার রাতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁর মরদেহ দেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। লিমনের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
মরদেহ দেশে পাঠানোর আগে গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকার ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তাঁর সহপাঠী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়ে প্রিয় মেধাবী মুখটিকে চোখের জলে বিদায় জানান।
গেল ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর ২৪ এপ্রিল জামিল লিমনের এবং ৩০ এপ্রিল নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডা পুলিশ। লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘেরহেকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, লিমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত হিশামের বিরুদ্ধে দুটি ‘ফার্স্ট-ডিগ্রি’ অর্থাৎ পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, খুনের আগে সে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে হত্যার উপায় খুঁজেছিল।
এদিকে নিহত অন্য শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আগামী বুধবার (৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পরিবারের অনুরোধ অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস। প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জানিয়েছেন, দূতাবাস এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- হারিনি, ভোট লুট হয়েছে: পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানালেন মমতা
- যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: আমিরাত সংকটে ইরানের বিস্ফোরক মন্তব্য
- ৫ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৫ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- লোডশেডিংমুক্ত এক সপ্তাহ: বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন স্বস্তি
- অনলাইন লেনদেনে সাবধান! কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নির্দেশনা জারি
- নবম পে-স্কেল নিয়ে পুনর্গঠিত কমিটির নতুন পরিকল্পনা ফাঁস
- কেন দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে আপনার শখের আইফোন? ভুলেও যে কাজগুলো করবেন না
- সতীর্থকে চড় মারার অভিযোগ: নতুন বিতর্কে নেইমার জুনিয়র
- ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্পের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি
- মার্কিন হামলায় ইরানের ছয় যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি
- আজ দিনভর যেসব কর্মসূচিতে মুখর থাকবে রাজধানী
- শাপলা চত্বর অভিযান ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায: জামায়াত আমির
- হাম নিয়ে ইউনিসেফের আগাম সতর্কবার্তা কানে তোলেনি অন্তর্বর্তী সরকার
- মমতার পতন না কি বিজেপির উত্থান? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ৫টি বড় কারণ
- ৬ জেলায় ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: ৮০ কিমি বেগে আঘাত হানতে পারে ঝড়
- আমিরাতের তেল স্থাপনায় ইরানের হামলা: প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আমিরাত
- স্বর্ণের বাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব: আন্তর্জাতিক দরে ব্যাপক পতন
- মঙ্গলবার ঢাকার যেসব এলাকা ও মার্কেট বন্ধ থাকবে
- জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- ১০০টিরও বেশি আসন লুট করা হয়েছে: মমতা
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস, ৪ ঘণ্টায় ১ শতাংশের বেশি দরপতন
- আজ রাত ১২টার মধ্যে দেশের ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল শঙ্কা
- গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র পদ্ম! দিল্লির সদর দপ্তরে মোদির বিজয়োল্লাস
- কুমিল্লা চান্দিনায় স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ: আটক ৪
- মহাসড়কে চাঁদাবাজদের সরাসরি যুদ্ধের হুমকি সেতুমন্ত্রীর
- বিগত ১৬ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল জনগণ: হাফিজ উদ্দিন
- হরমুজে ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম: মানবিক উদ্ধার না কি যুদ্ধের উসকানি?
- পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদলে প্রভাব পড়বে না ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে: শামা ওবায়েদ
- পুরো হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের কবজায়! নতুন মানচিত্র প্রকাশ ইরানের
- তেহরানের হাতে বিশ্ব অর্থনীতির চাবি: ৬৭ দিনে বদলে গেল ভূ-রাজনীতির মানচিত্র
- হামে মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড: আতঙ্কে অভিভাবকরা
- হরমুজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা!
- দুই দশকের আধিপত্যের অবসান: বিপুল ব্যবধানে হেরে বিদায় নিচ্ছেন মমতা
- তামিল রাজনীতিতে বিজয় বিপ্লব: ডিএমকে-কে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে টিভিকে
- মাদক ও চাঁদাবাজদের দিন শেষ! সারাদেশে বিশেষ যৌথ অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- ৪ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৪ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৪ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: ঢাকাসহ ৭ জেলায় ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব: রাতভর বোমা হামলায় লণ্ডভণ্ড সীমান্ত
- এনসিপিকে বিদায় জানানোর সময় হয়েছে: শাহরিয়ার কবির
- প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন: চরভদ্রাসনে খাল খনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন
- দেবিদ্বারে হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল গ্রেপ্তার
- তামিলনাড়ুতে কি তবে ‘বিজয়’ উৎসব? ম্যাজিক ফিগারের কাছে থালাপতি
- ছোটবেলার পরীক্ষার দিনের মতো পাশে ছিল নাহিদ: ডা. মিতু
- ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: শুভেন্দুর তান্ডবে কি তবে সিংহাসন হারাবেন মমতা?
- ডলার থেকে রিয়াল: জেনে নিন আজকের সর্বশেষ মুদ্রার বিনিময় হার
- বিলাসবহুল জাহাজ এখন ভাসমান মৃত্যুপুরী! প্রমোদতরীতে রহস্যময় ভাইরাসের ছোবল
- ঢাবিতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কাঁকশিয়ালী’-র নতুন কমিটি গঠন
- স্বর্ণের দামে লাফ, তবে অপরিবর্তিত রুপা: বাজারদরের সবশেষ আপডেট
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়: কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বাড়ল দাম
- সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- টানা ২ বার কমার রেকর্ড! স্বর্ণের বাজারে কী ঘটছে? জানাল বাজুস
- জানুন রিজিক বৃদ্ধির শক্তিশালী আমল
- যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস: এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে দর
- শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক সময়
- ২৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- স্বর্ণের বাজারে বিশাল পতন! বাজুসের নতুন ঘোষণায় সস্তা হলো সব মানের সোনা
- ৬ জেলায় ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: ৮০ কিমি বেগে আঘাত হানতে পারে ঝড়
- যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে








