সাকিব আল হাসান: মাঠের বাইরের লড়াই ও বিতর্কে জর্জরিত এক ‘অলরাউন্ড’ জীবন

সত্য নিউজ: বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয়, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারসাকিব আল হাসান শুধু খেলোয়াড়ই নন—তিনি রাজনীতিবিদ, উদ্যোক্তা এবং সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুও। ক্রিকেট মাঠে যেমন দক্ষতায় বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন, ঠিক তেমনি মাঠের বাইরে নানা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে শিরোনামে থেকেছেন তিনি। তবে গত কয়েক মাসে তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ও মামলা, দেশ ত্যাগ, সম্পদ জব্দ—সব মিলিয়ে শাকিবের জীবন যেন এক নতুন অধ্যায়ের মুখোমুখি।
ব্যবসা-বাণিজ্যে সাকিব: লাভ না লোকসান?
সম্প্রতি দেশের একটি ইংরেজি দৈনিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারেসাকিব আল হাসান বলেন, তিনি মূলত দুটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—একটি কাঁকড়ার খামার এবং অন্যটি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ।সাকিব জানান, “ক্রিকেট ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি তেমন মনোযোগ দিতে পারিনি, স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা ও লাভেও মনোযোগ ছিল না।”
কাঁকড়ার খামার সম্পর্কে তিনি বলেন, করোনা মহামারির আগে এই ব্যবসায় ভালো অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু কোভিড-পরবর্তী ক্ষতি, উৎপাদন থেমে যাওয়া এবং লোকসানের কারণে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তার দাবি, “আমি খামারটির মাত্র ৩৫ শতাংশ মালিক। বাকি ৬৫ শতাংশ অন্যদের হলেও, ভুলের দায় একমাত্র আমার ওপর চাপানো হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া সাড়ে চার কোটি টাকার ঋণে তার অংশ মাত্র ১.২ কোটি টাকা হলেও, তার সম্পত্তি যেভাবে ক্রোক করা হয়েছে, সেটি অপ্রত্যাশিত।
শেয়ারবাজার নিয়েও তার বক্তব্য স্পষ্ট। “বাংলাদেশের স্টক মার্কেটে কীভাবে কারসাজি করতে হয়, আমি জানি না। আমার ফোনে কোনো ট্রেডিং অ্যাপও নেই,” বলেন সাকিব। তিনি দাবি করেন, “আমি বিনিয়োগের জন্য একজনকে টাকা দিয়েছিলাম, কিন্তু পুরো টাকাটাই লোকসানে যায়।”
মামলার মুখে সাকিব: আত্মপক্ষ সমর্থনে স্পষ্ট বার্তা
বর্তমানেসাকিবের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ—শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, জুয়া ব্যবসা, কাঁকড়া ব্যবসায় প্রতারণা, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন, এমনকি আদাবরে একটি হত্যা মামলার আসামিও হয়েছেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে ৬টি অভিযোগের তদন্তের আবেদন জমা পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সাকিব বলেন, “আমি কিছুই লুকাচ্ছি না কিংবা কোনো কিছু চুরি করে পালিয়ে যাচ্ছি না। যদি তদন্তের স্বার্থে দেশে আসতে হয়, আমি খুশিমনে প্রস্তুত।”
রাজনীতিতে পা রাখা: ভুল না অভিপ্রায়?
২০২৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাগুরা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব। রাজনীতিতে আসা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে যোগ দেওয়া যেকোনো নাগরিকের অধিকার। আমি বিশ্বাস করি, আমি আমার এলাকার মানুষের জন্য কিছু করতে পারি বলেই এসেছি।”
তবে পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ক্রিকেটেই মনোযোগ দিতে বলেন।সাকিব জানিয়েছেন, “আমি সে পরামর্শ মেনে চলেছি। আমার কোনো গোপন এজেন্ডা ছিল না। আমার পরিকল্পনা ছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া।”
জীবনের ভারসাম্য: রাজনীতি, ব্যবসা ও ক্রিকেট
সাকিবের কথায় উঠে আসে এক কঠিন বাস্তবতা—“আমি রাজনীতিতে মাত্র ছয় মাস ছিলাম, তার মধ্যে তিন দিন মাগুরায় ছিলাম। বাকিটা সময় ক্রিকেট খেলেছি বা দেশের বাইরে ছিলাম। তাহলে কখন ঠিকঠাক রাজনীতি করলাম?” মাঠের অলরাউন্ডারের জীবন যেন এখন বাস্তব জীবনেও হয়ে উঠেছে একই রকম ভারসাম্যের লড়াই।
সাকিব আল হাসান এখন এক সংকটময় সময় পার করছেন, যেখানে মাঠের বাইরের পরিস্থিতি তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারকেও ছায়া দিতে পারে। তবে তার বক্তব্যে একরকম দৃঢ়তা রয়েছে—অপরাধ না করে থাকলে শাস্তির যোগ্য নন তিনি। এখন দেখার বিষয়, মাঠের বাইরে এই লড়াইয়ে তিনি কতটা সফল হতে পারেন।
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার: পলিথিনে মোড়ানো ছিল নৃশংসতা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, গত ৩০ এপ্রিল ডিএনএ এবং ডেন্টাল রেকর্ড পরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ধারকৃত দেহাংশগুলো বৃষ্টির বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (USF) দুই মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমন একই দিনে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা একটি আবর্জনা ফেলার কালো পলিথিনে মোড়ানো ছিল। শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার এই নৃশংসতাকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, খুনি এতটাই নিষ্ঠুর ছিল যে মৃতদেহটিকে মহাসড়কের পাশে সাধারণ আবর্জনার মতো ফেলে রেখেছিল।
বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও লোমহর্ষক। ২৬ এপ্রিল ম্যানগ্রোভ এলাকায় কায়াক চালনাকারী কয়েকজন মাছশিকারি একটি সন্দেহজনক কালো পলিথিন দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। লিমনের মরদেহ যেখানে পাওয়া গিয়েছিল, এটি তার খুব কাছাকাছি এলাকা ছিল। উদ্ধারকৃত খণ্ডিত অংশগুলো এতটাই বিকৃত ছিল যে, প্রাথমিকভাবে সেগুলো নারী না পুরুষের তা শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তবে আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, মরদেহের অংশে লেগে থাকা পোশাকের অবশিষ্টাংশের সাথে নিখোঁজ হওয়ার দিন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা বৃষ্টির পোশাকের মিল খুঁজে পায় তদন্তকারীরা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী মার্কিন তরুণ হিশাম আবুঘরবেহকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ হিশামের গাড়ির ভেতরে বৃষ্টির রক্তের দাগ খুঁজে পাওয়ার পর থেকেই তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত ছিল, তবে মরদেহ খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়।
বর্তমানে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহকে কোনো ধরনের জামিন ছাড়াই কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ বা পূর্বপরিকল্পিত সর্বোচ্চ মাত্রার দুটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগসহ মরদেহ গুম ও তথ্য গোপনের একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। কেন এই মেধাবী দুই শিক্ষার্থীকে এমন পৈশাচিক পরিণতির শিকার হতে হলো, তার মোটিভ বা কারণ উদ্ঘাটনে এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ। এদিকে, দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে ফ্লোরিডার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের মাতম চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃষ্টি ও লিমনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষারত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
থানায় ওসির রুমে ঢুকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন: ‘দলের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নিলে দায়ী আপনি’
রাজধানীর শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার প্রাণকেন্দ্র থানাগুলোকে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে এক নজিরবিহীন ও আকস্মিক অভিযানে নেমেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার দুপুরে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা প্রটোকল ছাড়াই ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি পুলিশি সেবার মান সরেজমিনে তদারকি করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ১০ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মন্ত্রী সরাসরি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে প্রবেশ করে সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের আগমনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চান। এই আকস্মিক পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনসেবার নামে থানায় ‘দালাল চক্রের’ দৌরাত্ম্য বন্ধ করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি পেশাদার পুলিশি কাঠামো নিশ্চিত করা। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশের থানাগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দালালমুক্ত করতে হবে এবং সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের মধ্যস্থতা ছাড়াই সরাসরি আইনি সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
থানার ভেতরে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করেন। তিনি ডিউটি অফিসারের কক্ষ থেকে শুরু করে হাজতখানা এবং পুলিশ সদস্যদের ব্যারাক বা মেস পর্যন্ত প্রতিটি কোণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। হাজতখানার ধারণক্ষমতা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং ফ্যান বা ওয়াশরুমের ব্যবস্থা আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি ওসির কাছ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য গ্রহণ করেন। এমনকি হাজতে থাকা এক ব্যক্তির জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মানও তিনি নিজ চোখে যাচাই করেন। এর মাধ্যমে মন্ত্রী একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, অভিযুক্ত বা আটক হওয়া ব্যক্তিরাও যেন রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকাকালীন ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত না হয়। পুলিশ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি তাদের সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে থানায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চিরাচরিত সংস্কৃতি বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক কঠোর প্রশাসনিক বার্তা প্রদান করেছেন। রমনা থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলেন, বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ থানায় কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে, তবে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেই নিতে হবে। এটি মূলত পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত করে একটি স্বাধীন ও জনবান্ধব সংস্থায় রূপান্তরের সরকারের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যদি দায়িত্ব অবহেলা, দুর্নীতি বা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। আকস্মিক এই থানা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে পুলিশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
নয়াপল্টনের স্কুলে শিশু নির্যাতন: ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
রাজধানীর ব্যস্ত নয়াপল্টনের একটি স্কুলের অফিসকক্ষে যা ঘটেছে, তা কেবল একটি অপরাধ নয়—এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিশু সুরক্ষার ওপর ভয়াবহ প্রশ্নচিহ্ন। চার বছরের কম বয়সী একটি শিশুকে স্কুলের ভেতর আটকে রেখে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নগরজুড়ে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই শুক্রবার ভোরে স্কুলটির ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ভোরে মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে পল্টন থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে পবিত্র কুমার বড়ুয়া কে। তিনি নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক এবং একই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান-এর স্বামী। ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত আঠারো জানুয়ারি নয়াপল্টনের মসজিদ রোডে অবস্থিত শারমিন একাডেমিতে প্রি-প্লে শ্রেণিতে পড়ুয়া চার বছরের কম বয়সী একটি শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। স্কুলের অফিসকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটিকে একটি নারী ধরে রেখেছেন এবং একজন পুরুষ তাকে মারধর করছেন। কখনো গলা চেপে ধরা, কখনো মুখ চেপে রাখা, এমনকি হাতে স্ট্যাপলার নিয়ে ভয় দেখানোর দৃশ্যও ফুটেজে ধরা পড়ে। ওই নারী হলেন প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং পুরুষটি ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা থানায় অভিযোগ দায়ের করে জানান, তাঁর সন্তান এখনো গভীর মানসিক ট্রমায় রয়েছে। ঘুমের মধ্যেও সে চিৎকার করে ওঠে—“মুখ সেলাই করে দিও না।” শিশুটি স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গেও থাকতে চাইছে না। বর্তমানে সে নানাবাড়িতে অবস্থান করছে।
শিশুটির বাবা জানান, স্কুলে ভর্তি হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এমন ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয় তাদের একমাত্র সন্তান। ভিডিও দেখে তাঁরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। শিশুটি বারবার বলছিল, স্কুলে কথা বললে তাকে গলায় চাপ দেওয়া হবে এবং মুখ সেলাই করে দেওয়া হবে—এমন ভয় দেখানো হয়েছিল।
ঘটনার পর স্কুলটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সেখানে এসে ভিড় করেন একাধিক অভিভাবক। অনেকেই ভিডিও দেখে আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ জানান, আগে কখনো এমন ঘটনার কথা শোনেননি, কিন্তু এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়েই ভয় কাজ করছে।
এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেছেন। শিশু আইনের সত্তর ধারায় দায়ের করা মামলায় শারমিন জাহান ও পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে আসামি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত চাইল্ড হেল্পলাইন এক শূন্য নয় আট-এর শিশু সুরক্ষা কর্মীরা শিশুটির মানসিক পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শিশুর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক বিকাশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে, যা পুরো সমাজের জন্যই অশনি সংকেত।
এই ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে—নীতিমালা থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষার বাস্তব প্রয়োগে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এমন সহিংসতা বন্ধ হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুলাই অভ্যুত্থানে লুণ্ঠিত অস্ত্র কুমিল্লায় উদ্ধার

মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত অস্ত্র যে এখনও দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার জন্য নীরব হুমকি হয়ে আছে, তারই নতুন প্রমাণ মিলেছে কুমিল্লায়। জেলার মুরাদনগর উপজেলায় হাইওয়ে পুলিশের একটি লুণ্ঠিত অস্ত্রসহ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি নির্বাচনপূর্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে মুরাদনগর উপজেলার লাজৈর এলাকার একটি ডোবা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র দুটি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লাস্থ র্যাবের একটি বিশেষ দল। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লাজৈর এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সড়কের পাশে একটি ডোবা থেকে কসটেপে মোড়ানো অবস্থায় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি চাইনিজ রাইফেল রয়েছে, যা হাইওয়ে পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্র বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি জুলাই অভ্যুত্থান আন্দোলনের সময় পার্শ্ববর্তী ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল। অন্য অস্ত্রটির উৎস ও ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছাল, কারা এতে জড়িত এবং আরও অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপরাধ ও সহিংসতার ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ৮ আসন থেকে প্রার্থী ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। পরে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক আহমেদ এনটিভি অনলাইনকে জানান, ঘটনাটি নিশ্চিতভাবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং প্রার্থীর শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করতে থাকেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে চড়ে আসা দুর্বৃত্তরা হাদির অবস্থান শনাক্ত করে। তাদের একটি মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। হামলার পর তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখনো কোনো গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা যায়নি। কর্তৃপক্ষ হামলার যথাযথ তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ছেলের লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল বাবার
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রসুলপুর ইউনিয়নের হামকুড়া গ্রামে ছেলে আসলাম শেখের আঘাতে বাবা আরশেদ শেখ মারা গেছেন। শান্ত গ্রামটি মুহূর্তেই উত্তেজনা আর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আরশেদ শেখ ও তার ছেলে আসলাম শেখের মাঝে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। প্রতিদিনের মতই শনিবারও তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। তবে পরিস্থিতি এক পর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ছেলে আসলাম উত্তেজনার বশে বাবাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আঘাতের পর আরশেদ শেখ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পরপরই আসলাম শেখ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিকভাবে সক্রিয় গ্রামটি এমন ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, পুলিশ আসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং ঘটনাটি আইনগতভাবে তদন্তাধীন। তিনি জানান, “ঘটনা ঘটার পরই আসলাম পালিয়ে যায়। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমরা ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছি।”
ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক অস্থিরতার বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পরিবারে দীর্ঘদিনের চাপ, বোঝাপড়া ও সংলাপের অভাব অনেক সময় আকস্মিকভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।
হামকুড়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, পরিবারটির মধ্যে পরিস্থিতি দীর্ঘদিনই টানটান ছিল। কিন্তু শোকাভিভূত গ্রামের অনেকে এমন মৃত্যুর ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না।
-রফিক
৮ হাজার পৃষ্ঠার প্রমাণ, হাজারো নিহত–আহত: শেখ হাসিনাদের বিরুদ্ধে রায়ে কী ঘটতে যাচ্ছে? সরাসরি দেখুন!
জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময়কার দমন–পীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় পড়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারক বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় পাঠ শুরু করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের অন্যান্য সদস্যরা।
মামলাটিতে প্রসিকিউশন মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগ দাখিল করেছে, যেখানে ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠার জব্দতালিকা ও অন্যান্য দালিলিক প্রমাণ এবং ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার শহীদদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, এসব নথি প্রমাণ করে যে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ দমনে অভিযুক্ত তিনজন পরিকল্পিত, পদ্ধতিগত এবং ব্যাপক মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন—বিশেষত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদেরও বিক্ষোভ দমনে ব্যবহারের জন্য সরাসরি নির্দেশ দেন। এসব নির্দেশের ফলেই দেশব্যাপী দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন এবং ২৫ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত, অঙ্গহানি বা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। তদন্তে এসব ঘটনাকে গণহত্যা, পরিকল্পিত হত্যা এবং অমানবিক নির্যাতনের শামিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ৫ আগস্টের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির দিনে আশুলিয়ায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা। অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন ছাত্রদের গুলি করে হত্যা করা হয়, এরপর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়; এমনকি অন্তত একজনকে জীবন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, এই ঘটনার নির্দেশও এসেছে শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপির কাছ থেকেই, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের স্পষ্ট উদাহরণ।
রায় পড়া শুরুর পর ট্রাইব্যুনাল চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মামলার সংবেদনশীলতা, অভিযুক্তদের সাবেক রাষ্ট্রক্ষমতার অবস্থান এবং নথিপত্রের বিশাল পরিমাণের কারণে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে। মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরাও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন। আদালত–সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নথিপত্রের বিশালতা বিবেচনায় রায় সম্পূর্ণ পড়তে সময় লাগবে এবং রায়টির রাজনৈতিক ও আইনি গুরুত্ব বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাসে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরাসরি দেখুন:
বাড্ডায় দারোয়ান ও তাঁর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর রহস্যে ধোঁয়াশা
রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি আবাসিক ভবনের কক্ষ থেকে এক দম্পতির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয় পাওয়া গেলেও মৃত্যুর কারণ বা ধরন সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ ধারণা করছে, ঘটনাটি প্রায় এক সপ্তাহ আগে ঘটেছে।
রোববার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উত্তর বাড্ডার পূর্বাঞ্চল ৩ নম্বর রোডের ২ নম্বর গলির একটি বাড়ির ভেতরে ঘর থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
ওসি বলেন, মৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে পুরুষটির নাম সাইফুল ইসলাম (৩০), যিনি ওই ভবনের দারোয়ান হিসেবে কাজ করতেন। আর নারীটি সাইফুলের স্ত্রী শাকিলা, যিনি একই ভবনের ভাড়াটিয়া পরিবারের কাছে রান্নার কাজ করতেন। পুলিশ তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৃত্যুর সময়কাল ও সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকালে বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে প্রতিবেশীরা সন্দেহজনক কিছু টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে বাড্ডা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘর থেকে স্বামী–স্ত্রীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে তখন ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মৃত্যু ২৫ অক্টোবরের পর কোনো এক সময় ঘটেছে। দীর্ঘদিন বন্ধ ঘরে লাশ থাকায় তীব্র পচন ধরেছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পুলিশের তদন্ত দল কাজ করছে। লাশ দুটি সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি কেস) দায়ের করা হচ্ছে। তবে তদন্তে যদি হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়, তাহলে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনার খবরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, সাইফুল ও শাকিলা দম্পতি প্রায় তিন বছর ধরে ওই ভবনের নিচতলায় বসবাস করছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা সমস্যার কথা শোনা যায়নি বলে দাবি করেন অনেকে।
পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত কিছু জানানো যাচ্ছে না। তবে ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে করা হচ্ছে এবং মৃত্যুর প্রকৃতি নির্ধারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাশিয়ার অপ্রতিরোধ্য পারমাণবিক অস্ত্র পসাইডন ইউরোপের নিরাপত্তায় নতুন হুমকি
রাশিয়া সফলভাবে 'পসাইডন' নামের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সুপার টর্পেডোর পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার এই ঘোষণা দেন। গ্রিক পুরাণের সমুদ্রদেবতা পসাইডনের নামে নামকরণ করা এই অস্ত্র সমুদ্রের নিচে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় ঢেউ সৃষ্টি করে উপকূলীয় অঞ্চল ধ্বংস করার সক্ষমতা রাখে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পুতিনের দাবি, এ ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্র বিশ্বের আর কোনো দেশের কাছে নেই। রুশ পার্লামেন্টের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য এই টর্পেডোকে ড্রোন ও পারমাণবিক টর্পেডোর সংমিশ্রণ বলে অভিহিত করেছেন; তার দাবি, এটি পুরো একটি রাষ্ট্রকে অচল করে দিতে সক্ষম।
পসাইডনের কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে ২০১৮ সালে; তখন বলা হয়েছিল এটি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম, যা একে আটকানো প্রায় অসম্ভব করে তোলে।
এর আগে ২১ অক্টোবর রাশিয়া 'বুরেভেস্তনিক' নামের পারমাণবিক চালিত নতুন এক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষারও ঘোষণা দেয়; রাশিয়ার দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের যে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করতে পারে। ন্যাটো এই অস্ত্রটিকে 'এসএসসি-এক্স-৯ স্কাইফল' নামে চিহ্নিত করেছে। পসাইডন ও বুরেভেস্তনিক ছিল ২০১৮ সালে পুতিনের প্রকাশিত 'অজেয় অস্ত্রের' তালিকারই অংশ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এসব ঘোষণা মূলত একটি রাজনৈতিক প্রচারণা। ব্রিটিশ রাশিয়া-বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্যালিওটি বিবিসিকে বলেন, পসাইডন ও বুরেভেস্তনিক মূলত 'আর্মাগেডন অস্ত্র'—এগুলো ব্যবহারের অর্থ হবে পৃথিবী ধ্বংস। তিনি মনে করেন, এসব অস্ত্র 'সেকেন্ড-স্ট্রাইক' বা প্রতিশোধমূলক হামলার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
অনেকে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২০১৯ সালে একটি রকেট ইঞ্জিন বিস্ফোরণে পাঁচ রুশ পারমাণবিক প্রকৌশলী নিহত হয়েছিলেন; ধারণা করা হয়, সেই বিস্ফোরণ বুরেভেস্তনিক প্রকল্পেরই অংশ ছিল। আন্তর্জাতিক কৌশল গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআইএসএস জানিয়েছে, পারমাণবিক প্রোপালশন প্রযুক্তিতে রাশিয়ার এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে; তারই পরপর পুতিনের এই অস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা আসে। বিশ্লেষক গ্যালিওটির মতে, পুতিনের লক্ষ্য হলো ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং নিজের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা।
পাঠকের মতামত:
- রামিসা থেকে আবদুল্লাহ: শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরবতার অবসান হোক
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- দূষণে আবারও বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় ঢাকা
- ঈদের দিনে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- আজ মিলবে যে দিনের ঈদ ট্রেনের অগ্রিম টিকিট
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ সূর্যাস্ত কখন? নামাজের সময় জানুন একনজরে
- শুভেন্দু অধিকারীর পুশব্যাক হুমকির পর বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ
- এবার ফেসবুক পেজে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মেগাস্টার শাকিব খান
- রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- আগামীকাল টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাস্টিস কার্ড চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
- চরভদ্রাসনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬ পালিত
- ফেসবুকের ট্রেন্ড এবার ফিফার পাতায়: নেইমারের ছবিতে বাংলা ডায়ালগ নিয়ে তোলপাড়
- ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ: শিশু হত্যার প্রতিবাদে এককাট্টা জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা
- ঈদের ছুটিতে মেট্রোর ট্রিপ বিন্যাস ও সময়সূচি বদল
- এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
- এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
- ইউরেনিয়াম দেশেই থাকবে; ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রধান শর্ত উড়িয়ে দিলেন মোজতবা খামেনি
- রামিসার খুনি ২৪ ঘণ্টাতেই গ্রেপ্তার, এবার গুরুত্ব পাচ্ছে তনু হত্যা মামলা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান
- আমি কন্যাসন্তানের বাবা, খবরটি হৃদয়বিদারক: পল্লবী ট্র্যাজেডিতে স্তব্ধ তারকা ক্রিকেটার
- সচিবালয়ে নতুন দুই মন্ত্রীর সাথে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক: বড় খবরের আভাস
- ২১ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২১ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- অনুমতি মিলতে লাগবে এক সপ্তাহ: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ইরানের নতুন শর্তের বড় ধাক্কা
- ডলার থেকে ইউরো, জেনে নিন আজকের কারেন্সি রেটের লেটেস্ট আপডেট
- পশ্চিমবঙ্গের সব মাদরাসায় এবার বাধ্যতামূলক হলো বন্দে মাতরম গান
- ধর্ষণ ও শিশু হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দীর্ঘদিনের নৈতিক অবক্ষয়ের ফল: মির্জা ফখরুল
- পল্লবীর লোমহর্ষক শিশু হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করার ঘোষণা
- আজ বৃহস্পতিবার: ঘরের বাইরে বের হওয়ার আগে জেনে নিন ঢাকার বন্ধ মার্কেটের তালিকা
- আবহাওয়া অফিসের ১২০ ঘণ্টার বিশেষ বার্তা
- চলতি বছরেই ৬৭ বার দামের খেলা! দেশের বাজারে বাজুসের স্বর্ণের মূল্যে নতুন রেকর্ড
- আমেরিকার পর এবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আজ টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- চুক্তি সইয়ের আগে ইরানের ওপর থেকে এক চুলও নিষেধাজ্ঞা কমাবে না যুক্তরাষ্ট্র
- মাছ-কার্ড বাদ দিয়ে তারেক রহমানেরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালানো উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- রাজশাহীতে মেগা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- কাতার বিশ্বকাপের প্রাইজমানি এক টাকাও নিজের জন্য নেননি ফুটবল জাদুকর মেসি
- তৃতীয় বছরে মিলবে নতুন বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা: নবম পে-স্কেলের ভেতরের খবর
- কালিগঞ্জে মাত্র ৫৪০ টাকায় চাল-ডাল-তেল-চিনির মেগা প্যাকেজ দিল টিসিবি
- চরভদ্রাসন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা
- ঈদুল আজহার পশুর হাটে মূল আকর্ষণ মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের ৭৬ কেজি ওজনের দানব ছাগল
- ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী পরাশক্তি: মোজতবা খামেনি
- এক বছরের অপেক্ষা শেষ: চলতি সপ্তাহেই বাজারে আসছে ট্রাম্প ফোন
- মেলোনিকে মেলোডি চকলেট উপহার মোদির: রোমের বৈঠকের ভিডিও ভাইরাল
- ১৮ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- কুমিল্লায় সুজনের সভা: গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা
- টয়লেটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা: পল্লবীর শিশু খুনের রোমহর্ষক জবানবন্দি
- টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা পাকিস্তান: সিলেট টেস্টের রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় দিন
- যে ৫ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের আশঙ্কা
- দ্রুতই মাথা উঁচু করে দেশে ফিরব: আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- ঘরেই বানান মজাদার কাঁচা আমের ঝাল আচার
- লিভার ফেইলিউরের সাথে লড়ে হেরে গেলেন অভিনেত্রী কারিনা কায়সার
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার








