টিকিট কাটার আগে জেনে নিন সেন্টমার্টিন ভ্রমণের নতুন নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞার তালিকা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৯ ২১:৪৯:৫৩
টিকিট কাটার আগে জেনে নিন সেন্টমার্টিন ভ্রমণের নতুন নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞার তালিকা
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন নৌরুটে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। এবার পর্যটকদের জন্য থাকছে রাত্রিযাপনের সুবিধাও। তবে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটককে দ্বীপে যেতে দেওয়া হবে না এবং মানতে হবে সরকারের জারি করা ১২টি কঠোর বিধিনিষেধ। কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ রওনা হবে এবং পরের দিন বিকেল ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে ফিরতি যাত্রা শুরু করবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকরা ভ্রমণের এই সুযোগ পাবেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম জানান এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস এমভি বারো আউলিয়া কেয়ারি সিন্দাবাদ এবং কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন এই চারটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঘোষিত ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। নিরাপত্তার কারণে টেকনাফ নয় এবার নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকেই পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন যাতায়াত করবে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান নভেম্বর মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি না থাকায় পর্যটকদের আগ্রহ ছিল কম ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। তবে ডিসেম্বর থেকে টানা দুই মাস রাত্রিযাপন চালু থাকায় পর্যটকরা ভ্রমণে উৎসাহী হচ্ছেন তাই ১ ডিসেম্বর থেকে জাহাজ সার্ভিস পুনরায় শুরু করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান দুই হাজারের বেশি পর্যটককে যেতে দেওয়া হবে না। এজন্য নুনিয়ারছড়া ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে আলাদা তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিন ভ্রমণ সংক্রান্ত ১২টি নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয় বিআইডব্লিউটিএ ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টাল থেকে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে যেখানে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে এবং কিউআর কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ ধরা হবে। নভেম্বরে শুধুমাত্র দিনের বেলায় ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপন করা যাবে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় রাতে সৈকতে আলো শব্দ ও বারবিকিউ অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি কেয়াবনে প্রবেশ কেয়া ফল সংগ্রহ বা বেচাকেনা এবং সামুদ্রিক কাছিম প্রবাল পাখি ও রাজকাঁকড়াসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করাও নিষিদ্ধ। সৈকতে মোটরচালিত যেকোনো যান চালানোও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বীপে পলিথিন বহন নিষিদ্ধ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে এসব নতুন বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিনের নাজুক পরিবেশ ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকবে।


জমি রেজিস্ট্রিতে বড় পরিবর্তন: মুক্তি মিলছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৭:৩০:৫৮
জমি রেজিস্ট্রিতে বড় পরিবর্তন: মুক্তি মিলছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা জেলার জমি ক্রেতা ও গ্রহীতাদের জন্য সুখবর। দীর্ঘদিনের জমি রেজিস্ট্রি ও দলিল প্রাপ্তির জটিলতা এবং ভোগান্তি নিরসনে বিশেষ সেবামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঢাকা জেলার সবকটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে গ্রাহকেরা এখন থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাদের দলিলের মূল ও নকল কপি হাতে পাবেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জমি রেজিস্ট্রির পর দলিল কবে প্রস্তুত হবে—তা জানার জন্য গ্রাহকদের আর বারবার অফিসে এসে ধরনা দিতে হবে না। এখন থেকে গ্রহীতারা নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে তাদের দলিলের বর্তমান অবস্থা ও সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য সহজেই জানতে পারবেন।

এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে সেবা গ্রহীতাকে একটি সিলযুক্ত রসিদ প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে ক্রেতার মোবাইল নম্বরটি বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত থাকবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে গ্রাহককে প্রথমে খুদে বার্তা (SMS) এবং পরবর্তীতে সরাসরি ফোন কলের মাধ্যমে দলিল সংগ্রহের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে যারা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে মোবাইল নম্বর দিতে অনাগ্রহী, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলার আওতাধীন ২৩টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, পদবি এবং যোগাযোগ নম্বর সংবলিত একটি সমন্বিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া জমি রেজিস্ট্রির ফরমেটে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বরের ঠিক নিচেই মোবাইল নম্বর যুক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অহিদুল ইসলাম আরও জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি দূর করা তাদের প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে ঢাকার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে একটি সক্রিয় ‘হেল্পডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত গণশুনানি এবং সপ্তাহে অন্তত তিন দিন আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে অফিসগুলোর কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে। সেবা নিতে আসা মানুষের সুবিধার্থে কার্যালয়গুলোতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ডিজিটাল অটোমেশন পুরোনো দলিলগুলো নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য বিদ্যমান ভবন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে সব দলিল ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য স্ক্যানিং কার্যক্রমের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাব-রেজিস্ট্রার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদিও সমস্ত সেবা এখনো কাঙ্ক্ষিত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এবং জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


কিডনি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে মানতে হবে বিশেষ সতর্কতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১১:৩৩:৫১
কিডনি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে মানতে হবে বিশেষ সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ‘সি’-এর গুরুত্ব অপরিসীম হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এর সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়মিত ও উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

ভিটামিন ‘সি’ শরীরের জন্য একটি অপরিহার্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যা টিস্যু মেরামত, কোলাজেন উৎপাদন এবং ক্ষত সারানোর কাজে সরাসরি অংশ নেয়। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে শরীরের ফ্রি র‍্যাডিক্যালজনিত ক্ষতি প্রতিরোধ করে, যা হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমায়। যেহেতু মানবশরীর নিজে থেকে এই ভিটামিন তৈরি করতে পারে না, তাই এটি খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। কমলা, বেরি, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি এবং আমলকীর মতো সাইট্রাস ফলগুলো ভিটামিন ‘সি’-এর উৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক উৎস।

খাবার থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘সি’ না পেলে অনেকেই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে এই সাপ্লিমেন্টগুলো শরীরে গিয়ে অক্সালেটে রূপান্তরিত হয়, যা মূলত ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোনের প্রধান উপাদান। এটি কিডনির সবচেয়ে সাধারণ ধরনের পাথর হিসেবে পরিচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১,০০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে প্রস্রাবে অক্সালেটের মাত্রা ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে কিডনিতে ছোট ছোট স্ফটিক তৈরি হয়, যা সময়ের সাথে সাথে পাথরে রূপ নেয়। বিশেষ করে পুরুষদের শরীরে ভিটামিন ‘সি’ বেশি মাত্রায় অক্সালেটে রূপান্তরিত হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঝুঁকি মূলত কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট থেকে আসে, সরাসরি ফল বা প্রাকৃতিক খাবার থেকে নয়। কারণ সাপ্লিমেন্টে থাকা আলাদা করে নেওয়া অ্যাসকরবিক অ্যাসিড শরীর ভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করে। অতিরিক্ত ভিটামিন ‘সি’ লিভারে গিয়ে ভেঙে অক্সালেটে পরিণত হয়। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১ থেকে ২ গ্রাম ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণে প্রস্রাবে অক্সালেট নিঃসরণ প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

প্রধান ঝুঁকির কারণসমূহ

প্রতিদিন ৭০০ থেকে ১,০০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন ‘সি’ খেলে ঝুঁকি বাড়ে। তবে ৫০০ মিলিগ্রামের কম থাকা সাধারণ মাল্টিভিটামিনে এই ঝুঁকি তেমন দেখা যায় না।

যাদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে, যারা পানিশূন্যতায় ভোগেন কিংবা অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাদ্যাভ্যাস ও স্থূলতা রয়েছে, তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি।

পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ভিটামিনের রূপান্তর প্রক্রিয়া নারীদের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় ঝুঁকি বেশি থাকে।

ঝুঁকি কমানোর উপায় ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

কিডনির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা প্রাকৃতিক উৎসের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কমলা, পেয়ারা ও আমলকীতে থাকা ফাইবার শরীরে ভিটামিন ‘সি’ শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করলে প্রস্রাব পাতলা থাকে এবং পাথর তৈরির আশঙ্কা কমে। অতিরিক্ত লবণ ও প্রাণিজ প্রোটিন কমিয়ে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন কলা বা পালংশাক এবং সাইট্রেট সমৃদ্ধ লেবুর পানি পান করা পাথর প্রতিরোধে অত্যন্ত সহায়ক।

সর্বোপরি, যারা স্থূলতা বা পানিশূন্যতায় ভুগছেন, তাদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। প্রয়োজনে প্রস্রাবে অক্সালেটের মাত্রা পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের প্রকৃত অবস্থা জেনে নেওয়া উচিত।


হোটেল বা ট্রায়াল রুমে লুকানো ক্যামেরা চেনার ৫টি জাদুকরী কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১১:১৫:৪৯
হোটেল বা ট্রায়াল রুমে লুকানো ক্যামেরা চেনার ৫টি জাদুকরী কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

কাজের ব্যস্ততা আর ক্লান্তি কাটাতে মানুষ যখন পাহাড়, সমুদ্র কিংবা পছন্দের কোনো শহরে ছুটি কাটাতে যান, তখন তাদের প্রথম চাওয়া থাকে একটু নিরিবিলি সময় ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা। আরামদায়ক হোটেল বা রিসোর্টে নিশ্চিন্ত সময় কাটানোর আনন্দ অনেক সময় ম্লান হয়ে যায় একটি দুশ্চিন্তায়—রুমের কোথাও গোপন ক্যামেরা বা নজরদারির যন্ত্র লুকিয়ে রাখা নেই তো?

বর্তমান সময়ে হোটেল রুম কিংবা ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ভয়ের কিছু নেই; সচেতনতা আর আপনার হাতের স্মার্টফোনটি ব্যবহার করেই আপনি নিশ্চিত করতে পারেন নিজের গোপনীয়তা। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করার কিছু সহজ ও কার্যকর কৌশলের কথা বলা হয়েছে।

গোপন ক্যামেরা খুঁজে বের করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আলোর প্রতিফলন ব্যবহার করা। আপনার স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট অন করুন এবং ঘরের অন্ধকার কোণ, আলমারি, ঘড়ি, স্পিকার বা টিভি রিমোটের মতো সন্দেহজনক জায়গাগুলোতে আলো ফেলুন। যদি কোথাও গোপন ক্যামেরার লেন্স লুকানো থাকে, তবে সেই লেন্সে ফ্ল্যাশলাইটের আলো পড়ার সাথে সাথে তা একটি ছোট্ট আলোর বিন্দু হিসেবে প্রতিফলিত হবে। এই রিফ্লেকশন দেখে আপনি ক্যামেরার অবস্থান বুঝতে পারবেন।

অধিকাংশ আধুনিক গোপন ক্যামেরা অন্ধকারেও ছবি তোলার জন্য ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে। এই আলো মানুষের খালি চোখে দেখা না গেলেও স্মার্টফোনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ঘরের সব আলো নিভিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকার করে ফোনের ক্যামেরা চালু করুন এবং রুমের চারপাশে ঘোরান। যদি ক্যামেরার স্ক্রিনে কোনো স্থানে অদ্ভুত লালচে বা বেগুনি আলোর বিন্দু দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সেখানে ইনফ্রারেড ক্যামেরা লুকানো থাকতে পারে।

প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোনের জন্য অনেক অ্যাপ তৈরি হয়েছে যা লুকানো ক্যামেরা শনাক্ত করতে পারে। প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘হিডেন ক্যামেরা ডিটেক্টর’, ‘গ্লিন্ট ফাইন্ডার’ বা ‘ফিং’-এর মতো অ্যাপগুলো নামিয়ে নিতে পারেন। এই অ্যাপগুলো ফোনের ম্যাগনেটিক সেন্সর ব্যবহার করে আশেপাশে থাকা কোনো ইলেকট্রনিক রেকর্ডিং ডিভাইস বা ক্যামেরার উপস্থিতি সংকেতের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়।

এখনকার অনেক গোপন ক্যামেরা সরাসরি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। আপনার ফোন দিয়ে হোটেলের ওয়াই-ফাই স্ক্যান করুন। যদি দেখেন নেটওয়ার্কে অচেনা কোনো হার্ডওয়্যার ডিভাইস কানেক্টেড আছে বা এমন কোনো নাম দেখাচ্ছে যা সন্দেহজনক, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক স্ক্যানিং অ্যাপ দিয়েও সংযুক্ত ডিভাইসের প্রকৃতি বোঝা সম্ভব।

আপনি যদি নিয়মিত ভ্রমণে যান, তবে ছোট ও পোর্টেবল ‘হিডেন ক্যামেরা ডিটেক্টর’ ডিভাইস সাথে রাখতে পারেন। এগুলো অনলাইনেই সহজলভ্য। এই ডিভাইসগুলো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা লেন্স রিফ্লেকশন ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে গোপন ক্যামেরা খুঁজে বের করতে সক্ষম।

সবশেষে, যদি আপনি কোনো রুমে সন্দেহজনক কিছু খুঁজে পান, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানান। আপনার নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা সবার আগে। সামান্য একটু সচেতনতা আপনার ছুটির দিনগুলোকে করতে পারে আরও নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ।


 শীতকালীন সবজিতে নতুন স্বাদ: জেনে নিন বাঁধাকপি ভর্তার সহজ রেসিপি 

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ২১:১৬:০৭
 শীতকালীন সবজিতে নতুন স্বাদ: জেনে নিন বাঁধাকপি ভর্তার সহজ রেসিপি 
ছবি : সংগৃহীত

শীতকালীন তাজা সবজিগুলোর মধ্যে বাঁধাকপির এক আলাদা আবেদন রয়েছে। এটি কেবল পুষ্টিগুণেই সমৃদ্ধ নয়, স্বাদের দিক থেকেও অনন্য। সাধারণ রান্নার বাইরে বাঁধাকপিকে আরও মুখরোচক করে তুলতে ‘বাঁধাকপি ভর্তা’ হতে পারে একটি চমৎকার বিকল্প। স্বল্প সময়ে এবং সহজলভ্য উপকরণে তৈরি এই ভর্তা ভাত, রুটি কিংবা পোলাও—যেকোনো খাবারের সঙ্গেই দারুণভাবে মানিয়ে যায়। যারা হালকা অথচ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই শীতকালীন ভর্তাটি ডাইনিং টেবিলে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

বাঁধাকপি: অর্ধেকটা (কুচি করা)

টমেটো: মাঝারি আকারের ২ টি

পেঁয়াজ কুচি: এক কাপ

রসুন কুচি: ৫-৬ কোয়া

শুকনো লাল মরিচ: ৪-৫ টি (ঝাল অনুযায়ী কম-বেশি হতে পারে)

ধনেপাতা কুচি: সামান্য পরিমাণে

সরিষার তেল: পরিমাণমতো

লবণ: স্বাদমতো

প্রস্তুত প্রণালি

১. সবজি প্রস্তুতি: প্রথমেই বাঁধাকপি কুচি করে কেটে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর সামান্য লবণ দিয়ে এটি সেদ্ধ করে নিতে হবে।

২. টমেটো ভাজা: চুলায় একটি প্যান বসিয়ে তাতে সামান্য তেল দিন। এবার মাঝারি আকারের টমেটো দুটি দিয়ে ভাজতে থাকুন। টমেটো সেদ্ধ হয়ে নরম হয়ে এলে এবং ভেতরের সবটুকু পানি শুকিয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। এরপর টমেটোর ওপরের পাতলা খোসাটি ছাড়িয়ে ফেলে দিন।

৩. মশলা প্রস্তুত: পুনরায় প্যানে অল্প তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি এবং শুকনো লাল মরিচ হালকা করে ভেজে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন পুড়ে না যায়, তবে হালকা ভাজা ঘ্রাণ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

৪. ভর্তা মাখানো: একটি বড় প্লেটে ভাজা পেঁয়াজ, রসুন ও শুকনো মরিচ নিন। এর সঙ্গে স্বাদমতো লবণ, সরিষার তেল এবং ধনেপাতা কুচি যোগ করুন। এবার আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখা বাঁধাকপি এবং ভাজা টমেটো দিয়ে সবকিছু হাত দিয়ে ভালোভাবে মেখে নিন।

ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল চমৎকার স্বাদের ও পুষ্টিকর বাঁধাকপি ভর্তা। গরম ভাতের সঙ্গে এটি পরিবেশন করলে শীতের দুপুরের খাবারে এক নতুন তৃপ্তি মিলবে।


ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সেরা ৪টি তেল 

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ২০:১৯:৫৮
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সেরা ৪টি তেল 
ছবি : সংগৃহীত

বার্ধক্য জীবনের একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে সময়ের ছাপ বা বলিরেখা যাতে ত্বকে অকালে প্রকাশ না পায়, সেজন্য সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু প্রাকৃতিক তেল ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধে জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। এই তেলগুলোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বয়সের ছাপ কমাতে সহায়তা করে।

জোজোবা তেল: সব ধরনের ত্বকের উপযোগী

জোজোবা তেলের গঠন অনেকটা ত্বকের প্রাকৃতিক সিবামের মতো হওয়ায় এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপকারী। এটি ত্বককে গভীরভাবে হাইড্রেট করে এবং ত্বকের তেল উৎপাদনের ভারসাম্য বজায় রাখে। এই তেলে প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান ভিটামিন ই অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে, যা প্রকারান্তরে ত্বকের বলিরেখা রোধে সাহায্য করে।

এসেনশিয়াল অয়েলের জাদুকরী গুণ

ল্যাভেন্ডার তেল: ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক মেরামতে কার্যকর।

রোজমেরি অয়েলে: ত্বকের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।

চন্দন তেল: এটি ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র ও সতেজ করে তোলে। তবে মনে রাখতে হবে, এসব তেল সরাসরি ত্বকে লাগানো ঠিক নয়। নারিকেল তেল বা অন্য কোনো ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে এগুলো ব্যবহার করা উত্তম।

অলিভ অয়েল শুধু রান্নার জন্যই নয়, ত্বকের যত্নেও অতুলনীয়। এতে থাকা পলিফেনল, বিশেষ করে ওলিওক্যান্থাল এবং ওলিএসিন ত্বকের বলিরেখা কমাতে এবং চেহারার শ্রী বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এটি ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজড রাখে।

ত্বকের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলোর একটি হলো ভিটামিন ই তেল। এটি ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে কোষ মেরামতে সহায়তা করে এবং অকাল বার্ধক্য রোধ করে। সাধারণত অন্য কোনো তেলের সঙ্গে মিশিয়ে এটি ব্যবহার করা হয় যা ত্বকের গভীর পুষ্টি জোগায়। রাতে ঘুমানোর আগে এই তেল ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো, কারণ রাতে এটি ত্বকে সম্পূর্ণভাবে শোষিত হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়।


৫ কেজি মটরশুঁটি ছাড়ানো যাবে মাত্র ৫ মিনিটে! জেনে নিন কার্যকরী পদ্ধতি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৯:৩২:৫১
৫ কেজি মটরশুঁটি ছাড়ানো যাবে মাত্র ৫ মিনিটে! জেনে নিন কার্যকরী পদ্ধতি
ছবি : সংগৃহীত

শীতের সকাল মানেই বাঙালির পাতে মটরশুঁটির কচুরি আর ঝাল ঝাল আলুর দম। খাবারের স্বাদ বাড়াতে মটরশুঁটির জুড়ি নেই। তা সে মাছের ঝোল হোক, ফুলকপির ডালনা, মুগের ডাল কিংবা পাঁচমিশালি সবজি— শীতকালীন যেকোনো রান্নাতেই মটরশুঁটি থাকা চাই-ই চাই। তবে এই সুস্বাদু সবজির খোসা ছাড়ানোর ঝক্কি সামলাতে গিয়ে অনেকেরই নাজেহাল অবস্থা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় হয় কেবল খোসা ছাড়াতেই। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটেই প্রায় ৫ কেজি মটরশুঁটির খোসা ছাড়িয়ে ফেলা সম্ভব।

মটরশুঁটি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এর রয়েছে অসামান্য স্বাস্থ্যগুণ। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ এই সবজি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও সুস্থ রাখতে দারুণ কার্যকর। তবে উপকারিতা থাকলেও এর খোসা ছাড়ানোর ভয়ে অনেকেই বাজার থেকে এটি খুব একটা কিনতে চান না।

দ্রুত খোসা ছাড়ানোর ৩টি সহজ ধাপ

প্রথমেই একটি বড় পাত্রে পানি গরম করে নিন। পানি ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে দিন। এবার পাত্রে মটরশুঁটিগুলো ফেলে দিয়ে একটি ঢাকনা দিয়ে ২ মিনিট ঢেকে রাখুন। মনে রাখবেন, খুব বেশি সময় ধরে গরম পানিতে রাখা যাবে না।

গরম পানি থেকে তুলে মটরশুঁটিগুলো সরাসরি বরফ-ঠান্ডা পানিতে ফেলে দিন। তাপমাত্রার এই হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে মটরশুঁটির খোসাগুলো মুহূর্তের মধ্যে আলগা হয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়াটি খোসাগুলোকে মটরশুঁটি থেকে আলাদা করতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে।

এবার ঠান্ডা পানি থেকে মটরশুঁটি তুলে নিন। একটি কাঁচি দিয়ে মটরশুঁটির মাথার দিকের অংশটি সামান্য কেটে দিন। এরপর পেছনের দিক থেকে আলতো করে চাপ দিলেই ভেতরের দানাগুলো অনায়াসেই বেরিয়ে আসবে।

এই সহজ উপায় অনুসরণ করলে শীতের রান্নায় মটরশুঁটি ব্যবহার হবে আরও সহজ এবং সময়সাশ্রয়ী।


পেঁপে কিনছেন? রাসায়নিকযুক্ত ফল চেনার সহজ কিছু উপায় জেনে নিন 

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১১:১৭:৫৮
পেঁপে কিনছেন? রাসায়নিকযুক্ত ফল চেনার সহজ কিছু উপায় জেনে নিন 
ছবি : সংগৃহীত

সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ফলমূল খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ফল কেনার সময় সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে পেঁপের মতো জনপ্রিয় ফল দ্রুত পাকানোর জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছে মারাত্মক সব ক্ষতিকর রাসায়নিক, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাসায়নিকের ভয়ংকর প্রভাব বাজারে প্রদর্শিত উজ্জ্বল রঙের এবং নিখুঁত আকৃতির পেঁপেগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয় হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে বিপজ্জনক রাসায়নিক। সংশ্লিষ্টদের মতে, পেঁপে দ্রুত পাকাতে অনেক সময় ‘ক্যালসিয়াম কার্বাইড’ ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক ফলকে বাইরে থেকে পাকা দেখালেও ফলের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এসব ফল নিয়মিত খেলে পেটের সমস্যা, বমি ভাব ও মাথা ঘোরার মতো তাৎক্ষণিক সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের মারাত্মক ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রাসায়নিকমুক্ত পেঁপে চেনার উপায় ভেজাল ও রাসায়নিকযুক্ত ফলের ভিড়ে প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপে চেনার জন্য বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু কৌশলের কথা জানিয়েছেন

রাসায়নিকভাবে পাকানো পেঁপে সাধারণত খুব উজ্জ্বল হলুদ বা গাঢ় কমলা রঙের হয় এবং এর গঠন প্রায় নিখুঁত লাগে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিকভাবে গাছে পাকা পেঁপেতে হালকা হলুদ, সবুজ ও কমলার মিশ্রণ থাকে এবং ফলের গায়ে কোথাও কোথাও স্বাভাবিক দাগ থাকতে পারে।

প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপেতে সতেজ ও মিষ্টি একটি সুগন্ধ থাকে। কিন্তু কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফলে অনেক সময় কোনো গন্ধই পাওয়া যায় না, অথবা অস্বাভাবিক রাসায়নিকের গন্ধ অনুভূত হয়। স্বাদের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা দেখা যায়; কেমিক্যালযুক্ত পেঁপে খাওয়ার সময় জিভে অস্বস্তি লাগতে পারে কিংবা এটি স্বাদে তেতো হতে পারে।

পেঁপে হাতে নিয়ে আলতো করে চাপ দিলে এর অবস্থা বোঝা যায়। রাসায়নিকযুক্ত পেঁপে বাইরে থেকে অতিরিক্ত নরম হয় এবং চাপ দিলে আঙুলের দাগ বসে যায়। বিপরীতে, স্বাভাবিকভাবে পাকা পেঁপে কিছুটা শক্ত থাকে এবং চাপ দিলে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল ফল এখন একটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তাই কেবল ফলের উজ্জ্বল রং বা দাম দেখে আকৃষ্ট না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। তারা সাধারণ ক্রেতাদের প্রতি মৌসুমি ফল কেনা, অতিরিক্ত চকচকে ও নিখুঁত ফল এড়িয়ে চলা এবং খাওয়ার আগে ফল খুব ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে সচেতনতাই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


হিটার ছাড়াই ঘর থাকবে আগুনের মতো গরম; জানুন ৫টি জাদুকরী কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ২০:৫১:১৩
হিটার ছাড়াই ঘর থাকবে আগুনের মতো গরম; জানুন ৫টি জাদুকরী কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

শীতের তীব্রতায় ঘর ঠান্ডা হয়ে পড়লে বয়স্করা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু ইলেকট্রিক হিটার ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়, যা শ্বাসকষ্ট বা ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে। আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু সাধারণ কৌশল অবলম্বন করলে হিটার ছাড়াই আপনার ঘরকে আরামদায়ক ও উষ্ণ রাখা সম্ভব।

প্রাকৃতিকভাবে ঘর গরম রাখার সবথেকে বড় উৎস হলো সূর্যের আলো। সকালে রোদ উঠলেই জানালার পর্দা সরিয়ে দিন যাতে সরাসরি আলো ঘরে ঢোকে। এতে ঘরের দেয়াল ও মেঝে তাপ শোষণ করে উষ্ণ হয়ে ওঠে। দুপুরের পর রোদ কমে গেলে দ্রুত জানালা-পর্দা বন্ধ করে দিন যাতে ভেতরের তাপ বাইরে যেতে না পারে। এছাড়া দরজার নিচে বা জানালার পাশে ছোট ছোট ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে। এই ফাঁকগুলোতে পুরোনো তোয়ালে বা মোটা কাপড় গুঁজে দিলে ঘরের তাপমাত্রা বজায় থাকে।

শীতকালে মেঝে থেকে সবথেকে বেশি ঠান্ডা উঠে আসে। তাই খালি মেঝেতে পা না রেখে মোটা গালিচা বা পাটের মাদুর ব্যবহার করা উচিত। এটি আপনার পায়ের তলা উষ্ণ রাখার পাশাপাশি ঘরের সামগ্রিক তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। একইভাবে বিছানা উষ্ণ রাখতে মোটা চাদর বা কম্বলের স্তর তৈরি করুন। অনেকগুলো পাতলা স্তরের চেয়ে একটি মোটা স্তর শরীরের উষ্ণতা বাইরে যেতে বাধা দেয় এবং বাইরের ঠান্ডা বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারে না।

রান্না করার সময় যে গ্যাস বা আগুনের উষ্ণতা তৈরি হয়, তা দিয়ে পুরো বাড়ি কিছুটা গরম রাখা সম্ভব। রান্নার সময় রান্নাঘরের জানালা বন্ধ রেখে ঘরের দরজা খুলে দিলে সেই উষ্ণতা সহজেই শোবার ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছোট ছোট কৌশলগুলো শুধু খরচই বাঁচায় না, বরং প্রাকৃতিকভাবে ঘরকে উষ্ণ রেখে বয়স্কদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। ২০২৬ সালের এই হাড়কাঁপানো শীতে হিটারের বিকল্প হিসেবে এই পদ্ধতিগুলোই হতে পারে সবথেকে নিরাপদ সমাধান।


পরিমিত খেয়েও খেয়েও কমছে না ওজন যে সমাধান দিলেন চিকিৎসক

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১১:৩৫:১৬
পরিমিত খেয়েও খেয়েও কমছে না ওজন যে সমাধান দিলেন চিকিৎসক
ছবি : সংগৃহীত

অনেকেই ভাজাপোড়া খাবার বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলছেন কিন্তু ওজন কমার বদলে মেদ বাড়ছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক বিশাল খুরানার মতে এর প্রধান কারণ হতে পারে শরীরে উচ্চমাত্রার কর্টিসল হরমোন। অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এই হরমোন মূলত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় সক্রিয় হয় বলে একে স্ট্রেস হরমোন বলা হয়। যদি আপনার কর্টিসলের মাত্রা প্রতিনিয়ত বেশি থাকে তবে উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি মেজাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মন শান্ত না রাখলে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় না এবং পেটে বাড়তি মেদ জমার প্রবণতা অনেক গুণ বেড়ে যায়।

পুষ্টিবিদদের মতে আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস যেমন দুর্ঘটনার নেতিবাচক খবর পড়া অথবা ঘুমের অভাব নিঃশব্দে কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এমনকি সম্পর্কের টানাপোড়েন অথবা অতিরিক্ত শরীরচর্চাও এই হরমোনের ভারসাম্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। কর্টিসল যখন বেড়ে যায় তখন এটি পেশির ক্ষতি করতে শুরু করে এবং শরীরে দীর্ঘমেয়াদী চর্বি জমার প্রক্রিয়া সহজ করে দেয়। এই সমস্যা সমাধানে ডায়েটে প্রোটিন ও ফাইবারের সঠিক সমন্বয় থাকা জরুরি। ওটস ও ব্রাউন রাইসের মতো আঁশযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণে দারুণ সহায়তা করে।

তাটকা সবজি এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল দুশ্চিন্তা কমাতে এবং হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পেশির ক্ষয় রোধে ডাল এবং পনির বা ডিমের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। এছাড়া আখরোট ও কাঠবাদামের মতো বাদামে থাকা ম্যাগনেশিয়াম মস্তিষ্ক এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে যা পরোক্ষভাবে কর্টিসলের ওপর প্রভাব ফেলে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত ক্যাফিন বা চিনি এড়িয়ে চললে হরমোনের ওঠাপড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর ডায়েটের সাথে মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে পারলে মেদ কমানোর যাত্রা সফল হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত