রোজায় ওজন কমাতে চান? ইফতারে কলা খাওয়ার ৫টি দারুণ কারণ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৭:২৫:৪৭
রোজায় ওজন কমাতে চান? ইফতারে কলা খাওয়ার ৫টি দারুণ কারণ
ছবি : সংগৃহীত

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় আমাদের শরীর থাকে পরিশ্রান্ত এবং পুষ্টির ক্ষুধায় কাতর। এই সময় পেট খালি থাকায় ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিক ও হজমের সমস্যা অবধারিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে এবং পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে সবথেকে সহজলভ্য ও কার্যকরী খাবার হলো কলা। আজ ৬ রমজান (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), ইফতারের টেবিলে কেন নিয়মিত কলা রাখা জরুরি, তার বিশেষ কিছু কারণ নিচে তুলে ধরা হলো।

১. দ্রুত শক্তির সঞ্চার

সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে ক্লান্তি আসে, তা দূর করতে কলার বিকল্প নেই। কলায় থাকা মিনারেল ও ভিটামিন খুব দ্রুত রক্তে মিশে গিয়ে শরীরে শক্তির জোগান দেয়।

২. হজম ও পেট পরিষ্কার

একটি মাঝারি মাপের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। এটি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। যারা রোজায় অ্যাসিডিটিতে ভোগেন, তাদের জন্য কলা অত্যন্ত উপকারি।

৩. হাড় ও হার্টের সুরক্ষা

একটি কলায় প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে, যা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া কলায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের ক্ষয় রোধ করে হাড়কে মজবুত রাখতে সহায়তা করে।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও রক্তের শর্করা

কলায় ক্যালোরি কম থাকে এবং এতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার রক্তের শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। যারা রোজায় ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য ইফতারে কলা হতে পারে আদর্শ একটি ফল।

সহজলভ্য এই ফলটি প্রতিদিন ইফতারে রাখলে তা যেমন শরীরের পানিশূন্যতা ও খনিজ লবণের ঘাটতি মেটাবে, তেমনি আপনাকে রাখবে সারাদিন সতেজ ও প্রাণবন্ত।

সূত্র: হেলথলাইন


ইফতারে প্রশান্তি! মাত্র কয়েক মিনিটে তৈরি করুন তরমুজের বিশেষ শরবত

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৭:১০:২০
ইফতারে প্রশান্তি! মাত্র কয়েক মিনিটে তৈরি করুন তরমুজের বিশেষ শরবত
ছবি : সংগৃহীত

সারাদিন রোজা রাখার পর এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। বর্তমানে বাজারে তরমুজ প্রায় সারাবছরই মিলছে। ইফতারের টেবিলে ভিন্নতা আর সতেজতা আনতে আপনি অনায়াসেই তৈরি করতে পারেন তরমুজের শরবত। রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তার দেওয়া সহজ এই রেসিপিটি ব্যবহার করে খুব অল্প সময়েই ঘরে এটি প্রস্তুত করা সম্ভব।

উপকরণ

তরমুজ (বীচিসহ ২ কাপ), এক চিমটি বিট লবণ, এক চিমটি গোল মরিচ গুঁড়া, ২ চা চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ চিনি (স্বাদমতো), ৫-৬টি পুদিনা পাতা এবং প্রয়োজনমতো বরফ কুচি (আইস কিউব)।

প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমে তরমুজের খোসা ফেলে দিয়ে গ্রেট করে নিন এবং একটি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে রস আলাদা করুন। এবার এই রসের সাথে বিট লবণ, সাদা গোল মরিচ গুঁড়া, লেবুর রস, চিনি ও পুদিনা পাতা মিশিয়ে নিন। স্বাদ আরও বাড়াতে ব্লেন্ডারে হালকা ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। সবশেষে গ্লাসে ঢেলে বরফ কুচি আর উপরে সতেজ পুদিনা পাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

তরমুজে থাকা প্রচুর পরিমাণ পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে এবং লেবু ও পুদিনার মিশ্রণ নিমিষেই ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইফতারের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে এই স্বাস্থ্যকর পানীয়টি হতে পারে সেরা অনুষঙ্গ।

/আশিক


ইফতারে ছোলার স্বাদ বাড়াতে চান? ট্রাই করুন এই বিশেষ সিক্রেট রেসিপি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১১:৩২:০১
ইফতারে ছোলার স্বাদ বাড়াতে চান? ট্রাই করুন এই বিশেষ সিক্রেট রেসিপি
ছবি : সংগৃহীত

রমজান মাসে ইফতারের দস্তরখানে ছোলার উপস্থিতি অনেকটা অপরিহার্য। প্রতিদিনের একই স্বাদের ছোলা ভুনার বদলে সামান্য রান্নার কৌশলে বদল আনলে এটি হয়ে উঠতে পারে আরও বেশি মুখরোচক। বিশেষ করে আলুর মাখা মাখা ভাব আর মশলার সঠিক সংমিশ্রণ ছোলাকে ইফতারের সেরা পদে পরিণত করে। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), ৬ রমজানে ঘরোয়া পদ্ধতিতে মজাদার ছোলা ভুনার একটি সহজ রেসিপি নিচে তুলে ধরা হলো।

উপকরণ

পরিমাণমতো ছোলা (১ কাপ), একটি সিদ্ধ আলু, আধা কাপ পেঁয়াজ কুচি, আদা ও রসুন বাটা (১ চা-চামচ করে), হলুদ, মরিচ, ধনে ও জিরা গুঁড়া এবং স্বাদমতো লবণ ও তেল।

প্রস্তুত প্রণালি

রান্নার অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা আগে ছোলা ভিজিয়ে রেখে ভালো করে ধুয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর একটি প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি বাদামি করে ভেজে আদা-রসুন বাটা দিন। রেসিপিটির আসল বিশেষত্ব হলো সিদ্ধ আলু চটকে মশলার সাথে কষিয়ে নেওয়া, যা ঝোলকে করবে ঘন ও মাখা মাখা। সব মশলা দিয়ে পানি যোগ করে কষানোর পর সিদ্ধ ছোলা দিয়ে ১০ মিনিট রান্না করুন। ঝোল কমে এলে নামিয়ে নিন। পরিবেশনের সময় উপরে পেঁয়াজ বেরেস্তা ও ভাজা শুকনা মরিচ ছিটিয়ে দিলে এটি দেখতে যেমন চমৎকার হবে, খেতেও হবে অতুলনীয়।

সালাদ আর গরম মুড়ির সাথে এই ঘরোয়া ছোলা ভুনা যেমন পুষ্টিকর, তেমনি দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখার পর শরীরের ক্লান্তি দূর করতেও সহায়ক। সাধারণ রান্নায় একটু যত্ন যোগ করলেই ইফতারের টেবিল হয়ে ওঠে আনন্দময়।

/আশিক


সেহরি না কি ইফতার? রমজানে চিয়া সিড খাওয়ার সেরা সময় কোনটি?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৯:২২:৩৪
সেহরি না কি ইফতার? রমজানে চিয়া সিড খাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
ছবি : সংগৃহীত

রমজানে সারাদিন না খেয়ে থাকার পর শরীরকে চনমনে রাখতে এবং হজমের সমস্যা দূর করতে চিয়া সিড হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। তবে এটি খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। পুষ্টিবিদদের মতে, চিয়া সিড সেহরি এবং ইফতার—উভয় সময়েই খাওয়া যায়, তবে ইফতারে খাওয়াটা অধিকাংশ মানুষের জন্য বেশি কার্যকর। কারণ, ইফতারে এটি খেলে সারাদিনের পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন দ্রুত পূরণ হয় এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়ার ক্রেভিং কমিয়ে দেয়।

সেহরিতে চিয়া সিড

সেহরির অন্তত ২০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানিতে ভেজানো চিয়া সিড খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, যা রোজা রাখা সহজ করে। এছাড়া যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য সেহরিতে এটি খুবই উপকারী। তবে মনে রাখতে হবে, চিয়া সিড কোনো পূর্ণাঙ্গ খাবার নয়। তাই সেহরিতে ডিম, ডাল বা ভাতের মতো সুষম খাবারের পাশাপাশি এটি রাখা উচিত।

ইফতারে চিয়া সিড

ইফতারে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। এটি শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। লাচ্ছি, টক দই বা ফলের সালাদের সাথে অন্তত আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড মিশিয়ে খেলে ইফতারের পুষ্টিগুণ বহুগুণ বেড়ে যায়। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তারা ইফতারে চিয়া সিড খেলে পেট দ্রুত ভরে যায় বলে অন্যান্য ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে আসে। মোট কথা, সুস্থ থাকতে আপনার রমজানের ডায়েট চার্টে এই সুপারফুডটি অনায়াসেই যোগ করতে পারেন।

/আশিক


ইফতারের পর প্রথম টানই হতে পারে শেষ টান! জেনে নিন বিজ্ঞান কী বলে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৯:১৫:১৮
ইফতারের পর প্রথম টানই হতে পারে শেষ টান! জেনে নিন বিজ্ঞান কী বলে
ছবি : সংগৃহীত

সারাদিন রোজা রাখার পর এক গ্লাস শরবত বা খেজুর দিয়ে ইফতার না করে যারা প্রথমেই সিগারেটে টান দেন, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ বিপদ। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরে যখন পুষ্টি ও অক্সিজেনের তীব্র চাহিদা থাকে, ঠিক সেই মুহূর্তে সিগারেটের বিষাক্ত ধোঁয়া শরীরে প্রবেশ করলে তা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ক্ষতি করে। বিশেষ করে ইফতারের পরপরই ধূমপান করলে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যায় এবং রক্তনালী সংকুচিত হয়ে পড়ে, যা সরাসরি হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, খালি পেটে নিকোটিন গ্রহণ করলে হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এছাড়া সিগারেটের কার্বন মনোক্সাইড রক্তে মিশে অক্সিজেন চলাচলে বাধা দেয়, ফলে শরীরের কোষগুলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না। এতে মাথা ঘোরা, বমিভাব বা সাময়িক চেতনা হারানোর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘নিকোটিন রাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুধু তাই নয়, ইফতারের পর ধূমপান পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দিয়ে তীব্র গ্যাস্ট্রিক ও অম্বলের সমস্যা তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, রমজান মাস হতে পারে ধূমপান ছাড়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ। ইফতারের পর শরীর যখন নিজেকে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করে, তখন বিষাক্ত নিকোটিন না দিয়ে পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। এবারের রমজানকে কেবল আধ্যাত্মিক উন্নতির মাস নয়, বরং একটি সুস্থ ও ধূমপানমুক্ত জীবন শুরুর মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

/আশিক


ইফতারের পরই মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির ৫টি সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৯:৩৯:৪৭
ইফতারের পরই মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির ৫টি সহজ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তটি প্রশান্তির হলেও অনেকের ক্ষেত্রেই তা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ইফতারের কিছুক্ষণ পরই শুরু হওয়া মাথাব্যথা ইবাদত ও বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটায়। এর প্রধান কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া বা ‘লো ব্লাড সুগার’কে দায়ী করেন।

এছাড়াও সারাদিন পানি পান না করায় শরীরে যে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়, তা মাথাব্যথাকে আরও তীব্র করে তোলে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত চা বা কফিতে অভ্যস্ত, তাদের শরীরে ক্যাফেইনের ঘাটতি বা ‘ক্যাফেইন উইথড্রয়াল’ মাথাব্যথার একটি বড় কারণ। পাশাপাশি ইফতারের টেবিলে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, তেল-চর্বিযুক্ত এবং মশলাদার খাবার হঠাৎ বেশি পরিমাণে খেলে পরিপাকতন্ত্রে চাপ পড়ে, যা মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ সাময়িকভাবে কমিয়ে দিয়ে যন্ত্রণার সৃষ্টি করে।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ইফতারের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। ইফতার শুরু করা উচিত পানি ও খেজুর দিয়ে এবং একসাথে বেশি না খেয়ে ধীরে ধীরে পরিমিত খাবার গ্রহণ করা উচিত। এতে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময় ভাগ করে পর্যাপ্ত পানি, লেবুর শরবত বা ডাবের পানি পান করতে হবে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এবং ভাজাপোড়া কমিয়ে ফল, সালাদ ও স্যুপ জাতীয় হালকা খাবার প্রাধান্য দিলে মাথাব্যথার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়। এছাড়া রমজানে ঘুমের সময়সূচি বদলে যাওয়ার কারণে যে ঘুমের ঘাটতি হয়, তা পূরণে দৈনিক অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

যাদের আগে থেকেই মাইগ্রেন, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তারা এই সময় বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। মাথাব্যথা শুরু হলে অন্ধকার ও শান্ত পরিবেশে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া বা কপালে ঠান্ডা পানির কাপড় রাখা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে যদি ব্যথা তীব্র হয় এবং এর সাথে বমি বা দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং জীবনযাপনে সংযম বজায় রাখলেই ইফতারের আনন্দকে ব্যথামুক্ত রাখা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, সচেতনতাই সুস্থ শরীরে ইবাদত করার মূল চাবিকাঠি।

/আশিক


ডায়াবেটিস নিয়েও সুস্থভাবে রোজা: সেহরি ও ইফতারের পূর্ণাঙ্গ গাইড

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১১:৩৮:৪৪
ডায়াবেটিস নিয়েও সুস্থভাবে রোজা: সেহরি ও ইফতারের পূর্ণাঙ্গ গাইড
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসে ডায়াবেটিক রোগীদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা এবং সচেতনতা প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে চললে যেকোনো শারীরিক অসুস্থতা এড়িয়ে সুস্থভাবে ইবাদত সম্পন্ন করা সম্ভব। বিশেষ করে সেহরি ও ইফতারে খাবারের সঠিক নির্বাচন এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। সেহরি একদম শেষ সময়ের কাছাকাছি সময়ে করা বুদ্ধিমানের কাজ; এতে সারা দিন শরীর যেমন কম ক্লান্ত হবে, তেমনি রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকিও কম থাকবে। সেহরিতে খাবারের তালিকায় সাদা চালের বদলে লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি বা ওটস রাখা ভালো। এর পাশাপাশি প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মাছ, মাংস, ডাল এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য প্রচুর শাকসবজি রাখা উচিত। সম্ভব হলে এক গ্লাস দুধ সেহরির ডায়েটে যুক্ত করা যেতে পারে।

ইফতারের শুরুতে সুন্নাহ মেনে একটি খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা যেতে পারে, তবে যাদের কিডনি সমস্যা রয়েছে তাদের খেজুর এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া যেমন—বেগুনি বা চপ জাতীয় খাবার এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো রক্তে চিনির মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে চিড়া, মুড়ি, টক দই বা ডাবের পানি ডায়েটে রাখা যেতে পারে। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা রোধে ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি যাতে শরীরে খনিজের ভারসাম্য বজায় থাকে।

ওষুধ ও শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রেও ডায়াবেটিক রোগীদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। রোজার সময় নিয়মিত গ্লুকোমিটার দিয়ে রক্তে সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত; যদি মাত্রা খুব বেশি বা কম মনে হয়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। রোজা শুরুর আগেই ইনসুলিন বা ওষুধের ডোজ এবং সময় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সাধারণত দিনের বেলার বা সকালের ওষুধ ইফতারে এবং রাতের ওষুধ সেহরিতে সমন্বয় করে দেওয়া হয়। শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, দীর্ঘ সময় নিয়ে তারাবিহর নামাজ পড়লে আলাদা করে আর কোনো ব্যায়ামের প্রয়োজন হয় না। রোজা রেখে খুব বেশি পরিশ্রমের কাজ না করাই ভালো। তবে যদি রক্তে সুগারের মাত্রা অস্বাভাবিক কমে যায় বা শরীর খুব বেশি খারাপ লাগে, তবে দেরি না করে রোজা ভেঙে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রাণরক্ষায় জরুরি।

/আশিক


ইফতারে এনার্জি বাড়াতে তৈরি করুন কলা ও পিনাট বাটারের স্পেশাল শেক

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৬:৩৬:২৬
ইফতারে এনার্জি বাড়াতে তৈরি করুন কলা ও পিনাট বাটারের স্পেশাল শেক
ছবি : সংগৃহীত

শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে নানা স্বাদের শরবত তো থাকেই, তবে এর পাশাপাশি শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে আপনি তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু কলা পিনাট বাটার শেক। এটি শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টিও জোগাবে। এই স্বাস্থ্যকর পানীয়টি তৈরি করাও বেশ সহজ এবং হাতের নাগালে থাকা উপকরণ দিয়েই এটি ঝটপট প্রস্তুত করা সম্ভব।

এই বিশেষ শেকটি তৈরি করতে আপনার প্রয়োজন হবে ২টি পাকা কলা, ২ কাপ তরল দুধ, আধা কাপ পিনাট বাটার, ২ টেবিল চামচ মধু এবং ২ কাপ আইস কিউব বা বরফ কুচি। পিনাট বাটার প্রোটিনের একটি ভালো উৎস এবং কলা পটাশিয়ামের যোগান দেয়, যা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

প্রস্তুত প্রণালি অত্যন্ত সহজ। প্রথমে সবগুলি উপকরণ অর্থাৎ কলা, দুধ, পিনাট বাটার, মধু এবং বরফ কিউব একসঙ্গে একটি ব্লেন্ডারে নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। মিশ্রণটি যখন একদম মসৃণ হয়ে আসবে, তখন গ্লাসে ঢেলে উপর দিয়ে অতিরিক্ত কিছু বরফ কুচি ছড়িয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন। এই পানীয়টি আপনার ইফতারে যেমন ভিন্ন স্বাদ আনবে, তেমনি শরীরকে রাখবে দীর্ঘক্ষণ সতেজ।

/আশিক


লেবু সিন্ডিকেটকে না বলুন: বিকল্পেই মিলবে সমান ভিটামিন ও পুষ্টি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১২:৪৯:১২
লেবু সিন্ডিকেটকে না বলুন: বিকল্পেই মিলবে সমান ভিটামিন ও পুষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

রমজান মানেই ইফতারে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত। আর সেই শরবতের প্রাণ হলো লেবু। কিন্তু রমজানের শুরুতেই যখন প্রতি পিস লেবুর দাম ২৫–৩০ টাকায় পৌঁছে যায়, তখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য এটি প্রায় বিলাসপণ্যে পরিণত হয়। প্রতিদিনের ইফতারে লেবু ব্যবহার করা তখন অনেকের পক্ষেই অসম্ভব। কিন্তু প্রশ্ন হলো লেবু ছাড়া কি ইফতার অসম্পূর্ণ? একদমই নয়। বরং একটু সচেতন পরিকল্পনা আর বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে ইফতারকে আরও পুষ্টিকর, বৈচিত্র্যময় ও সাশ্রয়ী করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক লেবুর বিকল্প হিসেবে কী কী খাওয়া যেতে পারে এবং সেগুলো কীভাবে স্বাস্থ্যকরভাবে ইফতারে যুক্ত করা যায়।

টক স্বাদের জন্য তেঁতুল হতে পারে একটি চমৎকার সমাধান। তেঁতুল দিয়ে শরবত বা চাটনি দুটিই ইফতারের সঙ্গে মানানসই। তেঁতুলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও হালকা ল্যাক্সেটিভ উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক এবং হজমে বড় ভূমিকা রাখে। লেবুর মতো সরাসরি শরবতে ব্যবহার না করলেও, টমেটো দিয়ে টক স্বাদ আনা যায় অনেক পদে। টমেটোর ভিটামিন সি ও লাইকোপেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ইফতারের সময় সালাদে বা স্যুপে টমেটো ব্যবহার করে টক স্বাদ আনা সম্ভব। এছাড়া যদি লেবুর দাম বেশি হয়, তখন মৌসুমি অন্যান্য টক ফলের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। কমলালেবু বা মাল্টা দিয়ে শরবত তৈরি করলে স্বাদে ভিন্নতা আসে। আবার রান্নার সাদা ভিনেগার বা আপেল সিডার ভিনেগার অল্প পরিমাণে ব্যবহার করে সালাদে টক স্বাদ আনা যায়। তবে ভিনেগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবসময় পানি মিশিয়ে সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে।

লেবুর বিকল্প হিসেবে দই হতে পারে সবচেয়ে পুষ্টিকর উপায়। দইয়ের প্রোবায়োটিক হজমে সহায়ক এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর পেটের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। ইফতারের জন্য টক দই দিয়ে লাচ্ছি, বোরহানি বা ঘোল তৈরি করা যেতে পারে। আবার বাজারে এখন কাঁচা আমের আগমন ঘটছে, যা লেবুর চমৎকার বিকল্প। কাঁচা আম কুচি করে লবণ-চিনি দিয়ে শরবত বা ডাল-সালাদে ব্যবহার করলে টক স্বাদ ও ভিটামিন সি উভয়ই পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি বেলের শরবত পেট ঠান্ডা রাখে এবং আনারসের শরবত সতেজতা আনে ও প্রাকৃতিক মিষ্টতা দেয়।

আসলে পুষ্টির ভারসাম্যই মূল কথা। লেবু মূলত ভিটামিন সি-এর উৎস, যা কাঁচা আম, পেয়ারা, কমলালেবু, এমনকি কাঁচা মরিচেও পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। অর্থাৎ লেবু না থাকলেও পুষ্টির ঘাটতি হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। রমজান আত্মসংযমের মাস। বাজারের বাড়তি দামের চাপ একটু সচেতনতা ও সৃজনশীলতায় অনেকটাই কমানো যায়। লেবুর দাম বাড়লেও নতুন স্বাদ ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে ইফতারকে আরও বৈচিত্র্যময় করা সম্ভব, কারণ রমজানের আসল শিক্ষা শুধু ভোগে নয়; সংযমে ও বুদ্ধিমত্তায়।


রোজায় ক্লান্তিবোধ কমবে নিমিষেই: শক্তি ধরে রাখার ৪টি সেরা কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১২:০২:০০
রোজায় ক্লান্তিবোধ কমবে নিমিষেই: শক্তি ধরে রাখার ৪টি সেরা কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

রোজা রাখার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকলেও শরীর ক্লান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে পুরো রমজানজুড়ে আপনি সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে পারবেন। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে ক্লান্তিবোধ কমে আসবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় শক্তি ধরে রাখতে কী করবেন-

সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খান

সুষম সেহরি দিনের বেলায় রোজার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি হজমকে আরও মসৃণ করে তুলবে। জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও শাক-সবজির মিশ্রণ শরীরকে টিকিয়ে রাখবে। লবণাক্ত বা গভীর ভাজা খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করুন। হোল গ্রেইন রুটি, বাদামি চাল, ডিম, অ্যাভোকাডো, পনির এবং কলা বেছে নিন। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন যাতে শরীরে সারাদিন আর্দ্রতা বজায় থাকে।

মৃদু ব্যায়াম

শরীর যখন রোজার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন প্রথম কয়েক দিন শক্তির মাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে। এটিকে সামঞ্জস্য করার জন্য, আপনার দিনের রুটিনের মধ্যে মৃদু কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করুন। কয়েক মিনিট স্ট্রেচিং, অল্প হাঁটা, অথবা কিছু সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনাকে পুনরুজ্জীবিত এবং সতেজ করতে সাহায্য করবে। তবে মনে রাখবেন, ব্যায়াম যেন খুব ভারী না হয় যাতে শরীর অতিরিক্ত পানিশূন্য হয়ে পড়ে।

ঘুমের সময়সূচী ঠিক রাখুন

ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার একত্রিত হওয়ার সময় হলো রমজান মাস। ইফতার, নামাজ, সেহরি সবকিছু মিলিয়ে রাতে ঘুমের সময়ে পরিবর্তন আসে। শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া সতেজ থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত। যদি সম্ভব হয়, আগে আগে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন, অথবা সম্ভব হলে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম আপনার মস্তিষ্ক ও শরীরকে দিনের বেলার ধকল সইতে সাহায্য করবে।

ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন

তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রোজায় পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দিনের বেলা ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনিং সমৃদ্ধ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন, সেইসঙ্গে সম্ভব হলে সরাসরি রোদ বা তাপ থেকে দূরে থাকুন। তীব্র পানিশূন্যতা এড়াতে নিজের ও প্রিয়জনদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। শরীরে চরম পানিশূন্যতার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: