৭ বারের আফ্রিকা সেরা মিসরের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা: সতর্ক স্কালোনি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ২০:২৫:৩৫
৭ বারের আফ্রিকা সেরা মিসরের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা: সতর্ক স্কালোনি
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেভারিট আর্জেন্টিনা এবং আফ্রিকান ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তি মিসর। পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বেশ এগিয়ে থাকলেও, মিসরের গৌরবময় ফুটবল ইতিহাস ফারাওদের মোটেও ছোট করে দেখার সুযোগ দিচ্ছে না। আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে (AFCON) মিসরের অবিশ্বাস্য সাফল্য ও রেকর্ড আলবিসেলেস্তে শিবিরের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। এমনকি আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও ম্যাচটির আগে মিসরকে নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন।

ফুটবল ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, আফ্রিকান কাপ অব নেশনস টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে সফলতম ও অপ্রতিরোধ্য দলটির নাম মিসর। ফুটবলের মহাদেশীয় এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মরক্কো, নাইজেরিয়া কিংবা সেনেগালের মতো মহাশক্তিগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা সর্বোচ্চ ৭ বার (১৯৫৭, ১৯৫৯, ১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০০৮ ও ২০১০ সালে) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছে। এই রেকর্ড আজ পর্যন্ত মহাদেশটির আর কোনো দেশ ভাঙতে পারেনি। শুধু তা-ই নয়, ২০০৬, ২০০৮ এবং ২০১০ সালে টানা তিনবার মহাদেশীয় এই শিরোপা নিজেদের শোকেসে পুরে ফুটবল বিশ্বে এক অনন্য ও দুর্ভেদ্য রেকর্ড গড়ে ফারাওরা।

আন্তর্জাতিক ফুটবলেও আরব ও আফ্রিকান অঞ্চলের ফুটবলের পথপ্রদর্শক এই মিসর। আজ থেকে প্রায় শতবর্ষ আগে, ১৯৩৪ সালে ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার গৌরব অর্জন করেছিল তারা। ঐতিহাসিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ ৯ নম্বরে উঠে এসেছিল ফারাওরা, যা তাদের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ এবং অন্যতম সেরা র‍্যাঙ্কিং অবস্থান।

মিসরের ফুটবলের এই সোনালী পথচলা সমৃদ্ধ হয়েছে যুগে যুগে আসা বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ফুটবলারের হাত ধরে। আধুনিক ফুটবল বিশ্বে মিসরকে এককভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা মহাতারকা মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুলের হয়ে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে রাজত্ব করার পাশাপাশি জাতীয় দলের মূল ভরসাও তিনি।

এছাড়া মিসরের সোনালী প্রজন্মের অন্যতম সেরা দুই কাণ্ডারি আহমদ হোসেন এবং কিংবদন্তি গোলরক্ষক এসাম এল হাদারিদের মতো তারকারা দেশটির ফুটবলকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। ফলে আজ রাতের মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামের নকআউট লড়াইয়ে নামার আগে মাঠের লড়াইয়ে স্কালোনির শিষ্যদের কড়া পরীক্ষার মুখেই পড়তে হবে।

/আশিক


বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিশ্চিত ৬ পরাশক্তি, কার সামনে কোন প্রতিপক্ষ?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ২০:০২:৩৮
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিশ্চিত ৬ পরাশক্তি, কার সামনে কোন প্রতিপক্ষ?
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহানাটকীয়তায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ গোলে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। ম্যাচের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে (ইনজুরি টাইম) দুর্দান্ত এক গোল করে স্পেনের এই মহাকাব্যিক জয়ের একমাত্র নায়ক বনে যান বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা তারকা মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর আগামী ১০ জুলাই সেমিফাইনালে ওঠার মরণপণ লড়াইয়ে মাঠে নামবে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

পর্তুগালকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল ফিক্সচার বা ছক অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে শক্তিশালী বেলজিয়াম। সেমিফাইনালে ওঠার হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে সদ্য শেষ আট নিশ্চিত করা স্পেন ও ‘রেড ডেভিলস’ বেলজিয়াম। আগামী ১১ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত সোফাই স্টেডিয়ামে (SoFi Stadium) এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বকাপের এবারের আসরে এখন পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে পরাশক্তিগুলো। শেষ আটের অন্য ব্লকবাস্টার ম্যাচগুলোর রোমাঞ্চকর সমীকরণ দেওয়া হলো

১. ফ্রান্স বনাম মরক্কো

নকআউট পর্বের চরম উত্তেজনাকর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোল ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে গতবারের রানার্সআপ ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে আফ্রিকান জায়ান্ট মরক্কোকে।

২. ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে

সেমিফাইনালে ওঠার অন্য এক হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পরস্পরের বিপক্ষে ইউরোপীয় দ্বৈরথে মুখোমুখি হচ্ছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড ও জায়ান্ট কিলার নরওয়ে।

৩. স্পেন বনাম বেলজিয়াম

পর্তুগালকে কাঁদিয়ে বিদায় করা স্প্যানিশ আর্মাডারা মুখোমুখি হবে ছন্দে থাকা বেলজিয়ামের।

বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি জয়ের লড়াই এখন একেবারে চূড়ান্ত ও অন্তিম পর্যায়ে। আজ রাতের বাকি থাকা ম্যাচগুলোর ফলাফল নির্ধারণের শেষেই সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে যাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত শেষ আটের পূর্ণাঙ্গ ও জাঁকজমকপূর্ণ লাইনআপ।

/আশিক


বাবা হিসেবে সবকিছু আবারও করতে প্রস্তুত: ভেঙে পড়া নেইমারকে বাবার আবেগঘন চিঠি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১৮:৪৩:০৮
বাবা হিসেবে সবকিছু আবারও করতে প্রস্তুত: ভেঙে পড়া নেইমারকে বাবার আবেগঘন চিঠি
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নকআউট পর্ব থেকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের আকস্মিক ও বেদনাদায়ক বিদায়ের পর ফুটবল বিশ্বে নেমে এসেছে স্তব্ধতা। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর মাঠের বুকেই কান্না ধরে রাখতে পারেননি কোটি ভক্তের প্রিয় মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ম্যাচ শেষে চরম হতাশায় জাতীয় দলের হয়ে আর কখনোই মাঠে না খেলার ইঙ্গিতপূর্ণ ঘোষণাও দেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। ব্রাজিলের এই হৃদয়বিদারক বিদায় এবং নেইমারের অবসরের গুঞ্জনের ঠিক একদিন পর, ছেলেকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অত্যন্ত আবেগঘন ও দীর্ঘ খোলা চিঠি লিখেছেন তাঁর বাবা নেইমার সিনিয়র।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে (Instagram) দেওয়া ওই দীর্ঘ পোস্টে নেইমার সিনিয়র ছেলের শৈশবের ফুটবলজীবনের শুরু থেকে বর্তমান বিশ্বসেরা অ্যাথলেট হয়ে ওঠার নানা চড়াই-উতরাই ও স্মৃতিচারণ করেন। একই সঙ্গে ভক্তদের মন ভেঙে দেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ছেলেকে আবারও ফুটবল মাঠে ফিরে আসার এবং খেলা চালিয়ে যাওয়ার আকুল আহ্বান জানান। বার্তার শুরুতেই তিনি লেখেন, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সিদ্ধান্তে তাঁদের পরিবার সবসময় খ্রিস্টান ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ঈশ্বরের প্রতি অবিচল বিশ্বাসকে প্রাধান্য দিয়েছে। অনেক প্রতিকূলতার মাঝেও সেই বিশ্বাসই তাঁদের সঠিক পথ দেখিয়েছে।

ছেলের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সোনালী মুহূর্তগুলো স্মরণ করে আবেগাপ্লুত বাবা লেখেন, “প্রথম গোল, প্রথম আন্তর্জাতিক সাফল্য, পেশাদার ফুটবলে অভিষেক, বিশ্বের বড় বড় ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে খেলা, একের পর এক মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা জয়, ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সিতে ব্রাজিল জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব এবং বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের ভালোবাসা—সবকিছুরই প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমি। তবে একজন গর্বিত বাবা হিসেবে এই পুরো যাত্রায় প্রতিটা মুহূর্তে সন্তানের পাশে ছায়ার মতো থাকতে পারাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

চিঠির একপর্যায়ে নেইমারকে মাঠে ফেরার তাগিদ দিয়ে তিনি লেখেন, “তুমি ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও। আবারও বল পায়ে সেই চেনা শৈশব ও যৌবনের আনন্দ খুঁজে নাও, মাঠে হাসিমুখে ফিরে এসো। ঈশ্বর তোমাকে বড় আঘাত থেকে সুস্থ করে মাঠে ফেরার আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন।” সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “বাইরের সমালোচনা, আকাশচুম্বী প্রত্যাশা কিংবা জীবনের নানা মানসিক চাপ একা নিজের কাঁধে বহন করো না। সব সিদ্ধান্ত মানুষের হাতে থাকে না, কিছু সিদ্ধান্ত শুধুই ঈশ্বরের। একটি স্বপ্ন বা একটি বিশ্বকাপ পূরণ না হলেও তার মানে এই নয় যে জীবন থেকে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।”

ভবিষ্যতের নতুন ভোরের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে নেইমারের বাবা লেখেন, “সামনের দিনগুলোকে নিয়ে মোটেও ভয় পেয়ো না। আজকের দিনটাকে বাঁচো, অনুশীলন করো, খেলো, হাসো, সন্তানদের সময় দাও এবং পরিবারকে ভালোবাসো। বাকিটা ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দাও।” বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, ট্রফি, গোল কিংবা বৈশ্বিক খ্যাতির চেয়েও জীবনের বড় বিষয় হলো ঈশ্বরের পরম আশীর্বাদ। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, নেইমারের ফুটবল জীবনে এখনও অনেক সুন্দর ও গৌরবময় অধ্যায় লেখা বাকি আছে।

চিঠির একদম শেষাংশে নেইমারের বাবার যে কথাটি এই মুহূর্তে পুরো ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে তুলছে, তা হলো— “মনে রেখো নেইমার, এই স্বার্থপর পৃথিবী তোমাকে ভালোবাসার অনেক আগেই ঈশ্বর তোমাকে ভালোবেসেছেন। আর একজন বাবা হিসেবে তোমার জন্য আমি সবকিছু আবারও প্রথম থেকে করতে প্রস্তুত—প্রতিটি সফর, প্রতিটি ক্যারিয়ার গড়ার ত্যাগ, প্রতিটি নির্ঘুম রাত, প্রতিটি দুশ্চিন্তা এবং প্রতিটি প্রার্থনা।”

/আশিক


২০৩০ বিশ্বকাপ কোথায়? জানুন সব ভেন্যু

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১২:২৩:২৭
২০৩০ বিশ্বকাপ কোথায়? জানুন সব ভেন্যু
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের উত্তেজনা এখনও শেষ হয়নি। তবে এরই মধ্যে ফুটবলবিশ্বের দৃষ্টি ধীরে ধীরে ঘুরছে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের দিকে। কারণ, এটি কেবল আরেকটি বিশ্বকাপ নয়; বরং ফিফা বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের বিশেষ আসর। ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে। সেই ঐতিহাসিক মাইলফলকের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের আয়োজনকে ব্যতিক্রমী রূপ দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে তিনটি মহাদেশে এবং ছয়টি দেশে। ফুটবল ইতিহাসে এর আগে কখনও এমন বহুমহাদেশীয় আয়োজন দেখা যায়নি। ফলে ২০৩০ সালের আসরকে ইতোমধ্যেই আধুনিক বিশ্বকাপের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও প্রতীকী আয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফিফার অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো হবে টুর্নামেন্টের প্রধান আয়োজক। তবে শতবর্ষের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রথম বিশ্বকাপের স্বাগতিক উরুগুয়েকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েও উদ্বোধনী পর্বের ম্যাচ আয়োজন করবে। ফলে মোট ছয়টি দেশই স্বাগতিকের মর্যাদা পাবে এবং ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তারা সরাসরি মূল পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করবে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর অন্যতম আকর্ষণ হবে উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওর ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়াম। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালও এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রতীক হিসেবে সেই স্টেডিয়ামেই আবার বিশ্বকাপের সূচনা হওয়া ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের এক অনন্য সংযোগ তৈরি করবে।

অন্য দুটি উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আর্জেন্টিনার বুয়েনেস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল এবং প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের এস্তাদিও ওসভালদো ডোমিঙ্গেজ দিব স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইউরোপ ও আফ্রিকায় গিয়ে টুর্নামেন্টের মূল সূচিতে অংশ নেবে।

এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে। যদিও বিশ্বকাপ আয়োজনের বিডিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে এবং দীর্ঘ মূল্যায়নের পর ২০২৩ সালে যৌথ প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হয়। শুরুতে মরক্কো এককভাবে আয়োজক হতে আগ্রহী থাকলেও পরে স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে আবেদন করে এবং শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাবই অনুমোদিত হয়।

ফিফার প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপ শুরু হবে ৮ জুন এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২১ জুলাই। অর্থাৎ মোট ৪৪ দিনব্যাপী চলবে এই আসর, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে। তিন মহাদেশজুড়ে ম্যাচ আয়োজন, দীর্ঘ বিমানযাত্রা এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা বিবেচনায় রেখেই সূচি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছয় দেশের ১৮টি শহরের ২১টি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ আয়োজন করবে স্পেন। সম্ভাব্য ভেন্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু, স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু, সিভিতাস মেত্রোপোলিতানো, সান মামেস, লা কার্তুহা, রিয়াল অ্যারিনা, লা রোমারেদা, নু মেস্তায়া, গ্রান ক্যানারিয়া এবং আবাঙ্কা-বালাইদোস।

পর্তুগালে ম্যাচ আয়োজনের জন্য নির্ধারিত সম্ভাব্য স্টেডিয়ামগুলো হলো এস্তাদিও দা লুজ, এস্তাদিও জোসে আলভালাদে এবং এস্তাদিও দো দ্রাগাও। অন্যদিকে মরক্কোতে সম্ভাব্য ভেন্যুর তালিকায় রয়েছে কাসাব্লাঙ্কার নির্মাণাধীন হাসান-২ স্টেডিয়াম, পাশাপাশি রাবাত, মারাকেশ, আগাদির, ফেজ ও তাঞ্জিয়ার শহরের আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম।

তবে ফাইনাল ম্যাচ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি ফিফা। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু, বার্সেলোনার স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু এবং কাসাব্লাঙ্কার হাসান-২ স্টেডিয়াম। ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত স্টেডিয়াম তালিকা ও ফাইনালের ভেন্যু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি হবে ফুটবলের শতবর্ষের উদ্‌যাপন, যেখানে ইতিহাস, ঐতিহ্য, আধুনিক অবকাঠামো এবং বৈশ্বিক সংহতির এক অনন্য সমন্বয় দেখা যাবে। তিন মহাদেশকে এক সুতোয় গেঁথে এই আয়োজন বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে।

-রফিক


আজকের ক্রীড়াসূচি: বিশ্বকাপ, উইম্বলডন ও টি-টোয়েন্টি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১০:৩১:১৮
আজকের ক্রীড়াসূচি: বিশ্বকাপ, উইম্বলডন ও টি-টোয়েন্টি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্ব আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আজ শেষ ষোলোর বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে লড়াইয়ে নামছে চারটি শক্তিশালী দল। ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ থাকবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং মোহামেদ সালাহর মিশরের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথে।

রাত ১০টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নিজেদের ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামলেও আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মিশর বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত। একদিকে মেসির সৃজনশীলতা ও অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে সালাহর গতি, দক্ষতা ও গোল করার সামর্থ্য—সব মিলিয়ে ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জয়ী দল নিশ্চিত করবে শেষ আটে জায়গা।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রাত ২টায় মুখোমুখি হবে ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ড এবং দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিত্বকারী কলম্বিয়া। দুই দলেরই রক্ষণভাগ ও পাল্টা আক্রমণের কৌশল বেশ কার্যকর হওয়ায় ম্যাচটি হতে পারে কৌশলনির্ভর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

ফুটবলের পাশাপাশি টেনিসপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে ব্যস্ত দিন। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গ্র্যান্ড স্ল্যাম উইম্বলডন টুর্নামেন্টে আজ শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। বিকেল ৪টা থেকে বিশ্বের শীর্ষ তারকারা কোর্টে নামবেন সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।

ক্রিকেট ভক্তদের জন্যও রয়েছে আন্তর্জাতিক ম্যাচের উত্তেজনা। চলমান সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ভারত। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই ম্যাচে সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ নির্ধারণ হতে পারে।

আজকের ক্রীড়াসূচি

ফিফা বিশ্বকাপ (শেষ ষোলো)

আর্জেন্টিনা বনাম মিশর

রাত ১০:০০টা

বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া

রাত ২:০০টা

বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

উইম্বলডন (কোয়ার্টার ফাইনাল)

বিকেল ৪:০০টা

স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও ২

তৃতীয় টি-টোয়েন্টি

ইংল্যান্ড বনাম ভারত

রাত ১০:৩০ মিনিট

সনি স্পোর্টস ১

আজকের সূচিতে ফুটবল, ক্রিকেট ও টেনিস তিন জনপ্রিয় খেলার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে জমজমাট একটি দিন। বিশেষ করে মেসি ও সালাহকে একই রাতে মাঠে দেখার সুযোগ বিশ্বকাপের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

-রাফসান


ক্রসবারে বাঁচল স্পেন, পরক্ষণেই বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১০:১০:২৯
ক্রসবারে বাঁচল স্পেন, পরক্ষণেই বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

ডালাস স্টেডিয়ামে পর্তুগাল ও স্পেনের হাইভোল্টেজ লড়াই শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তেজনাই উপহার দেয়নি, জন্ম দিয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়েরও। মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ভাগ্য ও ইতিহাস যেন একই মঞ্চে মিলিত হয়। নিশ্চিত গোল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার পরই বিশ্বকাপে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় গোল না খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়ে স্পেন।

ম্যাচের ৪১তম মিনিটে পর্তুগালের বাঁ প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত আক্রমণ গড়ে তোলেন নুনো মেন্দেস। তার শক্তিশালী শট স্পেনের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করে। এতে গোলরক্ষক উনাই সিমন পুরোপুরি ভুল দিকে চলে যান এবং বল প্রায় জালে ঢুকেই যাচ্ছিল। তবে স্পেনের ভাগ্য সহায় ছিল। বলটি ক্রসবারে লেগে মাঠে ফিরে আসে এবং নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় লা রোহা।

এই নাটকীয় মুহূর্তের ঠিক পরের মিনিটেই আসে ঐতিহাসিক অর্জন। ম্যাচের ৪২তম মিনিট অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে স্পেন বিশ্বকাপে টানা ৫৬০ মিনিট গোল না খাওয়ার অনন্য কীর্তি গড়ে। এর মধ্য দিয়ে তারা ভেঙে দেয় সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। এর আগে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় নিজেদের জাল অক্ষত রাখার রেকর্ড ছিল সুইসদের, যারা টানা ৫৫৯ মিনিট প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি।

পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে স্পেনের ক্লিন শিটের ধারাবাহিকতা ছিল ৫১৯ মিনিট। ফলে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করতে তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ৪০ মিনিট। নুনো মেন্দেসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার পর সেই বাধাও পেরিয়ে যায় স্প্যানিশরা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই তাদের গোল না খাওয়ার সময় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬১ মিনিটে।

স্পেনের এই রেকর্ড কেবল শক্তিশালী রক্ষণভাগেরই প্রমাণ নয়, বরং পুরো দলের সংগঠিত ফুটবল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং গোলরক্ষক উনাই সিমনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরও প্রতিফলন। টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে স্পেন যে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ কৌশল অনুসরণ করেছে, এই অর্জন তারই বাস্তব ফল।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন একটি রেকর্ড গড়ে স্পেন নিজেদের শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে এই অর্জন দলটির আত্মবিশ্বাসও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত রয়েছে, যেখানে ভাগ্যের সামান্য সহায়তা বড় রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। ডালাস স্টেডিয়ামে নুনো মেন্দেসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার ঘটনাও ঠিক তেমনই একটি মুহূর্ত, যা কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে স্পেনকে গোল হজমের হতাশা থেকে বিশ্বকাপের নতুন ইতিহাসের মালিক বানিয়ে দিয়েছে।

-রাফসান


ইরানের সাথে বৈষম্যের পর এবার ট্রাম্পের ক্ষমতার খেল, ২০২৬ বিশ্বকাপের সৌন্দর্য নষ্টের নেপথ্যে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ২১:৩৯:৪৩
ইরানের সাথে বৈষম্যের পর এবার ট্রাম্পের ক্ষমতার খেল, ২০২৬ বিশ্বকাপের সৌন্দর্য নষ্টের নেপথ্যে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (বামে) ও ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গারিঞ্চার লাল কার্ড পাওয়ার পর তৎকালীন চিলির প্রেসিডেন্টের নজিরবিহীন তদবিরে পার পেয়ে যাওয়ার সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে আজগুবি মনে হলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে ফুটবল বিশ্ব দেখল ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার আগে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের ওপর দেওয়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে কয়েক দফা সরাসরি ফোন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর পর ফিফা তড়িঘড়ি করে টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দিয়েছে, যা ফুটবল ইতিহাসে এক চরম কেলেঙ্কারী ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে, যেখানে বল দখলের লড়াইয়ের সময় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গোড়ালিতে আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বালোগান। এই লাল কার্ড নিয়ে ফুটবল বিশ্বে পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও মার্কিন সমর্থক ও কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো মূলত বালোগানকে ছাড়াই বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ঠিক তখনই আসরে নামেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউএস সকার ফেডারেশনের লবিংয়ের পাশাপাশি ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের পর ফিফা তাদের আইন কানুনের এক অদ্ভুত ধারার দোহাই দিয়ে বিশ্বকাপ চলাকালেই বালোগানের লাল কার্ড স্থগিতের নজিরবিহীন ঘোষণা দেয়।

ফিফার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ফুটবল বিশ্বে তীব্র ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। বেলজিয়ামের প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়া চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি তো জানতাম না যে এপ্রিল ফুল (১লা এপ্রিলে বোকা বানানোর দিন) এখন জুলাই মাসে উদযাপন হয়!” বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যে ফিফার এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম যখন ট্রাম্পের এই ফোন কল ও ফিফার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন ফিফা কর্মকর্তারা দায়সারাভাবে দাবি করছেন যে কোনো ধরণের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি—যা ফুটবল বিশ্লেষকদের কাছে স্পষ্টতই এক হাস্যকর অজুহাত। ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মধুর সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থের সমীকরণই যে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে, তা এখন ওপেন সিক্রেট।

তবে ক্ষমতার জোর খাটিয়ে ট্রাম্প বালোগানকে দলে ফেরালেও, এটি আদতে মার্কিন ফুটবলের জন্য এক বিশাল কলঙ্ক বয়ে এনেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। গ্রুপ পর্বে তিনটি অসাধারণ পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে নিজেদের যোগ্যতায় শেষ ষোলোতে আসা যুক্তরাষ্ট্রের এই গৌরবময় যাত্রাকে ট্রাম্পের এই ‘অন্যায্য সুবিধা’ বিশ্ববাসীর চোখে আজ কলঙ্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

এখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র জিতলেও ফুটবল বিশ্ব মনে করবে এই জয় ফিফার তৈরি করে দেওয়া। নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সলবাকেনও যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিস্থিতির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “এটি ফিফার মস্ত বড় ভুল এবং অত্যন্ত বাজে একটি সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আমার দুঃখ হচ্ছে, কারণ তারা জিতলেও ম্যাচটির গায়ে কালো দাগ রয়ে যাবে, যা ফুটবলের জন্য মোটেও ভালো নয়।”

টিকিট বিতর্ক, অবকাঠামো ও ইরানের দলের সঙ্গে বাজে আচরণের মতো নানা ঝামেলার মাঝেও সফলভাবে চলতে থাকা ২০২৬ বিশ্বকাপের সৌন্দর্যকে ট্রাম্পের এই ক্ষমতার অপব্যবহার ও অযাচিত হস্তক্ষেপ এক লহমায় নষ্ট করে দিল।

লেখক: দ্য গার্ডিয়ানের ফুটবল বিষয়ক প্রতিনিধি


বোলাররা জেতালেও ব্যাটাররা ডোবাল, তুলনামূলক দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হতাশাজনক পরাজয়

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ২০:২৮:২৯
বোলাররা জেতালেও ব্যাটাররা ডোবাল, তুলনামূলক দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হতাশাজনক পরাজয়
ছবি : সংগৃহীত

জিম্বাবুয়ে সফরের চরম হতাশা যেন কোনোভাবেই কাটছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। স্বাগতিকদের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে লজ্জাজনক হারের পর এবার ওয়ানডে সিরিজও শুরু হলো চরম ভরাডুবি আর পরাজয় দিয়ে।

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে অলআউট করে দিয়েছিল টাইগার বোলাররা। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৪২ রানের। বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তৈরি হওয়া এই সহজ ও নিশ্চিত জয়ের সুযোগটি হেলায় হারাল দেশের ব্যাটাররা। খর্বশক্তির জিম্বাবুয়ের দেওয়া মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টিম বাংলাদেশ।

ইনিংসের শুরুতেই মাত্র ১৭ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৩ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রাথমিক সেই ধাক্কা সামলে মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৬৬ রান। কিন্তু এরপরই শুরু হয় উইকেটের অবিশ্বাস্য ও দৃষ্টিকটু পতন। ক্রিজে থিতু হতে না পারার মিছিলে মাত্র ৫০ রান যোগ করতেই শেষ ৭টি উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসে ব্যাটাররা। ফলশ্রুতিতে ৩৩.১ ওভারে মাত্র ১১৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

মাত্র ১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ২৫ রানের এক অবিশ্বাস্য ও লজ্জাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। ব্যাটিং লাইনের চরম ও ধারাবাহিক ব্যর্থতায় তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন হতাশাজনক পরাজয়ে ওয়ানডে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল টাইগাররা।

/আশিক


আমাদের সালাহ ও ২৬ জন মেসি আছে: আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে মিশরীয় কোচের হুংকার

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ২০:০৮:১৮
আমাদের সালাহ ও ২৬ জন মেসি আছে: আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে মিশরীয় কোচের হুংকার
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকার সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিশরের রূপকথা যেন থামছেই না। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নেওয়ার পর, শেষ ৩২-এর নকআউটে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে দিয়ে এবার তারা মুখোমুখি হচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্বসেরা দল আর্জেন্টিনার।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল আর্জেন্টিনার বিপরীতে ২৯ নম্বরে থাকা মিশরের শক্তির তফাৎটা আকাশ-পাতাল। স্বাভাবিকভাবেই আগামীকালকের ম্যাচে নিরঙ্কুশ ফেভারিট আর্জেন্টিনা; তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এতটুকু ছেড়ে কথা বলতে রাজি নয় ফারাওরা। বিশেষ করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে মোটেও বাড়তি কোনো চাপ নিতে চাইছে না তারা।

মিশরীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘সাদা আল বালাদ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এমন সাহসী মনোভাবের কথা স্পষ্ট করেছেন মিশরের সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান, যিনি দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসানের ভাই। লিওনেল মেসিকে নিয়ে মাঠের বাইরে চলমান তুমুল হাইপকে পাত্তাই দিচ্ছেন না তিনি। ইব্রাহিম বলেন, “আমরা মেসিকে আলাদা করে দেখছি না। আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের পরিষ্কার বলে দিয়েছি—মাঠে নামো, প্রতিপক্ষ কে বা তাদের দলে কে আছে সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে শুধু নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো।”

বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা মহাতারকার মুখোমুখি হওয়াকে অত্যন্ত সাধারণ একটি ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে এই সহকারী কোচ আরও যোগ করেন, “মেসির বিপক্ষে খেলা? আমরা এই মুহূর্তে এগুলো নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছি না। আমাদের পুরো মনোযোগ কেবল মিশরীয় জাতীয় দলের ওপর। আমাদের কাছে প্রতিপক্ষ মেসি হোক বা অন্য কেউ, আমরা প্রতিটি ম্যাচে কেবল জানপ্রাণ দিয়ে লড়তে মাঠে নামি।”

আর্জেন্টাইন শিবিরের শক্তির জবাব দিতে গিয়ে নিজেদের সেরা তারকা মোহাম্মদ সালাহ ও স্কোয়াডের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে ইব্রাহিম হাসান এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, “তাদের (আর্জেন্টিনার) হয়তো একজন মেসি আছে; কিন্তু আমাদের দলে আছেন মোহাম্মদ সালাহ এবং আরও ২৬ জন ‘মেসি’। আশা করি, মাঠের এই লড়াই ও ত্যাগের জন্য আল্লাহ আমাদের পুরস্কৃত করবেন।”

চলতি বিশ্বকাপে মিশরের এই অভাবনীয় সাফল্য ধরে রাখার নেপথ্যের মানসিকতা তুলে ধরে ইব্রাহিম বলেন, “টুর্নামেন্টের প্রথম দিন থেকেই আমরা খেলোয়াড়দের মগজে এটি ঢুকিয়ে দিয়েছি যে, আমরা এখানে শুধু অংশগ্রহণ করার আনুষ্ঠানিকতা সারতে আসিনি। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে এই টুর্নামেন্টে যতদূর সম্ভব পথ পাড়ি দেওয়া।”

আগামীকাল (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার ঐতিহ্যবাহী মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। উল্লেখ্য, চলতি আসরে ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি রয়েছেন অতিমানবীয় ফর্মে। এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৭ গোল করে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের সর্বকালের রেকর্ড ২০তম গোলটি করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন একাই দখল করে রেখেছেন তিনি।

/আশিক


ব্রাজিল বধের নায়ক হালান্ডের দানবীয় শক্তির অদ্ভুত রহস্য ফাঁস

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১৮:৪৮:৩৭
ব্রাজিল বধের নায়ক হালান্ডের দানবীয় শক্তির অদ্ভুত রহস্য ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসের চেনা ছক এবং প্রচলিত সব ধারণাকে এক ঝটকায় বদলে দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর ফুটবলে এক অতিমানবিক চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, ওয়েইন রুনি, রোনালদো নাজারিও, দিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা পেলের মতো কিংবদন্তিরা যখন কেউ গতি, কেউ ফিনিশিং আবার কেউ নিখুঁত ড্রিবলিংয়ে বিশ্বকে বুঁদ করে রেখেছিলেন, তখন তাঁদের প্রত্যেকের খেলাতেই ছিল ছোটখাটো কিছু সীমাবদ্ধতা।

কিন্তু চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেওয়ার পর ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—হালান্ড কি আসলেই একজন সাধারণ মানুষ, নাকি আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানের ল্যাবরেটরিতে তৈরি কোনো ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারড’ বা রোবোটিক অ্যাথলেট?

৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই নরওয়েজিয়ান তারকার মাঠের বিস্ফোরক গতি, অবিশ্বাস্য শারীরিক শক্তি এবং গোল করার যান্ত্রিক নিখুঁত দক্ষতা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক জীবন্ত আতঙ্কের নাম। তবে এই সাফল্য শুধু জন্মগত প্রতিভার জোরে আসেনি; বরং নিজের শরীর, মন এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনকে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও কঠোর শৃঙ্খলার ফ্রেমে বেঁধে ফেলার মাধ্যমেই তিনি আজ নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

প্রতিদিন ৬ হাজার ক্যালরির দানবীয় খাদ্যাভ্যাস

বর্তমান বিশ্বের আধুনিক ফুটবলাররা যখন প্রোটিন শেক আর মেপে মেপে কার্বোহাইড্রেট খেতে অভ্যস্ত, তখন হালান্ডের খাদ্যতালিকা শুনলে যে কেউ চমকে উঠবেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘হোলা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হালান্ড প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ক্যালরি খাবার গ্রহণ করেন। তাঁর এই দানবীয় ডায়েটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গরুর হৃৎপিণ্ড, কলিজা এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পুষ্টিকর মাংস।

নিজের বহুল আলোচিত প্রামাণ্যচিত্র ‘Haaland: The Big Decision’-এ তিনি অকপটে বলেন, “অনেকেই হয়তো এসব খাবার মুখেও তুলবে না। কিন্তু আমি আমার শরীরের সর্বোচ্চ যত্ন ও পুষ্টির ব্যাপারে ভীষণ সচেতন।” শুধু খাবারই নয়, পানের ক্ষেত্রেও তিনি সাধারণ পানি বর্জন করে বিশেষভাবে পরিশোধিত ও ফিল্টার করা পানি পান করেন। এছাড়া কাঁচা দুধ, পালং শাক ও কেলের (Kale) মিশ্রণে তৈরি একটি বিশেষ জুস পান করেন, যাকে তিনি রসিকতা করে নিজের ‘ম্যাজিক পোশন’ বা জাদুকরী পানীয় বলে ডাকেন।

ঘুমই যখন পারফরম্যান্সের প্রধান হাতিয়ার

হালান্ডের দর্শন অনুযায়ী, একজন পেশাদার অ্যাথলেটের মাঠের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পর্যাপ্ত এবং গভীর ঘুম। এই কারণে তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমানোর পাশাপাশি দুপুরেও কিছু সময় বাধ্যতামূলক বিশ্রাম নেন। ‘মেন্স হেলথ’-এর তথ্য মতে, রাতে ঘুমানোর ঠিক তিন ঘণ্টা আগে হালান্ড এক জোড়া বিশেষ কমলা রঙের চশমা ব্যবহার করেন, যা ঘরের কৃত্রিম নীল আলোর (Blue Light) ক্ষতিকারক প্রভাব কমিয়ে তাঁর শরীরে প্রাকৃতিক উপায়ে মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে।

আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘুমানোর সময় তিনি মুখে একটি বিশেষ মেডিকেল টেপ ব্যবহার করেন, যাতে মুখ বন্ধ থাকে এবং নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রাকৃতিক অভ্যাস বজায় থাকে। বিজ্ঞান বলে, এতে শরীরে অক্সিজেন গ্রহণ অনেক বেশি কার্যকর হয় এবং গভীর ঘুমের মধ্যে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকে। এছাড়া ঘুমানোর আগে ঘরের সব ধরনের ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন তিনি।

কঠোর অনুশীলন ও ৫০ হাজার পাউন্ডের ক্রায়োথেরাপি

হালান্ডের শারীরিক শক্তির মূল ভিত্তি হলো গতি ও পেশির নমনীয়তা। তাঁর সাবেক ক্লাব রেড বুল সালসবুর্গের তৎকালীন কোচ স্ট্যানিস্লাভ ম্যাসেক জানিয়েছেন, কিশোর বয়সেই হালান্ডের দৈনিক রুটিনে ছিল ৩০০টি পুশ-আপ এবং ১ হাজারটি সিট-আপ। এর পাশাপাশি পাহাড়ি ঢালে তীব্র গতির স্প্রিন্ট এবং নিয়মিত যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন তাঁর শরীরকে করে তুলেছে ইস্পাত কঠিন। শুধু কঠোর অনুশীলনই নয়, ম্যাচের পর শরীর দ্রুত সতেজ করার (রিকভারি) প্রক্রিয়াতেও তিনি ঢেলেছেন কোটি টাকা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মিরর’-এর তথ্য অনুযায়ী, হালান্ড নিজের বাড়িতে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা) ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ‘ক্রায়োথেরাপি চেম্বার’ স্থাপন করেছেন। এই চেম্বারের চরম নিম্ন তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় শরীরকে রাখার মাধ্যমে রক্তে ল্যাকটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমানো, পেশির প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত ক্লান্তি দূর করা সম্ভব হয়, যা তাঁকে টানা উচ্চগতির ফুটবল খেলার পরও পুরোপুরি সতেজ রাখে।

মাঠের বাইরের স্পষ্টভাষী চরিত্র ও জ্লাতানের পরামর্শে লম্বা চুল

শারীরিক সক্ষমতার বাইরে মানসিক দিক থেকেও হালান্ড সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও স্পষ্টভাষী এক চরিত্র। সংবাদমাধ্যমের চর্বিতচর্বণ প্রশ্নের মুখে তিনি সবসময় সোজা সাপটা উত্তর দিতে পছন্দ করেন। যেমন ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর শেষ মুহূর্তের উইনিং গোল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হেসে বলেন, “আমি তখন ভীষণ ক্লান্ত ছিলাম। ভাবলাম অতিরিক্ত সময়ে গেলে আরও আধঘণ্টা দৌড়াতে হবে, যা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই ভাবলাম ম্যাচটা এখনই শেষ করা দরকার এবং গোলটা করে দিলাম!”

মাঠে হালান্ডের আরেকটি ট্রেডমার্ক দৃশ্য হলো ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে মাথার চুলের বাঁধন পুরোপুরি খুলে দেওয়া। তাঁর এই লম্বা চুল রাখার পেছনেও জড়িয়ে আছে এক মজার কাহিনী। জেমস কর্ডেনের জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘After with James Corden’-এ হালান্ড জানান, সুইডিশ ফুটবল কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ একবার তাঁকে ডেকে বলেছিলেন, “কখনো নিজের চুল কাটবে না।

মনে রাখবে, একজন আসল স্ট্রাইকারের সব শক্তি লুকিয়ে থাকে তাঁর চুলেই।” হালান্ড হাসতে হাসতে বলেন, “জ্লাতান যখন নিজে আমাকে এই পরামর্শ দিয়েছেন, তখন আমার আর চুল কাটার কোনো উপায় আছে? তাঁর কথা তো শুনতেই হবে!” মাত্র ২৫ বছর বয়সেই আর্লিং হালান্ড আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞান, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, কঠোর শৃঙ্খলা ও দানবীয় পারফরম্যান্সের এক অভূতপূর্ব সমন্বয়ে নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের একচ্ছত্র প্রতীকে পরিণত করেছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: