অবহেলিত মুলার আকাশচুম্বী গুণ: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় কেন এটি অপরিহার্য?

শীতকালীন সবজির তালিকায় মুলার কদর অনেকের কাছে কিছুটা কম মনে হলেও এর স্বাস্থ্যগত উপযোগিতা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বিস্ময়কর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাদে কিছুটা তিতা বা ঝাঁঝালো হওয়ার কারণে অনেকে এটি এড়িয়ে চললেও রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে মুলা এক অনন্য প্রাকৃতিক দাওয়াই। হজমশক্তি বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে ত্বকের উজ্জ্বলতা রক্ষা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই সবজিটি জাদুর মতো কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে শীতের এই সময়ে যখন শরীরে রোগব্যাধির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, তখন সহজলভ্য এই সবজিটি কেন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি, তা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি হওয়ার কারণে মুলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের তথ্য অনুযায়ী, খাবারের আগে মুলা গ্রহণ করলে শরীরে পিত্ত উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা গৃহীত খাদ্য দ্রুত হজমে সরাসরি সহায়তা করে। শুধু হজম নয়, প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং রাফানিন নামক উপাদানের উপস্থিতির কারণে এটি শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, যা সাধারণ ঠান্ডা এবং ফ্লু জাতীয় সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এছাড়া রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এর বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে; কারণ মুলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অত্যন্ত কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এক আদর্শ খাবার হিসেবে গণ্য হয়।
দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে লিভার ও কিডনি পরিষ্কার রাখতে মুলার রস বা এর ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসেবে কাজ করে। মুলার উপকারিতা কেবল অভ্যন্তরীণ সুস্থতাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শরীরের বাহ্যিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও এটি সমানভাবে পারদর্শী। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ব্রণের সমস্যা কমিয়ে ত্বকে এক ধরণের প্রাকৃতিক আভা তৈরি করে। এছাড়া বর্তমান সময়ে অনেকের মধ্যে দেখা দেওয়া হাড়ের প্রদাহ বা বাতের ব্যথা কমাতেও মুলা সক্রিয় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
তবে সবকিছুর মতো মুলার ব্যবহারেও কিছু নির্দিষ্ট সতর্কতা মেনে চলা আবশ্যক। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা মুলা খেলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মুলা গ্রহণ করা অনুচিত হতে পারে। এছাড়া খাদ্য সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলাও জরুরি; যেমন দুধ বা মাছের সাথে মুলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত সঠিক নিয়ম ও পরিমিতিবোধ বজায় রেখে শীতকালীন এই সবজিটি খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে খুব সহজেই একটি নিরোগ ও সতেজ শরীর বজায় রাখা সম্ভব।
ইনফ্লুয়েন্সারদের ডায়েট ট্রেন্ড ও ভাইরাল ফুড চ্যালেঞ্জ: স্থূলতা সংকটে নতুন ঝুঁকি
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থূলতার হার বিভিন্ন জটিল কারণে বাড়ছে। বিশ্ব স্থূলতা দিবস উপলক্ষে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া কিভাবে খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন করছে এবং স্থূলতা সংকটকে ত্বরান্বিত করছে।ভাইরাল ফুড চ্যালেঞ্জ থেকে শুরু করে ইনফ্লুয়েন্সারদের ডায়েট ট্রেন্ড, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মূলত প্রভাব ফেলছে মানুষ কী খায় এবং তাদের দেহের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কেমন তার ওপর।
প্রতি বছর ৪ মার্চ বিশ্বব্যাপী 'বিশ্ব স্থূলতা দিবস' পালিত হয়, যা স্থূলতার সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলো নির্দেশ করে এবং এটি প্রতিরোধের জন্য পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করে।
বিশ্ব স্থূলতা ফেডারেশনের মতে, এই বছরের প্রচারণার থিম হল '৮ বিলিয়ন কারণ স্থূলতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে'। এই থিমের মেসেজ সহজ কিন্তু শক্তিশালী। বৈশ্বিক জনসংখ্যা ৮ বিলিয়ন অতিক্রম করেছে, তাই স্থূলতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ৮ বিলিয়ন কারণ আছে।
প্রচারণাটি জোর দিচ্ছে যে- ব্যক্তিগত, সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সবাই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি এবং ভালো জীবনধারার প্রচার করার দায়িত্ব ভাগাভাগি করবে।
সরকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবী এবং নাগরিক সমাজের সংস্থাগুলোকে একসাথে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী স্থূলতা সংকট মোকাবিলার কার্যকর কৌশল বাস্তবায়ন করতেও বলা হচ্ছে।
কেন বিশ্বব্যাপী স্থূলতা বাড়ছে
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থূলতার হার বিভিন্ন জটিল কারণে বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস, অলস জীবনধারা, প্রক্রিয়াজাত খাবারের সহজলভ্যতা এবং এমন পরিবেশ যা কম শারীরিক ক্রিয়াকলাপকে উৎসাহিত করে।
আরেকটি বড় কারণ হলো, দৈনন্দিন জীবনধারার উপর সোশ্যাল মিডিয়ার বাড়তে থাকা প্রভাব।
খাবারের অভ্যাসকে প্রভাবিত করা
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের খাদ্য, দেহের চিত্র এবং ওজন ব্যবস্থাপনার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে।
জনপ্রিয় অনলাইন ফরম্যাট যেমন 'এক দিনে আমি কী খাই' ধরণের ভিডিও, ইনফ্লুয়েন্সার মীল প্ল্যান এবং ভাইরাল ডায়েট চ্যালেঞ্জ প্রায়শই দর্শকদের খাওয়ার অভ্যাস গঠন করে।
ফাস্ট ফুড প্রচার, বড় পরিমাণ খাবার এবং দেখতে আকর্ষণীয় রেসিপিতে ক্রমাগত অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার প্যাটার্নকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করে এবং খাবারের প্রতি লোভ বা আগ্রহ বাড়ায়।
অলস জীবনধারাকে উৎসাহিত করা
সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক কার্যকলাপ কমাতে পারে। স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রল করা বা কনটেন্ট দেখা প্রায়শই সেই সময়কে নষ্ট করে ফেলে যা ব্যায়াম বা ঘরের বাইরে শারীরিক কার্যকলাপে ব্যবহার করা যেত।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এই আলসেমি ধরণের আচরণ ওজন বৃদ্ধি এবং স্থূলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর ডায়েট ট্রেন্ড প্রচার করা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া অনেক ডায়েট ট্রেন্ড বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন। কেটো প্ল্যান, ডিটক্স ক্লিনস, বেশি সময় ধরে রোজা পালন করা বা শুধুমাত্র লিকুইড ডায়েট প্রায়শই দ্রুত সমাধান হিসেবে উপস্থাপিত হয়, তবে সঠিক চিকিৎসা নির্দেশনা ছাড়া মানুষ এগুলো করে ফেলে।
পেশাদার পর্যবেক্ষণ ছাড়া এই ট্রেন্ড অনুসরণ করলে পুষ্টি ঘাটতি, খাদ্য সংক্রান্ত সমস্যার অভ্যাস এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।
ক্র্যাশ ডায়েট
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে ক্র্যাশ ডায়েট প্রায়শই দ্রুত ওজন কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু স্থায়ী ফলাফল দেয় না।
প্রাথমিক ওজন কমা সাধারণত পানি ও পেশী হ্রাসের কারণে হয়, চর্বি নয়। যখন শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না, তখন এটি শক্তি সংরক্ষণে মেটাবলিজম ধীর করে। একজন ব্যক্তি সাধারণ ডায়েটে ফিরে গেলে, ধীর মেটাবলিজম দ্রুত চর্বি সংরক্ষণ এবং দ্রুত ওজন পুনরায় বাড়াতে পারে।
আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বাস্তবহীন দেহের মান। অনেক প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত পাতলা দেহের ধরণকে ইতিবাচকভাবে প্রচার করে, যা ব্যক্তিদের চরম ডায়েটিং পদ্ধতি অনুসরণ করার মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই চাপ খাদ্যজনিত সমস্যা, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ওজন ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক দিক
এই উদ্বেগের মধ্যেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ ক্ষতিকর নয়। যদি এটি সচেতনভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে এটি পুষ্টির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য শেয়ার করার, স্বাস্থ্য পেশাদীর সাথে সংযোগ স্থাপনের এবং টেকসই জীবনধারার উপর ভিত্তি করে সমর্থনমূলক কমিউনিটি গঠনের মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
সূত্র: সামা
রোজা রেখে পেস্ট ছাড়া ব্রাশ ও কুলির সঠিক নিয়ম
পবিত্র এই মাহে রমজান মাসে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি আমাদের খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের একটি ব্যাপক পরিবর্তন চলে আসে।সেই সাথে পরিবর্তন চলে আসে আমাদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়ার নিয়মকানুনেও।
অন্যান্য সময়ের মতোই রমজান মাসে দাঁতের যত্ন নেয়া অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু রোজা রাখার কারণে দিনের পুরোটা সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা হয় তাই এ রমজান মাসে অনেকেই দাঁতের পরিচর্যা নিয়ে ভাবনায় পড়েন যে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না। রমজানে দাঁতের যত্নে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইফতার ও সাহ্রির পর ব্রাশ জরুরি
দুই বেলা খাবারের পর দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন। রোজার সময় ইফতার ও সাহ্রির পর ভালোভাবে পেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতে হবে। ইফতারের পর সঙ্গে সঙ্গে সম্ভব না হলে রাতের প্রধান খাবারের পর ব্রাশ করা উচিত। একইভাবে সাহ্রি শেষে, ফজরের নামাজের অজুর আগে দাঁত ব্রাশ করলে মুখে জীবাণু কমে যায়।
মিসওয়াক ও অজুর গুরুত্ব
রোজায় নিয়ম মেনে মিসওয়াক করা যায়। নামাজের অজুর সময় কুলির মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার হয়, যা দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। প্রতিটি অজুর সময় মিসওয়াক ব্যবহার করা যেতে পারে।
সকালে মুখে গন্ধ হলে যা করবেন
রোজা রেখে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখে গন্ধ হলে গড়গড়া না করে সামান্য পানি দিয়ে কুলি করা যাবে, এতে রোজা ভাঙবে না।তবে কুলির পর মুখে জমে থাকা পানি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। প্রয়োজনে পেস্ট ছাড়া শুধু ব্রাশ দিয়েও দাঁত পরিষ্কার করা যেতে পারে। রোজা অবস্থায় মাউথওয়াশ ব্যবহার না করাই ভালো।
খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা
ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। শরবতে ইসুবগুলের ভুসি খেলে পেট ও হজম ভালো থাকে। তেলযুক্ত খাবার কম খেয়ে শাকসবজি বেশি খাওয়া উচিত। শাকের আঁশ দাঁত পরিষ্কার রাখতে সহায়ক এবং এতে ভিটামিন ও মিনারেলও রয়েছে।
যা এড়িয়ে চলবেন
কয়লা, ছাই বা দাঁতের পাউডার ব্যবহার করা যাবে না। গুল বা তামাক সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। ধুমপান মুখের দুর্গন্ধ বাড়ায়, তাই তা পরিহার করা উচিত।
/আশিক
হঠাৎ বুক ধড়ফড় ও শ্বাসকষ্ট? প্যানিক অ্যাটাক চেনার ও নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়
প্যানিক অ্যাটাক অসহনীয় মনে হতে পারে, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস এবং গ্রাউন্ডিং কৌশল এটি দ্রুত এবং নিরাপদে কমাতে সাহায্য করে। প্যানিক অ্যাটাক বলতে বোঝায় তীব্র ভয় বা অস্বস্তির দ্রুত মুহূর্ত যা কয়েক মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং অপ্রত্যাশিতও হতে পারে। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে দ্রুত হৃদস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট, বুক শক্ত হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম ইত্যাদি।
যদিও প্যানিক অ্যাটাক জীবনের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করে না, তবুও সে সময় এটি অপ্রতিরোধ্য মনে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি হলো শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া শান্ত করা। শরীরের ফাইট-অর-ফ্লাইট প্রক্রিয়া প্যানিক অ্যাটাককে ট্রিগার করে। প্যানিক অ্যাটাক হলো শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া প্রক্রিয়ার একটি সক্রিয়করণ। শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর করে এবং মনকে গ্রাউন্ডিং করে, আমরা মস্তিষ্কে নিরাপত্তার সংকেত দিতে এবং এর তীব্রতা কমাতে পারি।
প্যানিক অ্যাটাকের সময় কী ঘটে
যখন মস্তিষ্ক কোনো হুমকি অনুভব করে, এমনকি যদি কোনো প্রকৃত বিপদ না-ও থাকে, তখন এটি অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে, যার ফলে নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে
হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, দ্রুত, অগভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, পেশীতে টান, মাথা ঘোরা, ঝুঁকিপূর্ণ সংবেদন
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা হাইপারভেন্টিলেশন রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা কমাতে পারে, যা বুকে অস্বস্তি বা অসাড়তার মতো সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই শারীরবৃত্তীয় চক্রকে নিষ্ক্রিয় করা একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
এখানে কিছু বিশেষজ্ঞ-অনুমোদিত পদক্ষেপ দেওয়া হল যা অল্প সময়ের মধ্যে প্যানিক অ্যাটাকের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করতে পারে
১. নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস (প্রায় ২০ সেকেন্ড)
এই প্রক্রিয়াটি তিন থেকে চার বার পুনরাবৃত্তি করুন। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাড়ানো প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করতে সহায়তা করে যা শিথিলতা বৃদ্ধি করে।
২. গ্রাউন্ডিং টেকনিক (প্রায় ২০ সেকেন্ড)
আপনার চারপাশে মনোযোগ পরিবর্তন করুন এবং চিহ্নিত করুন
পাঁচটি জিনিস যা আপনি দেখতে পারেন।
চারটি জিনিস যা আপনি স্পর্শ করতে পারেন।
৩. আস্থা রাখা (প্রায় ২০ সেকেন্ড)
মনে মনে নিজেকে বোঝান যে এই অনুভূতি অস্থায়ী। আমি নিরাপদ। এটি কেটে যাবে। এমনটা করলে তা মস্তিষ্ককে ভাবতে বাধ্য করবে যে কোনো হুমকি নেই এবং এটি বৃদ্ধি পেতে দেবে না।
/আশিক
সেহরিতে সুস্থ থাকতে যে ৩ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি
পবিত্র রমজান মাস হলো আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং পরম করুণাময় আল্লাহর প্রতি বিশেষ ভক্তি প্রকাশের সময়। এই বরকতময় মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যাবতীয় পার্থিব প্রলোভন থেকে বিরত থেকে মুসলমানরা প্রার্থনা ও শান্তি অন্বেষণে নিমগ্ন থাকেন। রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেহরি ও ইফতার। বিশেষ করে সেহরিতে সঠিক খাবার নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ সারাদিনের শারীরিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা এর ওপরই নির্ভর করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরির তালিকায় এমন কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত যা দীর্ঘ সময় রোজা রাখার ক্ষেত্রে শরীরে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এবং কার্বোনেটেড বা কোমল পানীয়। সেহরির সময় খালি পেটে অতিরিক্ত চা, কফি বা সোডা পান করলে শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে। এছাড়া এসব পানীয় অ্যাসিডিটি এবং অনিদ্রার কারণ হতে পারে। তাই সেহরিতে সাধারণ পানি বা শরীর উপযোগী প্রাকৃতিক পানীয় গ্রহণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
রোজার সময় সুস্থ থাকতে সেহরিতে অতিরিক্ত মসলাদার ও ডুবো তেলে ভাজা খাবার পরিহার করা একান্ত প্রয়োজন। ইফতার বা সেহরিতে আমরা অনেক সময় চপ, সমুচা, পাকোড়া বা ভাজা মিষ্টি খেতে পছন্দ করি, যা আদতে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত এবং হজমে সমস্যা তৈরি করে। এই ধরনের গুরুপাক খাবার খেলে সারাদিন পেটে অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পেট ও শরীর সুস্থ রাখতে সেহরিতে ভাজাপোড়া খাবারের বদলে সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া উচিত।
এছাড়া উচ্চ সোডিয়াম বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার থেকেও বিরত থাকা ভালো। বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে লবণ থাকে, যা রক্তচাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রোজা রাখা অবস্থায় শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে ঘরে তৈরি তাজা ও পুষ্টিকর খাবার সেহরিতে রাখা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, সেহরিতে হালকা কিন্তু পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং সহজে হজম হয় এমন খাবার নির্বাচন করলে রোজা পালন অনেক বেশি স্বস্তিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে রোজার মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি অর্জন করা সহজ হয়।
/আশিক
রমজানে পানিশূন্যতা রুখতে জাদুকরী '৪-২-২-২' নিয়ম: পুষ্টিবিদের বিশেষ টিপস
পবিত্র রমজানে সুস্থ ও সতেজ থাকতে পানিশূন্যতা রোধ করাই এখন রোজাদারদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শীতের বিদায় আর গরমের আগমনের এই সন্ধিক্ষণে শরীরে পানির চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। রাজধানীর মিরপুরভিত্তিক নিউট্রিলার্নবিডির পুষ্টিবিদ রোকসানা তনু সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রমজানে শরীরকে হাইড্রেট রাখার এক অভিনব ও কার্যকর কৌশলের কথা জানিয়েছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ঢালাওভাবে পানি পান না করে একটি নির্দিষ্ট ছক বা 'প্যাটার্ন' মেনে চললে শরীর দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে।
পুষ্টিবিদ রোকসানা তনুর মতে, একবারে অনেকটা পানি পান করলে তা শরীরের উপকারে না এসে উল্টো অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তার বদলে তিনি '৪-২-২-২ প্যাটার্ন' অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, ইফতারের সময় ৪ গ্লাস পানি, মাগরিবের নামাজের পর ২ গ্লাস, রাতের খাবারের পর ২ গ্লাস এবং সবশেষে সেহরির সময় ২ গ্লাস পানি পান করা উচিত। এভাবে ধাপে ধাপে মোট ১০ থেকে ১২ গ্লাস বা প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার তরল গ্রহণ করলে শরীর সহজে পানি শোষণ করতে পারে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে যায়।
সঠিকভাবে পানি পানের গুরুত্ব তুলে ধরে এই পুষ্টিবিদ জানান, পর্যাপ্ত পানি পান করলে রোজার সময় অনেকের যে সাধারণ মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হয়, তা অনেকটাই কমে আসে। এছাড়া হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা, কিডনির সুরক্ষা এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও এই পদ্ধতি জাদুর মতো কাজ করে। গরমের এই সময়ে যারা দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখছেন, তাদের জন্য এই ৪-২-২-২ নিয়মটি সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হতে পারে।
/আশিক
ইফতারের প্রশান্তি কেড়ে নিচ্ছে মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির পূর্ণাঙ্গ গাইড
রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তে স্বস্তি ফিরে আসার কথা থাকলেও অনেকেই ঠিক তখনই তীব্র মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানান, এই ধরনের ব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কপাল বা মাথার দুই পাশে অনুভূত হয়।
সাধারণত পানিশূন্যতা, ক্যাফেইন থেকে হঠাৎ বিরতি এবং রক্তে শর্করার ঘাটতির কারণে এই ব্যথার সৃষ্টি হয়। সারাদিন পানি পান না করায় শরীরে ঘাটতি তৈরি হয়ে রক্তনালীর সংকোচন ঘটে, যা মাথাব্যথার অন্যতম কারণ।
আবার যারা নিয়মিত চা বা কফিতে অভ্যস্ত, তারা হঠাৎ তা বন্ধ করলে ‘উইথড্রয়াল’ জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। এছাড়া দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গিয়ে মস্তিষ্কে ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা মাইগ্রেনের রোগীদের ক্ষেত্রে আরও তীব্র হতে পারে।
তবে সব মাথাব্যথাকে সাধারণ মনে করে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয় বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। যদি মাথাব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, শরীরের কোনো অংশ অবশ লাগে কিংবা বমি ও জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই সমস্যা প্রতিরোধের জন্য ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে বারবার পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। রমজান শুরুর আগে থেকেই চা বা কফির পরিমাণ কমিয়ে আনলে এই ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।
সেহরিতে প্রোটিন, জটিল শর্করা ও প্রচুর শাকসবজি রাখা উচিত এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকা মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সহায়ক। সচেতন খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমেই রমজানে এই মাথাব্যথা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
/আশিক
ইফতারে যে ভুলগুলো ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
পবিত্র রমজানে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় পুষ্টিবিদরা। তাঁদের মতে, সারাদিন খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ করে নির্দিষ্ট কিছু খাবার পাকস্থলীতে গেলে তাৎক্ষণিক অ্যাসিডিটি, তীব্র পেটব্যথা ও বুকে জ্বালাপোড়াসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ইফতারের সময় অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত থাকা স্বাভাবিক হলেও হুটহাট খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটু অসচেতনতা আপনার হজম প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে ইফতারে সাইট্রাস জাতীয় ফল এবং এর তৈরি অতিরিক্ত ঠান্ডা শরবত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। কমলালেবু বা মুসুম্বির মতো টক জাতীয় ফল খালি পেটে খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এসব ফলে থাকা ফ্রুক্টোজ হজমপ্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে ফেলে। এছাড়া ইফতারের পরপরই চা বা কফি পানের অভ্যাস রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি অগ্ন্যাশয় ও যকৃতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। তাই দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর ভারী খাবারের সাথে বা ঠিক পরেই চা-কফি পানের বিষয়ে সাবধান করেছেন চিকিৎসকরা।
বাংলাদেশি ইফতারের চিরচেনা অনুষঙ্গ ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার নিয়েও পুষ্টিবিদদের কড়া সতর্কবার্তা রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খেলে গ্যাস, মাথাব্যথা, অবসাদ এমনকি আলসারের মতো সমস্যা হতে পারে। নিয়মিত এমন খাদ্যাভ্যাস স্থূলতা ও অন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। এর পরিবর্তে ইফতারে খেজুর, দই, সবজি, ইসবগুলের শরবত এবং সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে রোজাদারকে সুস্থভাবে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় সহায়তা করতে।
/আশিক
ইফতারে পানিশূন্যতা দূর করবে জাদুকরী ৭টি শরবত
বর্তমান আবহাওয়ায় রোজা রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করা। সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের পানির ঘাটতি মেটাতে এবং নিজেকে সুস্থ রাখতে ইফতারে পুষ্টিকর শরবতের কোনো বিকল্প নেই। ডাব ও লেবুপানি, তরমুজের শরবত, তোকমা দানা বা ইসবগুলের ভুসির মতো পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারে কৃত্রিম পানীয় বর্জন করে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি শরবত খেলে ক্লান্তি দূর হয় এবং পিত্তনালীর প্রবাহ সঠিক থাকে। বিশেষ করে পুদিনাপাতা মেশানো তরমুজের শরবত হজমে সহায়তা করে এবং এতে থাকা ইলেক্ট্রোলাইট শরীরের সামঞ্জস্য বজায় রাখে। আবার প্রাকৃতিক মিষ্টিজাতীয় ফল লাল আঙুরের শরবত দ্রুত শক্তির মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
রোজার সময় অনেকেরই গা বমি বমি ভাব হতে পারে, যা রোধ করতে আদা মেশানো লেবুর শরবত খুবই উপকারী এবং এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
এছাড়া ভিটামিন সি-তে ভরপুর স্ট্রবেরি ও প্রিবায়োটিক সমৃদ্ধ দইয়ের শরবত অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। হাড়ের সুরক্ষা ও তাৎক্ষণিক শক্তির জন্য কাঠবাদাম ও দুধের মিশ্রণে তৈরি শরবত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের অভাব পূরণ করে। শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের করে দিতে এবং শরীরকে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্র রাখতে শসার শরবত অনন্য।
অন্যদিকে, যারা ক্যালরি নিয়ে সচেতন তাদের জন্য ভিটামিন সি ও ফাইবার সমৃদ্ধ পেয়ারার শরবত হতে পারে ইফতারের এক ভিন্ন স্বাদের ও স্বাস্থ্যকর সংযোজন। এই প্রতিটি শরবত কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং দীর্ঘ উপবাসের পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সরাসরি অবদান রাখে।
/আশিক
ইফতারে ভাজাপোড়া নয়, স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু চিকেন মোমো হতে পারে সেরা পছন্দ
রোজার দিনে ইফতারের টেবিলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর সাধারণত আমরা তেলেভাজা ভারী খাবারের প্রতি ঝুঁকে পড়ি, যা অনেক সময় পেটের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে বর্তমানে মোমো অনেকের কাছেই একটি জনপ্রিয় ও মুখরোচক বিকল্প হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর এই খাবারটি দ্রুত শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। সবসময় দোকানের ওপর নির্ভর না করে ঘরোয়া উপায়ে খুব সহজেই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি করা যায় এই মজাদার চিকেন মোমো।
এক কাপ চিকেন কিমা, এক কাপ ময়দা, সামান্য আদা-রসুন ও পেঁয়াজ বাটা, গোলমরিচ গুঁড়ো, সয়া সস, তেল এবং স্বাদমতো লবণ দিয়েই প্রস্তুত করা সম্ভব ভিন্ন স্বাদের এই চমৎকার পদটি যা ইফতারের আয়োজনে আনবে বৈচিত্র্য ও আভিজাত্য।
মজাদার এই মোমো তৈরি করতে প্রথমে ময়দার সঙ্গে সামান্য তেল ও লবণ মিশিয়ে ভালো করে মেখে একটি ডো তৈরি করে এক ঘণ্টার জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর একটি প্যানে সামান্য তেল গরম করে তাতে চিকেন কিমার সঙ্গে সব মশলা ও উপকরণ দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে পুর তৈরি করে নিতে হবে। কিমা রান্না হয়ে গেলে একটি বাটিতে ঢেলে তা ঠান্ডা হতে দিতে হবে। এরপর আগে থেকে রাখা ময়দার ডো থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে লুচির মতো বেলে নিয়ে তার ভেতরে তৈরি করা কিমার পুর দিয়ে পছন্দমতো মলাট বা ভাঁজ করে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। শেষে চুলায় স্টিমারে পানি দিয়ে তা ফুটে উঠলে মোমোগুলো সাজিয়ে ঢাকনা দিয়ে ১০ থেকে ১২ মিনিট ভাপ দিতে হবে। গরম গরম ভাপানো মোমো পছন্দের সস বা ঝাল চাটনি দিয়ে পরিবেশন করলে ইফতারের ক্লান্তি দূর হয়ে শরীর ও মনে প্রশান্তি ফিরে আসবে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- পার্লার ছাড়াই নিখুঁত রূপচর্চা: ঘরেই আসছে ‘এআই স্কিন অ্যানালাইজার’
- ইনফ্লুয়েন্সারদের ডায়েট ট্রেন্ড ও ভাইরাল ফুড চ্যালেঞ্জ: স্থূলতা সংকটে নতুন ঝুঁকি
- সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনে অবহেলার পথে সরকার: নাহিদ ইসলাম
- জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ; জারি হলো ১২ দফার নতুন গাইডলাইন
- অটোচালকের ঘুষিতে যুবদল নেতার মৃত্যু
- ইউরোপের রণপ্রস্তুতি ও শ্রীলঙ্কা সীমান্তে উত্তেজনা: ৬ষ্ঠ দিনে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নতুন মোড়
- জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান: এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা
- ৫ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৫ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
- ৫ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘চোখ অন্ধ’ করে দিয়েছে ইরান
- টাকা ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও: উত্তাল মতিঝিল
- মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ভয়াবহ বিস্তার: বিস্ফোরণে কাঁপল কাতার
- গ্রেটার চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন ইউকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন
- দীর্ঘ ৩ মাস পর কারামুক্তির পথে সাংবাদিক আনিস আলমগীর
- মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- ঈদযাত্রায় বিশেষ স্বস্তি: ছুটির ক্যালেন্ডারে নতুন পরিবর্তন আনল সরকার
- কৃষি খাতে ডিজিটাল বিপ্লব: দেশের ৯টি উপজেলায় চালু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’
- রোজা রেখে পেস্ট ছাড়া ব্রাশ ও কুলির সঠিক নিয়ম
- হঠাৎ বুক ধড়ফড় ও শ্বাসকষ্ট? প্যানিক অ্যাটাক চেনার ও নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়
- স্বাস্থ্যকর ইফতারের নিশ্চয়তা: ঘরেই তৈরি করুন দোকানের মতো মুচমুচে জিলাপি
- সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইরানে কুর্দিদের অনুপ্রবেশ: তেহরান পতনের লক্ষ্যে শুরু হলো মহাযুদ্ধ
- স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বিপ্লব: এক কার্ডেই মিলবে নাগরিকের সব চিকিৎসাতথ্য
- কলঙ্কময় রাত থেকে রক্ষা পেল ঢাবি: মিত্র চাকমা
- দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়; অর্থবছর জুড়ে বড় অর্জনের পথে বাংলাদেশ
- যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরলেন ১৮৯ বাংলাদেশি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- কৃষি ঋন ও বীমা এখন আরও সহজ: কৃষক কার্ড নিয়ে সরকারের মাস্টারপ্ল্যান
- টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় স্বস্তি, নতুন দর কার্যকর আজ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? এক নজরে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- কুয়েত উপকূলে বিস্ফোরণে চুরমার তেলবাহী জাহাজ
- ইরানের মিসাইল কি ফুরিয়ে আসছে? পশ্চিমা গোয়েন্দাদের বিস্ফোরক দাবি
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৫ মার্চ ২০২৬
- ব্যাংক ব্যালেন্স ফাঁস! দুর্নীতির জবাবে সপরিবারে ওপেন চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের
- মার্কিন গর্বের পতন: মধ্যপ্রাচ্যে ৭টি যুদ্ধঘাঁটি এখন ইরানি গোলার কবলে
- শেষ মুহূর্তে স্থগিত হলো খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান
- জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে হাইকোর্টের রুল: রাজনীতির মাঠে নয়া উত্তাপ
- বেসরকারি শিক্ষকদের বড় ধামাকা: পকেটে আসছে বাড়তি টাকা
- ইবিতে লোমহর্ষক কাণ্ড: শিক্ষক খুন, ঘাতকের আত্মহত্যার চেষ্টা
- লঙ্কান সাগরে রহস্যময় সাবমেরিন হামলা: ইরানি জাহাজডুবিতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা
- সেহরিতে সুস্থ থাকতে যে ৩ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি
- ব্যারিস্টার নাজির আহমদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সিলেট নগরীতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
- যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে ময়লা: চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের বাজারে দুর্ভোগ চরমে
- ইফতারে তুরস্কের জনপ্রিয় স্বাদ: খুব সহজেই বানান দই গাজরের ট্যারেটর
- ভারত মহাসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আইআরজিসি-র সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নতুন চিফ হুইপ ও হুইপদের শ্রদ্ধা
- স্বাস্থ্য সেবায় বিপ্লব আনতে ই-হেলথ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী: কানাডার প্রধানমন্ত্রী
- প্রশাসনিক গতি বাড়াতে দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টার কাঁধে নতুন দপ্তরের ভার
- ৮ প্রতিমন্ত্রীর দফতর পুনরবণ্টন: প্রশাসনে বড় রদবদল
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
- টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় স্বস্তি, নতুন দর কার্যকর আজ
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা; এক বছরে দাম বাড়ল ৬৪ শতাংশ
- ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে আগুন: এক লাফে বাড়ল ৩ হাজার টাকা
- শহীদ হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি
- কালিগঞ্জে ঘেরের বাসায় আগুন, দখলচেষ্টা ও মাছ লুটের অভিযোগ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
- ২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা
- কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
- নতুন বেতন কাঠামো ও পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল
- আজ নামাজের সময়সূচি জানুন
- রামাদান মাসে কোরানের হাফেজ দের নিয়ে মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের সেহেরি আয়োজন








