জঙ্গল সলিমপুরে আধুনিক কারাগার ও সেনানিবাস করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ও অপরাধপ্রবণ এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে একটি নতুন ও আধুনিক কারাগার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের অবসান ঘটিয়ে এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে কোনোভাবেই আর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে তিনি সরকারের এই মেগা পরিকল্পনার কথা জানান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসন ও রাজনীতির চরম দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের সমান্তরাল ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার অপচেষ্টা হয়েছিল, যার একটি বাস্তব ও প্রত্যক্ষ নমুনা হচ্ছে এই জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চট্টগ্রামে কিছু সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে কিছু নামী ব্যবসায়ীর বাসভবনে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের মতো ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনা ঘটার পর সরকার পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ফলশ্রুতিতে অপরাধীদের পুরোপুরি অবদমন করতে গত ৯ই মার্চ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশপথ ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিজস্ব সশস্ত্র পাহারা বসিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা যে সমান্তরাল সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, তা গত ৯ই মার্চের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের কোনো কোনো ক্ষেত্র থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র্যাবের নির্মাণাধীন অস্থায়ী ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো দুঃসাহস এই অঞ্চলের সন্ত্রাসীরা কীভাবে পেল—তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনে ওতপ্রোতভাবে থাকা বড় ভূমিদস্যু ও মূল রাজনৈতিক ইন্ধনদাতাদের দ্রুত চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তবে জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ ও নিরীহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং জনগণকে সর্বোচ্চ স্বস্তি ও নাগরিক নিরাপত্তা দেওয়া এই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক ও অর্থনৈতিক কারণে যারা দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে এসে বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন বা স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাদের কাউকেই আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। এখানকার প্রকৃত ভূমিহীন বাসিন্দাদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট ও মানবিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তিনি উচ্ছেদ সংক্রান্ত স্বার্থান্বেষী মহলের যেকোনো বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে কান না দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।
জঙ্গল সলিমপুরকে মূল শহরের সাথে যুক্ত করতে একটি শক্তিশালী রোড নেটওয়ার্ক তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, সলিমপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সরাসরি সংযোগ ঘটিয়ে একটি আধুনিক উন্নত রোড নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে। আধুনিক ড্রোন চিত্র ও সড়ক মানচিত্র যৌথভাবে পর্যালোচনা করে এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন যৌথ বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং একটি সেনানিবাসের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এ ছাড়া বায়েজিদ লিংকের আশপাশের খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা মেগা প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদনের আলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি চট্টগ্রামের অন্য দুই অপরাধপ্রবণ এলাকা বেতুয়া ও চা বাগান থেকেও সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূল করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ‘আইনের শাসন’ পুনপ্রতিষ্ঠা করতে গণমাধ্যমকর্মীসহ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জঙ্গল সলিমপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের নবনির্বাচিত সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনসহ স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
/আশিক
সোমবার থেকে নিয়মিত কাজের ছন্দে ফিরছে দেশ, কর্মস্থলে ফিরছেন লাখো চাকুরিজীবী
পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের দীর্ঘ সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে আজ রবিবার (৩১ মে)। উৎসবের আমেজ ও অবকাশ কাটিয়ে আগামীকাল সোমবার (১ জুন) থেকে দেশজুড়ে পুনরায় খুলছে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, আদালত, ব্যাংক, বিমা ও পুঁজিবাজার। ফলে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সব পরিমণ্ডলে আবারও নিয়মিত কাজের চিরাচরিত ব্যস্ততা ফিরতে শুরু করবে।
চলতি বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গত ২৫শে মে থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত টানা সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা টানা সাত দিনের একটি বিশাল অবকাশ যাপনের সুযোগ পেয়েছেন। এই দীর্ঘ বিরতি শেষে আগামীকাল সোমবার থেকে লাখো চাকুরিজীবী সশরীরে তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করছেন।
ঈদের এই লম্বা ছুটির মধ্যেও দেশের জনসাধারণের জরুরি আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কিছু ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা সীমিত পরিসরে খোলা রাখা হয়েছিল। তবে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের সব ব্যাংকে সাধারণ ও প্রথাগত নিয়মে পূর্ণাঙ্গ এবং স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-ও নিয়মিত লেনদেনের সময়সূচি অনুযায়ী সচল হতে যাচ্ছে।
প্রতি বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে সাধারণত অফিস ও ব্যাংকপাড়ায় মূল কাজের চাপ কিছুটা কম থাকে। প্রথম দিন মূলত সহকর্মীদের সঙ্গে কোলাকুলি, ঈদের কুশল এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়েই কেটে যায়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ ছুটির কারণে জমে থাকা দাপ্তরিক ও বাণিজ্যিক ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে কাজের ব্যস্ততা ও চাপ দুটোই বেশ জমে উঠবে।
এদিকে দীর্ঘ ছুটি শেষে নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া রাজধানীমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার ও আজ রবিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। ফলে উৎসবের দিনগুলোতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাজধানীর মূল সড়কগুলোতেও ধীরে ধীরে দূরপাল্লার যানবাহন ও সাধারণ পরিবহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড আবারও চেনা ছন্দে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/আশিক
একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বিএনপি, প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ: আমির খসরু
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি একা দেশের কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারবে না। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এবং সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই কেবল একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
আজ শনিবার (৩০ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কাজীর দেউড়ি মোড়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর-উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) চট্টগ্রামের উদ্যোগে দুস্থ, অসহায় ও পথচারীদের মাঝে খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়ন এবং তাঁর স্বপ্নের আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করার আহ্বান জানান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, "রাজনীতিতে শুধু ক্ষমতা নয়, জনগণের কল্যাণে সার্বক্ষণিক নিবেদিত থেকে তাদের সুখ-দুঃখের প্রকৃত অংশীদার হওয়ার মধ্য দিয়েই শহীদ জিয়ার প্রতি আসল শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।"
বক্তব্যকালে পাশে থাকা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের ঐতিহাসিক স্মৃতি উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, "আমরা আজ এমন একটি ঐতিহাসিক স্থানে দাঁড়িয়ে আছি, যার সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এই সার্কিট হাউসেই দেশবিরোধী এক নির্মম ষড়যন্ত্রে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। ঘাতকরা তাকে সশরীরে হত্যা করতে পারলেও এ দেশের মানুষের হৃদয় থেকে তার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে কখনো মুছে ফেলতে পারেনি।"
তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।
উপস্থিত বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশনা দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, "জনগণই যেকোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের মূল চালিকাশক্তি। তাদের স্বার্থ, নাগরিক চাহিদা ও প্রত্যাশাকে দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। যাদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের রাজনীতি করি, সেই সাধারণ মেহনতি মানুষকে কখনো ভুলে গেলে চলবে না। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের সেই সব প্রত্যাশা পূরণে আমাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।"
/আশিক
জিয়া ও খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর আজকের দিনটিকে সমগ্র দেশবাসী ও গণমানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় এক দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (৩০ মে) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আজকের দিনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এ দেশের সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় একটি দিন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমৃত্যু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অগ্রগতির অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের উষালগ্নে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাঁর যে গৌরবময় উত্থান ঘটেছিল, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়েই পরবর্তীতে তিনি নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেছেন।"
সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে আরও বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের সকলকে একযোগে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত রাজনৈতিক পথ। আমরা এই গভীর শোককে আজ শক্তিতে পরিণত করেছি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশবাসীকে শিখিয়েছেন কীভাবে সব ভেদাভেদ ভুলে সমস্ত মানুষের মধ্যে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে রাষ্ট্রীয় সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হয়। বিএনপি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শকে ধারণ করেই রাজনীতি পরিচালনা করে।
গণতন্ত্রের প্রতি বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, "যত দিন বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি থাকবে, তত দিন এই দেশটিকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করা হবে। ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের যে মূল চেতনা, তার আলোকেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা হবে।" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের সীমাহীন ত্যাগ, আপসহীনতা ও সুকঠিন সংগ্রামের কথাও সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন।
/আশিক
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ ও এর অভ্যন্তরে নানামুখী অনিয়ম খতিয়ে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই নামী চিকিৎসা কেন্দ্রের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিকর ময়লা ও জমা পানি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের ভেতরের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশগত জটিলতার কারণেই চিকিৎসাধীন শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেলে আলোচিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথম দিকে ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং অধিকতর নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩রা জুন এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় যে সমস্ত মায়েরা তাঁদের সন্তানদের হারিয়েছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ভুক্তভোগী মায়েদের জবানবন্দি অত্যন্ত জরুরি হলেও, কিছু মা বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় তদন্ত কমিটির অনুরোধে আগামী ৩রা জুন নতুন ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিবেদনে কোনো ধরণের ঘাটতি না থাকে।
মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) না করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, অতীব ছোট বাচ্চাদের অকাল মৃত্যুর পর কোনো বাবা-মা-ই ধর্মীয় বা আবেগীয় কারণে ময়নাতদন্ত করতে রাজি হননি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই অন্যান্য সমস্ত চিকিৎসাগত ও পারিপার্শ্বিক দিক থেকে সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতাল ভবনের ওপরের একটি তলায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত একটি বিশাল ‘রুটির কারখানার’ সন্ধান পাওয়ার তথ্য দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেখানে বাণিজ্যিক ইলেকট্রিক ওভেনের মাধ্যমে রুটি তৈরি করা হতো। অথচ এতো বড় ওভেন পরিচালনার জন্য সেখানে কোনো পেশাদার ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার বা সেফটি অফিসার পাওয়া যায়নি। ওই কারখানা থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় এমন কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়া তৈরি হয়েছিল কিনা, যা পাশে থাকা শিশুদের সহ্য সক্ষমতার বাইরে ছিল—তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আগামীকালই হাসপাতালে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল আসবে।
হাসপাতালের ভেতরে বাণিজ্যিক কারখানার অস্তিত্ব নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী, রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপদ আবাসন থাকার কথা। এমন একটি অতি সংবেদনশীল জায়গায় কোনোভাবেই রুটির কারখানা থাকা উচিত নয়। এটি মূলত আমাদের নিয়মিত পরিদর্শন বা ইন্টেলিজেন্সের (গোয়েন্দা নজরদারি) বড় ধরনের অভাবের কারণেই হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। ভবিষ্যতে দেশের সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে এই নজরদারি কঠোর করা হবে।" তিনি আরও জানান, হাসপাতালের অপর একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর পানি জমা ছিল। এই নোংরা পানি এবং রুটির কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল বা গ্যাস একত্রিত হয়ে কোনো প্রাণঘাতী পরিবেশ তৈরি করেছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির গঠন ও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বর্তমানে এই বিশেষ কমিটিতে ছয়জন দক্ষ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। কমিটির পরিধি বাড়ানোর আইনি সুযোগ থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ, কারিগরি অবস্থা ও বায়ু পরীক্ষা করার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আসন্ন পবিত্র কুরবানির ঈদের ঠিক আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে লাইফ সাপোর্টে থাকা ছয়টি নবজাতক শিশু হঠাৎ একসাথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে সবকটি শিশুরই করুণ মৃত্যু হয়। একটি নামী হাসপাতালে একসাথে ছয়টি শিশুর এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র উদ্বেগ, শোক ও ব্যাপক নাগরিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
/আশিক
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ ও এর অভ্যন্তরে নানামুখী অনিয়ম খতিয়ে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই নামী চিকিৎসা কেন্দ্রের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিকর ময়লা ও জমা পানি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের ভেতরের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশগত জটিলতার কারণেই চিকিৎসাধীন শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেলে আলোচিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথম দিকে ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং অধিকতর নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩রা জুন এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় যে সমস্ত মায়েরা তাঁদের সন্তানদের হারিয়েছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ভুক্তভোগী মায়েদের জবানবন্দি অত্যন্ত জরুরি হলেও, কিছু মা বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় তদন্ত কমিটির অনুরোধে আগামী ৩রা জুন নতুন ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিবেদনে কোনো ধরণের ঘাটতি না থাকে।
মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) না করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, অতীব ছোট বাচ্চাদের অকাল মৃত্যুর পর কোনো বাবা-মা-ই ধর্মীয় বা আবেগীয় কারণে ময়নাতদন্ত করতে রাজি হননি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই অন্যান্য সমস্ত চিকিৎসাগত ও পারিপার্শ্বিক দিক থেকে সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতাল ভবনের ওপরের একটি তলায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত একটি বিশাল ‘রুটির কারখানার’ সন্ধান পাওয়ার তথ্য দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেখানে বাণিজ্যিক ইলেকট্রিক ওভেনের মাধ্যমে রুটি তৈরি করা হতো। অথচ এতো বড় ওভেন পরিচালনার জন্য সেখানে কোনো পেশাদার ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার বা সেফটি অফিসার পাওয়া যায়নি। ওই কারখানা থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় এমন কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়া তৈরি হয়েছিল কিনা, যা পাশে থাকা শিশুদের সহ্য সক্ষমতার বাইরে ছিল—তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আগামীকালই হাসপাতালে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল আসবে।
হাসপাতালের ভেতরে বাণিজ্যিক কারখানার অস্তিত্ব নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী, রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপদ আবাসন থাকার কথা। এমন একটি অতি সংবেদনশীল জায়গায় কোনোভাবেই রুটির কারখানা থাকা উচিত নয়। এটি মূলত আমাদের নিয়মিত পরিদর্শন বা ইন্টেলিজেন্সের (গোয়েন্দা নজরদারি) বড় ধরনের অভাবের কারণেই হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। ভবিষ্যতে দেশের সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে এই নজরদারি কঠোর করা হবে।" তিনি আরও জানান, হাসপাতালের অপর একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর পানি জমা ছিল। এই নোংরা পানি এবং রুটির কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল বা গ্যাস একত্রিত হয়ে কোনো প্রাণঘাতী পরিবেশ তৈরি করেছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির গঠন ও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বর্তমানে এই বিশেষ কমিটিতে ছয়জন দক্ষ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। কমিটির পরিধি বাড়ানোর আইনি সুযোগ থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ, কারিগরি অবস্থা ও বায়ু পরীক্ষা করার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আসন্ন পবিত্র কুরবানির ঈদের ঠিক আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে লাইফ সাপোর্টে থাকা ছয়টি নবজাতক শিশু হঠাৎ একসাথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে সবকটি শিশুরই করুণ মৃত্যু হয়। একটি নামী হাসপাতালে একসাথে ছয়টি শিশুর এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র উদ্বেগ, শোক ও ব্যাপক নাগরিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
/আশিক
দেশ কোনো সরকার, দল বা ব্যক্তির একার নয়: ২০ কোটি মানুষই এর মালিক
বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট সরকার, রাজনৈতিক দল, পরিবার বা ব্যক্তির একার নয়; বরং দেশের ২০ কোটি নাগরিকের প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের সমান অংশীদার ও মালিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলতে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাজধানীর জুরাইন এলাকায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জুরাইন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সহজ গাণিতিক উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, "আপনি যদি মনে করেন আপনার মাধ্যমে উৎপাদিত এক বা দুই কেজি আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেললে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না, তবে সেটি ভুল ধারণা। আজ এখানে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়েছেন। প্রত্যেকে যদি এভাবে মাত্র ১ কেজি করেও ময়লা নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে যত্রতত্র ফেলেন, তবে মুহূর্তেই সেখানে ১০ হাজার কেজি বা প্রায় ১০ টন ময়লার স্তূপ জমে যাবে।"
তিনি আরও বলেন, শহরের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও মানুষ এবং তাদের বেশিরভাগই সুবিধাবঞ্চিত ও গরিব। অতিরিক্ত ময়লা পরিষ্কার করতে তাদের চরম কষ্ট পোহাতে হয়। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমরা সবাই যদি সচেতন হয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস করি, তবে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কষ্ট যেমন কমবে, তেমনি নাগরিকরা নিজেরাও তাদের সন্তান ও পরিবার-পরিজন নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বসবাস করার সুযোগ পাবেন।
টেলিভিশনের পর্দায় উন্নত বিশ্বের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট দেখার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, "বিদেশের সুন্দর রাস্তাঘাট দেখলে আমাদের মনে এক ধরনের ইতিবাচক হিংসা বা আক্ষেপ তৈরি হয় যে—আমাদের দেশের সড়কগুলো কেন এমন ঝকঝকে ও পরিষ্কার হয় না? উন্নত দেশগুলোর রাস্তাঘাট কিন্তু বাইরে থেকে কেউ এসে পরিষ্কার করে দিয়ে যায় না। সেখানে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের পাশাপাশি সে দেশের সচেতন নাগরিকরাও যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকেন।"
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিজের শহর বা এলাকা পরিষ্কার রাখার এই সাধারণ কাজটি করার জন্য কাউকে সরকারের কোনো বড় পদে অধিষ্ঠিত হতে হয় না। এর জন্য এমপি, মন্ত্রী, মেয়র বা ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। একজন সাধারণ দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মানুষ চাইলেই পকেটে ব্যবহৃত টিস্যু পেপার রাখতে পারেন কিংবা বাদাম খাওয়ার পর খোসাগুলো যত্রতত্র না ফেলে এক জায়গায় জড়ো করতে পারেন।
নিজের পরিহিত পোশাকে হঠাৎ চা বা খাবারের দাগ লাগলে মানুষের যেভাবে খারাপ লাগে, ঠিক একইভাবে আমরা যে এলাকায় বসবাস করি তা নোংরা ও আবর্জনাময় হলে আমাদের মনঃকষ্ট হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী দল-মত নির্বিশেষে ২০ কোটি মানুষের এই প্রিয় মাতৃভূমিকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে তুলতে সব স্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সচেতন হওয়ার জোর তাগিদ দেন।
/আশিক
১ জুলাইয়ের ডেডলাইন ধরে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে স্কেল
দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১লা জুলাই থেকে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে স্কেল’। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরিজীবীদের পাশাপাশি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও বড় ধরনের সুখবর আসছে। মূলত নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনতেই সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ২১শে মে সচিবালয়ে নবম পে স্কেল নির্ধারণে গঠিত সচিব কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নীতি-নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই পে স্কেলে ওপরের স্তরের কর্মকর্তাদের তুলনায় নিচের স্তরের (বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের) কর্মচারীদের মূল বেতন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেতনের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবধান বা বৈষম্য উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে এই সভায় বিশেষ সুপারিশ রাখা হয়েছে।
নতুন এই জাতীয় পে স্কেলের আওতায় সব পর্যায়ের সরকারি চাকুরিজীবী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে সাধারণ ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিচার বিভাগের সব স্তরের কর্মীরা রয়েছেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও সরকার একটি সমন্বিত গাইডলাইন তৈরি করছে, যাতে তারাও এই নতুন কাঠামোর সুফল সমানভাবে ভোগ করতে পারেন।
বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন সুবিধাতেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতি ও বাজারদরের তুলনায় কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের মাসিক পেনশন ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে সচিব কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যেসব পেনশনার বর্তমানে ২০ হাজার টাকার নিচে সুবিধা পাচ্ছেন, নতুন স্কেল কার্যকর হলে তারাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন।
আগামী ১লা জুলাইয়ের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত গতিতে ফাইল ও প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং সরকারি চাকুরিতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এটি একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
/আশিক
মির্জা ফখরুল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পবিত্র সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতির মাজারে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা একযোগে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে নেতারা পবিত্র ফাতিহা পাঠ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী রুহের মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ ও অগ্রগতি প্রার্থনা করা হয়।
উচ্চপর্যায়ের এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ দল ও সরকারের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকরা।
এদিকে, প্রিয় নেতার আগমন ও প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জিয়া উদ্যান ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঢল নামে। রাজধানীর বিজয় সরণি মোড় থেকে শুরু করে জিয়া উদ্যান পর্যন্ত মূল সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন বিপুল সংখ্যক উৎসুক সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মী। তাদের হাতে ছিল দলীয় ও জাতীয় পতাকা, কালো ব্যাজ এবং জিয়াউর রহমানের ছবি সংবলিত নান্দনিক ব্যানার ও ফেস্টুন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শেরেবাংলা নগর এলাকা।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল এবং শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে সংগঠনের নিজস্ব ব্যানার নিয়ে মূল কর্মসূচিতে অংশ নেন। শাহাদাতবার্ষিকীর এই কর্মসূচীকে ঘিরে জিয়া উদ্যান এলাকায় যেমন এক আবেগঘন উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তেমনি যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কঠোর ও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মাজার জিয়ারত ও মোনাজাতের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে টি অ্যান্ড টি খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী এবং বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এছাড়া পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ দিনের বাকি সময় জুড়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে আয়োজিত দলীয় ও সামাজিক মানবসেবামূলক কর্মসূচিতেও সশরীরে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী।
/আশিক
শহীদ জিয়ার স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও প্রশ্নাতীত সততা জনগণের মণিকোঠায় চিরজাগরূক থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও দূরদর্শী এই রাষ্ট্রনায়কের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপ্রধান এই মন্তব্য করেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন, অগাধ দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অটলতা, স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা এবং জীবন আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপ্রধান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এই বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তাঁর অসামান্য অবদান জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের উষালগ্নে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে জিয়াউর রহমান পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তাঁর এই আহ্বান ও স্বাধীনতার ঘোষণা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের জন্য তিনি পরবর্তীতে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তিনি বহুমুখী পরিকল্পনা ও যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের বিশাল শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি অত্যন্ত স্বল্প সময় পেলেও গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়েছেন, তা আজও এক সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- জঙ্গল সলিমপুরে আধুনিক কারাগার ও সেনানিবাস করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা
- ইরান চুক্তির খসড়ায় ট্রাম্পের আপত্তি, চুক্তিতে বড় ধরনের সংশোধনীর নির্দেশ
- মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের আইআরজিসি'র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা
- ৩ উপকূলীয় জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
- বড় ধরনের মোড়ে বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দাম কি আরও কমবে নাকি বাড়বে?
- সোমবার থেকে নিয়মিত কাজের ছন্দে ফিরছে দেশ, কর্মস্থলে ফিরছেন লাখো চাকুরিজীবী
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- সালাহকে অধিনায়ক করে মিসরের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, বড় চমক হামজা
- খুলনা ঘরের ভেতর শাশুড়ি ও দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জনকে নৃশংস হত্যা
- ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বিএনপি, প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ: আমির খসরু
- পুরোনো আইফোন কেনার আগে সাবধান! সেটিংসের Genuine Part দেখেই ফ্রেশ ভাববেন না
- যাত্রার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় বাধ্যতামূলক, হরমুজে জারি হলো রেড অ্যালার্ট
- জিয়া ও খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির আড়ালে টাকা লুটেছেন আসিফ ও হাসনাত
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- দেশ কোনো সরকার, দল বা ব্যক্তির একার নয়: ২০ কোটি মানুষই এর মালিক
- ১ জুলাইয়ের ডেডলাইন ধরে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে স্কেল
- মির্জা ফখরুল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর
- মাংস খাওয়ার পর বমি ও তীব্র পেট ব্যথা? অবহেলা করলে হতে পারে জীবনঝুঁকি
- শহীদ জিয়ার স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি
- কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুঁশিয়ারি
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- বিয়ের মৌসুমে সোনা ও রুপার বাজারে আগুন, অলঙ্কার কিনতে পকেটে টান ক্রেতাদের
- ৩০ মে ২০২৬: ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের নামাজের সঠিক সময়ঘণ্টা
- শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে বিএনপির আট দিনের কর্মসূচি
- বিকল্প লোহিত সাগর রুটেও হুথি আতঙ্ক, তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে এশিয়ার বাজার
- কঙ্কর নিক্ষেপ শেষেই শুরু ফিরতি যাত্রা, জেদ্দা থেকে প্রথম ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন হাজিরা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধস, দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আন্তর্জাতিক দর
- এখন থেকে চিড়িয়াখানায় দেখা যাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে
- একই উপজেলায় ২ শিশু খুন: বিচার ও সমবেদনা আদায়ে প্রশাসন ও সমাজের চরম বৈষম্য
- ভোঁতা ছুরিতেই বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, মাংস কাটার আগে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার উপায়
- কট্টর ইসরায়েল-বিরোধী মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে কেন বিকল্প নেতা ভাবছিল ওয়াশিংটন?
- আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা: জেনে নিন ঈদের রাতের অপরিসীম গুরুত্ব ও ফজিলত
- কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- জলাতঙ্ক রোগে ভুগছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ভ্যাকসিন না দিলে সুস্থ হবেন না: রাশেদ খাঁন
- আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট
- ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র আকাশপথ ঝুঁকি: ফ্লাইট বাতিল করছে বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইনস
- সরকারি পরিসংখ্যানে ভয়াবহ চিত্র: দুই মাসের ব্যবধানে হামের গ্রাসে সাড়ে ৫০০ শিশু
- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের উপস্থিতিতে মুখরিত হবে জাতীয় ঈদগাহ
- ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলেই জরিমানা, মহাখালীতে কড়া হুঁশিয়ারি সেতুমন্ত্রী রবিউল আলমের
- চতুর্থ থেকে দশম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির খসড়া রূপরেখা: কার কত বাড়ছে?
- কুরবানির মাংস বণ্টনের সুন্নতি নিয়ম: জেনে নিন তিন ভাগের সঠিক বণ্টন পদ্ধতি
- মেসির চোট নিয়ে ধোঁয়াশা: ইন্টার মায়ামির স্বস্তির বার্তার পর স্কালোনির নতুন দুঃসংবাদ
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- একটি গরুর দাম ৫৯ কোটি টাকা! গিনেস বুকে নাম তুলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
- মহিষটির চুল দারুণ! ট্রাম্পের নামে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটের আসল সত্য ফাঁস
- ভারতের উত্তর প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় মেহেরপুরে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
- শিশু রামিসা হত্যা মামলা বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি
- কালিগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ,প্রাণনাশের হুমকির দাবি
- বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার কাছে ব্রাজিলের অন্যরকম হার!
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- জলদি জলদি ভাগো, জামাই নাকি! সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে সোনা-রুপার নতুন আকাশচুম্বী দাম
- চাটখিলে কোরবানি হাটের মূল আকর্ষণ ৩০ মণের নোয়াখালীর বস








