মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম? আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৭:৫৮:২৭
মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম? আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগটির বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৭ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তবে এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হামের সংক্রমণে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আজ বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে।

সরকারি সবশেষ হিসাব ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হাম এবং এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৬০১ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ের মোট মৃত্যুর তালিকায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯০ জন এবং রোগটির বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে বাকি ৫১১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশজুড়ে নতুন করে আরও ৫৫ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৯ হাজার ১৯১ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও ১ হাজার ২১০ জন শিশুর শরীরে হামের সদৃশ উপসর্গ বা লক্ষণ শনাক্ত করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে মহামারি শুরুর পর থেকে এই পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ৫৭২ জনে পৌঁছেছে।

ভয়াবহ এই সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার কার্যকরভাবে রোধ করার জন্য শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো আক্রান্ত শিশুকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য জরুরি পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

/আশিক


পাইকারি ও গ্রাহক উভয় পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম, কার্যকর নতুন মূল্য তালিকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৭:১৩:২৯
পাইকারি ও গ্রাহক উভয় পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম, কার্যকর নতুন মূল্য তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

ভোক্তা ও উৎপাদন উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা, সঞ্চালন চার্জ ৮ পয়সা এবং খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। শতাংশের হিসাবে বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জের ক্ষেত্রে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের এই নতুন মূল্য তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা ও গণশুনানি শেষে বিদ্যুতের উৎপাদন ও ক্রয় ব্যয়, আমদানি খরচ, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতের ব্যয় এবং পাইকারি পর্যায়ে সরকারের দেওয়া ভর্তুকির পরিমাণ বিবেচনা করে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই আদেশের ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম আগের ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বেড়ে এখন ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি ইউনিট সঞ্চালন চার্জ দশমিক ৩১৩৫ টাকা থেকে দশমিক ০৭৫১ টাকা বাড়িয়ে দশমিক ৩৮৮৬ টাকা করা হয়েছে, যার অর্থ দাঁড়ায় ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন চার্জ ৩১ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯ পয়সায় পৌঁছাবে।

একই সাথে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ১১ টাকা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন থেকে গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হারে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নতুন করে এই দাম বাড়ানোর পরেও বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে আরও প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

/আশিক


তীব্র তাপদাহের পর অবশেষে মিলতে পারে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১২:৫৯:৪২
তীব্র তাপদাহের পর অবশেষে মিলতে পারে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বিগত কয়েকদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে চলায় তীব্র ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাজধানী ঢাকায় পারদ এখনো অতীতের সব রেকর্ড না ভাঙলেও গরমের তীব্রতায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদদের মতে, অস্বস্তিকর এই আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যার পর দেশের বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, থার্মোমিটারে বর্তমান তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে অবস্থান করলেও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মানুষের শরীরে তা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রার মতো অনুভূত হচ্ছে। বাইরে বের হলেই প্রখর উত্তাপ শরীরে এসে লাগছে এবং অনবরত ঘাম হওয়ার পরেও কোনো স্বস্তি মিলছে না, যার ফলে সামান্য ঠান্ডা বাতাস কিংবা ছায়ার খোঁজ পাওয়াও নগরবাসীর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ বুধবার (৩ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের পূর্বাভাসে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা প্রকাশ করেছে, যেখানে কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকাসহ দেশের বড় অংশ জুড়ে যে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে, তা আরও এক-দুইদিন একই রকম থাকতে পারে এবং এরপর তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করবে। এই সময়ের মধ্যে কিছু এলাকায় হালকা ও ক্ষণস্থায়ী বৃষ্টি হলেও আগামী দুই-একদিনের মধ্যে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা গরম কমাতে সাহায্য করবে। তবে ৫ জুনের আগে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমার সম্ভাবনা কম এবং ঢাকার আবহাওয়াও ৫ জুন পর্যন্ত প্রায় অপরিবর্তিত থেকে এরপর থেকে ধীরে ধীরে শীতল হতে পারে বলে এই আবহাওয়াবিদ জানান।

আজ ভোর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যার ফলে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাস অনুযায়ী ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনাসহ দেশের বড় একটি অংশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বর্তমান মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকবে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

/আশিক


পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১২:৫৫:৫৭
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আইনি প্রক্রিয়াটির এই ধাপ শেষে আদালত পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন। আদালতের সামগ্রিক খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আজ সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়। এরপর সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানাকে এবং ১০টা ৫৭ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে আদালতের হাজতখানা থেকে সরাসরি এজলাসে তোলা হয়।

বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানার সামনে এই মামলার সমস্ত সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান এবং তার কোনো বক্তব্য আছে কি না তা জানতে চান। জবাবে আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অপরাধের সাথে ডলার নামের অন্য এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে এবং নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ে তার ছোট সন্তান ও স্ত্রীর মুক্তির আবেদন জানায়। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও আদালতের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন।

শুনানি চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন এবং বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের এই শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু এবং এ সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১ জুন মামলার বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় গতকাল পর্যন্ত ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আসামি দম্পতিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিলে তা আমলে নিয়ে বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছিল।

/আশিক


জামায়াত আমিরের পিএস-এর দিকেও আঙুল: হাদি হত্যা নিয়ে ওমর হাদির স্ট্যাটাসে চাঞ্চল্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১০:৪১:৩০
জামায়াত আমিরের পিএস-এর দিকেও আঙুল: হাদি হত্যা নিয়ে ওমর হাদির স্ট্যাটাসে চাঞ্চল্য
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির বর্তমান সরকারের একাধিক উপদেষ্টা, মন্ত্রী-এমপি এবং জামায়াতের আমিরের পিএস সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বড় ভাই ওমর বিন হাদি। যুক্তরাজ্যে কর্মরত এই বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তার এমন পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে তিনি পরপর দুটি স্ট্যাটাস দেন, যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে দেশের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রথম পোস্টে ওমর হাদি লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে ইন্টেরিম সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করুন। হাদি হত্যার বিচার না করলে আপনাকেও এরা হত্যা করবে। যেভাবে আপনার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। হাদি হত্যার বিচার আপনি না করলে আপনাকে হত্যা করলেও কেউ বিচার করবে না। হাদি হত্যার বিচার বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য রেড লাইন। হাদি হত্যার বিচার করুন।’

এর ঠিক পরক্ষণেই দেওয়া দ্বিতীয় আরেকটি পোস্টে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে ওমর হাদি উল্লেখ করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরিতে আমিরে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জড়িত। হাদিকে ঢাকা-০৮ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রেসার দিছে আমাদের।’

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে ‘দ্বিতীয় সচিব’ পদে চুক্তিভিত্তিক কর্মরত রয়েছেন ওমর বিন হাদি। একজন স্পর্শকাতর কূটনৈতিক দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা হয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের জড়িয়ে এভাবে প্রকাশ্য ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় তাঁর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক ও নেটিজেন বলছেন, তিনি এর মাধ্যমে সরাসরি সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি মাঠ পর্যায়ের বা কূটনৈতিক কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত অথবা পেশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়—এমন বিষয়ে ফেসবুকে ছবি দেওয়া বা কোনো কিছু লিখতে পারবেন না। কর্মকর্তারা শুধু উদ্ভাবনমূলক ও সরকারি কাজের ইতিবাচক দিকগুলোই প্রচার ও শেয়ার করার অনুমতি রয়েছে।

এদিকে এই দুই ফেসবুক পোস্টের পর ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্পর্শকাতর এই পোস্টগুলো আসলেই ওমর হাদি নিজে দিয়েছেন নাকি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড হয়েছে বা অন্য কারও নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, তা নিয়ে খোদ নেটিজেন ও তাঁর পরিচিত মহলের মধ্যে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

/আশিক


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ২২:০১:৪০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক কূটনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের জন্য এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক গৌরব বয়ে আনলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিশ্বের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি (PGA) পদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের গোপন ব্যালটের এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটাভুটিতে তিনি জয়ী হন। আগামী এক বছর তিনি বিশ্বমঞ্চের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পালন করবেন।

ব্যালটের চুলচেরা লড়াইয়ে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস। নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ১৯০টি ভোটের মধ্যে ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন। ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসকে হারিয়ে বিশ্ব কূটনীতির এই শীর্ষ মুকুট ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ।

বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনীতিতে বাংলাদেশের এই বিজয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ চার দশক বা প্রায় ৪০ বছর পর বাংলাদেশ আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হতে পারল। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার বছর আগে প্রাথমিকভাবে এই পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হলেও অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক-কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা ঘোষণা ও প্রত্যাহারের পর আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশ দ্রুত পরিবর্তিত হয়। কারণ ফিলিস্তিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে মুসলিম দেশগুলোর ভোট বিভক্ত হওয়ার একটা বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই জটিলতা কাটার পর বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নতুন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এই পদের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়, যা আজ এক মহাবিজয়ে রূপ নিল।

জাতিসংঘের এই নতুন সভাপতি ড. খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি মেধার অনন্য স্বাক্ষর রেখে এসেছেন। ড. রহমান ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়মিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে দেশজুড়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সার্ভিসে (বিসিএস পররাষ্ট্র) যোগ দেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখান থেকে তিনি ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. খলিলুর রহমান ১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় (অর্থনৈতিক ও আর্থিক) কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) গ্লোবাল মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কাকতালীয়ভাবে ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী যখন ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন, তখন ড. রহমান তাঁর বিশেষ সহকারী হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)-এ জেনেভায় বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী ২৫ বছর তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপদে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেন এবং জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ও ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনাগুলোর প্রধান লেখক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ড. রহমান ঢাকায় অবস্থিত ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই কন্যা ও চারজন নাতি-নাতনির জনক।

/আশিক


বাজেটের মূল দর্শন অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ: বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১৮:৪৩:৪৮
বাজেটের মূল দর্শন অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ: বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’ (ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি), যাতে দেশের সব মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ পায়। অতীতের বাজেটগুলোতে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে, তাই আসন্ন বাজেটে দরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও গৃহিণীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত দুটি সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণ করে এত স্বল্প সময়ে বাজেট প্রণয়ন করা সরকারের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রান্তিক মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। নতুন বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে, যেখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেট কাটার সুযোগ থাকবে না। এছাড়া দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রান্তিক চাষিদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন করে ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, দেশের মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। এ কারণে সরকার ‘ইউনিভার্সাল ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার’ সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে এবং এই লক্ষ্যে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকেও যুক্ত করা হবে। শুধু বড় শিল্প-কারখানা নয়, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কারুশিল্পও অর্থনীতিতে অবদান রাখে। তাই কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক জটলা ও লাইসেন্স রাজ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী জানান, এখন থেকে ব্যবসার বিভিন্ন অনুমোদন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দিতে হবে এবং বিনিয়োগের পথ সুগম করতে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি’ গড়ে তোলা হচ্ছে। বাজেট ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে একটি কেন্দ্রীয় ‘ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

একই সাথে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দ্রুত পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং শিগগিরই পেশাদার ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিশন গঠন করা হবে, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরে।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

/আশিক


মেলেনি তৃতীয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা: রামিসা হত্যা মামলার রায় এখন সময়ের অপেক্ষা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১৮:১৩:০৬
মেলেনি তৃতীয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা: রামিসা হত্যা মামলার রায় এখন সময়ের অপেক্ষা
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় কোনো তৃতীয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

আজ একই দিনে চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে রেকর্ড ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব পুরোপুরি শেষ হয়েছে। মাত্র একদিনের মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের এই ঘটনা দেশের বিচারিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আগামী আগামীকাল বুধবার (৩ জুন) ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আজ সকালে রামিসার পিতা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লার অশ্রুসিক্ত জবানবন্দির মাধ্যমে এই ঝটিকা সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে রামিসার মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুফু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, ভবনের চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন আদালতে জবানবন্দি দেন।

নাগরিক সাক্ষীদের পর সরকারি ও টেকনিক্যাল সাক্ষীদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। একে একে আদালতে দাঁড়ান কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, আলামত জব্দকারী কর্মকর্তা এসআই রাশেদুল ইসলাম এবং সবশেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষের এই সব সাক্ষীদের কাঠগড়ায় জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ।

এর আগে আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় মামলার প্রধান আসামি নরপিশাচ সোহেল রানাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী ও মূল সহযোগী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে পুরান ঢাকার আদালত চত্বরে আনা হয়। প্রথমে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হলেও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। গতকাল সোমবার এই দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের পর আজই মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে নিয়ে এলো।

/আশিক


পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু: এজলাসে দাঁড়িয়ে বাবার প্রথম সাক্ষ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১১:৩৯:৪৯
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু: এজলাসে দাঁড়িয়ে বাবার প্রথম সাক্ষ্য
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে প্রথম সাক্ষী হিসেবে নিহতের পিতা ও মামলার বাদী হান্নান মোল্লা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁর সাক্ষ্য দেন। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।

বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ দিনভর এই মামলার আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেবেন। এই তালিকায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, ডিএনএ এবং ক্রাইম সিনের আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় প্রতিবেশীরা।

এর আগে আজ সকাল পৌনে ৯টায় কড়া পুলিশি পাহারায় মামলার প্রধান আসামি নরপিশাচ সোহেল রানাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে সরাসরি পুরান ঢাকার আদালত চত্বরে আনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শুরুর আগে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সেন্ট্রাল হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।

মাত্র একদিন আগে, গতকাল সোমবার (১ জুন) আদালত এই দুই আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং একই দিন বিকেলে বাদীসহ মোট ১৭ জন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য জরুরি সমন জারি করা হয়েছিল।

মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশু রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজের ফ্ল্যাট থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে ফুসলিয়ে ও কৌশলে তাদের রুমে ডেকে নেয়। এরপর স্বপ্নার স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতো জোড়া দেখতে পান তিনি।

সন্দেহ হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই তারা শিউরে ওঠেন; শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়ে ছিল রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং বিচ্ছিন্ন মাথাটি রাখা ছিল ঘরের কোণে একটি বড় প্লাস্টিকের বালতির ভেতরে। তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দেওয়া হলে পল্লবী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর লুকিয়ে থাকা ঘাতকের স্ত্রী স্বপ্নাকে আলামতসহ আটক করে।

পরে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা ও খুনি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরদিন, ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার দ্রুততম বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চলমান।

/আশিক


তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১০:১৪:০৯
তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর শুরু হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া দিয়ে। সংশ্লিষ্ট এক নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ২১ ও ২২ জুন তিনি এই দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক ভিভিআইপি বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে দুই দেশের সরকারপ্রধান শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন।

জানা গেছে, নতুন বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (Bangladesh First) নীতির আলোকে এই সফরে প্রবাসী কল্যাণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, শ্রমবাজারের সংকট নিরসন ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ জোরদার করার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় কর্মরত ৯ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং সিন্ডিকেট ও শোষণমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এছাড়া দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), হালাল ফুড সার্টিফিকেশন, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আম রপ্তানির নতুন বাজার খোঁজার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিকের প্রায় ৩৭ শতাংশই বাংলাদেশি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

এদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে। আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে তিনি সেখান থেকেই সরাসরি সরকারি সফরে ভারত অথবা চীনে যেতে পারেন। তিনি আগে নয়াদিল্লি যাবেন নাকি বেইজিং—তা এখনও চূড়ান্ত না হলেও, এই সফরটিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিগত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ভারতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাতিল করে সেখানে চীন ও তুরস্কের সহায়তায় সামরিক জোনে রূপান্তরের সিদ্ধান্তে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও জনকেন্দ্রিক করার উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরের মাঠ প্রস্তুত করে এসেছেন।

অন্যদিকে, পরাশক্তি চীনও বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিংয়ে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীন আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি সফরে পেতে চায়। তারেক রহমান যদি চীন সফরে যান, তবে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (TRCMRP), জ্বালানি খাত, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বড় অঙ্কের বাণিজ্য-বিনিয়োগ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। ইতিমধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম বিদেশ সফরটি বিএনপি সরকারের বাস্তববাদী ও অর্থনৈতিককেন্দ্রিক পররাষ্ট্র নীতির এক বড় পরীক্ষা। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সমান্তরাল ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা নতুন সরকারের জন্য যেমন বড় প্রত্যাশার, তেমনি ভূ-কৌশলগত অবস্থানের কারণে এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনে দেশে মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: