হিজবুল্লাহর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: কী কথা হলো দুই পক্ষের মধ্যে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১৮:২৭:৩২
হিজবুল্লাহর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: কী কথা হলো দুই পক্ষের মধ্যে?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, লেবাননে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈরুতের শহরতলিতে ইসরাইলি বাহিনীর নতুন করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ আদেশের মধ্যেই গতকাল সোমবার (১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি বৈশ্বিক রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর খুব ভালো ফোনালাপ হয়েছে এবং উভয় পক্ষই সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এই সম্ভাব্য চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইল হিজবুল্লাহর ওপর আর কোনো হামলা চালাবে না এবং হিজবুল্লাহও ইসরাইলের ভূখণ্ডে আক্রমণ বন্ধ রাখবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট একই সাথে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও একটি ফলপ্রসূ আলোচনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বৈরুতে বা লেবানন সীমান্তে কোনো মার্কিন সেনা পাঠানো হবে না এবং যেসব মার্কিন সেনা সেখানে যাওয়ার পথে ছিল, তাঁদের ইতোমধ্যে মাঝপথ থেকেই ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বাইরে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বার্তার পর লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও বড় ধরনের ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। হিজবুল্লাহর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ সমগ্র লেবানন জুড়ে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’ সমর্থন করে, যা পরবর্তীতে লেবাননের সার্বভৌম ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পথ সুগম করবে।

তবে বৈরুতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর আক্রমণ বন্ধ করার মতো কোনো ‘আংশিক বা শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতির’ প্রস্তাব তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্সিও (রাষ্ট্রপতির কার্যালয়) নিশ্চিত করেছে যে, হিজবুল্লাহ সমগ্র লেবাননে ‘পারস্পরিক হামলা বন্ধের’ একটি মার্কিন খসড়া প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও লেবানন সরকারের এই ইতিবাচক সুরের বিপরীতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর যুদ্ধংদেহী ও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহ যদি ইসরাইলের শহর ও নাগরিকদের ওপর হামলা পুরোপুরি বন্ধ না করে, তবে ইসরাইলি বিমান বাহিনী বৈরুতের ‘সন্ত্রাসী আস্তানায়’ হামলা চালিয়েই যাবে।

তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে ইসরাইলের এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং এর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের পূর্বপরিকল্পিত স্থল অভিযান অব্যাহত রাখবে। ইসরাইলের নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাৎজও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হিজবুল্লাহর রকেট হামলা চলতে থাকলে বৈরুতে কোনো শান্তি থাকবে না। এই হুমকির মুখে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা নতুন করে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন।

এদিকে, ইরান চলমান মার্কিন আলোচনা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সির’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লেবাননে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলার কারণে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সাথে সব ধরনের পর্দার আড়ালের আলোচনা স্থগিত করেছে। ইরান মূলত গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের স্থায়ী অবসান চায় এবং দাবি আদায় না হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত ‘হরমুজ প্রণালি’ ও ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

তবে এই হুমকি ও প্রতিবেদনকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে মার্কিন আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং যেকোনো সময় সমঝোতা সম্ভব।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। গত সপ্তাহেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) নীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি ইসরাইল ও লেবাননের সামরিক প্রতিনিধিদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। এছাড়াও বিদায়ী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে সরাসরি বৈঠকে বসেছেন, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি আলোচনা।

হিজবুল্লাহকে ওয়াশিংটন অফিশিয়ালি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করলেও লেবাননের প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের বাদ দিয়ে যে কোনো স্থায়ী সমাধান অসম্ভব, তা ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক ফোনালাপের দাবি থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।


কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: সীমান্তে জ্বলছে আগুন, নেপথ্যে কী?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৭ ১০:১৮:০১
কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: সীমান্তে জ্বলছে আগুন, নেপথ্যে কী?

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের আঁচ এবার এসে লেগেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র কুয়েতেও। কুয়েত ও ইরাকের মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে আকাশের দিকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাতভর ইরানের পক্ষ থেকে চালানো একটি বড় ধরণের বিমান হামলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত ৩২টি বৈরী ও শত্রুতামূলক ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ইন্টারসেপ্ট করেছে। এই ড্রোনগুলো কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও তাদের সম্পদগুলোকে নিশানা করে পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক মোতায়েন সাইট এবং লজিস্টিক সাপোর্ট বা রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি ও দায় স্বীকার করেছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি কর্তৃক প্রকাশিত এক সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ইতিহাস, জনগণের সমর্থন, অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধপ্রস্তুতির ওপর ভরসা রেখে আমরা যেকোনো ধরনের চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে পূর্ণ সতর্কতা ও কর্তৃত্বের সাথে দাঁড়িয়ে আছি।" কুয়েতের মাটিতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের এই আকস্মিক ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলেছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


হরমুজের সেতু উড়িয়ে দিল মার্কিন মিসাইল: ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৭ ০৯:৫০:০৪
হরমুজের সেতু উড়িয়ে দিল মার্কিন মিসাইল: ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?

হরমুজের সেতু উড়িয়ে দিল মার্কিন মিসাইল: ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে? আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এখন এক চরম ও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনী, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের ওপর টানা ষষ্ঠ রাতের মতো একযোগে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে মূলত ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য নিখুঁত নিশানা বা প্রিসিশন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের উপর্যুপরি হামলার জবাব দিতে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতাকে চূড়ান্তভাবে পঙ্গু করে দিতেই ওয়াশিংটন এই বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। বর্তমানে এই অঞ্চলে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় প্রস্তুত রয়েছে।

এই উপর্যুপরি হামলায় ইরানের দক্ষিণ খাতের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ধসে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজগান প্রদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস বা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বন্দর আব্বাস থেকে খেমির ও লার শহরের সংযোগকারী ‘গারিভেহ সেতু’, লাতিদান গ্রামের নিকটবর্তী একটি সেতু, কাহুরেস্তান-লার রুটের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং বন্দর-ই খেমির, কেশার ও বন্দর আব্বাসের সংযোগস্থলে নির্মাণাধীন একটি সেতু ও খেমির জেলার মারু গ্রামের একটি সেতু রয়েছে। সেতুগুলো ধসে পড়ায় এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে সাধারণ মানুষকে এই রুটগুলোতে যাতায়াত না করার এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।

সেতুগুলো ধ্বংস করার পাশাপাশি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বন্দর চাবাহারের মেরিটাইম কন্ট্রোল টাওয়ার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনাটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলো। এর বাইরেও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ও দ্বীপগুলোতে উপর্যুপরি হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দস্তি, বোস্তান, সিরিক এবং বন্দর-ই লেঙ্গাহর মতো প্রধান উপকূলীয় শহরগুলোতে বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে, যা বিগত রাতগুলোর তুলনায় অবকাঠামোগত অনেক বেশি ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে বন্দর আব্বাসের ‘তাপে আল্লাহ আকবর’ এলাকা এবং ইরানশাহর শহরের একটি বিমানবন্দরেও সফলভাবে আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী, যার ফলে পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং বিমানবন্দরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পর্যটন দ্বীপ কিশেও তীব্র বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এই প্রলয়ঙ্করী সংঘাতের উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী কাতারেও। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, দেশের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা বেশ কয়েকটি বিমান হামলা প্রতিহত ও ইন্টারসেপ্ট করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এর আগে, কাতারকে লক্ষ্য করে চালানো একটি ইরানি হামলার পর আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের ফলে ওপর থেকে পড়া কামানের টুকরো বা শার্পনেলের আঘাতে কাতারে একজন শিশু আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এই উন্মুক্ত যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রে এর ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় ধরণের আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।


হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ২১:৪১:৩০
হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে সামরিক হামলা চালায়, তবে তার পাল্টা জবাব হিসেবে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক তেল ও জ্বালানি পরিবহনের প্রধান সমুদ্রপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই কৌশলগত পরিকল্পনার বিষয়ে সরাসরি অবগত কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই গোপন সামরিক চালটি বিশ্ববাজারের সামগ্রিক পণ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের চেইনে নতুন এবং অত্যন্ত মারাত্মক একটি হুমকি তৈরি করতে পারে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ইরানের শীর্ষস্থানীয় দুটি সূত্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরে সম্ভাব্য এই নৌ অবরোধের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে নীতিগত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং তেহরানের সেই চূড়ান্ত বার্তাটি হুতি কমান্ডের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তবে এই স্পর্শকাতর রণকৌশলের বার্তাটি ঠিক কোন মাধ্যমে বা কীভাবে হুতিদের কাছে পাঠানো হয়েছে, সূত্রগুলো সেটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তারা শুধু এটুকু নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের এই বিশেষ অনুরোধ বা নির্দেশের বিষয়ে হুতিরা সম্প্রতি সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পেরেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা ও বিস্তারিত জানতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুতিদের একজন শীর্ষ মুখপাত্রের সঙ্গে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষেরই আনুষ্ঠানিক সাড়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে হুতিদের নীতিনির্ধারণী মহলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং এডেন উপসাগরের নিকটবর্তী একটি কৌশলগত পার্বত্য অঞ্চলে ইতিমধ্যে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। এই সমরাস্ত্র মোতায়েনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রধান প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে চলাচলকারী যেকোনো আন্তর্জাতিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালানোর যাবতীয় সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে গোষ্ঠীটি। হুতি যোদ্ধারা এখন শুধু তেহরানের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের জেরে ইরান নিজেই তাদের সীমানায় অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে যে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা যদি বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের মাধ্যমে আরও প্রসারিত হয়, তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মুহূর্তের মধ্যে দ্বিগুণ আকার ধারণ করবে। হুতিদের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্রটি আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, ইয়েমেনের মাটিতে অবস্থানরত ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিশেষ প্রতিনিধিরাই মূলত বাব আল-মান্দেব প্রণালি কখন এবং কীভাবে বন্ধ করা হবে—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সার্বিক অপারেশনাল প্রক্রিয়াটি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবেন।

/আশিক


মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ২০:০৯:৫৮
মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো ধরনের হামলা চালালে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত স্ট্র্যাটেজিক নৌপথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিষয়টির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিরক্ষা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দেবও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

রয়টার্সের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলে নীতিগত আলোচনা হয়েছে এবং হুতি কমান্ডের কাছে ইতিমধ্যে তেহরানের এই চূড়ান্ত বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ইরানের দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের এক উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, হুতিদের লোহিত সাগরে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

তবে এই স্পর্শকাতর বার্তাটি কোন মাধ্যমে হুতিদের কাছে পাঠানো হয়েছে কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও সেতুতে হামলার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার আগে নাকি পরে এটি পাঠানো হয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তারা প্রকাশ করেননি। এই চাঞ্চল্যকর খবরের বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুতিদের মুখপাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে হুতিদের নীতিনির্ধারণী মহলের ঘনিষ্ঠ একটি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, সংগঠনটি ইতিমধ্যে এডেন উপসাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী কৌশলগত অবস্থানগুলোতে তাদের দূরপাল্লার ভারী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন বহর মোতায়েন সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হোদেইদা উপকূলীয় এলাকা এবং এডেন উপসাগরসংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য বাঙ্কারগুলোতে এসব ঘাতক অস্ত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে তেহরান থেকে চূড়ান্ত সংকেত বা সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই তারা লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে একযোগে হামলা শুরু করতে পারে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি ইতিমধ্যে অবরুদ্ধ থাকায় যদি লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিও একইভাবে অচল করে দেওয়া হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুটি সমুদ্র বাণিজ্য পথ একযোগে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এর ফলে এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সাধারণ পণ্য পরিবহনের বৈশ্বিক চেইনটি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ মন্দা ডেকে আনতে পারে।

হুতিদের ভেতরের সূত্রটি আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছে, ইয়েমেনের মাটিতে হুতিদের সামরিক কমান্ড সেন্টারে অবস্থানরত ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিশেষ প্রতিনিধিরাই বাব আল-মান্দেব প্রণালি কখন এবং কীভাবে বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়া একটি আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করেছে, জ্বালানি সরবরাহ রুখে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করার মাধ্যমেই মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা ইরানের প্রধান যুদ্ধকৌশল।

ওই আঞ্চলিক সূত্রটি আরও দাবি করে যে, সংকীর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নৌ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ বা ব্যাহত করতে খুব বেশি অত্যাধুনিক বা ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন পড়ে না। তাদের ভাষায়, প্রণালিটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একটি সাধারণ রাইফেলধারী সশস্ত্র দলও চাইলে এই জলপথে বড় বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, ইরান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের তাদের মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী বিস্তৃত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে। এই ইরানপন্থী আঞ্চলিক জোটে লেবাননের শক্তিশালী হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের কয়েকটি সশস্ত্র শিয়া মিলিশিয়া গ্রুপও রয়েছে, যারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান সংঘাতের বিভিন্ন ফ্রন্টে ইতিমধ্যে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছে। তবে হুতিরা এখন পর্যন্ত এই চলমান দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধে সরাসরি ও পূর্ণ শক্তি নিয়ে অংশ নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরানই মূলত হুতিদের অত্যাধুনিক অস্ত্র, বড় অংকের অর্থায়ন এবং হিজবুল্লাহর অভিজ্ঞ কমান্ডারদের মাধ্যমে আধুনিক সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। তেহরান অবশ্য শুরু থেকেই পশ্চিমাদের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নাকচ করে আসছে।

/আশিক


হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২২:০৪:১৬
হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র যদি কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো অপচেষ্টা চালায়, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সামগ্রিক তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে সরাসরি ও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক কড়া বিবৃতিতে আইআরজিসি অভিযোগ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের জ্বালানি প্রবাহ অবৈধভাবে সীমিত করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনপূর্বক সম্পূর্ণ “জলদস্যুদের মতো” জলদস্যুতামূলক আচরণ করছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন ও তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর ব্যবহৃত অন্যান্য বিকল্প শুল্ক ও রপ্তানি পথও একযোগে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানি এই সামরিক সংস্থাটি।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট ও কঠোর ভাষায় ঘোষণা করে, “আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয় সবার জন্য, নতুবা কারও জন্য নয়।” অর্থাৎ ইরানকে যদি তেল বিক্রি করতে বাধা দেওয়া হয়, তবে অন্য কোনো দেশকেও এই জলপথ ব্যবহার করে তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের এই বিধ্বংসী হুঁশিয়ারি এমন এক মোক্ষম সময়ে সামনে এল, যার কিছুক্ষণ আগেই আইআরজিসি দাবি করেছে যে বাহরাইনে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় তারা সফলভাবে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, বাহরাইনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী পঞ্চম বহরের (5th Fleet) প্রধান সদর দপ্তর অবস্থিত এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এটি ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল কৌশলগত নৌঘাঁটি।

আইআরজিসির আনুষ্ঠানিক দাবি অনুযায়ী, তাদের বিশেষ ‘অপারেশন নসর-২’-এর পঞ্চম ধাপে চালানো এই আকস্মিক হামলায় সুনির্দিষ্টভাবে টার্গেট করা হয়েছে—মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (NSA) একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, একটি আধুনিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, মার্কিন সামরিক যন্ত্রাংশ ও যুদ্ধ সরঞ্জাম রাখার বড় আকারের প্রধান গুদাম এবং মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের বিশাল জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক।

বাহিনীটির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ভোরের আলো ফোটার আগে চালানো ওই নিখুঁত হামলায় মার্কিন ঘাঁটির উল্লিখিত এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস ও মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত” হয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই বড় দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

সর্বশেষ এই রক্তক্ষয়ী হুঁশিয়ারির ঠিক আগেই তেহরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাদের “অবৈধ” ও একপাক্ষিক সামরিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ না করা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি অবরুদ্ধ ও বন্ধ থাকবে।

বিপরীতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং নৌ চলাচলের বৈশ্বিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই মূলত ইরানি সীমানায় নতুন করে বিমান ও নৌ হামলা চালানো হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দাবি করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন এই জলপথের সম্পূর্ণ “নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে এর একমাত্র “রক্ষক” হিসেবে কাজ করবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি অবিলম্বে তাঁদের শর্ত মেনে আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তবে দেশটির প্রধান প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুসহ বড় বড় জাতীয় স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলা আরও বহুগুণ বাড়ানো হবে। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে (Fox News) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানি ভূখণ্ডে স্থল অভিযান (Ground Invasion) চালানোর বিষয়টিও সরাসরি নাকচ করেননি। ট্রাম্প চতুরতার সাথে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজে না করলেও “অন্যরা” (ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ইসরায়েল বা আঞ্চলিক মিত্ররা) এ ধরনের স্থল অভিযান পরিচালনা করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আবারও ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপের’ (Kharg Island) কথা উল্লেখ করে হুমকি দেন।

উল্লেখ্য, ইরানের পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই খার্গ দ্বীপ থেকেই দেশটির উৎপাদিত অধিকাংশ অপরিশোধিত খনিজ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার এটিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন। এমনকি চলতি বছরের শুরুর দিকে এক সমাবেশে তিনি হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র “তেল নেওয়ার জন্য” ও ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু করতে এই দ্বীপটি সামাজিকভাবে দখল করতে পারে।

সূত্র: আরটি


পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব, ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২১:৫২:৪৮
পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব, ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এখন এক নতুন ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এমন বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ (Pickaxe Mountain) নামে পরিচিত অত্যন্ত সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকে পাহাড়ের গভীরে সুনিপুণভাবে লুকানো এই স্থাপনাটিকে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য সামরিক-পারমাণবিক কমপ্লেক্স হিসেবে বিবেচনা করে পশ্চিমা বিশ্ব। মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত মিটার গভীরে অত্যন্ত কঠিন গ্রানাইট পাথরের নিচে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে মাটির অনেক নিচে দুটি বিশাল ও সুরক্ষিত সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স রয়েছে, যা পেন্টাগনের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার (Bunker-buster) বোমা দিয়েও সহজে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরান এই দুর্ভেদ্য পাহাড়ের নিচে অত্যন্ত গোপনে তাদের উন্নত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে জোরালো সন্দেহ করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কৌশলবিদদের মতে, এই ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারটি তেহরানের সামগ্রিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘কৌশলগত ব্যাকআপ’ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা যেকোনো বহিরাগত বিমান হামলা থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে ইরান সরকার ২০২০ সালে এই বিশেষ স্থাপনাটির নির্মাণকাজ শুরু করার পর থেকেই পশ্চিমা দাবিগুলো নাকচ করে আসছে। তেহরানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, এই স্থাপনাটি শুধুমাত্র তাদের বেসামরিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ও নিরাপদ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো গোপন পরিকল্পনা তাদের নেই।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান এই উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘দ্য হিউ হিউইট শো’-তে (The Hugh Hewitt Show) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ও সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব। ইরানিদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে বলুন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের নজরদারির কথা উল্লেখ করে আরও যোগ করেন, আমরা ওই নির্দিষ্ট পাহাড়ি এলাকাটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে তেমন কোনো প্রকাশ্য কার্যক্রম এখন আমাদের চোখে পড়ছে না এবং তাদের পারমাণবিক অবস্থানও কৌশলগতভাবে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। তিনি মার্কিন সামরিক গোয়েন্দাদের সক্ষমতা তুলে ধরে বলেন, যখনই আমরা সেখানে বা অন্য কোথাও কোনো ধরনের সন্দেহজনক তথ্য পাই, আমরা সাথে সাথে তা ধ্বংস করার ছক কাটি। তাই তারা (ইরানিরা) এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে খুব একটা কথা বলতে চায় না। তবে আমি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, খুব শিগগিরই আমরা ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতে সরাসরি হামলা চালাতে পারি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সরাসরি হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশকে আরও মেঘাচ্ছন্ন করে তুলেছে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

/আশিক


নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের নিজস্ব কৌশলের কাছে হার মানল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২০:২৯:১১
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের নিজস্ব কৌশলের কাছে হার মানল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের চুক্তি ভঙ্গ করলেও ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আগের মতোই স্বাভাবিক ও অব্যাহত রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ।

বুধবার (১৫ জুলাই) তেহরানে এক রাষ্ট্রীয় বক্তব্যে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় অস্থায়ীভাবে তেল-নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পরও ইরান অসতর্ক থাকেনি। বরং বহু বছর ধরে অত্যন্ত সফলভাবে গড়ে তোলা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির নিজস্ব বিশেষ ও বিকল্প ব্যবস্থাগুলো তেহরান পুরোপুরি সচল রেখেছিল।

পাকনেজাদের মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই এটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্বের স্বভাবসুলভ আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এই চুক্তির শর্তগুলো সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সুবর্ণ সুযোগটি ইরান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছে। ওই সীমিত সময়ের মধ্যেই তেহরান তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মার্কিন অবরোধসীমার বাইরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়।

ইরানের তেলমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বর্তমানে তেহরান এমন এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে যার মাধ্যমে মার্কিন চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আগের মতোই নির্বিঘ্নে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রি ও সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নতুন খড়্গ সত্ত্বেও ইরানের তেল রপ্তানি কার্যক্রম পূর্ববর্তী সফল কাঠামোর মধ্য দিয়েই সক্রিয় রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির জন্য দেওয়া বিশেষ ছাড় বা অনুমোদন হুট করেই বাতিল করে দেয়। তেহরান ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অন্যতম নগ্ন উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। এই বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, অপর পক্ষ যদি বিশ্বস্ততার সাথে চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তবেই কেবল তেহরান সমঝোতা বাস্তবায়ন করবে। অন্যথায় পারস্পরিক স্বার্থ ও সমানুপাতিক জবাবের ভিত্তিতেই ইরান আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের পরবর্তী কঠোর অবস্থান নির্ধারণ করবে।

/আশিক


আমেরিকার সাথে কোনো আলোচনা নয়, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৮:৫৩:০৩
আমেরিকার সাথে কোনো আলোচনা নয়, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো অবস্থাতেই ইরান নিজে থেকে কোনো আলোচনার টেবিলে বসবে না এবং বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ তেহরান সম্পূর্ণ নিজের হাতে রাখতে চায় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি (IRIB)-কে দেওয়া এক বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশটির এই কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান স্পষ্ট করেন।

সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের বৈরী নীতির তীব্র সমালোচনা করে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গারিবাবাদি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা চাঙ্গা রেখে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মনীতি নিয়ে কথা বলা এক ধরনের বড় প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বিশ্বজুড়ে সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও চুক্তি অনায়াসে লঙ্ঘন করে, তাই তারা অন্য কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রকে আইনি উপদেশ দেওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতাও রাখে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই আমাদের আন্তর্জাতিক আইন শেখাতে পারে না।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গে এই শীর্ষ কূটনীতিক জানান, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ওমানের সঙ্গে এই প্রণালির কিছু অংশের যৌথ মালিকানা বা অংশীদারিত্ব থাকলেও, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিটি সম্পূর্ণ যুদ্ধকালীন। তাই এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো হরমুজ প্রণালির একক ও নিচ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণ তেহরানের নিজের হাতে রাখা অত্যন্ত জরুরি ও আবশ্যিক।

উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল ও বৃহত্তম জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নজিরবিহীনভাবে তুঙ্গে উঠেছে। ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য নৌ-অবরোধ ও কার্গো জাহাজে শুল্ক আরোপের হুমকির বিপরীতে ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এক ভয়াবহ ও সর্বাত্মক সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:৩১:১৬
যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী লেখক ও সাংবাদিক ই. জিন ক্যারলকে ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ফেডারেল জুরির দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সব ধরনের আপিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এসক্রো অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত অর্থ গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যারলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফেডারেল আদালতের হালনাগাদ নথিতে দেখা যায়, সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে পূর্বের রায় বহাল থাকে এবং মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক ক্ষতিপূরণের অর্থ অবমুক্ত করার নির্দেশ দেন। আদালতের অনলাইন ডকেটেও অর্থ পরিশোধের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মামলাটির সূত্রপাত হয় ই. জিন ক্যারলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তার দাবি ছিল, ১৯৯০-এর দশকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরবর্তীতে অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি ট্রাম্প তার সম্পর্কে প্রকাশ্যে যে মন্তব্য করেন, তা মানহানিকর বলে অভিযোগ তোলেন ক্যারল।

২০২৩ সালে ফেডারেল আদালতের জুরি বোর্ড অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দায়ী এবং পরবর্তী মন্তব্যের মাধ্যমে ক্যারলের মানহানি করেছেন বলে রায় দেয়। সেই রায়ের ভিত্তিতেই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়।

ই. জিন ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান এক বিবৃতিতে বলেন, জুরির নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ তার মক্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে পেয়েছেন। তিনি আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়াকে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিস বিষয়টি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তবে ট্রাম্পের পক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারী আইনজীবী অ্যারন হারিসন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়া শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তই এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এর ফলে নিম্ন আদালতের রায় কার্যকর হয় এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ হস্তান্তরের আইনি বাধা দূর হয়।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত দেওয়ানি মামলাগুলোর একটি। শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, ব্যক্তিগত অভিযোগ, মানহানি এবং রাজনৈতিক প্রভাব সব মিলিয়ে মামলাটি দেশটির বিচারব্যবস্থা ও জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

পাঠকের মতামত: