পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১২:৫৫:৫৭
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আইনি প্রক্রিয়াটির এই ধাপ শেষে আদালত পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন। আদালতের সামগ্রিক খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আজ সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়। এরপর সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানাকে এবং ১০টা ৫৭ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে আদালতের হাজতখানা থেকে সরাসরি এজলাসে তোলা হয়।

বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানার সামনে এই মামলার সমস্ত সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান এবং তার কোনো বক্তব্য আছে কি না তা জানতে চান। জবাবে আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অপরাধের সাথে ডলার নামের অন্য এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে এবং নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ে তার ছোট সন্তান ও স্ত্রীর মুক্তির আবেদন জানায়। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও আদালতের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন।

শুনানি চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন এবং বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের এই শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু এবং এ সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১ জুন মামলার বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় গতকাল পর্যন্ত ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আসামি দম্পতিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিলে তা আমলে নিয়ে বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছিল।

/আশিক


বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৮:২১:৫৯
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সংকট পুরোপুরি নিরসনে অর্থমন্ত্রী দুই বছর সময়ের কথা উল্লেখ করলেও চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এত দীর্ঘ সময় লাগবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং জ্বালানি সরবরাহজনিত সাময়িক জটিলতা কাটলেই অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে অর্থমন্ত্রী মূলত পুরো খাতের স্বনির্ভরতা ও স্থায়ী সমাধানের সময়সীমা নির্দেশ করেছিলেন। দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পুরোদমে চালু হতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।

এর পাশাপাশি বাপেক্সের মাধ্যমে প্রায় ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখনন এবং ভোলার গ্যাস জাতীয় পাইপলাইনে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চলতি সেপ্টেম্বরেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু এবং আগামী বছর পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এলএনজি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব দেশের ওপর পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এবং ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের মানুষ বিদ্যুতের স্বাভাবিক সুবিধা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

/আশিক


ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৮:১৬:২২
ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে যেমন ঢাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে না, তেমনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীও যেন ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়—এমন দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সমসাময়িক বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে পারস্পরিক সম্মান, জাতীয় স্বার্থ এবং উভয় দেশের সরকারপ্রধানের সুবিধাজনক সময় সমন্বয়ের ভিত্তিতে একটি উপযুক্ত সময়ে এই দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হবে।

সফর নিয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ না থাকায় কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, তারিখ নির্ধারিত না হওয়া মানেই যোগাযোগ বা আলোচনা থমকে যাওয়া নয়; উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এ সময় ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আলোচনার একটি পর্যায়ে ৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটেছিল, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে গভীরভাবে আঘাত হানে। ঢাকা সেই উদ্বেগের বিষয়টি দিল্লির কাছে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে এবং সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা নিয়েই বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা নতুন করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৮:০৪:৫০
অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে পুরোপুরি ‘জনগণকেন্দ্রিক’ (পিপল টু পিপল) করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের পারস্পরিক চ্যালেঞ্জ ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে যৌথ উন্নয়নের স্বার্থে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীত নিয়ে আটকে থাকলে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষেও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে দীনেশ ত্রিবেদী স্পষ্ট করেন যে, একজন কূটনীতিক হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থনে নির্বাচিত সরকার এবং দেশের জনগণই ভালো বুঝবেন তাঁদের জন্য কোনটি কল্যাণকর। তিনি যোগ করেন, দিল্লির প্রতিনিধি হিসেবে ভারত সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও সমতার ভিত্তিতেই অংশীদারত্ব এগিয়ে নিতে চায়। ভৌগোলিক সীমানা ও যৌথ স্বপ্ন ভাগাভাগি করার কারণে প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের দায়িত্বও বেশি।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুক্তবাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে আটকে না থেকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, এটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। বৈঠকে স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভারতের সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

/আশিক


জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ২১:৩৫:২০
জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসী ও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে সোমবার (৩১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সবসময় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে চায়। দিনটিকে দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার দিন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান দলটির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি যুগান্তকারী মাইলফলক ছিল। বাকশালের একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পর শহীদ জিয়ার হাত ধরেই দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল বলে তিনি স্মরণ করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বিএনপিকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে যারা জীবন দিয়েছেন ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অবদান চিরস্মরণীয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিএনপি বারবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন ও নারী শিক্ষার প্রসারের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ বিএনপি সরকারই নিয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসনের পর নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও বিএনপিকে দেশ গড়ার ম্যান্ডেট দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি একটি জনকল্যাণমূলক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

/আশিক


দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৯:০৭:১২
দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নতুন এই বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত রূপরেখা সম্পর্কে জানাতে কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেস ব্রিফিংয়ে আসছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত নতুন পে-স্কেলে গ্রেড-১-এর সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সার্বিকভাবে নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত মূল বেতন ও ভাতাসমূহ মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আরও ৩৫ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে; পাশাপাশি ভাতাসমূহ একই অর্থবছরের জানুয়ারিতে কার্যকর করার সুপারিশ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এখন পে-স্কেল কার্যকরের প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, যার গেজেট প্রকাশে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে সরকারি কর্মচারীরা আগামী অক্টোবর থেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন উত্তোলন করতে পারবেন। তবে পে-স্কেলটি ১ জুলাই থেকেই ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর ধরা হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া বেতন পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

উল্লেখ্য, অষ্টম পে কমিশন গঠনের দীর্ঘ এক দশক পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই আজ এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেল। এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

/আশিক


একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৮:২৫:০৭
একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
ছবি : সংগৃহীত

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকেরা তাঁদের হিসাবে জমা থাকা সম্পূর্ণ মূল অর্থ এককালীন উত্তোলন বা নগদায়ন করার সুযোগ পাবেন; তবে এ ক্ষেত্রে জমা অর্থের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। আমানত উত্তোলনের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলোতে আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু হবে।

ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অপারেশনসের প্রধান সমন্বয়ক এ এফ সাব্বির আহমদ স্বাক্ষরিত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে সব বিভাগীয় প্রধান, জোনাল প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাভাবিক লেনদেন চালুর কথা থাকলেও শাখাগুলোতে নগদ অর্থের চাহিদা নিরূপণ, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ ক্যাশ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত কয়েক দিন সময় প্রয়োজন। ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ ফেরতের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আল-ওয়াদিয়া চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং বিভিন্ন মেয়াদি আমানত প্রকল্প—যেমন এমটিডিআর ও ডিপিএস গ্রাহকেরা তাঁদের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে যেসব আমানতকারী হিসাব বন্ধ না করে বহাল রাখবেন, তাঁরা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে নিয়মিত মুনাফা পেতে থাকবেন এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ অবাধে লেনদেনের সুযোগ পাবেন।

আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ১ সেপ্টেম্বরকে বিশেষ দিবস হিসেবে উদযাপনের নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিন শাখাগুলো দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো, কর্মকর্তাদের নির্ধারিত পোশাকে উপস্থিতি, গ্রাহকদের ফুল বা উপহার দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো এবং জ্যেষ্ঠ নাগরিক, নারী ও প্রতিবন্ধী গ্রাহকদের অগ্রাধিকারমূলক সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আর্থিক সংকট ও অনিয়মের মুখে পড়া এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। ব্যাংকটিতে বর্তমানে ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে, যার মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী আমানত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। একীভূত এই ব্যাংকগুলোর ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশই খেলাপি এবং মূলধন ঘাটতি দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি। সরকারি মালিকানাধীন এই ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা; যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

/আশিক


কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ দ্রুত চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন ঐকমত্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ২১:২৯:৫৪
কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ দ্রুত চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন ঐকমত্য
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে ‘কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ’ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে ‘কৌশলগত সংলাপ’ দ্রুততম সময়ে শুরুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব দ্বিপক্ষীয় বিষয় উঠে আসে বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের এক ‘বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বেইজিংয়ের ‘এক চীন নীতি’র প্রতি ঢাকার অবিচল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার হওয়া এবং তা ‘অংশীদারিত্বমূলক ভবিষ্যতের লক্ষ্যে চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং দেশটির নির্বাহী উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেন।

সাক্ষাৎকালে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ শুরু, বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানি প্রক্রিয়া চালু, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং রোহিঙ্গা সংকট টেকসইভাবে সমাধানে যৌথ সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলোআপ হিসেবে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের অগ্রগতি প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, ‘চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে; এর পাশাপাশি মোংলায় একটি নতুন ইপিজেড প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও অগ্রগতি হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে অন্তত ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে, যা স্থানীয়ভাবে প্রায় ১ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

এছাড়া আসন্ন দিনগুলোতে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিআইডিসিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগের মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ডেপুটি গভর্নরের মতো উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীকে জানান রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে আগামী অক্টোবর মাসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান ইয়াও ওয়েন।

সূত্র: বাসস


তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:২৯:১১
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন চীনা রাষ্ট্রদূত। বিকেলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ বৈঠকের বিস্তারিত নিশ্চিত করেন। সাক্ষাৎকালে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণও জানান ইয়াও ওয়েন।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল ও বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অগ্রগতির সারসংক্ষেপ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন চীনের রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের ধারাবাহিকতায় ‘চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদন এবং মোংলায় নতুন এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি এ সময় আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আশা প্রকাশ করেন, অন্তত ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার নতুন বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশে প্রায় ১ লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া আলোচনা সভায় তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ চালু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘টু প্লাস টু’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরুর উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন, দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং রোহিঙ্গা সংকট টেকসইভাবে সমাধানে যৌথ সহযোগিতার নানা দিক উঠে আসে। এ সময় অতীতে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চীন সফরের স্মৃতিচারণ করেন রাষ্ট্রদূত। উভয় পক্ষই আগামী দিনগুলোতে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

/আশিক


বিগত ১৬ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি চায় রাষ্ট্র

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:১৫:০৩
বিগত ১৬ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি চায় রাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত

স্বজন হারানোর শোক হয়তো সময়ের ব্যবধানে অশ্রুর মাধ্যমে কিছুটা হালকা হয়, কিন্তু একজন প্রিয় মানুষ বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—তা না জেনে অন্তহীন অপেক্ষার প্রহর গোনার চেয়ে বড় কোনো যন্ত্রণা হতে পারে না।

এই দীর্ঘ অপেক্ষা একদিকে যেমন গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করে, অন্যদিকে তা পরিবারগুলোর জন্য এক অনিশ্চিত ও দুর্বিষহ জীবনের নামান্তর। ৩০ আগস্টের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসটি কেবল বলপূর্বক অন্তর্ধানের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করার উপলক্ষ নয়; এটি সেইসব অশ্রুসিক্ত মা, অপেক্ষমাণ স্ত্রী, পিতৃহারা সন্তান এবং অন্ধকার দূর করার লড়াইয়ে থাকা পরিবারগুলোর নীরব আর্তনাদকে উপলব্ধি করার দিন।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারের মাধ্যমে গুমের সংস্কৃতি নিয়মিত ঘটনায় রূপ নিয়েছিল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুমের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে।

কমিশনের কাছে জমা পড়া ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৮৭টি ঘটনা ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ বা নিখোঁজের পর নিহত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাস্তবতার নিরিখে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত দৈনিক সমকালের তথ্য অনুযায়ী, বিগত শাসনামলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৩১২ জন নেতাকর্মী বলপূর্বক গুমের শিকার হন, যাঁদের মধ্যে ১০৭ জন আর কখনোই ফিরে আসেননি এবং ধারণা করা হয় যে তাঁদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতেই হত্যা করা হয়েছে।

তদন্ত কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নথিভুক্ত ১ হাজার ৫৬৪টি গুমের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১৫টি ঘটনা ঘটেছিল ২০১৬ সালে। এ ছাড়া ২০১৭ সালে ১৯৪টি, ২০১৮ সালে ১৯২টি, ২০১৯ সালে ১১৮টি, ২০২২ সালে ১১০টি এবং ২০২৩ সালে ৬৫টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়।

প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দেখায় যে, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুমের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে যেত; যার প্রমাণ মেলে রাজনৈতিক পরিচয় চিহ্নিত হওয়া ৯৪৮ জনের তালিকায়, যেখানে এখনো নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীর সংখ্যাই প্রায় ৬৮ শতাংশ।

২০১২ সালে নিখোঁজ হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর পরিবারের মতো শত শত পরিবারের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, তৎকালীন সরকার কীভাবে আশ্বাসের নামে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে স্বজনদের বিভ্রান্ত রেখেছিল। একটি পরিবারের কাছে প্রিয়জনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট খবর পেলেও অন্তত শোক প্রকাশের সুযোগ থাকে, কিন্তু নিখোঁজের অনিশ্চয়তা পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত নতুন করে মৃত্যুর সমান মানসিক যন্ত্রণা দেয়।

ভুক্তভোগীদের এই দীর্ঘ বঞ্চনার প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর যৌথ আয়োজনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্বজনদের হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণা শুনে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বাবার হাত ধরে বিদ্যালয়ে না যেতে পারা কিংবা মাত্র দুই মাস বয়সে পিতৃহারা হয়ে জীবনে একবারের জন্যও ‘বাবা’ ডাকতে না পারার মতো সন্তানদের কান্না দেশের সম্মিলিত বিবেককে নাড়া দেয়।

প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং শেখ হাসিনাসহ অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে আবারও এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। তবে এই বিচার কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের মাধ্যমে নয়, বরং কঠোর আইনি প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতেই সম্পন্ন হতে হবে।

অতীতের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং স্থায়ী মানবাধিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে। এই আইনের মাধ্যমে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, জামিন-অযোগ্য, আমলযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে, যাতে রাষ্ট্রযন্ত্র বা যেকোনো বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ চিরতরে রুদ্ধ হয়।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত অঙ্গীকার হওয়া উচিত—কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে যেন আর কাউকে বলপূর্বক নিখোঁজ হতে না হয় এবং প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার যেন দ্রুততম সময়ে সত্য, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার লাভ করে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: