কোটার প্রশ্নে আগুন ছড়িয়ে দিল রাজু ভাস্কর্য থেকে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০১ ০৯:১৫:৩২
কোটার প্রশ্নে আগুন ছড়িয়ে দিল রাজু ভাস্কর্য থেকে

১ জুলাই ২০২৫, বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'-এর ব্যানারে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় সংগঠিত ছাত্রআন্দোলন, যার কেন্দ্রে ছিল সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস ও পুনর্বহালের দাবি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের সূচনা হয় সকালে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের জড়ো হওয়ার মধ্য দিয়ে। সেখানে অবস্থান কর্মসূচির পর বর্ণাঢ্য মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও হল প্রদক্ষিণ করে ফের রাজু ভাস্কর্যে সমবেত হয়। পরবর্তীতে আয়োজিত সমাবেশ থেকে ঘোষণা আসে: ৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করা হবে।

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম (বর্তমানে এনসিপির আহ্বায়ক) সরকারের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন ৪ জুলাইয়ের মধ্যে আন্দোলনকারীদের দাবির আইনগত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গ্রন্থাগার, হল ও চিকিৎসাসেবাসহ শিক্ষার্থীদের সব ধরনের সুবিধা সচল রাখার দাবি জানান। বিশেষভাবে তিনি ‘প্রত্যয় স্কিম’-বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষকদের প্রতি সংহতি জানালেও শিক্ষার্থীদের অধিকার যেন এতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকেই আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ২, ৩ ও ৪ জুলাই শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময়ে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বাকৃবি) আরও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি।

আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল ২০১৮ সালের সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহাল করা এবং ভবিষ্যতে যদি সরকার কোটাব্যবস্থা নিয়ে কোনো পরিবর্তন আনতে চায়, তবে তা যেন একটি কমিশনের মাধ্যমে হয়। সেই কমিশনের দায়িত্ব হবে যুক্তিসঙ্গতভাবে বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক কোটা বাতিল করে একটি স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

এই আন্দোলনের পেছনে যে নীরব সংগঠন ও প্রস্তুতির ধারা ছিল, তা তুলে ধরেন আন্দোলনের শুরুর দিন মাঠপর্যায়ের সংগঠক আবু বাকের মজুমদার। বর্তমানে তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি জানান, ৫ জুন মুক্তিযোদ্ধা কোটাবাতিল-সংক্রান্ত সরকারি পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে উচ্চ আদালতের রায় দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং ৫-৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়।

৩০ জুন পর্যন্ত সরকারের প্রতি দেওয়া হয় সময়সীমা, যে সময়ের মধ্যে কোনো সদুত্তর না আসায় ১ জুলাই থেকে সারা দেশে সংগঠিতভাবে আন্দোলনের ঘোষণা কার্যকর হয়। এই সময়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১১টি স্থানে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে একযোগে আন্দোলন শুরু হয়। পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি জায়গায় ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারেও প্রতিবাদ হয়।

আন্দোলনের প্রথম দিনেই স্পষ্ট হয় যে, এটি ছিল হঠাৎ গড়ে ওঠা বিক্ষোভ নয়, বরং জুন মাসজুড়ে চলে আসা সুসংগঠিত প্রস্তুতির ফলাফল। সংগঠন গঠনের দিক থেকেও এই আন্দোলন দেশের ছাত্ররাজনীতিতে একটি নতুন ধারা ও ভাষা সৃষ্টি করে যা রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে, মৌলিক অধিকার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ছাত্রদাবির প্রতিনিধিত্ব করে।

১ জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু কোটাব্যবস্থার ইস্যুতে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অধিকারের প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রতিবাদের প্রতীক। সময় যত গড়াবে, এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা, এর রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অভিঘাত ও ফলাফল নিয়েই মূল প্রশ্নটি সামনে আসবে এই ছাত্রজাগরণ কি কেবল ক্ষণস্থায়ী চাপ, না কি এটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা?

-ইসরাত, নিজস্ব প্রতিবেদক


প্রধানমন্ত্রীর  উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৯:৩০:৪৬
প্রধানমন্ত্রীর  উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আটজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি মোট ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, মন্ত্রী পদমর্যাদায় তিনজনকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। পাশাপাশি মন্ত্রী পদমর্যাদায় মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর–কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এছাড়া মাহদী আমিনকে একযোগে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তদারকি করবেন।

অন্যদিকে রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনিক কাঠামোয় এই দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের রূপরেখা স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রফিক


যমুনা ছাড়ছেন কবে ড. ইউনূস, কোথায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৫:০০:১০
যমুনা ছাড়ছেন কবে ড. ইউনূস, কোথায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে নতুন সরকার। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় সমাপ্ত হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন জনমনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছাড়বেন এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোথায় তার সরকারি আবাস স্থাপন করবেন।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন নোবেলজয়ী ড. ইউনূস। সে সময় গণভবন বসবাসের অনুপযোগী থাকায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ‘যমুনা’ ভবনকে তার অস্থায়ী সরকারি বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করে। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর রমনা জোনের এডিসি মীর আসাদুজ্জামান।

ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, গুলশানে তার নিজ বাসভবনে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় তিনি পরিবারসহ সাময়িকভাবে যমুনায় অবস্থান করছেন। সংস্কার শেষ হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি স্থায়ীভাবে নিজ বাসায় ফিরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কেই তার সরকারি বাসভবন হিসেবে পছন্দ করেছেন। তবে দায়িত্বভার গ্রহণের আগে ভবনটিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিন্যাস সম্পন্ন করা হবে। রমনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংস্কার কার্যক্রম শেষ হতে আনুমানিক দুই মাস সময় লাগতে পারে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভবনটি খালি হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে তা ব্যবহারের উপযোগী করা হবে এবং প্রায় এক মাসের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ নকশা ও নিরাপত্তা কাঠামোয় সমন্বয় আনা হবে।

দায়িত্ব ছাড়লেও অধ্যাপক ইউনূস দেশেই অবস্থান করবেন বলে নিশ্চিত করেছে তার ঘনিষ্ঠ মহল। আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ‘ইউনূস সেন্টার’-এ নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরবেন। সেখানে তিনি তার বহুল আলোচিত ‘থ্রি জিরো’ ধারণা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ নিয়ে গবেষণা ও কর্মসূচি পরিচালনা করবেন।

এছাড়া, পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক সূচি অনুযায়ী আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন–এর আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের সফরে টোকিও যাওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে নির্ধারিত বক্তৃতা ও বৈঠক শেষে তিনি পুনরায় দেশে ফিরবেন।

-রাফসান


শেয়ারবাজারে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: অর্থ মন্ত্রী আমীর খসরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৩:৫১:০৮
শেয়ারবাজারে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: অর্থ মন্ত্রী আমীর খসরু
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে কাঠামোগত রূপান্তরের ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আগামী বাজেট হবে প্রচলিত ধারা থেকে ভিন্ন এবং এতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণের স্পষ্ট রূপরেখা থাকবে। পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের বহুমাত্রিক পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিকে ‘উত্তোলনের পথে’ নিতে হবে এবং পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। তার ভাষায়, দেশের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে সামনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা যাবে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করার এখনই উপযুক্ত সময়। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্দর কার্যক্রমের আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং লজিস্টিক ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নত করা হলে বৈদেশিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কর্মসংস্থানকে দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জনগণ যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সরাসরি পায়, সে ধরনের নীতি প্রণয়নে সরকার কাজ করছে। অর্থনীতিকে আরও উন্মুক্ত ও গতিশীল করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেয়ারবাজারে কাঠামোগত সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে বাজারে আস্থা ফিরতে পারে। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়তে পারে।

মন্ত্রী অবশ্য স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের হাতে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সামনের বাজেটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

-রফিক


ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কমিটি: দায়িত্বে আছেন যারা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ২১:৫৯:৫০
ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কমিটি: দায়িত্বে আছেন যারা
ছবি : সংগৃহীত

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদানে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে আরও ১৪ জনকে সদস্য করা হয়েছে।

সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এ ছাড়া কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদসচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

এর আগে বিএনপি ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা প্রথমেই হতদরিদ্র পরিবার পাবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ। তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য বেশ কিছু জেলা ও উপজেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমে হতদরিদ্র পরিবারকে এই সুবিধা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা বাড়ানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নগদ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হতদরিদ্র পরিবারের নারীদের নগদ টাকা তাদের পরিবারের জন্য অনেক গুরুত্ব বহন করে। দু-এক দিনের মধ্যে ঠিক করা হবে প্রাথমিকভাবে কত মানুষ এ সুবিধা পাবেন।

/আশিক


সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলা চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৯:৫০:৫১
সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলা চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে সেটা চাঁদার পর্যায়ে পড়ে না বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে সেটা চাঁদা নয়, বরং টাকা দিতে বাধ্য করা হলে সেটা চাঁদা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয় সেটা নিয়ে হয়ত বিতর্ক আছে। কিন্তু, তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করেন।

রবিউল আলম আরও বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ অনেক সংস্থা আছে। তারা এটা সমঝোতার ভিত্তিতে করে (টাকা তোলে)। সেখানে আবার প্রাধান্য পায় যখন যার প্রভাব থাকে। যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের শ্রমিক সংগঠনের একটা আধিপত্য থাকে। কিন্তু, এটা চাঁদা আকারে আমাদের কাছে দেখার সুযোগ হচ্ছে না। কারণ, তারা সমঝোতা ভিত্তিতে এটা করছে। তিনি বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসব জায়গা আছে সেখানে বাইরে থেকে কেউ চাপ প্রয়োগ করে চাঁদা নেবে বা সুবিধা নেবে সে সুযোগ নেই। কিন্তু মালিকরা যদি সমঝোতার ভিত্তিতে সেটা করে, তাহলে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখব যে, সেখানে কেউ বঞ্চিত হচ্ছে কি না এবং সেই অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না।

এরপর সড়কে যানজটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের ওপরই অনেক জায়গায় বাজার বসে গেছে। সেখানে যানজট হচ্ছে। এগুলোকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার বিষয়ে রবিউল আলম বলেন, ছুটি ছোট হয়ে গেলে চাপ নেওয়াটা একটু কঠিন হয়ে যায়। গতবার ছুটি বড় ছিল। এতে একটা সুবিধা পাওয়া গেছে। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ওই প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করব। পাশাপাশি নতুন করে আর কী প্রক্রিয়া গ্রহণ করলে ভোগান্তি কমবে, সেটা ঠিক করা হবে।

আশা করছি, আপনাদের নিরাপদে বাড়ি পাঠাতে আমরা সক্ষম হব। তবে, ছুটির ব্যাপারটা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রেও কোনো কিছু করা যায় কি না, আরও ৫-৭-১০ দিন গেলে আমরা বিস্তারিতভাবে বলতে পারব।

/আশিক


পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৮:৫২:৫৪
পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে
ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে নতুন সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঈদুল ফিতরের পর এ কাজের রোডম্যাপ প্রকাশ করবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আজ আমরা দিকনির্দেশনা দিলাম। বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপের টাইমলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপ চলবে এখন থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত। এই সময়ে ‘বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ডায়াগনস্টিক রিভিউ’, ‘উন্নয়ন বাজেটের ৫৩ শতাংশ ফেরত যাওয়ার কারণভিত্তিক রুট-কজ অ্যানালাইসিস’, এবং ‘শিক্ষকদের ট্যাব প্রদান, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ভাষা শিক্ষার পাইলট ডিজাইন’ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে ঈদুল ফিতরের পর। এই ধাপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সম্মতি নিয়ে জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। এটি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক, বিভাগভিত্তিক এবং পরিমাপযোগ্য সূচকসহ প্রণীত হবে।

তৃতীয় ধাপটি হবে ১২ থেকে ৩৬ মাসের, অর্থাৎ এক থেকে তিন বছরের মধ্যে। এই ধাপে পরীক্ষা ও মূল্যায়নে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হবে। এছাড়া কারিগরি, সাধারণ ও মাদরাসা শিক্ষায় সেতুবন্ধন (ব্রিজিং) করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী (ইনোভেশন) গ্র্যান্ট বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

/আশিক


জনগণের ট্যাক্সে চলি, জবাবদিহিতা নৈতিক দায়িত্ব: ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৬:১৩:০৪
জনগণের ট্যাক্সে চলি, জবাবদিহিতা নৈতিক দায়িত্ব: ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, একটা বিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিধ্বস্ত রাস্ট্রব্যবস্থার ওপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আমরা জনগণের ট্যাক্সে চলি, তাই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর উপস্থাপনা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।

তিনি বলেন, একটি সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র এই তিনটি স্তর একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যদি ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে একটি টিম হিসেবে কাজ করি, তাহলে উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সফল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা মানে কেবল প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা নয়; বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। কার্যকর প্রতিষ্ঠানই একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। তাই সরকারের এই পুনর্গঠন কার্যক্রম টেকসই ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের মানুষ কষ্টে রয়েছে এটি শুধু একটি আবেগের কথা নয়, বরং একটি বাস্তব সামাজিক সত্য। তাদের কষ্ট লাঘব করা রাষ্ট্র, সমাজ ও সচেতন নাগরিক সবারই দায়িত্ব। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে গ্রামের মানুষের কষ্ট দূর করতে কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার বার্তা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মানে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে সরকারের অগ্রাধিকার। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সবার সহযোগিতার মাধ্যমে, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সমুন্নত রেখে যেন জনগণের কাছে যেতে পারি। দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। নির্বাচনি ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয় এগুলো জনগণের সঙ্গে করা একটি সামাজিক চুক্তি। তাই মানুষের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ তৈরিতে এই মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সর্বোপরি, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করলেই নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। একটি কল্যাণমুখী, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনে এই মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ও আন্তরিক উদ্যোগই হতে পারে পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১২:০২:৫১
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ছবি : সংগৃহীত

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের তিন বাহিনীর প্রধানরা। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই সাক্ষাৎ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। তিন বাহিনীর প্রধানরা নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় দিনের মতো আজ সচিবালয়ে গেছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। এদিন তিনি ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে যোগ দেবেন। সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নতুন সরকার।

এর আগে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দেশ গঠনে সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এই বৈঠকের মধ্য দিয়েই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে নির্ধারিত দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন তারেক রহমান। উল্লেখ্য যে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রিসভা ও সচিবদের প্রায় সব বৈঠকই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল, যা এখন আবার সচিবালয়ে ফিরে এল।

তারও আগে গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণ শেষে ওই রাতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের দপ্তর বণ্টন করে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন এই সরকারের যাত্রায় দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল বিরাজ করছে।

/আশিক


তদবিরে কাজ হবে না, দুর্নীতি করলে সরাসরি অ্যাকশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ২২:১৮:৩৬
তদবিরে কাজ হবে না, দুর্নীতি করলে সরাসরি অ্যাকশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যেকোনো মূল্যে বাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখতে হবে। এই শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি কড়া নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কোনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন। প্রশাসনিক স্তরক্রম বা প্রটোকল ভেঙে এমন আচরণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মতে, মন্ত্রী বাহিনীর মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিয়োগ, বদলি বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদবির গ্রহণ করা হবে না এবং দুর্নীতির প্রশ্নে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে। বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লে কোনো রকম ছাড় না দিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। গত ১৭ বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি নিজে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করলেও জানান যে, তিনি পেছনে তাকাতে চান না; বরং কাজের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বাহিনীকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে চান।

জননিরাপত্তার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচি পালন করা যাবে না। অতি প্রয়োজনে রাস্তার অন্তত একটি লেন সচল রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ ছাড়াও ঢাকার পুলিশ কমিশনার এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বের শুরুতেই মন্ত্রীর এমন কঠোর ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: