এক্সিম ফার্স্ট ফান্ডের সর্বশেষ NAV বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ১৭ ১১:৩৫:৫৬
এক্সিম ফার্স্ট ফান্ডের সর্বশেষ NAV বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালের ১৪ আগস্টের কার্যদিবস শেষে এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (ট্রেডিং কোড: EXIM1STMF) তাদের সাপ্তাহিক নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ফান্ডটির প্রতিটি ইউনিটের নেট অ্যাসেট ভ্যালু বর্তমান বাজারদরে দাঁড়িয়েছে ৭.৭৪ টাকা, আর খরচমূল্যের ভিত্তিতে প্রতিটি ইউনিটের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১.৪০ টাকা। এর ফলে স্পষ্ট হচ্ছে যে বাজারমূল্যে ফান্ডের ইউনিট বর্তমানে ডিসকাউন্টে লেনদেন হচ্ছে, কারণ খরচমূল্যের তুলনায় বর্তমান বাজারদর কম।

ফান্ডটির মোট নিট সম্পদের পরিমাণ বর্তমান বাজারদরে দাঁড়িয়েছে ১,১০৮,৬৫৩,৫৭৮ টাকা, আর খরচমূল্যের ভিত্তিতে এটি দাঁড়িয়েছে ১,৬৩৩,৭৮৭,৬৪১ টাকা। বাজারমূল্য ও খরচমূল্যের মধ্যে এই ফারাক বোঝাচ্ছে যে তালিকাভুক্ত শেয়ারগুলোর দরপতনের কারণে ফান্ডের সম্পদের বাজার-ভিত্তিক মূল্যায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য NAV একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক, কারণ এটি ফান্ডের আর্থিক শক্তি ও প্রকৃত সম্পদমূল্য প্রতিফলিত করে। এক্সিম প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের সামনে ঝুঁকি এবং সম্ভাবনা উভয়ই তৈরি করছে। ঝুঁকি হলো বাজারদরের ভিত্তিতে সম্পদের অবমূল্যায়ন ঘটছে; আর সম্ভাবনা হলো বর্তমান কম দামে ইউনিট কিনতে পারলে ভবিষ্যতে খরচমূল্যের ভিত্তিতে তুলনামূলক বেশি রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

-রফিকুল


০২ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৫:১৮:৪০
০২ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এর লেনদেন শেষে বাজারে শক্তিশালী নেতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। দিনের সার্বিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট ৩৯৪টি সিকিউরিটির মধ্যে ৩০৬টির দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে মাত্র ৬৫টির দর বেড়েছে এবং ২৩টি অপরিবর্তিত রয়েছে, যা বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ নির্দেশ করে।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ‘এ’ ক্যাটাগরির পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এই ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০৬টি কোম্পানির মধ্যে ১৬৩টির শেয়ারদর কমেছে, যা বড় মূলধনী ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর ওপরও চাপের ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৬০টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৮৩টি কোম্পানির দরপতন হয়েছে, যা বাজারজুড়ে নেতিবাচক প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও পতনের ধারা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। মোট ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ২৯টির দর কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা ও ঝুঁকির আশঙ্কা বৃদ্ধি নির্দেশ করে। কর্পোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিতেও সীমিত পরিসরে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।

লেনদেনের পরিমাণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রায় ২৫ কোটি ৭২ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বেশি, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম, ফলে বাজারে গতি হ্রাসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বাজার মূলধনের ক্ষেত্রেও সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড এবং ঋণপত্র মিলিয়ে মোট বাজারমূল্য প্রায় ৬৮ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা সাম্প্রতিক পতনের প্রভাব প্রতিফলিত করে।

অন্যদিকে ব্লক মার্কেটে তুলনামূলক কম লেনদেন হয়েছে। ৩১টি সিকিউরিটিতে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই দরপতনের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে আগের দিনের উত্থানের পর স্বাভাবিক সংশোধন, বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং নির্দিষ্ট খাতে আস্থার ঘাটতি।

তারা আরও বলেন, স্বল্পমূল্যের শেয়ারে অতিরিক্ত জল্পনামূলক বিনিয়োগের পর হঠাৎ বিক্রির চাপ তৈরি হলে এই ধরনের ব্যাপক পতন দেখা যায়। এতে বাজারে অস্থিরতা বাড়ে এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন।

সামগ্রিকভাবে, আজকের বাজারচিত্র ডিএসইতে একটি শক্তিশালী সংশোধন প্রবণতা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আগামী দিনের বাজার প্রবণতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

-রাফসান


০২ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৫:১৩:৩১
০২ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
ছবি: সংগৃহীত

২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ লেনদেন শেষে শীর্ষ দরপতনের তালিকায় বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদরে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে সংশোধন প্রবণতা এবং বিক্রির চাপের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স (PREMIERLEA), যার শেয়ারদর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমে ২.৭ টাকায় নেমে এসেছে। এই পতন নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিজেন্ট টেক্সটাইল (REGENTTEX) প্রায় ৯.৩০ শতাংশ এবং ফার্স্ট ফাইন্যান্স (FIRSTFIN) প্রায় ৯.২৬ শতাংশ দর হারিয়েছে, যা টেক্সটাইল ও আর্থিক খাতের ওপর চাপের ইঙ্গিত দেয়।

পরবর্তী অবস্থানে ফ্যামিলি টেক্সটাইল (FAMILYTEX) ৮.৮২ শতাংশ এবং জেননেক্সট (GENNEXT) ও নুরানি ডাইং (NURANI) উভয়ই প্রায় ৮.১০ শতাংশ দর হারিয়েছে। এই ধারাবাহিক পতন স্বল্পমূল্যের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছে।

এছাড়া এবিবি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (ABB1STMF), অ্যাপোলো ইস্পাত (APOLOISPAT), সিএনএ টেক্সটাইল (CNATEX) এবং ফেয়ার ইস্ট ফাইন্যান্স (FAREASTFIN) তালিকার অন্যান্য অবস্থানে থেকে উল্লেখযোগ্য হারে মূল্যহ্রাস পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই দরপতনের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্পমূল্যের শেয়ারে অতিরিক্ত জল্পনামূলক লেনদেনের পর হঠাৎ সংশোধন, আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা।

বিশেষ করে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিক উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই খাতে তারল্য সংকট ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও পুরোপুরি ফিরে আসেনি।

-রাফসান


০২ এপ্রিল ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৫:০৯:০২
০২ এপ্রিল ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ লেনদেন শেষে শীর্ষ গেইনার তালিকায় বিভিন্ন খাতের কোম্পানির উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্স, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতে সক্রিয় অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।

তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে জনতা ইন্স্যুরেন্স (JANATAINS), যার শেয়ারদর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০.৮ টাকায় পৌঁছেছে। দিনজুড়ে এর লেনদেন ২৮.৫ থেকে ৩০.৮ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যা শক্তিশালী ক্রয়চাপের প্রতিফলন।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ড্যাফোডিল কম্পিউটার (DAFODILCOM) প্রায় ৭.৮৬ শতাংশ বেড়ে ৮৫.১ টাকায় লেনদেন শেষ করেছে। প্রযুক্তি খাতে এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।

সোনারগাঁও (SONARGAON) ৫.২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যা বাজারে মাঝারি মূলধনী শেয়ারের প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন। একইভাবে ফার কেমিক্যাল (FARCHEM) ও কেডিএস অ্যাক্সেসরিজ (KDSALTD) যথাক্রমে ৪.২৯ ও ৪.০২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া টিলিল (TILIL), ওরিয়ন ইনফিউশন (ORIONINFU), গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স (GLOBALINS), অ্যাডন টেলিকম (ADNTEL) এবং বিডিকম (BDCOM) তালিকার অন্যান্য অবস্থানে থেকে উল্লেখযোগ্য হারে মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্থানের পেছনে বহুমাত্রিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক বাজার পুনরুদ্ধার, নির্দিষ্ট খাতে ইতিবাচক প্রত্যাশা এবং স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্স খাতের একাধিক কোম্পানির উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে এই খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরায় ফিরে আসছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি খাতেও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে।

-রাফসান


০১ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ১৫:০২:৫৫
০১ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ লেনদেন শেষে বাজারে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, মোট লেনদেন হওয়া ৩৯১টি সিকিউরিটির মধ্যে ৩২৭টির দর বেড়েছে, বিপরীতে মাত্র ৩৯টির দর কমেছে এবং ২৫টি অপরিবর্তিত রয়েছে, যা বাজারে শক্তিশালী ক্রয়চাপের প্রতিফলন।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ‘এ’ ক্যাটাগরির পারফরম্যান্স বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এই ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০৪টি কোম্পানির মধ্যে ১৮৬টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বড় মূলধনী ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৬৪টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৭৭টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, যা বাজারের প্রায় সব স্তরে ইতিবাচক প্রবণতার প্রতিফলন।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ৩২টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ ও বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। কর্পোরেট বন্ডেও সীমিত হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।

লেনদেনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিনজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজারের বেশি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে এবং ৩১ কোটি ৯১ লাখের বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি, যা বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।

বাজার মূলধনের দিক থেকেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড এবং ঋণপত্র মিলিয়ে মোট বাজারমূল্য প্রায় ৬৯ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা সামগ্রিকভাবে বাজারের শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করে।

অন্যদিকে ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে, যেখানে ৪০টি সিকিউরিটিতে প্রায় ২৯২ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, ইন্স্যুরেন্স এবং বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে বড় অংকের লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের পর বিনিয়োগকারীদের পুনরায় বাজারে ফিরে আসা এবং স্বল্পমূল্যের শেয়ারে আগ্রহ বৃদ্ধি এই উত্থানের প্রধান কারণ। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বৃদ্ধিও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে।

তারা আরও বলেন, ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারণের ক্ষেত্রে শেষ ৩০ মিনিটের লেনদেনের গড় মূল্য ব্যবহারের কারণে কখনো কখনো বাজারের প্রকৃত প্রবণতার তুলনায় ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত সামগ্রিক বাজার প্রবণতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

সামগ্রিকভাবে, আজকের বাজারচিত্র একটি শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ বাজারকে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

-রাফসান


০১ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ১৫:০০:১৭
০১ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের লেনদেন শেষে শীর্ষ দরপতনের তালিকায় বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদরে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে নেতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতের শেয়ারগুলোতে ধারাবাহিক চাপ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফেয়ার ইস্ট ফাইন্যান্স (FAREASTFIN) এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস (PLFSL), যাদের উভয়ের শেয়ারদর ১০ শতাংশ কমে যথাক্রমে ২.৭ টাকায় নেমে এসেছে। এই ধরনের সর্বোচ্চ পতন বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস (ILFSL) প্রায় ৯.৩৮ শতাংশ দর হারিয়েছে, যা আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইভাবে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স (PREMIERLEA) প্রায় ৯.০৯ শতাংশ কমে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

এরপর ফার্স্ট অ্যাসেট ফাইন্যান্স (FASFIN) প্রায় ৬.৯০ শতাংশ এবং স্কয়ার টেক্সটাইল ট্রিমস (SKTRIMS) ৫.৩২ শতাংশ দর হারিয়েছে। এছাড়া প্রাইম ফাইন্যান্স (PRIMEFIN), নর্দার্ন জুট (NORTHERN), সালাম ক্রেস্ট (SALAMCRST) এবং বিডি থাই (BDTHAI) তুলনামূলক কম হারে হলেও ধারাবাহিকভাবে মূল্যহ্রাস পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের পেছনে বেশ কিছু কাঠামোগত ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ কাজ করছে। বিশেষ করে এনবিএফআই খাতে দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণের চাপ এবং দুর্বল আর্থিক ভিত্তি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে।

এছাড়া স্বল্পমূল্যের শেয়ারে অতিরিক্ত জল্পনামূলক লেনদেনের পর হঠাৎ সংশোধন প্রবণতা দেখা যাওয়াও এই দরপতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে করে অনেক বিনিয়োগকারী দ্রুত মুনাফা তুলে নিতে গিয়ে বিক্রির চাপ তৈরি করেছেন।

বিশ্লেষকরা আরও বলেন, বাজারের এই ধরনের ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কোম্পানির মৌলিক আর্থিক অবস্থা, পরিচালন দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনা না করে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, আজকের লুজার তালিকা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজারে এখনও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে এবং বিশেষ করে আর্থিক খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

-রাফসান


০১ এপ্রিল ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ১৪:৫৬:৫০
০১ এপ্রিল ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের লেনদেন শেষে শীর্ষ গেইনার তালিকায় বেশ কিছু কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে স্বল্পমূল্যের শেয়ার এবং ফান্ডভিত্তিক সিকিউরিটিজে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস (SILVAPHL), যার শেয়ারদর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২.১ টাকায় পৌঁছেছে। দিনভর লেনদেনে এর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর যথাক্রমে ১২.১ ও ১১.১ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা সক্রিয় ট্রেডিংয়ের প্রতিফলন।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স (BNICL) প্রায় ৯.৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪.৪ টাকায় লেনদেন শেষ করেছে। একইভাবে এপেক্স স্পিনিং (APEXSPINN) ৯.৮৯ শতাংশ বেড়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে, যা শিল্পখাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা গেছে। ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড (EBLNRBMF), ফার্স্ট বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট (FBFIF) এবং আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (IFIC1STMF) প্রায় ৯ থেকে ৯.৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগে আস্থার প্রতিফলন।

এছাড়া ফার কেমিক্যাল (FARCHEM), পপুলার লাইফ ফান্ড (POPULAR1MF), আইসিবি অ্যামক্ল টুয়েন্ড মিউচুয়াল ফান্ড (ICBAMCL2ND) এবং পিএইচপি মিউচুয়াল ফান্ড (PHPMF1) তালিকার অন্যান্য অবস্থানে থেকে উল্লেখযোগ্য হারে মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্থানের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্পমূল্যের শেয়ারে জল্পনামূলক বিনিয়োগ, মিউচুয়াল ফান্ডে পুনরায় আগ্রহ বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট খাতে ইতিবাচক প্রত্যাশা।

বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ধারাবাহিক উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং ডাইভার্সিফাইড বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। এটি বাজারে একটি সুস্থ প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, শুধুমাত্র দৈনিক মূল্যবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি, আয়ের ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সামগ্রিকভাবে, আজকের গেইনার তালিকা ডিএসই বাজারে একটি ইতিবাচক গতি ও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা আগামী দিনগুলোতে বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

-রাফসান


৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৫:২১:৩৭
৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ লেনদেন শেষে বাজারে স্পষ্ট নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর পতনের মুখে পড়েছে। দিনের সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, মোট লেনদেন হওয়া ৩৮৮টি সিকিউরিটির মধ্যে মাত্র ৭৭টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে ২৭৮টির দর কমেছে এবং ৩৩টি অপরিবর্তিত রয়েছে, যা বাজারে বিক্রির চাপ বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০১টি সিকিউরিটির লেনদেনে অংশগ্রহণ থাকলেও এর মধ্যে ১৪৬টির দর কমেছে, যা মূলধনী ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারের ওপরও চাপের ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৫৩টি শেয়ারের দরপতন হয়েছে এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৭৯টি কোম্পানি মূল্যহ্রাসের শিকার হয়েছে, যা তুলনামূলক দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর ওপর বিনিয়োগকারীদের অনাস্থার প্রতিফলন।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ২৬টির দর কমেছে। কর্পোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজেও সীমিত লেনদেনের মধ্যে পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে সামগ্রিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।

লেনদেনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিনজুড়ে মোট ২ লাখ ৮ হাজারের বেশি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রায় ৩০ কোটি ৯৫ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি, যা বাজারে কার্যক্রম সক্রিয় থাকলেও আস্থার ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে।

বাজার মূলধনের দিক থেকে দেখা যায়, ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড এবং ঋণপত্র মিলিয়ে মোট বাজারমূল্য প্রায় ৬৮ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এই বিশাল বাজারমূল্য থাকা সত্ত্বেও শেয়ারদরের পতন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান বর্তমানে নেতিবাচক।

অন্যদিকে ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ৩৫টি সিকিউরিটিতে মোট ২৯২ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ফাইন ফুডস এবং জিকিউ বলপেনসহ বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারে বড় অংকের ব্লক ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি সাধারণত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা, তারল্য সংকট এবং স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক নীতি এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জও বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারণের পদ্ধতি অনুযায়ী শেষ ৩০ মিনিটের লেনদেনের গড় মূল্যের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করা হয়, যা কখনো কখনো বাজারের প্রকৃত প্রবণতার তুলনায় ভিন্ন চিত্রও উপস্থাপন করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, আজকের ডিএসই বাজারচিত্র একটি সতর্ক সংকেত দিচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি মূল্যায়ন, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

-রফিক


আজকের শেয়ারবাজারে লোকসানে ১০ কোম্পানি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৫:১৬:১০
আজকের শেয়ারবাজারে লোকসানে ১০ কোম্পানি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখের লেনদেন শেষে শীর্ষ দরপতনের তালিকায় বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদরে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে একটি চাপযুক্ত ও নেতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতের শেয়ারগুলোতে ধারাবাহিক বিক্রির চাপ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে সিএনএটেক্স (CNATEX), যার শেয়ারদর প্রায় ৯.৫২ শতাংশ কমে ৩.৮ টাকায় নেমে এসেছে। দিনের লেনদেনে এই শেয়ারটি ৪.২ টাকা পর্যন্ত উঠলেও শেষ পর্যন্ত নিম্নমুখী প্রবণতায় স্থির হয়, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফার্স্ট অ্যাসেট ফাইন্যান্স (FASFIN) প্রায় ৯.৩৮ শতাংশ দর হারিয়ে ২.৯ টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে ফেয়ার ইস্ট ফাইন্যান্স (FAREASTFIN) এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস (PLFSL) উভয়ই প্রায় ৯.০৯ শতাংশ করে দরপতনের শিকার হয়েছে, যা আর্থিক খাতে গভীর চাপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরবর্তী অবস্থানে থাকা ফার্স্ট বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট (FBFIF), বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (BIFC) এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস (ILFSL) যথাক্রমে ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে দর হারিয়েছে। এই ধারাবাহিক পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকির আশঙ্কা বৃদ্ধি করছে।

এছাড়া প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স (PREMIERLEA), প্রাইম ফাইন্যান্স (PRIMEFIN) এবং ফ্যামিলিটেক্স (FAMILYTEX) তালিকার শেষদিকে থাকলেও উল্লেখযোগ্য হারে মূল্যহ্রাস পেয়েছে, যা টেক্সটাইল ও আর্থিক খাত উভয়ের ওপর চাপের ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই দরপতনের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল মৌলভিত্তি, আর্থিক খাতে তারল্য সংকট, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি এবং স্বল্পমূল্যের শেয়ারে অতিরিক্ত জল্পনামূলক লেনদেনের পর সংশোধন প্রবণতা।

বিশেষ করে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ, পরিচালনাগত দুর্বলতা এবং নিয়ন্ত্রক চাপের কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে চলে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এই খাতে বিক্রির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলেন, স্বল্পমূল্যের শেয়ারে দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির পর হঠাৎ দরপতন একটি স্বাভাবিক বাজার সংশোধন হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্য, পরিচালন কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

-রফিক


ডিএসই গেইনার বিশ্লেষণ, কোন খাতে বেশি লাভ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৫:১২:২৬
ডিএসই গেইনার বিশ্লেষণ, কোন খাতে বেশি লাভ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে দিনের লেনদেন শেষে শীর্ষ গেইনার তালিকায় বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদরে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইসের তুলনায় দেখা যায়, বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে, বিশেষ করে স্বল্পমূল্যের ও মাঝারি মূলধনী শেয়ারগুলোতে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে এসিএমই পিএলসি (ACMEPL), যার শেয়ারদর ৭.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১.২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দিনভর লেনদেনে এই কোম্পানির শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ২১.৪ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১৯.৪ টাকা, যা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস (SILVAPHL) ৬.৮০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ১১ টাকায় লেনদেন শেষ করেছে। একইভাবে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম (BDTHAI) প্রায় ৬.৪০ শতাংশ বেড়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এই দুটি কোম্পানির ক্ষেত্রে শিল্প ও উৎপাদন খাতের শেয়ারে পুনরায় আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তালিকার পরবর্তী অবস্থানে থাকা ডিএসএসএল (DSSL), বিডি থাই ফুড (BDTHAIFOOD) এবং সালভো কেমিক্যাল (SALVO) যথাক্রমে ৫.৪৩ শতাংশ, ৪.৩৫ শতাংশ এবং ৪.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি বিশেষ করে ফুড ও কেমিক্যাল সেক্টরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া ইস্টার্ন কেবলস (ECABLES), কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স (CLICL), জনতা ইন্স্যুরেন্স (JANATAINS) এবং টেকনো ড্রাগস (TECHNODRUG) তালিকার শেষদিকে থাকলেও ধারাবাহিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রেখেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি অনেক ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবণতা, ট্রেডিং কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট খাতে ইতিবাচক প্রত্যাশার ফল হতে পারে। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যাল, কেমিক্যাল ও ইন্স্যুরেন্স খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার ফলে বাজারে একটি গতিশীলতা তৈরি হয়েছে।

তবে তারা সতর্ক করে বলেন, শুধুমাত্র দৈনিক মূল্যবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

-রফিক

পাঠকের মতামত: