রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৭:২০:৩৬
রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
ছবি : সংগৃহীত

রমজান মাসে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের পূর্ব সিদ্ধান্ত স্থগিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে আগামী ৮ মার্চের পরিবর্তে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের সকল মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। মূলত রমজানের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ছুটি নিশ্চিত করতেই এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ধারাবাহিক ধর্মীয় ছুটির কারণে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আগামীকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) খুলছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নির্বাচন উপলক্ষে গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এরপর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি পড়ে। আজ রবিবার শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে স্কুল-কলেজের ছুটির তালিকা অনুযায়ী শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফলে আজ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ক্লাস হয়নি। এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মাঘী পূর্ণিমা এবং ৪ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাতেও ছুটি ছিল।

বার্ষিক ছুটির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৬৪ দিন ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৮ মার্চ থেকে পবিত্র রমজান শুরু হয়ে ঈদুল ফিতর, জুমাতুল বিদা এবং স্বাধীনতা দিবসসহ কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে টানা ১৯ দিন স্কুল বন্ধ থাকার কথা ছিল। তবে হাইকোর্টের নতুন নির্দেশে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে এই ছুটি শুরু হচ্ছে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই। দীর্ঘ এই বিরতির পর আগামী ২৯ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবার নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

শিক্ষাবর্ষের বাকি সময়ের ছুটির বিষয়ে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে এবার টানা ১২ দিনের বিরতি থাকবে। এই ছুটি চলবে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত, যার মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপূজা, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং ফাতেহা-ই-ইয়াজদহমে এক দিন করে ছুটি থাকবে। যথারীতি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের হাতে সংরক্ষিত দুই দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান উপলক্ষে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

/আশিক


ভারতীয় ভিসা আবেদনে বড় পরিবর্তন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ২২:১০:৪৬
ভারতীয় ভিসা আবেদনে বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

ভারতীয় ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বরাদ্দে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। আগামী বুধবার (১ জুলাই) থেকে সারা দেশে নতুন এই অনলাইন ব্যবস্থা কার্যকর হতে যাচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভিসা প্রত্যাশী আবেদনকারীরা আর নিজেদের পছন্দমতো অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় (টাইম স্লট) বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন না। এর পরিবর্তে, অনলাইনে আবেদনপত্র চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার সময় সিস্টেমে খালি থাকা পরবর্তী যেকোনো একটি সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিকভাবে) আবেদনকারীর জন্য বরাদ্দ করা হবে।

আইভ্যাক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশের সব কটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে সব ধরনের ভিসার (ট্যুরিস্ট, মেডিকেল, বিজনেস ইত্যাদি) ক্ষেত্রে এই নতুন টাইম-স্লটভিত্তিক আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে। প্রতিটি আইভ্যাক কেন্দ্রের দৈনিক আবেদন গ্রহণ করার সর্বোচ্চ সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে অনলাইন সিস্টেম ক্রমানুসারে আবেদনকারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেবে। ফলে নতুন নিয়মে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং করার সময় আবেদনকারীদের আলাদাভাবে কোনো টাইম স্লট নির্বাচন করার প্রয়োজন পড়বে না।

ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও সময়মতো সম্পন্ন করার স্বার্থে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিতকরণ কপিতে (স্লট পেপার) উল্লেখিত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইভ্যাক কেন্দ্রে সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে আইভ্যাক কর্তৃপক্ষ।

/আশিক


প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১৮:৫০:২৭
প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

দেশে জুয়া ও প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন গ্যাম্বলিংয়ের থাবা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলের আইন বাতিল করেছে সরকার। জুয়া প্রতিরোধে ১৮৬৭ সালের অত্যন্ত পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিতকরণ করা হয়েছে। পুরোনো এই আইনের পরিবর্তে সময়ের দাবির প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে যুগোপযোগী ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। নতুন এই আইনি কাঠামোতে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং (বাজি বা পণ), বাজিকর (Bookmaker), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট ও ভিপিএনসহ আধুনিক যুগের মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই ঐতিহাসিক বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এর আগে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি প্রথম উত্থাপন করেছিলেন। পরে বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ ও প্রতিবেদনের পরই মঙ্গলবার বিলটি পাস করা হয়। পাস হওয়া নতুন আইনে অপরাধের তীব্রতা ও ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের কঠোর কারাদণ্ড, বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিশেষ বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান ‘The Public Gambling Act, 1867’ আইনটি দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং বর্তমান সময়ের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার নিত্যনতুন ধরন মোকাবিলায় এটি আর কোনোভাবেই যথেষ্ট ছিল না। এছাড়া দেশের মূল সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া নিরোধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনেও এই আইনটি যুগোপযোগী করে অপরাধীদের শাস্তির পরিমাণ বহুগুণ বাড়াতে জোরালো সুপারিশ করা হয়েছিল।

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও সাইবার প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং সামগ্রিকভাবে তরুণ সমাজের ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ কঠোরভাবে প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার্থেই এই আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।

পাস হওয়া নতুন আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে সুনির্দিষ্টভাবে ১৪ ধরনের অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে— প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যেকোনো জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা, অনলাইন বেটিং বা বাজি ধরা, জুয়ার নির্দিষ্ট স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ বা ব্যবহার করা, জুয়ার সামগ্রী প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বিক্রি, বিতরণ বা ব্যবহার করা, বাজিকর হিসেবে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং করা, জুয়ার বিজ্ঞাপন তৈরি, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা। এছাড়া ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস বা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা করা, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া খেলা এবং জুয়ার অর্থ লেনদেন, অর্থপাচার ও লেনদেনে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করাকেও অপরাধের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, সাধারণ জুয়ার অপরাধের জন্য অপরাধীকে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। তবে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে শাস্তি অনেক বেশি কঠোর— সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড। অন্যদিকে অনলাইন বেটিং বা বাজির জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশাল অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও চার লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট ভবন, কক্ষ, যানবাহন, সার্ভার অবকাঠামো বা যেকোনো সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রি, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং আদালতের মাধ্যমে এসব সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে কলঙ্ক লেপনকারী ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য আইনে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে আদালত দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে যেকোনো ধরনের খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণে সম্পূর্ণ অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন। একইভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রলোভন, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটিকে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অমান্য করে ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস, ক্লাউড অবকাঠামো বা কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ can সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং এই অপরাধ যদি সংঘবদ্ধভাবে বা সরাসরি অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার অর্থ যদি কোনো ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওয়ালা, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’-এর অধীন সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate Offence) হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই আইনেই বিচার করা হবে।

আইনে করপোরেট অপরাধের বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি, করপোরেট সংস্থা, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার, পেমেন্ট গেটওয়ে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জুয়ার অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, অংশীদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সরাসরি দায়ী করা যাবে; যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে অপরাধটি তার সম্পূর্ণ অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে এবং তা প্রতিরোধে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটিকেও পৃথকভাবে অভিযুক্ত করা যাবে এবং আদালত প্রয়োজনে তাদের ব্যবসায়িক নিবন্ধন, লাইসেন্স বা সামগ্রিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত, বাতিল বা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে পারবেন। একই অপরাধ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুনরায় সংঘটিত করলে তাকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির দ্বিগুণ পরিমাণ দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধ থেকে অর্জিত সব ধরনের অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম ও ডিজিটাল ডিভাইসসহ অন্যান্য সম্পদ সরকারিভাবে বাজেয়াপ্ত করার পূর্ণ ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত যাবতীয় অপরাধের বিচার করা হবে দেশের বিশেষায়িত সাইবার ট্রাইব্যুনালে, আর অন্যান্য সাধারণ অপরাধের বিচার হবে এখতিয়ারসম্পন্ন ফৌজদারি আদালতে।

আইনের অধীনে আনা সব ধরনের অপরাধ আমলযোগ্য (Cognizable), জামিন অযোগ্য (Non-Bailable) এবং আপস অযোগ্য (Non-Compoundable) হিসেবে গণ্য হবে। অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) নিচের পদমর্যাদার কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করতে পারবে।

এছাড়া সরকার বা সরকার-নির্ধারিত যেকোনো কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে জুয়া বা বেটিং-সংশ্লিষ্ট যেকোনো ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, ইউআরএল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ, চ্যানেল এবং ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম সরাসরি ব্লক, অপসারণ বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। জুয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস, পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট চিরতরে বন্ধের নির্দেশও আদালত দিতে পারবেন।

এর পাশাপাশি জুয়া, অনলাইন জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে একটি ‘জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ’ প্রণয়ন, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম বাস্তবায়ন, বায়োমেট্রিক ও ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা চালু এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠনের আইনি বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন এই কঠোর আইনটি দেশজুড়ে পুরোপুরি কার্যকর হলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা দেশের সামগ্রিক সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

/আশিক


স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১৮:২২:২৭
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সরকারি দলের সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের (নওগাঁ-৬) টেবিলে উপস্থাপিত একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

সংসদে মন্ত্রী বলেন, আইন ও নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যে একটি সর্বজনগ্রাহ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং অবাধ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন তাদের প্রশাসনিক ও কৌশলগত সব ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রবাসীদের সুবিধার্থে প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট’ পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের জন্য একটি আধুনিক রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সরকারের পক্ষ থেকে এই ডিজিটাল ভোটদানের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে এই পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসতে নির্বাচন কমিশন নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২)-এর একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে সমবায় মন্ত্রী জানান, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্যদের বিদ্যমান বেতন-ভাতা নতুন করে বৃদ্ধি করার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে সরকারের বিবেচনাধীন নেই।

/আশিক


১ জুলাই থেকে নতুন অর্থনৈতিক অভিযাত্রা: পাস হলো দেশের অন্যতম বড় জাতীয় বাজেট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১৮:১০:৫২
১ জুলাই থেকে নতুন অর্থনৈতিক অভিযাত্রা: পাস হলো দেশের অন্যতম বড় জাতীয় বাজেট
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল ও ঐতিহাসিক জাতীয় বাজেট। এটি পাস হওয়ার মাধ্যমে আগামী বুধবার (১ জুলাই) থেকেই সারা দেশে নতুন এই অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হতে যাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার কথা মাথায় রেখে পাস হওয়া নতুন এই বাজেটে কর, ভ্যাট এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরের এই বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে পাস করা হয়।

এর আগে, সোমবার (২৯ জুন) দেশের অর্থনীতিকে একটি মানবিক ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ অর্থবিল পাস করেছিল জাতীয় সংসদ। সাধারণ করদাতাদের বড় স্বস্তি দিয়ে সংশোধিত অর্থবিলে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুশাসন নিশ্চিত করতে আবাসন খাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগ করার যে অনৈতিক সুযোগ ছিল, তা পুরোপুরি বাতিল বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের ব্যয়ভার সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজের করপোরেট কর বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে অর্ধেক কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ছোট ও মাঝারি পুঁজির ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করে ভ্যাট আরোপ করার যে প্রস্তাবটি করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। সোমবারের অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়ে দেশের কর ও শুল্কসংক্রান্ত সরকারের সব প্রস্তাব চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বাজেটের ওপর সমাপনী সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপকল্প তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন সরকারের পক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই প্রস্তাবিত বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

/আশিক


ভিসা সহজ হতেই বদলাচ্ছে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১১:৩২:৪২
ভিসা সহজ হতেই বদলাচ্ছে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের নিয়মিত ভিসা সেবা ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হওয়ার প্রক্রিয়াকে কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না কলকাতার কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী মহলের অনেকেই। তাদের মূল্যায়ন, এই পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতার দিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ইঙ্গিত, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক যোগাযোগ, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে পারে।

কলকাতাভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত সংলাপ ও মানুষের অবাধ যাতায়াতের বিকল্প নেই। তাদের ভাষ্য, একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আস্থা পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নদীর পানিবণ্টন, জ্বালানি সহযোগিতা, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ এবং বাণিজ্যের মতো বহু কৌশলগত বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে মতপার্থক্য থাকলেও তা আলোচনার টেবিলে সমাধান করাই দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের স্বার্থের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কলকাতার ব্যবসায়ী মহলেও নতুন করে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। বড়বাজার, নিউ মার্কেট, ধর্মতলা, গড়িয়াহাট এবং শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি ক্রেতারা ব্যবসার একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তবে গত দুই বছরে ভিসা সীমাবদ্ধতা এবং যাতায়াত কমে যাওয়ায় পোশাক, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিকস, প্রসাধনী, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়সহ বিভিন্ন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ভিসা সেবা স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়বে এবং কলকাতার খুচরা বাজার আবারও আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।

চিকিৎসা খাতেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কলকাতা, নিউ টাউন, সল্টলেকসহ ভারতের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রোগীদের অন্যতম চিকিৎসা গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হলে দুই দেশের মধ্যে মেডিকেল ট্যুরিজম আরও সম্প্রসারিত হবে, যা স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি পর্যটন ও সেবা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, শিক্ষা, সাহিত্য এবং পারিবারিক যোগাযোগ—এসবই দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। ফলে মানুষের যাতায়াত যত বাড়বে, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সামাজিক আস্থা ততই শক্তিশালী হবে।

কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় সংযোগ বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে দুই দেশের সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের অভিমত, ভিসা সেবা স্বাভাবিক হওয়ার ফলে সীমান্তবর্তী অর্থনীতি, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবসায়িক সফর এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণও ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

-রফিক


ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ০৯:৪৬:১৯
ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবং এসব বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য-উপাত্ত তদন্তের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন দলের নেতা এবং মতামত বিশ্লেষকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। কেউ এটিকে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, যেকোনো তদন্ত অবশ্যই নিরপেক্ষ, তথ্যনির্ভর এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালিত হওয়া উচিত।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন মতামতে দাবি করা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম নিয়ে জনপরিসরে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে একটি স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত প্রক্রিয়া প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন বা সাবেক—যে কোনো সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করাই আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও ন্যায়বিচারের অপরিহার্য অংশ।

সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার ওপর বর্তায় এবং আদালতের রায় ছাড়া কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সামনের দিনে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে। তবে এসব ইস্যুতে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইন, প্রমাণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়াই হওয়া উচিত প্রধান ভিত্তি।

উল্লেখ্য, এই বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ বা সমালোচনা উত্থাপিত হয়েছে, তাদের বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যুক্ত করলে সংবাদটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ হবে।

-রফিক


একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে: সংসদে অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ২১:৩৩:৪২
একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে: সংসদে অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

একীভূত হওয়া শরীয়াহ্ভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের গচ্ছিত অর্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে এবং তা ধাপে ধাপে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যাংক খাতের গ্রাহকদের জন্য সরকারের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

সংসদ অধিবেশনে সংকটে পড়া এই পাঁচ ব্যাংকের লাখ লাখ আমানতকারীদের উদ্দেশ্যে বর্তমান বিএনপি সরকারের নীতিগত ও অনড় অবস্থান তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের সঞ্চয় নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমি দেশের সব আমানতকারীকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় আশ্বস্ত করতে চাই যে— সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আমানত রক্ষা করাই এই সরকারের সবচেয়ে বড় এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।

ব্যাংকগুলো থেকে গ্রাহকদের টাকা তোলার বর্তমান প্রাথমিক নিয়ম ও পরিধি স্পষ্ট করে অর্থমন্ত্রী বলেন, একীভূত হওয়া ওই পাঁচটি ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা যেন তাৎক্ষণিক সমস্যা মোকাবিলা করতে পারেন, সেজন্য তাদের নিজস্ব চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে আপাতত ২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ তোলার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হিসাবের বাকি অবশিষ্ট টাকা যেন গ্রাহকেরা কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়া নিরাপদ উপায়ে ফেরত পান, সেজন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে ধাপে ধাপে তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

/আশিক


করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে মধ্যবিত্তদের বড় স্বস্তি দিল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ২১:২৯:৩১
করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে মধ্যবিত্তদের বড় স্বস্তি দিল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবান্ধব সংশোধনী এনে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ বিল-২০২৬ পাশ করেছে। সংশোধনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা এক লাফে বেশ খানিকটা বৃদ্ধি করা এবং প্রস্তাবিত বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত বিতর্কিত বিধানটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি পাশের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর সভাপতিত্বে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।

বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বিশেষ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী জাতীয় বাজেটের বেশ কয়েকটি মূল প্রস্তাবে এই পরিবর্তন ও সংশোধনী এনেছেন। এর মধ্যে দেশের চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্তদের বড় স্বস্তি দিয়ে আগামী পাঁচটি অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে মূল প্রস্তাবিত বাজেটে এই করমুক্ত আয়ের সীমা যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪ লাখ টাকা এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

সংসদকে অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি জনমনে নানা বিভ্রান্তি ও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করায় তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, মূলত দেশের অনেক জমি আসল বাজারমূল্যের পরিবর্তে সরকারি মৌজা মূল্যে নিবন্ধিত হওয়ায় করদাতাদের যেন কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে না হয়, সেজন্যই এই প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে সরকার জনমতের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে এটি প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জনসাধারণের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি এড়াতে আরও দুটি কর-সংক্রান্ত প্রস্তাব বাতিল করেছে সরকার। এ দুটি হলো— অধিকাংশ সাধারণ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন (TIN) সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং জমির বণ্টন দলিল (পার্টিশান ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্য টিআইএন সনদ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা।

শিক্ষা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়নে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু ইতিবাচক প্রস্তাব দেন। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান ১০ শতাংশ আয়কর হার অর্ধেক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। এছাড়া পার্বত্য তিন জেলা ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য চলমান বিশেষ কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তাদের ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি চাকরি থেকে প্রাপ্ত বেতন ভিত্তিক আয়ও সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে।

দেশের রপ্তানিমুখী চিংড়ি শিল্পকে বড় ধরনের সহায়তা দিতে আমদানি করা চিংড়ির খাদ্য, প্রোবায়োটিক, ভিটামিন, খনিজসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ওষুধ ও অন্যান্য উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত আমদানি করা মধুর ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

শিল্প খাতে বহুল ব্যবহৃত পিভিসি (PVC) ও পিইটি (PET) রেজিনের আমদানি শুল্ক প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার ডোর তৈরিতে ব্যবহৃত কোল্ড-রোলড শিট, ফ্ল্যাট স্টিল পণ্যে ব্যবহৃত কোটেড ক্রোমিয়াম অক্সাইড এবং বৈদ্যুতিক কেবল উৎপাদনে ব্যবহৃত রিফাইন্ড কপার ওয়্যারের ওপর প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি করা ফায়ার ব্রিকের ওপর থেকে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও অগ্রিম কর বাতিলেরও প্রস্তাব দেন তিনি।

দেশীয় কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ ঘটাতে কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা অপরিশোধিত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব LED বাতি এবং প্রিফ্যাব্রিকেটেড ভবন তৈরির কাঁচামাল আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ আগামী ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে হুন্ডি বা অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদান বন্ধ করে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিজ্ঞাপন প্রচারের বিদ্যমান ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে বিদেশে অবৈধ উপায়ে অর্থ পাঠানো কমবে এবং সরকারের কর আদায়ের পরিমাণ বাড়বে। এছাড়া সোনা, প্লাটিনাম ও হীরার গহনার ওপর ভ্যাট ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং রুপার গহনার ওপর ১০০ টাকা সুনির্দিষ্ট করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে সরকারের রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি এবং সরবরাহকারী পর্যায়ে সব ধরনের মাছ সরবরাহের ক্ষেত্রে পূর্ণ ভ্যাট মওকুফ করার প্রস্তাবও করা হয়েছে। দেশীয় মোটরগাড়ি শিল্পকে উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সর্বশেষে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে নির্বাচিত কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতে ভ্যাট ব্যবস্থার কো-ইফিশিয়েন্ট দাখিলের কঠোর বাধ্যবাধকতা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

/আশিক


তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে চীনের পূর্ণ সমর্থন, ভারতের উদ্বেগ নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ২০:০৫:৩০
তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে চীনের পূর্ণ সমর্থন, ভারতের উদ্বেগ নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে সাজানো হয়নি এবং এই যৌথ উদ্যোগ বাইরের যেকোনো ধরনের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা উচিত।

বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রকল্প নিয়ে ভারতের ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এটি অন্য কোনো দেশকে প্রভাবিত করার জন্য নয়।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত এই তিস্তা অববাহিকা। আর এই কারণেই ঢাকা ও বেইজিংয়ের এই বড় যৌথ উদ্যোগ নিয়ে শুরু থেকেই নয়া দিল্লির মনে তীব্র কৌশলগত ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে।

ভারতের এই আশঙ্কার জবাবে গুও জিয়াকুন বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি মূলত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। এই সময়োপযোগী প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে চীন তার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে ঢাকাকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয় আরও জোরদার করতে বেইজিং অত্যন্ত আগ্রহী। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনীতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, যৌথ পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক জনকল্যাণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এদিকে প্রকল্পটির সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা প্রকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক খতিয়ে দেখতে এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনা করতে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এই যৌথ সমীক্ষার বিষয়ে ঢাকা ও বেইজিং ইতোমধ্যে একমত পোষণ করেছে, যার ফলে আগের যেকোনো আলোচনার তুলনায় এবারের পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি অগ্রসর ও বাস্তবসম্মত পর্যায়ে রয়েছে। এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটি যদি পরিবেশগত ও অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক প্রমাণিত হয়, তবে চীন এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের সর্বোচ্চ আর্থিক ও কারিগরি সাহায্য দেবে বলে নিশ্চিত করেছে।

তিস্তাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকা ও বেইজিং ইতোমধ্যে একটি বড় নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। ফলে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের পক্ষ থেকে কী ধরনের চূড়ান্ত ঘোষণা আসে, সেদিকে ভারতের নীতিনির্ধারকদের একটি নিবিড় ও গভীর নজর থাকবে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বিখ্যাত প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নার মধ্যে পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ বাড়ানোর একটি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়। এই চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ভারতের এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো, তিস্তা নদীর এই ভৌগোলিক অবস্থানটি কৌশলগত ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর একদম কাছাকাছি। এই নির্দিষ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনের যেকোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রকৌশলগত সম্পৃক্ততা ও উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়াটা স্বাভাবিকভাবেই নয়া দিল্লির নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিবেচনার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম

স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম

বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের ওঠানামা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।... বিস্তারিত