আফ্রিকায় ভারতীয় জম্বি ড্রাগের তণ্ডবলীলা: লাশের পাহাড় ফ্রিটাউনে

পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনৈতিক বাণিজ্যের এক হাড়হিম করা চিত্র ফুটে উঠেছে এএফপির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। সাধারণ ব্যথার ওষুধের মোড়কে ভারত থেকে কোটি কোটি ‘ট্যাপেন্টাডল’ ট্যাবলেট পাচার হচ্ছে আফ্রিকায়, যা এখন স্থানীয় ‘জম্বি ড্রাগ’ কুশের সঙ্গে মিশিয়ে এক ভয়াবহ প্রাণঘাতী মাদকে পরিণত হয়েছে। একে কেন্দ্র করে সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়ার মতো দেশগুলোতে বর্তমানে জাতীয় জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে।
ট্যাপেন্টাডল একটি উচ্চমাত্রার সিন্থেটিক ওপিওয়েড, যা বিশ্বের কোনো প্রধান ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদন দেয়নি। অথচ ভারত থেকে নিয়মিত কোটি কোটি ডলারের এই ট্যাবলেট নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন ও ঘানায় পৌঁছাচ্ছে। শুল্ক নথিতে এগুলোকে ‘মানুষের ব্যবহারের জন্য ক্ষতিহীন’ বলে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে নেশার উপকরণ হিসেবে। সিয়েরা লিওনের রাজধানী ফ্রিটাউনে মাত্র তিন মাসে ৪০০-র বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই এই ড্রাগ সেবনের ফলে প্রাণ হারিয়েছেন।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলেও শিপমেন্ট নথিতে দেখা গেছে, গুজরাটভিত্তিক বেশ কিছু কোম্পানি (যেমন- গুজরাট ফার্মাসিউটিক্যালস, মেরিট অর্গানিকস) উচ্চমাত্রার (২২৫ ও ২৫০ মি.গ্রা.) ট্যাপেন্টাডল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। কোম্পানিগুলো নিজেদের দায় এড়াতে চালানের গায়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য লিখে পাঠাচ্ছে। সিয়েরা লিওনের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসা ৯০ শতাংশ রোগীই ট্যাপেন্টাডল মেশানো কুশ সেবনে আসক্ত।
আফ্রিকার দেশগুলোতে এই ড্রাগ কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং দারিদ্র্য ও কঠিন শ্রমের ক্লান্তি ভুলতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। স্বর্ণখনির শ্রমিক, কুলি ও ট্যাক্সি চালকরা অমানবিক পরিশ্রম সইতে এই মরণনেশায় ঝুঁকছেন। এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরাও এখন এনার্জি ড্রিংকের সঙ্গে এই ট্যাবলেট মিশিয়ে সেবন করছে। নাইজেরিয়ায় বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোও যুদ্ধের ময়দানে ‘সাহস’ পেতে এই ওপিওয়েড ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই মাদকের এই নতুন আগ্রাসন আফ্রিকায় এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় তৈরি করছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলোর এই অনৈতিক মুনাফালোভী বাণিজ্য বন্ধ না হলে আফ্রিকার তরুণ প্রজন্ম ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ চিরতরে অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।
/আশিক
হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। সিরিক এলাকায় মার্কিন হামলার পর ইরানি সামরিক বাহিনীর এই প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আইআরজিসির নৌ কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের প্রশ্নকে দুর্বল করতে পারবে না। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নৌপথে যারা চুক্তি বা চলাচলের শর্ত ভঙ্গ করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন আলাদা সামরিক বিবেচনার বিষয়। আইআরজিসির ভাষায়, এসব ঘাঁটি আগামী দিনগুলোতে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে।
এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করাই ছিল ওই অভিযানের উদ্দেশ্য।
মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণাগার, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং উপকূলীয় সামরিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে দেখছে।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথমে ইরানি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ নষ্ট করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে।
এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আগ্রাসনের জবাব।
কিছু প্রতিবেদনে কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করার কথা উঠে এসেছে। তবে এসব হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুয়েত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কোথাও কোথাও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি বিবৃতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মূল্যায়ন ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর অন্যতম এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, বীমা ব্যয় এবং উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো যুদ্ধবিরতি সমঝোতার ভবিষ্যৎ। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও মাঠপর্যায়ের সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যদি পাল্টাপাল্টি হামলার পথ থেকে সরে না আসে, তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে কুয়েত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলোও সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই পাল্টা অভিযানের দাবি ওঠার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার রাতে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিমান হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মার্কিন হামলার পরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। আইআরজিসির নৌ শাখার এক শীর্ষ কমান্ডার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।
ইরানি পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ইরানের এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। কুয়েত ও বাহরাইনের পক্ষ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার কথা জানানো হলেও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বৈরী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় কাজ করছে। দেশটির নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, কোথাও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে তা শত্রুপক্ষের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল হতে পারে।
বাহরাইনেও সতর্ক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এই সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর অন্যতম এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। তাই হরমুজে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি পূর্ণমাত্রার সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়, তাহলে তার পরিণতি তেহরানের জন্য ভয়াবহ হবে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সংযম দেখালেও তেহরান সেই সুযোগকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথমে ইরানি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি সমঝোতা ভঙ্গ করেছে। তেহরানের দাবি, তাদের পাল্টা অভিযান আত্মরক্ষামূলক এবং মার্কিন আগ্রাসনের জবাব।
দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ১৭ জুনের যুদ্ধবিরতি সমঝোতাকে কার্যত বড় সংকটে ফেলেছে। মাত্র কয়েকদিন আগেও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা, ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ এবং এরপর কুয়েত-বাহরাইনমুখী ইরানি হামলার দাবি পরিস্থিতিকে দ্রুত অবনতির দিকে নিয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কুয়েত, বাহরাইন এবং পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশ এই উত্তেজনার সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের উপস্থিতি উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব স্থাপনাকে লক্ষ্য করার দাবি তাই কেবল সামরিক বার্তা নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক উপস্থিতির বিরুদ্ধেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
তবে সামরিক দাবির সঙ্গে বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির পার্থক্য থাকতে পারে। সংঘাতের সময় পক্ষগুলো প্রায়ই নিজেদের অভিযানের সাফল্য বাড়িয়ে তুলে ধরে। তাই কুয়েত, বাহরাইন, যুক্তরাষ্ট্র এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের পরবর্তী তথ্যই প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সতর্ক সাইরেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশনা যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়েছে।
-রাফসান
ভারতে সোনার বাজারে নতুন সংকট, কেন বাড়ছে চোরাচালান?
ভারতে সোনার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পর আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সোনার চোরাচালান। দেশটির স্বর্ণ ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরে অবৈধ পথে ভারতে ঢোকা সোনার পরিমাণ ১০০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনার বাজার। চীনের পর দেশটিতেই সোনার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিয়ে, উৎসব, বিনিয়োগ ও পারিবারিক সঞ্চয়ের কারণে ভারতে সোনার ব্যবহার ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী। ফলে আমদানি শুল্কে বড় পরিবর্তন হলে তার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ে।
ভারত সরকার গত মে মাসে সোনার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে। সরকারের লক্ষ্য ছিল সোনার চাহিদা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রুপির ওপর চাপ হ্রাস করা। কিন্তু বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্তের একটি বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে অবৈধ সোনা প্রবাহে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক বাড়ার কারণে বৈধ পথে আমদানি করা সোনার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে কর ফাঁকি দিয়ে আনা সোনা অবৈধ বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এই দামের ব্যবধানই চোরাচালানকারীদের জন্য বড় লাভের সুযোগ তৈরি করছে।
মুম্বাইভিত্তিক একটি বেসরকারি সোনা আমদানিকারক ব্যাংকের বুলিয়ন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কালোবাজারে সোনার ছাড় প্রতি আউন্সে ২০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। শতাংশের হিসাবে এই ছাড় ৪ শতাংশেরও বেশি। বৈধ আমদানিকারক ব্যাংক ও শোধনাগারগুলো যেখানে সামান্য ছাড় দিতেও হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে অবৈধ বাজার বড় ছাড় দিয়ে ক্রেতা টানছে।
ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাবি, আমদানি শুল্ক ও জিএসটি মিলিয়ে ভারতে সোনার ওপর মোট করের বোঝা প্রায় ১৮.৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই উচ্চ কর কাঠামো বৈধ ব্যবসাকে চাপের মুখে ফেলছে এবং অবৈধ বাজারকে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ১০০ মেট্রিক টন সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণ সোনা যদি অবৈধ পথে বাজারে ঢোকে, তাহলে শুল্ক ও বিক্রয় কর বাবদ সরকারের সম্ভাব্য ক্ষতি হতে পারে প্রায় ২.৬৫ বিলিয়ন ডলার।
এই পরিস্থিতি বৈধ আমদানিকারক, ব্যাংক ও শোধনাগারগুলোর জন্য বড় সংকট তৈরি করছে। কারণ তারা শুল্ক, জিএসটি, আনুষ্ঠানিক আমদানি ব্যয় এবং নিয়মিত হিসাবপত্র মেনে ব্যবসা করে। ফলে কালোবাজারের সঙ্গে দামের প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে।
কলকাতার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মতে, অবৈধ বাজারে বড় ছাড় দিয়েও চোরাকারবারিরা উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে পারছে। এই দামের ব্যবধানের কারণে অনেক খুচরা ব্যবসায়ীও বৈধ উৎস থেকে সোনা কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
এর আগে আমদানি শুল্ক কমানোর পর ভারতে সোনার চোরাচালান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল। ২০২৩ সালে অবৈধ সোনা আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫৬.১ মেট্রিক টন। পরের বছর তা কমে ৬৯.২ মেট্রিক টনে নামে। ২০২৫ সালে আরও কমে দাঁড়ায় ২০.৪ মেট্রিক টনে।
কিন্তু নতুন করে শুল্ক বাড়ানোর পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, শুল্ক কম থাকলে বৈধ আমদানি তুলনামূলক লাভজনক থাকে। কিন্তু শুল্ক বাড়লে বৈধ ও অবৈধ বাজারের দামের ব্যবধান বাড়ে, আর সেই ফাঁকই চোরাচালানকে উৎসাহিত করে।
হায়দরাবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে ভারত প্রায় ৪৫.৬ টন সোনা আমদানি করেছিল। কিন্তু মে মাসে সেই আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ কালোবাজারে বড় ছাড়ের কারণে ব্যাংক ও শোধনাগারগুলো নতুন আমদানিতে আগ্রহ হারাচ্ছে।
শোধনাগার খাতেও চাপ বাড়ছে। সিজিআর মেটালয়েসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেমস জোস জানিয়েছেন, কালোবাজারে বড় ছাড় বৈধ ব্যবসাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। শুল্ক বৃদ্ধির আগে আমদানি করা সোনার মজুতেও এখন আউন্সপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি ছাড় দিতে হচ্ছে।
তাঁর মতে, সোনা শোধনাগারগুলো সাধারণত খুব কম মুনাফায় কাজ করে। যেখানে লাভের হার ১ শতাংশেরও কম, সেখানে বাজারে বড় ছাড় চললে নতুন করে ডোরে বা আধা-পরিশোধিত সোনা আমদানির উৎসাহ কমে যায়। এতে শোধনাগার শিল্পের কার্যক্রমও সংকুচিত হতে পারে।
-রফিক
যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে, ইরানে ফের মার্কিন হামলা
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
শনিবারের এই নতুন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৭ জুন হওয়া যুদ্ধবিরতি সমঝোতা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই নতুন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তা হুমকির জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সেন্টকম বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে মাইন স্থাপনের সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু যুদ্ধবিরতি সমঝোতার বিরোধী নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রামে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের দিনও একই এলাকায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়।
কেশম দ্বীপেও হামলার খবর এসেছে। হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় এই অঞ্চল সামরিক ও বাণিজ্যিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের বড় অংশ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল।
হামলা শুরুর কিছু সময় পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ধৈর্যকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ না করে, তাহলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার বিকল্প খোলা রাখছে।
তবে ইরানও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। তেহরানের দাবি, মার্কিন হামলাই অঞ্চলকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করছে।
এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ যুদ্ধবিরতি সমঝোতার ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। মাত্র কয়েকদিন আগেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা, ড্রোন ব্যবহার এবং পাল্টা বিমান হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সংকট নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
কারণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। তাই এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এমন সময়ে হলো, যখন যুদ্ধবিরতি সমঝোতা কার্যকর রাখার জন্য আন্তর্জাতিক মহল দুই পক্ষকেই সংযমের আহ্বান জানাচ্ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ের সামরিক পদক্ষেপ এখন সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রশ্নটি। ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। অন্যদিকে তেহরান মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরছে।
সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল এবং ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সবকিছুই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।
-রফিক
সমঝোতা ভাঙলেই 'দ্রুত ও চূড়ান্ত' জবাব: ওয়াশিংটনকে মোহসেন রেজাইয়ের কড়া আলটিমেটাম
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান-মার্কিন সমঝোতা স্মারকের কোনো শর্ত ভঙ্গ করে, তবে তার জবাব হবে অত্যন্ত 'দ্রুত ও চূড়ান্ত'। শনিবার (২৭ জুন) এমন স্পষ্ট ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মোহসেন রেজাই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে রেজাই সরাসরি অভিযোগ করেন, আমেরিকা এই অঞ্চলে তাদের প্রক্সি বা অনুগত বাহিনীকে গোপন সমর্থন জুগিয়ে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার প্রথম অনুচ্ছেদটি ইতিমধ্যেই পুরোপুরি লঙ্ঘন করেছে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীতে অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে ওয়াশিংটন চুক্তির পঞ্চম অনুচ্ছেদও ভঙ্গ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের দক্ষিণ উপকূলে একাধিক স্পর্শকাতর স্থানে মার্কিন যুদ্ধবিমানের আকস্মিক ও বড় ধরনের হামলার পরপরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল। মোহসেন রেজাই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধারা বা শর্ত লঙ্ঘনের চূড়ান্ত জবাব হবে অত্যন্ত দ্রুত এবং কল্পনাতীত কঠোর।
এর আগে হরমুজ প্রণালীতে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি দায়ী করে একে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক মূর্খতাপূর্ণ ও হঠকারী লঙ্ঘন’ বলে আখ্যায়িত করেন। হোয়াইট হাউজের এই কঠোর অবস্থানের পরপরই মার্কিন বিমান বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে শুক্রবার তারা নিখুঁত অভিযানের মাধ্যমে ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই আকস্মিক বিমান হামলার জেরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া আন্তর্জাতিক নাবিকদের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়।
তেহরান অবশ্য জাহাজে হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথে অননুমোদিত এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম অমান্য করে চলাচল করায় ওই পণ্যবাহী জাহাজটিকে আইনগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
মার্কিন এই বড় ধরনের সামরিক হামলার পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ তুলেছে এবং জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল প্রতিরোধমূলক হামলা চালিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরের সার্বিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ। উভয়পক্ষই এখন একে অপরকে চুক্তি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নতুন করে এক বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা ছড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
এটি একটি বিপর্যস্ত বিশ্বকাপ ফিফা ও ইনফান্তিনোকে ধুয়ে দিলেন ইরানি অধিনায়ক
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ১-১ গোলে ড্র করেও স্বস্তি মেলেনি ইরানের। যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেও অতি সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হওয়ায় নকআউটে ওঠার স্বপ্ন এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে দলটির। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই। তবে একই সময়ে গ্রুপের অন্য ম্যাচে বেলজিয়াম ৫-১ গোলে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়ায় টেবিলের সমীকরণ সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এর ফলে মিসর রানার্স-আপ হিসেবে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ যাওয়ার সুযোগ পেলেও, ইরানকে এখন চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতে হবে অন্য গ্রুপের ফলাফল এবং তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটির একটি হিসেবে পরের পর্বে জায়গা পাওয়ার গাণিতিক হিসাবের ওপর।
ম্যাচ শেষে শুধু মাঠের ভাগ্য বা ফল নিয়েই নয়, পুরো টুর্নামেন্টের দুর্বল সাংগঠনিক আয়োজন নিয়ে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরানের তারকা ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা (FIFA) এবং সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কড়া সমালোচনা করে তিনি সরাসরি বলেন, এই বিশ্বকাপ আয়োজনের দিক থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একেবারেই ব্যর্থ হয়েছে।
তারেমির ভাষায়, ‘এটি একটি সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত ও বিশৃঙ্খল বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই যেসব লজিস্টিক সমস্যার সমাধান করার মূল দায়িত্ব ফিফার ছিল, তারা তার কোনোটিই করতে পারেনি।’ তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর খোদ ইনফান্তিনো ইরানের ড্রেসিংরুমে এসে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘এটি তো কেবল শুরু।’ কিন্তু এখন গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হয়ে গেলেও বাস্তব পরিস্থিতির বা সুযোগ-সুবিধার কোনো পরিবর্তন বা উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ তারেমির।
ইরানি অধিনায়ক সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন ভিসা জটিলতার কারণে দলের প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীদের অনুপস্থিতি নিয়ে। তাঁর দাবি, টুর্নামেন্ট আমেরিকার মাটিতে হলেও প্রয়োজনীয় ভিসা না পাওয়ায় ইরানের অফিশিয়াল লজিস্টিক, মেডিকেল ও পুনর্বাসন–সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এই বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি। তারেমি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের মূল লজিস্টিক ও সাপোর্ট স্টাফদের সদস্যরা এখানে নেই। মার্কিন প্রশাসন তাদের ভিসাই দেয়নি। একটি বৈশ্বিক পেশাদার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলের সাথে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট চলাকালীন দলের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ভ্রমণ সূচি নিয়েও বড় প্রশ্ন তোলেন এই ফুটবলার। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি ভেন্যুতে ম্যাচ খেলার পর তাদের বারবার মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অবস্থিত বেস ক্যাম্পে ফিরে যেতে হয়েছে, যা দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের কারণে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক ওপর চরম বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘তিহুয়ানার মানুষকে আমরা মন থেকে ভালোবাসি। মেক্সিকোকেও আমরা সম্মান করি। কিন্তু একটি হাই-প্রোফাইল পেশাদার প্রতিযোগিতায় ম্যাচের পরপরই বারবার এত দূরে যাতায়াত করা মোটেও স্বাভাবিক নয়। সূচি প্রণয়নের নামে এটি আমাদের সঙ্গে স্পষ্ট অন্যায় করা হয়েছে।’ ক্ষোভ ঝেড়ে তারেমি আরও বলেন, ‘আমরা বারবার ম্যানেজমেন্টের কাছে এসব সমস্যার কথা বলেছি।
কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি, কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। যদি ফিফা সত্যিই চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিই, তাহলে সেটাই হোক। কিন্তু অন্তত বিশ্বমঞ্চে সবার সাথে ন্যায্য ও সমান আচরণ তো প্রাপ্য ছিল।’ মাঠের বাইরে ভূরাজনীতির কারণে ইরানকে এই বিশ্বকাপে ইচ্ছাকৃতভাবে অবাঞ্ছিত মনে করা হচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন এক বিস্ফোরক প্রশ্নের জবাবে তারেমি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখানে আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। কখনো কখনো মনে হয়, আমাদের ইচ্ছা করেই এমন বৈষম্যমূলক পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। নইলে ৯০ মিনিট ম্যাচ খেলার পর কেন একটা দলকে আবার ক্লান্তিকর ভ্রমণ করে তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হবে?’
/আশিক
ইসলামাবাদ সমঝোতা কি ভেস্তেই গেল? বাহরাইনে ড্রোন হামলার নেপথ্যে কী?
গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) ইরান জানায়, তারা তাদের দক্ষিণ উপকূলে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর হিসেবে পরিচিত বাহরাইন তাদের ভূখণ্ডে ইরানের ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। চার মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় দুই পক্ষই এখন একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ তুলছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলার সুনির্দিষ্ট স্থানগুলোর নাম প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, সিরিক বন্দর নগরীর একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন ‘বর্বরোচিত’ বিমান হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তারা ওই বিমান হামলা চালিয়েছিল। অন্যদিকে, বাহরাইন সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টাকে তোয়াক্কা না করে ইরানের এই ধারাবাহিক হামলা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং গত ১৭ জুনের ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই পরিস্থিতিতে বাহরাইন নিজেদের রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এদিকে, এই চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধ বন্ধের একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রিকরণ এবং লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এই চুক্তিতে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
অপরদিকে, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অনুযায়ী এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে এবং তেহরানের নির্ধারিত রুট অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক্স (টুইটার) বার্তায় ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে, কিন্তু যেকোনো সহিংসতার জবাব কঠোর সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।
এই নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতার ঠিক আগেই শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল, কারণ দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর সৌদি আরামকো তাদের রাস তানুবা টার্মিনাল থেকে পুনরায় তেল সরবরাহ শুরু করেছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় দেশগুলো সফর শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে কোনো টোল বা নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা ছাড়াই সম্পূর্ণ মুক্ত ও শর্তহীন নৌযান চলাচলের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শীর্ষ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি ওয়াশিংটনের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, এই অঞ্চলে তাদের টিকে থাকা তেহরানের সহনশীলতার ওপরই নির্ভর করছে।
সূত্র: রয়টার্স।
চুক্তির মেয়াদ ১০ দিনও টিকল না: হরমুজে পাল্টা-পাল্টি হামলা, কোন মহাযুদ্ধের মুখে মধ্যপ্রাচ্য?
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতির আশাকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত ১৭ জুনের স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (MoU) বা সমঝোতা স্মারকের শর্ত ভেঙে এই প্রথম ইরানি ভূখণ্ডে সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) দাবি অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ইরানের আকস্মিক ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের উপকূলীয় রাডার স্টেশন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রাখার গোপন আস্তানাগুলোতে নিখুঁত নিশানা বানিয়ে হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। বিপরীতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই আক্রমণকে উসকানি ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। তাদের দাবি, ওই সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর তেহরানের আইনি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিশোধ নিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে—আঞ্চলিক এমন একাধিক সামরিক ঘাঁটিকে টার্গেট করে পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে আইআরজিসি।
এই সামরিক উত্তেজনার সমান্তরালে হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন বৈশ্বিক মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট, যা পুরো বিশ্বের সরবরাহ শৃঙ্খলকে অচল করে দেওয়ার উপক্রম করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেলে বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার থেকে ২০ হাজার নৌকর্মী আটকা পড়ে আছেন, যাদের সিংহভাগই গ্লোবাল সাউথ বা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক। চলতি সপ্তাহে মাত্র সাড়ে তিন দিনের জন্য প্রণালীটি উন্মুক্ত করা হলে কোনোমতে ২ হাজার ৫০০ নাবিককে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও, বাকিরা এখনো সাগরে ভাসমান জাহাজে চরম খাদ্য, পানি এবং জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। সমুদ্রসীমায় ছড়িয়ে থাকা মারাত্মক সব 'সি মাইন' বা সামুদ্রিক বোমার কারণে ১৯৬৮ সাল থেকে ব্যবহৃত চিরাচরিত নিরাপদ রুটটি এখন সম্পূর্ণ অচল। আইএমও প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক এই আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আটকা পড়া সাধারণ নাবিকেরা আজ বিশ্ব গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সম্পূর্ণ উপেক্ষিত ও বিস্মৃত হয়ে পড়েছেন।
বিশ্বের নজর যখন ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের দিকে, তখন লেবানন ও ফিলিস্তিন সীমান্তেও চরম অস্থিরতা ও কূটনৈতিক জটিলতা দৃশ্যমান হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির রূপরেখা প্রকাশ করলেও বৈরুতের রাস্তায় এর বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান আপত্তি হলো—চুক্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের (Withdrawal) কোনো স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই, বরং সেখানে কেবল 'পর্যায়ক্রমিক পুনর্বিন্যাস' (Redeploy) শব্দের ধোঁয়াশা রাখা হয়েছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত উত্তর ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে। এদিকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি নৃশংসতা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশ্বখ্যাত শিশু অধিকারকর্মী রাচেল অ্যাকুরসো (মিস রাচেল) এবং জাতিসংঘ কমিশনার ক্রিস সিডোটি এক যৌথ ব্রিফিংয়ে অভিযোগ করেছেন, গাজায় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের টার্গেট করে গণহত্যা চালানো হচ্ছে, অথচ বিশ্বনেতারা এখনো অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ব্যর্থ। দীর্ঘ তিন বছর পর গাজার একমাত্র কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপন ক্লিনিকটি পুনরায় চালু হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতির কারণে শত শত যুদ্ধাহত শিশুর ভবিষ্যৎ এখন চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবাননের ১৪ দফা চুক্তি
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সই হওয়া ১৪ দফার কাঠামোগত চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করার পর এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফা সামনে এসেছে, যেখানে লেবাননের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সংবেদনশীল বিষয় রাখা হয়েছে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তেল আবিব ও বৈরুতের মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সই হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি একে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি প্রাথমিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন।
চুক্তির দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, ইসরাইল ও লেবানন সরকার পারস্পরিক এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি প্রক্রিয়ায় সম্মত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী বা এলএএফের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পুরো দেশের ওপর কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
তবে এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি কঠিন শর্ত। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের ভেতরে সক্রিয় অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে এবং এই প্রক্রিয়া বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ ও অবকাঠামো অপসারণের শর্ত পূরণ এবং যাচাইয়ের পর ইসরাইলি বাহিনী ধাপে ধাপে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে যাবে। অর্থাৎ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি সরাসরি নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও হিজবুল্লাহসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভবিষ্যৎ অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
চুক্তির বাকি দফাগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা, সমন্বয় প্রক্রিয়া, লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব, পুনর্গঠন এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সহায়তার মতো বিষয় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, কোন সময়সীমায় হবে এবং কোন পক্ষ কীভাবে অগ্রগতি যাচাই করবে—এসব প্রশ্ন এখনো বড় রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে আছে।
চুক্তির আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে দুটি এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর একটি এলাকা লিতানি নদীর দক্ষিণে এবং অন্যটি উত্তরে। এই অঞ্চলগুলোতে ইসরাইলি বাহিনী সীমিতভাবে সরে দাঁড়াবে এবং লেবাননের সেনাবাহিনী নিরাপত্তা দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত এলাকায় একই মডেল প্রয়োগ করা হতে পারে। তবে নিরাপত্তা যাচাই, হিজবুল্লাহর উপস্থিতি, স্থানীয় জনগণের প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্গঠন সহায়তা—সবকিছুই এই প্রক্রিয়ার সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্তে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। মাঝে মাঝে সীমান্ত এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটছে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই চুক্তিকে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, লেবাননের ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য এই ফ্রেমওয়ার্ক একটি রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না। তাঁর অবস্থান হলো, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেনা উপস্থিতি বজায় থাকবে।
এই অবস্থানই চুক্তির বাস্তবায়নকে জটিল করে তুলতে পারে। কারণ লেবাননের ভেতরে হিজবুল্লাহ শুধু একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়; দেশটির রাজনৈতিক বাস্তবতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নটি কেবল নিরাপত্তা নয়, লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কাগজে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবায়ন হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। লেবাননের সেনাবাহিনী কি পুরো ভূখণ্ডে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে, হিজবুল্লাহ কি নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে, আর ইসরাইল কি পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করবে—এই তিন প্রশ্নই আগামী দিনের মূল চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী ও সমন্বয়কারী ভূমিকা পালন করতে চাইছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা তৈরি করা, লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব জোরদার করা এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমানো।
তবে চুক্তিকে ঘিরে আশাবাদের পাশাপাশি অনিশ্চয়তাও প্রবল। যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা, হিজবুল্লাহর অবস্থান, ইসরাইলের নিরাপত্তা শর্ত, লেবাননের রাজনৈতিক বিভাজন এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব সব মিলিয়ে এই ফ্রেমওয়ার্ককে একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।
সব মিলিয়ে, ইসরাইল-লেবানন ১৪ দফা কাঠামোগত চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় বাস্তবতায় একটি নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ। এটি শান্তির পথে দরজা খুলতে পারে, আবার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে নতুন উত্তেজনার কারণও হয়ে উঠতে পারে। তাই এখন নজর থাকবে লেবাননের সেনাবাহিনীর মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব গ্রহণ, হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়া এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বাস্তব অগ্রগতির দিকে।
-রাফফসান
পাঠকের মতামত:
- হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
- স্বর্ণের দাম ফের বাড়ল, ভরি এখন যত টাকায়
- রোববার ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ
- আজ কোথায় কী, দিনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি জানুন
- মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা
- ভারতে সোনার বাজারে নতুন সংকট, কেন বাড়ছে চোরাচালান?
- যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে, ইরানে ফের মার্কিন হামলা
- মেসিকে বিশ্রাম দিয়ে কি বড় রেকর্ড হাতছাড়া করছে আর্জেন্টিনা? জর্ডান ম্যাচে নতুন ছক
- সমঝোতা ভাঙলেই 'দ্রুত ও চূড়ান্ত' জবাব: ওয়াশিংটনকে মোহসেন রেজাইয়ের কড়া আলটিমেটাম
- চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের স্থায়ী বসতি: ৩৭টি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে নাসার মেগা প্রজেক্ট
- বুয়েটে ‘আবরার ফাহাদ’ হলের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী
- কুমিল্লা হোমনার লটিয়া গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি ৪টি কবরে দাফন
- জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল, কোয়ার্টারে বিদায় আর্জেন্টিনার! ‘বিশ্বকাপ গুরু’র নতুন বোমা
- এটি একটি বিপর্যস্ত বিশ্বকাপ ফিফা ও ইনফান্তিনোকে ধুয়ে দিলেন ইরানি অধিনায়ক
- বাংলাদেশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে ভারত: চরমোনাই পীর
- ৪১ বছরেও শেষ নয়! ২০৩০ বিশ্বকাপে ছেলের সাথে খেলার ইঙ্গিত রোনালদোর
- জাকাত হলো দেশের অর্থনীতির ‘হিডেন ইকোনমি’: কেন এমন বললেন বিজেপি চেয়ারম্যান?
- কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন কী? বেইজিং সফরের পর সংসদের সামনে অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে চীনের মেগা বিনিয়োগের ছক: বাণিজ্যমন্ত্রীর মুখে নতুন পথ ও পরিকল্পনার কথা
- ইসলামাবাদ সমঝোতা কি ভেস্তেই গেল? বাহরাইনে ড্রোন হামলার নেপথ্যে কী?
- অন্ধ বিরোধিতার কালচার আমি সমর্থন করি না: জামায়াত আমির
- মানুষ নিজেদের স্বার্থ দেখার জন্যই আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- আভিজাত্যের তকমা হারাচ্ছে ধানমন্ডি: ৩১ বছর পর কোন বড় অ্যাকশনে সরকার?
- সাড়ে ৭ ঘণ্টায় রেকর্ড চূর্ণ: পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল কত কোটি?
- ১৭ এমওইউর পর সংসদে ধন্যবাদ পেলেন প্রধানমন্ত্রী
- প্রতিটি শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করবে সরকার
- চুক্তির মেয়াদ ১০ দিনও টিকল না: হরমুজে পাল্টা-পাল্টি হামলা, কোন মহাযুদ্ধের মুখে মধ্যপ্রাচ্য?
- পতনের পরই বিশাল লাফ: রেকর্ড ভেঙে এবার কত হলো সোনার ভরি?
- ৬ মাস পর খুলল পাগলা মসজিদের দানবাক্স, ৪৩ বস্তা টাকার গণনা চলছে!
- কাঁটাবনে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ হারালেন দুই আইনজীবীর সহকারী, নেপথ্যে কী?
- রোমের বুকে রক্তক্ষরণ: একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংস হত্যা, নেপথ্যে কী?
- জর্ডানের বিপক্ষে বেঞ্চে মেসি, নকআউটের আগে স্কালোনির বড় সিদ্ধান্ত
- প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়
- ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবাননের ১৪ দফা চুক্তি
- সৌদিতে যেতে পারবেন না ৩ দেশের ভ্রমণকারীরা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- বছরের সর্বনিম্নে সোনা, আজ ভরি কত?
- আজ কখন কোন নামাজ? দেখে নিন পূর্ণ সময়সূচি
- টিভিতে আজ ফুটবল ও ক্রিকেটের মেগা সূচি
- সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি
- চীন সফরে ১৭ এমওইউ, কী পেল বাংলাদেশ
- তিস্তার ঢেউয়ে কূটনীতির নতুন গল্প: ঢাকার পাশে বেইজিং
- ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
- বারবার ক্ষুধা লাগে? জানুন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে যে ৭ খাবার
- শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বড় বার্তা
- যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় তুরস্কের
- আজ টিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবল, ক্রিকেটসহ খেলার সূচি
- ডিএসই সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ, কোন খাত এগোল, কোনটি পিছোল
- আজ ১০ মহররম, জেনে নিন নামাজের সময়সূচি
- ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
- নকআউটে ব্রাজিল, কবে-কোথায় ম্যাচ? প্রতিপক্ষ কারা
- রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের নতুন লাফ: দুদিনের মাথায় দামের এই রেকর্ড লাফের পেছনের রহস্য কী?
- ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ নাজিরপুরে মাদক নির্মূলে মানববন্ধন
- সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি
- রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত
- ২১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- বুধবার বন্ধ থাকবে যমুনা ফিউচার পার্কসহ যেসব মার্কেট
- ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
- ২১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন সব সময়
- আশুরার রোজা কেন এত ফজিলতপূর্ণ? জেনে নিন
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- সৌদিতে যেতে পারবেন না ৩ দেশের ভ্রমণকারীরা
- ২১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার








