লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তু এখন মাসুম শিশুরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ২১:৪২:৪৫
লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তু এখন মাসুম শিশুরা
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে চলমান এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যার মধ্যে অন্তত ২০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল থেকে একটি তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে লেবাননের শিশুদের ওপর সহিংসতার মাত্রা বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শুধুমাত্র গত এক সপ্তাহেই দেশটিতে অন্তত ৫৯ জন শিশু নিহত অথবা গুরুতর আহত হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের এই বর্তমান পরিস্থিতি শিশুদের জন্য এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ইউনিসেফের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে শিশুদের মোট হতাহতের সংখ্যা ২০০ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছে আরও ৮০৬ জন। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১৪ জন শিশু ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করছে। এই চিত্র শিশুদের জীবনের চরম অনিরাপত্তাকেই ফুটিয়ে তুলছে।

সংস্থাটি গভীর উদ্বেগের সাথে জানিয়েছে, দীর্ঘ কয়েক মাসের ভয় আর অস্থিরতা কাটিয়ে যখন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করার কথা, ঠিক তখনই তারা নির্বিচার সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। লেবাননের শিশুরা বর্তমানে ভয়াবহ বাস্তুচ্যুতি এবং মর্মান্তিক ট্রমার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। ইউনিসেফ তাদের বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পুরো একটি প্রজন্মের শৈশব ও ভবিষ্যৎ চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।

/আশিক


শি আমার বন্ধু: বেইজিংয়ের আড়ম্বরপূর্ণ ভোজ শেষে দরাজ কণ্ঠে ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ২০:০৪:২৬
শি আমার বন্ধু: বেইজিংয়ের আড়ম্বরপূর্ণ ভোজ শেষে দরাজ কণ্ঠে ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজটি কেবল রসনা তৃপ্তির আয়োজন ছিল না, বরং এটি ছিল এক সুগভীর ‘খাবার কূটনীতি’ (Gastrodiplomacy)। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ভোজের আভিজাত্য ও পরিবেশনার মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে এক বিশেষ বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছেন।

ভোজের খাদ্যতালিকায় ঐতিহ্যবাহী চীনা রন্ধনশৈলী এবং পশ্চিমা স্বাদের এক চমৎকার সংমিশ্রণ দেখা গেছে। অতিথিদের শুরুতে হালকা খাবারে আপ্যায়ন করার পর মূল পর্বে পরিবেশন করা হয় টমেটো স্যুপে লবস্টার এবং মচমচে গরুর মাংসের পাঁজর। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল বিশ্বখ্যাত ‘বেইজিং রোস্ট ডাক’ বা পিকিং হাঁস। এ ছাড়া মেন্যুতে ছিল সরিষার সসে স্যামন মাছ এবং প্যানে ভাজা শূকরের মাংসের বান। মিষ্টিমুখের আয়োজনে ছিল শঙ্খ আকৃতির পেস্ট্রি, তিরামিসু এবং ফল ও আইসক্রিম। চীনের সংস্কৃতিতে রাষ্ট্রীয় ভোজে পদের আধিক্য ও মান সম্পর্কের গুরুত্বকে প্রকাশ করে।

খাবারের টেবিলের এই উষ্ণতা দ্রুতই কূটনৈতিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শি জিনপিংকে ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করেন এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্পের মতে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গভীর।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প এই সফরকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। সফরের শুরু থেকে চীনা নেতৃত্বের রাজকীয় অভ্যর্থনায় তিনি যে মুগ্ধ, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে খাবারকে এখানে সফলভাবে কূটনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দুই পরাশক্তির মধ্যকার বরফ গলাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

/আশিক


বেইজিং সামিট ২০২৬: বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেওয়া শির প্রশ্ন ও ট্রাম্পের জবাব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ১৯:৩৯:১১
বেইজিং সামিট ২০২৬: বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেওয়া শির প্রশ্ন ও ট্রাম্পের জবাব
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শি বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দেন ট্রাম্পকে।

শি বলেন, “গত এক শতাব্দীতে এত দ্রুত এমন বৈশ্বিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত হতে দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখন অস্থির ও অশান্ত।’

ট্রাম্পকে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডিডিস ফাঁদ অতিক্রম করে বৃহৎ শক্তিগুলোর সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারবে? আমরা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীলতা দিতে পারব? দুই দেশের জনগণের কল্যাণ এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে কি আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব? এগুলোই ইতিহাস, বিশ্ব ও জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।”

তিনি আরও বলেন, এগুলো এমন প্রশ্ন যার উত্তর বড় দেশগুলোর নেতাদের একসঙ্গে দিতে হবে।

শি বলেন, “আমি আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করার অপেক্ষায় আছি, যাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিশাল জাহাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা যায় এবং ২০২৬ সালকে একটি ঐতিহাসিক ও মাইলফলকপূর্ণ বছরে পরিণত করা যায়, যা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।”

তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গড়ে তোলার নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে একমত হয়েছি।”

শির মতে, এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আগামী তিন বছর ও তার পরবর্তী সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেবে এবং এটি দুই দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বাগতযোগ্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, “এই ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ এমন একটি ইতিবাচক স্থিতিশীলতা হওয়া উচিত যেখানে সহযোগিতা হবে মূল ভিত্তি; এমন একটি সুস্থ স্থিতিশীলতা যেখানে প্রতিযোগিতা হবে সীমিত; বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত এক ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে বিশ্ব রাজনীতি ও মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কতগুলো গভীর ও দার্শনিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে শি জিনপিং বর্তমান অস্থির ও অশান্ত বিশ্ব পরিস্থিতিতে দুই পরাশক্তির দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

প্রেসিডেন্ট শি ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি ‘থুসিডিডিস ফাঁদ’ (যেখানে একটি উদীয়মান শক্তি বিদ্যমান শক্তিকে হঠাতে গিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয়) অতিক্রম করে সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারবে কি না। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন যে, গত এক শতাব্দীতে বিশ্ব এমন দ্রুত পরিবর্তন এবং অস্থির পরিস্থিতি দেখেনি। ২০২৬ সালকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি ট্রাম্পকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শি জিনপিং একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রস্তাব করেন, যাকে তিনি ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হবে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং এখানে প্রতিযোগিতা হবে অত্যন্ত সীমিত ও স্বাস্থ্যকর। তিনি এমন এক দীর্ঘস্থায়ী শান্তির স্বপ্ন দেখান যেখানে দেশ দুটির মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো সবসময় নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকবে। শি জোর দিয়ে বলেন, এই সম্পর্ক গঠন কেবল স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে শি জানান যে, বুধবারের বাণিজ্য আলোচনায় উভয় দেশের প্রতিনিধি দল ‘সামগ্রিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ফলাফল’ অর্জন করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত শুভ সংবাদ। তবে তাইওয়ান ইস্যুতে তিনি ট্রাম্পকে কঠোর ও স্পর্শকাতর সতর্কবার্তা দেন। শি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ এবং ‘শান্তি’ কখনোই একসাথে চলতে পারে না—এটি অনেকটা আগুন ও পানির মতো অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই ইস্যুতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।

জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শি জিনপিংকে ‘একজন মহান নেতা’ এবং চীনকে ‘একটি মহান দেশ’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁরা চাইলে দুই দেশ ও বিশ্বের জন্য অনেক বড় ও ভালো কাজ করতে পারেন। তিনি মার্কিন ব্যবসায়ীদের চীনে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য উৎসাহিত করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও ভালো অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ইউক্রেন সংকট এবং কোরীয় উপদ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে পরাশক্তি দুটির মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনের একটি নতুন পথ উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল।

সূত্র: সিনহুয়া


ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ১৮:৩২:৫৮
ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়ারি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামলে ওয়াশিংটনকে চূড়ান্ত পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (সিএও) পরিদর্শনকালে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরাজয় ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

অ্যাডমিরাল সায়ারি বলেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর অদম্য সাহস এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনই হবে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের প্রধান কারণ। তিনি বিশ্বাস করেন, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জাতীয় ঐক্য যেকোনো বিদেশি আগ্রাসন নস্যাৎ করতে সক্ষম। সাম্প্রতিক ‘ডেনা ডেস্ট্রয়ার’ রণতরীর শহীদদের প্রতি জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনকে তিনি ‘মহাকাব্যিক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং এই প্রক্রিয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বক্তব্যে সায়ারি ভূমধ্যসাগরে ইরানি নৌবাহিনীর প্রথমবারের মতো উপস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশনায় সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই অবস্থান বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। বিশেষ করে বাব আল-মানদাব প্রণালি ও লোহিত সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় শত্রুরা ভীত হয়ে পড়েছিল।

সায়ারি তার বক্তব্যে ভিয়েতনাম ও ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অতীত হস্তক্ষেপ, হত্যাকাণ্ড এবং অভ্যুত্থানের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অশুভ লক্ষ্য হাসিল করতে চায়, যা ইরানের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই সফল হবে না।

সবশেষে তিনি ইরানি জনগণের উচ্চ সামাজিক সহনশীলতা ও ঐক্যের প্রশংসা করে সরকারকে জনগণের এই সংহতির প্রতি কৃতজ্ঞ থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি


ইরান যুদ্ধের ফাঁদে খোদ ট্রাম্প: জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন অর্থনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ১৮:১৯:৩৭
ইরান যুদ্ধের ফাঁদে খোদ ট্রাম্প: জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জেরে নিজের পাতা ‘যুদ্ধফাঁদে’ নিজেরাই আটকা পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরানকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলতে গিয়ে উল্টো খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই আকাশচুম্বী জ্বালানি মূল্য ও রেকর্ড মূল্যস্ফীতির মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন। রিপাবলিকান দলের ভেতরেও এখন এই যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে চরম উদ্বেগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ৫০ সেন্ট ছাড়িয়ে গেছে, যা অনেক মার্কিনীর পারিবারিক বাজেটে বড় আঘাত হেনেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন আমেরিকানদের মধ্যে ৬ জনই জানিয়েছেন যে উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসন এখন ফেডারেল গ্যাস কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরিকল্পনা করছে, যা কার্যকর হলে গ্যালন প্রতি ১৮ সেন্ট পর্যন্ত দাম কমতে পারে।

যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৩.৮ শতাংশে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ৭টি অঙ্গরাজ্যে গ্যাসের দাম ইতোমধ্যে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে। এই অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক অনুমোদনের হার কমে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। মাত্র ২৫ শতাংশ নাগরিক মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়েছে।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই অর্থনৈতিক সংকট ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে এবং সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এতসব চাপের মুখেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনড়। তিনি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে ‘সামান্য মূল্য’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, তাঁর কাছে প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানো, আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থা তাঁকে প্রভাবিত করছে না।

সংকট মোকাবিলায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জাতীয় মজুদ থেকে আরও ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে রুশ তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাধার কারণে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে গ্যাস কর স্থগিতের পরিকল্পনা ট্রাম্পের হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারে কি না।

/আশিক


সার্বভৌমত্বে ছাড় নেই: বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে শির চূড়ান্ত সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ১২:২৯:৪৭
সার্বভৌমত্বে ছাড় নেই: বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে শির চূড়ান্ত সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা নিয়ে আবারও কড়া বার্তা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুই দুই পরাশক্তির সম্পর্কের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর প্রশ্ন।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি জিনপিং বৈঠকে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “তাইওয়ান প্রশ্ন সঠিকভাবে সামাল দেওয়া গেলে সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে তা সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করবে।” শি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যে, এই ইস্যুটি যথাযথভাবে পরিচালিত না হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর সংকটে পড়তে পারে, যা সরাসরি বিরোধের পথে ঠেলে দেবে বিশ্বকে।

তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান কতটা অনড়, তা বোঝাতে শি জিনপিং একটি কঠোর রূপক ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি—এই দুই বিষয় আগুন ও পানির মতো পরস্পরবিরোধী।” অর্থাৎ তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টা এবং এই অঞ্চলের শান্তি কখনোই একসাথে চলতে পারে না বলে তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে চীন। শি জিনপিং পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, দ্বীপটির স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টাকে চীনের সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ট্রাম্পের সঙ্গে এই আলোচনায় শির এমন স্পষ্ট অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাণিজ্যিক বা অন্যান্য ক্ষেত্রে সমঝোতা হলেও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে চীন কোনো প্রকার ছাড় দিতে রাজি নয়।

/আশিক


শি জিনপিংকে মহান নেতা অভিহিত করলেন ট্রাম্প: বেইজিংয়ে সম্পর্কের নতুন মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ১১:১২:১৮
শি জিনপিংকে মহান নেতা অভিহিত করলেন ট্রাম্প: বেইজিংয়ে সম্পর্কের নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী—যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৈরী সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি প্রস্তাব করেছেন যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার বদলে একে অপরের সহযোগী হওয়া উচিত। শি জিনপিংয়ের এই ইতিবাচক বার্তার জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘একজন মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্তের ঘোষণা দিয়েছেন।

২০১৭ সালের পর প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেইজিং সফর করছেন ট্রাম্প। শি জিনপিং তাকে লাল গালিচায় স্বাগত জানান এবং সামরিক বাহিনীর চৌকস দল ট্রাম্পকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই নেতার উষ্ণ করমর্দন এবং সৌজন্য বিনিময় ইশারা করছে যে, অন্তত আলোচনার টেবিলে তারা সংঘাতের চেয়ে সমঝোতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যকার সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আরও ভালো হবে।

চমকপ্রদ ও ইতিবাচক বক্তব্যের আড়ালে এই বৈঠকে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও জটিল ইস্যু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে শুল্কনীতি (Tariff), প্রযুক্তিগত আধিপত্যের প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গভীর দরকষাকষি চলছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এই আলোচনার ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের এই সফরে বাণিজ্য ও প্রযুক্তির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে তার সফরসঙ্গীদের তালিকায়। মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার (Nvidia) প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। প্রযুক্তি বিশ্বের এই দুই শীর্ষ নেতার উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মার্কিন চিপ শিল্প এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার নিয়ে চীনের সঙ্গে বড় কোনো সমঝোতা বা চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের শেষভাগে দুই নেতার একটি রাজকীয় রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

/আশিক


ইরান ইস্যুতে অগ্রগতির দাবি জেডি ভ্যান্সের: ট্রাম্পের রেড লাইন কি পূরণ হবে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ১০:৪২:১৫
ইরান ইস্যুতে অগ্রগতির দাবি জেডি ভ্যান্সের: ট্রাম্পের রেড লাইন কি পূরণ হবে?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যেই হোয়াইট হাউস থেকে কিছুটা ইতিবাচক কিন্তু সতর্ক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার (১৩ মে) তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

ভ্যান্সের অগ্রগতি বনাম ট্রাম্পের অনড় অবস্থান

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা অগ্রগতি করছি, কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো—এই অগ্রগতি কি প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট?” তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের প্রধান শর্ত হলো ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। এর আগে অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবকে সরাসরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যা ভ্যান্সের এই ‘অগ্রগতি’র দাবিকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ইরানের পাঁচ কঠোর শর্ত

এদিকে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটনের সামনে পাঁচটি কঠোর শর্ত বা ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ ছুড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে তারা কোনো আলোচনাতেই অংশ নেবে না।

শর্তগুলো হলো

১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা।

২. ইরানের ওপর আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

৩. বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।

৪. যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান।

৫. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকারের স্বীকৃতি।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই পাঁচটি শর্তের মধ্যে বিশেষ করে ‘ক্ষতিপূরণ’ এবং ‘হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম অধিকার’ মেনে নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স আলোচনার অগ্রগতির কথা বললেও হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে ইরান নীতি নিয়ে যে দ্বিধাবিভক্তি বা কঠোর অবস্থান রয়েছে, তা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

/আশিক


বেইজিংয়ে মুখোমুখি ট্রাম্প ও শি জিনপিং: বিশ্ব তাকিয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ১০:১৫:০২
বেইজিংয়ে মুখোমুখি ট্রাম্প ও শি জিনপিং: বিশ্ব তাকিয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির দুই প্রধান পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যেই শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ট্রাম্প-শি’ শীর্ষ সম্মেলন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটন-বেইজিং টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেট হল অব দ্য পিপলের বিশাল কনফারেন্স রুমে অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে দুই বিশ্বনেতার এই আলোচনা শুরু হয়। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং অন্যদিকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তাইওয়ান নিয়ে চীনের কঠোর অবস্থানের কারণে এই বৈঠকের ফলাফল পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনা সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নীতিনির্ধারক। এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেটে হেগসেথ, বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবং বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি ইশারা করছে যে, বাণিজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এই আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। তবে শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে কারা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে বেইজিং এখনো বিস্তারিত কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি।

ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানাবে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, চীন তাদের ‘এক চীন’ নীতি এবং তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধ ও প্রযুক্তি খাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বড় ধরণের দরকষাকষি হতে পারে এই হাইভোল্টেজ সম্মেলনে।

/আশিক


শত্রুর কল্পনাকেও হার মানাবে আমাদের গোপন শক্তি: ইরানি সেনা মুখপাত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ২১:৫৬:৩৫
শত্রুর কল্পনাকেও হার মানাবে আমাদের গোপন শক্তি: ইরানি সেনা মুখপাত্র
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের রেশ না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি নিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক মুহূর্তের জন্যও পিছু হটবে না এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

মাশহাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আকরামি নিয়া ইরানের নতুন সামরিক বিন্যাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ ইউনিট এবং পূর্বাংশ রয়েছে নিয়মিত নৌবাহিনীর অধীনে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা যুদ্ধজাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।

ইরানি এই জেনারেল দাবি করেন, যুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে এবং অনেক আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি দেননি। তিনি আরও বলেন, “শত্রুপক্ষ আমাদের সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করেছিল। আমাদের এমন অনেক গোপন শক্তি রয়েছে যা তাদের কল্পনারও বাইরে।”

আকরামি নিয়ার দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ প্রস্তুতি বজায় রাখার মাধ্যমে তারা শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির এই নাজুক সময়ে ইরানের এমন কড়া বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র: আল-জাজিরা

পাঠকের মতামত: