সরকারি কর্মচারীদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসছে নতুন পে স্কেল

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ১৯:৪৯:১৬
সরকারি কর্মচারীদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসছে নতুন পে স্কেল
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো তৎপরতা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত আটবার বেতন কাঠামো পরিবর্তন করা হলেও ২০১৫ সালের পর আর কোনো নতুন পূর্ণাঙ্গ স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপে দিশেহারা সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তির খবর নিয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বর্তমানে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটি বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে সুপারিশমালা তৈরির কাজ করছে। সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য চিত্র

যদিও সরকার থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি, তবে সচিবালয় ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে একটি সম্ভাব্য খসড়া তালিকা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১ নম্বর গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা (নির্ধারিত) করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একইভাবে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতন ৩২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এ ছাড়া নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের প্রারম্ভিক বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা করার প্রস্তাবনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা বিবেচনায় নিয়ে এত বড় অঙ্কের বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন ও মনোবল চাঙ্গা রাখতে সরকার এই সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেই এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

/আশিক


বৈশ্বিক সংকট ও জ্বালানি বাজার: কোন পথে বাংলাদেশ ও বিশ্ব?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৭:৩৮:১৩
বৈশ্বিক সংকট ও জ্বালানি বাজার: কোন পথে বাংলাদেশ ও বিশ্ব?
ছবি : সত্য নিউজ গ্রাফিক্স

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক নৌপথে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও ইউরোপগামী অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং এলএনজির ১৫ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বড় একটি অংশ আসে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বাজারে। তবে সরবরাহ চ্যানেলে বাধার মুখে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমলেও বিশ্বজুড়ে চাহিদা কমানো ও বিকল্প পথ অনুসরণের কারণে জ্বালানি বাজার পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। যুদ্ধ শুরুর পর ব্যারেলপ্রতি দর ১৫০ ডলার ছাড়ানোর তীব্র শঙ্কা থাকলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০১ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে।

আন্তর্জাতিক পণ্যবাজার বিশ্লেষকদের মতে, চাহিদা কমে যাওয়া ও বিকল্প বাণিজ্য পথ ব্যবহারের কারণেই মূলত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ হ্রাস, গণপরিবহন বৃদ্ধি, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়া এবং ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম ব্যবস্থার কারণে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেলের চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল, গায়ানা ও কানাডা সম্মিলিতভাবে দৈনন্দিন উৎপাদন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি করেছে। সৌদি আরবও বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে ইরানের প্রভাবমুক্ত বন্দরগুলোতে অপরিশোধিত তেল রফতানি অব্যাহত রেখেছে। বৈশ্বিক এই কৌশলের প্রভাবেই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়া সত্ত্বেও তেলের দর অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে না।

বৈশ্বিক এই সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশে বছরে আমদানিকৃত ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন তেলের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করা হয়। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি আগে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার টন তেলজাতীয় পণ্য উৎপাদন করলেও বর্তমানে তা কমিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টনে নামিয়ে এনেছে। উৎপাদন হ্রাস এবং কেবল সৌদি ক্রুড অয়েলের ওপর নির্ভরশীল না থেকে মালয়েশিয়াসহ বিকল্প উৎসের তেল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও দেশে বড় ধরনের কোনো সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়নি।

সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন যে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই, কারণ সরকার ক্রমাগত বিকল্প দেশ ও পথ থেকে সম্পদ সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও কৌশলগত মজুত এবং বিকল্প ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশই আন্তর্জাতিক এই সামরিক সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের লাগাম ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

/আশিক


দেশের বাজারে নতুন সমন্বয়: অলঙ্কার কিনতে গুণতে হবে বাড়তি টাকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ২০:০৩:৪৫
দেশের বাজারে নতুন সমন্বয়: অলঙ্কার কিনতে গুণতে হবে বাড়তি টাকা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সমন্বয়ে ভরিপ্রতি ১ হাজার ৬৯১ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন মূল্যসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে কেনাবেচা চলছে।

বাজুস ঘোষিত সংশোধিত দরপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকায়। উল্লেখ্য, দেশীয় জুয়েলারি পরিমাপ নীতি অনুযায়ী প্রতি ভরিতে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম পরিমাপ করা হয়।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে আবারও বাড়ানো হলো মূল্যবান এই ধাতুর দাম।

তবে বাজুসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গহনার ক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত মূল্যের সাথে অতিরিক্ত মজুরি যুক্ত হবে। স্বর্ণ ও রূপার বিক্রয়মূল্যের ভেতরেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদা কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না। পাশাপাশি পুরোনো অলঙ্কার পরিবর্তন বা বাটার (এক্সচেঞ্জ) ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে পুরোনো অলঙ্কার বিক্রি (পারচেজ) করার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ কর্তন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রেও আলাদাভাবে ভ্যাট কাটার কোনো সুযোগ নেই। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই মূল্য তালিকা বহাল থাকবে।

/আশিক


শক্তিশালী ডলারের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৯:০৬:৪০
শক্তিশালী ডলারের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের কড়াকড়ি মুদ্রানীতির সপক্ষে বক্তব্যের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট মার্কেটে দরপতনের প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধাতুটির আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ১০টা ২৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৬ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহযোগ্য ডিসেম্বর মেয়াদের ফিউচার স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৩০ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার উচ্চ রাখার পক্ষে ফেডারেল রিজার্ভের অনড় অবস্থান বিনিয়োগকারীদের সুদমুক্ত সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত স্বর্ণ কেনায় উৎসাহিত করছে না, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি বাজারদরে দেখা যাচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পতনের বৈপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত দরেই দেশে ধাতুটির কেনাবেচা চলছে। বাজুস নির্দেশিত দর অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকায়।

একই সাথে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ হাজার ৩০১ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকায় স্থির রাখা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক বাজারের উত্তাপ ও দেশীয় জ্বালানি নীতি নিয়ে সরকারের নতুন ভাবনা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৯:০২:৫৮
আন্তর্জাতিক বাজারের উত্তাপ ও দেশীয় জ্বালানি নীতি নিয়ে সরকারের নতুন ভাবনা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল পর্যায়ে ফিরে এলে বাংলাদেশেও তেলের দাম পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে প্রয়োজনে আগের নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও কম দামে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহে সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক বাজারে অনিয়ন্ত্রিত দরউত্থানের কারণেই বাধ্য হয়ে দেশীয় বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য এখনো যথেষ্ট কম রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেল ক্রয়ে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। এই ঘামঝরা উপার্জনে কেনা মূল্যবান জ্বালানি যাতে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে পাচার হতে না পারে, সেই ঝুঁকি এড়াতেই মূলত স্থানীয় দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে তেলের দাম হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট এখন বৈশ্বিক রূপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতা ও সংঘাত প্রশমিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তখন দেশীয় বাজারেও দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং সুযোগ থাকলে তা আগের চেয়েও নিচে নামিয়ে আনা হবে।

আসন্ন বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে।

ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন সহজ করতে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সেচব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সৌরশক্তি ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে একদিকে যেমন সেচ খরচ কমে আসবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ হ্রাস পাবে।

এর আগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মূল মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আযম মুহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন প্রিন্স, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী একরামুল হক, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহিদুজ্জামান মনাসহ সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা।

কর্মসূচির শেষভাগে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

/আশিক


বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে জ্বালানি খাতে বড় আর্থিক চাপ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ২১:৩৩:২০
বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে জ্বালানি খাতে বড় আর্থিক চাপ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান বনাম আমেরিকা-ইসরায়েল সামরিক সংঘাতের জের ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজ ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমদানিভিত্তিক অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশের ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিপিসি’র চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও পরিবহন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এতদিন তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা চালিয়েছে সরকার। ফলে বিগত ছয় মাসে বিপিসিকে বাড়তি ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা গুনতে হয়েছে, যা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পর থেকে আন্তর্জাতিক তেলের দাম এবং ফ্রেইট চার্জের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে নৌপথে পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আগে যেখানে প্রতি ব্যারেলে জাহাজ ভাড়া ছিল ৩ থেকে ৪ ডলার, তা বর্তমানে চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ থেকে ১৭ ডলারে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সঙ্গে স্থানীয় দর সমন্বয় না করা হলে বিপিসিকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হবে।

তবে তেলের দাম ও পরিবহন খরচ বাড়লেও দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে বিপিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং নিয়মিত আমদানি কার্যক্রমও সচল আছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদরের কারণে ডিজেলে লিটারপ্রতি বিপিসির লোকসান হচ্ছে প্রায় ৭০ টাকা, যার ফলে প্রতিদিন সংস্থাটির ক্ষতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে কেবল ডিজেল খাতেই বছরে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। বিপিসি চেয়ারম্যান ইঙ্গিত দেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লিটারপ্রতি দাম ২০ টাকা সমন্বয় করা সম্ভব হলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান কমানো সম্ভব হতে পারে।

/আশিক


ডিজিটাল অভিজ্ঞতায় বড় চমক, দেশজুড়ে নতুন ইন্টারনেট ব্যবস্থা আনল গ্রামীণফোন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:০০:৫১
ডিজিটাল অভিজ্ঞতায় বড় চমক, দেশজুড়ে নতুন ইন্টারনেট ব্যবস্থা আনল গ্রামীণফোন
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে শক্তিশালী, দ্রুতগতির ও নির্বিঘ্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে ‘1Bangladesh 1Internet’ শীর্ষক নতুন এক উদ্যোগ চালু করেছে শীর্ষ টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। ক্রমবর্ধমান অনলাইন নির্ভরতা ও ভিডিও ব্যবহারের চাহিদা মেটাতে নিজেদের নেটওয়ার্ক অবকাঠামো জোরদারের পাশাপাশি লোকাল ক্যাশিং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা ও অনলাইন কনটেন্ট কোনো ধরনের বাফারিং ছাড়াই দ্রুত উপভোগ করতে পারবেন।

গ্রামীণফোনের তথ্যমতে, তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন গড়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ঘণ্টা ভিডিও স্ট্রিম করা হয়, যা সমষ্টিগতভাবে প্রায় ৪০ বছরের সমান। বিপুল এই চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রতিষ্ঠানটি লোকাল ক্যাশ (Local Cache) ইকোসিস্টেমের পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে, যার মাধ্যমে বহুল ব্যবহৃত কনটেন্টগুলো দূরবর্তী আন্তর্জাতিক সার্ভার থেকে না এনে ব্যবহারকারীর কাছাকাছি অবস্থান থেকেই সরবরাহ করা হয়। এতে ডেটার দূরত্ব কমে আসায় প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কে মাত্র ৫৫ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে যেকোনো ভিডিওর ‘ফার্স্ট বাইট’ লোড হওয়া সম্ভব হচ্ছে; ফলে লাইভ স্ট্রিমিং ও দ্রুত ভিডিও ব্রাউজিং আরও বেশি সাবলীল হয়েছে।

এই দ্রুতগতির সংযোগের ভিত্তি মজবুত করতে গ্রামীণফোন বর্তমানে ৭০০ মেগাহার্টজ এবং ২৬০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী তাদের বিস্তৃত ২৪ হাজারেরও বেশি নেটওয়ার্ক টাওয়ারকে সমন্বিতভাবে এই সেবার আওতায় এনে গ্রাহকদের একক মানসম্মত ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা দেওয়াই ‘1Bangladesh 1Internet’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় সুখবর: ৫ ধাপে বাড়ল সরকারি পেনশন, কার কত বৃদ্ধি?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৯:০২:২৪
অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় সুখবর: ৫ ধাপে বাড়ল সরকারি পেনশন, কার কত বৃদ্ধি?
ছবি : সংগৃহীত

অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিট পেনশন ৫টি ধাপে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া যেসব পেনশনভোগী তুলনামূলকভাবে কম অর্থ পাচ্ছেন, তাঁদের পেনশনের বৃদ্ধির হার অপেক্ষাকৃত বেশি হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর 'জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬'-এর মূল প্রজ্ঞাপন জারির পর আজ পেনশন বৃদ্ধির এই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশ করা হলো, যা গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে যাঁরা মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাঁদের পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে; ফলে সর্বনিম্ন পর্যায়ের পেনশনভোগীরা এখন থেকে মাসে ১৮ হাজার টাকা পাবেন। এছাড়া ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এতে সর্বোচ্চ ধাপের পেনশনভোগীদের মাসিক নিট পেনশন দাঁড়াবে ৭০ হাজার ২০০ টাকায়।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন এই বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। সে সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুসারে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন (ওআরওপি)’ পদ্ধতি বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এতে বিপুল আর্থিক বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা এবং বেসামরিক খাতে ২০১৯ সালের পূর্ববর্তী অবসরপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজের ঘাটতি থাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই রূপরেখা পুরোপুরি কার্যকর করা হবে।

/আশিক


গেজেট প্রকাশের আগেই সামনে এলো নতুন পে-স্কেলের বিস্তারিত, কার কত বাড়ছে?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ২১:৩৪:০৫
গেজেট প্রকাশের আগেই সামনে এলো নতুন পে-স্কেলের বিস্তারিত, কার কত বাড়ছে?
ছবি : সংগৃহীত

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬’-এর গেজেট ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নির্দেশনার অপেক্ষা চলছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন গ্রেডভেদে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এটি কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে মূল বেতন তিন ধাপে এবং ভাতাসমূহ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার কথা রয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোতে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও ইনক্রিমেন্টসহ মোট ১১টি ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা থেকে প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী উপকৃত হবেন।

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে বাড়িভাড়া ভাতার শতকরা হার কমানো হয়েছে; ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় তা বিদ্যমান ৫০-৬৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০-৬০ শতাংশ এবং ঢাকার বাইরে ২৫-৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে, যদিও মূল বেতন বাড়ায় প্রকৃত টাকার অঙ্কে ভারসাম্য থাকবে। চিকিৎসাভাতা অভিন্ন ১ হাজার ৫০০ টাকার বদলে বয়সভেদে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশের অভিন্ন হার ভেঙে উচ্চ গ্রেডগুলোতে (গ্রেড ৫ থেকে ২) ২.৭৫ থেকে ৪ শতাংশ এবং নিম্ন গ্রেডে ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের জন্য মোবাইল ভাতা (১৫০ থেকে ৫০০ টাকা) এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা (সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ৬ হাজার টাকা) বিশেষ ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা দ্বিগুণ করে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ৩০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে এবং ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হবে। এক গ্রেড এক পেনশনের অংশ হিসেবে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমা ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৮ বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পে-স্কেলের সঙ্গে মিল রেখে সশস্ত্র বাহিনীর মূল বেতন (এনসিই পদে ২১ হাজার এবং মেজর জেনারেল পদে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা) পুনর্নির্ধারণসহ কমান্ড, ফ্লাইং পে, প্যারাসুট ও জরিপ ভাতায় উল্লেখযোগ্য সমন্বয় আনা হয়েছে। অর্থ বিভাগ থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পরই এসব বিধান কার্যকর রূপ পাবে।

/আশিক


নিম্নমুখী প্রবণতার পরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, বাড়ল রুপার দামও

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৮:৩৪:০০
নিম্নমুখী প্রবণতার পরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, বাড়ল রুপার দামও
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আবারও মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে উল্লম্ফন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর নাগাদ আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১২ দশমিক ০৫ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এর আগে বুধবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর প্রায় ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তাদের নীতিগত সুদের হার বৃদ্ধি করেছে এবং আগামী মাসগুলোতে এই হার আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সাধারণত উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে বিনিয়োগের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে গণ্য করা হলেও নীতিগত সুদহার বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদবিহীন স্বর্ণের চেয়ে সুদ প্রদানকারী আর্থিক সম্পদগুলো অধিক লাভজনক হয়ে ওঠে, যা স্বর্ণের সার্বিক চাহিদায় নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দরও বৃদ্ধি পেয়েছে; স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৮৩ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৭২ দশমিক ১৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে দেশের বাজারে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্যে স্বর্ণ ও রুপার গহনা কেনাবেচা চলছে। বাজুসের নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকায় এবং সমমানের এক ভরি রুপার গহনার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৬ টাকা। এ ছাড়া ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: