কালিগঞ্জে দুর্নীতির রাজত্ব: ভায়রার ব্যক্তিগত রাস্তা ও পুকুর দখলে চেয়ারম্যানের দাপট

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ২১:০১:১৪
কালিগঞ্জে দুর্নীতির রাজত্ব: ভায়রার ব্যক্তিগত রাস্তা ও পুকুর দখলে চেয়ারম্যানের দাপট
ছবি : শিমুল হোসেন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এলেও কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে এখনো কাটেনি উদ্বেগ।

একই সঙ্গে ইউনিয়নের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টার দিকে ধারণকৃত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা ও গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে পুনরায় শুরু হয়েছে ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণকাজ। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরদারি বাড়ায় সংশ্লিষ্টরা বাধ্য হয়ে আবারও কাজ শুরু করেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। সরেজমিনে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (বিবিজি) ২০২৫- ২০২৬ অর্থবছরের ১ম ও ২য় কিস্তির আওতায় “উত্তর শীতলপুর আবুল হোসেনের বাড়ির ধারে ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ” প্রকল্পে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯’শ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয় ৫০ ফুট এবং উচ্চতা ১ দশমিক ৫ ফুট। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোদাচ্ছের রহমান।স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, তদারকির অভাব এবং চরম অনিয়মের কারণে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র সাতদিনের মাথায় ড্রেন ও কালভার্টের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে।

এতে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়নের নামে নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আজিজুল ইসলাম, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা মোছাঃ জাহানারা বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রকল্পটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম ও সদস্য মোদাচ্ছের রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এদিকে একই ইউনিয়নের আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পেও চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নিজদেবপুর গ্রামে সাইদুল ঢালীর বাড়ি থেকে হাবিব ঢালীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ করা হলেও সেটি মূলত চেয়ারম্যানের ভায়রা ভাইয়ের ব্যক্তিগত চলাচলের পথ। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত রাস্তা সরকারি প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।অপরদিকে সরকারি বরাদ্দের ৭ টন চালের বিনিময়ে পুকুর খনন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সুপেয় পানির সংকট নিরসনের জন্য খনন করা পুকুরটি পরবর্তীতে চারদিকে দেয়াল নির্মাণ করে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

ফলে প্রায় ৩৫টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার, জেলে সম্প্রদায়সহ বহু মানুষ সুপেয় পানি ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।নিজদেবপুর পূর্বপাড়া এলাকায় হালিম সরদারের বাড়ি থেকে মোল্লাবাড়ি মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার পাশে মাটি ভরাট বাবদ বরাদ্দকৃত প্রায় ৩০ হাজার টাকার কাজ বাস্তবে না করেই আত্মসাৎ করা হয়েছে। একইভাবে নিত্যানন্দপুর এলাকায় নওশাদ গাজীর বাড়ি থেকে জুব্বারের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণেও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য এস এম আবু তাহের সাংবাদিকদের বলেন, “চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় জনপ্রতিনিধিদের বঞ্চিত করে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারি অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, “প্রকল্পটি বিতর্কিত হওয়ায় পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে। আমাকে নিয়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “মথুরেশপুর ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ইতোমধ্যে সরেজমিন তদন্ত শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। তাই দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।


নানিয়ারচর জোনের মানবিক উদ্যোগ: বটতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ২০:৩৮:৫৩
নানিয়ারচর জোনের মানবিক উদ্যোগ: বটতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
ছবি : সংগৃহীত

রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর জোন কর্তৃক মানবিক সহায়তা এবং সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বটতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা সহায়ক ও খেলাধুলা সামগ্রী বিতরণ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা প্রদানে উৎসাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষকদের মাঝে সৌজন্য উপহার প্রদান করা হয়েছে।

১১ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার ১২ টায় নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার বিএ-৭৯০০ লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি এর নির্দেশনায়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে নানিয়ারচর জোনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএ-১০৭৭৯ ক্যাপ্টেন মোঃ শাহেদুর রহমান এবং বিএ-১২৩০২ লেঃ মুহীব মাসরুর চৌধুরী উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সহায়ক ও খেলাধুলা সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত, লেখাপড়ায় মনোযোগ বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অধ্যবসায় এর পাশাপাশি শিক্ষা ও খেলাধুলা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের মানসিকভাবে দৃঢ় এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চর্চাই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আদর্শ মানুষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করে। এই জোন সবসময় তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাবে।

এছাড়াও, তিনি শিক্ষকদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের তাদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকরাই জাতি গঠনের মূল কারিগর। তাদের নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ সৌজন্য উপহার গ্রহণ করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নানিয়ারচর জোনের এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিকট ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।


ব্র্যাকের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিতরণ

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ২০:৩৫:১০
ব্র্যাকের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
ছবি : শিমুল হোসেন

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার চৌগাংগা এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন ও জীবিকায়ন সহায়তার লক্ষ্যে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগে বিনামূল্যে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়নে সেন্ট্রাল-২ ডিভিশনের ইটনা অঞ্চলের চৌগাংগা এরিয়ার পাঁচটি শাখার আওতায় ৫০ জন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যের মাঝে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ সময় প্রত্যেক সদস্যকে ২০টি করে মোট ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিতরণ করা হয়।হাঁসের বাচ্চা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চৌগাংগা এরিয়ার এলাকা ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম, বিভিন্ন শাখার শাখা ব্যবস্থাপক (বিএম), হিসাব ব্যবস্থাপক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করাই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

হাঁস পালন গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় খাত। সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকারভোগীরা দ্রুত আয় বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে সক্ষম হবেন।বিতরণ কার্যক্রমের পাশাপাশি উপকারভোগীদের হাঁসের সঠিক পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ এবং আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত পরিচর্যা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হাঁস পালন করলে অধিক উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থারও উন্নয়ন ঘটবে।

এলাকা ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও জীবিকা পুনর্গঠনে ব্র্যাক সবসময় পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে পুনরায় উপার্জনের মূল ধারায় ফিরে আসতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

উপকারভোগীরা ব্র্যাকের এ মানবিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে এ সহায়তা তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই জীবিকায়ন নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।


দেবিদ্বার-চান্দিনা-মুরাদনগর: হামের হটস্পট, অথচ অন্ধকারে স্বাস্থ্য বিভাগ

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ২০:২৯:১৩
দেবিদ্বার-চান্দিনা-মুরাদনগর: হামের হটস্পট, অথচ অন্ধকারে স্বাস্থ্য বিভাগ
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেবিদ্বার উপজেলায়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়া কুমিল্লার বাসিন্দা শিশুদের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি এসেছে দেবিদ্বার উপজেলা থেকে। মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে জুনের চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে কুমিল্লার বাসিন্দা ১ হাজার ২০৯ জন শিশুর মধ্যে ২৬০ জন শিশু এসেছে দেবিদ্বার উপজেলা থেকে। এরপরেই হামে আক্রান্ত বেশি শিশু সংখা রয়েছে তার পার্শ্ববর্তী উপজেলা চান্দিনায় ১৫৪ জন এবং অপর পার্শ্ববর্তী উপজেলা মুরাদনগর ১৪০ জন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, 'চান্দিনা দেবিদ্বার মুরাদনগর এই অঞ্চলটিকে যদি একটি 'হটস্পট' ধরা হয়, তাহলে এই স্পট থেকেই ৪৫ শতাংশের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। আমরা নিজস্ব পদ্ধতিতে কুমিল্লার কোন উপজেলা থেকে কতজন হামে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে তা বের করেছি। এর মধ্যে দেখা গেছে মুরাদনগর, দেবিদ্বার ও চান্দিনা এই পাশাপাশি এলাকাগুলোতে আমি আক্রান্ত শিশুসংখ্যা সবচেয়ে বেশি।'প্রফেসর মিয়া মনজুর আহমেদ আরো জানান,' এসব উপজেলা থেকে আসা হামে আক্রান্ত রোগীর বয়স ছয় মাস থেকে দুই বছর।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় চাইলেই এই অঞ্চলটির প্রতি আলাদা সচেতনতামূলক কার্যক্রম ঘোষণা করতে পারে। সেখানে টিকা নেয়ার হার কেমন কিংবা টিকা না নেয়ার প্রবণতা কেমন সেই বিষয়গুলো বের করে আলাদাভাবে পদক্ষেপ নিলে হামের সংক্রমণ কমিয়ে আনা যেতে পারে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্ব রত কর্মকর্তারাও এখানে চাইলে ওই এলাকার নাম সংক্রমণ কমিয়ে আনতে কাজ করতে পারেন।'

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হাম আইসোলেশন ইউনিটের তথ্য মতে, চলতি বছর সংক্রমণ শুরুর পর থেকে হাসপাতালটিতে মোট ১৪৫৮ জন হামে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে ৬ জন। অন্যান্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে ১৪ জনকে। ২৪৯ জন এসেছে জেলার বাইরে অন্যান্য জেলা থেকে।

কুমিল্লা জেলায় সবচেয়ে বেশি হামে আক্রান্ত শিশু এসেছে দেবিদ্বার উপজেলা থেকে ২৬০ জন, চান্দিনা উপজেলা থেকে ১৫৪ জন, মুরাদনগর উপজেলা থেকে ১৪০ জন, আদর্শ সদর ১০০ জন, সদর দক্ষিণ উপজেলা ৫৩ জন, বরুড়া উপজেলা ৭৫ জন, ব্রাহ্মণ পাড়া উপজেলা ৫২ জন, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ৮৪ জন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ৩৭ জন, লালমাই উপজেলা ২৯ জন, তিতাস উপজেলা দুইজন, হোমনা উপজেলার ১৯ জন, লাকসাম উপজেলা ৬৭ জন, বুড়িচং উপজেলার ৩৬ জন,দাউদকান্দি উপজেলার ১৫ জন, মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ জন এবং মেঘনা উপজেলার একজনও নেই। জেলার বাইরে থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ২৫৯ জন।

এই মৌসুমে মোট চোদ্দোশো আটান্ন জন শিশু কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসা নিয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১১ জন। মোট ১৭৪৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ১৬৫৭ জন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন। এরমধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১১৫ জন এবং সন্দেহজনক উপসর্গ সহ হাম আক্রান্তের সংখ্যা ২২০০ জন।

এদিকে দেবিদ্বার উপজেলায় হামে আক্রান্ত শিশু সংখ্যা কত তার সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারেনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজেও জানেন না জেলায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা কত দেবিদ্বার উপজেলায়। দেবিদ্দার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহিবুস সালাম খান, আমার উপজেলা হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিতে আসে আমি তাদের তথ্য জানি। বাকি তথ্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ দিতে পারবে।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের উপজেলায় যারা চিকিৎসা নিতে আসে আমরা তাৎক্ষণিক সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেই। তবে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা কত তা জানা নেই।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি তথ্য সংগ্রহের।কুমিল্লা স্বাস্থ্য বিভাগ আলাদাভাবে কোন এলাকাগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি সে নিয়ে কোন তথ্য দিতে পারেনি। জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, 'কোন কোন এলাকায় প্রাদুর্ভাব বেশি তা বের করা না হলেও, সব জায়গায় হামের সংক্রমণ সমান।'

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, দেবিদ্বার, চান্দিনা ও মুরাদনগর এই তিন উপজেলাতে কেন হামের সংক্রমণ বেশি এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে জেলা সিভিল সার্জন এর কাছে জানতে চাওয়া হবে। সেখানে টিকা নেওয়ার হার কিংবা টিকা থেকে ঝরে পড়ার হার কেমন সে বিষয়গুলো আমরা জানতে চাইব।


আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, জানুন কোথায়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ০৮:৩৪:০৩
আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, জানুন কোথায়
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট নগরীর কয়েকটি এলাকায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সিটি করপোরেশনের চলমান সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের কাজ পরিচালিত হবে, যার কারণে নির্দিষ্ট ফিডারের আওতাভুক্ত গ্রাহকদের সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হবে।

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ বুধবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভাগের অধীনস্থ ১১ কেভি লালা দীঘিরপাড় ফিডারের কুয়ারপাড় পয়েন্ট এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের স্বার্থে বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়েছে। এ কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নির্ধারিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হবে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ফলে এ সময়ের মধ্যে আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎনির্ভর কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে সিটি করপোরেশন যেসব অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, সেগুলোর অংশ হিসেবেই এই বিদ্যুৎ খুঁটি স্থানান্তরের কাজ করা হচ্ছে। সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসী আরও উন্নত নাগরিক সুবিধা পাবেন বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের কারণে দেশের বিভিন্ন শহরে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ লাইনের স্থানান্তর এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ ও টেকসই নগর পরিকল্পনার জন্য এসব কাজ অপরিহার্য হলেও সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে আবহাওয়া বা কারিগরি জটিলতা দেখা দিলে কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ গ্রাহকদের প্রতি ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বিদ্যুৎবিহীন সময় পার করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নগরীর যেসব এলাকায় কুয়ারপাড় পয়েন্ট ও ১১ কেভি লালা দীঘিরপাড় ফিডারের সংযোগ রয়েছে, সেসব এলাকার গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

-রাফসান


বিদেশি বিনিয়োগ ও বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুযোগ বিষয়ক আলোচনা সভা এডিনবরায় অনুষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২২:০১:১০
বিদেশি বিনিয়োগ ও বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুযোগ বিষয়ক আলোচনা সভা এডিনবরায় অনুষ্ঠিত
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সুযোগ বিষয়ক একটি সফল আলোচনা সভা সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ তারিখে এডিনবরার গ্রেফ্রিয়ার্স চার্টারিস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মহামান্য ড. এম. নজরুল ইসলাম।

তাঁর মূল বক্তব্যে ড. নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং উৎপাদন শিল্প, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে উদীয়মান বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন এডিনবরা, স্কটল্যান্ডে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অনারারি কনসাল ড. ওয়ালি তাসার উদ্দিন এমবিই। ইউরোপ বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইবিএফসিআই) এবং এডিনবরার বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে ড. ওয়ালি তাসার উদ্দিন এমবিই বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিনিয়োগ, বাণিজ্য, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিনিয়োগ প্রক্রিয়া, ব্যবসায়িক নীতিমালা, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ পান।

অংশগ্রহণকারীরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভার সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

এই আলোচনা সভা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে স্কটল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।


কুমিল্লায় পুলিশের ওপর হামলা-গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ জন গ্রেপ্তার 

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২১:৪৩:০৭
কুমিল্লায় পুলিশের ওপর হামলা-গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ জন গ্রেপ্তার 
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার সকালে নিমসার বাজার এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযানের অংশ হিসেবে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল উল্টো পথে চলাচলকারী কয়েকটি অবৈধ থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক ও অটোরিকশা) আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একই এলাকায় উল্টো পথে আসা একটি ইজিবাইক আটক করলে চালকের সঙ্গে পুলিশের কথাকাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে চালক চিৎকার করলে আশপাশ থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন থ্রি-হুইলার ও অটোচালক সংঘবদ্ধ হয়ে হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় কনস্টেবল মো. ইউসুফ আলী এবং মো. রাব্বি ইসলাম আহত হন। এ সময় পুলিশের একটি ডাবল কেবিন পিকআপে লাঠি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার এসআই মো. শাহাবুদ্দিন সরকার বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান আরও জানান, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


বৈঠাকাটা বাজারের রাস্তা সংস্কারে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে জনমনে স্বস্তি

ওয়ালিউল্লাহ রাইসুল
ওয়ালিউল্লাহ রাইসুল
নাজিরপুর প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২১:৩৯:২৩
বৈঠাকাটা বাজারের রাস্তা সংস্কারে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে জনমনে স্বস্তি
ছবি : ওয়ালিউল্লাহ রাইসুল

দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা বাজারের ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের উদ্যোগে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ জনগণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত বৈঠাকাটা বাজারের তিন রাস্তার মোড় থেকে খোকন হোটেল পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টি হলে সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা, আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতেন বাজারে আসা মানুষজন।

এ অবস্থায় এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেন বৈঠাকাটা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক। তাদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ নাসির উদ্দিন, মোঃ শাহ আলম, মোঃ লিটন, মোঃ মিল্টন তালুকদার (দোকান মালিক) এবং আব্দুল গফুর মেম্বার (দোকান মালিক)।স্থানীয়রা জানান, ব্যবসায়ীদের এই উদ্যোগ বাজার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এমন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বৈঠাকাটা বাজারের সার্বিক উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


আজ কোথায় শপিং করবেন, কোথায় নয়? নিন বন্ধের মার্কেট তালিকা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ১০:০১:০৪
আজ কোথায় শপিং করবেন, কোথায় নয়? নিন বন্ধের মার্কেট তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই জেনে নেওয়া উচিত কোন মার্কেট ও শপিংমল আজ বন্ধ রয়েছে। সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে অনেক জনপ্রিয় বিপণিবিতান ও ব্যবসাকেন্দ্র মঙ্গলবার ক্রেতাদের জন্য বন্ধ থাকছে। আগে থেকে তথ্য না জানলে গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার সময় অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।

ঢাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকা ও বিপণিবিতানে নির্ধারিত সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আজ একাধিক দোকানপাট ও মার্কেট কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রীয় ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলোতে কেনাকাটার জন্য যাওয়া ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আজ বন্ধ থাকবে কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরিপাড়া, তেজকুনীপাড়া, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা এবং লালমাটিয়া এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া রাজধানীর বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় শপিংমল ও মার্কেটও আজ সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকবে। তালিকায় রয়েছে রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স বসুন্ধরা সিটি, পাশাপাশি বন্ধ থাকবে নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, গাউসিয়া, মোতালিব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা, সেজান পয়েন্ট এবং আরও বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বিপণিবিতান।

বন্ধ থাকা অন্যান্য মার্কেটের মধ্যে রয়েছে চন্দ্রিমা মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসুল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার, অর্চিড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমন্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, কাওরান বাজার ডিআইটি মার্কেট এবং অর্কিড প্লাজা।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারণ করা হয় যাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে না পড়ে এবং নগর অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে। একই কারণে একেক এলাকার বিপণিবিতানের ছুটির দিনও আলাদা হয়ে থাকে।

ঈদ-পরবর্তী সময়ে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। ফলে অনেকেই পোশাক, ইলেকট্রনিকস, গৃহস্থালি পণ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য বের হচ্ছেন। এ অবস্থায় বন্ধের তালিকা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকলে সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটোই সাশ্রয় করা সম্ভব।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে আজ উল্লিখিত এলাকাগুলোর অধিকাংশ দোকান ও মার্কেট বন্ধ থাকলেও আগামী কার্যদিবসে সেগুলো স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী পুনরায় খুলবে। তাই কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে ক্রেতাদের বিকল্প মার্কেট বেছে নেওয়া কিংবা পরবর্তী দিনের জন্য সময় নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রাফসান


বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৭:৪৫:২১
বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার (৯ জুন) দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের তার পরিবর্তন এবং জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার কারণে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একাধিক ফিডারে বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হবে।

ঢাকা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ধামরাই জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জরুরি কারিগরি কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এই কাজের অংশ হিসেবে ধামরাই উপকেন্দ্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিডার নির্ধারিত সময়ের জন্য শাটডাউনে রাখা হবে।

ধামরাই জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার লিপিয়া খাতুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ধামরাই উপকেন্দ্রের ১, ৩, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ফলে প্রায় ৯ ঘণ্টা সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আওতায় পড়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোট চন্দ্রাইল, বড় চন্দ্রাইল, খাত্রা, ছয়বাড়ীয়া, বাড়ীগাঁও, বাশাইল, কুল্লা, জলসীন, তালতলা, ইসলামপুর, কুমরাইল, হাসপাতাল রোড, নতুন দক্ষিণপাড়া, থানা কমপ্লেক্স, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আমিন মডেল টাউন, বরাতনগর, বরাত সেন্টার, ধানশিড়ি আবাসিক এলাকা এবং ঢুলিভিটা।

এছাড়া ১, ৩, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ফিডারের আওতাধীন অন্যান্য আবাসিক, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক এলাকাও সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে থাকবে। ফলে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছোট শিল্পকারখানা এবং বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। তবে কারিগরি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফিডারগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে।

এদিকে সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে গ্রাহকদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট সেবা কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারকারীদের বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।

সাময়িক এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গ্রাহকদের যে অসুবিধা হবে, তার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে ঢাকা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-৩ কর্তৃপক্ষ। তাদের আশা, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: