ইরান যুদ্ধের ফাঁদে খোদ ট্রাম্প: জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন অর্থনীতি

ইরানের সঙ্গে ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জেরে নিজের পাতা ‘যুদ্ধফাঁদে’ নিজেরাই আটকা পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরানকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলতে গিয়ে উল্টো খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই আকাশচুম্বী জ্বালানি মূল্য ও রেকর্ড মূল্যস্ফীতির মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন। রিপাবলিকান দলের ভেতরেও এখন এই যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে চরম উদ্বেগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ৫০ সেন্ট ছাড়িয়ে গেছে, যা অনেক মার্কিনীর পারিবারিক বাজেটে বড় আঘাত হেনেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন আমেরিকানদের মধ্যে ৬ জনই জানিয়েছেন যে উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসন এখন ফেডারেল গ্যাস কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরিকল্পনা করছে, যা কার্যকর হলে গ্যালন প্রতি ১৮ সেন্ট পর্যন্ত দাম কমতে পারে।
যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৩.৮ শতাংশে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ৭টি অঙ্গরাজ্যে গ্যাসের দাম ইতোমধ্যে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে। এই অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক অনুমোদনের হার কমে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। মাত্র ২৫ শতাংশ নাগরিক মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়েছে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই অর্থনৈতিক সংকট ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে এবং সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এতসব চাপের মুখেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনড়। তিনি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে ‘সামান্য মূল্য’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, তাঁর কাছে প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানো, আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থা তাঁকে প্রভাবিত করছে না।
সংকট মোকাবিলায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জাতীয় মজুদ থেকে আরও ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে রুশ তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাধার কারণে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে গ্যাস কর স্থগিতের পরিকল্পনা ট্রাম্পের হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারে কি না।
/আশিক
তুরস্ক সফরে ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ছিল ইরানের হাতে, উড়োজাহাজে হামলার চক্রান্ত
ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অবস্থানকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, এমনকি তিনি হোটেলের কোন তলায় ছিলেন—সে সংক্রান্ত তথ্য ইরানের কাছে ছিল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
বুধবার (১২ আগস্ট) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্মেলনকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য হামলার তথ্য আগেই পান যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। ওই তথ্যে ট্রাম্পের বিশেষ বিমান 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত ছিল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ন্যাটো সম্মেলনস্থলের আশপাশে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতির বিষয়েও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছিল।
আঙ্কারায় তৈরি হওয়া এই নিরাপত্তা হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মার্কিন প্রশাসন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে মূল ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানটিকে একটি বিভ্রান্তিমূলক কৌশল বা ডামি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে জনসমক্ষে দৃশ্যমান ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রবেশ করলেও, পরবর্তীতে তাকে গোপনে একটি ভিন্ন সামরিক বিমানে তুলে দেওয়া হয়। সফরসঙ্গী সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও তখন পর্যন্ত জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট ওই বিমানে ছিলেন না।
পরবর্তীতে নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ের সত্যতা ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, সিক্রেট সার্ভিস এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরামর্শক্রমেই তাকে বিকল্প বিমানে ভ্রমণ করতে হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক ছিল।
কোন বিমানে ঝুঁকি বেশি ছিল—সংবাদকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি পরবর্তীতে যে বিকল্প বিমানে উঠেছিলেন সেটিই হয়তো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কারণ সম্ভাব্য হামলাকারীরা সেটাকেই মূল লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারত।
নিজের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, সেখানে একটি বাস্তব হুমকি ছিল বলেই ধারণা করা যায়। তবে ঘটনাটি নিয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে চাননি। এ ধরনের হুমকি তাকে প্রায়শই পেতে হয়, যার অনেক খবরই জনসমক্ষে আসে না।
সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
আকাশে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে পৃথিবীর যেসব প্রান্ত থেকে
বিশাল মহাজাগতিক দৃশ্য রূপ নিতে যাচ্ছে ইউরোপ ও সংলগ্ন অঞ্চলে। বুধবার (১২ আগস্ট) ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেখা যাবে বিরল এক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। স্পেনের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল, পর্তুগালের কিছু অংশ, গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ড থেকে সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করবেন লাখ লাখ মানুষ।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড এবং উত্তর ইতালির বাসিন্দারা প্রত্যক্ষ করবেন আংশিক সূর্যগ্রহণ। লন্ডনে স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা ১৭ মিনিটে গ্রহণ শুরু হয়ে রাত ৮টা ৬ মিনিটে শেষ হবে, যেখানে সূর্যের প্রায় ৯২ শতাংশ চাঁদের আড়ালে থাকবে। ১৯৯৯ সালের পর যুক্তরাজ্যে আর পূর্ণগ্রাস দেখা যায়নি এবং ২০৯০ সালের আগে তা আর দেখার সুযোগ নেই।
বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে পুরো সূর্যালোককে অবরুদ্ধ করে, তখনই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে। পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল (করোনা) স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়, যা সূর্যের সৌরচক্র ও বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ এনে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, খালি চোখে বা সাধারণ সানগ্লাস পরে সূর্যগ্রহণ দেখা মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি দেখতে বিশেষ সৌর-চশমা বা পিনহোল প্রজেক্টর ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রহণের দিনে ১২-১৩ আগস্ট রাতে পারসেইড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ পর্যায় প্রত্যাশিত থাকায় রাতের আকাশেও আরেকটি মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যেতে পারে।
সূত্র: গার্ডিয়ান
সংঘাতের পর পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ উধাও, দাবি ইরানের
আঞ্চলিক সংঘাতের আগের পরিস্থিতির তুলনা টেনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র কমান্ডার মোহেব্বি দাবি করেছেন যে, ইতিপূর্বে যেখানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকত, বর্তমানে সেখানে আমেরিকার একটি যুদ্ধজাহাজও অবস্থান করছে না।
ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের বরাত দিয়ে পার্সটুডের প্রতিবেদনে এই সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়। কমান্ডার মোহেব্বি সতর্ক বার্তা দিয়ে জানান, ইরানের নিরাপত্তা বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর যদি পুনরায় কোনো ধরনের হুমকি আসে, তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ মাইল দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, হাজার হাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, মার্কিন ও অ-মার্কিন সামরিক রূপরেখা এবং ইন্টারনেট-সংযুক্ত বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক কাঠামোর বৈচিত্র্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইআরজিসি মুখপাত্র উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক কৌশল সাধারণত একই সঙ্গে একাধিক রণাঙ্গনে যুদ্ধ পরিচালনার নীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তবে ইরানের সঙ্গে সামরিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার কারণে তাদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সরঞ্জাম ঘাটতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত হুমকি ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
সূত্র পার্সটুডে
ইরানের হামলার শঙ্কায় অভিনব কৌশলে দেশে ফেরেন ট্রাম্প
ইরানের হামলার আশঙ্কায় গত জুলাইয়ে তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার সময় এক অভিনব ও গোপন কৌশল নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্ক থেকে রওনা দেওয়ার সময় ট্রাম্প সবার সামনেই এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠেন। কিন্তু বিমানে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই তাকে খুব সতর্কতার সাথে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে একটি খাবার সরবরাহের ট্রাকের (ক্যাটারিং ট্রাক) ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই ট্রাকের মাধ্যমে তাকে গোপন একটি ছোট সামরিক বিমানে তুলে নেওয়া হয়।
এদিকে যে বড় বিমানে ট্রাম্প প্রথমে উঠেছিলেন, সেটিকেই মূলত ‘ফাঁদ’ বা ‘ডেকয়’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সাংবাদিক এবং অনেক কর্মকর্তা জানতেন না যে ট্রাম্প আসল বিমান ছেড়ে অন্য বিমানে উঠে গেছেন; সবাই ভেবেছিলেন ট্রাম্প ওই বড় বিমানটিতেই আছেন। এমনকি যাত্রার সময় সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা পর্যন্ত নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল। পরে গোপন সেই সামরিক বিমানটি প্রথমে ব্রিটেনের একটি ঘাঁটিতে নামে এবং সেখান থেকে ট্রাম্প নিরাপদে ওয়াশিংটনে ফেরেন।
মূলত ইরানের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের সুনির্দিষ্ট হুমকি পাওয়ার কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় এমন নজিরবিহীন ও গোপন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
/আশিক
সৌদি যুবরাজকে ফোন জেলেনস্কির, ফোনালাপে যে চুক্তি আলোচনায়
ইউক্রেন ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সর্বশেষ যোগাযোগে। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় ‘ড্রোন ডিল’ বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি আলোচনাটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন ও সৌদি আরব এমন কয়েকটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারে, যেখানে দুই দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। বিশেষ করে আধুনিক ড্রোন ও ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তিতে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
ফোনালাপের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যে আলোচিত ড্রোন চুক্তি। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই সমঝোতা বাস্তবায়নে অদূর ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার একটি কাঠামো গড়ে ওঠে, যা ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের ভিত্তি তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
ইউক্রেনের জন্য এই অংশীদারত্বের গুরুত্ব শুধু অস্ত্র বা ড্রোন প্রযুক্তি রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কিয়েভ ড্রোন শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং কম খরচে আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সেই দক্ষতা ভাগ করে নেওয়ার বিনিময়ে ইউক্রেন অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার সুযোগ খুঁজছে। চলতি বছরের মার্চেই জেলেনস্কি এমন পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক সহযোগিতার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন।
সর্বশেষ ফোনালাপে সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে। জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ বিন সালমান তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে রিয়াদের সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং সেখান থেকে তৈরি হতে পারে এমন নতুন সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। এর ফলে সৌদি আরবের বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে ইউক্রেনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কীভাবে যুক্ত হতে পারে, সেটিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শস্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি ইউক্রেন। যুদ্ধের কারণে কৃষি উৎপাদন, বন্দর অবকাঠামো এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহে এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর দিয়ে নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখা বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও সক্রিয় হয়েছে। এপ্রিলে জেলেনস্কি সৌদি আরব সফর করে নিরাপত্তা, জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। তখন দুই দেশ আরও বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও সামনে আসে।
-রফিক
আরবের কাব্য থেকে বাস্তবে ফিরল মরুভূমির বিরল অনাগার
একসময় আরবের মরুভূমিতে অবাধে বিচরণ করত বন্য গাধার বিশেষ প্রজাতি ‘অনাগার’। প্রাচ্যের প্রাচীন কবিদের কবিতাতেও নানাভাবে উঠে এসেছিল এই প্রাণীর নাম। তবে অনিয়ন্ত্রিত শিকার ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের কারণে সৌদি আরবের বুক থেকে একসময় বিলুপ্ত হয়ে যায় প্রজাতিটি। প্রায় এক শতক পর সেই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটি কেবল সৌদিতে ফিরে এসেছে তা-ই নয়, সেখানে সফলভাবে একটি অনাগার শাবকেরও জন্ম হয়েছে।
সৌদি আরবের ঐতিহাসিক ‘প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভে’ জন্ম নেওয়া এই পুরুষ শাবকটিকে দেশের বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণের ইতিহাসে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, শাবকটির জন্ম হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। তবে অনাগার শাবকের জীবনের প্রথম বছরটি মারাত্মক ঝুঁকি ও সংবেদনশীলতায় ভরা থাকায় বিষয়টি এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল। সফলভাবে জীবনের প্রথম ১২ মাস পার করার পরই সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে তার জন্মের খবর জনসমক্ষে আনা হয়।
রিজার্ভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু জালুমিস জানান, হাজার বছর আগের আরবী কাব্যে যে বুনো প্রাণীর বন্দনা করা হতো, প্রায় ১০০ বছর পর সেই প্রাণী সৌদির বুকে ফিরে এল। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি প্রাণীর জন্ম নয়, বরং আরবের বিলুপ্ত প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
মরুভূমিতে অনাগার ফিরিয়ে আনার এই রূপরেখা তৈরি হয় ২০২৪ সালে। সেই সময়ে জর্ডানের শওমারি ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভ থেকে ৫টি স্ত্রী ও ২টি পুরুষসহ মোট ৭টি অনাগার সৌদি আরবে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রায় ৯৩৫ কিলোমিটার পথ সফলভাবে অতিক্রম করে এগুলোকে সৌদির সংরক্ষিত বনে আনা হয়েছিল।
সৌদিতে পৌঁছানোর পর একটি স্ত্রী অনাগার এই পুরুষ শাবকটির জন্ম দেয়। অবশ্য পরবর্তীতে আরও দুটি গর্ভধারণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং একটি স্ত্রী অনাগারের মৃত্যু ঘটে। বর্তমানে এই রিজার্ভে পূর্ণবয়স্ক ও নবজাতক মিলিয়ে ৫টি স্ত্রী এবং ৩টি পুরুষ অনাগার জীবিত রয়েছে। এছাড়া আরও দুটি স্ত্রী অনাগার বর্তমানে সম্ভবা রয়েছে, যাদের থেকে আগামী শীতে নতুন শাবকের জন্ম আশা করা হচ্ছে।
প্রকৃতিবিদদের মতে, নতুন জন্ম নেওয়া অনাগার শাবকের টিকে থাকা বেশ চ্যালেঞ্জিং। সাধারণত ১১ মাস গর্ভে থাকার পর জন্ম নেওয়ার মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শাবককে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয় এবং মায়ের দুধ পান শুরু করতে হয়। মায়ের প্রথম শালদুধই তার শরীরে প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
উল্লেখ্য, পারস্য অনাগার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তির চরম ঝুঁকিতে থাকা প্রাণীদের একটি। পুরো বিশ্বে প্রাকৃতির পরিবেশে এদের সংখ্যা ৬০০টিরও কম বলে ধারণা করা হয়। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) এই উপপ্রজাতিটিকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
তবে সৌদি আরবের এই উদ্যোগ কেবল অনাগারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির ‘রিওয়াইল্ড অ্যারাবিয়া’ প্রকল্পের আওতায় ওই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ২৩টি বিলুপ্তপ্রায় স্থানীয় প্রজাতিকে তাদের পুরনো প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪টি প্রজাতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, অনাগার রক্ষায় কেবল প্রাণীটি টিকিয়ে রাখাই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন বিস্তৃত মুক্ত মরুভূমি, সুনির্দিষ্ট স্থানীয় উদ্ভিদ এবং নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র। তাই অনাগারের এই বংশবৃদ্ধি সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র পুনরায় সুস্থ হয়ে ওঠার একটি ইতিবাচক সংকেত বহন করে।
প্রাচীন আরবে অনাগার ছিল বুনো স্বাধীনতা ও মুক্ত জীবনের প্রতীক। সেই ঐতিহ্যের রূপ ধরে প্রাণীটি আবার নতুন করে সৌদির মরুভূমি চষে বেড়াচ্ছে। আগামী কয়েক দশকের মধ্যে পরিবেশকে এমন অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই দেশটির মূল লক্ষ্য, যেখানে অনাগারের পাশাপাশি আরবীয় চিতাবাঘ, চিতা ও সিংহের মতো ঐতিহাসিক শিকারি প্রাণীরাও নিশ্চিন্তে বাস করতে পারবে।
/আশিক
শর্ত মানলেই কেবল খুলবে হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা ইরানের
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে কিনা, তা সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সামরিক ও কৌশলগত জলপথটি খোলার বিষয়ে তাদের নিজস্ব কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। একই সঙ্গে ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরানের সঙ্গে যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তার সঙ্গে হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে কোনো সম্পর্ক নেই বলেও ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাত দিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র সারদার মোহেবি জানান, হরমুজ কেবল কোনো সাধারণ অর্থনৈতিক নৌপথ নয়, বরং এটি ইরানের ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তির একটি বড় অংশ। মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তেহরান।
মোহেবি আরও উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক যোগাযোগপথটি খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের উত্থাপিত সব শর্ত পুরোপুরি মেনে নিতে হবে। পাশাপাশি অঞ্চলটিতে যেকোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। আইআরজিসির মতে, ওয়াশিংটন যদি এসব দাবি মেনে নেয়, তবেই কেবল প্রণালিটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সংকট সমাধানের মূল চাবিকাঠি এখন ওয়াশিংটনের হাতে। ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে যে গুঞ্জন ছিল, আইআরজিসির এই অবস্থান তা সরাসরি খারিজ করে দিল।
/আশিক
ইরান সরকারের নীতি নির্ধারণী পরিষদের শীর্ষ পদে নতুন মুখ
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই। রোববার (৯ আগস্ট) ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানায় এএফপি।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের মুখপাত্র মেহদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, পূর্বসূরি মোহাম্মদ বাঘের জুলঘাদর সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর রেজাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে। দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া জুলঘাদর এখন থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন বলে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় জানিয়েছে।
৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর আইআরজিসির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ঐতিহাসিক ইরান-ইরাক যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রত্যক্ষ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইরান সরকারের বেশ কিছু নীতি নির্ধারণী পদে কাজ করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনার আবহেই রেজাইয়ের এই পদে আগমন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তাকে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখেন। গত জুলাইয়ে এক বক্তব্যে রেজাই উল্লেখ করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা 'ডজনখানেক পারমাণবিক বোমার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ'।
/আশিক
কঠোর অবস্থান থেকে সরছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধ সমাপ্তিতে নতুন মেরুকরণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিজের বিজয় ঘোষণা করার পথ খুঁজছেন বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান যদি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেয়, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে নতুন কোনো কঠোর চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া থেকে সরে আসতে পারেন ট্রাম্প। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাকেই ট্রাম্প প্রশাসন সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রণালিটি উন্মুক্ত হলে মার্কিন সামরিক অভিযানের সাফল্য দাবি করে ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রাথমিক সামরিক লক্ষ্যগুলো ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে এবং এখন মূল মনোযোগ জলপথটি সচল করার ওপর। জানা গেছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জানিয়েছেন যে, কোনো আনুষ্ঠানিক পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই তিনি হয়তো এই সংঘাতময় অধ্যায়ের ইতি টানতে পারেন। কারণ, গত জুনে ইরানের প্রধান তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ার পর তাদের পক্ষে পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু করা বেশ কঠিন। তদুপরি, তেহরান নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পদক্ষেপ নিলে তা মার্কিন গোয়েন্দা জালে ধরা পড়বে এবং মার্কিন সামরিক অভিযানের ভয় ইরানকে নিবৃত্ত রাখবে বলেই ট্রাম্প মনে করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইরান যদি পারমাণবিক কার্যক্রমে নতুন কোনো অগ্রগতি না ঘটায় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়, তবে ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে পারেন এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধও তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে এসেছিলেন যে, যুদ্ধ শেষের চুক্তিতে এমন শক্ত শর্ত থাকতে হবে যাতে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন নমনীয় মনোভাব বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত এক বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।
সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল
পাঠকের মতামত:
- তুরস্ক সফরে ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ছিল ইরানের হাতে, উড়োজাহাজে হামলার চক্রান্ত
- নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন গতি
- চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে শোকার্ত মেসির পাশে রোনালদো: ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল মন্তব্য
- নতুন চাঁদের আলোহীন রাতে আজ দেখা মিলবে পারসিড উল্কাবৃষ্টির
- জীবনের সেরা উপদেষ্টাকে হারিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসি আবেগপ্লাবিত
- আকাশে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে পৃথিবীর যেসব প্রান্ত থেকে
- বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে নতুন পদক্ষেপ
- খুলনা-চট্টগ্রামসহ ৬ অঞ্চলে তীব্র ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা
- ডিজিটাল সেবা সত্ত্বেও কেন দালাল ধরে লাইসেন্স পেতে হয়, প্রশ্ন জাইমা রহমানের
- বাংলাদেশের বিপক্ষে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া
- ২৯ হাজার আবাসিক গ্রাহক বিপাকে: নোয়াখালীতে তীব্র গ্যাস সংকট
- সংঘাতের পর পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ উধাও, দাবি ইরানের
- জ্বালানি সংকট নিরসনে মধ্যমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনার কথা জানালেন মাহ্দী আমি
- চার প্রজ্ঞাপনে বদলে গেল পুলিশের ২৩ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দায়িত্ব
- সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর
- মানুষকে অভাবে রেখে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি
- সরকারি দল ও জোটের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষ, এবার চোখ ২০ আগস্টে
- পরিবেশ রক্ষায় মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ
- সাধারণ পিঠে ব্যথা ও ক্যানসারের উপসর্গের পার্থক্য চেনার উপায়
- নিলামের আগেই সরাসরি চুক্তিতে কাটার মাস্টারকে ভিড়াল ফ্র্যাঞ্চাইজি
- রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যবসার দিন শেষ: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
- বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়া দিল্লির ইতিবাচক পদক্ষেপ
- ইন্টার মায়ামি ও বিশ্ব ফুটবলে মেসির ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা
- প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বন্ধ ৩ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর চুক্তি স্বাক্ষর
- মন খুলে কথা বললে টুইস্ট করা হয়: শিক্ষামন্ত্রী
- ইরানের হামলার শঙ্কায় অভিনব কৌশলে দেশে ফেরেন ট্রাম্প
- জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বেসরকারি বিনিয়োগের ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর
- লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৫ দিনের নতুন পূর্বাভাস
- সরাসরি সম্প্রচার ও সরাসরি গণনা: যেভাবে জানা যাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল
- তারেক রহমানের সঙ্গে ভিসা প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
- মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে হবে
- আজকের নামাজের সময়: ফজর থেকে ইশা একনজরে
- সৌদি যুবরাজকে ফোন জেলেনস্কির, ফোনালাপে যে চুক্তি আলোচনায়
- এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণ শুরু আজ, আবেদন করবেন যেভাবে
- স্বর্ণের বাজারে বড় লাফ, নতুন দাম জানাল বাজুস
- হাসিনা-কাদের-হাছানের নতুন কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে
- বাংলাদেশের ৪৬ ধাপ পেছনের দেশ খেলবে বিশ্বকাপে
- আজ শপিংয়ের পরিকল্পনা? এই মার্কেটগুলো থাকবে বন্ধ
- দুর্বল ৫ ব্যাংকের পুরোনো মালিকানা ফেরার সুযোগ বন্ধ করল সরকার
- শূন্য পদে রিজভী নাকি অন্য কেউ: বিএনপিতে আলোচনার ঝড়
- চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব কামরুল ইসলাম নির্বাচিত
- কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে বৃদ্ধের বাড়িতে চুরি, স্বর্ণালংকারসহ ৩ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ
- ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট? জেনে নিন এসএসসি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের নিয়ম
- আরবের কাব্য থেকে বাস্তবে ফিরল মরুভূমির বিরল অনাগার
- তানজিদ তামিমের অনন্য অর্জন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
- অধিকার কেড়ে নিলে পরিণতি ভালো হবে না: জামায়াত আমির
- শর্ত মানলেই কেবল খুলবে হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা ইরানের
- সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় কমলো স্বর্ণের দাম, বুধবার চোখ সিপিআই উপাত্তে
- ইরান সরকারের নীতি নির্ধারণী পরিষদের শীর্ষ পদে নতুন মুখ
- ইরানকে যে শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র, যেটা মানলেই ছাড়
- সৌদি যুবরাজকে ফোন জেলেনস্কির, ফোনালাপে যে চুক্তি আলোচনায়
- তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি কি নতুন সামরিক জোট? যা বললেন এরদোগান
- গণমাধ্যম শক্ত হলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল
- বাংলাদেশের ৪৬ ধাপ পেছনের দেশ খেলবে বিশ্বকাপে
- স্বর্ণের দাম কমল, আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে ভরি
- আগস্টের শেষে চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ
- প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বিএনপিতে ব্যাপক প্রস্তুতি
- প্রথম mRNA ফ্লু টিকা অনুমোদন, কারা নিতে পারবেন
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের সময়
- আজ টিভিতে যত খেলা: এলপিএল ফাইনালসহ জমজমাট সূচি
- শনিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণ শুরু আজ, আবেদন করবেন যেভাবে
- হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন শর্ত দিল ইরান
- তারেক রহমানের সঙ্গে ভিসা প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা








