আসছে সুপার এল নিনো: বাংলাদেশের আবহাওয়া ও কৃষিতে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১০:৫৪:৩৯
আসছে সুপার এল নিনো: বাংলাদেশের আবহাওয়া ও কৃষিতে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় বাংলাদেশের চিরচেনা আবহাওয়ার আচরণে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ঋতুচক্রের স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়ে একদিকে যেমন গ্রীষ্মকাল দীর্ঘায়িত হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষার আগেই দেখা দিচ্ছে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির মাঝেই আন্তর্জাতিক আবহাওয়া ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বজুড়ে সক্রিয় হতে যাচ্ছে ‘এল নিনো’। এমনকি এটি একটি শক্তিশালী বা ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে বলে বিভিন্ন জলবায়ু মডেলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশের কৃষি, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র হলো এল নিনো, যা সাধারণত ২ থেকে ৭ বছর পরপর ফিরে আসে। বাংলাদেশ সরাসরি প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত না হলেও দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ু এই বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। আবহাওয়াবিদদের মতে, ‘টেলিকানেকশন’ বা দূরবর্তী জলবায়ুগত সম্পর্কের মাধ্যমে এল নিনো সক্রিয় হলে সমুদ্র থেকে স্বাভাবিক আর্দ্রতার প্রবাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে বাংলাদেশে বর্ষাকাল আসতে বিলম্ব হতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে তীব্র খরা ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হতে পারে।

নতুন করে শক্তিশালী এল নিনো সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ ২০২৪ সালের অভিজ্ঞতা। ওই বছর দেশের ইতিহাসে রেকর্ড টানা ৩৬ দিন তীব্র তাপপ্রবাহ চলে, যেখানে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এবার সুপার এল নিনো তৈরি হলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর) তীব্র খরার ঝুঁকিতে পড়বে। বৃষ্টি কম হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়বে, নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাবে এবং সেচনির্ভর কৃষিতে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশের কৃষি এখনও বহুলাংশে প্রকৃতিনির্ভর। এল নিনোর কারণে বর্ষা দেরিতে শুরু হওয়া, সামগ্রিক বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং হঠাৎ অতিবৃষ্টির মতো ত্রিমুখী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চলতি বছরের এপ্রিলেই আকস্মিক অতিবৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার মতো হাওরাঞ্চলের নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ কমে গেলে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের মতো উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা আমন ও বোরো চাষের পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলবে।

জলবায়ুর এই চরম ভাবাপন্ন রূপ এখন আর শুধু পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ তাপপ্রবাহের কারণে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া ও কিডনি রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। আবার অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও পানিবাহিত সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শ্রমজীবী মানুষ এই স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রথম শিকার হচ্ছেন।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের এপ্রিলে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫.৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট হলো একই সময়ে দুই ধরনের চরম আবহাওয়া দেখা দেওয়া—একদিকে খরা, অন্যদিকে আকস্মিক বন্যা। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রাকৃতিক অস্থিরতার সঙ্গে দেশের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-জলাশয় ভরাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। ভবিষ্যৎ বিপর্যয় এড়াতে এখন থেকেই জলবায়ুসহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদী নগর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

/আশিক


ঢাকাসহ ১৫ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৮:১৪:০০
ঢাকাসহ ১৫ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের অন্তত ১৫টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতেরও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এ সময় বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা বাড়ার কারণে বজ্রপাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদী, জলাশয় এবং উঁচু স্থানে অবস্থানকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং ছোট আকারের জলযানগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় নৌযাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগর ও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সৃষ্ট নিম্নচাপজনিত বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক ঝড়ো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে অফিসগামী মানুষকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন, জলাবদ্ধতা এবং বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মাঠে থাকা ধান, শাকসবজি এবং অন্যান্য ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী বাসিন্দাদের আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখতে বলা হয়েছে। যদিও এটি পূর্ণমাত্রার কোনো ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা নয়, তবুও দমকা হাওয়ার কারণে ছোট নৌযানগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে পরবর্তী সময়ে নতুন সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে। তাই নাগরিকদের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ এবং যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

-রফিক


৩ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৮:০৯:১৭
৩ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৈরী আবহাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে সাময়িকভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর সঙ্গে বজ্রসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতও হতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে দেশের ওপর সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের কয়েকটি এলাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যে আকস্মিক আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে সকাল পর্যন্ত বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদীপথে চলাচলকারী ছোট নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং অন্যান্য জলযানকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রয়োজন ছাড়া নদীর মাঝপথে অবস্থান না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা এখন অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ধরনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

তারা বলছেন, আগের তুলনায় এখন অল্প সময়ের ব্যবধানে তীব্র বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নগর ও গ্রামীণ উভয় অঞ্চলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, জলাশয় এবং ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে কৃষকদের ফসল ও কৃষি সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার আরও অবনতি হলে নতুন সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগাম সতর্কতা মানা গেলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই স্থানীয় প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

এদিকে, নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো আকস্মিক বৃষ্টির সময় ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি প্রস্তুতিও প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দুর্যোগের সময় নয়, বরং পুরো বর্ষা মৌসুমজুড়েই নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। কারণ কয়েক ঘণ্টার ঝড়ো আবহাওয়াও অনেক সময় বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

যেসব অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে

রংপুর অঞ্চল

ময়মনসিংহ অঞ্চল

সিলেট অঞ্চল

সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতি

ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া

বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা

নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ

আবহাওয়া অধিদপ্তর সাধারণ মানুষকে নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

-রাফসান


৭ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ০৮:৫১:২০
৭ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বাড়তে থাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে নতুন পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার মধ্যে দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা বিশেষ আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির ফলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে স্থানীয়ভাবে ঝড়, বজ্রপাত এবং মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনঃ সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে বুধবার রাতের নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু দেশের অবশিষ্ট অঞ্চলগুলোতেও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

মৌসুমি বায়ুর এই অগ্রগতির ফলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকার কাছাকাছি অঞ্চলে স্বল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে সাধারণত বর্ষা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবারও সেই স্বাভাবিক প্রবণতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এর ফলে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে মেঘলা আবহাওয়া এবং বৃষ্টিপাতের কারণে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু গাছের নিচে অবস্থান এবং নদী বা জলাশয়ে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

-রফিক


আগামী কয়েকদিন কেমন থাকবে আবহাওয়া? নতুন তথ্য দিল অধিদপ্তর

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২১:৫৫:১০
আগামী কয়েকদিন কেমন থাকবে আবহাওয়া? নতুন তথ্য দিল অধিদপ্তর
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের কয়েকটি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পাশাপাশি মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে।

এ সময় দেশের দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে রোববার পর্যন্ত আবহাওয়ার ধরণ প্রায় একই থাকতে পারে। এ সময়ে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কোথাও কোথাও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া আর্দ্র এবং বৃষ্টিপ্রবণ থাকবে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু দেশের আরও বিস্তৃত এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া খোলা স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। /আশিক


৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, সতর্ক ১২ জেলা

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ০৯:১৪:২৪
৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, সতর্ক ১২ জেলা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ঝড়ো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বুধবার দুপুরের মধ্যে দেশের অন্তত ১২টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনঃ সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে। এ সময় আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোসহ মাঝারি মাত্রার বজ্রবৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের সিনপটিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের অবশিষ্ট এলাকাগুলোতেও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। ফলে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনব্যাপী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।

পাশাপাশি দেশের কিছু স্থানে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে নিচু এলাকা ও নগরাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে এবং এর প্রভাবে চলমান গরমের তীব্রতা কিছুটা কমে আসবে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, যা সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে।

সামগ্রিকভাবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির আশপাশে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে মৎস্যজীবী, নৌযান চালক এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

-রফিক


রাত ১০টার মধ্যে বরিশালসহ ১০ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ২১:৩৪:০৯
রাত ১০টার মধ্যে বরিশালসহ ১০ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
ছবি : সংগৃহীত

আজ রাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) রাত ১০টার মধ্যে বরিশালসহ দেশের মোট ১০টি জেলায় তীব্র ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পৃথক দুটি জরুরি আবহাওয়া পূর্বাভাসে দেশের সাধারণ নাগরিকদের এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে—আজ ৯ জুন রাত ১০টার মধ্যে দেশের ১০টি জেলা যথাক্রমে বরিশাল, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, বাগেরহাট, নড়াইল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ভোলা এবং পটুয়াখালী জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে তীব্র গতিতে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব জেলার বিভিন্ন স্থানে ধূলিঝড়, আকস্মিক বজ্রপাত, ভারী বজ্রবৃষ্টি বা সাধারণ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতে প্রাণহানির হার বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আকাশে মেঘের গর্জন বা বজ্রপাতের শব্দ শোনা মাত্রই কেউ যেন খোলা আকাশের নিচে বা মাঠ-ঘাটে অবস্থান না করেন। বজ্রপাতের শব্দ শুনলেই দ্রুত ঘরের বাইরে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে এবং সবাইকে নিরাপদ পাকা আশ্রয়স্থলে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


১৬ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ঢাকায় আবহাওয়া থাকবে যেমন

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৮:০১:৩০
১৬ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ঢাকায় আবহাওয়া থাকবে যেমন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরমের তীব্রতা অব্যাহত থাকলেও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে মিলেছে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার ইঙ্গিত। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টায় ঢাকার তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া বিশেষ আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, রাজধানীর আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে গরমের অনুভূতি আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৫ শতাংশ, যা ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলছে। এর আগের দিন রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এমন অস্থির আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেও ঝড়ো হাওয়ার সময় নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সারাদেশের ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকাতেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে।

শুধু বৃষ্টি নয়, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা বা স্থানীয়ভাবে পানি জমার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে দেশের কয়েকটি জেলায় তাপপ্রবাহ এখনো অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃষ্টিপাত বাড়লে এসব এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে, তবে আপাতত গরম থেকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন তাপপ্রবাহ ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছে, অন্যদিকে বজ্রঝড় ও বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১০ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড না হলেও দিনের শেষভাগে আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

-রাফসান


ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ ১৮ জেলায় রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ২২:০৯:১৯
ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ ১৮ জেলায় রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি জেলার ওপর দিয়ে আজ রাত ১টার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে তীব্র দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব অঞ্চলের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। আজ রবিবার (৭ জুন) বিকেলে আবহাওয়া বিভাগের নিয়মিত এক বিশেষ পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীপথের অভ্যন্তরীণ নৌযানসমূহকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং দেশের সব নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দেশের আবহাওয়া বিভাগের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার ভিত্তিতেই এই জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যাতে নৌ-চলাচল ও সাধারণ জনজীবনে সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়। বিশেষ করে রাতে নদীপথে চলাচলকারী ছোট-বড় সব ধরনের নৌযানকে সাবধানে উপকূলের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

/আশিক


ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে দুপুর ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১০:২৯:৩৫
ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে দুপুর ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকাসহ দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে আজ রবিবার (৭ জুন) দুপুরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। আজ ভোরের দিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।

এই কারণে আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া এই সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের নদী অববাহিকায় আকস্মিক এই আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: