কৃষক-শ্রমিকদের অসম্মান মানেই আমার বাবাকে অপমান: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৮:৫২:১৬
কৃষক-শ্রমিকদের অসম্মান মানেই আমার বাবাকে অপমান: জামায়াত আমির
স্মরণসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

নিজে কোনো ধনী পরিবারে নয়, বরং এক কৃষক পরিবারে জন্ম নিয়েছেন উল্লেখ করে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের ইটনা ও নিকলী উপজেলায় নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে নিহত দুই কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্মরণসভায় অংশ নিয়ে তিনি এই আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কৃষক ও শ্রমিকদের সম্মান না করা মানেই তাঁর নিজের বাবাকে অপমান করা।

সকাল ১০টায় ইটনার শিমুলবাগ দক্ষিণহাটি এলাকায় আয়োজিত স্মরণসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষকে সম্মান করা তাঁর একটি ইমানি দায়িত্ব। অনেক মানুষ গরিবের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আড়ালে হাত মুছে ফেলেন—এমন আচরণের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের ঘামের গন্ধ তাঁর কাছে আতরের মতো পবিত্র। তিনি বিশেষ করে শিশু এবং দিনমজুর শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে থাকার আনন্দ তুলে ধরেন এবং শাহ আলমের পরিবারের পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।

ইটনার কর্মসূচি শেষে তিনি নিকলী উপজেলার ছাতিরচরে যান সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুস ছালামের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে। উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনায় আয়োজিত দুটি পৃথক নির্বাচনী সমাবেশের সময় ওই দুই কর্মী ও সমর্থক মৃত্যুবরণ করেন। জামায়াত আমির সকাল থেকেই সড়কপথে কিশোরগঞ্জ পৌঁছে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ দেখভালের বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


মঞ্জুর দুর্গে জামায়াতের হানা: যে ভুলে কপাল পুড়ল বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৮:৪০:৫৮
মঞ্জুর দুর্গে জামায়াতের হানা: যে ভুলে কপাল পুড়ল বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর
ছবি : সংগৃহীত

খুলনার রাজনীতির দীর্ঘদিনের এক অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে এবার বড় ধরনের ওলটপালট ঘটে গেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আধিপত্য বিস্তার করে জয় পেয়ে আসছিল, সেখানে এবার প্রথমবারের মতো বিজয় পতাকা উড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এবং সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন জামায়াতের খুলনা মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং খোদ বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, এই পরাজয়ের পেছনে মূলত কাজ করেছে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দলের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে জয়ী এই আসনে মঞ্জুর ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও এবার তাঁর বলয়ের অতিরিক্ত আত্মতৃপ্তি প্রচারণায় ভাটা ফেলেছিল। টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মতে, জামায়াতের প্রার্থী যখন ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, মঞ্জু তখন প্রচারণায় ছিলেন অনেকটা নিস্পৃহ। এছাড়া ২০২১ সালে মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে মঞ্জু অনুসারীদের কোন্দল ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলেছে।

অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ছিলেন অত্যন্ত পরিকল্পিত ও কৌশলী। দলটির কর্মীরা অলিগলি এবং নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল, যা বিএনপির প্রধান সড়ক ও বাজারকেন্দ্রিক প্রচারণার তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সেকেন্দার আলী খান সাচ্চু নিজেও কোন্দলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। খুলনার এই ফল যেমন বিএনপিকে নতুন করে ভাবাচ্ছে, তেমনি জামায়াতের জন্য এটি এক বিশাল আত্মবিশ্বাসের জয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলমের ভাষায়, এই হারের ‘হিসাব মিলছে না’ এবং তাঁরা বিষয়টি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণে নেমেছেন।

/আশিক


শপথের আগেই বড় বাধা: মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ইসিতে নাসীরুদ্দীন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৭:৫৫:৩৮
শপথের আগেই বড় বাধা: মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ইসিতে নাসীরুদ্দীন
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-৮ আসনে ভোট কারচুপি, অনিয়ম ও বেআইনি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে এই আসনের শপথ গ্রহণ স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তিনি এই লিখিত আবেদন জমা দেন। শাপলা কলি প্রতীকের এই প্রার্থী দাবি করেছেন, নির্বাচনের দিন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এবং তাঁর সমর্থকরা বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছেন।

আবেদনপত্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১২টি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে ভোট রিগিং এবং প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, মির্জা আব্বাসের পরিবার ও কর্মীরা এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিলকৃত ভোটকে ধানের শীষের পক্ষে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাও এসব অনিয়মে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে তিনি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অত্যন্ত আলোচিত এই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ৫৭ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট। অর্থাৎ মাত্র ৫ হাজার ৬৯৬ ভোটের ব্যবধানে এই জয় নির্ধারিত হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, সঠিক তদন্ত হলে এবং অনিয়মগুলো ধরা পড়লে তিনিই বিজয়ী হতেন। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে এবং গেজেট প্রকাশের আগেই বিষয়টি সুরাহা করতে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

/আশিক


সরকার গঠনের আগেই ঐক্যের বড় বার্তা: আজ শরিকদের মুখোমুখি তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১১:০৬:৩৪
সরকার গঠনের আগেই ঐক্যের বড় বার্তা: আজ শরিকদের মুখোমুখি তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশে এক নতুন ইতিবাচক ধারার রাজনীতি শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাবেন। বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার নিশ্চিত করেছেন যে, আজ থেকেই দেশের রাজনীতিতে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে যাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি রাত ৮টায় বাড্ডায় এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে পৌঁছাবেন। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দুই দশক পর সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির এই শীর্ষ নেতার সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। শরিক ও সহযোগী দলগুলোর সাথে এই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ অবস্থান আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ঘোষিত ফলাফলের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফল স্থগিত থাকা বাকি দুটি আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং তাদের জোটের অন্য শরিকরা ৯টি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে ২১২টি আসন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জোট এখন সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। আজকের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক মূলত নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১১:০০:০৬
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে যাচ্ছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, এনসিপি একটি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উদ্যোগটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আসিফ মাহমুদ তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, এই ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত নতুন সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে একটি ‘ওয়াচডগ’ বা নজরদারি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন, ভুল-ভ্রান্তি তুলে ধরা এবং জনগণের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। সবশেষ নির্বাচনে এনসিপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই তরুণ নেতা মনে করেন, একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য কার্যকর বিরোধী শক্তির পাশাপাশি গঠনমূলক নজরদারি অত্যন্ত প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপির এই পদক্ষেপটি মূলত নির্বাচিত সরকারকে চাপে রেখে সঠিক পথে পরিচালনার একটি আধুনিক কৌশল। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জবাবদিহিতার যে সংস্কৃতি তৈরির দাবি উঠেছে, ছায়া মন্ত্রিসভা সেই দাবিরই প্রতিফলন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার যখন ক্ষমতা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এনসিপির এই ঘোষণা রাজনৈতিক ময়দানে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

/আশিক


কোনো দুর্বলতা দেখানোর সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ০৯:০২:২০
কোনো দুর্বলতা দেখানোর সুযোগ নেই: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ জনগণের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ধরনের অপশক্তির কাছে মাথা নত করা হবে না এবং যেখানেই অন্যায় হবে সেখানেই তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

জামায়াত আমির তাঁর বার্তায় অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলের উশৃঙ্খল কর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাই-বোনদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে। বিশেষ করে ১১ দলীয় জোটের প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের শ্লীলতাহানির মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায় ও সত্যের ওপর অটল থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মজলুমের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করা মানবতার দাবি, মহান আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি এবং দেশকে ভালোবাসার দাবি।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনোত্তর এই সহিংসতা প্রতিরোধে কোনো ধরনের দুর্বলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। যেখানেই আঘাত আসবে, সেখানেই জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এবং দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। আমিরের এই সাহসী বার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা মূলত কর্মীদের মাঠ পর্যায়ে শান্ত থাকার পাশাপাশি আত্মরক্ষারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

/আশিক


মঙ্গলবারই কি শপথ নিচ্ছে নতুন সরকার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ০৮:১১:১৪
মঙ্গলবারই কি শপথ নিচ্ছে নতুন সরকার
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার একদিনের মধ্যেই বিজয়ীদের নাম উল্লেখ করে গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে নবগঠিত সরকারের শপথ গ্রহণ এবং সংসদের কার্যক্রম শুরু করার সময়সূচি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং সাংবিধানিক ধাপগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সংবিধান অনুসারে, প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মনোনীত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। তবে এবারের প্রেক্ষাপটে শপথ কে পাঠ করাবেন এবং কোন ক্রমে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে তা নিয়ে কিছু আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

-রফিক


রক্তাক্ত রাজপথ থেকে এখন সংসদ ভবনে ভিপি নুর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ২১:৪৪:০৯
রক্তাক্ত রাজপথ থেকে এখন সংসদ ভবনে ভিপি নুর
ছবি : সংগৃহীত

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণ ছাত্রনেতা নুরুল হক নুর এখন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের একজন নির্বাচিত সদস্য। পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে বিএনপি জোটের সমর্থনে 'ট্রাক' প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন এই সাবেক ডাকসু ভিপি। পটুয়াখালীর গলাচিপার এক সাধারণ কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা নুরের এই রাজনৈতিক যাত্রা ছিল হামলা, মামলা আর নিরন্তর নির্যাতনের এক রক্তঝরা ইতিহাস। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে ছাত্রলীগের নৃশংস হামলার শিকার হয়ে বারবার রক্তাক্ত হয়েছেন তিনি, কিন্তু পিছু হটেননি।

২০১৯ সালে ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে চলে আসেন নুর। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। 'আর একটু ধাক্কা দিলেই পতন হবে হাসিনার'—তাঁর এই সাহসী উক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়। ২০২১ সালে গঠিত 'গণ অধিকার পরিষদ' ২০২৪ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পাওয়ার পর থেকেই নুর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করেন। গ্রাসরুট লিডারশিপ বা তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার জনপ্রিয়তা বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের কাছে আকাশচুম্বী।

আট বছরের এই সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নুর প্রমাণ করেছেন যে, সততা আর রাজপথের লড়াই থাকলে প্রতিকূল পরিবেশেও জয়ী হওয়া সম্ভব। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে পটুয়াখালীর সাধারণ মানুষ তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করে সংসদের আসনে পাঠিয়েছেন। রাজপথের সেই রক্তাক্ত নুরের মুখ এখন সংসদে জনগণের কথা বলবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর সমর্থকদের। নুরের এই উত্থান কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের এক নতুন দিগন্তের সূচনা।


তারেক রহমানের সম্ভাব্য ক্যাবিনেটে একঝাঁক নতুন মুখ: দৌড়ে এগিয়ে যারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ২১:২২:২৩
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ক্যাবিনেটে একঝাঁক নতুন মুখ: দৌড়ে এগিয়ে যারা
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন সবার নজর সোমবারের শপথ অনুষ্ঠান এবং তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভার দিকে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর মন্ত্রিসভা গঠন করতে চান, যেখানে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াইকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই তালিকায় অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি জায়গা পেতে পারেন একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী মুখ।

আলোচনা অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে অথবা তাঁকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবেও দেখা যেতে পারে। স্থায়ী কমিটির প্রবীণ নেতাদের প্রায় সবাই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পেতে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আসতে পারে টেকনোক্র্যাট কোটায় রুহুল কবির রিজভী ও নজরুল ইসলাম খানের নাম। এছাড়া জোটের শরিকদের মধ্য থেকে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরের মতো আলোচিত মুখগুলোও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।

মন্ত্রণালয় বণ্টনের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নাম সামনে আসছে। প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্রের মতো সংবেদনশীল দপ্তরগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে ড. রেজা কিবরিয়া এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হুমায়ুন কবিরের মতো বিশেষজ্ঞদের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের বড় আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত সোমবার বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানেই স্পষ্ট হবে, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে তারেক রহমানের সারথি হয়ে কারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন।


কাল শফিকুর ও নাহিদের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান: নতুন রাজনীতির সংকেত?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ২০:৫৪:৪৬
কাল শফিকুর ও নাহিদের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান: নতুন রাজনীতির সংকেত?
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ও ঐতিহাসিক বিজয়ের পর রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ ও সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তাঁদের নিজ নিজ বাসভবনে গিয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে তাঁর। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের পর নতুন সরকার গঠনের আগে এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এবারের নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে রেকর্ড গড়েছে। জোটের অন্যান্য শরিকদের প্রাপ্ত ৩টি আসনসহ বিএনপি জোটের মোট আসন সংখ্যা এখন ২১২টি। এখনো দুটি আসনে জয়ের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে দলটির। উল্লেখ্য যে, তারেক রহমান এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঢাকা ও বগুড়ার দুটি আসন থেকেই বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ২০০১ সালের চারদলীয় জোটের ১৯৩টি আসনের রেকর্ড ভেঙে এবার এককভাবেই ২০৯টি আসন পেয়ে বিএনপি তাদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।

তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার সমন্বয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো নতুন শক্তির সাথে তাঁর এই বৈঠক অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিরই ইঙ্গিত দেয়। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি যেভাবে সরকার গঠন করেছিল, এবারও প্রায় কাছাকাছি সংখ্যক আসন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

পাঠকের মতামত: