শপথে থাকছেন কি না মোদি জানা গেল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ০৮:৩৭:৪৫
শপথে থাকছেন কি না মোদি জানা গেল
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আগামী মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বঙ্গভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কেবল দেশীয় নয়, আঞ্চলিক কূটনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রতিবেশী কূটনীতির প্রেক্ষাপটে এই শপথ অনুষ্ঠান তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Hindustan Times–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ–এর পূর্বনির্ধারিত ভারত সফরের সূচির কারণে মোদির ঢাকা সফর সম্ভব হচ্ছে না।

তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে মোদি ও ম্যাক্রোঁর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। পরবর্তীতে দিল্লিতে ‘এআই ইমপ্যাক্ট কনফারেন্স’সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট, যা ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। ফলে একই সময়ে ঢাকায় উপস্থিত থাকা মোদির পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

তবে নয়াদিল্লি শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র বলছে, ভারতের উপরাষ্ট্রপতি অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে একজন বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। এটি নতুন সরকারের প্রতি কূটনৈতিক সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরপরই মোদি টেলিফোনে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান–কে অভিনন্দন জানান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, নির্বাচনে অনন্য বিজয়ের জন্য উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মোদির বার্তায় প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথ অনুষ্ঠানে মোদির অনুপস্থিতি কৌশলগত দূরত্বের ইঙ্গিত নয়; বরং কূটনৈতিক সময়সূচির সমন্বয়জনিত বিষয়। একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্তটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতীক।

দুই দেশের বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পগুলোর প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের শপথ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রফিক


মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৩ ১২:৪২:৫৬
মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর যুক্তরাষ্ট্রের একটি উন্নতমানের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

আইআরজিসি-নিয়ন্ত্রিত ফার্স নিউজ এজেন্সি–এর একটি টেলিগ্রাম পোস্টে বলা হয়েছে, একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মধ্য ইরানের আকাশসীমা অতিক্রম করার সময় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং সেটিকে গুলি করে নামানো হয়।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়, আঘাতের পর বিমানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই পাইলটের অবস্থা সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি, কারণ বিমানের ক্ষয়ক্ষতি ছিল অত্যন্ত গুরুতর।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন যুদ্ধবিমান ব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে এ ধরনের দাবির ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তথ্যযুদ্ধ বা প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবেও এ ধরনের ঘোষণা আসতে পারে।

এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

-রাফসান


মার্কিন রিপোর্টে ইরানের সামরিক সক্ষমতার চিত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৩ ১২:০০:৫৩
মার্কিন রিপোর্টে ইরানের সামরিক সক্ষমতার চিত্র
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বাস্তব ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে হামলা চললেও ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়েছে।

সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রায় অর্ধেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনও কার্যত অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে হাজার হাজার একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনও এখনো সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।

তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, কিছু লঞ্চার সরাসরি ধ্বংস না হলেও বিমান হামলার ফলে সেগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়েছে, যার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়েছে।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেলেছে। এই বক্তব্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক।

এই বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী–এর আগের দাবির সঙ্গেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তারা জানিয়েছিল, ইরানের প্রায় ৪৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের মধ্যে ৬০ শতাংশ ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিন্নতার পেছনে মূল কারণ হতে পারে ‘অক্ষত’ এবং ‘ব্যবহারযোগ্য’—এই দুই ভিন্ন শ্রেণির ব্যাখ্যা। কোনো লঞ্চার সরাসরি ধ্বংস না হলেও যদি তা কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়, তাহলে সেটিকে কীভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হবে, সে বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে।

ইসরায়েলি সামরিক সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ২০০টি লঞ্চার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও ৮০টি লঞ্চার আংশিকভাবে অকার্যকর হয়েছে। এসব স্থাপনা মূলত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে সংরক্ষিত ছিল, যেখানে প্রবেশপথে হামলা চালিয়ে কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত করছে, ইরান এখনো একটি বড় আকারের প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রেখেছে। বিশেষ করে ড্রোন সক্ষমতা তাদের কৌশলগত শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একটি নিরাপত্তা সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ইরান এখনও চাইলে পুরো অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা রাখে, যা এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

তবে এই গোয়েন্দা মূল্যায়নকে অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। তাদের দাবি, এই ধরনের তথ্য ফাঁস মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের সফলতাকে খাটো করার একটি প্রচেষ্টা।

সামগ্রিকভাবে, এই ভিন্নধর্মী তথ্য ও দাবির মধ্যে পার্থক্য মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রকৃত চিত্রকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে কৌশলগত মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

-রাফসান


ট্রাম্পের নতুন হুমকি, তেহরানের পাল্টা প্রস্তুতি ও হরমুজ ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৩ ১০:৫৫:২৪
ট্রাম্পের নতুন হুমকি, তেহরানের পাল্টা প্রস্তুতি ও হরমুজ ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই এমন এক জটিল ও বিস্তৃত রূপ নিচ্ছে, যেখানে সামরিক অভিযান, কৌশলগত অবকাঠামোতে হামলা, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা—সবকিছু একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা জোরদার করার পাশাপাশি ওয়াশিংটন থেকে নতুন করে কঠোর হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের অবশিষ্ট অবকাঠামোর ওপর পূর্ণ মাত্রায় হামলা শুরুই করেনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক আঘাত হানা হবে। এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, যুদ্ধ এখনো শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়নি; বরং সামনে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তেহরানের একটি শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র, রাজধানীর নিকটবর্তী একটি সেতু এবং ইস্পাত কারখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই হামলাগুলো কেবল সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে, যা ইরানের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতাকে দুর্বল করার কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা অবস্থান আরও কঠোর করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে যে, এই যুদ্ধ চলবে যতক্ষণ না প্রতিপক্ষ ‘অপমানিত’ ও ‘পরাজিত’ হয়। সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের বিরুদ্ধেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সংঘাত এখন একটি সীমিত যুদ্ধের গণ্ডি পেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইশরাত/২৩৫৮৬

সংঘাতের বিস্তার ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে একাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে বাহরাইনে সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে যুদ্ধ এখন শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের অনুমোদনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে এই প্রস্তাব পাস হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, বিশেষ করে চীনের বিরোধিতার কারণে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, ফলে এর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে সামরিক ফ্রন্টেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাত এখন প্রতিদিন নতুন নতুন মাত্রা পাচ্ছে।

অন্যদিকে ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে, যা সংঘাতকে আরও বহুমাত্রিক করে তুলেছে। একই সময়ে লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার দাবি করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে এই যুদ্ধ এখন প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একটি জটিল ও বহুস্তরীয় সংঘাতের প্রতিচ্ছবি, যেখানে সামরিক শক্তি, কৌশলগত অবকাঠামো, জ্বালানি রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হুমকি, ইরানের পাল্টা অবস্থান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা এই সংকটকে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলছে।

বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই সংঘাত কি কূটনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, নাকি এটি আরও বিস্তৃত হয়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক সংকটে রূপ নেবে। এখনকার পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্য এমন এক অস্থির পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে প্রতিটি নতুন হামলা আরও বড় সংঘাতের সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসছে।


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৩ ০৯:২৪:৪৭
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও ‘বিধ্বংসী’ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ইসরায়েলের সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর ফলে তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা তেল আবিব ও ইলাত অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে, যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সামরিক পদক্ষেপ আদৌ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।

চিঠিতে তিনি সরাসরি মার্কিন জনগণকে উদ্দেশ করে জানতে চান, এই যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কোন বাস্তব স্বার্থ অর্জিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনো আগ্রাসন বা উপনিবেশবাদী নীতি অনুসরণ করেনি এবং যুদ্ধ শুরু করার পক্ষেও ছিল না।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরানকে একটি বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষমতাধর গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের অংশ। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিই এই উত্তেজনার একটি বড় কারণ।

তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলোকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং দাবি করেন, এসব পদক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরান যুদ্ধে দৈনিক কত ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৩ ০৯:০৬:২৯
ইরান যুদ্ধে দৈনিক কত ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হচ্ছে, যেখানে যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের বিস্তৃতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

পেন্টাগন–এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দ্রুত ব্যয়বৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈনিক ব্যয়ের কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় ব্যয় তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে স্বাধীন বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, এই ধরনের ব্যয় কেবল সামরিক খাতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত বহুমাত্রিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

অন্যদিকে সামরিক পরিস্থিতিও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি ‘শত্রুপক্ষের’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ওই বিমানটিকে সফলভাবে আঘাত করে। তবে বিমানটি কোন দেশের ছিল, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিমানটি হেনগাম ও কেশম দ্বীপের মধ্যবর্তী উপসাগরীয় এলাকায় গিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এই দাবি সংঘাতের সামরিক মাত্রা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং এতে নতুন পক্ষ জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত এখন শুধু সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও একটি জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হতে পারে।

-রফিক


ইরান ইস্যুতে মিত্রদের বিচ্ছেদ! ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ফ্রান্স

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৯:৫৭:৪১
ইরান ইস্যুতে মিত্রদের বিচ্ছেদ! ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ফ্রান্স
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সামরিক অবস্থানের মুখে এবার সরাসরি বিরুদ্ধাচরণ করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে মিত্র দেশগুলোকে শক্তি প্রয়োগের যে আহ্বান ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাকে ‘অবাস্তব’ এবং ‘অবাস্তবসম্মত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।

ইরান হরমুজ প্রণালিকে ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর’ জন্য বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালিটিকে ‘মুক্ত’ করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু কোনো মিত্র দেশই এতে সাড়া না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প একপর্যায়ে বলেন, ‘নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করো।’

এর জবাবে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে বলেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার ধারণা পুরোপুরি অবাস্তব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সামরিক শক্তির বদলে ইরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি জরুরি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান বিরোধী এই সংঘাতে ফ্রান্স অংশ নেবে না, কারণ এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিচালিত একটি অভিযান। তিনি আরও বলেন, কয়েক সপ্তাহের সীমিত সামরিক অভিযান দিয়ে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান সম্ভব নয়।

ট্রাম্পের অস্থির নীতির সমালোচনা করে ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা যখন কোনো বিষয় নিয়ে সিরিয়াস হতে চাই, তখন প্রতিদিন আগের দিনের কথার বিপরীত কথা বলা চলে না।” ম্যাক্রোঁর এই শক্ত অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের একঘেয়েমি নীতির বিরুদ্ধে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন


ট্রাম্পের হুমকির পর যুদ্ধ থামাতে চীনের জরুরি আহ্বান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৮:০৯:১৮
ট্রাম্পের হুমকির পর যুদ্ধ থামাতে চীনের জরুরি আহ্বান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলোর অবস্থান সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। বরং এ ধরনের সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তোলে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত সামরিক অভিযান বন্ধ করে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানান।

এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজিত করে তোলে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত সংঘাত অব্যাহত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আরও তীব্র হামলার মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত চারটি হামলার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যেখানে বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কৌশলগত জলপথগুলো এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে।

চীনের এই আহ্বান মূলত একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান, যা সংঘাত নিরসনে আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। তবে বাস্তবতা হলো, মাঠের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

-রাফসান


জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৪:২৪:২০
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে, যেখানে এবার জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। এই ঘটনার মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পার্বত্য অঞ্চলের আড়ালে থাকা একটি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এটি জর্ডানের ভূখণ্ডে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তবে ভিডিওটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

এই হামলার প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অপারেশন এপিক ফিউরি, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এই অভিযানের পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আঘাত হানা হয়েছে, যার মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও এই দাবি সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কৌশলগতভাবে জর্ডান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির আকাশপথ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে হামলা চালানো ইরানের সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি ছাড়াও বাহরাইন, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত একাধিক ঘাঁটি এই হামলার আওতায় এসেছে।

এর মধ্যে গত ২৭ মার্চের একটি হামলায় একটি মার্কিন নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর আগেও জ্বালানি সরবরাহকারী কয়েকটি বিমান ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল, যা এই সংঘাতের ব্যাপ্তি ও কৌশলগত গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।

-রাফসান


ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন বর্ষণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৩:০৫:৫৪
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন বর্ষণ
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা লাভ করেছে, যেখানে স্থল অভিযানের জবাবে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া হামলায় সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও আঘাত হানা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলের গভীরে এবং সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে হাইফার নিকটবর্তী কিরিয়াত আতা এলাকায় সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় আকারের রকেট বর্ষণ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে অগ্রসরমান ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর তারা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক যুদ্ধকৌশল হিসেবে ড্রোন স্বার্ম ব্যবহার করে ইভেন মেনাখেম বসতিতেও আঘাত হানা হয়েছে। এর আগে ওই এলাকাটি সামরিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে বেসামরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

সংগঠনটি জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে তারা প্রায় ৬০টি সফল সামরিক অপারেশন পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংসের দাবি, সামরিক বিমানের বিরুদ্ধে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এবং দীর্ঘপাল্লার ট্যাকটিক্যাল মিসাইল হামলা।

এই হামলার বিস্তার শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকেনি; গাজার নিকটবর্তী আশদোদ শহর পর্যন্ত হামলার প্রভাব পৌঁছেছে বলে জানা গেছে, যেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই মালকিয়া, মেতুলা এবং আইনাতা অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনা সমাবেশকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে জেনায়জেল ও ঘদামতা উচ্চভূমিতে সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে গোলন্দাজ আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন–এর বরাতে জানা যায়, এসব হামলায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সংঘর্ষের তীব্রতা স্বীকার করেছে।

সূত্র: আল মায়াদিন

পাঠকের মতামত: