আমিরাতকে ইরানের চূড়ান্ত আলটিমেটাম: আমাদের ধৈর্যের সীমা পরীক্ষা করবেন না

ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) কঠোর ভাষায় চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। আবুধাবির এই ইসরায়েলপন্থী নীতির বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে—তারা দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ সংযম দেখালেও তাদের এই ধৈর্যের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, যা অতিক্রম করলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা’ (ISNA)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারক ও ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর বর্তমান সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাবেক এই শীর্ষ কমান্ডার বলেন, তেহরান এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। তবে আমিরাতের মনে রাখা উচিত, ইরানের ধৈর্যের দেয়াল ভেঙে পড়লে পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
মোহসেন রেজায়ি সরাসরি আবুধাবিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা খুব ভালো করেই জানি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্যে নানা ধরনের কৌশলগত যোগাযোগ এবং গভীর লেনদেন চলছে। আমিরাতের প্রতি আমাদের স্পষ্ট পরামর্শ—তারা যেন কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পাতা কোনো ফাঁদ বা ষড়যন্ত্রের অংশ না হয়ে ওঠে।” মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রভাব বৃদ্ধির বিরুদ্ধে তেহরান যে কোনোভাবেই আপস করবে না, এই বার্তার মাধ্যমে আবুধাবিকে মূলত সেটিই স্মরণ করিয়ে দিল ইরান।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
খামেনির ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে থাকছে যেসব আনুষ্ঠানিকতা
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় আয়োজন। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে কঠোর নিরাপত্তা, ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি এবং একাধিক ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় জানাজা নয়; বরং দেশটির রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীকী প্রদর্শন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লাখো মানুষকে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। আয়োজকরা আশা করছেন, অনুষ্ঠানজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন।
ইরানি প্রশাসনের ধারণা, পুরো আয়োজনজুড়ে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। যদি সেই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। রাজধানীর প্রধান সড়ক, ধর্মীয় কেন্দ্র এবং অনুষ্ঠানস্থলজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দলও মোতায়েন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত তেহরানে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের কার্যক্রম চলবে। এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পবিত্র শহর কোমের জামকারান মসজিদে, যেখানে শিয়া ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিশেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনকে ইরানের ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরবর্তী ধাপে মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। সেখানে ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোতে বিশেষ দোয়া ও স্মরণানুষ্ঠান শেষে কারবালায় আরও একটি ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সফরকে প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
সবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদের ঐতিহাসিক ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। দাফনের পর দেশজুড়ে টানা ৪০ দিনের শোকানুষ্ঠান এবং পরবর্তী এক বছর বিভিন্ন পর্যায়ে স্মরণসভা, ধর্মীয় আলোচনা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনেরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’। আয়োজকদের দাবি, এই বার্তার মাধ্যমে জাতীয় সংহতি, প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রীয় আদর্শের প্রতি জনগণের অঙ্গীকার নতুন করে তুলে ধরা হবে।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়ও বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে।
-রফিক
আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের উত্তপ্ত সময় চলমান যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে ঘিরে নতুন এক দাবি সামনে এসেছে। মিডল ইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, সে সময় মার্কিন প্রশাসনের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য পৌঁছেছিল যে, ইসরায়েল ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছিল। তবে এই দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মাধ্যমে তেহরানের কাছে আগাম সতর্কবার্তা পাঠায়। ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন ছিল, যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো উচ্চপর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তার ওপর হামলা হলে তা শুধু আলোচনা ব্যর্থই করবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তত পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম ছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানতে পারেন। এরপরই ওয়াশিংটন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইসরায়েলকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
মিডল ইস্ট আই একটি ঘটনারও উল্লেখ করেছে, যেখানে বলা হয়, এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর শেষে গালিবাফকে বহনকারী বিমান মাঝপথে রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় ইরানি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দেশের আকাশসীমার কাছে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পেয়েছিল। তবে এ ঘটনারও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনটি আরও বলছে, ওই সময় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছিল। পাশাপাশি কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনা চলাকালে সম্ভাব্য হামলা এড়ানোর বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান ঘিরে তেহরানে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রায় চার মাস পর দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন পরিসরে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে, যা নিরাপত্তা, কূটনৈতিক উপস্থিতি এবং জনসমাগম—সব দিক থেকেই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খামেনির মরদেহবাহী কফিন রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সেই স্থানে নেওয়া হয়, যেখানে হামলায় তিনি নিহত হয়েছিলেন। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জানায়, এই প্রতীকী আয়োজনের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় বিদায় কর্মসূচির সূচনা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই শোকানুষ্ঠান কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে তেহরানে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন, এরপর পবিত্র নগরী কুমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং সবশেষে খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। দীর্ঘ যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েক মাস বিলম্বের পর অবশেষে এই রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তেহরানের বিভিন্ন সড়কে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছেন। কালো পোশাক পরিহিত শোকাহতদের অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কালো ব্যানার ও শোকের প্রতীকে সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত দৃশ্যে মানুষের কান্না, শোকমিছিল এবং ধর্মীয় স্লোগানে মুখর পরিবেশ দেখা গেছে।
খামেনির সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তার কফিন একটি বিশেষ কক্ষে রাখা হয়েছে, যার দেয়াল ইরানের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত। কফিনের ওপর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে লাল রঙের একটি ধর্মীয় পতাকা, যা ইমাম হোসেনের মাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং শিয়া ঐতিহ্যে আত্মত্যাগ, প্রতিরোধ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই প্রতীককে ‘সত্য ও আত্মত্যাগের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের’ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শোকমিছিলের রুট এবং ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কিংবা নতুন হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখেই এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
-রফিক
নতুন নেতার অধীনেই ওয়াশিংটনকে রুখতে তেহরানের রণপ্রস্তুতি
ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ বা আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর, অনুশোচনামূলক ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে চরম সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক বিশেষ বার্তায় এই হুঁশিয়ারি দেন ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহি।
সদ্য প্রয়াত ইসলামিক বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির আসন্ন জানাজা উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহি তাঁর বার্তায় বলেন, শহীদ সর্বোচ্চ নেতা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন, কৌশলগত বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সুসংহত করার মাধ্যমে দেশের সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শত্রুপক্ষ অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হওয়া সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে অতীতে যেসব যুদ্ধ বা আগ্রাসন চালিয়েছে, তার জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে এবং প্রতিবারই তারা অপমানের স্বাদ গ্রহণ করেছে।
সশস্ত্র বাহিনীর এই শীর্ষ কর্মকর্তা সর্বোচ্চ নেতার আসন্ন জানাজা অনুষ্ঠানে দেশবাসীকে বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই শোকানুষ্ঠান ইরানের পবিত্র জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। প্রয়াত নেতাকে শ্রদ্ধা জানানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হলো তাঁর দেখানো দীপ্ত পথ অনুসরণ করে শত্রুর বিরুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া।
বার্তার শেষাংশে জেনারেল আব্দুল্লাহি ইরানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসাইনি খামেনির প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর অবিচল ও পূর্ণ আনুগত্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
সূত্র: মেহের নিউজ
উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারকে নিয়ে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন শাহবাজ শরিফ
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে আগামী ৩ জুলাই ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করবেন এবং ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি জানাবেন।
ইরানে প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন ও জানাজায় ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হুংকার দিয়ে বলেছেন, এই বিপুল উপস্থিতির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে প্রতিশোধের দাবির স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
উল্লেখ্য, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রথম দিনে নিহত হন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় দেশটির নেতৃত্ব দেন।
সূত্র : ডন
নেতানিয়াহু প্রশাসন গুরু ট্রাম্পের কথা না শুনলে ইরানই শিক্ষা দেবে: আব্বাস আরাগচি
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের দেওয়া চরম উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশটির সাধারণ জনগণ ও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক, কঠোর ও শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে দেওয়া এক বিশেষ সরকারি বিবৃতিতে আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমাদের জনগণ এবং দেশের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি বা আগ্রাসনের অপচেষ্টা তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।”
এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক চরম বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি সরাসরি বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘হত্যার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে’ (টার্গেটেড ফর অ্যাসাসিনেশন)। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন, ইরান আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার ভান করে মূলত বিভিন্ন ধরনের বাড়তি কূটনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সেই সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে কাটজ কটাক্ষ করে আরও বলেন, ইরানিরা ‘দক্ষ ব্যবসায়ীর মতো’ আলোচনায় নিজেদের সুবিধা আদায়ের চাল চালছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন আগ্রাসী বক্তব্যের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকেও কড়া ভাষায় টেনে এনে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো একেবারে স্পষ্ট এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেল আবিবে তাদের মিত্রদের (ইসরায়েল) কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা যদি এখন তাদের প্রধান অভিভাবক তথা গুরুর (মাস্টার) কথা না শোনে, তাহলে ইরান নিজেই তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।” আরাগচির এই মন্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, ইসরায়েলকে সংযত রাখার মূল দায়িত্ব এখন সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের ওপর বর্তায়।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সরাসরি ‘হত্যার হুমকি’ দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনাকে এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি সামরিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে অলরেডি তীব্র বাকযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই নাজুক পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের এমন চরম আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও যুদ্ধমুখী করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের জাতীয় পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং কেবল বেসামরিক বিদ্যুৎ ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, তেহরান আন্তর্জাতিক চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
১৪৪ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলল অলৌকিক প্রাণ: ভেনেজুয়েলায় ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের দীর্ঘ ছয় দিন পর এক অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। রাজধানী কারাকাসের উত্তর প্রান্তের লা গুয়াইরা এলাকায় ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সি এক শিশুকে সম্পূর্ণ অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে জর্ডানের একটি বিশেষ সিভিল ডিফেন্স উদ্ধারকারী দল।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবন বাঁচানোর জন্য সবচেয়ে আশাপ্রদ বা গোল্ডেন আওয়ার ধরা হলেও, সেই আন্তর্জাতিক সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘ ১৪৪ ঘণ্টা পর এই শিশুর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিরলতম ঘটনা। উদ্ধারের পর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অত্যন্ত আবেগঘন ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পেয়ে জর্ডানের উদ্ধারকর্মীরা কান্না ও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পর তাকে পরম মমতায় উষ্ণ কম্বলে জড়িয়ে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
জর্ডান সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, অলৌকিকভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই শিশুটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে পুরোপুরি স্থিতিশীল রয়েছে এবং তার শরীরের সমস্ত ভাইটাল সাইন বা জীবনচিহ্ন স্বাভাবিক পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ধসে পড়েছে শত শত আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। তবে চারপাশের এই চরম বিপর্যয়, লাশের স্তূপ আর হাজারো মানুষের নিখোঁজ থাকার বুকফাটা বেদনার মাঝেও উদ্ধার অভিযান পুরোদমে সচল রয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ৬ হাজার ৪৬১ জনকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আর সবশেষ এই ছোট্ট শিশুটির মৃত্যুর দুয়ার থেকে অক্ষত ফিরে আসা ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া পুরো জনপদে নতুন করে বেঁচে থাকার এক উজ্জ্বল আশার আলো ছড়াচ্ছে।
—আরব নিউজ
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির আগুনে পুড়ছে বিশ্ব, একমাত্র ‘স্পষ্ট বিজয়ী’ হিসেবে উদয় চীনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী মধ্যপ্রাচ্য নীতির জেরে বিশ্বজুড়ে যে নজিরবিহীন ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র সুস্পষ্ট ও বড় বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পরাশক্তি চীন। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এশিয়া গ্রুপ’-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ গবেষণামূলক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে এশিয়া গ্রুপ স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া এবং তার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যের বাজারে যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা অত্যন্ত নিখুঁত ও সফলভাবে মোকাবিলা করেছে বেইজিং। একই সঙ্গে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যে কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে, তা থেকেও দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ।
মূল সংকটের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানের সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় একযোগে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে। এই ঘটনার পর ইরান প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ পরিবহনের এই মূল নৌপথটি আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে খনিজ তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে, যার সবচেয়ে বড় ধাক্কা গিয়ে লাগে এশিয়ার আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর।
এশিয়া গ্রুপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার আগে এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৯০ শতাংশই একচেটিয়াভাবে এশিয়ার বাজারে আসত। এছাড়া অন্যান্য জরুরি বাণিজ্যিক পণ্যও এই রুটেই পরিবাহিত হতো। এই গবেষণায় মূলত চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান দেশগুলোর উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি ও কৃষি খাতের ওপর সংকটের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য অভিযানের ফলে সৃষ্ট এই বৈশ্বিক সংকটে চীনের কোনো ক্ষতি তো হয়ইনি, উল্টো তারা সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো চীনের কাছে থাকা অপরিশোধিত তেলের বিশাল কৌশলগত মজুত এবং গত কয়েক বছর ধরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে তাদের করা বিপুল পরিমাণ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ। ফলে অন্য সব দেশ যখন জ্বালানির অভাবে ধুঁকছে, চীন তখন এই ধাক্কা খুব সামান্যই টের পেয়েছে।
বেইজিং মূলত দীর্ঘদিন ধরেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কৌশলগত জ্বালানি মজুত (Strategic Petroleum Reserve) গড়ে তুলছিল। বিশেষ করে গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম থাকার পূর্ণ সুযোগ নিয়ে তারা রেকর্ড পরিমাণ তেল মজুত করে। বৈশ্বিক জ্বালানি নীতিবিষয়ক কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক এরিকা ডাউন্সের দেওয়া গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ দৈনিক ১ কোটি ১১ লাখ ব্যারেল থেকে এক লাফে বেড়ে ১ কোটি ১৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়, যার ৮০ শতাংশেরও বেশি তারা সরাসরি মাটির নিচে মজুত করে ফেলে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী, চীনের কাছে যে পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে ২০২৫ সালের আমদানির উচ্চ হার বজায় রেখেও কোনো প্রকার আমদানি ছাড়া টানা ১০৪ দিনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনায়াসে পূরণ করা সম্ভব।
একই সময়ে নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি খাতেও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চীন। গত এক বছরেই তারা তাদের জাতীয় গ্রিডে ৩১৫ গিগাওয়াট নতুন সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত করেছে, যা সমগ্র বিশ্বে ওই বছর নতুন স্থাপিত মোট সৌরবিদ্যুতের অর্ধেকেরও বেশি। এর আগের বছরও তারা ২৭৭ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করেছিল। বেইজিংয়ের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকই জীবাশ্ম জ্বালানিবহির্ভূত (নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক) উৎস থেকে উৎপাদন করা। একই সময়ে বায়ু ও সৌরশক্তির অংশ ২০২৫ সালের ২২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দ্রুত ৩০ শতাংশে নেওয়ার জোরালো পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যদিও বর্তমানে চীনের মোট জ্বালানির ৫০ শতাংশের বেশি এখনও কয়লাভিত্তিক, তবে গ্রিন এনার্জির অংশ সেখানে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
এশিয়া গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ১ দশমিক ৪ টেরাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চালু থাকা এবং ৯০ থেকে ১১০ দিনের অপরিশোধিত তেলের কৌশলগত মজুত ব্যাকআপ হিসেবে থাকায় ভারত বা জাপানের মতো আঞ্চলিক অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সংকটের প্রাথমিক ধাক্কা সবচেয়ে রাজকীয়ভাবে সামাল দিয়েছে চীন।
মজার বিষয় হলো, এই সংকটের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে পরিচ্ছন্ন বা সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে, তখনও ঘুরিয়ে লাভ হচ্ছে বেইজিংয়েরই। কারণ বর্তমান বিশ্বের সৌর প্রযুক্তি ও অন্যান্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরঞ্জামের বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সিংহভাগই চীনের নিয়ন্ত্রণে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা অবিশ্বাস্য কম দামে এসব পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করছে, যা আমেরিকা ও ইউরোপের পশ্চিমা দেশগুলোর নিজস্ব দেশীয় শিল্পের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় রেকর্ড ১১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একইভাবে এপ্রিল মাসে তাদের সৌর প্যানেল রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
রাজনৈতিকভাবে চীন অবশ্য শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক হাইপ্রোফাইল বৈঠকের পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দাবি করেছিলেন, এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধান চায় দুই দেশই। তবে এশিয়া গ্রুপের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটের পর বেইজিং আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি ‘অস্থিতিশীলতাসৃষ্টিকারী ও যুদ্ধবাজ’ শক্তি হিসেবে সফলভাবে ব্র্যান্ডিং করার সুযোগ পেয়েছে, যার ভুল মধ্যপ্রাচ্য নীতির খেসারত পুরো বিশ্বের সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে।
অবশ্য এই দৃশ্যমান সফলতার আড়ালে চীনের জন্য কিছু সুপ্ত ঝুঁকি ও চিন্তার কারণও রয়েছে। সিঙ্গাপুরের এস. রাজরত্নম আন্তর্জাতিক গবেষণা বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ফেলো ড্রু থম্পসন মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাওয়া চীনের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাভজনক নাও হতে পারে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের মতো জটিল গোলমেলে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিকল্প নিরাপত্তা প্রদানকারী শক্তি হিসেবে নিজেদের জড়াতে বেইজিং এই মুহূর্তে একেবারেই আগ্রহী নয়।
অন্যদিকে, তাইওয়ানভিত্তিক আটলান্টিক কাউন্সিলের গ্লোবাল চায়না হাবের নন-রেসিডেন্ট ফেলো ওয়েন-তি সুং একটি ভিন্ন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির এই সংকট ভবিষ্যতে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে। কারণ, শত্রুতাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিবেশে সমুদ্রপথে বিশাল জাহাজ বা নৌবহর পরিচালনার কৌশলগত জটিলতা ও ঝুঁকি এই সংকটের মাধ্যমে খুব স্পষ্টভাবে বেইজিংয়ের সামনে ফুটে উঠেছে।
তবে সব ঝুঁকি সমীকরণ সত্ত্বেও, বেইজিং এই মুহূর্তের মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে তাদের জন্য কোনো অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে দেখছে না। বরং তারা এটিকে একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা তারা নিজেদের অসামান্য অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা দিয়ে নিখুঁতভাবে মোকাবিলা করে উল্টো একটি বিশাল ভূরাজনৈতিক সুযোগে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
৬০ দিনের মধ্যে কেটে গেল ১৪ দিন, তবুও আলোর মুখ দেখেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বৈরিতা এবং যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্য নিয়ে দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। চুক্তির ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ে এর সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক এই সমঝোতার শর্তগুলো তেহরানের পক্ষে বেশ সুবিধাজনক মনে হলেও, শেষ পর্যন্ত এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনও চরম অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
দ্বিপক্ষীয় এই সমঝোতার প্রধান প্রধান শর্ত অনুযায়ী, ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে ইরানের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা সমস্ত জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থাকা অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন করতে হবে। এর বিপরীতে তেহরানের দায়িত্ব হবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক সব বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে নিজেদের পূর্বঘোষিত অঙ্গীকার পুনরায় নিশ্চিত করা।
তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই দুই সপ্তাহে মাঠপর্যায়ে একাধিক নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে, যা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে এই যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার ভিত এখনও কতটা নাজুক ও ভঙ্গুর। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে, যার জেরে মার্কিন ও ইরানি সশস্ত্র বাহিনী একে অপরকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চালায়। এই আকস্মিক সংঘাতের ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক নৌপথে আবারও জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। যদিও এর আগের সপ্তাহে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে তা এখনও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা ও উত্তাপ কমানোর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতা ও প্রচেষ্টা চলমান থাকা সত্ত্বেও, দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ও গোলাগুলি থামেনি, বরং তা অব্যাহত রয়েছে।
সমঝোতা স্মারকের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো, বেশিরভাগ জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর চূড়ান্ত মীমাংসা পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে দুই পক্ষকে ৬০ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ইতোমধ্যে মূল্যবান দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মূল বিষয়গুলোতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা কার্যকর ফল আসেনি।
বিশেষ করে, সমঝোতার একটি নির্দিষ্ট ধারা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে— ইরানের জব্দ করা অর্থের মুক্তি, ইরানি তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানি বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং দুই দেশের সংঘাতের পাশাপাশি লেবানন সীমান্তের যুদ্ধ বন্ধের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোর সমাধান হওয়ার পরই কেবল পরবর্তী আনুষ্ঠানিক টেবিলে বসা যাবে। শর্তের এই মারপ্যাঁচের কারণে কোন সমস্যাটি আগে সমাধান করা হবে, অর্থাৎ আলোচনার সঠিক ক্রম নির্ধারণ করাও দুই পক্ষের কূটনীতিকদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। ইরান গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে যে, কাতারের ব্যাংকে আটকে থাকা তাদের জব্দ করা সম্পদের অর্ধেক অংশ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এই দাবি নাকচ করে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ইরানের কোনো সম্পদই মুক্ত বা অবমুক্ত করা হয়নি।
নিরাপত্তা ফ্রন্টেও উত্তেজনা কমেনি। ইরান এখনও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোর দিয়ে বলছে যে, নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করে কোনো আন্তর্জাতিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে অবশ্যই তেহরান কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে। কিন্তু ইরানের এই কঠোর অবস্থানের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে এখন বিশ্ববাণিজ্যের বেশিরভাগ জাহাজ ওমান উপকূল ঘেঁষে তৈরি হওয়া বিকল্প নিরাপদ রুট ব্যবহার করছে। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই পুরো সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও কোনো ধরনের অর্থবহ বা আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র : সিএনএন
পাঠকের মতামত:
- জুলাই-আগস্টে বড় বন্যার শঙ্কা, সতর্ক এফএফডব্লিউসি
- খামেনির ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে থাকছে যেসব আনুষ্ঠানিকতা
- ২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার
- যে ৮ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কবার্তা
- স্থানীয় নির্বাচনে একক পথে হাঁটতে চায় এনসিপি
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- পে স্কেলের গেজেট কবে? যা জানা গেল
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- আজকের খেলার সূচি, মাঠে নামছে মেসির আর্জেন্টিনা
- আজ শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ
- আজ শুক্রবারের নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন
- শীর্ষ দলগুলোর ওলটপালট, বিশ্বকাপের মাঝেই সিংহাসন হারাল আর্জেন্টিনা
- ২০০৬ সালের পুরোনো আইন ভেঙে নতুন ‘ভিসানীতি-২০২৬’ অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা
- ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় নানিয়ারচর সেনা জোনের আর্থিক সহায়তা প্রদান
- কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসি শুরু আজ: পরীক্ষার্থী ৯৫ হাজার ৭০২ জন
- দিবাগত রাত ১টার মধ্যেই ১৪ অঞ্চলে ঝড়ের তণ্ডব ও সতর্কসংকেত জারি
- নতুন নেতার অধীনেই ওয়াশিংটনকে রুখতে তেহরানের রণপ্রস্তুতি
- তীব্র লোডশেডিংয়ের মাঝেই বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন পদক্ষেপ
- সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা? জেনে নিন সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম
- আপনার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম: মনিকে ট্যাগ করে ছাত্রদল সভাপতি
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু
- স্বপ্ন এবার সত্যি হলো: ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজস্ব স্টেডিয়াম উদ্বোধন করে শাহরুখের বার্তা
- ক্রোয়াট দেয়াল ভাঙার চ্যালেঞ্জ, সমালোচনার জবাব দিতে পারবেন কি রোনালদো?
- নরওয়ের বিপক্ষে এখনো জয়হীন ব্রাজিল! ৫ জুলাই কি ভাঙবে সেই রেকর্ড?
- উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারকে নিয়ে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন শাহবাজ শরিফ
- ফিলিস্তিনের সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন ভবিষ্যতেও থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ২ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- ১৮ দিনেও মেলেনি রাজুর সন্ধান, পথ চেয়ে দিন কাটছে বৃদ্ধ মা-বাবার
- গণভোটের রায় অমান্য করে সংশোধনের পথে সরকার, রাজপথে নামছে জামায়াত
- ৩১২ থেকে ৫০০ মিলিয়নে উন্নীত জাপানি ঋণ, কোন সংকটে পাশে দাঁড়াচ্ছে টোকিও?
- শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই: শামা ওবায়েদ
- লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে চূড়ায় এমবাপ্পে
- পার পিস ৫০ টাকা: জুলাইযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে উমামা ফাতেমার রহস্যময় পোস্ট
- ঢাকার ১১০ কিমি নদী পথে চলবে বিদ্যুৎচালিত যান, মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি জানলেন প্রধানমন্ত্রী
- ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন: আরও সস্তা হলো সোনা
- চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম একই ঐতিহাসিক কিট দ্বিতীয়বার ব্যবহার করছে আর্জেন্টিনা
- নেতানিয়াহু প্রশাসন গুরু ট্রাম্পের কথা না শুনলে ইরানই শিক্ষা দেবে: আব্বাস আরাগচি
- আমরা সরকারি সুবিধা না নেওয়ার চেষ্টা করব, তবে কেউ নিলে অপরাধ নয়: জামায়াত আমির
- ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ: ফাইনালের পথে সম্ভাব্য যত প্রতিপক্ষ
- ১৪৪ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলল অলৌকিক প্রাণ: ভেনেজুয়েলায় ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার
- মাসজুড়ে ৮ থেকে ৯ দিন বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস, উত্তরাঞ্চলসহ ৩ বিভাগে বন্যার আগাম সতর্কতা
- এইচএসসিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা: কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ও প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন
- ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির আগুনে পুড়ছে বিশ্ব, একমাত্র ‘স্পষ্ট বিজয়ী’ হিসেবে উদয় চীনের
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা
- সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি
- ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
- মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা
- সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ নাকচ করলেন নেতানিয়াহু
- সৌদিতে যেতে পারবেন না ৩ দেশের ভ্রমণকারীরা
- হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
- ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থনৈতিক অভিযাত্রা: পাস হলো দেশের অন্যতম বড় জাতীয় বাজেট
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান








