সংগ্রামের পথ পেরিয়ে নেতৃত্বের সর্বোচ্চ শিখরে—ত্যাগ, যোগ্যতা ও আনুগত্যের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ২১:৪১:৪৬
সংগ্রামের পথ পেরিয়ে নেতৃত্বের সর্বোচ্চ শিখরে—ত্যাগ, যোগ্যতা ও আনুগত্যের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

রাজনীতির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য পদে নয়—আদর্শে। সবচেয়ে বড় অর্জন ক্ষমতায় নয়—মানুষের বিশ্বাসে। আর একজন রাজনৈতিক নেতার সর্বোচ্চ সার্থকতা তখনই, যখন তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম, সততা ও দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য ইতিহাসের যথার্থ স্বীকৃতি লাভ করে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, জনাব মো. আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং জনাব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

এই চারজন সম্মানিত, অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাকে জানানো হয়েছে আন্তরিক অভিনন্দন, অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া কেবল একটি সাংগঠনিক পদ লাভ নয়; এটি একজন নেতার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান ও বিরল অর্জন। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দলের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব। একই সঙ্গে দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের প্রতি গভীর অঙ্গীকারও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এই সম্মান ক্ষমতার কোনো অলংকার নয়; বরং এটি ত্যাগের স্বীকৃতি, বিশ্বস্ততার পুরস্কার এবং ভবিষ্যৎ ইতিহাস নির্মাণের পবিত্র আমানত।

রাজপথের সংগ্রাম থেকে নীতিনির্ধারণের শীর্ষে

অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং জনাব মো. আমান উল্লাহ আমান—ছাত্ররাজনীতির সংগ্রামী অঙ্গন থেকে উঠে আসা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দুটি উজ্জ্বল নাম।

তাঁদের রাজনৈতিক পথ কখনো ফুলে বিছানো ছিল না। সেই পথে ছিল আন্দোলন, নির্যাতন, কারাবরণ, প্রতিকূলতা এবং অসংখ্য কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু কোনো বাধাই তাঁদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি; কোনো ভয় তাঁদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে পারেনি।

রাজপথের মিছিল থেকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে তাঁদের আজকের এই অভিষেক প্রমাণ করে—আদর্শের পথে অবিচল থেকে লড়াই করলে ইতিহাস একদিন তার যোগ্য সম্মান ফিরিয়ে দেয়।

তাঁদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন আজ সার্থকতা ও পরিপূর্ণতার এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য তাঁদের জীবন এক জীবন্ত পাঠশালা। সেখানে শেখার বিষয় হলো—নেতৃত্ব কোনো সংক্ষিপ্ত পথের অর্জন নয়; নেতৃত্ব তৈরি হয় ত্যাগ, ধৈর্য, আনুগত্য ও জনগণের পাশে থাকার মধ্য দিয়ে।

প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি

জনাব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য প্রশাসনিক কর্মজীবনে মেধা, সততা, দক্ষতা ও পরিশ্রমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি অর্জন করেছেন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও নীতিনির্ধারণী প্রজ্ঞার এক সমৃদ্ধ ভান্ডার।

অবসর গ্রহণের পরও তিনি নিজেকে নিষ্ক্রিয় রাখেননি। দেশ ও দলের প্রয়োজনে তাঁর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞাকে নিবেদন করেছেন। বর্তমানে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এমন উল্লেখও রয়েছে অভিনন্দন বার্তায়।

দলের প্রতি তাঁর অবিচল আনুগত্য, নীতিনিষ্ঠ অবস্থান এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার প্রতি যে সম্মান প্রদর্শিত হয়েছে, তা প্রমাণ করে—যোগ্যতা, সততা ও বিশ্বস্ততার কোনো অবসর নেই। সময়ের প্রয়োজনে জাতি একদিন তার যোগ্য মানুষকে যথাযথ স্থানে অধিষ্ঠিত করে।

পেশাজীবী নেতৃত্বের নতুন স্বীকৃতি

অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার একজন সফল চিকিৎসক, বিশিষ্ট পেশাজীবী নেতা এবং পরীক্ষিত জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিত্ব। পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েও তিনি নিরাপদ নীরবতার পথ বেছে নেননি; গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের পক্ষে সাহসিকতার সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন।

প্রতিকূল সময়ে পেশাজীবীদের সংগঠিত করা, দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে অবিচল ভূমিকা রাখার মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—একজন সত্যিকারের পেশাজীবীর দায়িত্ব শুধু নিজের পেশায় সফল হওয়া নয়; দেশ ও জাতির সংকটে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোও তাঁর নৈতিক দায়িত্ব।

জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তি তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি দেশের পেশাজীবী সমাজের জন্যও বিশেষ মর্যাদা, স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণার এক গৌরবময় অধ্যায়।

ত্যাগ ও আদর্শের রাজনীতির বার্তা

এই চারজন নেতার জীবন ও আজকের অর্জন আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরে—রাজনীতিতে পদ চেয়ে পাওয়া যায়, কিন্তু ইতিহাসে স্থান অর্জন করতে হয়।

নেতা ঘোষণা দিয়ে হওয়া যায়, কিন্তু জননেতা হতে প্রয়োজন দীর্ঘ ত্যাগ, পরীক্ষা ও মানুষের বিশ্বাস। দুঃসময়ে যে নেতা আদর্শের পাশে থাকেন, সুসময়ে সম্মানের আসন তাঁরই প্রাপ্য হয়ে ওঠে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাঁদের সম্মিলিত প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও পেশাগত নেতৃত্বে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম আরও সমৃদ্ধ, গতিশীল ও শক্তিশালী হবে।

তাঁদের দূরদর্শী পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও সুসংহত করবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

এই মর্যাপূর্ণ মনোনয়ন তরুণ প্রজন্মের প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মীর কাছেও একটি অনুপ্রেরণার বার্তা হয়ে থাকুক—রাজনীতিতে সাময়িক আলো নয়, প্রয়োজন আদর্শের স্থায়ী দীপ্তি। ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, প্রয়োজন মানুষের কল্যাণে আত্মনিবেদন। আর পদ নয়—ত্যাগ, সততা ও কর্মই হোক একজন নেতার প্রকৃত পরিচয়।

মহান আল্লাহ সম্মানিত নেতৃবৃন্দকে সুস্থতা, দীর্ঘায়ু, প্রজ্ঞা ও সাহস দান করুন। দেশ, জনগণ ও দলের অর্পিত এই ঐতিহাসিক আমানত যেন তাঁরা সততা, বিচক্ষণতা ও সাফল্যের সঙ্গে পালন করতে পারেন—এই প্রত্যাশা করা হয়েছে।

অভিনন্দন আপনাদের—সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে নেতৃত্বের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর জন্য।

অভিনন্দন—ত্যাগ, যোগ্যতা, প্রজ্ঞা ও অবিচল আনুগত্যের এই গৌরবময় স্বীকৃতির জন্য।

ট্যাগ: সারাদেশ

ফরিদপুরে গভীর রাতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

সাজ্জাদ হোসেন সাজু
সাজ্জাদ হোসেন সাজু
ফরিদপুর প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ২১:৩২:৩৪
ফরিদপুরে গভীর রাতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বড় মাধবপুর এলাকায় কুয়েতপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লুটপাট চালিয়ে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ১৩ ভরি রুপার গহনা এবং নগদ টাকা নিয়ে গেছে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বড় মাধবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুয়েতপ্রবাসী হেলাল ভূঁইয়ার স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩৫), দুই ছেলে সাবিত ভূঁইয়া (১২) ও নাশাত ভূঁইয়া (৮) এবং শাশুড়ি শেফালী বেগম (৭০) ওই বাড়িতে বসবাস করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা বাড়ির লোহার কেচি গেটে দুটি তালা লাগিয়ে এবং মূল দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন।

রাত আনুমানিক ১টার দিকে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল গেটের দুটি তালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে ৫-৬ জন ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে এবং অন্য সদস্যরা বাড়ির বাইরে পাহারা দেয়। ডাকাতদের হাতে পিস্তল, রামদা, চাপাতি, ছ্যানদা ও চাইনিজ কুড়াল ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন মুখে মাস্ক পরা ছিল।

ডাকাতরা শেফালী বেগম ও তার নাতি সাবিত ভূঁইয়ার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সবাইকে চুপ থাকতে বলে এবং চিৎকার করলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর আলমারির চাবি নিয়ে দুটি স্টিলের আলমারি খুলে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ১৩ ভরি রুপার গহনা এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা লুট করে।

এজাহার অনুযায়ী, লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা, রুপার গহনার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং নগদ টাকাসহ মোট লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লুটপাট চালানোর পর ডাকাতরা বাইরে থেকে দরজায় হ্যাজবোল্ট লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে শেফালী বেগম মোবাইল ফোনে তার জামাতা মো. আঃ হাকিম মিয়াকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দরজা খুলে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন।

এদিকে প্রতিবেশী জালিল ভূঁইয়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

এ ঘটনায় মো. আঃ হাকিম মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার পর বড় মাধবপুর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং এলাকায় পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।


নিজের হায়াত কমিয়ে নেত্রীর হায়াত বাড়াও— মাজারে মিলল আবেগঘন চিঠি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ১৯:৩৩:৩৮
নিজের হায়াত কমিয়ে নেত্রীর হায়াত বাড়াও— মাজারে মিলল আবেগঘন চিঠি
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহ্যবাহী ডেগ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা এবং তাঁর দেশে প্রত্যাবর্তন চেয়ে লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। চিঠিতে তাঁকে রক্ষা করার প্রার্থনার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলা থেকে তাঁকে ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রেহাই দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় মাজার প্রাঙ্গণে অবস্থিত তিনটি দানবাক্স ও তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ খোলার পর স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অর্থ গণনার সময় এই চিঠিটি প্রকাশ্যে আসে।

চিঠির লেখক হিসেবে গাজীপুর জেলার বাসিন্দা 'সজিব' নামের এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ পাওয়া গেছে, যিনি নিজেকে সিলেট আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে দাবি করেছেন।

চিঠিতে শেখ হাসিনার হায়াত বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে লেখা হয়, নিজের আয়ু কমিয়ে হলেও যেন দলীয় নেত্রীর জীবন দীর্ঘ করা হয়। এর পাশাপাশি ‘প্রত্যাবর্তন-২’ শিরোনামে ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বর-২০২৬’ কথাটি উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে জুলাইয়ের আন্দোলনের পর দায়ের করা বিভিন্ন মামলাকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ মোনাজাতের ভাষ্য তুলে ধরা হয়।

দানবাক্স ও ডেগগুলো খোলার পর বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা ও আরজি জানিয়ে লেখা আরও কয়েকটি চিঠিপত্র পাওয়া যায়।

মাজার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনা শেষ করতে ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী সকাল থেকে কাজ করেন এবং প্রচুর নগদ টাকা জমা থাকায় এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

/আশিক


দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ও আবহাওয়া দপ্তরের নতুন নির্দেশনা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ২১:৩৩:০০
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ও আবহাওয়া দপ্তরের নতুন নির্দেশনা
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাবে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তীব্র দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেটে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সাথে দেশের অন্যান্য বন্যাপ্রবণ নদ-নদীর পানিও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে নিম্নচাপটি কিছুটা উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও শক্তিশালী হয়ে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সার্বিক প্রভাবে দেশের সবকটি সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো বাতাস ধেয়ে আসতে পারে।

নিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরণের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে শুক্রবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী বাতাসের সাথে হালকা থেকে মাঝারি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এ সময়ে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় একই থাকবে।

পরদিন শনিবার (১৫ আগস্ট) খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় একই ধরণের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সার্বিকভাবে অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজারে দেশের সর্বোচ্চ ১৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল সিলেটে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী ইতোমধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। গত এক দিনে মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, খোয়াই নদীর পানি আগামী তিন দিন কমতে পারে, তবে মনু ও ধলাই নদীর পানি আরও এক দিন বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তী দুই দিন একই অবস্থায় থাকতে পারে।

চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে গোমতী, সেলোনিয়া, ফেনী, সাঙ্গু ও মাতামুhurীর পানি বেড়েছে; যদিও বিপরীতে মুহুরী ও হালদার পানি সামান্য কমেছে। পাহাড়ি এসব নদীর পানি আগামী দুই দিন কিছুটা বাড়লেও পরবর্তীতে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারার সামগ্রিক পানি এবং দেশের প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে এবং আগামী তিন দিন এই পানি কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে গঙ্গা-পদ্মা নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিন দিন পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে, যদিও এই নদীগুলোর পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়েই বইছে।

/আশিক


দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, থমকে গেছে জনজীবন

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ২০:১১:০৬
দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, থমকে গেছে জনজীবন
ছবি : সংগৃহীত

ময়মনসিংহে তীব্র তাপদাহের সাথে পাল্লা দিয়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। শহরতলী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল—সর্বত্রই এখন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ জনজীবন। জেলার প্রতিটি উপজেলায় পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন চরম ভোগান্তিতে পড়া স্থানীয় বাসিন্দারা।

কেবল ময়মনসিংহই নয়, পার্শ্ববর্তী জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও একই ধরনের বিদ্যুৎ সংকটের খবর পাওয়া গেছে। দিন ও রাতজুড়ে দফায় দফায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পুরোপুরি থমকে গেছে। তীব্র এই গরমের মধ্যে চরম বিপাকে পড়েছেন শিশু, প্রবীণ ও শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুতের এই তীব্র সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা, স্থবিরতা নেমে এসেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে এবং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় প্রতি এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং একবার বিদ্যুৎ গেলে অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টার আগে আর আসছে না। জেলা শহরের অধিকাংশ এলাকায় দিনে-রাতে গড়ে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। গ্রামের চিত্র আরও করুণ, যেখানে দিনে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির ফলে নগরীর চরপাড়া, মাসকান্দা, বাঘমারা, ব্রাহ্মপল্লী, সিকে ঘোষ রোড, নাটক ঘরলেন, গাঙ্গিনারপাড়, ভাটিকাশর, নওমহল, কেওয়াটখালি, নতুনবাজার, জিলা স্কুল মোড়, পণ্ডিত পাড়া, আকুয়া, কলেজ রোড, জামতলা মোড়, সানকিপাড়া, পুলিশ লাইন ও কাঠগোলাসহ প্রায় প্রতিটি অলিগলিতেই একাতর লোডশেডিং চলছে।

নগরীর বাসিন্দারা জানান, দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় তারা বাসাবাড়িতে পাম্প দিয়ে ঠিকমতো পানি তুলতে পারছেন না। তীব্র তাপদাহের মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। রাতের বেলা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না, যার প্রভাব পড়ছে কর্মক্ষমতায়। আবার বিদ্যুতের ঘনঘন বিভ্রাটের কারণে স্থবিরতা এসেছে নিত্যদিনের কেনাকাটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটায় তীব্র গরম আর অন্ধকারের মধ্যেই সময় পার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চিকিৎসা খাতে। বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের ময়মনসিংহ জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা মাসুম জানান, নগরীর ব্যস্ততম এলাকা চরপাড়ায় তিনশটিরও বেশি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার রোগী এখানে সেবা নিতে আসেন। কিন্তু ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জটিল সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে পড়ছে। অস্ত্রোপচারের সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মুমূর্ষু রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ব্যয়বহুল জেনারেটর চালাতে গিয়ে পরিচালন ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বলে জানান তিনি।

ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ জোনে অফপিক সময়ে ৪৫০-৪৬০ মেগাওয়াট, পিক সময়ে ৫০০-৫২০ মেগাওয়াট এবং দিনের অন্যান্য সময়ে ৪৩০-৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থেকে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে এই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ পাওয়ার গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল হক জানান, পুরো ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধীনে থাকা জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলায় দৈনিক বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৩শ থেকে ১৪শ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ১ হাজার ৯১ থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। বিপুল পরিমাণ এই ঘাটতির কারণেই মূলত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

/আশিক


কালিগঞ্জে দুই সন্তানের জননী নিখোঁজ, স্বজনদের উদ্বেগ

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ১৯:৩১:৪৮
কালিগঞ্জে দুই সন্তানের জননী নিখোঁজ, স্বজনদের উদ্বেগ
ছবি : শিমুল হোসেন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের গণপতি গ্রামের শেখ হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী মোছা. রাবেয়া খাতুন (নিখোঁজ) হয়েছেন। গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আনুমানিক বেলা ২টার দিকে বাবার বাড়ির উদ্দেশে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর বাবার বাড়িতে পৌঁছাননি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওইদিন দুপুরের দিকে রাবেয়া খাতুন বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি সেখানে পৌঁছাননি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এতে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।নিখোঁজ রাবেয়া খাতুনের স্বজনরা জানান, তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কোথায় আছেন বা কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন, তা নিয়ে পরিবারটি উদ্বিগ্ন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর অব্যাহত রয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে রাবেয়া খাতুনের সন্ধান পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। কেউ তার সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় অথবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।স্বজনদের বক্তব্য: দুই সন্তানের মা রাবেয়া খাতুনের আকস্মিক নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে। দ্রুত তার সন্ধান পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।


খুলনা-চট্টগ্রামসহ ৬ অঞ্চলে তীব্র ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৯:৪১:১৯
খুলনা-চট্টগ্রামসহ ৬ অঞ্চলে তীব্র ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে নদী অববাহিকার বন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (১২ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য রাত ১টা পর্যন্ত কার্যকর এই বিশেষ পূর্বাভাস জারি করা হয়।

পূর্বাভাসে জানানো হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ নম্বর নৌ-সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


২৯ হাজার আবাসিক গ্রাহক বিপাকে: নোয়াখালীতে তীব্র গ্যাস সংকট

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৯:২১:৩০
২৯ হাজার আবাসিক গ্রাহক বিপাকে: নোয়াখালীতে তীব্র গ্যাস সংকট
ছবি : সংগৃহীত

এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নোয়াখালীতে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে জেলার প্রায় ২৯ হাজার ৩৫০ জন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক এবং সাতটি সিএনজি স্টেশন তীব্র সংকটে পড়েছে। হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গৃহস্থালির রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন নানা কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আওতাধীন নোয়াখালীর সব আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বার্তা দিতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী জেলায় প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। গত সপ্তাহে হঠাৎ করে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জেলাজুড়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও বুধবার দুপুর থেকে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেলার প্রায় ২৯ হাজার আবাসিক গ্রাহক, ৩৫০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সাতটি সিএনজি স্টেশন সরাসরি ভোগান্তির শিকার হয়।

মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম জানান, গত সপ্তাহে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও কোনোমতে চুলা জ্বলত এবং দিনে বা রাতে সুবিধাজনক সময়ে রান্না শেষ করা যেত। কিন্তু বুধবার দুপুর থেকে চুলা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার প্রভাব পড়েছে শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতেও। ব্যবসায়ীরা জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে বাণিজ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন অনেক রেস্তোরাঁ মালিক।

বাখরাবাদ নোয়াখালীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ব্যবস্থাপক নূর করিম জানান, দুপুর ১২টা থেকে ফেনী গ্রিডের প্রধান লাইন দিয়ে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সামুদ্রিক এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি জটিলতা তৈরি হওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে এই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে তীব্র সংকট থাকলেও নোয়াখালীর স্থানীয় সোনাপুর ও বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়ে সীমিত পরিসরে হলেও সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতির কারণে বুধবার দুপুর থেকে পুরো জেলাতেই সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

/আশিক


পরিবেশ রক্ষায় মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ

রেজাউল মোস্তফা
রেজাউল মোস্তফা
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২১:২১:২০
পরিবেশ রক্ষায় মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ
ছবি : রেজাউল মোস্তফা

একটি হলেও বৃক্ষরোপণ করবো জনে জনে সবুজ দেশে সুস্থ বাতাস লাগুক সবার প্রাণে– এই স্লোগানকে সামনে রেখে

কর্মসূচিতে শুধু বৃক্ষরোপণই নয়, বরং জনগণকে গাছ লাগানোর নিয়ম, পরিচর্যার কৌশল ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়। এবং সবাইকে অন্তত পক্ষে একটি করে হলেও গাছ লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. মেসবাহ উদ্দিন তুহিন বলেন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি মো: রেজাউল মোস্তফা বলেন "রক্তদান যেমন জীবন রক্ষা করে, তেমনি বৃক্ষরোপণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবন সঞ্চয় করে। আমরা সবাই মিলে মানবতা ও প্রকৃতির জন্য কাজ করে যাব।

উক্ত বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক Dr.Masbah Uddin Tuhin আরও উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি রেজাউল মোস্তফা,মোঃমাহফুজ,অদ্রিতা নন্দী,দিলরুবা বেগম সামিয়া,রমজান হোসেন,ইশরাত জাহান ইসমা,আনিশা আকতার,তানিসা আক্তার,মোঃ লিমন,মারিয়া আক্তার। সবুজ হোক আমাদের চারপাশ, সুন্দর হোক আগামী প্রজন্ম।


লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৫ দিনের নতুন পূর্বাভাস

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১৮:১৬:২১
লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৫ দিনের নতুন পূর্বাভাস
ছবি : সংগৃহীত

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় অবস্থান করছে।

এই আবহাওয়ার প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

পরবর্তী দিনগুলোতেও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ দিন সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শুক্রবার ও শনিবারও দেশের বিভিন্ন বিভাগে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিনগুলোতে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে এবং শুক্রবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, আগামী কয়েক দিন অব্যাহত ভারি বর্ষণের কারণে দেশের কিছু জায়গায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে এবং জনজীবনে ভোগান্তি দেখা দিতে পারে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: