ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনে মহাকেন্দ্রীক অচলাবস্থা: ট্রাম্পের সামনে ৩ বিপজ্জনক পথ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৮ ১২:৪৮:০৫
ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনে মহাকেন্দ্রীক অচলাবস্থা: ট্রাম্পের সামনে ৩ বিপজ্জনক পথ
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর এবং একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক নাটকীয়তার পারদ চড়তে থাকায় ইরান ইস্যুটি ওয়াশিংটনের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘কৌশলগত অচলাবস্থা’ ও সংকটে রূপ নিয়েছে। হোয়াইট হাউসের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা রয়েছে—সরাসরি সামরিক সংঘাত, কূটনৈতিক আপস অথবা বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি ঝুলিয়ে রাখা; তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি বিকল্পেরই রয়েছে নিজস্ব চরম রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি।

কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সিএনএন-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কোনো সাধারণ অচলাবস্থা নয়, বরং তা হবে “আমেরিকার জন্য একটি চূড়ান্ত বিপর্যয়”। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বশেষ মূল্যায়নও বলছে, দীর্ঘদিন হামলা ও নিষেধাজ্ঞার পরও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সক্ষমতার সিংহভাগ অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এই বাস্তবতায় ইসরায়েলপন্থী লবির চাপে ট্রাম্প প্রশাসন যদি সামরিক আগ্রাসনের দিকে পা বাড়ায়, তবে তা ডেমোক্র্যাট ও সাধারণ মার্কিনিদের তীব্র গণ-বিক্ষোভের মুখে পড়বে, যা বিগত দুই দশকের ব্যর্থ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ক্ষতকে আবারও উসকে দেবে। অন্যদিকে, কূটনৈতিক সমঝোতার পথও ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ নয়; কারণ তেহরানের সঙ্গে যেকোনো ধরণের আপস বা চুক্তিকে কট্টর রিপাবলিকান ও ইসরায়েলঘনিষ্ঠ লবি নেটওয়ার্ক ট্রাম্পের ‘দুর্বলতা বা আত্মসমর্পণ’ হিসেবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে।

তৃতীয় বিকল্প হিসেবে বিষয়টিকে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখলে ইরান তাদের কৌশলগত ও পারমাণবিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার অবাধ সুযোগ পেয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক মহলেও ওয়াশিংটন এখন একাকীত্বের মুখোমুখি; মার্কিন সামরিক চাপের নীতিতে ইউরোপীয় মিত্রদের পাশে পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই, পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে সম্পূর্ণ নারাজ।

এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া যেকোনো মার্কিন একতরফা আধিপত্য রুখতে তেহরানের পেছনে শক্ত ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্যের তীব্র অভাবে ওয়াশিংটনের একতরফা নীতি আজ অচল, যা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে এক অন্ধকার গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছে।

সূত্র: মেহের নিউজ


আমিরাতকে ইরানের চূড়ান্ত আলটিমেটাম: আমাদের ধৈর্যের সীমা পরীক্ষা করবেন না

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৮ ১২:০৪:৩৯
আমিরাতকে ইরানের চূড়ান্ত আলটিমেটাম: আমাদের ধৈর্যের সীমা পরীক্ষা করবেন না
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) কঠোর ভাষায় চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। আবুধাবির এই ইসরায়েলপন্থী নীতির বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে—তারা দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ সংযম দেখালেও তাদের এই ধৈর্যের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, যা অতিক্রম করলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা’ (ISNA)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারক ও ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর বর্তমান সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাবেক এই শীর্ষ কমান্ডার বলেন, তেহরান এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। তবে আমিরাতের মনে রাখা উচিত, ইরানের ধৈর্যের দেয়াল ভেঙে পড়লে পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

মোহসেন রেজায়ি সরাসরি আবুধাবিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা খুব ভালো করেই জানি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্যে নানা ধরনের কৌশলগত যোগাযোগ এবং গভীর লেনদেন চলছে। আমিরাতের প্রতি আমাদের স্পষ্ট পরামর্শ—তারা যেন কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পাতা কোনো ফাঁদ বা ষড়যন্ত্রের অংশ না হয়ে ওঠে।” মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রভাব বৃদ্ধির বিরুদ্ধে তেহরান যে কোনোভাবেই আপস করবে না, এই বার্তার মাধ্যমে আবুধাবিকে মূলত সেটিই স্মরণ করিয়ে দিল ইরান।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।


আমেরিকাকে ইরানের চরম হুমকি: ওমান সাগর হবে মার্কিন জাহাজের কবরস্থান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৮ ১১:২১:৩৪
আমেরিকাকে ইরানের চরম হুমকি: ওমান সাগর হবে মার্কিন জাহাজের কবরস্থান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন প্রশাসন যদি এই আগ্রাসন বন্ধ না করে, তবে ওমান উপসাগর মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য একটি স্থায়ী “কবরস্থানে” পরিণত হবে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে দেশটির নীতি-নির্ধারণী ফোরাম ‘এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল’-এর প্রভাবশালী সদস্য মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি ওয়াশিংটনকে এই চরম বার্তা দেন।

মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি মার্কিন সামরিক কমান্ডের উদ্দেশ্যে বলেন, “সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আমার পরামর্শ হলো—ওমান উপসাগর আপনাদের জাহাজগুলোর কবরস্থানে পরিণত হওয়ার আগেই পিছু হটুন। অন্যথায়, আমাদের দৃষ্টিতে এই নৌ অবরোধ একটি সরাসরি যুদ্ধঘোষণার শামিল এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া আমাদের আন্তর্জাতিক ও স্বাভাবিক অধিকার।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের কৌশলগত ধৈর্যকে যেন কোনোভাবেই দুর্বলতা বা মার্কিন হুমকি মেনে নেওয়া হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করা না হয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের মোকাবিলার অজুহাত দিয়ে ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে ঘাঁটি গেড়েছিল, কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরও কার স্বার্থে তারা এখানে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে উসকানি দিচ্ছে?

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে রেজায়ি বলেন, এই আন্তর্জাতিক নৌরুট সবসময় বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে বিদেশি সামরিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এটি কঠোরভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে একযোগে বড় ধরনের বিমান হামলা চালানোর পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি অর্জিত হয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও মূল সংকটের সমাধান হয়নি। এর জের ধরেই গত ১৩ এপ্রিল থেকে কৌশলগত এই আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানি সামুদ্রিক চলাচল লক্ষ্য করে কঠোর নৌ অবরোধ কার্যকর করে আসছে মার্কিন নৌবাহিনী, যা এখন দুই দেশকে আরেকটি সরাসরি সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

সূত্র; আনাদলু


ইরানকে বাগে আনতে আমেরিকার ৫ কঠিন শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৮ ১০:২৫:১২
ইরানকে বাগে আনতে আমেরিকার ৫ কঠিন শর্ত
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও সংঘাত নিরসন প্রক্রিয়ায় তেহরানকে পুরোপুরি বাগে আনতে ৫টি অত্যন্ত কঠিন ও অনমনীয় শর্ত জুড়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের দেওয়া ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন এই পাল্টা শর্তগুলো দিয়েছে, যার অন্যতম হচ্ছে—ইরানের উৎপাদিত ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি আমেরিকার হাতে হস্তান্তর করা।

এ ছাড়া পূর্ববর্তী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের যে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতেও সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। রোববার (১৭ মে) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদনের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এখন এক গভীর ও স্থায়ী অচলাবস্থার দিকে মোড় নিচ্ছে।

মার্কিন শর্তগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার টেবিল থেকে একতরফা সুবিধা আদায় করতে ওয়াশিংটন শর্ত দিয়েছে যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির আওতাধীন যতগুলো স্থাপনা রয়েছে, তার মধ্যে কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্র ভবিষ্যতে সচল রাখার অনুমতি পাবে।

এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আটকে বা ফ্রিজ করে রাখা ইরানের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সম্পদের অন্তত ২৫ শতাংশও অবমুক্ত বা ছেড়ে দেওয়ার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রশাসন। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটার বিষয়টি এই আলোচনার সফল সমাপ্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল বলে লিংক বা জুড়ে দিয়েছে তারা।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান যদি আমেরিকার এই সবকটি শর্ত মেনেও নেয়, তবুও ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের স্থায়ী হুমকি পুরোপুরি বহাল থাকবে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এর জন্য মার্কিন করদাতাদের ভবিষ্যতে অত্যন্ত ভারী ও চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।

মার্কিন এই পাল্টা শর্তের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের গণমাধ্যমগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া যৌক্তিক শান্তি প্রস্তাবের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের দৃশ্যমান বা বাস্তবসম্মত ছাড় দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ‘আমেরিকা নিজে কোনো ত্যাগ বা ছাড় না দিয়ে, মূলত যুদ্ধের ময়দানে যেসব সুবিধা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তা এখন আলোচনার টেবিলে ছলে-বলে-কৌশলে আদায় করতে চাচ্ছে।’

এর বিপরীতে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ইরানের পক্ষ থেকেও ৫টি ‘আস্থা-বিল্ডিং’ বা বিশ্বাসযোগ্য পূর্বশর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তেহরানের শর্তগুলোর মধ্যে প্রধানতম হলো—লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলাসহ সবকটি ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে, সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সব ফান্ড অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে।

এর পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রধান নৌ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিজস্ব একচ্ছত্র সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক এই চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন মূলত তাদের সামরিক ও সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য কূটনীতিকে একটি সস্তা ঢাল বা কভার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বাঘাই অত্যন্ত কড়া ভাষায় লেখেন, ‘এটি তাদের দীর্ঘদিনের অত্যন্ত সুপরিচিত এবং কুৎসিত একটি কৌশল—প্রথমে তারা নিজেরাই কৃত্রিমভাবে সংকট ও যুদ্ধ তৈরি করে, এরপর আবার সেই যুদ্ধকে আরও উসকে দেয় এবং সবশেষে তার ওপর ‘স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার’ ও ‘শান্তি রক্ষা’র এক মহৎ ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়।

মূলত তারা বিশ্বজুড়ে একটি ধ্বংসস্তূপ বা মরুভূমি তৈরি করে এবং পরবর্তীতে ধূর্ততার সঙ্গে সেটাকেই শান্তি বলে দাবি করে।’ উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে একযোগে ব্যাপক সামরিক হামলা চালালে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিশেষ কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি অর্জিত হলেও মূল নীতিগত বিরোধগুলোর সমাধান না হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের শর্তের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকায় স্থায়ী কোনো শান্তি চুক্তি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্র: এনডিটিভি


পদত্যাগ করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ২১:৫৫:২১
পদত্যাগ করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
ছবি : সংগৃহীত

মন্ত্রিসভায় একের পর এক শীর্ষ মন্ত্রীদের একযোগে বিদ্রোহ, গণ-পদত্যাগ এবং ছায়াযুদ্ধের মুখে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার মসনদ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের লেবার দলীয় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দল ও ডাউনিং স্ট্রিটে চরম অস্থিরতা ও ‘পিঠে ছুরি মারার’ মতো নাটকীয়তার পর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে তিনি তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

ক্ষমতা আঁকড়ে না রেখে স্রেফ মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিতে অতি শিগগিরই তিনি নতুন উত্তরসূরি বা দলীয় প্রধান নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-এর খ্যাতনামা কলাম লেখক ড্যান হজেস মন্ত্রিসভার এক সদস্যের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

লন্ডনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন মূল আলোচনা—ঠিক কবে আসবে স্টারমারের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা? প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীদের একাংশ তাঁকে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের জরিপের তথ্য আসার আগে মুখ না খোলার পরামর্শ দিলেও, স্টারমারের এক বিশ্বস্ত সমর্থক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এই উপনির্বাচনের ফল পর্যন্ত অপেক্ষা করার ঝুঁকি নেবেন না।

কারণ, ১৮ জুনের এই উপনির্বাচনে যদি ম্যানচেস্টারের তুখোড় ও জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জিতে পার্লামেন্টে ফিরে আসেন, তবে জনমনে বার্তা যাবে যে বার্নহ্যামের চাপেই স্টারমার পদচ্যুত হয়েছেন। মজার বিষয় হলো, স্টারমারের এই আগাম পদত্যাগের আভাস অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নির্বাচনী প্রচারণার মূল হাতিয়ারকেই ভেস্তে দিচ্ছে; কারণ বার্নহ্যামের পরিকল্পনা ছিল ভোটারদের বলা, ‘আমাকে ভোট দিন, আমি ডাউনিং স্ট্রিট থেকে স্টারমারকে টেনে বের করব।’ প্রধানমন্ত্রী আগেই সরে গেলে বার্নহ্যাম শিবিরের এই মূল বার্তাটি সম্পূর্ণ মার খাবে।

ডাউনিং স্ট্রিটের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, গত সপ্তাহের পুরোটা সময় সেখানে কেবলই ‘বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের’ আবহ ছিল। জুনিয়র মন্ত্রীদের একযোগে পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী যখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে তাঁর ওপর তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু হয়। এমনকি স্টারমারের নিজস্ব প্রধান কৌশলবিদ জশ সাইমন্স ‘দ্য টাইমস’-এ নিবন্ধ লিখে বিক্ষুব্ধ এমপিদের উস্কে দিয়ে বলেন—দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা হারিয়েছে, তাই তাঁর ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত।

এটি স্টারমারকে গভীরভাবে আহত করে। এরপর গত বৃহস্পতিবার কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) র‍্যাচেল রিভস; তিনি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সচেতনভাবে ‘প্রধানমন্ত্রী ও আমি’ শব্দজোড় বাদ দিয়ে কেবল ‘আমি চ্যান্সেলর হিসেবে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছি’ বলে নিজেকে স্টারমার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে নেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগ এবং ডেপুটি লিডার লুসি পাওয়েলের অভূতপূর্ব ঝোড়ো মধ্যস্থতায় মেকারফিল্ডের আসনটি অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জন্য ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে কিয়ার স্টারমারের একগুঁয়ে রাজনৈতিক ‘কই মাছের প্রাণ’ ও ক্ষমতার চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

/আশিক


ইরান সংকটে বদলে গেল এশিয়ার ভূরাজনীতি ও অর্থনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ২১:৪৯:১২
ইরান সংকটে বদলে গেল এশিয়ার ভূরাজনীতি ও অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের ভয়াবহ ঢেউ সরাসরি আঘাত হেনেছে এশিয়ার অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের জেরে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি ও সার সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর দেশের জনগণকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকে কাজ করতে এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর কমাতে জরুরি অনুরোধ জানিয়েছেন।

শুধু ভারতই নয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো এখন এক অভূতপূর্ব ডিজিটাল, শিল্প ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। যুদ্ধের প্রভাব অঞ্চলটির রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে ওলটপালট করে ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কার মতো গণ-অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের সরবরাহ লাইন পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং এবং গ্রামীণ পেট্রোল পাম্পগুলোতে হাহাকার শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার হাতে মাত্র তিন সপ্তাহ এবং ভিয়েতনামের হাতে এক মাসেরও কম জ্বালানি মজুত রয়েছে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার এশিয়ার কৃষিখাত; যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদিত ইউরিয়া সারের দাম একলাফে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, মাত্র দুই লিটার ডিজেলের জন্য তাঁকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল রাইস Research ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. আলিশের মিরজাবায়েভ সতর্ক করেছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা এশিয়ার লাখ লাখ মানুষের জন্য চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ডেকে আনবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৩ শতাংশ জোগান দেওয়া তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন ব্যয় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং দেশের সামগ্রিক কারখানা উৎপাদন ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এমনকি জাপানের মেগা খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যালবি’ খরচ বাঁচাতে তাদের রঙিন প্যাকেজিং বাদ দিয়ে সাদা-কালো প্যাকেট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

জাতিসংঘের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে দক্ষিণ এশিয়ার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৬ শতাংশ পর্যন্ত ধসে যেতে পারে এবং ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। সংকট মোকাবিলায় ভারত প্রতিদিন ১৫ কোটি ডলার এবং ইন্দোনেশিয়া প্রতিদিন ৬ কোটি ডলার করে বিশাল অংকের জ্বালানি ভর্তুকি দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে দেউলিয়া করে তুলবে। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে ভূ-রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে চীন ও অস্ট্রেলিয়া।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হলেও চীনের বিশাল কৌশলগত তেল মজুত থাকায় তারা এখন ভিয়েতনাম, লাওস এমনকি মার্কিন মিত্র অস্ট্রেলিয়ার কাছেও জেট ফুয়েল ও পেট্রোলিয়াম রপ্তানি করে এশিয়ায় একচেটিয়া কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। তবে এই মহাসংকট এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যকার পুরোনো দ্বিপাক্ষিক বিরোধ ভুলে যৌথ জ্বালানি মজুত এবং বিদ্যুৎ গ্রিড সংযুক্তিকরণের এক নতুন আঞ্চলিক সহযোগিতার দুয়ারও খুলে দিয়েছে, যেখানে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB) ৫০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

/আশিক


৭ অক্টোবরের পরিকল্পনাকারীদের প্রায় সবাই নিহত: গাজা যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর বড় দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ২১:২৩:৩৭
৭ অক্টোবরের পরিকল্পনাকারীদের প্রায় সবাই নিহত: গাজা যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর বড় দাবি
ছবি : সংগৃহীত

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও নজিরবিহীন হামলার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারীদের প্রায় সকলকেই সেনাবাহিনী একে একে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় চলমান দীর্ঘ ও বিধ্বংসী যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যটি এখন প্রায় সম্পন্ন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শুক্রবার গাজায় এক বিমান হামলায় হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার ইজ্জেদিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করার পরপরই এক বিবৃতিতে নিজের এই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেন নেতানিয়াহু।

বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, "গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ৭ অক্টোবরের বর্বরোচিত হামলার পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের নিশ্চিহ্ন করা। সেনাবাহিনীর টানা ও সুনির্দিষ্ট অভিযানের ফলে আমরা এখন সেই লক্ষ্য পূরণের একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছি।"

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নিহত ইজ্জেদিন আল-হাদ্দাদ হামাসের গাজা সিটির ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন এবং ৭ অক্টোবরের হামলার পেছনে মাঠপর্যায়ে কৌশল নির্ধারণে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে ইসরায়েলের এই বড় দাবির বিপরীতে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

/আশিক


আফগানিস্তানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে বৈধ ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ২০:২৩:০৪
আফগানিস্তানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে বৈধ ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানে নারী অধিকার ও পারিবারিক কাঠামোর ওপর নতুন আঘাত হিসেবে বিয়ে, তালাক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত এক নতুন পারিবারিক আইন জারি করেছে তালেবান সরকার। ৩১ অনুচ্ছেদের এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে—কোনো কুমারী মেয়ে বিয়ের প্রস্তাবে নীরব থাকলে, সেই নীরবতাকেই তার চূড়ান্ত সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে।

তবে কোনো ছেলে বা পূর্বে বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। তালেবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অনুমোদনের পর এটি আফগানিস্তানের সরকারি গেজেটে প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

নির্বাসনে থাকা আফগান সাংবাদিকদের সংবাদমাধ্যম ‘আমু টিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদসংক্রান্ত নীতিমালা’ নামের এই নতুন আইনে বিশেষ কিছু শর্তে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়েকেও আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, যদি পাত্র সামাজিকভাবে উপযুক্ত হয় এবং দেনমোহর ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে, তবে বাবা বা দাদা চাইলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

যদিও ‘বালেগ হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার’ নামক একটি ধারায় বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধির আগে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর চাইলে বাতিলের আবেদন করতে পারবে; তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তালেবানের ধর্মীয় আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া ব্যভিচার, ধর্মত্যাগ, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি কিংবা পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ বা কারাদণ্ড দেওয়ার একচেটিয়া ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তালেবান বিচারকদের হাতে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নারীদের পাবলিক লাইফ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে একের পর এক কট্টর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে তালেবান। ইতিমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের নিষিদ্ধ করা এবং চাকরি ও ভ্রমণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের পর এই নতুন পারিবারিক আইন জারি করা হলো। তবে ইসলামি ফিকহ ও সহিহ হাদিসের রেফারেন্স অনুযায়ী—বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর স্বাধীন সম্মতি বাধ্যতামূলক এবং জোরপূর্বক বিয়ে ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ইসলামি আইনবিদদের মতে, হাদিসে কুমারী মেয়ের লজ্জার কারণে নীরবতাকে সম্মতির আলামত হিসেবে দেখার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন মেয়েটি কোনো ধরনের ভয়, সামাজিক চাপ বা জবরদস্তির শিকার না হয়ে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় নিজের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়। তালেবানের এই আইন সেই ধর্মীয় মূলনীতিরও একপাক্ষিক অপব্যাখ্যা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : এনডিটিভি


ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ২০:০০:৪৫
ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া আগামী পবিত্র ঈদুল আজহার চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেছে। রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যার দিকে দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদ উদযাপনের এই সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করে। ঘোষণা অনুযায়ী, দেশটিতে আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনতারার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাজধানী জাকার্তায় ধর্মীয় উলামা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আয়োজিত চাঁদ দেখা কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে দেশটির ধর্মমন্ত্রী নাসারুদ্দিন উমর আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, ‘‘দেশের ৮৮টি ভিন্ন ভিন্ন কৌশলগত স্থানে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত নতুন চাঁদ দেখার ফলাফল এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র ১ জিলহজ শুরু হবে আগামীকাল ১৮ মে (সোমবার)। সেই গাণিতিক ও ধর্মীয় ধারাবাহিকতায় দেশটিতে ১০ জিলহজ অর্থাৎ আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।’’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় জিলহজ মাসের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন স্বাভাবিকভাবেই এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোসহ বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মুসলমানরাও চাঁদ দেখার ওপর কড়া নজর রাখছেন। ইন্দোনেশিয়ার এই আগাম ঘোষণার পর এশিয়ার এই অঞ্চলে মে মাসের শেষ সপ্তাহেই যে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেই ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হলো।

/আশিক


ট্রাম্পের দাবি ভেস্তে দিয়ে অক্ষত ইরানের ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ১৮:১৪:৪০
ট্রাম্পের দাবি ভেস্তে দিয়ে অক্ষত ইরানের ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের মাঠের প্রকৃত চিত্র এবং ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রচারণার মধ্যে এক বিশাল ফারাক বা ‘ব্লিন্ড স্পট’ উন্মোচিত হয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে দাবি করছে যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ‘টুকরো টুকরো’ করে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে এখনো অপ্রকাশিত একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ ও ‘সিএনএন’-এর প্রতিবেদন সম্পূর্ণ উল্টো ইঙ্গিত দিচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ৩৩টি প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে মাত্র ৩টি ধ্বংস হয়েছে, বাকি ৩০টিই এখনো পুরোপুরি কার্যকর। এই স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একে ‘ভার্চুয়াল রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ (Virtual Treason) বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের মাঝের ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে কাজে লাগিয়েছে। তারা মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা রকেট লঞ্চারগুলো পুনরায় খুঁড়ে বের করেছে এবং তাদের ড্রোন ও উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে। আর এই সামরিক শক্তির জোরেই তারা অত্যন্ত কার্যকরভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পেরেছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোকে ‘আমেরিকান কাপুরুষদের ভুয়া নিউজ’ বলে তীব্র আক্রমণ করলেও, তিনি কোথাও সুনির্দিষ্টভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো অকার্যকর হয়ে যাওয়ার দাবি করতে পারেননি। বিপরীতে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের ১৫৯টি যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রের নিচে এবং তাদের বিমানবাহিনী ও প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ধ্বংস।

প্রশাসনের এই স্ববিরোধী অবস্থান মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের শুনানিতেও চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে। জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উভয়েই এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টিকে ‘গোপনীয়’ বলে এড়িয়ে যান। তবে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি শুনানিতে স্পষ্ট অভিযোগ তোলেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্লোজড-ডোর বা গোপন বৈঠকে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে এক কথা বলছে, আর রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে জনগণের সামনে অন্য কথা প্রচার করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু ইরান যুদ্ধই নয়, গণ নির্বাসন অভিযান, ব্যয় সংকোচন কিংবা নির্বাচনে জালিয়াতির দাবির মতোই ইরানকে ‘সম্পূর্ণ চূর্ণ’ করার এই ট্রাম্পীয় দাবি আসলে তথ্য বিকৃতির এক বৃহত্তর রাজনৈতিক এজেন্ডারই অংশ।

/আশিক

পাঠকের মতামত: