ইরান সংকটে বদলে গেল এশিয়ার ভূরাজনীতি ও অর্থনীতি

ইরান যুদ্ধের ভয়াবহ ঢেউ সরাসরি আঘাত হেনেছে এশিয়ার অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের জেরে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি ও সার সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর দেশের জনগণকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকে কাজ করতে এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর কমাতে জরুরি অনুরোধ জানিয়েছেন।
শুধু ভারতই নয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো এখন এক অভূতপূর্ব ডিজিটাল, শিল্প ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। যুদ্ধের প্রভাব অঞ্চলটির রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে ওলটপালট করে ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কার মতো গণ-অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের সরবরাহ লাইন পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং এবং গ্রামীণ পেট্রোল পাম্পগুলোতে হাহাকার শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার হাতে মাত্র তিন সপ্তাহ এবং ভিয়েতনামের হাতে এক মাসেরও কম জ্বালানি মজুত রয়েছে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার এশিয়ার কৃষিখাত; যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদিত ইউরিয়া সারের দাম একলাফে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, মাত্র দুই লিটার ডিজেলের জন্য তাঁকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল রাইস Research ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. আলিশের মিরজাবায়েভ সতর্ক করেছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা এশিয়ার লাখ লাখ মানুষের জন্য চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ডেকে আনবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৩ শতাংশ জোগান দেওয়া তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন ব্যয় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং দেশের সামগ্রিক কারখানা উৎপাদন ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এমনকি জাপানের মেগা খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যালবি’ খরচ বাঁচাতে তাদের রঙিন প্যাকেজিং বাদ দিয়ে সাদা-কালো প্যাকেট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।
জাতিসংঘের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে দক্ষিণ এশিয়ার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৬ শতাংশ পর্যন্ত ধসে যেতে পারে এবং ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। সংকট মোকাবিলায় ভারত প্রতিদিন ১৫ কোটি ডলার এবং ইন্দোনেশিয়া প্রতিদিন ৬ কোটি ডলার করে বিশাল অংকের জ্বালানি ভর্তুকি দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে দেউলিয়া করে তুলবে। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে ভূ-রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে চীন ও অস্ট্রেলিয়া।
বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হলেও চীনের বিশাল কৌশলগত তেল মজুত থাকায় তারা এখন ভিয়েতনাম, লাওস এমনকি মার্কিন মিত্র অস্ট্রেলিয়ার কাছেও জেট ফুয়েল ও পেট্রোলিয়াম রপ্তানি করে এশিয়ায় একচেটিয়া কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। তবে এই মহাসংকট এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যকার পুরোনো দ্বিপাক্ষিক বিরোধ ভুলে যৌথ জ্বালানি মজুত এবং বিদ্যুৎ গ্রিড সংযুক্তিকরণের এক নতুন আঞ্চলিক সহযোগিতার দুয়ারও খুলে দিয়েছে, যেখানে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB) ৫০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
/আশিক
৭ অক্টোবরের পরিকল্পনাকারীদের প্রায় সবাই নিহত: গাজা যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর বড় দাবি
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও নজিরবিহীন হামলার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারীদের প্রায় সকলকেই সেনাবাহিনী একে একে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় চলমান দীর্ঘ ও বিধ্বংসী যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যটি এখন প্রায় সম্পন্ন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার গাজায় এক বিমান হামলায় হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার ইজ্জেদিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করার পরপরই এক বিবৃতিতে নিজের এই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেন নেতানিয়াহু।
বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, "গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ৭ অক্টোবরের বর্বরোচিত হামলার পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের নিশ্চিহ্ন করা। সেনাবাহিনীর টানা ও সুনির্দিষ্ট অভিযানের ফলে আমরা এখন সেই লক্ষ্য পূরণের একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছি।"
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নিহত ইজ্জেদিন আল-হাদ্দাদ হামাসের গাজা সিটির ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন এবং ৭ অক্টোবরের হামলার পেছনে মাঠপর্যায়ে কৌশল নির্ধারণে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে ইসরায়েলের এই বড় দাবির বিপরীতে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
/আশিক
আফগানিস্তানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে বৈধ ঘোষণা
আফগানিস্তানে নারী অধিকার ও পারিবারিক কাঠামোর ওপর নতুন আঘাত হিসেবে বিয়ে, তালাক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত এক নতুন পারিবারিক আইন জারি করেছে তালেবান সরকার। ৩১ অনুচ্ছেদের এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে—কোনো কুমারী মেয়ে বিয়ের প্রস্তাবে নীরব থাকলে, সেই নীরবতাকেই তার চূড়ান্ত সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে।
তবে কোনো ছেলে বা পূর্বে বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। তালেবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অনুমোদনের পর এটি আফগানিস্তানের সরকারি গেজেটে প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
নির্বাসনে থাকা আফগান সাংবাদিকদের সংবাদমাধ্যম ‘আমু টিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদসংক্রান্ত নীতিমালা’ নামের এই নতুন আইনে বিশেষ কিছু শর্তে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়েকেও আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, যদি পাত্র সামাজিকভাবে উপযুক্ত হয় এবং দেনমোহর ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে, তবে বাবা বা দাদা চাইলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
যদিও ‘বালেগ হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার’ নামক একটি ধারায় বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধির আগে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর চাইলে বাতিলের আবেদন করতে পারবে; তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তালেবানের ধর্মীয় আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া ব্যভিচার, ধর্মত্যাগ, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি কিংবা পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ বা কারাদণ্ড দেওয়ার একচেটিয়া ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তালেবান বিচারকদের হাতে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নারীদের পাবলিক লাইফ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে একের পর এক কট্টর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে তালেবান। ইতিমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের নিষিদ্ধ করা এবং চাকরি ও ভ্রমণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের পর এই নতুন পারিবারিক আইন জারি করা হলো। তবে ইসলামি ফিকহ ও সহিহ হাদিসের রেফারেন্স অনুযায়ী—বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর স্বাধীন সম্মতি বাধ্যতামূলক এবং জোরপূর্বক বিয়ে ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইসলামি আইনবিদদের মতে, হাদিসে কুমারী মেয়ের লজ্জার কারণে নীরবতাকে সম্মতির আলামত হিসেবে দেখার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন মেয়েটি কোনো ধরনের ভয়, সামাজিক চাপ বা জবরদস্তির শিকার না হয়ে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় নিজের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়। তালেবানের এই আইন সেই ধর্মীয় মূলনীতিরও একপাক্ষিক অপব্যাখ্যা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র : এনডিটিভি
ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া আগামী পবিত্র ঈদুল আজহার চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেছে। রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যার দিকে দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদ উদযাপনের এই সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করে। ঘোষণা অনুযায়ী, দেশটিতে আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনতারার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাজধানী জাকার্তায় ধর্মীয় উলামা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আয়োজিত চাঁদ দেখা কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে দেশটির ধর্মমন্ত্রী নাসারুদ্দিন উমর আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, ‘‘দেশের ৮৮টি ভিন্ন ভিন্ন কৌশলগত স্থানে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত নতুন চাঁদ দেখার ফলাফল এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র ১ জিলহজ শুরু হবে আগামীকাল ১৮ মে (সোমবার)। সেই গাণিতিক ও ধর্মীয় ধারাবাহিকতায় দেশটিতে ১০ জিলহজ অর্থাৎ আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।’’
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় জিলহজ মাসের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন স্বাভাবিকভাবেই এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোসহ বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মুসলমানরাও চাঁদ দেখার ওপর কড়া নজর রাখছেন। ইন্দোনেশিয়ার এই আগাম ঘোষণার পর এশিয়ার এই অঞ্চলে মে মাসের শেষ সপ্তাহেই যে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেই ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হলো।
/আশিক
ট্রাম্পের দাবি ভেস্তে দিয়ে অক্ষত ইরানের ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি
ইরান যুদ্ধের মাঠের প্রকৃত চিত্র এবং ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রচারণার মধ্যে এক বিশাল ফারাক বা ‘ব্লিন্ড স্পট’ উন্মোচিত হয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে দাবি করছে যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ‘টুকরো টুকরো’ করে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে এখনো অপ্রকাশিত একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ ও ‘সিএনএন’-এর প্রতিবেদন সম্পূর্ণ উল্টো ইঙ্গিত দিচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ৩৩টি প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে মাত্র ৩টি ধ্বংস হয়েছে, বাকি ৩০টিই এখনো পুরোপুরি কার্যকর। এই স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একে ‘ভার্চুয়াল রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ (Virtual Treason) বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের মাঝের ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে কাজে লাগিয়েছে। তারা মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা রকেট লঞ্চারগুলো পুনরায় খুঁড়ে বের করেছে এবং তাদের ড্রোন ও উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে। আর এই সামরিক শক্তির জোরেই তারা অত্যন্ত কার্যকরভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পেরেছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোকে ‘আমেরিকান কাপুরুষদের ভুয়া নিউজ’ বলে তীব্র আক্রমণ করলেও, তিনি কোথাও সুনির্দিষ্টভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো অকার্যকর হয়ে যাওয়ার দাবি করতে পারেননি। বিপরীতে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের ১৫৯টি যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রের নিচে এবং তাদের বিমানবাহিনী ও প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ধ্বংস।
প্রশাসনের এই স্ববিরোধী অবস্থান মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের শুনানিতেও চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে। জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উভয়েই এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টিকে ‘গোপনীয়’ বলে এড়িয়ে যান। তবে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি শুনানিতে স্পষ্ট অভিযোগ তোলেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্লোজড-ডোর বা গোপন বৈঠকে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে এক কথা বলছে, আর রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে জনগণের সামনে অন্য কথা প্রচার করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু ইরান যুদ্ধই নয়, গণ নির্বাসন অভিযান, ব্যয় সংকোচন কিংবা নির্বাচনে জালিয়াতির দাবির মতোই ইরানকে ‘সম্পূর্ণ চূর্ণ’ করার এই ট্রাম্পীয় দাবি আসলে তথ্য বিকৃতির এক বৃহত্তর রাজনৈতিক এজেন্ডারই অংশ।
/আশিক
আরব বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোন আঘাত: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবির অত্যন্ত সংবেদনশীল বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাইরে একটি আকস্মিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (১৭ মে) সংঘটিত এই হামলায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল সীমানার বাইরে থাকা একটি বাহ্যিক বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আগুন ধরে যায় বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এই চাঞ্চল্যকর হামলার খবর প্রকাশ করেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে আরব উপদ্বীপের একমাত্র সচল এই পারমাণবিক স্থাপনাটিকে লক্ষ্যবস্তু করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
আবুধাবি মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আল ধাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল সীমানার বাইরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আমিরাতের পারমাণবিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফেডারেল অথরিটি ফর নিউক্লিয়ার রেগুলেশন’ (এফএএনআর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হয়নি। কেন্দ্রটির তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট বরাবরের মতোই সচল থেকে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই ড্রোন হামলা চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এর দায় স্বীকার করেনি। আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকেও এই হামলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা গোষ্ঠীকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি। এছাড়া ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’ (আইএইএ) এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আরব বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্র, যা সৌদি আরব সীমান্তের কাছে আবুধাবির প্রত্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত।
/আশিক
নৌ-অবরোধের পর এবার সমুদ্রতলের ডেটা লাইফলাইন টার্গেট ইরানের
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধকালীন নৌ-অবরোধকে সফল দাবি করার পর, এবার বৈশ্বিক সমুদ্রতলের বা সাবমেরিন ইন্টারনেট ক্যাবলকে নতুন কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ইরান। ইউরোপ, এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল ইন্টারনেট ডেটা ও আর্থিক তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। রবিবার (১৭ মে) এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই আন্তর্জাতিক ভূ-ডিজিটাল সংকটের তথ্য প্রকাশ করেছে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল ব্যবহারের জন্য গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও অ্যামাজনের মতো বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে লাইসেন্স ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন, "আমরা ইন্টারনেট ক্যাবলের ওপর ফি আরোপ করব।"
একই সাথে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো সতর্কবার্তা দিয়েছে, বিশ্বের মেগা টেক জায়ান্টগুলোকে ইরানের আইন মেনে চলতে হবে এবং ক্যাবল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের একচেটিয়া অধিকার শুধু ইরানি কোম্পানিগুলোকেই দিতে হবে; অন্যথায় এসব ক্যাবলে বড় ধরনের বিঘ্ন বা ব্ল্যাকআউট ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সমুদ্রতলের এই ক্যাবলগুলো বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা, ব্যাংকিং লেনদেন, সামরিক যোগাযোগ ও ক্লাউড সেবার মূল ভিত্তি। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক হাবতুর রিসার্চ সেন্টারের গবেষক মোস্তফা আহমেদ জানান, আইআরজিসি’র কাছে উন্নত ডুবুরি দল, ছোট সাবমেরিন ও পানির নিচে চলতে সক্ষম ড্রোন রয়েছে—যা দিয়ে তারা চাইলেই 'ফ্যালকন' বা 'গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল'-এর মতো ইরানের জলসীমা অতিক্রম করা মেগা ক্যাবলগুলোতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যদি এমন কোনো ডিজিটাল হামলা বা বিঘ্ন ঘটে, তবে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধসে পড়বে, ভারতের বিপুল আউটসোর্সিং শিল্প বড় ধাক্কা খাবে এবং ইউরোপ থেকে পূর্ব আফ্রিকা পর্যন্ত স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে পুরো ইন্টারনেট যোগাযোগ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমুদ্রসীমার কনভেনশনের দোহাই দিয়ে ইরান এই ফি আদায়ের আইনি ভিত্তি খুঁজলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন সামরিক শক্তির বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে জিম্মি করার এটি তেহরানের এক নতুন ও ভয়ঙ্কর ভূ-রাজনৈতিক ব্লুপ্রিন্ট।
/আশিক
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা
আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা (PHEIC) ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। রোববার (১৭ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের তথ্য জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির মানদণ্ডে পৌঁছায়নি বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ও রোগের ভৌগোলিক বিস্তার নিয়ে ‘বিরাট অনিশ্চয়তা’ রয়েছে। এবারের প্রাদুর্ভাবটি মূলত ইবোলার ‘বুন্ডিবুগিও’ নামক একটি বিশেষ ভাইরাসজনিত স্ট্রেইন, যার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা তৈরি হয়নি। ইতিমধ্যে কঙ্গোর সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও এই ভাইরাসটি পৌঁছে গেছে, যেখানে ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যুসহ দুটি নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবাধ মানুষের চলাচল ও বাণিজ্যের কারণে ডিআর কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিতে রাখা হয়েছে। রোগ পর্যবেক্ষণ, সংক্রমণ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার জন্য ডব্লিউএইচও ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডাকে দ্রুত ‘জরুরি অপারেশন সেন্টার’ স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা এবং ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে করা দুটি টেস্টের ফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত অবমুক্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর সীমান্ত বন্ধ করা বা ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই বলে সাফ জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতেই প্রথম শনাক্ত হওয়া বাদুড়বাহিত এই ভাইরাসের এটি দেশটির ১৭তম প্রাদুর্ভাব, যাতে গড়ে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ।
/আশিক
চীন সফর শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুঙ্কার: পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য
ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের প্রথম লাইন পড়েই তা ছুড়ে ফেলে দেওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীন সফর শেষে দেশে ফিরে ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’-কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি দ্রুত সমঝোতায় না আসে তবে তাদের সামনে "খুব খারাপ সময়" অপেক্ষা করছে। পশ্চিম এশিয়ায় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে মেগা হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নতুন হুঙ্কার সংঘাতের আবহকে আরও উসকে দিল।
সাক্ষাৎকারে ইরানের সাথে কোনো চুক্তি আসন্ন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, "আমার কোনো ধারণা নেই। তবে যদি ওরা সমঝোতা না করে, ওদের খুব খারাপ সময় দেখতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, চুক্তিতে আসার পেছনে খোদ ইরানেরই বড় স্বার্থ রয়েছে—যা মূলত হামলা হলে তেহরানের অপূরণীয় অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক শেষে ফেরার পথেই ট্রাম্প ইরান নিয়ে তাঁর এই তীব্র অসন্তোষের কথা জানান।
ইরান সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছে একটি লিখিত সমঝোতার প্রস্তাব পাঠালেও তা পুরোপুরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রথম লাইন পড়েই ট্রাম্প বাতিল করে দেন। অন্যদিকে, কৌশলগত মিত্র হলেও হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে বেইজিংও সংকটের সমাধান চায়; তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প জিনপিংকে কোনো চাপ দেওয়ার আবদার করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন।
কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পেন্টাগন ও ইসরায়েলি বাহিনী ধরে নিয়েছে যুদ্ধ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ওয়াশিংটন থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পেলেই ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হতে পারে। অবশ্য গত মাসেই ইরানের সাথে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প।
তবে ওয়াশিংটনের এই যুদ্ধ যুদ্ধ খামখেয়ালিপনা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একাধারে যুদ্ধবিরতি ও নতুন হামলার পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়ে পুরো বিষয়টিকে তামাশায় পরিণত করছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
মধ্যপ্রাচ্যে মেগা যুদ্ধের কাউন্টডাউন, ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা
ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক শান্তি আলোচনা পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দেশটিতে যৌথ সামরিক হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদি ও বিধ্বংসী যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে দুই দেশই তাদের ব্লুপ্রিন্ট সাজিয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যপ্রাচ্যের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ এই বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ এখন অত্যাসন্ন এবং তারা কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এবার ইরানের ওপর আগের চেয়েও বহুগুণ তীব্র ও নজিরবিহীন বোমাবর্ষণ করা হবে। এবারের হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) হবে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান লাইফলাইন ‘খার্গ দ্বীপ’ সামরিকভাবে দখল করার ছক তৈরি করেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
একই সঙ্গে আরও একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ গোপন অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে; যার অধীনে ইরানের মূল ভূখণ্ডে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী পাঠিয়ে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম জব্দ করে নিয়ে আসা হবে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ইউরেনিয়াম জব্দের অভিযানটি হবে অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী, কারণ কমান্ডোদের সহায়তায় কয়েক হাজার সেনার ব্যাকআপ রাখতে হবে—যাদের সাথে ইরানি বাহিনীর সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধ বেঁধে গিয়ে বিপুল সেনা হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’ কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, "আমেরিকানরা এখন পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসবে না। আমরা আগামী কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।" অবশ্য এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আগের ‘চিরজীবনের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের’ কড়া শর্ত থেকে কিছুটা নরম সুরে ফিরে এসেছেন। চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি লিখিতভাবে সত্যিকার অর্থে আগামী ২০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তিনি সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
পাঠকের মতামত:
- ইরান সংকটে বদলে গেল এশিয়ার ভূরাজনীতি ও অর্থনীতি
- নেইমারকে নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন আনচেলত্তি
- ফ্যামিলি কার্ডে গরিবদের বঞ্চিত করে আমলারা অন্যায় করেছেন: ডেপুটি স্পিকার
- সাংবাদিক পরিবারকেও ছাড়েননি চেয়ারম্যান, ১.৬০ লাখ টাকা ফেরত চান বৃদ্ধা আলেয়া বেগম
- কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: এক বছরে শতাধিক মামলা, বিপুল অস্ত্র-মাদক জব্দ
- ৭ অক্টোবরের পরিকল্পনাকারীদের প্রায় সবাই নিহত: গাজা যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর বড় দাবি
- আফগানিস্তানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে বৈধ ঘোষণা
- সোমবার সকাল ৮টা থেকে টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ
- কোলম্যানকে পেতে সব দিতে প্রস্তুত সরকার, তবে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এজেন্টের কমিশন
- ট্রাম্পের দাবি ভেস্তে দিয়ে অক্ষত ইরানের ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি
- আরব বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোন আঘাত: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা
- আইভীর জামিন বহাল রাখলেন চেম্বার আদালত, কারামুক্তিতে আর বাধা নেই
- নৌ-অবরোধের পর এবার সমুদ্রতলের ডেটা লাইফলাইন টার্গেট ইরানের
- বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ড্রাইভার নেবে দুবাইয়ের ট্যাক্সি কোম্পানি
- টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা পাকিস্তান: সিলেট টেস্টের রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় দিন
- ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন
- কুমিল্লায় সুজনের সভা: গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা
- চীন সফর শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুঙ্কার: পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য
- নীতি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক মান ছাড়া চামড়া শিল্পের টেকসই বিকাশ অসম্ভব: শিল্পমন্ত্রী
- রবিবার রাত ১১টায় বন্ধ হচ্ছে সংযোগ, সোমবার বিকেলের আগে আসবে না গ্যাস
- ঈদযাত্রার শেষ দিন ২৭ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ
- সন্ধ্যার আগেই দেশের ৭ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- মধ্যপ্রাচ্যে মেগা যুদ্ধের কাউন্টডাউন, ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা
- সড়কে বের হওয়ার আগে জেনে নিন রাজধানীর আজকের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি
- ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় কমল স্বর্ণের দাম, রুপার ভরিতেও স্বস্তির আভাস
- রোববার ঢাকার যেসব এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- ফ্যামিলি কার্ড গ্রামীণ নারীদের জন্য সেফগার্ড: নুরুল হক নুর
- সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে যাবে পাকিস্তান: ভারতের সেনাপ্রধান
- আসছে নবম জাতীয় পে-স্কেল: ২০২৬-২৭ বাজেটে মিলবে প্রাথমিক রূপরেখা
- হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নৌ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কাঁপন
- কোরবানির হাটে ঝড় তোলা নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশেষে বিক্রি!
- ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক মানসিকতা দূর করতে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বদল
- আওয়ামী লীগের মতোই মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি: সারজিস আলম
- দেবিদ্দার পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের পিটুনিতে বাবা নিহত, এলাকায় শোক
- ভারতকে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি
- মেসি-রোনালদোর ওয়ান লাস্ট ড্যান্স: ফুটবল বিশ্বে মহাকাব্যিক শেষের কাউন্টডাউন
- আওয়ামী লীগ ফিরলে প্রথম গুলিটি চালাবে তারেক রহমানের ওপর: নাসীরুদ্দীন
- গাজায় ইসরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলা: হামাসের সামরিক প্রধান হাদ্দাদ নিহত
- ২৪ ঘণ্টায় অর্ধশতাধিক ভূমিকম্প: লাভা ছড়াচ্ছে ফিলিপাইনের মায়ন আগ্নেয়গিরি
- ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে ভুগছে ভারতও, ব্যারাজ ভাঙার দাবি খোদ সে দেশে: রিজভী
- আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- কুমিল্লার মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল: এক বছরে ঝরল শত শত প্রাণ, আহত সহস্রাধিক
- ইসরায়েলকে পিতৃভূমি ও আমিরাতকে দ্বিতীয় বাড়ি বললেন মোদি
- আজকের টাকার রেট: ১৬ মে ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- চীন সফর শেষে তাইওয়ান ইস্যুতে সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
- লিভার ফেইলিউরের সাথে লড়ে হেরে গেলেন অভিনেত্রী কারিনা কায়সার
- শরীয়তপুরে নৃশংসতা: প্রবাসীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে রাখলেন স্ত্রী
- ১৪ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সোনার বাজারে আগুনের হল্কা: নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে ২২ ক্যারেট
- ১৪ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পুর্নাংগ বিশ্লেষণ
- শনিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বিরল ঐকমত্য
- নবম পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে
- হেক্সা জয়ের লক্ষ্যে ব্রাজিলের ৫৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা
- আকাশচুম্বী দামে থমকে আছে স্বর্ণ: সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে অলঙ্কার
- পুঁথিগত বিদ্যা নয়, নজর দিন উদ্ভাবনে: ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- নির্মিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু: সেতু মন্ত্রী
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- রাজধানীতে আজ কেমন থাকবে আবহাওয়া
- কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ সুবিধা, জানাল সরকার








