হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নৌ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কাঁপন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ২১:৫০:০৫
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নৌ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কাঁপন
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও চলমান তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপত্তার কাঠামোর আওতায় এই নতুন নৌ চলাচল ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার অধীনে একটি সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত রুটের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং খুব শিগগিরই এর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

ইব্রাহিম আজিজি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। কেবল সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকা পক্ষগুলোই এই রুট ব্যবহারের অনুমতি পাবে। পাশাপাশি, এই রুটে বিশেষ সেবা দেওয়ার বিপরীতে জাহাজগুলোর কাছ থেকে নির্ধারিত ফি বা মাশুলও আদায় করবে তেহরান।

সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হলো, ইরানি এই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, ‘তথাকথিত স্বাধীনতা প্রকল্পের’ পরিচালনাকারীদের জন্য এই রুট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘স্বাধীনতা প্রকল্প’ বলতে ইরান মূলত লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক নৌ অভিযান ও সামরিক উপস্থিতির দিকেই সরাসরি ইঙ্গিত করেছে।

ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন ‘চোকপয়েন্ট’। প্রতিদিন বিশ্বে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ এই সরু পথটি দিয়েই পারাপার হয়। ফলে, এই প্রণালিতে ইরানের যেকোনো ধরনের একতরফা নিয়ন্ত্রণ বা সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করে বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

/আশিক


গাজায় ইসরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলা: হামাসের সামরিক প্রধান হাদ্দাদ নিহত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১৯:২৮:১০
গাজায় ইসরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলা: হামাসের সামরিক প্রধান হাদ্দাদ নিহত
ছবি : সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আদ-দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবারের (১৫ মে) এই হামলায় তাঁর নিহত হওয়ার খবরটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করার পর, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী হামাসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রও তা নিশ্চিত করেছে।

শনিবার (১৬ মে) এক বিবৃতিতে আইডিএফ চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়ার জামির এই অভিযানকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অভিযানিক সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতা ছিলেন এই হাদ্দাদ।

২০২৫ সালের মে মাসে ইসরায়েলি হামলায় মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর হাদ্দাদ গাজায় হামাসের সামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ইসরায়েলের দাবি, তিনি হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ও সেনা হত্যা এবং অপহরণের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। মুক্ত হওয়া জিম্মিদের দেওয়া তথ্যে বারবার হাদ্দাদের নাম উঠে এসেছিল।

হামাস সূত্রে জানা গেছে, ‘ভূত’ নামে পরিচিত হাদ্দাদ এর আগেও ইসরায়েলের একাধিক সুনির্দিষ্ট গুপ্তহত্যার চেষ্টা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন। ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া এই নেতা ১৯৮০-এর দশকে হামাস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটির সাথে যুক্ত ছিলেন। হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও, সংগঠনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার মধ্য গাজার আল আকসা শহীদ মসজিদে হাদ্দাদ, তাঁর স্ত্রী ও ১৯ বছর বয়সী মেয়ের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। তবে হাদ্দাদের স্ত্রী ও সন্তান একই বিমান হামলায় নাকি ভিন্ন কোনো উপায়ে মারা গেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলের দুটি পৃথক বিমান হামলায় তিন নারী ও এক শিশুসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, আইডিএফ এই সুনির্দিষ্ট হামাস নেতাকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করেই বিমান হামলাটি চালিয়েছিল এবং লক্ষ্য অর্জনে তারা সফল হয়েছে।

হাদ্দাদের এই আকস্মিক মৃত্যুতে গাজায় হামাসের সামরিক চেইন অব কমান্ড বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন যুদ্ধ বিশ্লেষকরা।

/আশিক


২৪ ঘণ্টায় অর্ধশতাধিক ভূমিকম্প: লাভা ছড়াচ্ছে ফিলিপাইনের মায়ন আগ্নেয়গিরি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১৮:৪১:৩৬
২৪ ঘণ্টায় অর্ধশতাধিক ভূমিকম্প: লাভা ছড়াচ্ছে ফিলিপাইনের মায়ন আগ্নেয়গিরি
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিপাইনের সবচেয়ে সক্রিয় ও বিপজ্জনক মায়ন আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে তীব্র অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আগ্নেয়গিরিটির অভ্যন্তরে কয়েক ডজন শক্তিশালী ভূমিকম্প ও কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এর ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের (ফিভলক্স) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানায়, গত এক দিনে মায়ন আগ্নেয়গিরিতে ৫১টি আগ্নেয় ভূমিকম্প, ৩০টি আগ্নেয় কম্পন, শত শত শিলা ধস এবং ৬টি পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহের (উত্তপ্ত গ্যাস ও পাথরের দ্রুততম প্রবাহ) সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির মূল গহ্বর থেকে অনবরত জ্বলন্ত লাভা বের হচ্ছে এবং লাভার এই প্রবাহ বাসুদ, বংগা ও মি-ইসি এলাকার দিকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে গহ্বর থেকে লাভার উঁচুতর ফোয়ারাও দেখা যাচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, শুক্রবার আগ্নেয়গিরিটি থেকে রেকর্ড ১ হাজার ৪৮২ টন সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়েছে, যা আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। বিষাক্ত এই গ্যাসের কারণে সৃষ্ট বিশাল ধোঁয়ার স্তম্ভ বাতাসের গতিপথে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ওই অঞ্চলের বাতাস ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির চারপাশের ৬ কিলোমিটার এলাকাকে ‘স্থায়ী বিপৎসীমা’ (Permanent Danger Zone) ঘোষণা করে জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহার না করার জন্য সব ধরনের বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ফিভলক্স আগ্নেয়গিরির পাদদেশে এবং ঢালে বসবাসকারী হাজার হাজার বাসিন্দাদের লাভা প্রবাহ, আকস্মিক শিলা ধস, মাঝারি মাত্রার বিস্ফোরণ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ‘লাহার’ বা বিপজ্জনক কাদাপ্রবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

/আশিক


চীন সফর শেষে তাইওয়ান ইস্যুতে সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১২:২৯:০২
চীন সফর শেষে তাইওয়ান ইস্যুতে সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

তাইওয়ানকে চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীন সফর শেষে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষেই তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বাড়াতে চায় না এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখাই সবার জন্য মঙ্গলজনক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না তাইওয়ান স্বাধীনতা ঘোষণা করে বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করুক। তাঁর ভাষায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও তাইওয়ানে কোনো যুদ্ধ বা স্বাধীনতা আন্দোলন দেখতে চান না। তবে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে (লাই চিং) আগেই তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, তাইওয়ানের আলাদা করে নতুন করে স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ তারা নিজেদের আগে থেকেই একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এক অভিনব বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, “যদি তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ বাঁধে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মাইল দূরে গিয়ে লড়াই করতে হবে, যা আমি কোনোভাবেই চাই না।” মূলত দূরবর্তী কোনো ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ানোর চেয়ে ট্রাম্প প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষেই নিজের অনীহা প্রকাশ করেছেন। তবে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সবসময় কৌশলী ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। শি জিনপিং বলেন, তাইওয়ান ইস্যুটি চীনের রেড লাইন বা সর্বোচ্চ সংবেদনশীল বিষয়। এটি সঠিকভাবে সামাল দিতে ব্যর্থ হলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। চীন বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে যে তাইওয়ান তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেও তারা দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেবে।

যদিও ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন নীতি’ (One China Policy) মেনে চলার এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন না করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তবুও পর্দার আড়ালের সামরিক সমীকরণ ভিন্ন। গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাইওয়ানের প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের একটি বিশাল অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে আধুনিক রকেট লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার কথা দ্বীপ রাষ্ট্রটির। বেইজিং এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা পুরোপুরি এগিয়ে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁর প্রশাসন খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্র: বিবিসি


যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বৃদ্ধির মাঝেই গ্যাস স্টেশনে হ্যাকিং: অস্বস্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১২:০১:২০
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বৃদ্ধির মাঝেই গ্যাস স্টেশনে হ্যাকিং: অস্বস্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গ্যাস স্টেশনগুলোর জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় (এটিজি) বড় ধরনের সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। পাসওয়ার্ডহীন ও ইন্টারনেটে উন্মুক্ত থাকা এই সিস্টেমে ঢুকে হ্যাকাররা জ্বালানির প্রদর্শিত তথ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা ও তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রবল সন্দেহ, এই সুপরিকল্পিত হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা জড়িত।

তদন্তকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, হ্যাকাররা গ্যাস স্টেশনগুলোর ‘অটোমেটিক ট্যাংক গেজ’ (এটিজি) সিস্টেমে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত জ্বালানির পরিমাণে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। এই অনুপ্রবেশে কোনো শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হ্যাকাররা যদি এই সিস্টেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তবে গ্যাস লিকের মতো বিপজ্জনক ঘটনাও তারা গোপন রাখতে পারবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।

চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় তেহরান সাইবার যুদ্ধকে বিকল্প কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতেও ইরান মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করায় দেশটিকে প্রধান সন্দেহভাজন ভাবা হচ্ছে। তবে অকাট্য ফরেনসিক প্রমাণের অভাবে চূড়ান্তভাবে দায়ী পক্ষকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এই সাইবার হামলা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এমনিতেই জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরান যুদ্ধ তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে সাইবার আতঙ্ক হ্যারিস বা ট্রাম্প শিবিরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

২০২১ সালে স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অভ্যন্তরীণ গোপন নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, গ্যাস স্টেশনের এটিজি সিস্টেমকে তারা ভবিষ্যৎ সাইবার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক তেল, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে।

এমনকি এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল ফাঁসের ঘটনাতেও ইরানি হ্যাকারদের নাম জড়িয়েছে। ইসরায়েলের জাতীয় সাইবার অধিদফতরের প্রধান ইয়োসি কারাদি জানান, ইরানি হ্যাকাররা এখন সাইবার হামলার পাশাপাশি সমন্বিত মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণাও চালাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কেবল অবকাঠামো নয়, আমেরিকার আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও ইরান বড় ধরনের তথ্যযুদ্ধ চালাতে পারে। ২০২০ ও ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনেও ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরে হ্যাকিং এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করার পেছনে ইরানি হ্যাকারদের দায়ী করা হয়েছিল। সাবেক মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস ক্রেবস সতর্ক করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সহায়তায় এখন খুব কম খরচে এবং দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য এক অদৃশ্য হুমকি।

সূত্র: সিএনএন


স্থায়ী বন্ধের জেদ থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত: ইরান ইস্যুতে অবশেষে সুর নরম করলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১১:৫০:৩০
স্থায়ী বন্ধের জেদ থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত: ইরান ইস্যুতে অবশেষে সুর নরম করলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে এবার ২০ বছরের স্থগিতাদেশের শর্তে রাজি হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এয়ারফোর্স ওয়ানে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই নমনীয় মনোভাব প্রকাশ করেন।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সবসময় দাবি করে আসছিল যে, ইরানকে স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে। তবে বেইজিং সফর শেষে ট্রাম্প সুর নরম করে বলেন, ‘২০ বছরই যথেষ্ট। তবে এটি সত্যিকারের ২০ বছর হতে হবে।’ যদিও এই স্থগিতাদেশের তদারকি কীভাবে হবে বা এর শর্তাবলি কেমন হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন গণমাধ্যমে এর আগে প্রকাশিত খবরের সত্যতা এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হলো, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ইসলামাবাদে চলমান মধ্যস্থতা বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ন্যূনতম ২০ বছরের এই শর্তটি দিয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন এবং বেইজিং উভয় পক্ষই একমত যে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানের অবরোধে থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ অবিলম্বে জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে দুই পরাশক্তি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হয়। গত মাসে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনো বিচ্ছিন্ন হামলা ও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনে পাকিস্তান বর্তমানে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, তেহরান সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর লিখিত নিশ্চয়তা চায়।

ট্রাম্পের এই ২০ বছরের ফর্মুলা নিয়ে ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর কঠোর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের মাটির নিচে মজুত থাকা সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুরোপুরি অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের কাছে এই যুদ্ধের অবসান ঘটবে না। ফলে ট্রাম্পের এই নমনীয় কূটনীতি ইসরায়েল কতটা মেনে নেবে, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়ে গেছে।

/আশিক


ইরান প্রশ্নে বেইজিংয়ের কাছ থেকে নিশ্চিত বার্তা পেল না ওয়াশিংটন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৫ ১৪:৫৮:২৭
ইরান প্রশ্নে বেইজিংয়ের কাছ থেকে নিশ্চিত বার্তা পেল না ওয়াশিংটন
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে চীনের কাছ থেকে কার্যকর কূটনৈতিক সহায়তা পাওয়ার আশায় বেইজিং সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সফর শেষে স্পষ্ট হয়েছে, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক বার্তা এলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রতিশ্রুতি বা দৃশ্যমান সমঝোতা অর্জিত হয়নি।

মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ছিল, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি ক্রেতা হিসেবে চীন ইরানের ওপর প্রভাব খাটাতে পারে। বিশেষ করে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেইজিংকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন।

চীনে অবস্থানকালে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার বিশ্বাস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক সেটাই চান। ট্রাম্পের ভাষায়, শি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়াতে আগ্রহী।

তবে একই সময়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নেয়। বেইজিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সংঘাত শুরুই হওয়া উচিত ছিল না এবং সমস্যার সমাধান সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শি জিনপিং ইরান সংকট সমাধানে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরে স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কাছে কোনো সরাসরি সহায়তা চায়নি।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশই একমত হয়েছে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা জরুরি এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, চীন প্রণালিতে সামরিকীকরণ ও টোল আরোপের বিরোধিতা করেছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সরকারি বিবৃতিতে এসব বিষয়ে খুব বেশি স্পষ্ট অবস্থান দেখা যায়নি। বরং বেইজিং কৌশলগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, চীন বর্তমানে অত্যন্ত সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। একদিকে তারা ইরানের বড় অর্থনৈতিক অংশীদার, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। ফলে বেইজিং প্রকাশ্যে কোনো পক্ষের হয়ে দৃঢ় অবস্থান নিতে এখনো অনিচ্ছুক।

ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, চীনের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ ইরান প্রশ্নে বেইজিংকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন জ্বালানি ও বাণিজ্য সহযোগিতার ভবিষ্যৎ এখনো গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ইরান যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে এই সফর বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি আনতে পারেনি।

-রফিক


হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বিরল ঐকমত্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৫ ১৪:৪৫:১৯
হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বিরল ঐকমত্য
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সচল রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দুই নেতার বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস জানায়, বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের অবাধ সরবরাহ বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা জরুরি বলে উভয় নেতা মত দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমঝোতা।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা অবরোধ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পর থেকেই এই রুট ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে ভারতের নয়াদিল্লিতে চলমান ব্রিকস সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক তৎপরতাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানায়।

আরাগচি বলেন, তেহরান কোনো চাপ বা হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। তার ভাষায়, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ৩০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি জাহাজও ছিল। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হবে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। একইসঙ্গে বেইজিং নাকি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা এই সংঘাতে ইরানকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে তৃতীয় দফা সরাসরি যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন আলোচনাকে “ইতিবাচক” বললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত জটিল।

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর রকেট, ড্রোন ও কামান হামলা অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে ইসরাইলও পাল্টা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। লেবানন স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার দাবি করলেও ইসরাইল হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে।

-রাফসান


আফ্রিকায় ভারতীয় জম্বি ড্রাগের তণ্ডবলীলা: লাশের পাহাড় ফ্রিটাউনে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ২১:৫০:১০
আফ্রিকায় ভারতীয় জম্বি ড্রাগের তণ্ডবলীলা: লাশের পাহাড় ফ্রিটাউনে
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনৈতিক বাণিজ্যের এক হাড়হিম করা চিত্র ফুটে উঠেছে এএফপির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। সাধারণ ব্যথার ওষুধের মোড়কে ভারত থেকে কোটি কোটি ‘ট্যাপেন্টাডল’ ট্যাবলেট পাচার হচ্ছে আফ্রিকায়, যা এখন স্থানীয় ‘জম্বি ড্রাগ’ কুশের সঙ্গে মিশিয়ে এক ভয়াবহ প্রাণঘাতী মাদকে পরিণত হয়েছে। একে কেন্দ্র করে সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়ার মতো দেশগুলোতে বর্তমানে জাতীয় জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে।

ট্যাপেন্টাডল একটি উচ্চমাত্রার সিন্থেটিক ওপিওয়েড, যা বিশ্বের কোনো প্রধান ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদন দেয়নি। অথচ ভারত থেকে নিয়মিত কোটি কোটি ডলারের এই ট্যাবলেট নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন ও ঘানায় পৌঁছাচ্ছে। শুল্ক নথিতে এগুলোকে ‘মানুষের ব্যবহারের জন্য ক্ষতিহীন’ বলে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে নেশার উপকরণ হিসেবে। সিয়েরা লিওনের রাজধানী ফ্রিটাউনে মাত্র তিন মাসে ৪০০-র বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই এই ড্রাগ সেবনের ফলে প্রাণ হারিয়েছেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলেও শিপমেন্ট নথিতে দেখা গেছে, গুজরাটভিত্তিক বেশ কিছু কোম্পানি (যেমন- গুজরাট ফার্মাসিউটিক্যালস, মেরিট অর্গানিকস) উচ্চমাত্রার (২২৫ ও ২৫০ মি.গ্রা.) ট্যাপেন্টাডল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। কোম্পানিগুলো নিজেদের দায় এড়াতে চালানের গায়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য লিখে পাঠাচ্ছে। সিয়েরা লিওনের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসা ৯০ শতাংশ রোগীই ট্যাপেন্টাডল মেশানো কুশ সেবনে আসক্ত।

আফ্রিকার দেশগুলোতে এই ড্রাগ কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং দারিদ্র্য ও কঠিন শ্রমের ক্লান্তি ভুলতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। স্বর্ণখনির শ্রমিক, কুলি ও ট্যাক্সি চালকরা অমানবিক পরিশ্রম সইতে এই মরণনেশায় ঝুঁকছেন। এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরাও এখন এনার্জি ড্রিংকের সঙ্গে এই ট্যাবলেট মিশিয়ে সেবন করছে। নাইজেরিয়ায় বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোও যুদ্ধের ময়দানে ‘সাহস’ পেতে এই ওপিওয়েড ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই মাদকের এই নতুন আগ্রাসন আফ্রিকায় এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় তৈরি করছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলোর এই অনৈতিক মুনাফালোভী বাণিজ্য বন্ধ না হলে আফ্রিকার তরুণ প্রজন্ম ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ চিরতরে অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।

/আশিক


লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তু এখন মাসুম শিশুরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ২১:৪২:৪৫
লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তু এখন মাসুম শিশুরা
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে চলমান এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যার মধ্যে অন্তত ২০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল থেকে একটি তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে লেবাননের শিশুদের ওপর সহিংসতার মাত্রা বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শুধুমাত্র গত এক সপ্তাহেই দেশটিতে অন্তত ৫৯ জন শিশু নিহত অথবা গুরুতর আহত হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের এই বর্তমান পরিস্থিতি শিশুদের জন্য এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ইউনিসেফের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে শিশুদের মোট হতাহতের সংখ্যা ২০০ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছে আরও ৮০৬ জন। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১৪ জন শিশু ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করছে। এই চিত্র শিশুদের জীবনের চরম অনিরাপত্তাকেই ফুটিয়ে তুলছে।

সংস্থাটি গভীর উদ্বেগের সাথে জানিয়েছে, দীর্ঘ কয়েক মাসের ভয় আর অস্থিরতা কাটিয়ে যখন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করার কথা, ঠিক তখনই তারা নির্বিচার সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। লেবাননের শিশুরা বর্তমানে ভয়াবহ বাস্তুচ্যুতি এবং মর্মান্তিক ট্রমার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। ইউনিসেফ তাদের বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পুরো একটি প্রজন্মের শৈশব ও ভবিষ্যৎ চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: