ড. সাইমুম পারভেজ ও বিএনপির ন্যারেটিভ রূপান্তর: ডিজিটাল রাজনীতির নতুন অধ্যায়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ২৩:৫৮:৪০
ড. সাইমুম পারভেজ ও বিএনপির ন্যারেটিভ রূপান্তর: ডিজিটাল রাজনীতির নতুন অধ্যায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, বয়ানগত মেরুকরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তৃত প্রভাব—সব মিলিয়ে এই নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি বয়ান-সংগ্রামের ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছিল। এই বহুমাত্রিক বাস্তবতার মধ্যে যে বিষয়টি আলাদাভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তা হলো বিএনপির মিডিয়া সেলের তৈরি সংক্ষিপ্ত রিল ও ভিডিও কনটেন্টসমূহ। এই কনটেন্টগুলো ছিল একই সঙ্গে আকর্ষণীয়, সম্পৃক্ততামূলক এবং অনেক ক্ষেত্রে আবেগঘন। দলীয় নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো সাধারণ মানুষের কাছে সহজ, সংক্ষিপ্ত এবং সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করার পাশাপাশি এগুলো একটি সুপরিকল্পিত ন্যারেটিভ ও কাউন্টার-ন্যারেটিভ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিপক্ষের প্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী বয়ানকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিয়ে বরং নতুন ফ্রেমে পুনর্বিন্যাস করার কৌশল এখানে লক্ষ্য করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে যেখানে মনোযোগের স্থায়িত্ব কম এবং বার্তার ঘনত্ব বেশি, সেখানে এক মিনিট বা দেড় মিনিটের ভিডিওর মাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করা নিছক প্রচারণা নয়; এটি কৌশলগত যোগাযোগের পরিশীলিত প্রয়োগ।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এই কনটেন্ট নির্মাণের অন্যতম কারিগর ছিলেন ড. সাইমুম পারভেজ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সিডনি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির এলিয়ট স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স থেকে ফুলব্রাইট স্কলারশিপের অধীনে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত এক গবেষক। তাঁর গবেষণা ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে একাধিক স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক জার্নালে। এর মধ্যে রয়েছে Democratization (২০২১), Perspectives on Terrorism (২০১৯), Terrorism and Political Violence (২০১৮) এবং Political Violence in South Asia (২০১৮) প্রভৃতি। এসব প্রকাশনা তাঁর গবেষণাগত গভীরতা ও বিশ্লেষণী সক্ষমতার স্বাক্ষর বহন করে। টকশোতেও অপতথ্য, আবেগপ্রবণতা ও বাগাড়ম্বরের ভিড়ে ড. সাইমুম পারভেজের সংযত, তথ্যনির্ভর ও বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য আলাদা করে মনোযোগ কেড়েছে। তিনি সাধারণত তাত্ত্বিক কাঠামো, প্রাসঙ্গিক তথ্য ও তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন করেন, যা জনপরিসরে যুক্তিনির্ভর আলোচনার সংস্কৃতি গঠনে সহায়ক।

রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন-পরবর্তী সময় আরও জটিল। যদি জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক ড. সাইমুম পারভেজের মতো মেধাবী ও মননশীল ব্যক্তিদের দক্ষতা ও প্রজ্ঞা রাষ্ট্রপরিচালনার কাঠামোর ভেতরে যথাযথভাবে কাজে লাগানো সময়ের দাবি। আগামীর বাংলাদেশে একটি বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সমৃদ্ধ, সংযত কিন্তু দৃঢ় রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে গবেষক, নীতি-বিশ্লেষক এবং কৌশলগত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। টেকসই রাজনীতি কেবল স্লোগান, আবেগ কিংবা তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় চিন্তার গভীরতা, নীতির স্বচ্ছতা এবং বিশ্লেষণী প্রজ্ঞার ভিত্তিতে। সেই অর্থে ড. সাইমুম পারভেজের মতো ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ততা শুধু একটি দলের জন্য নয়, বরং সমগ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতির মানোন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

- জামান/১২৮৪৫


ড. ইউনূস বাংলাদেশে জালেম দের পুনর্বাসন করছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ২১:৩৩:৩১
ড. ইউনূস বাংলাদেশে জালেম দের পুনর্বাসন করছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী 
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ তুলেছেন। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক সভায় বক্তৃতাকালে তিনি দাবি করেন, ড. ইউনূস বাংলাদেশে ‘জালেম’দের পুনর্বাসন করছেন এবং তাদের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের অফিস উদ্বোধন করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রশাসনকে ব্যবহার করে যে কারচুপি হয়েছে, তাতে ড. ইউনূসের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা রয়েছে যা জাতি চিরকাল মনে রাখবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ড. ইউনূসের সাম্প্রতিক লন্ডন সফর নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে কী ধরনের আপস করা হয়েছে তার ফলস্বরূপ এই নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ দেখা গেছে। এছাড়া সারা দেশে নারীদের ওপর হামলা এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের ওপর জঘন্য হামলার জন্যও তিনি ড. ইউনূসকে দায়ী করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তাঁরা কাউকে ক্ষমা করার পক্ষপাতী নন এবং প্রতিটি অন্যায়ের বিচার চান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। নাসীরুদ্দীন দাবি করেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাওয়াকে নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা হিসেবে দেখা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ওসমান হাদি হত্যার বিচার সময়মতো হতো, তবে আজ দেশে গণধর্ষণের মতো ঘটনা কিংবা বিএনপির নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর সাহস কেউ পেত না। বাংলার জমিনে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি সরকারের প্রতি কড়া হুঙ্কার ছেড়েছেন।

/আশিক


শফিকুর রহমানের পর এবার নাহিদের ডেরায় বিএনপি প্রধান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ২১:০৪:৫২
শফিকুর রহমানের পর এবার নাহিদের ডেরায় বিএনপি প্রধান
নাহিদ ইসলামের বাসায় তারেক রহমান | ছবি : কালবেলা

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক ইতিহাস ও ঐক্যের ইঙ্গিত দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বসুন্ধরার বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠক শেষে রাত ৮টায় তিনি বেইলি রোডের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি নাহিদ ইসলামের বাসায় পৌঁছান।

এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জামায়াত আমিরের পর এনসিপি প্রধানের সঙ্গে এই সাক্ষাৎকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী এক ইতিবাচক ধারার রাজনীতির সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে তারেক রহমানের এই সরাসরি যোগাযোগ বড় কোনো ঐক্যের পথে ইঙ্গিত দিচ্ছে। বেইলি রোডে নাহিদ ইসলামের বাসভবনে পৌঁছানোর পর সেখানে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। এই ঝটিকা সফরকে ঘিরে বেইলি রোড এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।

/আশিক


শপথের আগে নয়া মেরুকরণ: শফিকুর রহমানের ডেরায় বিএনপি প্রধান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৯:৫২:৫৭
শপথের আগে নয়া মেরুকরণ: শফিকুর রহমানের ডেরায় বিএনপি প্রধান
জামায়াত আমিরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান/ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের আভাস দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি জামায়াত আমিরের রাজধানীর বসুন্ধরাস্থ বাসভবনে পৌঁছান। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ঠিক দুদিন আগে এই দুই শীর্ষ নেতার এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এর আগে গতকাল শনিবার বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, তারেক রহমান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সন্ধ্যায় তিনি ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে যান। এই আগমনকে কেন্দ্র করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন।

তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ, মন্ত্রিসভার গঠন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। নাহিদ ইসলামের পর জামায়াত আমিরের সঙ্গে এই বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।

/আশিক


কৃষক-শ্রমিকদের অসম্মান মানেই আমার বাবাকে অপমান: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৮:৫২:১৬
কৃষক-শ্রমিকদের অসম্মান মানেই আমার বাবাকে অপমান: জামায়াত আমির
স্মরণসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

নিজে কোনো ধনী পরিবারে নয়, বরং এক কৃষক পরিবারে জন্ম নিয়েছেন উল্লেখ করে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের ইটনা ও নিকলী উপজেলায় নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে নিহত দুই কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্মরণসভায় অংশ নিয়ে তিনি এই আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কৃষক ও শ্রমিকদের সম্মান না করা মানেই তাঁর নিজের বাবাকে অপমান করা।

সকাল ১০টায় ইটনার শিমুলবাগ দক্ষিণহাটি এলাকায় আয়োজিত স্মরণসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষকে সম্মান করা তাঁর একটি ইমানি দায়িত্ব। অনেক মানুষ গরিবের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আড়ালে হাত মুছে ফেলেন—এমন আচরণের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের ঘামের গন্ধ তাঁর কাছে আতরের মতো পবিত্র। তিনি বিশেষ করে শিশু এবং দিনমজুর শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে থাকার আনন্দ তুলে ধরেন এবং শাহ আলমের পরিবারের পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।

ইটনার কর্মসূচি শেষে তিনি নিকলী উপজেলার ছাতিরচরে যান সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুস ছালামের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে। উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনায় আয়োজিত দুটি পৃথক নির্বাচনী সমাবেশের সময় ওই দুই কর্মী ও সমর্থক মৃত্যুবরণ করেন। জামায়াত আমির সকাল থেকেই সড়কপথে কিশোরগঞ্জ পৌঁছে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ দেখভালের বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


মঞ্জুর দুর্গে জামায়াতের হানা: যে ভুলে কপাল পুড়ল বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৮:৪০:৫৮
মঞ্জুর দুর্গে জামায়াতের হানা: যে ভুলে কপাল পুড়ল বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর
ছবি : সংগৃহীত

খুলনার রাজনীতির দীর্ঘদিনের এক অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে এবার বড় ধরনের ওলটপালট ঘটে গেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আধিপত্য বিস্তার করে জয় পেয়ে আসছিল, সেখানে এবার প্রথমবারের মতো বিজয় পতাকা উড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এবং সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন জামায়াতের খুলনা মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং খোদ বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, এই পরাজয়ের পেছনে মূলত কাজ করেছে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দলের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে জয়ী এই আসনে মঞ্জুর ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও এবার তাঁর বলয়ের অতিরিক্ত আত্মতৃপ্তি প্রচারণায় ভাটা ফেলেছিল। টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মতে, জামায়াতের প্রার্থী যখন ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, মঞ্জু তখন প্রচারণায় ছিলেন অনেকটা নিস্পৃহ। এছাড়া ২০২১ সালে মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে মঞ্জু অনুসারীদের কোন্দল ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলেছে।

অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ছিলেন অত্যন্ত পরিকল্পিত ও কৌশলী। দলটির কর্মীরা অলিগলি এবং নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল, যা বিএনপির প্রধান সড়ক ও বাজারকেন্দ্রিক প্রচারণার তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সেকেন্দার আলী খান সাচ্চু নিজেও কোন্দলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। খুলনার এই ফল যেমন বিএনপিকে নতুন করে ভাবাচ্ছে, তেমনি জামায়াতের জন্য এটি এক বিশাল আত্মবিশ্বাসের জয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলমের ভাষায়, এই হারের ‘হিসাব মিলছে না’ এবং তাঁরা বিষয়টি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণে নেমেছেন।

/আশিক


শপথের আগেই বড় বাধা: মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ইসিতে নাসীরুদ্দীন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৭:৫৫:৩৮
শপথের আগেই বড় বাধা: মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ইসিতে নাসীরুদ্দীন
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-৮ আসনে ভোট কারচুপি, অনিয়ম ও বেআইনি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে এই আসনের শপথ গ্রহণ স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তিনি এই লিখিত আবেদন জমা দেন। শাপলা কলি প্রতীকের এই প্রার্থী দাবি করেছেন, নির্বাচনের দিন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এবং তাঁর সমর্থকরা বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছেন।

আবেদনপত্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১২টি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে ভোট রিগিং এবং প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, মির্জা আব্বাসের পরিবার ও কর্মীরা এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিলকৃত ভোটকে ধানের শীষের পক্ষে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাও এসব অনিয়মে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে তিনি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অত্যন্ত আলোচিত এই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ৫৭ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট। অর্থাৎ মাত্র ৫ হাজার ৬৯৬ ভোটের ব্যবধানে এই জয় নির্ধারিত হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, সঠিক তদন্ত হলে এবং অনিয়মগুলো ধরা পড়লে তিনিই বিজয়ী হতেন। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে এবং গেজেট প্রকাশের আগেই বিষয়টি সুরাহা করতে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

/আশিক


সরকার গঠনের আগেই ঐক্যের বড় বার্তা: আজ শরিকদের মুখোমুখি তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১১:০৬:৩৪
সরকার গঠনের আগেই ঐক্যের বড় বার্তা: আজ শরিকদের মুখোমুখি তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশে এক নতুন ইতিবাচক ধারার রাজনীতি শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাবেন। বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার নিশ্চিত করেছেন যে, আজ থেকেই দেশের রাজনীতিতে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে যাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি রাত ৮টায় বাড্ডায় এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে পৌঁছাবেন। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দুই দশক পর সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির এই শীর্ষ নেতার সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। শরিক ও সহযোগী দলগুলোর সাথে এই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ অবস্থান আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ঘোষিত ফলাফলের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফল স্থগিত থাকা বাকি দুটি আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং তাদের জোটের অন্য শরিকরা ৯টি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে ২১২টি আসন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জোট এখন সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। আজকের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক মূলত নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১১:০০:০৬
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে যাচ্ছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, এনসিপি একটি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উদ্যোগটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আসিফ মাহমুদ তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, এই ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত নতুন সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে একটি ‘ওয়াচডগ’ বা নজরদারি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন, ভুল-ভ্রান্তি তুলে ধরা এবং জনগণের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। সবশেষ নির্বাচনে এনসিপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই তরুণ নেতা মনে করেন, একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য কার্যকর বিরোধী শক্তির পাশাপাশি গঠনমূলক নজরদারি অত্যন্ত প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপির এই পদক্ষেপটি মূলত নির্বাচিত সরকারকে চাপে রেখে সঠিক পথে পরিচালনার একটি আধুনিক কৌশল। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জবাবদিহিতার যে সংস্কৃতি তৈরির দাবি উঠেছে, ছায়া মন্ত্রিসভা সেই দাবিরই প্রতিফলন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার যখন ক্ষমতা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এনসিপির এই ঘোষণা রাজনৈতিক ময়দানে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

/আশিক


কোনো দুর্বলতা দেখানোর সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ০৯:০২:২০
কোনো দুর্বলতা দেখানোর সুযোগ নেই: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ জনগণের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ধরনের অপশক্তির কাছে মাথা নত করা হবে না এবং যেখানেই অন্যায় হবে সেখানেই তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

জামায়াত আমির তাঁর বার্তায় অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলের উশৃঙ্খল কর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাই-বোনদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে। বিশেষ করে ১১ দলীয় জোটের প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের শ্লীলতাহানির মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায় ও সত্যের ওপর অটল থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মজলুমের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করা মানবতার দাবি, মহান আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি এবং দেশকে ভালোবাসার দাবি।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনোত্তর এই সহিংসতা প্রতিরোধে কোনো ধরনের দুর্বলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। যেখানেই আঘাত আসবে, সেখানেই জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এবং দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। আমিরের এই সাহসী বার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা মূলত কর্মীদের মাঠ পর্যায়ে শান্ত থাকার পাশাপাশি আত্মরক্ষারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: