আদালতের গ্রিন সিগনাল পেলেই ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ইসি আনোয়ারুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৭:৩০:২৮
আদালতের গ্রিন সিগনাল পেলেই ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ইসি আনোয়ারুল
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশে কোনো ধরনের তড়িঘড়ি করেনি এবং আইনের মধ্য থেকেই সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়েই ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ফলাফল ঘোষণার পর ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে পুনর্বিবেচনার যে দাবি তোলা হয়েছে, সেটিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম। তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, কোনো অভিযোগকারীর আইনের দ্বারস্থ হতে কোনো বাধা নেই। যদি আদালত থেকে ভোট পুনর্গণনার কোনো নির্দেশনা আসে, তবে কমিশন সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি আরও যোগ করেন, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন পুরোপুরি সফল হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

বক্তব্যের শেষ দিকে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই নির্দিষ্ট আসনের ব্যাপারে কমিশন এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। পুরো বিষয়টি পর্যালোচনাধীন রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী এমন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাগুলো কমিশন কীভাবে সামলায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

/এনএ


১৮০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান! শিক্ষা খাতে বড় বদল আনছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ২১:২৫:৫৩
১৮০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান! শিক্ষা খাতে বড় বদল আনছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। সংসদ নেতা হিসেবে এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রশ্নোত্তর পর্ব, যেখানে তিনি সরাসরি সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

অধিবেশনের নির্ধারিত ৩০ মিনিটে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীরের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের রায়ে আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি যেমন কৃতজ্ঞতা রয়েছে, তেমনি যারা ভোট দেননি—সবার জন্যই সমানভাবে কাজ করা আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে।’

শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন আনতে ১৮০ দিন, এক বছর এবং পাঁচ বছর মেয়াদী পৃথক কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুল ড্রেস বিতরণের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে স্মার্ট ট্যাব প্রদান করা হবে।

এছাড়া ডিজিটাল ক্লাসরুম প্রসারের লক্ষ্যে ৩ হাজার ৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ চলছে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ৪১৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসায় উচ্চগতির বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষায়িত ইতালিয়ান ও জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

/আশিক


সংসদীয় ইতিহাসে বিরল নজির: সরকারি দলের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ সংসদে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ২১:০৪:৫১
সংসদীয় ইতিহাসে বিরল নজির: সরকারি দলের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ সংসদে
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক বিরল ও ঐতিহাসিক নজির স্থাপিত হলো। দীর্ঘ ৫৩ বছরের পথচলায় এই প্রথমবারের মতো সরকারি দল বা ট্রেজারি বেঞ্চের কোনো সদস্যের আনা মুলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই ঘোষণা দেন।

সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ বিধি অনুযায়ী ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ মুলতবি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াই ও জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফসল এই সনদটি আমাদের ভবিষ্যতের পথরেখা।

এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যেখানে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন পরিমার্জনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা রয়েছে। এই সনদের প্রকৃত বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম মুলতবি রেখে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৫(২) বিধি অনুযায়ী আলোচনার অনুমতি প্রদান করেন। তিনি জানান, সংসদীয় ইতিহাসে সরকারি দলের পক্ষ থেকে মুলতবি প্রস্তাব আসার ঘটনা এটিই প্রথম।

সংসদের বর্তমান কাজের অবস্থা বিবেচনা করে আগামী ৫ এপ্রিল রবিবার দিনের সর্বশেষ বিষয় হিসেবে এই প্রস্তাবের ওপর অনধিক দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে এই নতুন অধ্যায়টি গণতন্ত্রের চর্চায় এক বিশেষ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

/আশিক


সংসদে আওয়ামী আমলের পাচারের খতিয়ান দিলেন তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ১৮:১৭:৩৯
সংসদে আওয়ামী আমলের পাচারের খতিয়ান দিলেন তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই হিসাব তুলে ধরেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।

এই পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকার সমান। পাচার হওয়া এই অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে ইতোমধ্যে সম্মতি মিলেছে এবং বাকি সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।

সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদ নেতা জানান যে, বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক দেশে এ পর্যন্ত মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ বর্তমানে সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ১৪১টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল এবং ছয়টি মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং দমনে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত এই অর্থনৈতিক অনিয়মের একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন।

/আশিক


রণক্ষেত্র পেরিয়ে ফিরছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী ৬ জাহাজ! বড় ঘোষণা ইরানের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ১২:১৮:১৮
রণক্ষেত্র পেরিয়ে ফিরছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী ৬ জাহাজ! বড় ঘোষণা ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মাঝে মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজের জন্য সুখবর মিলেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে যে, রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের এই জাহাজগুলো পার হওয়ার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল।

ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশের সাথে ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উভয় পক্ষ জাহাজগুলো দ্রুত ও নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি ইরান বন্ধ করে দিয়েছিল এবং কেবল তাদের মিত্র দেশের জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছিল। বাংলাদেশের এই জাহাজগুলো পার হওয়ার অনুমতি পাওয়াকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


মোজাম্মেলের অবৈধ টাকায় পলাতক পুলিশ কর্তাদের বিলাসী জীবন!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৯:৪৮:০২
মোজাম্মেলের অবৈধ টাকায় পলাতক পুলিশ কর্তাদের বিলাসী জীবন!
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া এবং সেই অর্থ দিয়ে বিদেশে পলাতক দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিলাসী জীবনযাপনের খরচ জোগানোর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোজাম্মেল হকের এই বিশাল সাম্রাজ্যের ভাগ পাচ্ছেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশিদ এবং এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অন্তত ১০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বর্তমানে বিদেশে পলাতক এই কর্মকর্তাদের আয়ের কোনো বৈধ উৎস না থাকলেও মোজাম্মেলের পাঠানো টাকায় তারা ভারত, ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে রাজকীয় জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গাজী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো ‘আনন্দ পুলিশ হাউজিং সোসাইটি’ নামক একটি আবাসন প্রকল্প। নামের সাথে ‘পুলিশ’ শব্দ যুক্ত করে ব্যবসায়িক সুবিধা নিলেও প্রকল্পটির কোনো সরকারি অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে। রূপগঞ্জ, কুমিল্লা ও সুনামগঞ্জের অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে, মোজাম্মেল হক ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দিয়ে তাদের পৈতৃক জমি ও মাছের প্রজেক্ট দখল করে নিয়েছেন। রূপগঞ্জের হাজি সোলাইমান মিয়ার মতো অনেক ভুক্তভোগী আজও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি এবং দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার মেলেনি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মোজাম্মেল হক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে খুশি রাখতে তাঁর হাউজিং প্রকল্পে একটি প্লট উপহার দিয়েছিলেন, যেখানে বেনজীর একটি বাড়িও নির্মাণ করেন। সেই বাড়িটি সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জব্দ করেছে। মূলত বেনজীরের নামের অপব্যবহার করে নিজের অবৈধ কার্যক্রম আড়াল করতেই চতুর মোজাম্মেল এই কৌশল নিয়েছিলেন। বর্তমানে বেনজীর আহমেদ নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগে সপরিবারে দেশান্তরী। অভিযোগ রয়েছে, মোজাম্মেল হক শুধু পুলিশ কর্মকর্তাদেরই নয়, বেশ কয়েকজন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকেও নিয়মিত অর্থ পাঠাচ্ছেন।

এই বিশাল দুর্নীতি ও অর্থপাচারের নেপথ্যে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুকের মতে, যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবেই এসব কর্মকর্তা নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়ছেন। তাঁরা জানেন যে অপরাধ করেও পার পাওয়া সম্ভব, যা অন্যদেরও উৎসাহিত করছে। গাজী মোজাম্মেলের সম্পদের উৎস এবং বিদেশে অর্থপাচারের পথ খতিয়ে দেখতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও সুধীসমাজ।

/আশিক


শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ডিআইজি জলিল? ট্রাইব্যুনালের বড় তথ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ২১:৫২:১১
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ডিআইজি জলিল? ট্রাইব্যুনালের বড় তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মন্ডলের সরাসরি পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।

তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, শাপলা চত্বরের সেই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে, তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি কি না তা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। গত বছরের ১৪ মে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রেক্ষিতে গত সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ থেকে ডিবি পুলিশ আব্দুল জলিল মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে। আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "তদন্তে উঠে এসেছে যে আব্দুল জলিল মন্ডলের সার্বিক পরিকল্পনাতেই শাপলা চত্বরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ওইসব বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল।" তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং নিহতদের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ৫ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। দ্রুতই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


দেশবাসী তাকিয়ে আছে, প্রকল্পের টাকা লুটপাট করলে রক্ষা নেই: পানিসম্পদ মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৯:৪৬:০৪
দেশবাসী তাকিয়ে আছে, প্রকল্পের টাকা লুটপাট করলে রক্ষা নেই: পানিসম্পদ মন্ত্রী
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি

দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারি প্রকল্পের টাকা লুটপাটের বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না এবং এমন কিছু ঘটলে সরকার তা কঠোরভাবে দমন করবে।

নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশবাসী তাকিয়ে আছে আমরা হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দিয়ে দেশকে কী দিতে পারছি। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী ৫ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত চলমান খাল খনন কর্মসূচিকে পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে বিশেষজ্ঞ এবং প্রকৌশলীদের মাধ্যমে সঠিক খাল বাছাই এবং দক্ষ লোকবল নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াই এবং জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই সরকার হঠাৎ করে ক্ষমতায় আসেনি; ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই শাসনামলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে কোনো প্রকার দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। খাল খনন ও পানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

/আশিক


ঢাকাসহ ১৩ অঞ্চলে কালবৈশাখীর হানা: বজ্রসহ বৃষ্টির বড় আপডেট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৫০:০৬
ঢাকাসহ ১৩ অঞ্চলে কালবৈশাখীর হানা: বজ্রসহ বৃষ্টির বড় আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ১৩টি জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বড় একটি অংশে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা এই ঝড়ের সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়তে পারে এমন জেলাগুলোর তালিকায় রয়েছে—ঢাকা, পাবনা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং সিলেট। আবহাওয়া অফিস এই অঞ্চলগুলোর নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে। ছোট নৌযান ও লঞ্চগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে এবং ঝড়ের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়ার অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপের বাড়তি অংশ অবস্থান করছে। এছাড়া দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ বিরাজমান। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের সব বিভাগেই আগামী কয়েক দিন অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে আগামী দুই দিন দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

/আশিক


এপ্রিলে বাড়ছে না তেলের দাম!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৪৫:৩৭
এপ্রিলে বাড়ছে না তেলের দাম!
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট এবং তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতার মাঝেই স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক আনুষ্ঠানিক আদেশে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আগামী এপ্রিল মাসে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। অর্থাৎ, বর্তমান মার্চ মাসের নির্ধারিত দামেই এপ্রিল মাসেও তেল কিনতে পারবেন গ্রাহকরা।

মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এনামুল হকের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত)’ আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা দরে বিক্রি হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের নিয়ম থাকলেও, এপ্রিলের জন্য দাম অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষ ও পরিবহন খাতের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়ানোর যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার এই ঘোষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই নতুন (অপরিবর্তিত) মূল্য কার্যকর থাকবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: