২৪ ঘণ্টায় অর্ধশতাধিক ভূমিকম্প: লাভা ছড়াচ্ছে ফিলিপাইনের মায়ন আগ্নেয়গিরি

ফিলিপাইনের সবচেয়ে সক্রিয় ও বিপজ্জনক মায়ন আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে তীব্র অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আগ্নেয়গিরিটির অভ্যন্তরে কয়েক ডজন শক্তিশালী ভূমিকম্প ও কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এর ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের (ফিভলক্স) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানায়, গত এক দিনে মায়ন আগ্নেয়গিরিতে ৫১টি আগ্নেয় ভূমিকম্প, ৩০টি আগ্নেয় কম্পন, শত শত শিলা ধস এবং ৬টি পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহের (উত্তপ্ত গ্যাস ও পাথরের দ্রুততম প্রবাহ) সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির মূল গহ্বর থেকে অনবরত জ্বলন্ত লাভা বের হচ্ছে এবং লাভার এই প্রবাহ বাসুদ, বংগা ও মি-ইসি এলাকার দিকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে গহ্বর থেকে লাভার উঁচুতর ফোয়ারাও দেখা যাচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, শুক্রবার আগ্নেয়গিরিটি থেকে রেকর্ড ১ হাজার ৪৮২ টন সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়েছে, যা আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। বিষাক্ত এই গ্যাসের কারণে সৃষ্ট বিশাল ধোঁয়ার স্তম্ভ বাতাসের গতিপথে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ওই অঞ্চলের বাতাস ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির চারপাশের ৬ কিলোমিটার এলাকাকে ‘স্থায়ী বিপৎসীমা’ (Permanent Danger Zone) ঘোষণা করে জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহার না করার জন্য সব ধরনের বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ফিভলক্স আগ্নেয়গিরির পাদদেশে এবং ঢালে বসবাসকারী হাজার হাজার বাসিন্দাদের লাভা প্রবাহ, আকস্মিক শিলা ধস, মাঝারি মাত্রার বিস্ফোরণ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ‘লাহার’ বা বিপজ্জনক কাদাপ্রবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
/আশিক
ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের সাম্প্রতিক সামারিক কার্যক্রম ও নীতিকে পুরো মানবজাতির জন্য চরম লজ্জাজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বার্ষিক রাজনৈতিক সম্মেলনে দেয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন, ইসরায়েল যেসব নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিই হোক না কেন, বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো এই ধরনের পাশবিকতা ও নৃশংসতাকে কোনো যুক্তিতেই বৈধতা দেওয়া যায় না।
মিলিব্যান্ড বলেন, ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও মানবতা বিপর্যয় দেখে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা তাঁর সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করছে। এই সংকট নিরসনে যুক্তরাজ্য সরকার এখন কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবিক পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লেবার পার্টির বর্তমান পররাষ্ট্রনীতিতে পশ্চিম তীরের বেআইনি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদ এবং গাজা উপত্যকায় সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলের অবৈধ বসতি অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যের যুক্তরাজ্যে আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ওইসব দখলীকৃত এলাকার যেকোনো নির্মাণ প্রকল্প বা অর্থায়নে ব্রিটিশ সহায়তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জোরালো ঘোষণা দেন এই প্রবীণ কূটনৈতিক।
তবে এই কঠোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকদের লক্ষ্য করে নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল সরকারের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে গৃহীত হচ্ছে বলে পরিষ্কার করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার যেকোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ব্রিটেন দৃঢ় অবস্থানে থাকবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে মিলিব্যান্ড স্মরণ করিয়ে দেন যে, যেকোনো প্রকাশ্য অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা অপরাধের শামিল। আগামীর নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই একটি বিশ্ব গড়ে তোলা আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বয়সের সাথে সাথে যে মানবিক নীতি ও মূল্যবোধ কখনো ম্লান হয়ে যেতে পারে না, তা মনে করিয়ে দিয়ে ব্রিটিশ জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেন তিনি। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন সতর্কতা
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থানীয় আইনকানুন কঠোরভাবে মেনে চলা, নিরাপদ প্রবাসজীবন সুনিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের আইনি ঝামেলা এড়াতে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রবাসীদের স্বার্থে প্রকাশিত এক জনকল্যাণমূলক বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দেশটির স্থানীয় আইন, আইনশৃঙ্খলা কিংবা জননিরাপত্তার পরিপন্থী এমন কোনো বিষয় ফেসবুক, ইউটিউব বা এক্সের (সাবেক টুইটার) মতো মাধ্যমে শেয়ার, প্রচার, প্রকাশ বা এমনকি নিজের কাছে সংরক্ষণ করা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সংবেদনশীল বা বিতর্কিত পোস্টে কোনো লাইক, মন্তব্য কিংবা পুনরুল্লেখ না করতে প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে কনস্যুলেট।
আইনি সুরক্ষার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেকোনো কাগজপত্রের ভেতরের বিষয়বস্তু বা শর্ত পুরোপুরি না বুঝে স্বাক্ষর করা একেবারেই উচিত নয়। একই সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই খালি বা সাদা কাগজে কোনো ধরনের স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ বা টিপছাপ না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত আইনি নথির অপব্যবহার রোধে আরও জানানো হয়, কোনো প্রবাসী নিজের ইকামার (বসবাস অনুমতিপত্র) অধীনে অন্য কোনো ব্যক্তি, নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনো সিম কার্ড, মোবাইল সেট, গাড়ি কিংবা অন্য কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নিবন্ধিত করতে পারবেন না।
এ ছাড়া সৌদি আরবে যে এলাকা বা প্রতিষ্ঠানের নামে ইকামা ইস্যু করা হয়েছে, তা বাদ দিয়ে অন্য কোথাও বা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করা আইনত দণ্ডনীয়। রাস্তার পাশে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসপত্র বা বাতিল ধাতু (স্ক্র্যাপ) সংগ্রহ করে বিক্রি করা, অনুমোদন ছাড়া ফুটপাতে দোকানপাট বসানো কিংবা অবৈধভাবে পানি বিক্রির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকেও প্রবাসীদের সম্পূর্ণ দূরে থাকতে বলা হয়েছে। একই সাথে অপরিচিত বা অচেনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেন থেকে দূরে থাকা এবং চাকরির ভুয়া প্রলোভন এড়িয়ে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে কনস্যুলেট জেনারেল উল্লেখ করে, সৌদি আরবের প্রচলিত আইনের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশীদের শ্রদ্ধাশীল ও সচেতন আচরণ তাদের প্রবাসজীবনকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখবে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
/আশিক
ইরানে আর কখনো বিদেশি আধিপত্য ফিরবে না, আরব সাগর থেকেও তাড়ানো হবে শত্রুদের: খামেনি
ইরানে যেকোনো মূল্যে বিদেশি আধিপত্যের অন্ধকার শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার যে চক্রান্ত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো চালিয়ে যাচ্ছে, তা আর কখনোই সফল হবে না বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানানো হয়েছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক সামরিক ও রাজনৈতিক বার্তায় তিনি এ আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, এই প্রতিরক্ষা সপ্তাহটি ১৯৮০ সালে তৎকালীন ইরাকি স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের ইরান আক্রমণের স্মৃতি এবং লেবাননের প্রয়াত হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের সাথে সম্পর্কিত।
সর্বোচ্চ নেতা খামেনি তার বার্তায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে একসময় দক্ষিণ ইরানের সমুদ্রসীমা ও প্রণালিগুলো বিদেশি নৌবাহিনীর অবাধ বিচরণ ও একচ্ছত্র ‘খেলার মাঠে’ পরিণত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বীর ইরানি যোদ্ধা এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম রক্ষকদের কাছ থেকে ক্রমাগত ‘বেদনাদায়ক ও প্রাণঘাতী আঘাত’ পাওয়ার পর শত্রু বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিপক্ষ শক্তি এখন ভয়ের কারণে আর আরব সাগরের এপারে আসার সাহস দেখাচ্ছে না মন্তব্য করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আরব সাগর থেকেও অতি দ্রুত শত্রু বাহিনীকে চিরতরে উৎখাত করা হবে এবং সে দিন আর খুব বেশি দূরে নয়।
ঐতিহাসিক ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পূর্ববর্তী সময়কে দেশের ইতিহাসের এক ‘অন্ধকার অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোজতবা খামেনি বলেন, তৎকালীন ইরানি রাজতন্ত্রের ওপর সাম্রাজ্যবাদী শক্তির রাষ্ট্রদূতদের পরোক্ষ হুকুমদারি চলত এবং দেশীয় সম্পদ অবাধে লুণ্ঠন করা হতো। তবে ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ দেশের সাধারণ মানুষের ভেতরে যে জাতীয় সংহতি ও বিপ্লবী চেতনা জাগ্রত করেছে, তার ফলে পুরোনো ও নতুন ধাঁচের ঔপনিবেশিক শক্তির পতন নিশ্চিত হয়েছে। ইরানের অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সার্বভৌমত্বের ওপর নজর দেওয়া বিদেশি চক্রান্তকারীদের প্রতিহত করে বিপ্লবের সেই ধারা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সূত্র : প্রেস টিভি
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আমদানির নতুন সংকট: বিশেষ প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক সংঘাতের জেরে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ঘোষিত ‘ফোর্স ম্যাজুর’-এর মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। আন্তর্জাতিক জ্বালানিভিত্তিক বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কাতারের এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকার কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রলম্বিত হচ্ছে।
‘ফোর্স ম্যাজুর’ একটি আন্তর্জাতিক আইনি পরিভাষা, যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণহীন বা অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক ও সামরিক পরিস্থিতির কারণে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দায়মুক্ত রাখা হয়। মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর পর থেকেই কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’ প্রতি মাসেই তাদের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সরবরাহ স্থগিতের আইনি নোটিশ দিয়ে আসছে। চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাশাপাশি ভারতের অন্তত একটি বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এবং ইতালির ‘এডিসন এসপিএ’-কে সরবরাহ স্থগিতের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে কাতারএনার্জি। এর মধ্যে ইতালীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ আগামী ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত গড়িয়েছে।
যদিও কাতারএনার্জি চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিত পরিসরে জ্বালানি ট্যাঙ্কার পাঠানো শুরু করেছে, তবে তা যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক প্রবাহের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। একদিকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস না করার অনড় বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও সামরিক ও কূটনৈতিক অগ্রগতির ব্যাপারে বৈপরীত্যমূলক ইঙ্গিত মিলছে। ভূ-রাজনৈতিক এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে এলএনজির আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যার ফলে এশিয়া ও ইউরোপীয় জ্বালানি বাজারে এলএনজির দর ২০২২ সালের শেষভাগের ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির পর পুনরায় সর্বোচ্চ চূড়ায় গিয়ে পৌঁছেছে।
/আশিক
হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের নতুন অবস্থান প্রকাশ
ইরানের জোরালো ও সুসংগঠিত সামরিক প্রতিরোধের মুখেই প্রতিপক্ষ শত্রু বাহিনী ইতোমধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি থেকে পিছু হটে আরব সাগরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে এবং খুব শিগগিরই আরব সাগর থেকেও তাদের পুরোপুরি তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি উল্লেখ করেন যে, দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় জলসীমা পাহারা দেওয়া বীর সেনাদের ক্রমাগত কঠোর আঘাতের ফলে শত্রুপক্ষ হরমুজ প্রণালি ছেড়ে আরব সাগরের দিকে পিছিয়ে গেছে। বর্তমানে তারা নতুন করে আর সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাহস পাচ্ছে না, কারণ যখনই কোনো ধরনের সামরিক ঝুঁকি নিয়ে তারা এগোনোর অপচেষ্টা চালিয়েছে, তখনই নিজেদের অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে এনেছে। অতি শিগগিরই আরব সাগরকে সম্পূর্ণভাবে শত্রু মুক্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অনেক হিসাব-নিকাশে ইরানকে সামরিক শক্তির দিক থেকে বিশ্বের চতুর্থ পরাশক্তি মনে করা হলেও ঐশ্বরিক শক্তিতে বিশ্বাসী ইরানই প্রকৃতপক্ষে বিশ্বমঞ্চে সর্বাধিক শক্তিশালী রাষ্ট্র। এ সময় নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক রাজপথ ও সর্বস্তরে "দায়িত্বশীল উপস্থিতি"-র ভুয়সী প্রশংসা করেন খামেনি।
উল্লেখ্য, অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের সার্বভৌম একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে ইরানের সাম্প্রতিক তীব্র সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মহলে মোজতবা খামেনির এমন সময়োপযোগী ও আগ্রাসী বার্তা বিদ্যমান সামরিক উত্তেজনার পারদকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
/আশিক
পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক চাপ: তেহরানের নতুন কৌশলগত অবস্থান প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু করতে ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে নমনীয় হওয়ার এবং বড় ধরনের নীতিগত ছাড় দেওয়ার তীব্র চাপ দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা। তবে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে অব্যাহত কূটনৈতিক চাপ, নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ কিংবা মার্কিন বিমান হামলা হলেও তা নিজস্ব সামরিক শক্তিতে সামলে নেওয়া পুরোপুরি সম্ভব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে মধ্যস্থতাকারী আঞ্চলিক কূটনীতিকদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো তেহরানের কাছ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু দৃশ্যমান ছাড় আদায় করা, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে। সংঘাতের শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক মাথাব্যথার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে দেওয়া সাম্প্রতিক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে আটকাতে দেশটির বর্তমান সরকারকে পুরোপুরি ‘ধ্বংস’ করার বিকল্পও বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের কারণে সামরিক সংঘাতের প্রাথমিক কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ কৌশলগত হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার আলোচনা এখন অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই তেহরান কৌশলগত বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে। ফলে যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির মূল শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া। তবে মধ্যস্থতাকারী আরব কর্মকর্তাদের মতে, ইরান নিজের পারমাণবিক নীতিতে হঠাৎ করে নমনীয় হবে—এমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
তেহরানের মূল দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি আনতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকেও অবশ্যই পূর্বে আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিতে হবে। পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালির চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—এই দুই জটিল সমীকরণের সুরাহা না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা আবারও চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
সূত্র : দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
পারমাণবিক অস্ত্রের পথ খোলা রাখছে সৌদি আরব: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে তোলপাড়
সৌদি আরব ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা বা বিকল্প পথ পুরোপুরি নাকচ করেনি—মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক গোপন প্রতিবেদনে এমন বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসার পর ওয়াশিংটনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই রিয়াদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে এই সংবেদনশীল তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো একাধিক অতি গোপনীয় সামরিক ও গোয়েন্দা নথিতে এই চাঞ্চল্যকর মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। তবে কৌশলগত নিরাপত্তার কারণে নথির ভেতরের বিস্তারিত বিবরণ এখনো সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়নি এবং এ বিষয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মূলত সৌদি আরবে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পারমাণবিক জ্বালানি খাত ও বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিতে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে যে দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তিটি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রকাশের ঘটনায় মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তির জোর সামরিক ও রাজনৈতিক যুক্তি তুলে ধরে জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক অংশীদারত্ব দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে যেমন নতুন মাত্রা দেবে, তেমনি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে। তদুপরি, রিয়াদ যাতে পারমাণবিক প্রযুক্তি ও কাঁচামালের জন্য মার্কিন বিরোধীদের তালিকাভুক্ত রাশিয়া কিংবা চীনের দিকে ঝুঁকে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জাতীয়ভাবে অতীব জরুরি।
তবে প্রস্তাবিত চুক্তির প্রাথমিক শর্ত অনুযায়ী সৌদি আরবকে কেবল ৫ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার গোপন অবকাশ রাখা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি বোমার উপযোগী না হলেও, এই মাত্রার সক্ষমতা অর্জন করলে অতি অল্প সময়ে অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে রিয়াদ। তবে সৌদি সরকারের পক্ষে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী যুবরাজ আবদুল আজিজ বিন সালমান সাফ জানিয়েছেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিকামী ও স্বচ্ছ বেসামরিক কাজের জন্য পরিচালিত হবে।
/আশিক
হরমুজ প্রণালিতে নতুন সামুদ্রিক উত্তেজনা: আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনে বড় খবর
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক সামুদ্রিক ড্রোন আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত একটি সমন্বিত ও অত্যন্ত জটিল সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ওই আমেরিকান পানির নিচের ড্রোনটি সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতির মাধ্যমে আইআরজিসি বিশ্বমঞ্চে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, আটক করা মার্কিন সামুদ্রিক যানটি মূলত ‘রেমাস ৬০০’ (REMUS 600) মডেলের একটি অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় চালকহীন যান (Autonomous Underwater Vehicle)। গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি ট্র্যাক করে সেটিকে জলসীমা থেকে তুলে এনে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে জব্দ করেছে আইআরজিসি নৌবাহিনী। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ড্রোনটিতে থাকা গোপন তথ্য ও ডাটা উদ্ধারের জন্য তা বর্তমানে আইআরজিসির বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিয়ন্ত্রণে রেখে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
একই সাথে আইআরজিসি নৌবাহিনী স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বর্তমানে তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক এই বাণিজ্যিক সমুদ্রপথে অনুমোদনহীন নৌযান চলাচল কিংবা বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। উল্লেখ্য, এর পূর্বে গত ৮ সেপ্টেম্বরও হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) নামের প্রায় ৫.৮ মিটার দীর্ঘ অপর একটি উন্নত সাবমেরিন ড্রোন সফলভাবে জব্দ করার দাবি করেছিল আইআরজিসি। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এমন সামুদ্রিক মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি করেছে তীব্র নতুন সামরিক উত্তেজনা।
/আশিক
ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় খবর
চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই একই সামরিক অভিযানে গুরুতর আহত হন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। পরবর্তীতে তেহরানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় আবারও বিমান হামলার মুখে পড়েন তিনি এবং ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে তাঁকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল আরাবি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) জ্যেষ্ঠ সদস্য মহসেন হায়দারি সম্প্রতি এসব রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা মার্কিন পত্রিকা ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে মহসেন হায়দারি জানান, হামলা চলাকালে মোজতবা খামেনি আহত হয়ে ভর্তি হওয়ার পর তেহরানের তিনটি ভিন্ন হাসপাতালে পর পর সুনির্দিষ্ট বোমারু হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে তৃতীয় যে হাসপাতালটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধসে পড়ে, সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন মোজতবা। পরবর্তীতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকারীরা তাঁকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
দেশের চরম সংকটকালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের চমকপ্রদ তথ্যও উন্মোচন করেন হায়দারি। তিনি জানান, গত ৮ মার্চ পবিত্র কোম শহরে অবস্থিত বিশেষজ্ঞ পরিষদের মূল কার্যালয়ে নতুন নেতা নির্বাচনপ্রক্রিয়া চলাকালীন সময়েও বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৮ জন সদস্য প্রাণ হারান এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা গোপনীয় নথিপত্র পুরোটাই ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে সদস্যরা একটি গোপন নিরাপদ স্থানে জড়ো হয়ে কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে গোপন ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করেন।
উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে মোজতবা খামেনি একাই ৫০টি ভোট পেয়ে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রার্থী আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি পান ৮টি ভোট এবং ১ জন সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন। হায়দারি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, শত্রুভাবাপন্ন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখে মোজতবা ছাড়া অন্য কাউকে নেতা হিসেবে নির্বাচন না করার বিষয়ে তারা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন।
নির্বাচনে জয়ী হলেও টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে দীর্ঘ দিন ধরে প্রকাশ্যে আসেননি নবনির্বাচিত এই সর্বোচ্চ নেতা। এমনকি বাবার শেষ বিদায়ের জানাজাতেও সশরীরে তাঁর উপস্থিতি দেখা যায়নি। ফলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি নিহত বা বিকলাঙ্গ হয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
এই ধোঁয়াশা কাটাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান যে, তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা ধরে এক আন্তরিক ও দীর্ঘ বৈঠক করেছেন এবং তিনি শারীরিকভাবে স্বাভাবিক রয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মন্তব্যে জানান, মোজতবা খামেনি মারা যাননি, তবে যৌথ হামলায় তাঁর শরীরের বাঁ অংশ, হাত ও পা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- নেপালে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি
- ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন সতর্কতা
- মার্কিন চাপে কি বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ? মুখ খুললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- শেষ হলো ভোট গ্রহণ, ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা
- শেষ হলো ভোট গ্রহণ, ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যে ৫টি প্রশ্ন করা বিপজ্জনক হতে পারে
- 'ছাত্ররা নামলেই গুলি করে মারা হবে' ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন জুলাইযোদ্ধা
- জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম
- পৈতৃক জমির ওপর পিচঢালাই রাস্তার আশঙ্কায় আইনি নোটিশ, যৌথ ভূ-জরিপের দাবি
- ইরানে আর কখনো বিদেশি আধিপত্য ফিরবে না, আরব সাগর থেকেও তাড়ানো হবে শত্রুদের: খামেনি
- চীনের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আমদানির নতুন সংকট: বিশেষ প্রতিবেদন
- এশিয়ান গেমসের নকআউট পর্বের আগে বড় ধাক্কা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে
- বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলে নিম্নচাপ: জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের নতুন পাঁচ দিনের তথ্য
- সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে ধস, ৭ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন
- বিয়ে সাড়ে চার মাসের মাথায় বিয়োগান্তক পরিণতি: কড়া বিচারে কারাগারে গাজী নজরুল
- প্রতিযোগী দেশ টেক্কা দিতে বাজারে বিশেষ ম্যাট্রিক্স প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ
- হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের নতুন অবস্থান প্রকাশ
- আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নতুন অবস্থান: প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের অর্জন
- পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক চাপ: তেহরানের নতুন কৌশলগত অবস্থান প্রকাশ
- বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি সম্ভাবনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য
- জুলাই যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আমরা ব্যথিত: ন্যায়বিচারের আশ্বাস রাশেদ খাঁনের
- পারমাণবিক অস্ত্রের পথ খোলা রাখছে সৌদি আরব: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে তোলপাড়
- ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের আস্থার প্রতীক: গাজী শওকাত হোসেনের পরিবার-সাড়ে পাঁচ দশকের জনসেবা
- মুখে সিঙ্গাপুর-অস্ট্রেলিয়ার ফাঁকা বুলি নয়, বাসযোগ্য ঢাকা চান প্রধানমন্ত্রী: মীর শাহে আলম
- দিনভর শারীরিক অলসতা ও ক্লান্তি: চিকিৎসকদের নতুন স্বাস্থ্য পরামর্শ
- হরমুজ প্রণালিতে নতুন সামুদ্রিক উত্তেজনা: আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনে বড় খবর
- জাতীয় দল ও ইতালিয়ান ক্লাবের টানাপোড়েন: বড় সিদ্ধান্তের মুখে বিশ্বজয়ী তারকা
- তেলের পর পানির জন্য যুদ্ধ হবে, টাকা দিয়েও মিলবে না পানি: পানিসম্পদমন্ত্রী
- সন্ত্রাসবাদের সাথে বন্ধুত্ব চলতে পারে না: জাতিসংঘে পাকিস্তানকে জয়শঙ্করের তোপ
- ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় খবর
- দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি
- সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার
- ক্রিকেট খেলায় নতুন দিগন্ত: সারা দেশে ট্রায়াল পর্বের সূচনা
- আমরা জয়ী হয়েছি তবে বিজয় সুসংহত করতে হবে: তেহরানে ইরানি সেনাপ্রধান
- চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী: বিশ্বমঞ্চে ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কড়া বার্তা
- ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’
- বিশ্বমঞ্চে শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে বিরাট কোহলি
- বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- পাকিস্তানে পুলিশ চেকপোস্টে আত্মঘাতী বোমা হামলা
- ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বার্তা দিল চীন
- ১,৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে তৈরি হচ্ছে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার নির্দেশ দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার নির্দেশ দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- লাখ লাখ বছরের পুরনো রহস্য উন্মোচিত: বিজ্ঞানীরা পেলেন নতুন তথ্য
- যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় আইনি পদক্ষেপ: আদালতের নতুন সিদ্ধান্ত
- মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমানো: ব্রেন টিউমার ও রেডিয়েশন দাবির বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা
- ইসরায়েলি মানচিত্রের ভুলে গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি ফাঁস
- প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আরও বাড়ানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের আস্থার প্রতীক: গাজী শওকাত হোসেনের পরিবার-সাড়ে পাঁচ দশকের জনসেবা
- হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব
- আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দক্ষিণ শ্রীপুরে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান পাপিয়া পারভীন
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই বের হবে বাসে আগুনের রহস্য: রাশেদ খাঁন
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে জ্বালানি খাতে বড় আর্থিক চাপ
- বাংলাদেশে অফিস খোলার প্রক্রিয়ায় মেটার নতুন অগ্রগতি
- অতীত আর বর্তমানের মিল: দেশজুড়ে আবার কি এক-এগারোর ছায়া?
- জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চরম সংকট: কার্গো স্থানান্তর বন্ধে কমলো এলএনজি সরবরাহ
- 'হাসিনার সময় পদত্যাগ চাইতাম, এখন চাওয়া ঠিক হবে না': জাহেদ উর রহমান
- পাসপোর্ট খোয়া গেলে বা নষ্ট হলে যেসব নিয়ম মানতে হবে
- নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে যুক্ত হলেন জাতীয় দলের তারকা পেসার
- জাতিসংঘের অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের সামনে জলবায়ু সংকট নিয়ে কড়া বার্তা
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল ও আধুনিক বিদ্যুৎ কাঠামোর পথে বাংলাদেশ
- ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হওয়া রোধে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস নিয়ে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক








