বিশেষ প্রতিবেদন

৮১ বছরে বেগম খালেদা জিয়া: গণতন্ত্রের আপোষহীন কণ্ঠস্বর ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ১৫ ২১:৩০:৫১
৮১ বছরে বেগম খালেদা জিয়া: গণতন্ত্রের আপোষহীন কণ্ঠস্বর ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে যাদের জীবন ও কর্ম দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। বেগম খালেদা জিয়া সেই তালিকার শীর্ষে। আজ তাঁর ৮১তম জন্মদিন। চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ক্ষমতা, বিরোধিতা, আন্দোলন, কারাবাস এবং গৃহবন্দিত্বের ভেতর দিয়ে গেছেন। প্রতিটি অধ্যায় তাঁকে যেমন দৃঢ় করেছে, তেমনি রাজনৈতিক বিরোধিতার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপির নেতৃত্বে আসেন খালেদা জিয়া। তখন তিনি রাজনীতিতে নতুন ছিলেন, কিন্তু সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে তিনি দ্রুত বিরোধী শক্তির অন্যতম প্রধান মুখে পরিণত হন। ১৯৮০-এর দশকে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকে এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে বিরাট ভূমিকা রাখে, যা শেষ পর্যন্ত এরশাদের পতন ঘটায়। তাঁর নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য ছিল আপোষহীনতা, সরাসরি আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং বিরোধী শিবিরকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে তিনি বাংলাদেশের প্রথম গনতান্ত্রীকভাবে জনগনের ভোটে নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হন। দীর্ঘ ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন। সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। তাঁর প্রথম মেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে চালু, নারীশিক্ষায় বিশেষ প্রণোদনা, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে সহায়তা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মতো উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে, তিনি সার্কসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের নীতি গ্রহণ করেন। যদিও ১৯৯৪ সালে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়, তিনি ১৯৯৬ সালে বিরোধী দলের দাবিতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, যা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের এক নতুন সংস্কৃতি গড়ে দেয়।

২০০১ সালে বিপুল বিজয়ে ক্ষমতায় ফিরে খালেদা জিয়ার সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রাথমিক অগ্রগতি সাধন করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ৯/১১-পরবর্তী সময়ে চরমপন্থা ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় তাঁর দৃঢ় অবস্থান প্রশংসিত হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং গ্রামীণ উন্নয়ন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৬ সালে মেয়াদ শেষে তিনি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে। দুর্নীতির অভিযোগে ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। “মাইনাস টু” পরিকল্পনার আওতায় তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, কারণ কারাগার থেকেও তিনি দলের নেতৃত্বে অবিচল থাকেন। প্রায় এক বছর কারাবাস শেষে তিনি মুক্তি পান।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজরিত বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ। এটি ছিল শুধু তাঁর ব্যক্তিগত বাসস্থান নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ও পারিবারিক স্মৃতিচিহ্ন। উচ্ছেদের পরপরই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়, যা বিএনপি সমর্থকদের কাছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও শহীদের স্মৃতি মুছে ফেলার প্রচেষ্টা হিসেবে ধরা পড়ে।

২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি ৭ দফা প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে ছিল নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকালীন সংসদ ভেঙে দেওয়া, সেনা মোতায়েন, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। কিন্তু এসব প্রস্তাব সরকার প্রত্যাখ্যান করে এবং একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আন্দোলন দমনে সরকারের দমননীতি তীব্র হয়। খালেদা জিয়া বারবার গৃহবন্দী হন, দলের বহু নেতা-কর্মী গ্রেফতার হন, এবং বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে।

২০১৮ সালে বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে দণ্ডিত করে কারাগারে পাঠানো হয়। বিএনপি এবং আন্তর্জাতিক মহল এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেয়। কারাগারে থাকাকালীন তাঁর স্বাস্থ্য দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি গুরুতর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও সরকার তা অনুমোদন করে না। সীমিত চিকিৎসাসুবিধায় তিনি হাসপাতালে থাকেন, যা দেশ-বিদেশে সমালোচিত হয়। ২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারির সময় মানবিক বিবেচনায় দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেওয়া হলেও শর্ত ছিল তিনি বাসায় থাকবেন এবং বিদেশে যেতে পারবেন না। কার্যত গুলশানের বাসায় তিনি দীর্ঘ গৃহবন্দী জীবন কাটান, যা তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে স্থবির করে দেয়।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জনগণের ক্ষমতায়ন ও জবাবদিহিমূলক শাসন। তাঁর প্রস্তাবিত ধারণাগুলো ২০২৩ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা রাষ্ট্রসংস্কার রূপরেখা হিসেবে প্রকাশ করেন। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, অনুচ্ছেদ ৭০ সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। মূলত এই প্রস্তাবই পরবর্তীতে জনমনে রাষ্ট্রসংস্কার আকাঙ্খার সৃষ্টি করে।

২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ঘটে। দীর্ঘ কারাবাস ও গৃহবন্দী জীবনের পর জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা যে সংগ্রাম করেছি, তা প্রতিহিংসার জন্য নয়। এটি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য, যেখানে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।” এই বক্তব্যে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ক্ষমতার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার ফুটে ওঠে।

৮১ বছরে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। তিনি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই করেছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন, জাতীয় উন্নয়নে অবদান রেখেছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বছরের পর বছর কারাবাস ও গৃহবন্দী জীবন কাটিয়েছেন। আজ তাঁর জন্মদিনে তাঁকে শুধু বিএনপির নেতা হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্রের প্রতীক, নারীর সাহসিকতার মডেল এবং রাজনৈতিক দৃঢ়তার উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। তাঁর সংগ্রাম ও ত্যাগ প্রমাণ করে, প্রতিকূলতার মুখেও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো সম্ভব, যদি নেতৃত্বে থাকে অদম্য সাহস, দৃঢ় বিশ্বাস এবং জনগণের প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতা।


জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: নুর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:৩১:০৯
জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: নুর
ছবি : সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, তাই তারা ফ্যাসিস্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তাঁর দাবি, জামায়াত-শিবির সেই সুযোগ পায়নি বলেই তারা ফ্যাসিস্ট হতে পারেনি। তবে সুযোগ পেলে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামায়াতকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত গণঅধিকার পরিষদের কর্মী সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান প্রতিমন্ত্রী নুর। সেখানে তিনি আহত কর্মীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশা ছিল, ফ্যাসিবাদের সময় যারা নির্যাতিত ও মজলুম ছিল, তারা সবাই একসঙ্গে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। কিন্তু তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী এরই মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। ছয় মাস না যেতেই তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বিষোদগার শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচির নামে জামায়াত জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলায় কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবির তাদের শক্তি দেখাতে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, জামায়াতের এক সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে ওই হামলা হয়েছে।

নুরুল হক বলেন, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাধারণ সম্পাদক মহাদিসকে কুপিয়ে তাঁর দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় সংগঠনটির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাঁর নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জামায়াত-শিবির আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মজলুম থাকলেও গত ছয় মাসে সারাদেশে তাদের কর্মকাণ্ডে একটি জালেম সংগঠনে পরিণত হওয়ার চিত্র ফুটে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন নুরুল হক নুর।

জামায়াত-শিবিরকে কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে দেশের জন্য এবং জাতির জন্য ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

/আশিক


রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল, অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:১৩:২৭
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল, অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াতের আমির।

পোস্টের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

/আশিক


ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৮:৩৩:১৫
ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পক্ষ থেকে কোনো স্বার্থ ছাড়া বন্ধুত্বপূর্ণ আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে, তবে আমন্ত্রণের পেছনে কোনো স্বার্থ থাকলে দেশ সে পথে এগোবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে রুহুল কবির রিজভী জানান, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গেই সমতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলায় বিশ্বাসী। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও সমমর্যাদা, সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং তুলে ধরতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

/আশিক


তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, দেশেই সব উৎসর্গ: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৯:৩৪:২৮
তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, দেশেই সব উৎসর্গ: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থের বাইরে এক পাও যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই; তিনি দেশের জন্য জীবন ও মন উৎসর্গ করেছেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে দল ও সরকারের সার্বিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যরা।

একই কর্মসূচিতে উপস্থিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমানউল্লাহ আমান ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের মতো সহজ-সরল জীবনযাপন করেন এবং অতীতের রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামের পাশাপাশি মইনুল রোডের বাসভবনে তিনি যে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, তা দেশবাসীর জানা রয়েছে।

/আশিক


সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা অসম্ভব: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ২১:৪৬:৩১
সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা অসম্ভব: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের বিভিন্ন ইতিবাচক সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে তাঁদের পক্ষে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট ও গণমাধ্যম ব্ল্যাকআউটের মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও মফস্সল, মাল্টিমিডিয়া ও নাগরিক সাংবাদিকরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের কাজ করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারে নিজের সাত মাসের দায়িত্বকালের সীমাবদ্ধতা ও হতাশা স্বীকার করে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে দেশকে স্থিতিশীল রাখাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে সেই সময়েই গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনসহ গঠিত বিভিন্ন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়নের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি।

গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক দল, মালিকপক্ষ ও ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাবমুক্ত রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সব ধরনের প্রভাববলয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা আবশ্যক।

/আশিক


সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে চরমোনাই পীরের ৬ দফা পরামর্শ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৯:৫১:২৮
সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে চরমোনাই পীরের ৬ দফা পরামর্শ
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার, দুর্নীতি দমন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ ছয়টি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের ছয় মাস মেয়াদ পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব পরামর্শ তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে চরমোনাই পীর উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দায়িত্ব নেওয়া এই সরকারের প্রতি মানুষের যে বিপুল প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান কার্যক্রমের কারণে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। সরকারের মেয়াদের এক-দশমাংশ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের ক্ষেত্রে ধীরগতি জাতির মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করছে বলে তিনি দাবি করেন। বিশেষ করে জুলাই সনদের রূপরেখা ও অধ্যাদেশ বাতিলের পদক্ষেপগুলো আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে কিছু ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ ও সরকারপ্রধানের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসাও করেন চরমোনাই পীর।

সরকারকে দেওয়া ছয়টি প্রধান পরামর্শের মধ্যে রয়েছে

জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোটের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা

দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কমানো

প্রশাসনে গণহারে দলীয়করণ বন্ধ রাখা

ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনা

/আশিক


এখানকার সরকারই আমি, কুষ্টিয়ায় লাঠি মিছিলে আমির হামজার হুঁশিয়ারি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ২১:৩৬:২৪
এখানকার সরকারই আমি, কুষ্টিয়ায় লাঠি মিছিলে আমির হামজার হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কুষ্টিয়ায় আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আমির হামজা বলেন, তাঁর এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না এবং প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়, তবে তাঁদের বিদায় করে দেওয়া হবে। এর আগে এক বক্তব্যে নিজেকে নিজ আসনের ‘প্রধানমন্ত্রী’ দাবি করে তিনি ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও তাঁর গাড়িতে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে রোববার কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামী একটি লাঠি মিছিলের আয়োজন করে। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে বের হওয়া মিছিলটিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের অনেকের হাতে লাঠি ও বেসবল ব্যাট দেখা যায়।

শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি ছয় রাস্তার মোড়ে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। সেখানে আমির হামজা বলেন, এই আসনের দায়িত্ব তাঁর হাতে এবং এখানে কোনো অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না। একই সমাবেশে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনও বক্তব্য দেন। তিনি বিগত সরকারের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে নতুন করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদের সতর্ক করেন।

/আশিক


কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ: এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ২১:৫৮:৫৪
কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ: এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে বহনকারী গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়, যাতে গাড়ির জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি অক্ষত থাকেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার ছয় রাস্তার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সংসদ সদস্য আমির হামজার একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ছয় রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদ। কর্মসূচি শেষের দিকে এমপি আমির হামজা নিজস্ব গাড়িবহর নিয়ে একই এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে ফেরার পথে ওই সমাবেশস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়।

একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় এমপির গাড়িতে ইট লেগে জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং তাঁর চাচা সজলসহ জামায়াতের প্রায় ৫-৬ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের অর্ধশতাধিক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ নাজিম অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের রেশ ধরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরবর্তীতে দলটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং এতে তাদের কয়েকজন কর্মীও আহত হয়েছেন।

হামলার বিষয়ে এমপি আমির হামজা দাবি করেন, তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, দুই দলের সংঘর্ষের ঘটনায় সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত করে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

/আশিক


হাসিনা-কাদের-হাছানের নতুন কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ০৯:৫৯:২৪
হাসিনা-কাদের-হাছানের নতুন কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাল্টা হামলা এবং আগুন দেওয়ার নির্দেশনা-সংক্রান্ত বলে দাবি করা আরও কিছু ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কথোপকথনের নতুন কল রেকর্ড আদালতে দাখিল করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতার প্রেক্ষাপট ও তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা বোঝার ক্ষেত্রে এসব অডিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

এর একদিন আগে সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ একই ব্যক্তিদের মধ্যে সংঘটিত আরও কয়েকটি কথোপকথনের অডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। সেখানে আন্দোলনকারীদের জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের কথিত নির্দেশ এবং সহিংস ঘটনার দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপানোর বিষয়ে আলোচনা থাকার দাবি করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এসব অডিও উপস্থাপন করে প্রসিকিউশনের বক্তব্য তুলে ধরেন। পরে আলোচিত কথোপকথনের লিখিত অনুলিপিও সাংবাদিকদের দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, আলোচিত ফোনালাপগুলোর একটি অংশ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই এবং আরেকটি ২১ জুলাইয়ের। ওই সময় শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী, ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং হাছান মাহমুদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আন্দোলন ও সহিংসতায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল, তখনই তাদের মধ্যে এসব কথোপকথন হয়েছিল বলে আদালতে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

১৯ জুলাই দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটের বলে উল্লেখ করা একটি কথোপকথনে শেখ হাসিনা ও হাছান মাহমুদের মধ্যে প্রতিপক্ষের অগ্নিসংযোগের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গ আসে। প্রসিকিউশনের দেওয়া ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী, সেখানে আন্দোলনকারীদের বাড়ি ও গাড়িতে সাধারণ মানুষকে দিয়ে আগুন দেওয়ার কথা বলেন শেখ হাসিনা। একই আলোচনায় পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগের কথাও উঠে আসে। হাছান মাহমুদ ওই কৌশলকে ‘টিট ফর ট্যাট’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত নথিতে দাবি করা হয়েছে।

কথোপকথনের আরেক পর্যায়ে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। হাছান মাহমুদ গায়েবানা জানাজার পর দ্রুত মহল্লাভিত্তিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কথা বললে শেখ হাসিনা সংশোধন করে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকায় গিয়ে ‘প্রোটেকশন’ বা সুরক্ষার ব্যবস্থা করার কথাও কথোপকথনে উঠে এসেছে।

পরবর্তী পর্যায়ে ওবায়দুল কাদের কথোপকথনে যুক্ত হন বলে প্রসিকিউশনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সেতু ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয় এবং নিরাপত্তার জন্য র‍্যাব পাঠানোর প্রসঙ্গ ওঠে। একই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শনাক্ত করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

-রফিক

পাঠকের মতামত: