বিশেষ প্রতিবেদন

৮১ বছরে বেগম খালেদা জিয়া: গণতন্ত্রের আপোষহীন কণ্ঠস্বর ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ১৫ ২১:৩০:৫১
৮১ বছরে বেগম খালেদা জিয়া: গণতন্ত্রের আপোষহীন কণ্ঠস্বর ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে যাদের জীবন ও কর্ম দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। বেগম খালেদা জিয়া সেই তালিকার শীর্ষে। আজ তাঁর ৮১তম জন্মদিন। চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ক্ষমতা, বিরোধিতা, আন্দোলন, কারাবাস এবং গৃহবন্দিত্বের ভেতর দিয়ে গেছেন। প্রতিটি অধ্যায় তাঁকে যেমন দৃঢ় করেছে, তেমনি রাজনৈতিক বিরোধিতার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপির নেতৃত্বে আসেন খালেদা জিয়া। তখন তিনি রাজনীতিতে নতুন ছিলেন, কিন্তু সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে তিনি দ্রুত বিরোধী শক্তির অন্যতম প্রধান মুখে পরিণত হন। ১৯৮০-এর দশকে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকে এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে বিরাট ভূমিকা রাখে, যা শেষ পর্যন্ত এরশাদের পতন ঘটায়। তাঁর নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য ছিল আপোষহীনতা, সরাসরি আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং বিরোধী শিবিরকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে তিনি বাংলাদেশের প্রথম গনতান্ত্রীকভাবে জনগনের ভোটে নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হন। দীর্ঘ ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন। সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। তাঁর প্রথম মেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে চালু, নারীশিক্ষায় বিশেষ প্রণোদনা, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে সহায়তা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মতো উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে, তিনি সার্কসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের নীতি গ্রহণ করেন। যদিও ১৯৯৪ সালে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়, তিনি ১৯৯৬ সালে বিরোধী দলের দাবিতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, যা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের এক নতুন সংস্কৃতি গড়ে দেয়।

২০০১ সালে বিপুল বিজয়ে ক্ষমতায় ফিরে খালেদা জিয়ার সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রাথমিক অগ্রগতি সাধন করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ৯/১১-পরবর্তী সময়ে চরমপন্থা ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় তাঁর দৃঢ় অবস্থান প্রশংসিত হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং গ্রামীণ উন্নয়ন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৬ সালে মেয়াদ শেষে তিনি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে। দুর্নীতির অভিযোগে ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। “মাইনাস টু” পরিকল্পনার আওতায় তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, কারণ কারাগার থেকেও তিনি দলের নেতৃত্বে অবিচল থাকেন। প্রায় এক বছর কারাবাস শেষে তিনি মুক্তি পান।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজরিত বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ। এটি ছিল শুধু তাঁর ব্যক্তিগত বাসস্থান নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ও পারিবারিক স্মৃতিচিহ্ন। উচ্ছেদের পরপরই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়, যা বিএনপি সমর্থকদের কাছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও শহীদের স্মৃতি মুছে ফেলার প্রচেষ্টা হিসেবে ধরা পড়ে।

২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি ৭ দফা প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে ছিল নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকালীন সংসদ ভেঙে দেওয়া, সেনা মোতায়েন, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। কিন্তু এসব প্রস্তাব সরকার প্রত্যাখ্যান করে এবং একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আন্দোলন দমনে সরকারের দমননীতি তীব্র হয়। খালেদা জিয়া বারবার গৃহবন্দী হন, দলের বহু নেতা-কর্মী গ্রেফতার হন, এবং বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে।

২০১৮ সালে বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে দণ্ডিত করে কারাগারে পাঠানো হয়। বিএনপি এবং আন্তর্জাতিক মহল এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেয়। কারাগারে থাকাকালীন তাঁর স্বাস্থ্য দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি গুরুতর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও সরকার তা অনুমোদন করে না। সীমিত চিকিৎসাসুবিধায় তিনি হাসপাতালে থাকেন, যা দেশ-বিদেশে সমালোচিত হয়। ২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারির সময় মানবিক বিবেচনায় দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেওয়া হলেও শর্ত ছিল তিনি বাসায় থাকবেন এবং বিদেশে যেতে পারবেন না। কার্যত গুলশানের বাসায় তিনি দীর্ঘ গৃহবন্দী জীবন কাটান, যা তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে স্থবির করে দেয়।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জনগণের ক্ষমতায়ন ও জবাবদিহিমূলক শাসন। তাঁর প্রস্তাবিত ধারণাগুলো ২০২৩ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা রাষ্ট্রসংস্কার রূপরেখা হিসেবে প্রকাশ করেন। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, অনুচ্ছেদ ৭০ সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। মূলত এই প্রস্তাবই পরবর্তীতে জনমনে রাষ্ট্রসংস্কার আকাঙ্খার সৃষ্টি করে।

২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ঘটে। দীর্ঘ কারাবাস ও গৃহবন্দী জীবনের পর জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা যে সংগ্রাম করেছি, তা প্রতিহিংসার জন্য নয়। এটি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য, যেখানে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।” এই বক্তব্যে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ক্ষমতার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার ফুটে ওঠে।

৮১ বছরে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। তিনি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই করেছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন, জাতীয় উন্নয়নে অবদান রেখেছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বছরের পর বছর কারাবাস ও গৃহবন্দী জীবন কাটিয়েছেন। আজ তাঁর জন্মদিনে তাঁকে শুধু বিএনপির নেতা হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্রের প্রতীক, নারীর সাহসিকতার মডেল এবং রাজনৈতিক দৃঢ়তার উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। তাঁর সংগ্রাম ও ত্যাগ প্রমাণ করে, প্রতিকূলতার মুখেও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো সম্ভব, যদি নেতৃত্বে থাকে অদম্য সাহস, দৃঢ় বিশ্বাস এবং জনগণের প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতা।


ঢাকায় ১০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান ইশরাকের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৪:০০:৩৮
ঢাকায় ১০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান ইশরাকের
ছবি: সংগৃহীত

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং ইশরাক হোসেন, যিনি বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে একটি ধাপভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি ঢাকা-৬ আসনকেন্দ্রিক জনদুর্ভোগ কমানো, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে তাৎক্ষণিক ও মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরেন।

প্রথম ১০ দিনের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ

রমজানে গ্যাস সংকট নিরসনে তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলীদের সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজের নির্দেশ দেওয়া হবে। বাসাবাড়িতে সংযোগজনিত সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গ্যাস সরবরাহের চাপ বৃদ্ধি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে বৈঠকও হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা-ওসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা আয়োজন করে প্রতিরোধমূলক টহল জোরদার করা হবে। ছিনতাই, চুরি ও সড়ক অপরাধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানানো হয়েছে।

মাদকবিরোধী অবস্থান আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, মাদক স্পট বন্ধ, রুট নিষ্ক্রিয়করণ এবং চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিদেশে অবস্থানরতদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে গোপন নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ডিএসসিসি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান চালানো হবে। মজুতদারি ও অস্বাভাবিক মুনাফার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

যানজট নিরসনে ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, অবৈধ পার্কিং অপসারণ এবং ফুটপাত দখলমুক্তের উদ্যোগ থাকবে।

ঈদের আগে ও পরবর্তী পর্যায়ের কর্মসূচি

ঈদকে সামনে রেখে ওয়ার্ডভিত্তিক সড়ক পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, খোলা নর্দমা স্ল্যাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন ক্যামেরা দিয়ে পরীক্ষা করে ব্লক অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তদারকি, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সড়ক পরিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা হবে। ধুলাপ্রবণ এলাকায় পানি ছিটানো গবেষণাভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে পরিচালনার কথাও বলা হয়েছে।

পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পর্যালোচনা করে যেখানে প্রয়োজন সেখানে নতুন সংযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্ট্রিট লাইট মেরামত ও নতুন আলোকসজ্জা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে থানা পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, ভোক্তা অধিকার সংস্থা, ডিএসসিসি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


"আই হ্যাভ এ প্ল্যান" বাস্তবায়ন শুরু 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১০:০৮:১৭
"আই হ্যাভ এ প্ল্যান" বাস্তবায়ন শুরু 
ছবি: সংগৃহীত

সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পাইলট আকারে কার্যক্রম শুরু করে ধাপে ধাপে দেশের প্রায় ৫ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের জানান, কর্মসূচিটি হবে সর্বজনীন এবং এতে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না। বাস্তবায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী–এর নেতৃত্বে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যা তিন দিনের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দেবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, ফ্যামিলি কার্ড দ্রুত বিতরণ শুরু হবে এবং ঈদের আগেই অন্তত পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম চালু করা হবে। কার্ড সরাসরি পরিবারের নারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। বর্তমানে চালু থাকা ভাতা কর্মসূচিগুলো বহাল থাকবে, তবে ফ্যামিলি কার্ডে প্রদত্ত অর্থ আগের যেকোনো ভাতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী আমিন উর রশীদ বলেন, প্রথম ধাপে হতদরিদ্র নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং তাদের হাতে মাসিক ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছাতে পারে। কোন ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে—এ বিষয়ে তিনি জানান, কিছু নির্ধারিত অঞ্চল দিয়ে শুরু করা হবে; পরে ধাপে ধাপে বিস্তৃত করা হবে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এটি ছিল ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রাথমিকভাবে অতি দরিদ্র পরিবার দিয়ে শুরু করে পরে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন তদারকিতে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাগণ, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ একাধিক সচিব। কমিটি ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দেবে।

কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, সুবিধাভোগী নির্বাচনের মানদণ্ড নির্ধারণ, ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেসের সমন্বয়ে ডেটাবেস তৈরির সুপারিশ করবে কমিটি। প্রথম পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

একই বৈঠকে জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, ১৮০ দিনের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে। পানিসম্পদ, স্থানীয় সরকার, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এই চার মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সামাজিক সুরক্ষা জালের সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষত মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে। তবে সফল বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছ ডেটাবেস, নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হবে এমনটাই সরকারের অঙ্গীকার।

-রফিক


এতিমদের মধ্য থেকেই কেউ একদিন প্রধানমন্ত্রী হবে: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ২২:০৪:০১
এতিমদের মধ্য থেকেই কেউ একদিন প্রধানমন্ত্রী হবে: শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ভবিষ্যতে এতিমদের মধ্য থেকে কেউ যাতে প্রধানমন্ত্রী হতে পারে, দেশে এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করার কথা জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরে ‘ইয়াতিমদের সম্মানে’ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্যকালে এমনটা জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একদিন দেশে এতিমদের কেউ হয়তো প্রধানমন্ত্রী হবে৷ জামায়াত সে ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ সময় সবাইকে দলীয় রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ও হিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ন্যায় এবং সত্যের পথে, সুবিচার কায়েমের পথে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের পথে, মানবিক সমাজ গঠনের পথে আপনাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই। এই সহযোগিতা নেয়া আপনাদের দায়িত্ব। কিন্তু এর বিপরীত কিছু হলে, আমরা ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে থাকব, আমরা কোনো আপস করব না।

/আশিক


ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, জনস্বার্থ উপেক্ষিত: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৯:০৪:৩২
ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, জনস্বার্থ উপেক্ষিত: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন রেখে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন। কিন্তু তার নিজের মন্ত্রিসভা এবং দলে যে সংসদ সদস্য রয়েছেন, তারা ঋণগ্রস্ত। তারা কবে ঋণ পরিশোধ করবেন? বাংলাদেশের মানুষ সেটা জানতে চায়। সেই ঋণ পরিশোধ করে তারপরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত। কারণ, দুর্নীতির প্রতিরোধ আসলে নিজের ঘর, নিজের দল এবং মন্ত্রিসভা থেকে করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে নাহিদ বলেন, স্বাভাবিকভাবে আমরা আশা করেছিলাম যে, নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী যে মন্ত্রিসভা গঠিত হবে, তা নতুন বাংলাদেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। কিন্তু এই মন্ত্রিসভা দেখে আমাদের কাছে কোনোভাবে মনে হয়নি পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা, সে আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং আমরা পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা দেখতে পাচ্ছি। এই মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। ২৫টি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। অর্থাৎ এখানে একটা আঞ্চলিক বৈষম্য রয়েছে স্পষ্টভাবে। এ মন্ত্রিসভা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি। এই মন্ত্রিসভায় কিছু তরুণদেরকে নেওয়া হলেও কিন্তু মন্ত্রিসভার গড় বয়স কিন্তু ৬০ বছর। অর্থাৎ আমরা যে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের কথা বলেছি, তার প্রতিফলন এই মন্ত্রিসভায় দেখতে পাইনি।

তিনি বলেন, এই মন্ত্রিসভার প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ব্যবসায়ী। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি হচ্ছে ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী হওয়াটা অপরাধ নয়। কিন্তু মন্ত্রিসভা প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়া উচিত। রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থাকা উচিত। কিন্তু যখন অর্ধেকেরও বেশি ব্যবসায়ীদেরকে মন্ত্রিত্ব দিবেন, তারা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে না। এই ব্যবসায়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আছেন, যাদের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির নমিনেশনে দেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন আমরা কোনো নতুনত্ব পাইনি, এই মন্ত্রিসভা গঠনেও আমরা কোনো নতুনত্ব পাইনি। খেলাপিদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি বিএনপিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি নাম না নিয়ে যদি বলি, সবচেয়ে বড় বাজেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এমন একজনকে দেওয়া হলো, যিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং হত্যা মামলার আসামি। দলেও তিনি অত গুরুত্বপূর্ণ কেউ না। শুধুমাত্র আর্থিক ব্যাবসায়িক এবং দুর্নীতির কারণেই তাকে সে মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। এরকম আরও ঋণখেলাপি রয়েছে যাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। বিএনপির প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি। এসব সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক ব্যক্তিকে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। আমরাও দেশের স্বার্থে বিশেষজ্ঞদের ব্যবহার করতে চেয়েছি; যাতে দেশ এবং সরকার উপকৃত হয়। এখন সেই বিশেষজ্ঞদেরকে যদি ব্যবহার করতে হয়, সেটা সমস্যাজনক নয়। কিন্তু এটা অবশ্যই একটা ঐকমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে। কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, এমন একজনকে যদি নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়, তাহলে জনমনে এই প্রশ্ন আসবে। আমরা আশা করব যে, এই প্রশ্নের সুরাহা প্রধানমন্ত্রী করবেন।

তিনি নাহিদ আরও বলেন, গত দুই একদিন ধরে দেশে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগদেরকে পুনর্বাসনের একটা প্রচেষ্টা চলমান আছে। বিভিন্ন জেলা–উপজেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে খুলে দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ কার্যত এবং আইনতভাবে নিষিদ্ধ একটি সংগঠন। তার বিচার প্রক্রিয়া চলমান আছে। এই যে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো খোলা হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, আমরা মনে করি, নতুন সরকারের প্রশাসনের এবং সরকারি দলের প্রশ্রয়ে এটা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে সিগন্যাল ছাড়া আওয়ামী লীগ এটা করার সুযোগ বা সাহস পেত না।

/আশিক


ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, ধাপে ধাপে পাবে পাঁচ কোটি পরিবার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৫:৫১:৩৬
ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, ধাপে ধাপে পাবে পাঁচ কোটি পরিবার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো জোরদারে প্রাথমিকভাবে পাঁচ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন সাংবাদিকদের জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ সহায়তা প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে হতদরিদ্র পরিবার ও নারী সদস্যরা।

পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, কার্ডধারীদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ সহজ হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী হবে।

একই বৈঠকে শ্রম ও গণমাধ্যমসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কাউকে চাকরিচ্যুত করতে হলে বিদ্যমান আইন ও বিধি মেনে চলতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘মব’ বা অনিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউকে চাকরি থেকে সরানো যাবে না।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সরকারি মহল বলছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু হলে তা দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছ ডাটাবেজ ও কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

-রফিক


অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ফখরুল: চাঁদাবাজদের তথ্য দিতে ওয়েবসাইট চালু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১২:৫৭:১৯
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ফখরুল: চাঁদাবাজদের তথ্য দিতে ওয়েবসাইট চালু
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ আসনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক ব্যতিক্রমী ও ডিজিটাল পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের যেকোনো এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অন্যায় বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য ‘alamgirfortomorrow.com’ নামে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মির্জা ফখরুল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের উদ্দেশে জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা অন্যায়-অপরাধের শিকার হলে অথবা যেকোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সরাসরি তাঁর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁকে জানাতে পারবেন। কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি গ্রহণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ৭ জানুয়ারি ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ওয়েবসাইট উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে আমরা ইতোমধ্যে অনেক মেসেজ পেয়েছি। আমার টিম সেই মেসেজগুলো কম্পাইল বা বিন্যস্ত করছে। শীঘ্রই আমরা এগুলোর ওপর ভিত্তি করে রেস্পন্ড বা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে গত মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন। নতুন এই মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি নিজ আসনের জনগণের সরাসরি সেবায় এমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গঠন রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

/আশিক


অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১০:৫১:৪০
অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমৃত্যু আপসহীন থাকার এক সাহসী ও জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং নির্বাচনী অভিজ্ঞতার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমাদের মেরে ফেললে মেরে ফেলুক। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাবো। আমরা মুখ বন্ধ করবো না।"

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। যদিও তিনি বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন, কিন্তু নির্বাচনী মাঠে তাঁর লড়াই ও মন্তব্য ছিল আলোচনার তুঙ্গে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "নির্বাচনের সময় আমার কাছে অনেক ক্রিমিনাল (অপরাধী) এসেছে, বলেছে—আমাদের সঙ্গে ডিল করো। অনেক ব্যবসায়ী এসেছে, বলেছে—তাদের সঙ্গে ডিল করতে। এমনকি প্রশাসনের লোকজন এসে বলেছে—তুমি মুখ বন্ধ করো, আমরা তোমাকে জিতিয়ে দেবো। কিন্তু আমি কারও সঙ্গেই কোনো আপস করিনি।"

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সমাজ থেকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে এক অভিনব উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, "যেসব লোক সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি করে আমরা রমজানে তাদের কাছে হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাবো।" একইসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের সমাজের প্রহরী হিসেবে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "আপনারা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ভ্যানগার্ড হয়ে যাবেন।"

ভবিষ্যতে ভোট চুরির চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, "ভবিষ্যতে যদি কেউ ঢাকা-৮ আসনে ভোট চুরি করতে আসে, সে যদি কারও ওয়াইফ (স্ত্রী) কিংবা ভাতিজাও হয়, আমরা তার হাত-পা ভেঙে দেবো। এটা শহীদ ওসমান হাদির আসন, আমরা তার স্বপ্নের ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েমে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।"

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নিছক ক্ষমতা বা নির্বাচন তাঁদের মূল উদ্দেশ্য নয়। পাটওয়ারী বলেন, "নির্বাচন আমাদের মূল টার্গেট না। আমাদের টার্গেট সিস্টেম পরিবর্তন। আমরা সেই সিস্টেম পরিবর্তনের লক্ষ্যেই কাজ করে যাবো।"

/আশিক


ভিন্নমত দমন নয়, গণতন্ত্রের স্বার্থে একে স্বাগত জানান: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১০:৪২:৪২
ভিন্নমত দমন নয়, গণতন্ত্রের স্বার্থে একে স্বাগত জানান: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ভিন্নমতকে দমন না করে বরং স্বাগত জানানোর নতুন সংস্কৃতি গড়ার আহ্বান জানান।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্যই ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই অন্ধকার সময়ে বর্তমান সরকারি দল (বিএনপি) এবং জামায়াত—উভয় পক্ষই স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ভয়াবহ দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়ে জাতি আর ফিরে যেতে চায় না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জামায়াত আমির আরও বলেন, একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতন্ত্রের প্রধান শর্তই হলো গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে ভিন্নমতকে শত্রুতা হিসেবে না দেখে তাকে সাদরে গ্রহণ করা। ভিন্নমতকে স্বাগত জানানোই যেন হয় আগামী দিনের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি জনমনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছেন। রমজানের শুরুতে দেওয়া এই বার্তা মূলত জাতীয় ঐক্যের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১৬:৫৪:৪০
প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যক্রম ও নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনগণকে নিয়মিত অবহিত করতে একটি অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু করা হয়েছে। নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসেই বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়।

‘PMO Bangladesh – প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ নামের এই পেজের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি, নীতিগত ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পেজটির প্রোফাইল ছবিতে রাখা হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক প্রতিকৃতি।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং গুজব বা বিভ্রান্তি প্রতিরোধে সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডিজিটাল যুগের চাহিদা বিবেচনায় নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে এই পেজকে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোয় ডিজিটাল গভর্ন্যান্স এখন অপরিহার্য উপাদান। সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতিগত অগ্রগতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক আপডেট জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার হবে।

সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ভিডিও বার্তা, লাইভ ব্রিফিং এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ঘোষণা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচার করা হতে পারে। নাগরিকদের পেজটি অনুসরণ করে সর্বশেষ সরকারি আপডেট জানার আহ্বান জানানো হয়েছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: