নৈতিকতা বিক্রি করে রাজনীতি করব না: এনসিপি নেত্রী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী পরিকল্পনায় বড় ধরণের ধস নেমেছে। জামায়াতে ইসলামীর সাথে ৩০টি আসনের সমঝোতা নিয়ে দলের ভেতরে চলমান বিদ্রোহের অংশ হিসেবে এবার নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক আবেগঘন ও কড়া বার্তার মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। মনিরা স্পষ্ট করেছেন যে, দল তার মৌলিক অবস্থান পরিবর্তন করায় তিনি আর এই ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নন।
মনিরা শারমিন তাঁর পোস্টে লিখেন, এনসিপি গঠিত হয়েছিল গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একটি স্বতন্ত্র ও মধ্যপন্থী রাজনৈতিক ভরসাস্থল হিসেবে। ৩শ আসনে একক নির্বাচনের কথা বলে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পর্দার আড়ালে জামায়াতের সাথে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি তাঁর কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, “দলের প্রতি আমার কমিটমেন্টের চেয়ে গণঅভ্যুত্থান ও দেশের মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট এখন অনেক বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি ক্ষমতার লোভে নিজের নৈতিকতা বিক্রি করতে পারব না।” যদিও তিনি এখনই দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেননি, তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একগুঁয়েমি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এনসিপির নওগাঁ জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ মনিরা শারমিনের এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত ও আদর্শিক কারণে মনিরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর আগে দলের হেভিওয়েট নেত্রী ডা. তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীনও একই কারণে দল ও নির্বাচন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মোট ২১৬ জন সদস্যের মধ্যে একটি বড় অংশ এই জোটের বিরুদ্ধে থাকলেও শীর্ষ নেতৃত্বের অনড় অবস্থানে দলের ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণ ও মেধাবীদের নিয়ে গঠিত এই দলটির ভেতরে ‘আদর্শ বনাম কৌশল’ এর এই লড়াই শেষ পর্যন্ত এনসিপিকে বড় ধরণের ভাঙনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে জামায়াতের মতো একটি ধর্মভিত্তিক দলের সাথে এনসিপির জোটবদ্ধ হওয়াকে সাধারণ ছাত্র-জনতা এবং দলের তৃণমূল কর্মীরা সহজভাবে গ্রহণ করতে পারছে না। মনিরা শারমিনের এই ঘোষণা নওগাঁর নির্বাচনী মাঠে এনসিপির অস্তিত্বকে সংকটে ফেলে দিল।
রাজনীতি থেকে কি স্থায়ী অবসরে শেখ হাসিনা? জয়ের বক্তব্যে নতুন রহস্য
বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি তবে রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে পাকাপাকিভাবে বিদায় নিচ্ছেন? এমন এক সময়ে যখন আওয়ামী লীগ তার ৭০ বছরের ইতিহাসে কঠিনতম অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি, তখন দলটির ভবিষ্যৎ এবং চব্বিশের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার মুখোমুখি হয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।
ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনকে দেওয়া এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জয় স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শেখ হাসিনা সম্ভবত আর দলের নেতৃত্বে ফিরছেন না। ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ কি না—এমন প্রশ্নে জয়ের ‘সম্ভবত তাই’ উত্তরটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। একদিকে নির্বাসিত নেত্রীর অবসর ভাবনা, অন্যদিকে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত অভ্যুত্থানের দায়ভার নিয়ে জয়ের এই আত্মপক্ষ সমর্থন বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের দ্বার উন্মোচন করেছে।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের পরিবর্তনের সুর শোনা যায় জয়ের কণ্ঠে। তিনি জানান, ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা এখন রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন এবং তিনি বিদেশের মাটিতে নয়, বরং নিজ দেশেই ফিরে সাধারণ জীবন কাটাতে চান। জয় দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক দল নয়; বরং এটি সত্তর বছরের পুরনো একটি প্রতিষ্ঠান যা শেখ হাসিনাকে ছাড়াও টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে।
দলটির প্রতি এখনো দেশের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, বিপুল সংখ্যক এই জনসমর্থন রাতারাতি উধাও হয়ে যাওয়া সম্ভব কি না। তবে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের গ্রেফতার ও আত্মগোপনে থাকা এবং দলটির ওপর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞার ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে জয়ের বক্তব্যে এক ধরণের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সুর লক্ষ্য করা গেছে।
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা এবং প্রাণহানির বিষয়টি সাক্ষাৎকারের বড় অংশ জুড়ে ছিল। জয় স্বীকার করেছেন যে, বিক্ষোভ সামলানোর ক্ষেত্রে তদানীন্তন সরকার ‘মিসহ্যান্ডেল’ বা ভুল ব্যবস্থাপনা করেছিল, তবে তিনি সরাসরি তার মায়ের নির্দেশে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তার দাবি, শেখ হাসিনা বিক্ষোভকারীদের রক্তপাত এড়াতেই ৫ই আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করেছিলেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে আসা ১৪০০ নিহতের পরিসংখ্যানকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে জয় দাবি করেন যে, ৫ই আগস্টের পর নিহতের সংখ্যাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যার দায়ভার তার সরকারের নয়। তবে সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন যখন শেখ হাসিনার কথিত অডিও ক্লিপ—যেখানে ‘ওপেন অর্ডার’ দেওয়ার কথা শোনা গেছে—প্রসঙ্গটি তোলেন, তখন জয় দাবি করেন যে সেই ক্লিপগুলো খণ্ডিত এবং সেগুলো কেবল ‘সশস্ত্র উগ্রবাদীদের’ দমনে দেওয়া নির্দেশ ছিল।
সাক্ষাৎকারে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রসঙ্গটিও গুরুত্ব পায়। হাদি হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে জয় বলেন যে, এই মুহূর্তে দলের এমন কোনো সক্ষমতা নেই। বিরোধী দলগুলোর ওপর বিগত পনেরো বছরে দমন-পীড়নের অভিযোগের বিপরীতে জয় দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কখনো কোনো দলকে নিষিদ্ধ করেনি এবং জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল আইনি প্রক্রিয়ায়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে কোণঠাসার মাধ্যমে সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে বলেও তিনি পাল্টা অভিযোগ আনেন। সব মিলিয়ে জয়ের এই সাক্ষাৎকারটি একদিকে যেমন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের অবসান ঘটার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার এক প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তাও বহন করছে।
শহীদ হাদির কবরে শপথ নিয়ে এনসিপির ভোটের লড়াই শুরু
দীর্ঘ ১৬ বছরের ভোটাধিকার বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্নে বিভোর দেশ যখন ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই আগামীর সংস্কার ও সার্বভৌমত্বের বার্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ময়দানে নামল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত তিন নেতার মাজার ও জুলাই অভ্যুত্থানের অকুতোভয় সৈনিক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দলটি তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করেছে।
কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র এই ভূমিকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে এনসিপি মূলত দেশের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকবদলের উত্তরাধিকারকে বর্তমান লড়াইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দেশবাসীকে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের ধারা অব্যাহত রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণার এই আনুষ্ঠানিক সূচনালগ্নে তিন নেতার মাজার প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশে নাহিদ ইসলাম গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন এই যাত্রার দার্শনিক পটভূমি। তিনি উল্লেখ করেন যে, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো বরেণ্য নেতাদের স্মরণের মাধ্যমে তাঁরা মূলত গণতন্ত্রের সেই হারানো ভিত্তিকেই পুনরায় স্থাপন করতে চান। শেরেবাংলা যেভাবে জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন, এনসিপিও ঠিক একইভাবে আধুনিক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
ঢাকা-৮ আসন থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকেই ২০২৪ সালের সেই মহাবিপ্লবের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছিল, যা আজ পুরো জাতিকে এক নতুন আজাদির আস্বাদ দিচ্ছে। এনসিপি’র এই যাত্রা কেবল ভোটের কাঙালপনা নয়, বরং শহীদদের রক্তের ঋণের প্রতি এক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।
এই প্রচারণার অন্যতম প্রধান ও স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে জুলাইয়ের শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার। শহীদ হাদির কবর জিয়ারত শেষে নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, আধিপত্যবাদ বিরোধী এই লড়াইয়ে যারা অকুতোভয় সৈনিকদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাঁদের বিচার নিশ্চিত করাই এনসিপির প্রধান নির্বাচনী এজেন্ডা।
নির্বাচনের আগেই বাংলার মাটিতে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর উপস্থিতিতে এই শপথ বাক্য উচ্চারিত হওয়ার সময় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই সংস্কারের যাত্রা পূর্ণতা পাবে না।
প্রচারণার উদ্বোধনী ভাষণে নাহিদ ইসলাম দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, সংসদে সাধারণ মানুষের কথা, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং সার্বভৌমত্বের জয়গান গাইতে ‘১০ দলীয় ঐক্যজোটকে’ বিজয়ী করা সময়ের দাবি। এনসিপির নিজস্ব ৩০ জন প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ মার্কা নিয়ে দেশজুড়ে লড়াই করছেন, যাঁদেরকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। জিয়ারত ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এনসিপির নেতা-কর্মীরা ঢাকা-৮ নির্বাচনি এলাকায় এক বিশাল ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ ও গণসংযোগে অংশ নেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁরা ঘরে ঘরে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। ১৬ বছরের রুদ্ধ দুয়ার খোলার এই মাহেন্দ্রক্ষণে এনসিপির এই সরব উপস্থিতি বাংলাদেশের নির্বাচনি রাজনীতিতে এক গুণগত পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জনগণের শক্তিই বিএনপির প্রাণ: মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের হুঙ্কার
মৌলভীবাজারের জনারণ্যে নিজের রাজনৈতিক দর্শনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, ধানের শীষের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী নয়, বরং এ দেশের সাধারণ মানুষ।
আজ বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি ঘোষণা করেছেন এমন কিছু সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের কথা, যা বাস্তবায়ন হলে প্রান্তিক চা শ্রমিক থেকে শুরু করে মসজিদের খতিব—সবার জীবনযাত্রায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে যারা প্রতারণার রাজনীতি করে, তাদের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তারেক রহমান এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, যেখানে উন্নয়নের সমান্তরালে সংরক্ষিত হবে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা ও বিশ্বাস। তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, লক্ষ-কোটি জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থই বিএনপির রাজনীতির প্রধান উৎস এবং এই শক্তিকেই তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান।
মৌলভীবাজারের এই জনসভায় তারেক রহমান বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার যে নীল নকশা পেশ করেন, তার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষি কার্ড’ প্রকল্প। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা অবহেলিত চা বাগান শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এই ফ্যামিলি কার্ড এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দাবি করেন।
কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, বিএনপির এই মহাপরিকল্পনায় গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেচ ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সূচিত সেই ঐতিহাসিক ‘খাল খনন’ কর্মসূচির আধুনিক রূপ ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, এটি কৃষকের সেচ সমস্যার সমাধান করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য স্বতন্ত্র ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তনের মাধ্যমে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী করার আহ্বান জানান।
সমাজের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষায় তারেক রহমান এক অনন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা জনসভায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তিনি ঘোষণা করেন যে, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানজনক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে রাজনীতির হীন স্বার্থে ব্যবহার করার পরিবর্তে সমাজ সংস্কারের শক্তি হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ‘করবো কাজ, দেশ গড়বো—সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখরিত সেই জনসভায় তারেক রহমান সাধারণ মানুষকে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্যে চা শ্রমিকদের উন্নয়ন, কৃষকের অধিকার এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের সম্মান রক্ষার যে সামগ্রিক চিত্র উঠে এসেছে, তা মূলত একটি মানবিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার পথে বিএনপির আগামীর চূড়ান্ত রূপরেখাকেই প্রতিফলিত করে।
নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য সমর্থকদের কাছে অনুদান চাইলেন এনসিপি নেতা
নতুন এক বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপরেখা ও নাগরিক অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে নির্বাচনি প্রচারণার জন্য সমর্থকদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন আখতার হোসেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর সদস্যসচিব এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে প্রকাশিত এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান। পোস্টে তিনি জানান, রংপুর-৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং স্থানীয় জনগণের ইতিবাচক সাড়া ও সমর্থন তাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করছে।
আখতার হোসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা ও হতাশা কাটিয়ে একটি দায়িত্বশীল ও নাগরিকবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়েই তিনি নির্বাচনে নেমেছেন। তাঁর ভাষায়, কাউনিয়া ও পীরগাছার মানুষ তাকে যে আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে গ্রহণ করেছেন, তা তাকে আশাবাদী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে।
তিনি আরও জানান, আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ভার বহনের জন্য শুভানুধ্যায়ী ও সমর্থকদের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এতদিন অনানুষ্ঠানিকভাবে যে অনুদান ও সহায়তা পেয়েছেন, আসন্ন প্রচারণা পর্যায়ে সেটির পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ছাপানো, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড নির্মাণ, মিছিল ও উঠান বৈঠকের আয়োজন, পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং নতুন নতুন সৃজনশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নে জনগণের আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা জরুরি।
তিনি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, অনুদানের অঙ্ক বড় না হলেও অংশগ্রহণের মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আহ্বান, কেউ যেন দ্বিধা না করেন ১০ টাকা দিয়েও শুরু করা যেতে পারে, আবার যার সামর্থ্য আছে তিনি সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিয়েই এগিয়ে আসতে পারেন।
কাউনিয়া-পীরগাছার বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের শুভানুধ্যায়ী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিও তিনি সহযোগিতার আহ্বান জানান। তার মতে, সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও নাগরিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমেই এই কঠিন নির্বাচনি লড়াইয়ে সফল হওয়া সম্ভব।
পোস্টের শেষাংশে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের দোয়া, সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে ইনশাআল্লাহ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় রচনা করা সম্ভব হবে।
-রফিক
তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই সমাবেশের মধ্য দিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মাঠপর্যায়ের প্রচার কার্যক্রমে নতুন গতি যোগ হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর পৌণে ১২টার দিকে জনসভার মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করেন বিএনপির মহাসচিব। সংক্ষিপ্ত কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক বাংলাদেশ গড়তে চায় এবং সে লক্ষ্যেই দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান–কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় দলটি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সিলেটবাসীসহ দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনীতিতে একটি বিশেষ মহল রয়েছে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনায় বিশ্বাস করে না। এই গোষ্ঠী অতীতেও স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং বর্তমানে বিএনপি ও তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়েও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সচেতনতা ও ঐক্যই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভা পরিচালনা করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। জনসভায় সিলেট ও আশপাশের জেলা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
-রফিক
সিলেটে বিএনপির জনসভা, আজান শুনে বক্তব্য থামালেন তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার শুরু করল পবিত্র ভূমি সিলেট থেকে। বৃহস্পতিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দলটির প্রথম নির্বাচনি জনসভা, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হন উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী। বক্তব্য চলাকালে যোহরের নামাজের আজান ভেসে এলে তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য থামিয়ে দেন তারেক রহমান। ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি এই সম্মান প্রদর্শনের ঘটনায় মাঠজুড়ে নীরবতা নেমে আসে এবং উপস্থিত জনতা বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহণ করে।
দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শুরু করেন আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে। বক্তব্যের কিছু সময় পর নিকটবর্তী মসজিদের মাইকে আজানের ধ্বনি শোনা গেলে তিনি কথা বন্ধ করে দেন। এর আগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সূচিত হয়।
জনসভাকে ঘিরে সিলেটজুড়ে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ। বুধবার রাত থেকেই সমাবেশস্থলের একাংশে সামিয়ানা টানিয়ে ত্রিপলের ওপর অবস্থান নেন অনেক নেতাকর্মী। কেউ কেউ সেখানেই রাত যাপন করেন, যাতে সকালে জনসভায় অংশ নিতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিছিলসহ জনসভাস্থলে উপস্থিত হন বিএনপি জোটভুক্ত দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক। সে সময় তাঁর অনুসারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে মাঠে প্রবেশ করেন, যা সমাবেশের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এই নির্বাচনি জনসভার আয়োজন করে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। দলীয় নেতারা জানান, সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করার মাধ্যমে তারা একটি প্রতীকী বার্তা দিতে চেয়েছেন যে পরিবর্তনের ডাক এবার দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ধারাবাহিক গণসংযোগ ও জনসমাবেশের মাধ্যমে।
-রফিক
তারেক রহমানের সিলেট সফর, আজকের কর্মসূচি কী কী
প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৫ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সিলেটে কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর এবার ভিন্ন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায়, দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে আবারও সিলেটের মাটিতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভাকে কেন্দ্র করেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে তারেক রহমানের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা।
নির্বাচনি সফরের অংশ হিসেবে বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সিলেট পৌঁছান বিএনপি চেয়ারম্যান। রাত ৯টা ১৮ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জিয়ারত করেন এবং এরপর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী-এর কবরে শ্রদ্ধা জানান। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহনকারী এসব স্থান থেকে নির্বাচনি সফরের সূচনা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।
পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুর গ্রামে নিজ শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে পৌঁছান তারেক রহমান। তাঁর শ্বশুর প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান এবং এটি তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের পৈতৃক নিবাস। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর স্মরণে আয়োজিত একটি সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচি শেষে তিনি রাতেই নগরীর গ্র্যান্ড হোটেলে ফিরে যাবেন।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়েই বৃহস্পতিবার থেকে তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। বুধবার রাত থেকেই সিলেটের বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের জেলা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৃহস্পতিবার সকালেই সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এই সমাবেশকে ঘিরে সিলেট বিএনপি সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্মিত মঞ্চটি প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের, যেখানে প্রায় ৩০০ অতিথি বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে তোরণ, বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীরা শত শত ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়েছেন। আজকের জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন আসনের বিএনপি প্রার্থী, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সকালে সিলেট বিমানবন্দর এলাকার গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান। জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীকে এই মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই সংলাপকে ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও তরুণ প্রজন্মের ভাবনা বোঝার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে দলটি।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বেলা ১১টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এরপর দুপুর ২টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি। সেখান থেকে তিনি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে আরেকটি সমাবেশে অংশ নেবেন। ধারাবাহিক এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সিলেট বিভাগজুড়ে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে গতি আসবে বলে আশা করছে দলীয় নেতৃত্ব।
-রফিক
যানজটমুক্ত ঢাকা ও স্যাটেলাইট সিটি; উন্নয়ন রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
সবাইকে নিয়ে আগামী দিনে একটি নতুন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়ন থেকে গণমানুষের মুক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য শান্তির আবাসভূমি গড়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। বৈঠকে সাতটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী এবং ন্যাপ-ভাসানীসহ অন্যান্য জোটের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক জানান যে, তাঁরা একটি উদার ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন।
রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি গতকাল দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গেও এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তারেক রহমান। সেখানে তিনি দেশের প্রচলিত কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতির পরিবর্তে নীতি বা পলিসিনির্ভর রাজনীতি চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন যে, দলগুলোর মধ্যে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধান নিয়ে গঠনমূলক বিতর্ক হওয়া উচিত, তবেই দেশ প্রকৃত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে তিনি রাজধানীর চারপাশে আধুনিক স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান। এসব শহর থেকে ট্রেনের মাধ্যমে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া লন্ডনের টেমস নদীর আদলে বুড়িগঙ্গাকে সংস্কার করার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন যে, নদীর তলদেশের পলিথিন সরিয়ে দুই ফুট খনন করা গেলে নদীটি তার স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তারেক রহমান শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি ঘোষণা করেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে, যা মূলত দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ সহায়ক হবে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, কোনো কোনো দল গ্রামের নারীদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি একটি সুন্দর ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায় যেখানে প্রতিটি নাগরিক যথাযোগ্য মর্যাদা পাবে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই দিনে তারেক রহমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য যে, গত ২১ জুলাই একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ৩৫ জন নিহত হয়েছিলেন। গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ে অপেক্ষমাণ শোকার্ত পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে তিনি তাদের সান্ত্বনা দেন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার আশ্বাস দেন। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হলে তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ভবিষ্যতে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে এসব পরিবারের দাবি পূরণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। এই সাক্ষাত শেষে ডিআরইউর প্রতিনিধিরা তাঁকে আগামী ৩০ জানুয়ারি তাঁদের পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।
জীবনের নিরাপত্তায় গানম্যান চাইলেন আব্দুল হান্নান মাসউদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ তাঁর জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে গানম্যান চেয়ে আবেদন করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পরপরই একজন প্রার্থীর পক্ষ থেকে এমন নিরাপত্তার আবেদন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আব্দুল হান্নান মাসউদ তাঁর আবেদনে বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।
নিরাপত্তা চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, হাতিয়া উপজেলায় এখনো অবৈধ অস্ত্রের অস্তিত্ব রয়ে গেছে, যা নির্বাচনী পরিবেশের জন্য বড় ধরণের হুমকি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে গিয়ে যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং নিরাপদভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থেই তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই বিশেষ নিরাপত্তা সহায়তা চেয়েছেন। মাসউদ আরও উল্লেখ করেছেন যে, এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং তিনি চান সব ভোটার যেন কোনো ধরণের ভয়ভীতি ছাড়া নিরাপদ পরিবেশে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রশাসন তাঁর এই আবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নোয়াখালীর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, আব্দুল হান্নান মাসউদের আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেটি জেলা পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের এই সময়ে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব, তাই বিধি মোতাবেক সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানিয়েছেন যে, তাঁরা আবেদনটি হাতে পেয়েছেন। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাতিয়া দ্বীপ অঞ্চলের বিশেষ ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রার্থীর এই নিরাপত্তা আবেদনের বিষয়টি প্রশাসন বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে।
পাঠকের মতামত:
- রাজনীতি থেকে কি স্থায়ী অবসরে শেখ হাসিনা? জয়ের বক্তব্যে নতুন রহস্য
- নীরব ঘাতক ফুসফুস ক্যানসার: প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের ৫টি উপায়
- সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য খুশির খবর: ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ ছুটির হাতছানি
- ভারতের মাটিতে থেকে হাসিনার কোনো বার্তা কাম্য নয়: তৌহিদ হোসেনের কড়া বার্তা
- শহীদ হাদির কবরে শপথ নিয়ে এনসিপির ভোটের লড়াই শুরু
- জনগণের শক্তিই বিএনপির প্রাণ: মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের হুঙ্কার
- ২৪ ঘণ্টার রোমাঞ্চের অবসান; ভারতের মাটিতে পা রাখছে না টিম বাংলাদেশ
- নবম পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের বড় সুখবর
- শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনের চিত্র কী বলছে
- ২২ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ২২ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার
- ২২ জানুয়ারি বাজারে দরবৃদ্ধির ১০ শেয়ার
- ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম কি ছুঁবে ৫৪০০ ডলার? গোল্ডম্যানের পূর্বাভাস জানুন
- ভালুকায় বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে উত্তাল মহাসড়ক
- সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, মৌখিক পরীক্ষা কবে
- নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য সমর্থকদের কাছে অনুদান চাইলেন এনসিপি নেতা
- পে স্কেলে ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, কতটা বিপদে পড়বে বেসরকারি খাত
- তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
- সিলেটে বিএনপির জনসভা, আজান শুনে বক্তব্য থামালেন তারেক রহমান
- শিশুদের সবজি খাওয়ানোর ৫টি জাদুকরী কৌশল
- ডিএসই পরিদর্শনে একাধিক তালিকাভুক্ত কারখানা বন্ধের চিত্র
- এডিএন টেলিকমের ২য় আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও ব্যাখ্যা
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বোর্ড সভার ঘোষণা, শেয়ার দামে প্রভাব পড়বে কি
- ইন্দোনেশিয়ার গুহায় মিলল বিশ্বের প্রাচীনতম শৈল্পিক স্বাক্ষর
- বাজারদর বনাম প্রকৃত মূল্য: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- পাকিস্তানে তেলের নতুন খনি: এক কূপেই মিলল বড় সাফল্য
- আইসিসির আল্টিমেটামের মাঝেও আশা দেখছেন বুলবুল
- জুট্রোপলিস ২-এর রেকর্ড: হলিউড অ্যানিমেশনের মুকুট এখন ডিজনির মাথায়
- প্রাক্তনের মায়া ও ভুলের চক্র: নতুন বছরে নিজেকে বদলানোর ৩টি চাবিকাঠি
- মোস্তাফিজ ইস্যুতে নীরবতা ভাঙল আইসিসি, কী বলল বিশ্ব সংস্থা
- ওজন কমাতে নাশতা বাদ? হিতে বিপরীত হওয়ার সতর্কতা
- নীরবে রক্তপাত? পাইলসের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ জানুন
- তারেক রহমানের সিলেট সফর, আজকের কর্মসূচি কী কী
- দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার (২২ জানুয়ারি ২০২৫)
- যানজটমুক্ত ঢাকা ও স্যাটেলাইট সিটি; উন্নয়ন রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২২ জানুয়ারি ২০২৬
- গাজা শান্তি উদ্যোগে বড় মোড়; ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ ৯ মুসলিম দেশ
- জীবনের নিরাপত্তায় গানম্যান চাইলেন আব্দুল হান্নান মাসউদ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- নামাজের সময়সূচি: ২২ জানুয়ারি ২০২৬
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির
- আইসিসির কঠোর অবস্থানে বিপাকে বিসিবি
- শুরু হলো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা
- স্মার্টফোনেই দেশের ভাগ্য নির্ধারণ? শুরু হলো প্রবাসীদের ঐতিহাসিক পোস্টাল ভোট
- সোনা ও রুপার বাজারে ফের রেকর্ড; কাল থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দর
- বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহীদের তালিকা প্রকাশ; তালিকায় শীর্ষ নেতারাও
- ডাইনোসর রাজার দীর্ঘ যৌবন; টি-রেক্স কেন অজেয় ছিল তার নতুন রহস্য উন্মোচন
- পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি? ডায়েটে রাখুন বিশেষ প্রোটিন
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- দুনিয়ার সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল বিশ্ববাজার
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন পে স্কেল ২০২৬, আজ চূড়ান্ত সুপারিশ, সর্বশেষ যা জানা গেল
- ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার: নতুন পে স্কেলে কার বেতন কত বাড়ছে?
- দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে
- সোনা ও রুপার বাজারে ফের রেকর্ড; কাল থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দর
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- শাবান ও শবেবরাত ২০২৬: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
- কুমিল্লা ৪ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরকার - নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা জারি
- মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের চার পাশে থম থমে পরিবেশ








