পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত হামলাকারীদের হানা, লোহিত সাগরের নৌপথে নতুন উত্তেজনা

ইয়েমেন উপকূলের কাছে লোহিত সাগরে একটি পণ্যবাহী কার্গো জাহাজে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৫ জুলাই) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজটি থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করে জানানো হয়েছে যে তারা অজ্ঞাতপরিচয় কিছু সশস্ত্র হামলাকারীর আক্রমণের শিকার হয়েছে। তবে এই আকস্মিক হামলায় জাহাজটির কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, এই সশস্ত্র হামলার ঘটনাটির বিষয়ে গভীর তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এই অঞ্চলের নৌপথে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ চালানোর হুমকি দিলেও, এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে তারা এখনও কোনো দায় নেয়নি। হুথি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরের বিভিন্ন অংশে সোমালি জলদস্যুদের নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠার প্রমাণ মিলছে। জলদস্যুদের এই ক্রমবর্ধমান তৎপরতা ওই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
খামেনির কফিনের সামনে বদরের আয়াত: সৌদিকে কী বার্তা দিল ইরান?
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে যখন সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল এগিয়ে যায়, তখন এরপর যে কোরআন তিলাওয়াত করা হয়, তা অনেকের নজর এড়ায়নি। তিলাওয়াত করা হয় সুরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত, যেখানে বদরের যুদ্ধের প্রসঙ্গ এসেছে। ইসলামের ইতিহাসে বদর এমন এক যুদ্ধ, যেখানে সংখ্যায় ও সামরিক সরঞ্জামে অনেক দুর্বল মুসলিম বাহিনী আল্লাহর ইচ্ছায় অপেক্ষাকৃত বড় ও শক্তিশালী বাহিনীকে পরাজিত করেছিল।
প্রশ্ন উঠছে, সৌদি প্রতিনিধিদলের সামনে এই আয়াত তিলাওয়াত কি নিছক ধর্মীয় পাঠ ছিল, নাকি এর ভেতরে ছিল সূক্ষ্ম কূটনৈতিক বার্তা? এটি কি রিয়াদের প্রতি সৌজন্য, তিরস্কার, নাকি দুটোরই মিশ্রণ? মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাপূর্ণ বাস্তবতা বিবেচনায় অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এমন একটি রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির সময় নির্দিষ্ট আয়াতের নির্বাচনকে পুরোপুরি কাকতালীয় বলা কঠিন।
বদরের যুদ্ধ ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান সৌদি আরবের ভূখণ্ডেই সংঘটিত হয়েছিল। সে অর্থে আয়াতটি মুসলিম বিশ্বের একটি অভিন্ন ঐতিহাসিক ও সভ্যতাগত স্মৃতির দিকে ইঙ্গিত করে। উদারভাবে পড়লে বলা যায়, তেহরান হয়তো সৌদি আরবকে ইসলামের প্রথমদিককার বিজয়, বিশ্বাস ও ঐক্যের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছে। কিন্তু একই আয়াত সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভিন্ন অর্থও বহন করে। ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আঘাতের মুখে তারা শুধু টিকে থাকেনি; বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে আরও দৃঢ় অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ফলে বদরের আয়াত তেহরানের নিজের বিজয়-আখ্যানের সঙ্গেও মিলে যায়।
ইরানপন্থী বিশ্লেষকদের একাংশ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধকে ইরানের কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, ইরান সামরিকভাবে বিধ্বস্ত হয়নি, শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, মিত্র বলয় সক্রিয় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রভাব আরও দৃশ্যমান হয়েছে। সেই দৃষ্টিতে বদরের আয়াত যেন এই বার্তাই দেয়: সংখ্যায়, প্রযুক্তিতে বা জোটে দুর্বল মনে হলেও বিশ্বাস, কৌশল ও প্রতিরোধের শক্তি শেষ পর্যন্ত বড় শক্তিকে প্রতিহত করতে পারে।
অন্যদিকে সৌদি আরব যুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ্যে সতর্ক ও সংযত অবস্থান নিলেও, তেহরানের দৃষ্টিতে রিয়াদ পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিল না। সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। কিছু প্রতিবেদনে যুদ্ধের সময় সৌদি আরবের নীরব সামঞ্জস্য, এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে পরোক্ষ ভূমিকার কথাও আলোচনায় এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি প্রতিনিধিদলের সামনে বদরের আয়াত তিলাওয়াতকে কেউ কেউ তেহরানের শীতল কূটনৈতিক স্মরণিকা হিসেবে দেখছেন। বার্তাটি হতে পারে, রিয়াদ পাশে ছিল না, কিংবা প্রতিপক্ষের খুব কাছে দাঁড়িয়েছিল; তবু আজ তাকে বিজয় ও শোকের মঞ্চে এসে শ্রদ্ধা জানাতে হচ্ছে।
সৌদি আরব অবশ্য একমাত্র দেশ ছিল না। ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদল খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে উপস্থিত হয়। এই উপস্থিতি ইরানের জন্য নিজস্ব শক্তি প্রদর্শনের একটি সুযোগ হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন দেখাতে চাইলেও, এত সংখ্যক বিদেশি প্রতিনিধির উপস্থিতি তেহরানের পাল্টা বার্তা দেয়: ইরান এখনো একঘরে নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে তার নেটওয়ার্ক সক্রিয়।
৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তাঁর বাসভবনে ইসরায়েলি-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই হামলায় তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি, জামাতা ও পুত্রবধূও নিহত হন। তাঁর মরদেহ তিন দিন ধরে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়। এই স্থাপনাটি ইরানের বৃহত্তম নামাজ ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের কেন্দ্রগুলোর একটি।
খামেনির জানাজা ছিল ধর্মীয় অনুষ্ঠান, কিন্তু একই সঙ্গে তা ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতীকী মঞ্চ। ইরান এই আয়োজনের মাধ্যমে নিজ জনগণকে জানাতে চেয়েছে যে রাষ্ট্র শোকাহত হলেও ভেঙে পড়েনি। মিত্রদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে তেহরান এখনো দৃঢ়। বড় শক্তিগুলোকে দেখাতে চেয়েছে যে সামরিক হামলা ইরানি রাষ্ট্রকে অচল করতে পারেনি। আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছে, তেহরান কে কোথায় দাঁড়িয়েছিল, তা ভুলে যায়নি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিনিধি বা সংগঠনের সামনে ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াতের বিষয়টি তাই বিশেষ নজর কাড়ে। আয়াত নির্বাচনের ভেতর যেন তেহরানের কূটনৈতিক শ্রেণিবিন্যাস ফুটে ওঠে। কারও জন্য ছিল শাহাদাত, অঙ্গীকার ও বিজয়ের ভাষা; কারও জন্য ছিল ন্যায়পরায়ণতা, আশ্বাস ও পুরস্কারের ভাষা; আবার কারও জন্য ছিল সূক্ষ্ম তিরস্কার বা শীতল বার্তা।
হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, ইরাকের হাশদ আল-শাবি এবং আফগানিস্তানের তালেবানের জন্য নির্বাচিত আয়াতগুলোতে ছিল প্রতিরোধ, শাহাদাত, অঙ্গীকার ও বিজয়ের সুর। এই সংগঠনগুলোকে তেহরান তার ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে দেখে। ফলে তাদের জন্য কোরআনিক বার্তাও ছিল আদর্শিক ঘনিষ্ঠতা ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতার ভাষায় সাজানো।
হামাসের জন্য এমন আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে, কিছু মানুষ আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার সত্য প্রমাণ করেছে। কেউ অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, কেউ অপেক্ষায় আছে, কিন্তু কেউ প্রতিশ্রুতি বদলায়নি। হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আয়াতে বিশ্বাসীদের উচ্চ অবস্থান, ধৈর্য এবং শহীদ নির্বাচনের ধারণা উঠে আসে। ইয়েমেনের হুতিদের জন্য সুরা আল-ফাতহের ২৯ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, যেখানে নবীর সঙ্গীদের দৃঢ়তা, পরস্পরের প্রতি মমতা এবং চাপের মধ্যেও বিকাশের চিত্র পাওয়া যায়।
ইরাকের হাশদ আল-শাবির জন্য তিলাওয়াত করা হয় শহীদদের জীবিত থাকার সুপরিচিত আয়াত। ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ ও তালেবানের জন্য ব্যবহৃত হয় সুরা আল-ফাতহের সূচনা অংশ, যেখানে ‘সুস্পষ্ট বিজয়’-এর কথা বলা হয়েছে। একদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন, অন্যদিকে আফগান তালেবান, দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের পক্ষের জন্য একই আয়াতের ব্যবহার ইঙ্গিত করে যে তেহরান তাদের একটি বৃহত্তর আদর্শিক আত্মীয়তার ভেতর দেখতে চায়। এর ভেতরে এমন বার্তাও থাকতে পারে যে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তালেবানের সাফল্য এবং এখন ইরানের টিকে থাকা, ফিলিস্তিনিদের জন্যও ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এক ধরনের অনুপ্রেরণার কাঠামো তৈরি করে।
অন্যদিকে রাশিয়া, চীন, ভারত ও মিসরের মতো রাষ্ট্রীয় অংশীদারদের ক্ষেত্রে আয়াতের ভাষা ছিল তুলনামূলকভাবে সংযত। সেখানে সরাসরি যুদ্ধ, শাহাদাত বা প্রতিরোধের বদলে ছিল ন্যায়পরায়ণতা, আশ্বাস, সৎকর্ম ও পুরস্কারের ইঙ্গিত। রাশিয়ার জন্য ব্যবহৃত আয়াতে বলা হয়, আখিরাতের আবাস তাদের জন্য, যারা পৃথিবীতে জুলুম বা বিপর্যয় চায় না। চীনের ক্ষেত্রে আয়াতটি ছিল আরও নরম, যেখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ এই বার্তা দিয়েছেন সুসংবাদ ও হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য, আর বিজয় কেবল আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।
ভারতের ক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর জন্য ব্যবহৃত বৃহত্তর আয়াতের একটি নরম অংশ নেওয়া হয়, যেখানে দুর্বল না হওয়া ও শোক না করার বার্তা আছে। মিসরের একটি তিলাওয়াতে সৎকর্মশীল বিশ্বাসীদের সর্বোত্তম সৃষ্টিরূপে উল্লেখ করা হয়। এসব রাষ্ট্র তেহরানের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তারা উপস্থিত হয়ে ইরানকে কূটনৈতিক বৈধতা দিয়েছে, কিন্তু তেহরান তাদের ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেনি। তাদের জন্য আয়াতগুলো ছিল কৃতজ্ঞতা, ভারসাম্য ও সম্পর্ক ধরে রাখার ভাষা।
কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরের আরেকটি অবস্থান ছিল মাঝামাঝি। তারা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, আঞ্চলিক রাজনীতি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুক্ত, কিন্তু সরাসরি সশস্ত্র প্রতিরোধ বয়ানের অংশ নয়। কাতার, যে যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে, তার জন্য ‘সুস্পষ্ট বিজয়’-এর আয়াত ব্যবহৃত হলেও তা কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে নরম অর্থ বহন করে। এটি সমর্থনের স্বীকৃতি, সরাসরি যুদ্ধের ডাক নয়।
তুরস্কের জন্য ব্যবহৃত আয়াতে যারা সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করে, তাদের মর্যাদার কথা বলা হয়। আঙ্কারা যুদ্ধের বাইরে থাকলেও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধাসক্ত’ বলে আঞ্চলিক আধিপত্যের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে আয়াতটি ছিল ব্যক্তিগত প্রার্থনার মতো, যেখানে সম্মানের সঙ্গে প্রবেশ ও সম্মানের সঙ্গে প্রস্থানের কথা আছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসলামাবাদ ও দোহা কূটনৈতিক মধ্যস্থতার পথে সক্রিয় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবহার করে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করেছে বলে আলোচনায় এসেছে।
লেবানন সরকারের জন্য ব্যবহৃত আয়াতটি ছিল আরও তির্যক। হিজবুল্লাহর জন্য যেখানে প্রতিরোধ ও বিশ্বাসীদের উচ্চতার আয়াত ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে লেবাননের সরকারি প্রতিনিধিদের সামনে সুরা আন-নিসার ৬৬ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, যদি মানুষকে আত্মত্যাগ বা ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হতো, তবে অল্প কয়েকজন ছাড়া তা মানত না; অথচ তারা যদি উপদেশ অনুযায়ী চলত, তা তাদের জন্য উত্তম ও দৃঢ়তর হতো। এই আয়াতকে অনেকেই লেবানন সরকারের প্রতি তেহরানের সূক্ষ্ম ভর্ৎসনা হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, লেবাননের সরকার ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর নয়, বরং অনেক সময় হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলাকেই বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সব মিলিয়ে খামেনির জানাজা শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল ধর্মীয় আচার, রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রদর্শন, কূটনৈতিক বার্তা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতা-রাজনীতির এক জটিল মঞ্চ। আয়াত নির্বাচনকে ঘিরে যে প্রতীকী ভাষা তৈরি হয়েছে, তা তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা খুলে দেয়। ইরান তার মিত্রদের বলেছে, প্রতিরোধ সফল হয়েছে; অংশীদারদের বলেছে, তেহরান এখনো দৃঢ়; মধ্যস্থতাকারীদের বলেছে, তাদের ভূমিকা মনে রাখা হয়েছে; আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বলেছে, তাদের অবস্থানও নথিভুক্ত আছে।
সৌদি প্রতিনিধিদলের সামনে বদরের আয়াত তিলাওয়াত সেই বৃহত্তর সংকেত-রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। এটি একদিকে ইসলামের যৌথ স্মৃতি, অন্যদিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের আত্মবিশ্বাসী রাজনৈতিক পাঠ। তেহরানের বার্তাটি সম্ভবত এমন: ইরান পরাজিত হয়নি; বরং পরীক্ষিত, ক্ষতবিক্ষত কিন্তু অটুট এক শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। যারা পাশে ছিল, তারা তার বিজয়-বয়ানের অংশ। যারা দূরে ছিল, তাদেরও ইতিহাসের আয়নায় নিজেদের অবস্থান দেখতে হবে।
‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে দেওয়া তাঁর একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু ভালোভাবেই জানেন ‘আসল বস কে’। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শিগগিরই হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তাঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে।” বক্তব্যে তিনি নিজের দিকেই ইঙ্গিত করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ৭-৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলন শেষে তিনি এবং নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসতে পারেন। যদিও বৈঠকের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। অ্যাক্সিওসের বরাতে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকটি সম্ভবত সম্মেলনের পরপর নয়, বরং তার পরের সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি দুই নেতা টেলিফোনে কথা বলেছেন। ওই আলোচনায় শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে মুখোমুখি বৈঠকের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন তারা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরান ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
এই সফর বাস্তবায়িত হলে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর এটিই হবে নেতানিয়াহুর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ওই সফরের সময় ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। যদিও এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ অনেক উপদেষ্টার ধারণা, নেতানিয়াহু যিনি ‘বিবি’ নামেও পরিচিত সাম্প্রতিক বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন নিয়ে হোয়াইট হাউসের ভেতরে প্রশ্ন রয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।
-রফিক
দাফন চলাকালীন হামলার চেষ্টা হলে আমেরিকা-ইসরায়েলকে ধ্বংস করার হুমকি তেহরানের
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দফতর ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার আলী আব্দুল্লাহি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাফন প্রক্রিয়া চলাকালীন ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের উসকানিমূলক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর ও ধ্বংসাত্মক।
আলী আব্দুল্লাহি দাবি করেন, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা আগ্রাসন রুখে দিয়ে উপযুক্ত ও কঠিন প্রতিক্রিয়া জানাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যাতে এই অন্তর্বর্তী সময়ে কোনো ভুল না করে, সেই সতর্কবার্তা দেয় তেহরান। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার দিনই এক যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনি।
দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাঁর মরদেহ সংরক্ষণ করে রাখার পর, আগামীকাল রবিবার (৫ জুলাই) ভোর থেকে রাজধানী তেহরানে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান। ঐতিহাসিক এই আয়োজনে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তেহরানসহ মোট পাঁচটি প্রধান শহরে পর্যায়ক্রমে শোকযাত্রা ও জানাজা শেষে আগামী ৯ জুলাই খামেনিকে তাঁর জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে। ইরানি প্রশাসনের ধারণা, এই পাঁচ দিনে দেড় কোটিরও বেশি মানুষের ঐতিহাসিক সমাগম ঘটবে।
তবে এই বিপুল জনসমাগমের মধ্যে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দাফন অনুষ্ঠান চলাকালীন সম্ভাব্য বিমান বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক মঞ্চে আমেরিকা ও ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে তেহরান।
এদিকে খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে পুত্র মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মনোনীত করা হলেও, সাম্প্রতিক এক হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তীব্র নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং শারীরিক অসুস্থতার দরুন তিনি সশরীরে তাঁর পিতার এই দীর্ঘ দাফনক্রিয়ায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র: পুবের কলম
জাতিসংঘের অকাট্য প্রমাণের পরও গাজা গণহত্যা আর কতদিন চেপে রাখবে পশ্চিমা বিশ্ব ?
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাধিক স্বাধীন তদন্তে গাজা উপত্যকায় ইসরাইল কর্তৃক পদ্ধতিগতভাবে গণহত্যা চালানোর অকাট্য প্রমাণ মিললেও, পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো এখনও এই নির্মম সত্যকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। অতি সম্প্রতি, গত ২৩ জুনে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের একটি নতুন প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি জনগণের—বিশেষ করে শিশুদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ অপরাধের বিশদ বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগেও ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের পর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো গাজায় গণহত্যার অকাট্য প্রমাণ হাজির করেছিল। কিন্তু বিগত দুই বছর ধরে বিশ্বজুড়ে মানুষের মোবাইল স্ক্রিনে ২৪ ঘণ্টা ধরে লাইভ সম্প্রচারিত হওয়া ধ্বংসযজ্ঞ, জাতিগত নিধন ও চরম অনাহারের চিত্র দেখার পরও পশ্চিমা নীতিনির্ধারকেরা এই বাস্তবতার দিকে চোখ বন্ধ করে রেখেছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রখ্যাত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মূল্যায়ন এবং খোদ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের নিজস্ব বক্তব্য যেখানে এই গণহত্যার উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে, সেখানে ইউরোপ ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো একটি কঠোর ও একঘেয়ে অবস্থান বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত এই বিশেষ প্রতিবেদনগুলোর ওপর পশ্চিমা কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রায় অনুপস্থিত বললেই চলে, যা অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়।
রাজনৈতিক, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্ষেত্রে গণহত্যা শব্দটি ব্যবহার করা যেন এক অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বা ট্যাবুতে পরিণত হয়েছে। এই দ্বিচারিতা বিশ্ববাসীর মনে এই সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে যে, গণহত্যার স্বীকৃতি এখন নির্ভর করছে অপরাধীর পরিচয় এবং ভুক্তভোগীদের মর্যাদার ওপর।
পশ্চিমাদের এই পক্ষপাতমূলক আচরণের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো তাদের বহুল ব্যবহৃত কূটনৈতিক বাক্য—‘‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে’’। এই শব্দবন্ধটিকে ইসরাইলি নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা ও সামগ্রিক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আগাম বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করছে।
অথচ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের আত্মরক্ষা বা তাদের ভূমিতে চেপে বসা সামরিক দখদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অধিকারের বিষয়টি এখানে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। যারা চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই গণহত্যাকে অস্বীকার বা আড়াল করছেন, তারা প্রকারান্তরে অপরাধীদের আরও বড় যুদ্ধাপরাধ করতে উৎসাহিত করছেন। স্পেন বাদে আর হাতেগোনা কয়েকজন পশ্চিমা নেতা ছাড়া কেউই ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডকে প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যা বলে আখ্যা দেওয়ার সাহস দেখাননি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো যেখানে ইউক্রেন ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও দ্বিচারিতাপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে, তা বিশ্বমঞ্চে তাদের নৈতিক দেউলিয়াত্বকেই প্রকাশ করে। ফিলিস্তিনিদের জীবন, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদাকে পশ্চিমাদের এই অবস্থান অন্য সবার চেয়ে নিচু স্তরে নামিয়ে দিয়েছে।
এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও পশ্চিমা সমালোচনা কেবল ইসরাইলি সরকারের কট্টরপন্থী দুই মন্ত্রী—ইটামার বেন গাভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচ এবং কতিপয় অবৈধ বসতি স্থাপনকারী উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। মূল হোতা হিসেবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং তাদের মূল রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সব ধরনের জবাবদিহিতা থেকে সুকৌশলে দূরে রাখা হচ্ছে।
পরিকল্পিত এই গণহত্যাকে তারা কেবল একটি মানবিক সংকট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তাছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃক আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের মামলাকে সমর্থন করার পরিবর্তে, আন্তর্জাতিক আদালতের প্রসিকিউটর ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের ওপর নানাভাবে চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের রাজনীতি চলছে।
পশ্চিমা বিশ্বের এই ক্রমাগত অস্বীকৃতি ও সহযোগিতা কেবল আন্তর্জাতিক আইনকেই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থার ভিত্তিকেও এক চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
/আশিক
আমরা দয়ালু বলেই খামেনির দাফনের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে আপস করতে বা চলমান উত্তেজনা মিটিয়ে ফেলতে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি জানান, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সাময়িক স্থগিত রেখে দেশটিকে ‘এক সপ্তাহের ছুটি’ দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক বক্তব্য উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছি। আমরা দুটি বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হয়েছি এবং স্নায়ুযুদ্ধ আমেরিকার শত্রুদের ইতিহাসের অতল গহ্বরে পাঠিয়ে দিয়েছে।’’
সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ‘‘আমরা একদিনে ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে চরম শিক্ষা দিয়েছি। তারা এখন আমাদের সাথে আপস করতে মরিয়া, তারা এটি খুব করে চাইছে। আমরা দয়ালু বলেই তাদের নেতার দাফন সম্পন্ন করার জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছিলাম।’’ এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র’ এবং আমেরিকানদের ‘সবচেয়ে স্বাধীন মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করে মানবকল্যাণ, ক্ষুধা মুক্তি ও রোগ নিরাময়ে মার্কিনিদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।
এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘কমিউনিস্ট হুমকির’ পুনরুত্থান নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও সতর্কতা জারি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দেশে এখন কমিউনিস্টদের আনাগোনা ও প্রভাব বাড়ছে। এমনকি নবাগতদের মধ্যেও এমন সব চরমপন্থী ধারণা দেখা যাচ্ছে, যা আমাদের মার্কিন জীবনযাত্রা ও সাফল্যের সম্পূর্ণ বিরোধী।’’ কমিউনিজমকে মার্কিন স্বাধীনতার জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি একে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা ৯/১১-এর চেয়েও বড় বিপদ বলে উল্লেখ করেন।
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, ‘‘আমেরিকা কোনোদিন কমিউনিস্ট দেশ হবে না। আমরা যদি নিজেরা নিজেদের না হারাই, তবে আসন্ন নির্বাচনে আমাদের হারার কোনো সুযোগ নেই।’’ তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন কংগ্রেসে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস হলে রিপাবলিকান পার্টি আগামী ১০০ বছর কোনো নির্বাচনে হারবে না।
/আশিক
ঘণ্টায় ২৭৮ কিমি গতির সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ধেয়ে আসার পূর্বাভাস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে অত্যন্ত শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। সম্ভাব্য ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতিমধ্যেই ওই এলাকার বাসিন্দারা নিজ নিজ ঘরবাড়ির সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে শুরু করেছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন ন্যাশনাল আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সামগ্রিক পরিস্থিতি বেশ আশঙ্কাজনক। গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের প্রতিটি বাসিন্দাকে অন্তত একটি শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন অনুযায়ী, টাইফুন বাভি বর্তমানে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী সামুদ্রিক এলাকায় অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) জানিয়েছে, বর্তমানে ঝড়টির কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার এবং দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ২০৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেটিডব্লিউসির গাণিতিক পূর্বাভাস বলছে, পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকা বাভি অতি দ্রুতই একটি ভয়াবহ ‘সুপার টাইফুনে’ পরিণত হতে পারে। রূপান্তরের প্রাথমিক ধাপে এর বাতাসের গতি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারে পৌঁছাবে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা আরও শক্তিশালী হয়ে ঘণ্টায় ২৭৮ কিলোমিটারে উন্নীত হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই গতিবেগ আটলান্টিকের ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য ধ্বংসাত্মক শক্তি বহন করে।
উপকূলের দিকে আসার পথে ঝড়টি কিছুটা শক্তি হারালেও, আগামী সোমবার (৬ জুলাই) সকালের দিকে বাভি সরাসরি গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে প্রবল পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাধারণত ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতির বাতাসবিশিষ্ট গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়কে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
/আশিক
‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই নতুন করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর তেহরান এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন ও শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে দেশটির স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া দীর্ঘ ভাষণে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি, বৈশ্বিক নেতৃত্ব এবং পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানকে কঠিন চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে তারা যেকোনো উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে চায়। যদিও এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, মানবিক বিবেচনায় খামেনির দাফন ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য তেহরানকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। বক্তব্যে তিনি বলেন, "আমরা ভালো মানুষ বলেই তাদের এই সময় দিয়েছি।" তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিগত সিদ্ধান্ত বা পৃথক ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প একই ভাষণে ভেনিজুয়েলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনিজুয়েলাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করেছে এবং একই ধরনের চাপ ইরানের ক্ষেত্রেও কার্যকর হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতা ও কূটনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে।
এদিকে ইরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাজধানী তেহরানে প্রথমবারের মতো তাঁর কফিন সর্বসাধারণের সামনে আনা হয়। দেশটির সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার ও রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাধারণ মানুষকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বও এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় লাখো মানুষ শোকমিছিল ও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নিয়েছেন। অনেকের হাতে ছিল লাল পতাকা, যা ইরানে প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। আয়োজকরা এটিকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করছেন।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ ধর্মীয় নগরী কোমে নেওয়া হবে। এরপর ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদে ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন সম্পন্ন করা হবে। দাফনের পর আরও কয়েক সপ্তাহব্যাপী শোক কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
ইরানের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা—পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে লক্ষ্য করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। তেল আবিবের ভাষ্য, এ ধরনের অভিযোগের কোনো বাস্তবভিত্তিক প্রমাণ নেই এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ‘ভুয়া’ ও ‘বাস্তবতার বিকৃত উপস্থাপন’ ছাড়া কিছুই নয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরানের প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে হত্যার পরিকল্পনার খবর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওই দুই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলার সময় ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন হামলা সংঘটিত হলে কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারত।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের অন্যতম অংশ ছিল ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ কর্মকর্তা আলী লারিজানিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একই প্রেক্ষাপটে আরাগচি ও গালিবাফও সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় থাকতে পারেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের মূল্যায়ন ছিল ভিন্ন। তাদের মতে, শান্তি আলোচনায় সরাসরি সম্পৃক্ত দুই শীর্ষ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপর হামলা হলে আলোচনার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেত এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। সে কারণেই ওয়াশিংটন সম্ভাব্য এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর একটি পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আব্বাস আরাগচি ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাময়িকভাবে তাদের নাম সেই তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পেরেছিল যে অন্তত গালিবাফ সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইসরায়েলকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়, যাতে আলোচনার পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে এবং নতুন করে আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি না তৈরি হয়।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলতি বছরের সামরিক উত্তেজনার সময় পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি গোপন বাঙ্কারে জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের ওপর হামলার ঘটনাতেও গালিবাফ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। ইরানের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দাবি, ওই দুই ঘটনাতেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।
তবে এসব দাবি ও প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে এবং সেগুলো বাস্তব পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের এই পর্বে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
-রফিক
খামেনির ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে থাকছে যেসব আনুষ্ঠানিকতা
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় আয়োজন। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে কঠোর নিরাপত্তা, ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি এবং একাধিক ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় জানাজা নয়; বরং দেশটির রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীকী প্রদর্শন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লাখো মানুষকে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। আয়োজকরা আশা করছেন, অনুষ্ঠানজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন।
ইরানি প্রশাসনের ধারণা, পুরো আয়োজনজুড়ে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। যদি সেই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। রাজধানীর প্রধান সড়ক, ধর্মীয় কেন্দ্র এবং অনুষ্ঠানস্থলজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দলও মোতায়েন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত তেহরানে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের কার্যক্রম চলবে। এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পবিত্র শহর কোমের জামকারান মসজিদে, যেখানে শিয়া ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিশেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনকে ইরানের ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরবর্তী ধাপে মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। সেখানে ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোতে বিশেষ দোয়া ও স্মরণানুষ্ঠান শেষে কারবালায় আরও একটি ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সফরকে প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
সবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদের ঐতিহাসিক ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। দাফনের পর দেশজুড়ে টানা ৪০ দিনের শোকানুষ্ঠান এবং পরবর্তী এক বছর বিভিন্ন পর্যায়ে স্মরণসভা, ধর্মীয় আলোচনা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনেরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’। আয়োজকদের দাবি, এই বার্তার মাধ্যমে জাতীয় সংহতি, প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রীয় আদর্শের প্রতি জনগণের অঙ্গীকার নতুন করে তুলে ধরা হবে।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়ও বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত হামলাকারীদের হানা, লোহিত সাগরের নৌপথে নতুন উত্তেজনা
- দুপুরের রেস্তোরাঁয় আকস্মিক অসুস্থতার পর চিরবিদায় নিলেন দেশের গুণী অধ্যাপক
- ৫ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৫ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৫ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- খামেনির কফিনের সামনে বদরের আয়াত: সৌদিকে কী বার্তা দিল ইরান?
- আজ রাজধানীতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি
- টানা দুই দফা দাম বৃদ্ধি, কোথায় থামবে স্বর্ণের বাজার
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- দেবকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য শুভশ্রীর
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ‘বাংলাদেশ নীতি’তেই শক্তিশালী হবে প্রতিরক্ষা: রাষ্ট্রপতি
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- দাফন চলাকালীন হামলার চেষ্টা হলে আমেরিকা-ইসরায়েলকে ধ্বংস করার হুমকি তেহরানের
- ইতিহাসে আর্জেন্টিনার জন্য সুখবর, ব্রাজিল শিবিরে তাড়া করছে জয়হীন দুঃসংবাদ
- ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যৌথ হুমকি: আইনমন্ত্রী
- জাতিসংঘের অকাট্য প্রমাণের পরও গাজা গণহত্যা আর কতদিন চেপে রাখবে পশ্চিমা বিশ্ব ?
- খামেনিকে শেষ বিদায় দিতে প্রার্থনাকক্ষের বাইরে রাতভর অবস্থান হাজারো ইরানির
- মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের এক সিদ্ধান্তেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে বড় ধসের শঙ্কা
- ট্রাম্পের ‘বাস্তববাদী নেতৃত্ব’ ও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
- নরওয়ে ম্যাচের আগে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে কার্লো আনচেলত্তির মেগা আপডেট
- গোল উদযাপনে মাঠ ছেড়ে সোজা গ্যালারির দিকে দৌড়, কে এই নারী যাকে জড়িয়ে ধরলেন ক্যাব্রাল
- ৪০ বছরের বুড়ো হাড়ে মেসির আক্রমণ ঠেকিয়ে দেওয়া ভোজিনিয়ার অবিশ্বাস্য রূপকথা
- আমরা দয়ালু বলেই খামেনির দাফনের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি: ট্রাম্প
- ভঙ্গুর অর্থনীতি মেরামতের মাঝেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মেগা লক্ষ্যের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- ঘণ্টায় ২৭৮ কিমি গতির সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ধেয়ে আসার পূর্বাভাস
- স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির শাস্তি বদলি নয়, সরাসরি চাকরিচ্যুতির নতুন নিয়ম মন্ত্রীর
- বর্তমান সরকারকে বিগত ফ্যাসিবাদের আয়না বলে জি এম কাদেরের কড়া সমালোচনা
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- দেশে ৯০ দিনের তেল মজুত, বড় পরিকল্পনা সরকারের
- ডেঙ্গু শনাক্তে কোন পরীক্ষা কখন করবেন? পূর্ণ গাইড
- ৯ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কতা, ১ নম্বর সংকেত
- ১ আগস্ট থেকে অনলাইনে বয়স্ক-প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন, জানুন নিয়ম
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আজ দুই মহারণ, আজকের জমজমাট ক্রীড়া সূচি জেনে নিন
- নরওয়ের বিপক্ষে কি একাদশে ফিরছেন নেইমার?
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জেনে নিন
- শনিবারের মার্কেট বন্ধের তালিকা প্রকাশ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- জীর্ণ ও ছেঁড়া আল-কোরআন অপসারণের শরিয়তসম্মত বিধান: অবমাননা রোধে কী করণীয়?
- জুলাই-আগস্টে বড় বন্যার শঙ্কা, সতর্ক এফএফডব্লিউসি
- খামেনির ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে থাকছে যেসব আনুষ্ঠানিকতা
- ২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার
- যে ৮ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কবার্তা
- স্থানীয় নির্বাচনে একক পথে হাঁটতে চায় এনসিপি
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- পে স্কেলের গেজেট কবে? যা জানা গেল
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- ২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম








