তেহরান টাইমস-এর প্রতিবেদন

খামেনির জানাজায় জনস্রোত, তেহরানের বার্তা কী?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ০৯:৫৩:৪৯
খামেনির জানাজায় জনস্রোত, তেহরানের বার্তা কী?
রবিবার আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজায় বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো মানুষ জানাজায় অংশ নেন। ছবি- তেহরন টাইমস।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লা রোববার পরিণত হয় শোক, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রদর্শনের এক অভূতপূর্ব মঞ্চে। ইরানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো মানুষ জানাজায় অংশ নেন। সকাল থেকেই মোসাল্লা প্রাঙ্গণ পূর্ণ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এরপরও শোকাহত মানুষের ঢল থামেনি। আশপাশের সড়ক ও এভিনিউগুলোও পরিণত হয় বিশাল জনসমাবেশে।

জানাজায় ইমামতি করেন ইরানের জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। প্রথমে আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর একই হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের চার সদস্যের জানাজা পড়ানো হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন খামেনির জামাতা ড. মেসবাহ আল-হোদা বাঘেরি কানি, তাঁর বড় মেয়ে সাইয়্যেদেহ বোশরা হোসেইনি খামেনি, ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি এবং পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল।

ছোট্ট জাহরার কফিনটি খামেনির কফিনের পাশে রাখা হলে তা উপস্থিত জনতার আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে। ইরানি রাষ্ট্রীয় বয়ানে এই দৃশ্যকে হামলাকারীদের নির্মমতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। শোকানুষ্ঠানে খামেনির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর ছেলে মাসউদ, মেইসাম ও মোস্তফা জানাজায় অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেন মোহসেনি এজেই, আইআরজিসি কমান্ডার মেজর জেনারেল আহমদ ওয়াহিদি এবং কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি।

শোকের আবহের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল প্রতিশোধের সুর। জনতার ভিড় থেকে ‘ডেথ টু আমেরিকা’ এবং ‘ডেথ টু ইসরায়েল’ স্লোগান ওঠে। মোসাল্লা প্রাঙ্গণে দেখা যায় লাল পতাকা ও ব্যানার। শিয়া ঐতিহ্যে লাল পতাকা নিহতের রক্তের প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। অনেক ব্যানারে লেখা ছিল ‘ইয়া লাসারাত আল-হুসাইন’ এবং ‘ইয়া লাসারাত আল-খামেনি’। কারবালায় ইমাম হুসাইনের শাহাদাতের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে খামেনির হত্যার সঙ্গে যুক্ত করে এই প্রতীকী ভাষা ইরানি শোককে রাজনৈতিক প্রতিরোধের বয়ানে রূপ দেয়।

আয়াতুল্লাহ খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তাঁর বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন বলে ইরানি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। তাঁর মরদেহ তিন দিন ধরে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় রাখা হয়। এরপর কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে জানাজা ও দাফনের কর্মসূচি শুরু হয়।

এই জানাজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল ইরানি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বার্তা প্রদানের মঞ্চও। তেহরান এই আয়োজনের মাধ্যমে নিজ জনগণকে দেখাতে চেয়েছে যে সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পরও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়েনি। মিত্রদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে ইরান এখনো সংগঠিত, দৃঢ় এবং কৌশলগতভাবে সক্রিয়। প্রতিপক্ষকে জানাতে চেয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্বে আঘাত করেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অচল করা যায়নি।

শুক্রবার বিদেশি প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। উপস্থিত ছিলেন তুর্কমেনিস্তানের পিপলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান গুরবানগুলী বের্দিমুহামেদভ, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি এবং ইরাক, আজারবাইজান, বেলারুশ, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানসহ বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা। চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, লেবানন, কিউবা, নামিবিয়াসহ আরও বহু দেশের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, ডি-৮ এবং ওআইসির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

এই বিদেশি উপস্থিতি তেহরানের জন্য ছিল একটি কূটনৈতিক বার্তা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন দেখাতে চাইলেও, এত সংখ্যক রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতি ইরানের পক্ষে এক ধরনের প্রতীকী শক্তি প্রদর্শনে পরিণত হয়। তেহরান যেন দেখাতে চেয়েছে, সামরিক আঘাতের পরও তার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বলয় অটুট।

জানাজা ও শোকানুষ্ঠান ঘিরে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তাও স্পষ্ট ছিল। নিরাপত্তা অধ্যয়নের ভাষায়, কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলার উদ্দেশ্য সাধারণত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা সৃষ্টি করা। কিন্তু ইরান বহু দিনের আনুষ্ঠানিকতা, বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ, জনসমাবেশের ব্যবস্থাপনা এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছে যে দেশটির সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আকস্মিক আঘাত সামলাতে সক্ষম।

খামেনির মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনির নেতৃত্ব গ্রহণের বিষয়টিও এই আনুষ্ঠানিকতার প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়। শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের একসঙ্গে উপস্থিতি ইঙ্গিত করে যে জাতীয় সংকটের মুহূর্তে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো অন্তত প্রকাশ্যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে।

শোকানুষ্ঠানের প্রতীকী ভাষাও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ‘ইয়া লাসারাত আল-খামেনি’ স্লোগানের মাধ্যমে খামেনির হত্যাকে শুধু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়, বরং শিয়া প্রতিরোধ ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় স্থাপন করা হয়েছে। কারবালার স্মৃতিকে বর্তমান সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত করে ইরানি রাষ্ট্র শোককে একধরনের নৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিরোধে রূপ দিতে চেয়েছে। বিশেষ করে শিশুনাতনির কফিনের উপস্থিতি এই বয়ানকে আরও আবেগঘন করে তোলে। সাধারণ শোক তখন পরিণত হয় প্রতিরোধ, প্রতিশোধ ও জাতীয় সংহতির ভাষায়।

ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য এই অনুষ্ঠান ছিল আরেকটি বার্তা। তেহরান দেখাতে চেয়েছে, নেতৃত্বে আঘাত এলেও তার কৌশলগত অবস্থান বদলায়নি। ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক ও অন্যান্য মিত্র বলয়ের প্রতি এই বার্তা ছিল স্পষ্ট: নেতৃত্ব বদলালেও নীতি বদলায়নি।

এই সপ্তাহজুড়ে শোক ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। সোমবার তেহরানে মূল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মঙ্গলবার কুম শহরে স্মরণসভা হবে। বুধবার মরদেহ ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেওয়ার কথা, যেখানে ইমাম আলী ও ইমাম হুসাইনের পবিত্র মাজার অবস্থিত। ইরাকি আয়োজক কমিটির মুখপাত্র সাদ মান জানিয়েছেন, ইরাকেও লাখো মানুষ জানাজা ও শোকযাত্রায় অংশ নিতে পারেন। নিরাপত্তা ও সেবামূলক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ইরাকের আনুষ্ঠানিকতার পর বৃহস্পতিবার মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে এবং খামেনির নিজ শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে।

এই শোকযাত্রার ভৌগোলিক বিস্তারও তাৎপর্যপূর্ণ। তেহরান, কুম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদ, শিয়া বিশ্বের পবিত্র ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানগুলোর মধ্য দিয়ে খামেনির শেষ যাত্রা ইরানের ধর্মীয় ও আঞ্চলিক প্রভাবের মানচিত্রকেও সামনে আনে। এটি কেবল একটি জানাজা নয়; বরং শিয়া পবিত্র ভূগোল, আঞ্চলিক মিত্রতা এবং ইরানের প্রতিরোধ রাজনীতির প্রতীকী পুনর্পাঠ।

সব মিলিয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ইরানের জন্য শোকের পাশাপাশি ক্ষমতা, স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত বার্তা প্রদানের একটি বড় আয়োজন হয়ে উঠেছে। জনসমাবেশ দিয়ে ইরান দেখিয়েছে তার সমাজ এখনো রাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিতে সক্ষম। বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দিয়ে দেখিয়েছে, দেশটি বিচ্ছিন্ন নয়। নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা দিয়ে বোঝাতে চেয়েছে, শাসনব্যবস্থা অচল হয়নি। আর ধর্মীয় প্রতীকের মাধ্যমে শোককে রূপ দিয়েছে প্রতিরোধের রাজনৈতিক ভাষায়।

তাই তেহরানের এই জানাজা শুধু একজন নেতার বিদায় নয়। এটি ছিল যুদ্ধোত্তর ইরানের আত্মপ্রতিকৃতি: ক্ষতবিক্ষত, ক্রুদ্ধ, শোকাহত, কিন্তু নিজেকে অটুট ও অপ্রতিরোধ্য হিসেবে তুলে ধরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।


ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ২০:৫৩:৩৬
ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানি কূটনীতিকদের বের করে দেওয়া বা বহিষ্কারের দাবিকে ভিত্তিহীন ও ভুয়া খবর বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অধিবেশনে যোগ দেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা স্বদেশে ফিরে গেছেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই পোস্টে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরাগচি স্পষ্ট করেন যে, আগের দিন আগেই চলে যাওয়া একজন সদস্য ছাড়া জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়া দলের সব ইরানি কূটনীতিক তাদের পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট সূচি মেরেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন। ফলে কাউকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া কিংবা সময়সীমা অমান্য করে অবস্থান করার যেসব সংবাদ রটানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবাস্তব। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছিল যে, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন ও সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আসা দুই প্রতিনিধিকে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ প্রদান করা সত্ত্বেও তারা মার্কিন আদেশ অমান্য করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা বের করে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ও প্রচারণাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে আরাগচি বলেন, এ ধরনের কাল্পনিক বহিষ্কারের ঘটনা সাজিয়ে গৌরব অনুভব করা কোনো দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রধানের জন্য অনুচিত। এটিকে ওয়াশিংটনের ‘হতাশা ও কূটনৈতিক পরাভব’-এর স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতিসংঘের স্বাগতিক দেশ (হোস্ট কান্ট্রি) হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি নীতি মেনে চলা উচিত। ভুয়া তথ্যের আশ্রয় নিয়ে এমন প্রচারণা জাতিসংঘের স্বাগতিক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব ও বৈশ্বিক নিয়মনীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে তেহরান।

সূত্র: আল-জাজিরা


মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তে যোগ দিতে চায় ৬টিরও বেশি দেশ, জানালেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৮:৫৫:৪৩
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তে যোগ দিতে চায় ৬টিরও বেশি দেশ, জানালেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের আগস্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সদস্যপদ গ্রহণে ইতোমধ্যে ছয়টির বেশি রাষ্ট্র তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ রূপেই একটি আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষা কাঠামো। তবে চুক্তির অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন কোনো দেশকে এই সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে জোটভুক্ত মূল তিন দেশ—তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে পবিত্র মক্কা নগরীতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে এক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, জোটভুক্ত তিন দেশের যেকোনো একটির আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব বা ভূখণ্ডের ওপর হামলা চালানো হলে তা সমগ্র জোটের ওপর যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

একই সাথে খুব দ্রুতই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এই যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত বৈঠকে সদস্য তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা সার্বিক কৌশলগত সামরিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন। সম্প্রতি সৌদি ভূখণ্ডে ইয়ামানের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তারা সৌদি আরবের সাথে হুথিদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের স্থায়ী রাজনৈতিক নিষ্পত্তি দেখতে আগ্রহী। জবাবে ইসহাক দার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মুসলিম উম্মাহর সুরক্ষায় গঠিত এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি রক্ষায় ইসলামাবাদ পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি ওই বৈঠকে হুথি কিংবা ইরাকের স্থানীয় শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তাদের নিজস্ব কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে ইরান।

সূত্র: তুর্কিয়ে টুডে।


নতুন স্যাটেলাইটের নির্মাণ শেষ করে মহাকাশ বিজ্ঞানে তেহরানের বড় সাফল্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৮:৪৭:৪০
নতুন স্যাটেলাইটের নির্মাণ শেষ করে মহাকাশ বিজ্ঞানে তেহরানের বড় সাফল্য
ছবি : সংগৃহীত

রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি এবং স্থানিক পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে ‘পায়া’ স্যাটেলাইটের অত্যাধুনিক সংস্করণ ‘পার্স-২’-এর নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার দাবি করেছে ইরান। তিন মিটারের চেয়েও উচ্চ রেজ্যুলেশনের সুনির্দিষ্ট ছবি ধারণে সক্ষম এই উপগ্রহটিকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎক্ষেপণের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ‘মহাকাশ সপ্তাহ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ইরানের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশটির মহাকাশ সংস্থার (আইএসএ) প্রধান হাসান সালারিয়া এই স্যাটেলাইট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

ইরানি মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়া জানান, প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির মহাকাশ খাতে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে গত দুই বছরে অর্জিত সাফল্যকে তিনি একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড এবং দেশের মহাকাশ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দেন।

অনুষ্ঠানে সালারিয়া আরও প্রকাশ করেন যে, ইরানের নির্মিত প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ ‘নাহিদ-২’ সফলভাবে মহাকাশের কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে এবং এর অধিকাংশ কারিগরি পরীক্ষাই সফল হয়েছে। ইরানিয়ান স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন গবেষক দলের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রজেক্টের সফলতার পর এখন নাহিদ-২-এর আরও শক্তিশালী ও নতুন সংস্করণ তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে।

উৎক্ষেপণযান ও কক্ষপথ স্থানান্তরের সক্ষমতার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘কায়েম-১০০’ এবং ‘চামরান’ স্যাটেলাইটের সফলতার পর বর্তমানে ‘সিমোর্গ’ রকেটের মাধ্যমে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী পেলোড ও স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া উচ্চতর কক্ষপথে উপগ্রহ স্থানান্তরের প্রযুক্তি ‘সামান’ অরবিটাল ট্রান্সফার ব্লকের সফটওয়্যার পরীক্ষাও সফল হয়েছে।

ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে সালারিয়া জানান, পার্স-২ স্যাটেলাইটের চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার পাশাপাশি ‘শহীদ সোলেমানি কনস্টেলেশন’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। টেলিযোগাযোগ, রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি, ভারী উৎক্ষেপণযান এবং নিজস্ব স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন তৈরির মাধ্যমে ইরান তার মহাকাশ প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

/আশিক


শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৮:২৭:০৬
শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

গত জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত শতভাগ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ একটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের এই কঠোর মনোভাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরআইবিতে সম্প্রচারিত বক্তব্যে স্পিকার গালিবাফ বলেন, এই ইস্যুতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ অস্পষ্টতাহীন ও সুদৃঢ়। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে নির্ধারিত শর্তাবলি পুরোপুরি কার্যকর না করা পর্যন্ত ওই কৌশলগত সমুদ্রপথে কোনো নৌযান স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ পাবে না।

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন চলাকালে ইরান একটি আন্তর্জাতিক প্রস্তাব পেশ করে, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে নির্দিষ্ট দাবিগুলো পূর্ণ হলে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। পরবর্তীতে গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠায়।

আলোচনা প্রক্রিয়ায় ইরানের প্রধান রূপকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, কূটনীতিকে কৌশলে দীর্ঘায়িত করা কিংবা তেহরানের ওপর একতরফা অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়ার দিন পার হয়ে গেছে।

একই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে তাদের নিজস্ব অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, কাতারসহ মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান তাদের নীতিগত জবাব পৌঁছে দিয়েছে, যদিও ওয়াশিংটনকে এখনো কিছু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বার্তা দেওয়া বাকি রয়েছে।

মুখপাত্র বাঘাই আরও জানান, পারমাণবিক কর্মপদ্ধতি সহ মূল অনুচ্ছেদগুলোতে আমেরিকার আগের মনোভাবের বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে ইরান স্পষ্টভাবে তাদের অগ্রাধিকার হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচলের ওপর নিবদ্ধ রেখেছে, যেখানে নৌপথটিতে নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন পক্ষকে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই মুখপাত্র একই সাথে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দাবি খারিজ করে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থাকে তাদের স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার শর্তে ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব রেখেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে পারমাণবিক বিষয়াদিতে মার্কিন প্রশাসনের সাথে তেহরানের নতুন করে কোনো কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা সম্পর্কে অবগত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, নথিতে মূলত একটি সাত দিনের সময়সীমাভিত্তিক আস্থাবর্ধক প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যার মূল উদ্দেশ্য জুন মাসের চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করা। এতে পারমাণবিক পদক্ষেপের বিষয়সমূহ থাকলেও, কোন শর্ত আগে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়েই মূল দরকষাকষি আটকে রয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স


দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দুই সামরিক যানের সংঘর্ষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ২১:৪১:৫৪
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দুই সামরিক যানের সংঘর্ষ
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক কার্যক্রম চলাকালে দুটি সামরিক যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত আটজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। দখলদার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে আহতদের আঘাত গুরুতর নয় এবং তারা সবাই হালকা আঘাত পেয়েছেন। তবে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা ও ব্যাপ্তি নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী রাব আল-থালাথিন গ্রামের নিকটবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দুটি যান একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা তৎপরতা শুরু করা হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আহত আট সেনার মধ্যে ছয়জনকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও তাদের চিকিৎসার হালনাগাদ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বাকি দুই সেনাকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সামরিক সূত্রে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে কীভাবে দুটি সামরিক যান মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হলো, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখতে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার সামরিক উপস্থিতি ও সীমান্ত চলাচলের মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটে। এর ফলে সামরিক বহরের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, ড্রাইভিং নিরাপত্তা এবং সার্বিক চলাচলের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সামরিক বাহিনী অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছে যে ঘটনাটি সম্পূর্ণ একটি কারিগরি দুর্ঘটনা এবং এর সঙ্গে কোনো প্রতিপক্ষের হামলা বা প্রত্যক্ষ সামরিক লড়াইয়ের সম্পর্ক নেই। পরিস্থিতি পুরোপুরি খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

/আশিক


চ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৯:৪৬:০৬
চ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
জাহাজটিতে কারা হামলা চালিয়েছে, তা জানা যায়নি। সংগৃহীত ছবি

স্ট্র্যাটেজিক জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে ওমানের উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লেগেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) শনিবার এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইউকেএমটিও সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটির মাস্টার জানিয়েছেন যে প্রজেক্টাইলটি জাহাজটির বাম পাশে বা পোর্ট সাইডে এসে আঘাত হানে। হামলায় জাহাজের কোনো ক্রু হতাহত হননি এবং তারা সবাই নিরাপদে আছেন। তবে এই আকস্মিক ঘটনার পর পুরো প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার প্রভাবে সমুদ্রে কোনো তেল ক্ষরণ ঘটেনি এবং পরিবেশগত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আলামত পাওয়া যায়নি। তবে কোন উৎস থেকে এই প্রজেক্টাইলটি ছোঁড়া হয়েছিল বা কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনা হরমুজ প্রণালির সমুদ্রপথে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার ওপর নতুন করে গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। এর ঠিক আগের দিন শুক্রবারেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করার সময় আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে ওই জাহাজে সাময়িকভাবে আগুন ধরে যায় ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে জাহাজের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন এবং ট্যাংকারটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে। শুক্রবারের সেই ঘটনাতেও কোনো হতাহত বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে যে পরপর দুটি হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জলযানকে চরম সতর্কতা অবলম্বন করার এবং কোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


একদিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি: ফের ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ইলন মাস্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৯:২২:৪৬
একদিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি: ফের ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ইলন মাস্ক
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিবর্গকে পেছনে ফেলে ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের অনন্য মাইফলকের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শুক্রবার মাত্র একদিনের ব্যবধানে তার সম্পদ ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক সাময়িকী ফোর্বস-এর রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকার শুক্রবারের (২ অক্টোবর) তথ্য অনুযায়ী, তার বর্তমান নিট সম্পদের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৯৭ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারে।

মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদে এই হঠাৎ বড় ধরনের লাফ দেওয়ার নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে তার মহাকাশ গবেষণা ও স্যাটেলাইট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি টেসলার শেয়ারের চড়া মূল্যবৃদ্ধি।

শুক্রবার বাজারে লেনদেন চলাকালে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে গিয়ে পৌঁছে। মূলত বিগত ২৪ ঘণ্টায় সংস্থাটি বেশ কয়েকটি মহাকাশযান সফলভাবে কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই দিনে টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে উন্নীত হয়।

টেসলার শেয়ার দর বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সরবরাহের নতুন প্রান্তিক প্রতিবেদন। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা মোট ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বানুমানের চেয়ে অনেক বেশি। এর ফলে টানা তৃতীয় বছরের মতো বিশ্ববাজারে গাড়ি সরবরাহ কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিনিয়োগকারীরা।

শুক্রবার একদিনে ইলন মাস্কের সম্পদে যে পরিমাণ আর্থিক সংযোজন ঘটেছে, বাংলাদেশী মুদ্রায় হিসেব করলে তার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঘোষিত বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকার হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ কেবল একদিনে মাস্কের অর্জিত সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮০ শতাংশের সমতুল্য।

ফোর্বসের রিয়েলটাইম তথ্যমতে, শীর্ষ ধনীর তালিকায় ইলন মাস্ক নিজের এক নম্বর স্থানটি মজবুতভাবে ধরে রেখেছেন। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে অবস্থান করছেন ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, যার আনুমানিক নিট সম্পদের পরিমাণ ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭ হাজার ৭০ কোটি ডলার।

এর আগেও একাধিকবার ১ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। চলতি বছরের গত ১২ জুন তিনি স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন, যেদিন তার মোট সম্পদ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছেছিল।তখন মূলত স্পেসএক্সের পাবলিক শেয়ারের দরবৃদ্ধির ওপর ভর করেই মাস্কের সম্পদ লাফিয়ে বাড়ে।

গত জুন মাসে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ারের ক্লাবে প্রবেশ করেন। তবে সেই স্থায়িত্ব বেশিদিন টেকেনি; জুনের শেষভাগে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৩১ শতাংশ কমে গেলে মাস্ক সেই অভিজাত খেতাব হারান। একই সময় টেসলার সাথে সম্পাদিত একটি চুক্তির কারণে ফোর্বস তার হিসাব থেকে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার সাময়িকভাবে বাদ দেয়।

পরবর্তীতে ২৯ জুন তিনি আবার স্বল্প সময়ের জন্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করলেও ১ জুলাই স্পেসএক্সের বাজারদর পুনরায় পড়ে যাায়। এমনকি জুলাই মাসে স্পেসএক্সের শেয়ার সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ নেমে এলে তার মোট সম্পদ কমে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে চলে গিয়েছিল।তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্পেসএক্স ও টেসলা—উভয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে পুনরায় চাঞ্চল্য ফেরায় মাস্কের সম্পদ আবারও দ্রুত গতিতে বাড়তে শুরু করেছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় তিনি আবারও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের দোরগোড়ায় উপনীত হয়েছেন।

/আশিক


আমি সবসময় এরদোয়ানকে খুশি রাখব: নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৭:৫৪:৩৯
আমি সবসময় এরদোয়ানকে খুশি রাখব: নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

তুরস্কের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তুরস্কের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে কেন বিলম্ব হচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি সবসময় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে খুশি রাখার পক্ষপাতী। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে নিজের একজন ভালো বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান যে, তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও ঠিক কবে নাগাদ এই নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানাননি।

এর আগে গত জুলাইয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের এক ফাঁকে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, 'কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট' বা সিএএটিএসএ-এর অধীনে তুরস্কের ওপর যে বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে, তা অপসারণ করা হবে। এর পাশাপাশি তুরস্কের কাছে উন্নতমানের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আশ্বাসও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে তুরস্ককে তাদের কাঙ্ক্ষিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান যৌথ উৎপাদন ও সরবরাহ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তখন যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, রাশিয়ান এই সামরিক প্রযুক্তি এফ-৩৫ এর মতো পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের জন্য নিরাপত্তাগত ঝুঁকি তৈরি করে এবং এটি ন্যাটোর সার্বিক সামরিক কাঠামোর সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

পরবর্তীকালে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন প্রশাসন কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্টের আওতায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প খাত এবং বেশ কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশটির জন্য মার্কিন রপ্তানি লাইসেন্স লাভ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে আঙ্কারার অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে, নিজস্ব জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা প্রয়োজনীয়তা মেটাতেই তারা বাধ্য হয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ব্যবস্থা সংগ্রহ করেছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ প্রকল্পে আঙ্কারার পুনর্বাসন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


বিশ্বজুড়ে ডিজেলের চরম সংকটের আশঙ্কা, বৈশ্বিক সরবরাহ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:৪৮:০২
বিশ্বজুড়ে ডিজেলের চরম সংকটের আশঙ্কা, বৈশ্বিক সরবরাহ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে চরম সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানির মূল্য সাধারণ মূল্যস্ফীতির সাধ্যের মধ্যে রাখাটাই এখন হোয়াইট হাউসের জন্য সবচেয়ে বড় নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বিশ্ব ডিজেল বাজার সামাল দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন এক দ্বিধাদ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে বর্তমানে দুইমুখী বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি তাদের জরুরি রিজার্ভে থাকা অতিরিক্ত ডিজেল বৈশ্বিক বাজারে উন্মুক্ত না করে, তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে ডিজেলের তীব্র অভাব দেখা দেবে এবং বাজারদর দীর্ঘমেয়াদে রেকর্ড উচ্চতায় আটকে থাকবে।

অন্যদিকে, নিজ দেশের বাজারের চাপ সামলাতে যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজস্ব ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইউরোপজুড়ে জ্বালানির মূল্যে চরম মন্দা ও সংকট তৈরি হবে, যা পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক কাঠামোগুলোকে ওলটপালট করে দিতে পারে। এই উভয়সংকট কাটিয়ে উঠতে মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সমন্বিত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যাতে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সার্বিক ঘাটতি দেখা না দেয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা।

পাঠকের মতামত:

বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার

বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার

প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়ার স্বাস্থ্যগত সমস্যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স' নামে পরিচিত। যেকোনো... বিস্তারিত