বিশ্বজুড়ে ডিজেলের চরম সংকটের আশঙ্কা, বৈশ্বিক সরবরাহ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:৪৮:০২
বিশ্বজুড়ে ডিজেলের চরম সংকটের আশঙ্কা, বৈশ্বিক সরবরাহ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে চরম সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানির মূল্য সাধারণ মূল্যস্ফীতির সাধ্যের মধ্যে রাখাটাই এখন হোয়াইট হাউসের জন্য সবচেয়ে বড় নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বিশ্ব ডিজেল বাজার সামাল দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন এক দ্বিধাদ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে বর্তমানে দুইমুখী বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি তাদের জরুরি রিজার্ভে থাকা অতিরিক্ত ডিজেল বৈশ্বিক বাজারে উন্মুক্ত না করে, তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে ডিজেলের তীব্র অভাব দেখা দেবে এবং বাজারদর দীর্ঘমেয়াদে রেকর্ড উচ্চতায় আটকে থাকবে।

অন্যদিকে, নিজ দেশের বাজারের চাপ সামলাতে যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজস্ব ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইউরোপজুড়ে জ্বালানির মূল্যে চরম মন্দা ও সংকট তৈরি হবে, যা পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক কাঠামোগুলোকে ওলটপালট করে দিতে পারে। এই উভয়সংকট কাটিয়ে উঠতে মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সমন্বিত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যাতে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সার্বিক ঘাটতি দেখা না দেয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা।


প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি, যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:৪৩:৫০
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি, যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও গণহারে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল বিক্ষোভ প্রতিহত করতে যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের ১.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় টানা ১২ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন দমন ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এয়ারটেল, রিল্যায়েন্স জিও এবং ভোডাফোন আইডিয়ার মতো প্রথম সারির টেলিকম অপারেটরগুলোকে সেবা বন্ধ রাখার সরকারি আদেশ দেওয়া হয়। বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত এই আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারী ছাত্রসহ প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে জুলাই মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে সিজিপি আন্দোলনের সময় একইভাবে মধ্য দিল্লিতে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল, যা তিন মাসের মাথায় আবারও পুনর্ব্যক্ত হলো।

/আশিক


পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরণের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:৩৮:২৫
পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরণের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন বাল্টিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদে সরাসরি হামলা চালানো হলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ মস্কোর সামরিক তহবিলে থাকা ‘সব ধরনের অস্ত্র’ ব্যবহারের সুস্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউরোপ আক্রমণ বা কোনো দেশে সামরিক আগ্রাসনের পরিকল্পনা মস্কোর নেই দাবি করে তিনি জানান, রাশিয়ার সার্বভৌম ভূখণ্ডে আঘাত এলে তার দাঁতভাঙা ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোয় বিখ্যাত ভালদাই আলোচনা ক্লাবের বার্ষিক বৈঠকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন এই চরম সতর্কবার্তা দেন।

পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে বাল্টিক সাগরের উপকূলে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটো জোটের একের পর এক সামরিক মহড়া ও রুশ জাহাজ আটকের চেষ্টাকে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য দায়ী করেন পুতিন। তিনি স্পষ্ট করেন যে কালিনিনগ্রাদ বা রাশিয়ার যেকোনো ভূমিতে সরাসরি হামলা চালানো হলে তার সুরক্ষায় পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার অনিবার্য হয়ে উঠবে।

যদিও ন্যাটোর পক্ষ থেকে রাশিয়ার এই বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক হুমকি’ বলে নিন্দা জানানো হয়েছে এবং ন্যাটোকে কেবল প্রতিরক্ষামূলক একটি জোট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে পশ্চিমাদের সংঘাত উসকে দেওয়ার পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে উল্লেখ করে পুতিন সতর্ক করেন যে, বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ স্পর্শকাতর সময় অতিক্রম করছে যেখানে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার কখনোই অসম্ভব নয়।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২০:৩১:০৮
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাইজ প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক অবস্থান ও রসদ সরবরাহ লক্ষ্য করে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ২০টি শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সশস্ত্র বাহিনী। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় টানা বিমান হামলার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, হুথিদের সৈন্য সমাবেশ, সামরিক যানবাহন, অস্ত্রাগার ও যোগাযোগের পথগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে এই সমন্বিত বিমান হামলাগুলো চালানো হয়। এতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের পাশাপাশি একাধিক সদস্য হতাহত হয়েছে বলে দাবি করে সেনাবাহিনী।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও রাজধানী সানা, সা’দা ও তাইজে হুথিদের একাধিক নিয়ন্ত্রিত ঘাঁটিতে ধারাবাহিক হামলা চালায় ইয়েমেনি বাহিনী। নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আগে সৌদি আরবের মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যার পেছনে হুথিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে হুথিরা অভিযোগটি পুরোপুরি অস্বীকার করে একে রিয়াদের ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাইজ অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি সংঘাত ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় নতুন করে বহু বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে মানবিক সংকট ও লোহিত সাগরের নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

/আশিক


জলপথ থেকে আকাশসীমা: ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৯:৩৩:৩৩
জলপথ থেকে আকাশসীমা: ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিধ্বংসী সামরিক অভিযানের সাত মাস অতিক্রান্ত হলেও সংঘাত নিরসনে কোনো রূপরেখা দেখা যাচ্ছে না। বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে কোণঠাসা করতে ওই অঞ্চলের আশপাশের কৌশলগত জলসীমায় বিপুল পরিমাণ সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি ওই অঞ্চলের জলসীমায় ২ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের উদ্যোগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নতুন করে আরও তীব্র রূপ নেওয়ার বড় আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ সান দিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে এবং এর পরপরই দুই হাজার মেরিন সেনা নিয়ে ম্যাকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও যাত্রা করেছে। পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের চারপাশের কৌশলগত জলসীমায় তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং গ্রুপ এবং একাধিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে সামরিক সব বিকল্প কার্যকর রাখতেই এই কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অধীনে ইরানের বৃহত্তম অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইরান খোদ্রো ও সাইপাসহ দেশটির রেলওয়ে, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ইস্পাত খাতের ওপর নতুন অর্থসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে একটি সুপারট্যাঙ্কারে আগুন লাগার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। কাতারের মধ্যস্থতায় দুদেশের পরোক্ষ যোগাযোগের পথ খোলা রাখার জোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তেহরান সংলাপের পথ থেকে পিছিয়ে আসবে না এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের পৌঁছানো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

/আশিক


ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা ঘিরে শাশুড়ির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৯:২৫:০৯
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা ঘিরে শাশুড়ির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনিকে তাঁর বাবা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের রাতে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় দেখেছেন বলে দাবি করেছেন তাঁর শাশুড়ি তাইয়্যেবা মাহরুজাদেহ। গত বৃহস্পতিবার ‘আখবার মাশহাদ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে আলি খামেনির দাফন চলাকালে মোজতাবা খামেনি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আলহামদুলিল্লাহ সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছেন। ইরানের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম-আলি হাদ্দাদ-আদেলের স্ত্রী মাহরুজাদেহর বক্তব্যটি 'আসরিরাল'-সহ একাধিক রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হলেও, দাফনের সময় মোজতাবার উপস্থিতির কোনো দৃশ্যমান ছবি বা সাম্প্রতিক অডিও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও মোজতাবার স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল নিহত হওয়ার পর থেকেই মোজতাবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আয়াতুল্লাহর দাফনানুষ্ঠানের প্রকাশিত ভিডিওতে মোজতাবার তিন ভাইকে দেখা গেলেও মোজতাবাকে দেখতে না পাওয়ায় সেই সংশয় আরও ঘনীভূত হয়। পশ্চিমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছিল যে, হামলায় মোজতাবা খামেনি মুখ ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ধারাবাহিকভাবে তাঁর আঘাতের খবর খারিজ করে জানিয়েছেন যে তিনি পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং দীর্ঘ দলীয় বৈঠকসহ রাষ্ট্রপরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ির কারণেই সর্বোচ্চ নেতাকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখা হচ্ছে।

সূত্র : রয়া নিউজ ও আখবার মাশহাদ


মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেহরানে পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ২০:০৫:০৫
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেহরানে পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক চিঠি তেহরানে পৌঁছেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৌখিকভাবে এই প্রস্তাবের সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যান করলেও, কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় আসা ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবি চিঠিটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে হস্তান্তর করেছেন।ইরান সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব হস্তান্তরের তথ্য নিশ্চিত করা হলেও, উক্ত চিঠিতে ওয়াশিংটনের ঠিক কী ধরনের প্রতিক্রিয়া বা শর্ত রয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গোপন রাখা হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ সংঘাত বন্ধে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে তেহরান সাতটি শর্তসহ নতুন রূপরেখা দিয়েছিল। ইরানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্রে অবরুদ্ধ কোটি কোটি ডলার অর্থ মুক্তকরণ, তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সমুদ্র অবরোধ তুলে নেওয়া।

কূটনৈতিক পর্যায়ে মধ্যস্থতা বলবৎ থাকলেও মাঠের লড়াই ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রয়েছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে ছোট আকৃতির নৌযানের গতিবিধি দেখলেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান সংস্থাসমূহের ওপর নতুন দফায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং যেকোনো দেশ বা সংস্থা তাদের সহায়তা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সূত্র: সিএনএ


নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষে প্রথমবার ড্রিলিং, ভূগর্ভে মিলল অস্বাভাবিক বস্তুর সংকেত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৯:৩৫:১০
নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষে প্রথমবার ড্রিলিং, ভূগর্ভে মিলল অস্বাভাবিক বস্তুর সংকেত
জাহাজের আকৃতির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো। তুরস্কের আগ্রি দোগুবেয়াজিত জেলায়। ছবি: নোয়াজ আর্ক স্ক্যানস ডটকমের সৌজন্যে

ইরান সীমান্তবর্তী তুরস্কের আগ্রি দোগুবেয়াজিত জেলায় অবস্থিত জাহাজের আকৃতির একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামোতে সম্প্রতি মাঠপর্যায়ের যৌথ সমীক্ষা শেষ করেছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল। অনেকের ধারণা, এই বিশেষ কাঠামোটি হযরত নূহ (আ.)-এর সেই ঐতিহাসিক নৌকার ধ্বংসাবশেষ।

নতুন এই অনুসন্ধানে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত মাটির নমুনা এবং রাডার স্ক্যানে ভূগর্ভে কিছু অসামঞ্জস্য ও অস্বাভাবিক বস্তুর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। মাটির নিচে চিহ্নিত এই নমুনা ও বস্তু প্রাকৃতিকভাবে গঠিত নাকি মানুষের তৈরি, তা নিশ্চিত হতে বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণাগারে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, সব তথ্য-উপাত্ত মূল্যায়নের পর আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে।

ঐতিহাসিক এই কাঠামোটি প্রথম নজরে আসে ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যখন তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর হয়ে আকাশপথে জরিপ চালানোর সময় ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার এটি আবিষ্কার করেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা ধরনের গবেষণা চললেও, চলতি বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই সর্বশেষ প্রকল্পটিকে সবচেয়ে বিস্তৃত বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলার নেতৃত্বে গঠিত এই দলে পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন। তারা তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী ওই এলাকায় টানা ৯০ দিন কাজ করে আধুনিক ড্রোন, নতুন প্রজন্মের ভূগর্ভস্থ রাডার সিস্টেম ব্যবহার করে ভূখণ্ডের ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরি করেছেন এবং অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে স্থানটির বিভিন্ন গভীরতা থেকে প্রায় ১ হাজার মাটির নমুনা ও ড্রিলিং কোর সংগ্রহ করেছেন।

গবেষক দলের উপপ্রধান ও মার্কিন বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু জোনস জানান, এই অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—কাঠামোটি কোনো একক শক্ত পাথরখণ্ড নয়, বরং এটি মূলত মাটিতে গঠিত। ইতিপূর্বে পাথর ক্ষয়ে গিয়ে তৈরি প্রাকৃতিক আকৃতি হিসেবে যা ধারণা করা হচ্ছিল, ড্রিলিং অনুসন্ধানে তার বিপরীতে কেবল ধারাবাহিক মাটির স্তরই উঠে এসেছে।

খনন চলাকালে বিজ্ঞানীরা ভূপৃষ্ঠের গভীরে কিছু কালচে রঙের মাটি ও জৈব উপাদানের উপস্থিতি পেয়েছেন, যা প্রাচীন কাঠ পচে তৈরি হয়েছে নাকি মানুষের কোনো অতীত কর্মকাণ্ডের ফল—তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিরূপণ করা হচ্ছে। অগাস্টে পাওয়া রাডার স্ক্যানের অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংকেতগুলোকে ভিত্তি ধরে মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় নিখুঁত উপাত্ত সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

আগের গবেষণাগুলো কেবল ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, সরকারি অনুমোদন নিয়ে এটাই প্রথমবার সেখানে গভীর কোর ড্রিলিং চালিয়েছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সাম্প্রতিক সময়জুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার সুনির্দিষ্ট অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে বলে যে দাবি উঠেছে, তার জবাবে চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যান্ড্রু জোনস।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ শেষ হলেও বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল কাজ এখনো বাকি। সম্পূর্ণ ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল ও আন্তর্জাতিক রাডার টিমের বিশ্লেষিত প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই কেবল নিশ্চিত করে বলা যাবে যে এটি স্রেফ প্রকৃতির সৃষ্টি নাকি প্রাচীন মানবসভ্যতার কোনো হারিয়ে যাওয়া কীর্তি। তুরস্কের ইস্তাম্বুলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি সাবাহ’-এ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এই গবেষণাসংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

/আশিক


এক দশক পর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ও গদর বন্দর ঘিরে নতুন সমীকরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৯:২৪:৪৯
এক দশক পর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ও গদর বন্দর ঘিরে নতুন সমীকরণ
ছবি : সংগৃহীত

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসির) প্রাণকেন্দ্র ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত গদর বন্দরকে ঘিরে চীনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা এখন গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। অস্থিতিশীল বেলুচিস্তান উপকূলে অবস্থিত এই গভীর সমুদ্রবন্দরটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ায় এটি চীনের জন্য আশীর্বাদের বদলে এক আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত ‘বোঝা’য় পরিণত হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গদরকে ঘিরে চীন যে বড় অঙ্কের লাভের প্রত্যাশা করেছিল, তা বাস্তবে মিলছে না। বরং অব্যাহত নিরাপত্তা ঝুঁকি, কৌশলগত জটিলতা এবং অর্থনৈতিক অলাভজনকতার কারণে প্রকল্পটি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। ২০১৩ সালে ঘোষিত এবং ২০১৫ সালে চীন-পাকিস্তান যৌথ উদ্যোগে সম্প্রসারিত এই প্রকল্পটি বিশ্ববাণিজ্যে যে রূপান্তর আনার কথা ছিল, এক দশক পর তার আশার বেলুন ক্রমেই ফুটো হয়ে যাচ্ছে।

গদর বন্দরের বড় প্রতিবন্ধকতাগুলোর অন্যতম হলো বেলুচিস্তানের নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতি। বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) ও মজিদ ব্রিগেড, দীর্ঘদিন ধরে চীনা প্রকৌশলী, নাগরিক ও সিপিইসির অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সিরিজ হামলা চালিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের মার্চে গদর পোর্ট অথরিটি কমপ্লেক্স এবং অক্টোবরে করাচি বিমানবন্দরের কাছে চীনা নাগরিকদের ওপর আত্মঘাতী হামলা প্রকল্পটির নিরাপত্তাহীনতাকে নতুন করে সামনে আনে। চীনের কর্মীদের সুরক্ষায় পাকিস্তান বিশেষ নিরাপত্তা বিভাগ মোতায়েন করলেও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি, যা ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি করছে।

নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থান ও লজিস্টিক বাস্তবতাও গদরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। পরিকল্পনা ছিল গদর থেকে স্থলপথে কারাকোরাম মহাসড়ক হয়ে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে পণ্য পৌঁছানোর। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৬০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এই পাহাড়ি পথটিতে নিয়মিত ভূমিধস, তুষারধস ও চরম প্রতিকূল আবহাওয়া লেগে থাকে। আন্তর্জাতিক শিপিং বিশেষজ্ঞ ও লোয়ি ইনস্টিটিউটের মতে, পাকিস্তানের দুর্গম ভূখণ্ড অতিক্রম করে স্থলপথে বা পাইপলাইনে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন করা সরাসরি সমুদ্রপথে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরে পণ্য পাঠানোর তুলনায় বহুগুণ বেশি ব্যয়বহুল।

বাণিজ্যিক অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং স্থানীয় অসন্তোষও বন্দরটির স্থবিরতার বড় কারণ। পর্যাপ্ত পণ্য পরিবহন ও পশ্চাদভূমি না থাকায় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো গদরকে এড়িয়ে দুবাই, সালালাহ বা করাচির মতো প্রতিষ্ঠিত বন্দর ব্যবহার করছে। একই সাথে গদর শহরে সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের দীর্ঘদিনের তীব্র সংকট রয়েছে। স্থানীয় জেলে ও অধিবাসীরা 'হক দো তেহরিক' আন্দোলনের মাধ্যমে পানি-বিদ্যুৎ সংকট এবং মৎস্য শিকারের ওপর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে চীনের প্রতি বিরূপ মনোভাব বাড়িয়ে তুলছে।

বিশ্বজুড়ে চীনা বিনিয়োগের কৌশলে আসা পরিবর্তন এবং পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট গদরের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। মেগা প্রকল্পের বদলে বেইজিং এখন ‘স্মল ইজ বিউটিফুল’ নীতির অধীনে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও দ্রুত মুনাফাভিত্তিক প্রকল্পে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। অন্যদিকে, আইএমএফের ঋণ ও চরম বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে থাকা পাকিস্তানের পক্ষে গদরের মতো অলাভজনক প্রকল্পের বাড়তি নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় গবেষকদের ধারণা, বেইজিং হয়তো গদরকে কোনো ব্যস্ত বাণিজ্যিক হাব বানানোর আশা ছেড়ে দিয়ে সীমিত পরিসরের সুরক্ষিত একটি লজিস্টিক ও নৌ-জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রে রূপান্তর করতে পারে।

সূত্র:মানি কন্ট্রোল


যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নীতিতে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশসহ ২০ দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ২১:৫৫:১৩
যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নীতিতে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশসহ ২০ দেশ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও প্রাসঙ্গিক উপকরণের ওপর শূন্য শতাংশ ‘অ্যাড ভ্যালোরেম’ শুল্ক সুবিধা ঘোষণা করেছে মার্কিন সরকার। বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধসহ জীবনরক্ষাকারী কয়েকটি বিশেষায়িত ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ২০টি দেশ ও অঞ্চলকে এই বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এর আগে পেটেন্টভুক্ত ফার্মাসিউটিক্যালস সামগ্রী ও উপকরণের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শতভাগ অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবে নতুন নীতিমালায় প্রয়োজনীয় কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও উপাদানকে ওই উচ্চ শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। একই সাথে সাধারণ জেনেরিক ওষুধ, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, গবেষণা ও অ-বাণিজ্যিক ব্যবহারে আমদানিকৃত সামগ্রীকেও শতভাগ শুল্কের বাইরে রাখার বিধান পুনর্ব্যক্ত করেছে মার্কিন প্রশাসন।

নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শূন্য শুল্কের সুবিধা পাবে যেসব পণ্য—তার মধ্যে বিরল ব্যাধির ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, প্লাজমা-ভিত্তিক পণ্য, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা, সেল থেরাপি, জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটস (এডিসি), বিভিন্ন রাসায়নিক বা রেডিওলজিক্যাল হুমকি মোকাবিলার চিকিৎসা এবং পশুপালন খাতের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশ ও অঞ্চলগুলো নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমে এই সুযোগ পাবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি নির্দিষ্ট ফার্মাসিউটিক্যালস রপ্তানিতে বাড়তি অতিরিক্ত শুল্কের বড় মনস্তাত্ত্বিক ও আর্থিক চাপ কমবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: