স্থানীয় নির্বাচনে একক পথে হাঁটতে চায় এনসিপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ১২:১৪:০৪
স্থানীয় নির্বাচনে একক পথে হাঁটতে চায় এনসিপি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এককভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় গড়ে ওঠা তরুণদের এই দলটি স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি বিস্তারের কৌশল হিসেবে জোটের বদলে নিজস্ব প্রতীকে ও নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন করার পথে এগোচ্ছে। দলটির ওয়েবসাইটেও নিজেদের জুলাই ২০২৪ অভ্যুত্থান-উদ্ভূত ছাত্রনেতৃত্বাধীন দল হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এনসিপির অবস্থান হলো এককভাবে নির্বাচন করা। তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা, সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাই এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে। এর আগে জুন মাসেও তিনি বলেন, এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রত্যেক স্তরে অংশগ্রহণের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনে জোটগত সমীকরণ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি ও জামায়াত এখন পর্যন্ত আলাদা পথে হাঁটছে। দল দুটি পৃথকভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করায় ১১ দলীয় জোটের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতা বা সীমিত ঐক্যের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।

এনসিপি নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় বাস্তব শক্তি যাচাইয়ের বড় সুযোগ। জাতীয় পর্যায়ের জোট রাজনীতির বাইরে গিয়ে ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি দেখাতে চায় দলটি। তাদের ধারণা, একক নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের ফল যাই হোক, প্রতিটি ইউনিটে কর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। পাঁচ সিটিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি সিটিগুলোতেও প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি উপজেলা ও পৌরসভায় শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত পদ্ধতি অনুসরণ করছে দলটি। সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এনসিপির ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন দল থেকে সরে আসা বা বহিষ্কৃত কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাও এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আসতে পারে।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ঘিরে এনসিপি ও জামায়াতের সম্পর্ক নতুন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের ভেতরে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার আলোচনা আছে। ফলে একই রাজনৈতিক বলয়ের তরুণ দুই মুখকে কেন্দ্র করে ভোটের সমীকরণ জটিল হতে পারে।

ঢাকা উত্তর সিটিতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং কুমিল্লা সিটিতে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার কথা দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে এনসিপি প্রার্থী তারিকুল ইসলাম স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। তার ভাষায়, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিটি ইউনিটে এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হবে এবং তরুণ নেতৃত্ব স্থানীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তবে দলের ভেতরেও একক বনাম জোটগত নির্বাচন নিয়ে মতভেদ আছে। একাংশ মনে করছে, জাতীয় রাজনীতিতে জোট থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়াই দলীয় পরিচয় স্পষ্ট করবে। অন্য অংশের আশঙ্কা, মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একা লড়াই করলে ফল প্রত্যাশিত নাও হতে পারে। আবার কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতা জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অস্বস্তিও প্রকাশ করেছেন।

-রফিক


উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থার তাগিদ আমীরে জামায়াতের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ২১:২০:৫৪
উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থার তাগিদ আমীরে জামায়াতের
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে সাম্প্রতিক বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হলে বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো যেত বলে মন্তব্য করেছেন আমীরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান পরবর্তী এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো একাধিক সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় মানুষের সুবিধা-অসুবিধা দেখা তাঁদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। ফলে এত বড় একটি সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে সংসদ সদস্যদের যুক্ত করা হলে জনস্বার্থ ও সরকারি শৃঙ্খলা—উভয় রক্ষা করে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান বের করা সম্ভব হতো। ভবিষ্যতে যেকোনো জনকল্যাণমুখী উচ্ছেদ বা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে জনগণের সহযোগিতা নিশ্চিত করা যাবে।

মিরপুরের উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাস্তা ও ফুটপাত মূলত যানবাহন এবং পথচারীদের অবাধ চলাচলের জন্য সংরক্ষিত থাকা উচিত, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়। তবে জীবিকার তাগিদে গ্রাম থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শৃঙ্খলার অভাবে ফুটপাতে বসছেন এবং প্রতিনিয়ত নানা স্তরে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। তাই হুট করে সরিয়ে দেওয়ার বদলে তাঁদের জন্য স্বস্তিদায়ক বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি, যেন সিটি করপোরেশনও নিয়মমাফিক রাজস্ব পায় এবং চাঁদাবাজি বন্ধ হয়।

অভিযান চলাকালে সরকারি যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, সরকারি সম্পদ কোনো ব্যক্তির নয়, বরং জনগণের করের টাকায় তৈরি। এসব ধ্বংস করলে জাতীয় ক্ষতি হয়। উচ্ছেদ চলাকালে অসাবধানতাবশত তার ছিঁড়ে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে স্থানীয় মসজিদের গোডাউনে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সরকারের সুনজরের আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনকে ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’ নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেন তিনি।

/আশিক


জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২০:০৭:১৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূল দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে কাক্সিক্ষত গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা আনতে সারজিস আলমকে প্রধান করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট এক শক্তিশালী বিশেষ সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটির শীর্ষ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত সারজিস আলম বর্তমানে দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বও পালন করছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে টানা ৫ ঘণ্টা ব্যাপ্তির এক গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এই নতুন রূপরেখা ও উপ-কমিটি গঠন অনুমোদন লাভ করে। এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় প্রশাসনিক সূত্রে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও মনিটরিংয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত দক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উপ-কমিটির নকশা তৈরি করা হয়েছে। কমিটির নতুন কাঠামোগত বিন্যাস অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুজনকে উপ-প্রধানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে সার্বিক রাজনৈতিক সংযোগ ও তৃণমূল শক্ত ভিত গঠনে সুবিধার জন্য দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক বিভাগ থেকে একজন করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং একজন করে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদককে এই বিশেষ উপ-কমিটির অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।

/আশিক


জুলাই যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আমরা ব্যথিত: ন্যায়বিচারের আশ্বাস রাশেদ খাঁনের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ২১:৫১:৪০
জুলাই যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আমরা ব্যথিত: ন্যায়বিচারের আশ্বাস রাশেদ খাঁনের
ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন এবং স্টুডিও ভাঙচুরের পেছনের প্রকৃত ভূ-সম্পত্তি বিরোধের চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

রাশেদ খাঁন তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান যে, সংশ্লিষ্ট জমির ভেতরে 'নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড'-এর সাথে একাধিক সাবেক সরকারি কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের মালিকানানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের ২৩ কাঠা জমির মধ্যে ৮ কাঠা জমি অতীতে নিজস্ব প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে দখল করেন নিউ গিনি প্রোপার্টিজের বিতর্কিত মালিক ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ নাজিম উদ্দীন, যিনি জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ইতিপূর্বে জেল খেটেছেন।

অতিসম্প্রতি এই বিতর্কিত ভবনের ৫ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা ভাড়া নিয়ে নিজের ক্রিয়েটিভ স্টুডিও চালু করেছিলেন সালমান মুক্তাদির। তবে জমির ওপর অন্য মালিকদের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ভবনের মালিক নাজিম উদ্দীন ৩টি নতুন গেট নির্মাণ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা লোকজন ভাড়া করে সেই গেট ভাঙতে যান। সেই সশস্ত্র তাণ্ডবের মাঝেই ভুলবশত ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সালমান মুক্তাদিরের মূল্যবান স্টুডিও সরঞ্জাম ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী স্পষ্ট করেন যে, এই জবরদখল বা পাল্টা পেশিশক্তির মহড়ার সঙ্গে বিএনপি কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট কোনো সম্পর্ক ছিল না। সম্পূর্ণ ঘটনা না জেনে সালমান মুক্তাদির কর্তৃক ‘চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি স্টুডিও ভেঙেছে’—মর্মে দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন আশা প্রকাশ করেন যে, সালমান এখন সত্য ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন। গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের অন্যতম যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতিতে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ঘটনায় জড়িত কোনো সন্ত্রাসী বা নির্দেশদাতাকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী অপরাধিরা উপযুক্ত বিচার পাবে।

/আশিক


বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২১:৪৫:২৭
বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের মাটিতে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর কোনোদিন রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধোলাইখালের ঐতিহাসিক সাদেক হোসেন খোকা মাঠে ঢাকা-৬ আসন বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর ঘোষণা দেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ এই প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যারা দেশে নির্বিচারে গণহত্যা, গুম এবং রক্তক্ষয়ী খুনের সাথে জড়িত ছিল, তাদের কাউকেই রাজনৈতিক বা আইনি ছাড় দেওয়া হবে না। ২০২৪ সালের গণহত্যাকারী ও তাদের সহযোগীদের যে কোনো মূল্যে বিচারের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বাধীনতার পর দেশে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম হত্যাকাণ্ডের নজির সৃষ্টিকারী এই শক্তিকে বাংলার মাটিতে আর রাজনৈতিকভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সাথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ফ্যাসিবাদের পতনের আন্দোলনে জনগণের যে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা রাজপথে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতে আত্মগোপনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারের সাথে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যাবর্তন চুক্তির আওতায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে তাঁর প্রাপ্য সাজা ভোগ করবেন অথবা আইনি বিধান অনুযায়ী চাইলে আপিল করবেন। দূর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেবল রাজনৈতিক আওয়াজ বা হুঙ্কার দিয়ে কোনো লাভ হবে না বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গণমানুষের সাময়িক কষ্টের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বহু দেশ এবং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাংলাদেশ থেকে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তদুপরি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ জ্বালানি পাচার বন্ধ করা এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে সরকার অত্যন্ত নাচার হয়ে তেলের দামে কিছুটা সমন্বয় করেছে। জনগণের এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জনগণের কষ্টের বিষয়ে গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং সংবেদনশীল।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাত মাস অতিক্রান্ত হওয়ার মধ্যেই বিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন স্থান অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন নিয়েও কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় লংমার্চ কর্মসূচিতে বাধা নেই, তবে দেশের সাধারণ জনগণ কখনোই স্বাধীনতাবিরোধী ও ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মেলাবে না। ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।

/আশিক


আট মাসের বিএনপি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রুহুল কবির রিজভীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:২৮:৫৯
আট মাসের বিএনপি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রুহুল কবির রিজভীর
ছবি : সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পরিকল্পিত সহিংসতার প্রতিবাদ ও দেশব্যাপী নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। উক্ত কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রধান শত্রু হলো সন্ত্রাসী, অগ্নিসংযোগকারী ও বোমাবাজরা। তিনি সবাইকে সার্বক্ষণিক সজাগ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। সাম্প্রতি ঘটে যাওয়া বাসে অগ্নিসংযোগসহ পরিকল্পিত সহিংসতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসছে একটি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পাওয়া বিদেশি ফোন নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে, যা থেকে ষড়যন্ত্রের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়।

রিজভী আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকট নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখছেন, ঠিক তখনই দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার কখনোই সাধারণ মানুষকে কষ্টে রাখতে চায় না। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে ধৈর্য্য ও দূরদর্শিতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে। জ্বালানি বহনে সক্ষম জাহাজ আসা শুরু হলে শিগগিরই মূল্য পুনরায় সমন্বয় করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিগত আমলের ফ্যাসিবাদী শাসন, দুর্নীতি ও নৈরাজ্য দেশের মানুষ দেখেছে। ৫ আগস্টের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দলটি এখন দেশের বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র করছে, আর ভেতরে থাকা আরেকটি অপশক্তি তাদের ইন্ধন দিচ্ছে। তবে সব ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল অভিযোগ করে বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান যখন দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, তখন আট মাস বয়সী নতুন এই সরকারকে বিপদে ফেলতে দেশের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিমভাবে বাসে আগুন ও ভয়ভীতি ছড়িয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিগত ১৭ বছর ধরে চড়াই-উতরাই ও গুম-খুনের শিকার হয়েও জাতীয়তাবাদী শক্তি জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং দেশ রক্ষায় কখনো পিছপা হয়নি।

সমাবেশের সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন, রাজপথে রাজনৈতিক ফ্যাসিস্টদের পাশাপাশি যেসকল তথাকথিত 'সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্ট' নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সেই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তারা যেন ১৯৮৬ বা ১৯৯৬ সালের মতো নিষিদ্ধ আওয়ামী শক্তিকে সুবিধা দেওয়ার মতো ভূমিকায় অবতীর্ণ না হন; অন্যথায় দেশের ছাত্র-জনতা তাদের রাজপথেই জবাব দেবে।

/আশিক


'জামায়াত আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে': রাশেদ খাঁন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ২০:৩১:৪২
'জামায়াত আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে': রাশেদ খাঁন
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত রয়েছে বলে তীব্র মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের মতো একই কায়দায় ফ্যাসিবাদের চর্চা করে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের একটি নতুন ফ্যাসিস্ট দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন বস্তুনিষ্ঠ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি এসব তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ টেনে রাশেদ খাঁন আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী মূলত ব্রিটিশ আমল থেকেই দ্বিচারিতা বা মুনাফেকির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দলটি নিজেদের তথাকথিত মজলুম অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সুযোগে দলটি ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেলে তা আওয়ামী লীগের শাসনের চেয়েও ভয়াবহ ও বড় ধরনের ফ্যাসিবাদের জন্ম দেবে।

উক্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ব্রিফিংকালে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ এবং জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানসহ প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই বের হবে বাসে আগুনের রহস্য: রাশেদ খাঁন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৮:৫১:০৭
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই বের হবে বাসে আগুনের রহস্য: রাশেদ খাঁন
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনের আওতায় এনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলার মূল রহস্য উদঘাটিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত-এনসিপি এবং আওয়ামী লীগের সমন্বয়ে গঠিত বিরোধী বলয়কে সামাল দিয়েই বর্তমান সরকারকে দেশ পরিচালনাকার্য বজায় রাখতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগ যৌথভাবে বাস ও ট্রেনে আগুন দেওয়া এবং ককটেল হামলার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেই আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই অর্থের বিনিময়ে লোক ভাড়া করে গণপরিবহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দায়িত্বগ্রহণের মাত্র সাত মাসের মাথায় বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, পিকনিকের আদলে এসব কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও এতে জনস্বার্থের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বিক জ্বালানি সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন জানান, বৈশ্বিক মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই বাধ্য হয়ে সরকারকে দেশের বাজারেও সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে সরকারের গৃহীত দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সংক্রান্ত কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে এর তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। পরিশেষে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী।

/আশিক


লংমার্চকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হলে মেনে নেবে না বিএনপি: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৮:৪৫:৩৪
লংমার্চকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হলে মেনে নেবে না বিএনপি: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে বিএনপি তা মেনে নেবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে এক যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা না করে বিরোধী দলের লংমার্চে সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস পুড়িয়ে দেওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো পরিকল্পিত ঘটনা ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করা হবে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ‘পরাজিত শক্তির’ সঙ্গে গোপন কোনো যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার যযৌক্তিক কারণ রয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে থেকেও কেউ কেউ পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে তিনি জানান, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলা সত্ত্বেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করছে এবং মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার থাকতে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাড়াতে সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

/আশিক


সরকারের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূত চেপে বসেছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৮:২২:০৪
সরকারের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূত চেপে বসেছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সরকারের মধ্যে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূত’ ভর করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তি কাজে লাগিয়ে জনগণের মতামত পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা চলতে থাকলে সরকার অতীতে দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন প্রশাসনের মতো ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-কে ২০২৬ সালে আইনে রূপ দেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। আইনটির বিভিন্ন ধারায় মানহানি, গুজব ও অসত্য তথ্যের মতো বিষয়গুলোর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় এর অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জামিন অযোগ্য ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইন বহাল রেখে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো আপাতত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। সেমিনারে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজ্জামান রুমান সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারা, সম্ভাব্য প্রভাব এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে ১৬টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সম্বলিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: