না খেয়ে থাকা মানেই কি ওজন কমানো? ডায়েটের ভুল ধারণা ভাঙুন আজই

ওজন কমানোর কথা ভাবলেই অনেকে মনে করেন না খেয়ে থাকলেই দ্রুত ফল মিলবে। কিন্তু বাস্তবে এটি শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। খাবার হঠাৎ বন্ধ করে দিলে মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শরীর দুর্বল হয়ে নানা রোগের সৃষ্টি করে। ওজন কমানোর যাত্রায় সাধারণত যে ৩টি ভুল আমরা সবচেয়ে বেশি করি, তা এড়িয়ে চলা সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
প্রথম বড় ভুলটি হলো খাবার একদম বন্ধ করে দেওয়া বা ক্যালরি অতিরিক্ত কমিয়ে ফেলা। ডায়েট মানে না খেয়ে থাকা নয়, বরং সঠিক খাবার সঠিক পরিমাণে খাওয়া। ব্রেকফাস্ট বা ডিনার বাদ দিলে শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা এলোমেলো হয়ে যায় এবং শরীরচর্চা করার মতো প্রয়োজনীয় শক্তি থাকে না। দ্বিতীয়ত, পর্যাপ্ত প্রোটিন না খাওয়া ওজন কমানোর পথে বড় বাধা। প্রোটিন হজম প্রক্রিয়া উন্নত করার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। তাই ডাল, ডিম, পনির বা মুরগির মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিনের তালিকায় রাখা উচিত। তৃতীয় ভুলটি হলো বাজারের চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে প্যাকেটজাত ‘ডায়েট ফুড’ বেছে নেওয়া। লো-ক্যালরি বা ডায়েট বারের নামে এসব খাবারে প্রচুর লুকানো চিনি ও প্রিজারভেটিভ থাকে, যা কোলেস্টেরল ও সুগারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই কৃত্রিম খাবারের বদলে তাজা ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর।
সূত্র : এই সময়
গ্রীষ্মের কালো রত্ন জাম, জানুন অবিশ্বাস্য উপকারিতা
গরমের মৌসুমে বাজারে পাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় ফল জাম শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। গভীর বেগুনি রঙের এই ফলটিকে অনেক পুষ্টিবিদ ‘ন্যাচারাল সুপারফুড’ হিসেবে অভিহিত করেন। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ, যা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে জাম খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা, হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করার মতো বহু স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাওয়া যায়।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জামের বিশেষ ভূমিকা
জামকে দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ফলে থাকা ‘জাম্বোলিন’ এবং ‘জাম্বোসিন’ নামের প্রাকৃতিক উপাদান শরীরে শর্করার বিপাকক্রিয়াকে প্রভাবিত করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
পুষ্টিবিদরা জানান, জামের বীজ, খোসা এবং ফলের বিভিন্ন উপাদান অগ্ন্যাশয়ের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। ফলে ইনসুলিন নিঃসরণ ও গ্লুকোজ ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে ভালো হতে পারে। এ কারণেই ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল হিসেবে জামকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হৃদযন্ত্রের জন্য প্রাকৃতিক সুরক্ষা
জামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত জাম খাওয়ার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালির ক্ষয় প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।
হজমশক্তি বাড়ায় ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
জামে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যআঁশ রয়েছে, যা হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, বদহজম কিংবা পেট ফাঁপার মতো সাধারণ সমস্যাগুলো কমাতে জাম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, আঁশসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রমও উন্নত করে, ফলে সামগ্রিক পরিপাকতন্ত্র আরও সুস্থ থাকে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর
জামে থাকা ভিটামিন সি এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এগুলো শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং কোষের ক্ষয় কমাতে ভূমিকা রাখে।
ফলে সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি কমতে পারে এবং শরীর দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সহায়তা পায়।
ত্বক ও চোখের যত্নে প্রাকৃতিক সহায়ক
জামে বিদ্যমান ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে, বয়সজনিত ক্ষয় কমাতে এবং ব্রণসহ বিভিন্ন ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে।
এছাড়া ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত জাম খেলে দৃষ্টিশক্তি রক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া যেতে পারে।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, জামে থাকা পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যান্থোসায়ানিনের মতো উপাদান প্রদাহ কমাতে, কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করতে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে। এসব উপাদান শরীরের দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিল রোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হয়।
জাম খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সতর্কতা জরুরি
পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন, খালি পেটে অতিরিক্ত জাম খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে আধাপাকা বা ডাঁসা জাম অনেকের ক্ষেত্রে অস্বস্তি, অম্লতা বা পেটের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এছাড়া জাম খাওয়ার পরপরই দুধ পান না করাই ভালো। কারণ এতে হজমজনিত কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জাম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর মৌসুমি ফল। তবে যেকোনো খাবারের মতো এটিও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত জাম খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা পাওয়া যেতে পারে।
ডায়াবেটিস থাকলে কতটুকু আম খাওয়া নিরাপদ?
গ্রীষ্মকাল এলেই ফলের রাজা আমের চাহিদা বেড়ে যায়। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেক মানুষের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা কি আম খেতে পারবেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস থাকলেই আম সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক নিয়মে খেলে ডায়াবেটিস রোগীরাও নিরাপদে আম উপভোগ করতে পারেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, আমে প্রাকৃতিকভাবে ফ্রুক্টোজ ও অন্যান্য শর্করা থাকলেও এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যআঁশ, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, কোষের ক্ষয় রোধ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কেন পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয় আম?
বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন, আমে থাকা খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এছাড়া কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, আমে থাকা বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। ফলে পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ইচ্ছামতো আম খাওয়া যাবে। কারণ অতিরিক্ত আম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কতটুকু আম খাওয়া নিরাপদ?
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম পাকা আম নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি সাধারণত মাঝারি আকারের একটি ছোট আমের সমপরিমাণ। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, দৈনিক মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের হিসাবের মধ্যেই আমকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আম খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আম খাওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। ভারী খাবারের পর কিংবা ভরা পেটে আম খাওয়া ঠিক নয়। সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের মাঝামাঝি সময় অথবা বিকেলের হালকা নাশতার অংশ হিসেবে আম খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
এ সময় শরীর গ্লুকোজ ব্যবহারে বেশি সক্ষম থাকে এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ উত্থান তুলনামূলকভাবে কম হয়।
কীভাবে খেলে ঝুঁকি কমবে?
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, আম খাওয়ার সঙ্গে কিছু প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার যুক্ত করলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কম হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে কাঠবাদাম, আখরোট, শসা, স্প্রাউট বা বীজজাতীয় খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়।
এ ধরনের খাবার গ্লাইসেমিক প্রতিক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।
আমের জুস কেন এড়িয়ে চলবেন?
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কতার জায়গা হলো আমের জুস, স্মুদি, মিল্কশেক বা ডেজার্ট। পুরো ফলের তুলনায় জুসে খাদ্যআঁশের পরিমাণ কমে যায় এবং শর্করা দ্রুত রক্তে প্রবেশ করে।
ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকরা আমের জুসের পরিবর্তে সরাসরি ফল হিসেবে টুকরো করে আম খাওয়ার পরামর্শ দেন।
খাদ্যতালিকায় কী পরিবর্তন আনবেন?
যেদিন আম খাওয়া হবে, সেদিন ভাত, রুটি বা অন্যান্য শর্করাজাতীয় খাবারের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এতে মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
যাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন
যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই, যাদের এইচবিএ১সি (HbA1c) মাত্রা বেশি, অথবা যারা ইনসুলিন ওষুধের ডোজ সমন্বয়ের মধ্যে রয়েছেন, তাদের অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী আম খেতে হবে।
কারণ প্রত্যেক মানুষের শরীরের বিপাকক্রিয়া, রোগের অবস্থা এবং খাদ্য সহনশীলতা ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত পরামর্শ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আম কোনো নিষিদ্ধ ফল নয়। মূল বিষয় হলো পরিমাণ, সময় এবং খাদ্যতালিকার সামগ্রিক ভারসাম্য। সঠিক নিয়ম মেনে খেলে আমের স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণ থেকেও উপকৃত হওয়া সম্ভব।
তবে নিজের শারীরিক অবস্থা, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং চলমান চিকিৎসার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আম খাওয়ার নিরাপদ সীমা নির্ধারণের জন্য অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চোখের ক্লান্তি ও কালো দাগ দূর করতে আলু নাকি শসা, কোনটি সেরা?
মোবাইল ও ল্যাপটপের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অনিয়মিত ঘুমের কারণে চোখের ক্লান্তি ও চোখের নিচে কালো দাগ (ডার্ক সার্কেল) এখন ঘরে ঘরে বেশ সাধারণ সমস্যা। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই রান্নাঘরের দুটি পরিচিত উপাদান—আলু ও শসার ওপর ভরসা করেন। তবে চোখের যত্নে এই দুটির মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইটিভি ভারত’-এর এক প্রতিবেদনে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চোখের ক্লান্তি দূর করতে এবং তাৎক্ষণিক প্রশান্তি জোগাতে শসা অত্যন্ত কার্যকর। শসায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় এটি চোখের ওপর রাখলে দারুণ শীতল অনুভূতি পাওয়া যায়। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা ঘুমের ঘাটতির কারণে চোখে যে ভারীভাব বা ফোলাভাব তৈরি হয়, তা দূর করতে শসার জুড়ি নেই।
অন্যদিকে, চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল বা জেদি কালো দাগ দূর করার ক্ষেত্রে আলু বেশি কার্যকরী। আলুর মধ্যে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ও এনজাইম থাকে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত আলুর রস বা টুকরো ব্যবহারে চোখের নিচের ত্বক তুলনামূলক ফর্সা ও সতেজ দেখায়। তবে চোখের নিচে সাধারণ ফোলাভাব কমাতে আলু ও শসা দুটিই সমান উপকারী, কারণ উভয়ের মধ্যেই ত্বককে প্রশমিত করার গুণ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার চোখের সমস্যা ঠিক কী—তার ওপর ভিত্তি করেই উপাদান বেছে নেওয়া উচিত। প্রধান সমস্যা যদি চোখের ক্লান্তি, জ্বালাপোড়া বা ফোলাভাব হয়, তবে শসা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর যদি মূল লক্ষ্য হয় চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল দূর করা, তবে আলু ব্যবহার করা ভালো। এমনকি ভালো ফলাফলের জন্য এই দুটি উপাদানকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে রূপচর্চার রুটিনে রাখা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কেবল ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; এই সমস্যাগুলো স্থায়ীভাবে দূর করতে পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করা সমানভাবে জরুরি।
/আশিক
তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় যেসব পরিবর্তন জরুরি
সারাদেশে তীব্র দাবদাহে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে মানবশরীরে পানিশূন্যতা, চরম ক্লান্তি, তীব্র মাথাব্যথা এবং হজমজনিত বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পুষ্টির জোগান দেওয়ার পাশাপাশি যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে পানি রয়েছে, সেগুলো শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখতে এবং গরমের ক্লান্তি দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করে।
প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরে শক্তি জোগাতে এবং ক্লান্তি দূর করতে ডাবের পানি অন্যতম সেরা একটি উপাদান হিসেবে কাজ করে। এই প্রাকৃতিক পানীয়তে থাকা পটাশিয়াম, সোডিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান মানবশরীরে ইলেকট্রোলাইটের সমতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে তরমুজও এই সময়ে অত্যন্ত কার্যকর, কারণ এর প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি অংশই পানি দিয়ে গঠিত।
এটি শরীরে পানির অভাব দ্রুত পূরণ করার পাশাপাশি ভিটামিন এ ও সি-এর জোগান দিয়ে শরীরকে সতেজ রাখে, তবে চিকিৎসকেরা এটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেন। নিয়মিত খাবারের তালিকায় শসা রাখা হলে তা শরীর ঠান্ডা রাখতে বড় ভূমিকা রাখে, কারণ শসায় থাকা প্রচুর পানি ও ফাইবার পরিপাকপ্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে এবং দীর্ঘ সময় শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।
শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পেট ঠান্ডা রাখতে দই একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। দইয়ে বিদ্যমান প্রোবায়োটিক উপাদান গরমে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং পেটের যেকোনো ধরনের অস্বস্তি দূর করে, যা চাইলে বিভিন্ন ফলের সাথে মিশিয়েও খাওয়া সম্ভব। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরে শক্তির জোগান দিতে এক গ্লাস লেবুর শরবত দারুণ কাজ করে, যার সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিলে শরীরে খনিজের ঘাটতি পূরণ হয়।
এর পাশাপাশি পুদিনা পাতা খাবারে যোগ করলে তা শরীরে এক ধরনের শীতল অনুভূতি তৈরি করে, তাই এই সময়ে আম, আনারস, স্ট্রবেরি কিংবা কলার মতো পুষ্টিকর ফল ও পুদিনা পাতার সমন্বয়ে তৈরি স্মুদি শরীরের পুষ্টি ও সতেজতা নিশ্চিত করতে পারে।
তীব্র গরমের এই দিনগুলোতে সুস্থ থাকার জন্য কিছু খাবার এড়িয়ে চলাও সমানভাবে জরুরি। অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও কড়া মসলাযুক্ত ভারী খাবার এবং বাজারে প্রচলিত কৃত্রিম চিনিযুক্ত কোমল পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এই ধরনের খাবার ও পানীয় শরীরে পানির তৃষ্ণা এবং ঘাটতি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রচণ্ড এই গরমে কেবল অতিরিক্ত পানি পান করাই যথেষ্ট নয়, বরং খাদ্যতালিকায় ডাবের পানি, তরমুজ, শসা, দই ও লেবুর শরবতের মতো পানি ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত রাখলে গরমের অস্বস্তি ও শারীরিক ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
/আশিক
মাংস খাওয়ার পর বমি ও তীব্র পেট ব্যথা? অবহেলা করলে হতে পারে জীবনঝুঁকি
পবিত্র ঈদুল আজহার খুশির আমেজে গরু কিংবা খাসির সুস্বাদু মাংস খাওয়া প্রায় প্রতিটি বাঙালি পরিবারেরই উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে ঈদের এই উৎসবমুখর সময়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর অনেকেরই পেটের নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়। আকস্মিক ডায়রিয়া, তীব্র পেট ব্যথা কিংবা হজমের মারাত্মক গোলযোগকে অধিকাংশ মানুষই সাময়িক বা সাধারণ একটি বিষয় মনে করে অবহেলা করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, উৎসবের পর হঠাৎ এমন অসুস্থতার পেছনে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট শারীরিক ও বৈজ্ঞানিক কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় এটি কেবল সাধারণ বদহজম নয়, বরং ক্ষতিকর অ্যালার্জি, খাদ্যে বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং), কিংবা শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো জটিল রোগের আগাম ইঙ্গিত হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষের শরীর লাল মাংস বা রেড মিটের নির্দিষ্ট কিছু উপাদানের প্রতি অস্বাভাবিক ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘আলফা-গাল সিন্ড্রোম’ (Alpha-gal Syndrome) বলা হয়। এই বিশেষ অ্যালার্জির কারণে চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মানবশরীরে ডায়রিয়া, তীব্র পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব, ত্বকে লালচে র্যাশ ওঠা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো বিপজ্জনক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় এই সিন্ড্রোম মানুষের জীবনঝুঁকির কারণও হতে পারে; তাই মাংস খাওয়ার পর এমন কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পেলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে রোগীকে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।
এর বাইরেও একটি বড় অংশের মানুষের শরীর অতিরিক্ত চর্বি ও উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ মাংস সহজে হজম বা পরিপাক করতে পারে না। পরিপাকতন্ত্রের এই দুর্বলতার ফলে মাংস খাওয়ার পরপরই পেট ফাঁপা, গ্যাস হওয়া, পেটে প্রচণ্ড অস্বস্তি ও পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত ভারী খাবার গ্রহণের কিছু সময়ের মধ্যেই এসব উপসর্গ শরীরে ডানা মেলতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা সাময়িকভাবে মাংস খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে কিছুদিন পরিমিত ও সহজপাচ্য নরম খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
কুরবানির ঈদের সময় মাংস কাটাকুটি, সংরক্ষণ বা রান্নার ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতা থেকেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সঠিকভাবে সেদ্ধ বা অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা মাংস এবং ফ্রিজে সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করা মাংসে দ্রুত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রধান কারণ। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির অনবরত বমি, ডায়রিয়া, মোচড় দিয়ে পেট ব্যথা ও চরম শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওরাল স্যালাইন ও সঠিক খাবার নিয়মে কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থতা ফিরে আসলেও, যদি ডায়রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়, উচ্চ জ্বর ওঠে কিংবা শরীরে তীব্র পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে জানান, মানবশরীরের পিত্তথলি (Gallbladder) কিংবা অগ্ন্যাশয়ের (Pancreas) স্বাভাবিক কার্যকারিতায় পূর্ব থেকে কোনো সমস্যা বা রোগ থাকলে, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়ার পর হজমের জটিলতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এ ধরনের অভ্যন্তরীণ রোগের ক্ষেত্রে রোগীর পাতলা ও তৈলাক্ত মল হওয়া, চরম ক্ষুধামন্দা, পেটের ওপরের অংশে তীব্র ব্যথা, অল্প দিনেই ওজন হ্রাস পাওয়া কিংবা জন্ডিসের মতো চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই ঈদের সময় পেটের এই সমস্ত লক্ষণকে সাধারণ বদহজম ভেবে অবহেলা না করে অনতিবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুস্থতার সাথে উৎসবের আনন্দ বজায় রাখতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ হলো—ঈদের সময়েও মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর পরিমিতিবোধ বজায় রাখা, পশুর মাংস কাটার পর তা দ্রুত ও নিরাপদ উপায়ে রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা এবং খাবার গ্রহণের পর শরীরের যেকোনো ধরণের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার দিকে সতর্ক নজর রাখা। তবেই উৎসবের তৃপ্তির পাশাপাশি নিজের সুস্বাস্থ্যও অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হবে।
সূত্র: এভরিডে হেলথ
কুরবানির মাংস বণ্টনের সুন্নতি নিয়ম: জেনে নিন তিন ভাগের সঠিক বণ্টন পদ্ধতি
আর মাত্র একদিন পরেই সারা দেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এটি একাধারে আনন্দের উৎসব এবং ত্যাগের মহিমান্বিত দৃষ্টান্ত স্থাপনের দিন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই ইবাদতের মাধ্যমে মূলত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করা সম্ভব হয়।
পবিত্র কুরবানির অন্যতম প্রধান একটি নিয়ম হলো পশুর গোশত সমবন্টন করা, যা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এই গোশতকে তিন ভাগে ভাগ করতে হয়। এর মধ্যে প্রথম অংশটি রাখতে হয় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য। দ্বিতীয় অংশটি দিতে হয় নিকট আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের মাঝে। আর অবশিষ্ট তৃতীয় অংশটি সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ মানুষের অধিকার হিসেবে তাদের মাঝে বণ্টন করে দিতে হয়।
ঈদের দিন ঘরে অনেক গোশত চলে আসায় অনেকেই তা গুছিয়ে রাখা নিয়ে বেশ বিচলিত হয়ে পড়েন। তবে সংরক্ষণের সঠিক বৈজ্ঞানিক ও শরীয়তসম্মত পদ্ধতি জানা থাকলে এই কাজটি কোনো বড় সমস্যাই নয়। ফ্রিজে মাংস রাখার সঠিক নিয়ম জানা থাকলে এর স্বাদ, গুণাগুণ ও পুষ্টিমান দীর্ঘদিন পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব। এর জন্য ফ্রিজ আগে থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মাংস ভালো রাখার কিছু জরুরি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।
কুরবানির মাংস ফ্রিজে তোলার আগে প্রথমে ভালো করে ধুয়ে এর ভেতরের সম্পূর্ণ পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। রক্তসহ বা ভেজা অবস্থায় কাঁচা মাংস খোলা রেখে ফ্রিজে রেখে দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই নিরাপদ নয়। মাংস সংরক্ষণের জন্য সবসময় ভালো মানের ফুড-গ্রেড পলিথিন অথবা শক্ত ঢাকনাযুক্ত প্লাস্টিক কন্টেইনার ব্যবহার করা উচিত। অনেকে বড় কোনো প্লাস্টিকের ব্যাগে এক গাদা মাংস একসাথে রেফ্রিজারেটরে ঢুকিয়ে রাখেন, যা একটি সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি। এর পরিবর্তে সবসময় ছোট ছোট ভাগে বা একবেলার রান্নার উপযোগী ‘ফ্যামিলি প্যাক’ আকারে মাংস রাখা সবচেয়ে কার্যকর। কারণ ফ্রিজ থেকে একবার মাংস বের করে বরফ গলানোর পর, তা রান্না না করে পুনরায় আবার ফ্রিজে রেখে দিলে মাংসের মান ও পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
ফ্রিজের নরমাল কিংবা ডিপ—উভয় চেম্বারেই কুরবানির কাঁচা মাংস রাখার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কাঁচা মাংসকে সবসময় ফ্রিজে আগে থেকে তৈরি করে রাখা রান্না করা খাবার, মিষ্টিজাতীয় জিনিস অথবা ফলমূল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও দূরে রাখতে হবে, যাতে কোনোভাবেই জীবাণুর সংক্রমণ না ঘটে। সঠিক উপায়ে ডিপ ফ্রিজের মাইনাস বা হিমাঙ্ক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে কুরবানির গরুর মাংস সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভালো, তাজা এবং খাওয়ার উপযোগী থাকে।
/আশিক
ফ্রিজের শক্ত বরফ জমা মাংস দ্রুত গলানোর ৪টি বৈজ্ঞানিক ও নিরাপদ ঘরোয়া কৌশল
রান্নাঘরের ব্যস্ততম সময়ে অনেক সময়ই দেখা যায় ফ্রিজ থেকে বের করা মাংস পাথরের মতো শক্ত হয়ে বরফ জমে আছে। এই অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বা কিচেন কাউন্টারে দীর্ঘক্ষণ মাংস রেখে দিলে, বিশেষ করে তীব্র গরমের দিনে, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ রেখে অত্যন্ত দ্রুত ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাংস ডিফ্রস্ট বা বরফ গলানোর বেশ কিছু দারুণ কৌশল রয়েছে, যা জানা থাকলে শেষ মুহূর্তের রান্নার চাপ অনেকটাই কমে যায়।
খুব দ্রুত অথচ নিরাপদ উপায়ে মাংস গলাতে ঠান্ডা পানির ব্যবহার সবচেয়ে কার্যকর। প্রথমে বরফ জমে থাকা মাংসটিকে একটি প্লাস্টিক ব্যাগে বাতাসহীনভাবে ভালোভাবে সিল করে নিন। এরপর একটি গভীর পাত্রে ঠান্ডা পানি নিয়ে ব্যাগটি ডুবিয়ে রাখুন। প্রতি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর পর পাত্রের পানি বদলে দিন। মাংসের টুকরো ছোট হলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই এটি সম্পূর্ণ গলে রান্নার উপযোগী হয়ে যাবে এবং জীবাণুর আক্রমণও ঘটবে না।
বিজ্ঞানের তাপ পরিবহন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ধাতু বা মেটালের সাহায্যে মাংস দ্রুত গলানো সম্ভব। দুটি ধাতব প্যান বা অ্যালুমিনিয়ামের ট্রের মাঝখানে বরফযুক্ত মাংসের প্যাকেটটি চেপে রেখে দিন। ধাতু বাতাস থেকে দ্রুত তাপ শোষণ করে মাংসে পরিবাহিত করে, যার ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত বরফ গলে যায়।
আধুনিক ওভেনগুলোতে 'Defrost' নামের একটি বিশেষ অপশন থাকে। কম পাওয়ার দিয়ে অল্প সময় নির্ধারণ করে ওভেনে মাংস দিন এবং মাঝে মাঝে উল্টেপাল্টে দিন। তবে মনে রাখবেন, ওভেনে ডিফ্রস্ট করার পর মাংসের কিছু অংশ যেন আংশিক সেদ্ধ না হয়ে যায়। আর ওভেনে গলানো মাংস অবহেলা না করে সঙ্গে সঙ্গেই রান্না করে ফেলা উচিত।
রান্নার ঝামেলা স্থায়ীভাবে কমাতে মাংস ফ্রিজিং করার সময়ই কিছুটা কৌশলী হতে হবে। বড় বড় ব্লকে বা একবারে অনেক মাংস একসাথে না রেখে, ছোট ছোট প্লাস্টিক ব্যাগে পাতলা স্তর করে ভাগ করে রাখুন। এতে মাংস যেমন সমানভাবে জমে, তেমনি প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অংশ বের করে দ্রুত গলিয়ে নেওয়া যায়। ফলে বারবার পুরো মাংস গলানো এবং পুনরায় ফ্রিজে রাখার ক্ষতিকর চক্র থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের চোখে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় কোনটি?
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার আগের দিন রাতে ডিপ ফ্রিজ থেকে মাংস বের করে নরমাল ফ্রিজে (Refrigerator) রেখে ধীরে ধীরে বরফ গলানোই সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পদ্ধতি। এতে তাপমাত্রা একদম নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে জরুরি প্রয়োজনে ঠান্ডা পানির পদ্ধতিটি সবচেয়ে সেরা বিকল্প। আর মনে রাখবেন, যদি মাংস নরমাল ফ্রিজের ভেতরে রেখে গলানো হয়, তবেই কেবল তা রান্না না করে পুনরায় ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যাবে। কিন্তু ঘরের বাইরে বা ওভেনে গলানো মাংস কোনোভাবেই দ্বিতীয়বার ফ্রিজে রাখা উচিত নয়, এতে খাবারের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ দুই-ই নষ্ট হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
ঈদের আগে উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পেতে রূপবিশেষজ্ঞদের বিশেষ রূপচর্চা গাইড
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। উৎসবের এই দিনগুলোতে প্রত্যেকেই চান নিজেকে নিখুঁত, মসৃণ এবং উজ্জ্বল ত্বকে ফুটিয়ে তুলতে। তবে বর্তমানে জ্যৈষ্ঠের তীব্র ভ্যাপসা গরম আর হুটহাট বৃষ্টির এই খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ত্বকের সজীবতা ধরে রাখতে প্রয়োজন এখন থেকেই ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত রূপচর্চা। পার্লার বা ঘরে বসেই ঈদের দিনে শতভাগ স্বাস্থ্যকর ও গ্লোয়িং স্কিন পেতে রূপবিশেষজ্ঞরা একটি বিশেষ নিবিড় পরিচর্যা ও প্রি-ঈদ স্কিন কেয়ার রুটিন প্রকাশ করেছেন, যা উৎসবের দিনগুলোতে আপনার মেকআপকে করবে দীর্ঘস্থায়ী ও ত্রুটিহীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের আমেজে উজ্জ্বলতা পেতে শেষ মুহূর্তের ভরসা হতে পারে একটি ধারাবাহিক ডেইলি রুটিন। প্রতিদিন ত্বক পরিষ্কারের জন্য একটি মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করে বৃত্তাকার গতিতে ম্যাসাজ করে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বজায় রাখে।
এরপর ত্বকের সূক্ষ্ম রেখা দূর করতে ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে নিয়মিত ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অপরিহার্য। মরা চামড়া বা মৃত কোষ দূর করতে সপ্তাহে এক বা দুইবার সঠিক এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং করতে হবে, যা ঈদের মেকআপকে মসৃণভাবে ত্বকে বসতে সাহায্য করবে।
এছাড়া চোখের নিচের ক্লান্তি ও ডার্ক সার্কেল দূর করতে নিয়মিত আঙুলের ডগায় আই ক্রিম লাগানো এবং দিনে দুবার টোনার হিসেবে স্প্রে বোতলে গোলাপ জল ব্যবহার করলে সারাদিন সতেজ থাকা যায়। ঈদের অন্তত তিন দিন আগে ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটি ভালো ফেসিয়াল ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়া উচিত। বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে ত্বককে আর্দ্র রাখতে প্রতিদিন প্রচুর পানি, পানি সমৃদ্ধ ফল ও পর্যাপ্ত শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন।
যারা ঈদের ব্যস্ততায় পার্লারে যাওয়ার সময় পাবেন না, তারা ঘরে বসেই রান্নাঘরের কিছু সহজ উপাদান দিয়ে তৈরি করতে পারেন ৪টি মেগা ফেসপ্যাক। ত্বকের গঠন নরম ও উজ্জ্বল করতে এক টেবিল চামচ দইয়ের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে ২০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বকের লোমকূপ গভীরভাবে পরিষ্কার করতে ১০-১৫ মিনিটের জন্য ক্লে মাস্ক ব্যবহার করুন, তবে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়া এড়াতে এটি পুরোপুরি শুকানোর আগেই ধুয়ে ফেলতে হবে।
ত্বককে পরবর্তী দিনগুলোতে অন্যান্য রূপচর্চার পণ্য ভালোভাবে শোষণের উপযোগী করতে এবং গভীর আর্দ্রতা দিতে ২০ মিনিটের জন্য একটি অ্যালোভেরা বা গ্লিসারিন-সমৃদ্ধ মাস্ক লাগাতে পারেন। সবশেষে, ঈদের ঠিক আগের শেষ দিনে (চাঁদ রাতে) তাৎক্ষণিক গ্লো বা ইনস্ট্যান্ট ব্রাইটনেস পেতে ১৫ মিনিটের জন্য একটি ভিটামিন সি মাস্ক বা রেডিমেড শিট মাস্ক ব্যবহার করলেই উৎসবের সকালে আপনার ত্বক দেখাবে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
/আশিক
নারীদের সুন্দর ও আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন ধরে রাখার ৫টি বৈজ্ঞানিক ও টেকসই উপায়
নারীরা সাধারণত সুন্দর ও আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন ধরে রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার মহৎ উদ্দেশ্যেই ওজন কমানোর (Weight Loss) আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকেন। তবে সঠিক গাইডলাইনের অভাব এবং দ্রুত ফল পাওয়ার তীব্র আকুলতায় অনেক সময় কিছু মারাত্মক ভুল অভ্যাস তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যুক্ত হয়ে পড়ে। এই ভুলগুলো শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম (Metabolism) সম্পূর্ণ ধীর করে দেয়, হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং উল্টো দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমানোর পুরো প্রক্রিয়াকে আরও বেশি জটিল ও কঠিন করে তোলে। তাই সুস্থভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে নারীদের কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি।
প্রথমত, দ্রুত মেদ ঝরানোর আশায় অনেকেই খাবার খাওয়া একেবারে কমিয়ে দেন বা না খেয়ে থাকেন। শুরুতে ক্র্যাশ ডায়েটের কারণে ওজন কিছুটা কমলেও পরে মেটাবলিজম ধীর হয়ে শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পেশী ক্ষয় (Muscle Loss)সহ হরমোনের মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়। তাই না খেয়ে থাকার ক্ষতিকর আত্মঘাতী পথ পরিহার করে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করাই সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর পদ্ধতি।
দ্বিতীয়ত, নারীরা ওজন কমানোর সময় কার্বোহাইড্রেট বা চর্বি কমানোর দিকে যতটা অন্ধের মতো মনোযোগ দেন, প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে ততটাই অবহেলা করেন। অথচ পর্যাপ্ত প্রোটিন শরীরের পেশী গঠন মজবুত রাখে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয় এবং রক্তে শর্করার (Blood Sugar) মাত্রা নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এজন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, মাংসের পাশাপাশি ডাল, দই, পনির, টোফু বা বাদামের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা বাধ্যতামূলক।
তৃতীয়ত, সুপারশপে নানাবিধ প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে ‘লো-ফ্যাট’ (Low-fat) কিংবা ‘ডায়েট ফুড’ লেখা দেখেই বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। কারণ এসব খাবারে স্বাদ ধরে রাখতে গোপনে অতিরিক্ত চিনি, ক্ষতিকর লবণ, কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি মেশানো থাকে, যা ওজনকে উল্টো বাড়িয়ে দেয়। তাই প্যাকেটজাত খাবারের বদলে সবসময় প্রাকৃতিক ও ঘরে তৈরি তাজা খাবার বেছে নেওয়া উচিত।
চতুর্থত, ওজন কমানোর সম্পূর্ণ সমীকরণটি শুধু ডায়েট বা জিমের কঠোর ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করে না; বরং পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক স্বস্তি এর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে গেলে শরীরে ‘কর্টিসল’ (Cortisol) নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয় এবং পেটের বিপজ্জনক জেদি মেদ (Belly Fat) জমাতে সরাসরি সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন রাতে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
পরিশেষে, কোনো ম্যাজিক বা ডিটক্স ওয়াটারের ফাঁদে পড়ে রাতারাতি চিকন হওয়ার তাড়াহুড়ো করা যাবে না। অল্প সময়ে কঠোর ডায়েট শরীরের অপূরণীয় ক্ষতি করে। তাই ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলাই মেদহীন শরীর পাওয়ার একমাত্র টেকসই চাবিকাঠি।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ৯ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- মাত্র ২০ মিনিটে তৈরি করুন সুস্বাদু আমের মালাই পুডিং
- ‘মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকব’, বললেন শেখ হাসিনা
- বৃষ্টি নামলেই কেন দোয়া করবেন? জানুন হাদিসের নির্দেশনা
- হরমুজের আকাশে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, কী ঘটেছে?
- গ্রীষ্মের কালো রত্ন জাম, জানুন অবিশ্বাস্য উপকারিতা
- বাংলা ও দর্শন বিভাগ তুলে দেওয়ার খবর কি সত্য? যা জানাল মন্ত্রণালয়
- ডায়াবেটিস থাকলে কতটুকু আম খাওয়া নিরাপদ?
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- অর্থনীতিতে নতুন গতি? একনেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব
- ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
- আজ কোথায় শপিং করবেন, কোথায় নয়? নিন বন্ধের মার্কেট তালিকা
- এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা
- সোনার বড় মূল্যহ্রাস, জানুন আজকের দর
- বাজেটে করছাড়ের মহাপ্যাকেজ, কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
- বাজেটে আসছে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর
- ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান
- আজকের নামাজের সময়সূচি, কখন কোন ওয়াক্ত?
- ১৬ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ঢাকায় আবহাওয়া থাকবে যেমন
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- দুই সপ্তাহে ‘চূড়ান্ত বিজয়’, নতুন বার্তা ট্রাম্পের
- বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজকের খেলার সূচি, কখন কোথায় দেখবেন?
- নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
- বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বাধা: মেঘালয়ে ভারতীয় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ
- আমূল বদলাচ্ছে কারিকুলাম: বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী বছর ব্যাপক পরিবর্তন
- ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানে বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করল ইসরায়েল
- স্বাধীনতার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরামি বন্ধ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে আবারও অনিশ্চয়তা!
- বিশ্বের বুকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠাতে নিরলস কাজ করছে সরকার: নুরুল হক নুর
- ইসরায়েলে সামরিক অভিযান স্থগিত করল ইরান
- রাসিক প্রশাসকের ফ্রান্স সফর বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী: অপচয় রোধে কঠোর প্রশাসন
- ৮ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১১ জুন শুরু ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম বিশ্বকাপ; জেনেনিন ৫টি মূল বৈশিষ্ট্য
- প্রধানমন্ত্রীকে আ. লীগ নেতার চিঠি: কী আছে সেই ভাইরাল চিঠিতে?
- ১ বছরের আইনি লড়াই শেষে ক্যামেরার সামনে ফিরছেন কোরিয়ান সুপারস্টার কিম সু-হিউন
- দক্ষিণ ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প: ধসে পড়েছে বহু ভবন
- বাপের দোয়া থেকে ক্রিকেটের দোয়া করতে পারি কি না দেখি: তামিম
- ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের ধাক্কায় কাঁপছে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল
- শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
- ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের ফের নতুন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- আজ সোমবার ঢাকার যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ
- আজ সোমবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
- বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ব্রাজিলের বড় ক্ষতি
- সাহারার মৃত্যুফাঁদে ৪৯ প্রাণ: বিকল ট্রাক, ফুরিয়ে যায় পানি, মরুভূমিতেই শেষ যাত্রা
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- ৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, এক লাফে কমল স্বর্ণের দাম
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- ৮ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৭ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- নেপালকে বধ করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- ৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার








