রমজানজুড়ে আদা-রসুন বাটা তাজা রাখার জাদুকরী কৌশল

পবিত্র রমজান মাসে রান্নার ব্যস্ততা কমাতে আমরা অনেকেই আদা-রসুনের পেস্ট একবারে বেশি করে তৈরি করে রাখি। কিন্তু সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ না করলে কয়েক দিন পরেই দেখা যায় সেই পেস্টের রঙ কালচে বা সবুজ হয়ে গেছে এবং সুগন্ধ হারিয়ে তিতকুটে স্বাদ তৈরি হয়েছে। এই সমস্যা এড়াতে আদা ও রসুন ব্লেন্ড করার সময় পানি ব্যবহার না করে তেল ব্যবহার করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আদা ও রসুনের খোসা ছাড়ানোর পর তা ধুয়ে রোদে বা সুতি কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিতে হবে। ব্লেন্ড করার সময় পানির বদলে সামান্য সয়াবিন বা সরিষার তেল দিলে পেস্টটি দীর্ঘদিন সতেজ থাকে।
আদা-রসুন বাটা সংরক্ষণে লবণ এবং তেল প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ হিসেবে চমৎকার কাজ করে। পেস্ট তৈরির সময় পরিমাণমতো লবণ এবং রান্নার তেল মিশিয়ে নিলে এটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করে এবং বাতাসের সংস্পর্শে এসে জারণ প্রক্রিয়া বা অক্সিডেশন হতে দেয় না। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য সাদা ভিনেগার বা সিরকা মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যা পেস্টের পিএইচ মাত্রা ঠিক রাখে এবং স্বাদ ও রঙ অপরিবর্তিত রাখতে সাহায্য করে। সংরক্ষণের জন্য সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো কাঁচের জার ব্যবহার করা উচিত, কারণ প্লাস্টিকের পাত্রে রাখলে অনেক সময় খাবারের ঘ্রাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সবচেয়ে আধুনিক ও সহজ পদ্ধতি হলো আদা-রসুনের পেস্টকে আইস কিউব ট্রেতে রেখে জমিয়ে নেওয়া। কিউবগুলো জমে শক্ত হয়ে গেলে তা জিপ-লক ব্যাগে ভরে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করলে মাসের পর মাস এর গুণগত মান ঠিক থাকে। রান্নার সময় প্রতি পদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বা দুটি কিউব সরাসরি কড়াইয়ে ছেড়ে দিলেই কাজ হয়ে যায়। এতে বারবার পুরো পাত্র থেকে মসলা বের করার ঝামেলা থাকে না এবং আদ্রতা ঢোকার ভয়ও থাকে না। এই সহজ কৌশলগুলো অনুসরণ করলে রমজানের পুরো মাস জুড়ে আপনি পেতে পারেন টাটকা আদা-রসুনের স্বাদ ও ঘ্রাণ।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি ফুড
ইফতারে বাহারি খাবার বনাম স্বাস্থ্য সচেতনতা: কোনটি বেছে নেবেন?
পবিত্র রমজান আত্মিক পরিশুদ্ধির পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখারও এক দারুণ সুযোগ। তবে ইফতারের টেবিলে বাহারি ভাজাপোড়া, মিষ্টি আর উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের আধিক্য অনেক সময় ওজন বাড়িয়ে দেয় এবং হজমের নানা সমস্যা তৈরি করে। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর হুট করে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। অথচ একটু সচেতন হয়ে খাবারের পরিমাণ নয় বরং গুণগত মানের ওপর জোর দিলে রোজার মাসেও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যতালিকা অনুসরণ করলে শরীর যেমন সতেজ থাকে, তেমনি সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও বজায় থাকে স্থিতিশীল।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইফতারে শসা, টমেটো ও লেটুসের সালাদ কিংবা হালকা সবজি স্যুপ বিশেষ ভূমিকা রাখে। সবজিতে থাকা প্রচুর আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। এছাড়া ইফতারে কৃত্রিম মিষ্টির শরবতের বদলে তরমুজ, আপেল বা কমলার মতো ফল রাখা হলে তা শরীরকে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভিটামিনের জোগান দেয়। দ্রুত শক্তি পেতে খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙার কোনো বিকল্প নেই, তবে ক্যালরির কথা মাথায় রেখে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। মাছ, মুরগি বা ডিমের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার সেহরি ও ইফতারে রাখলে তা পেশি গঠনে সহায়তা করে এবং ক্ষুধার ভাব অনেকটা কমিয়ে দেয়।
শর্করা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাদা ভাত বা ময়দার বদলে লাল চাল, আটার রুটি বা ওটস বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এসব পূর্ণ শস্য শরীরে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি সরবরাহ করে। পাশাপাশি ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ বাদাম ও চিয়া বীজ অল্প পরিমাণে খেলেও দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি পাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পানিশূন্যতা রোধে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত বিরতি দিয়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে ডাবের পানি বা লেবুর শরবত বেছে নিলে মেটাবলিজম সচল থাকে। ইফতারের পর হালকা হাঁটাচলা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে পারলে রোজার মাস শেষে নিজেকে আরও ফিট ও প্রাণবন্ত হিসেবে আবিষ্কার করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশন
ইফতারের ভুল খাদ্যাভ্যাস থেকে বাঁচতে পুষ্টিবিদদের বিশেষ পরামর্শ
পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকার পর ইফতার কেবল ক্ষুধা নিবারণের মাধ্যম নয়, বরং এটি শরীরকে পুনরায় সতেজ ও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। সারাদিন রোজা রাখার পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত ভারী, ভাজাপোড়া বা চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে হজমে জটিলতা, গ্যাস্ট্রিক ও রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে ইফতারের খাদ্যতালিকা নির্বাচন করা উচিত অত্যন্ত সচেতনতা ও পুষ্টিজ্ঞানের সঙ্গে। একটি আদর্শ ইফতারের শুরু হওয়া উচিত খেজুর ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ রক্তে শর্করার ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়, আর পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে কোষগুলোকে সজীব করে তোলে। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পাকস্থলীতে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে, তাই এটি পরিহার করাই শ্রেয়।
ইফতারের প্লেটে মৌসুমি ফলমূল রাখা অত্যন্ত জরুরি। তরমুজ, পেঁপে, আপেল বা কলার মতো ফলে প্রচুর পরিমাণে পানি, আঁশ ও ভিটামিন থাকে যা শরীরের খনিজ ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। ফলের প্রাকৃতিক চিনি শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। এর পাশাপাশি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হিসেবে ছোলা বা মুগডাল রাখা যেতে পারে। ছোলায় থাকা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও ম্যাগনেশিয়াম শরীরের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখতে সহায়তা করে। ইফতারে সবজি বা মুরগির গরম স্যুপ রাখা হলে তা পাকস্থলীর ওপর চাপ কমায় এবং শরীরকে মূল খাবারের জন্য প্রস্তুত করে। হালকা ও তরল খাবার দীর্ঘক্ষণ বিশ্রামে থাকা হজমতন্ত্রের জন্য সবসময় আরামদায়ক।
অন্যদিকে, আমাদের দেশে ইফতারে পিয়াজু, বেগুনি বা জিলাপির মতো ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ডুবো তেলে ভাজা এসব খাবার হজমের সমস্যা সৃষ্টি করে এবং শরীরের কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে এসব খাবারের পরিমাণ কমিয়ে প্রাকৃতিক পানীয় যেমন লেবুর শরবত বা ডাবের পানির দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। কৃত্রিম রঙ ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত শরীরের জন্য ক্ষতিকর ক্যালরি বয়ে আনে। ইফতারের পরপরই খুব ভারী খাবার যেমন বিরিয়ানি বা পরোটা না খেয়ে ওটস বা লাল আটার রুটির মতো জটিল কার্বোহাইড্রেট বেছে নেওয়া ভালো, যা ধীরে ধীরে হজম হয়ে শরীরকে দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম রাখে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সচেতন খাদ্যাভ্যাসই পারে রোজার ক্লান্তি দূর করে শরীরকে প্রকৃত অর্থে সুস্থ রাখতে।
তথ্যসূত্র: ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশন
ইফতারে মৌসুমি ফলের জাদু: সুস্থ থাকতে পুষ্টিবিদদের বিশেষ পরামর্শ
পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর ইফতারে কোন ধরনের খাবার গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদরা ইফতারের মেন্যুতে মৌসুমি ফল রাখার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। কারণ, মৌসুমি ফল শুধু সতেজই নয়, বরং এগুলো প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং দীর্ঘক্ষণ অনাহারে থাকা শরীর খুব সহজেই এসব ফলের পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে বসন্ত ঋতু চললেও বাজারে গ্রীষ্মকালীন কিছু ফল আসতে শুরু করেছে। হাতের নাগালে পাওয়া যায় এমন কয়েকটি মৌসুমি ফল ইফতারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এর মধ্যে প্রথমেই আসে তরমুজের নাম। তরমুজে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে, যা সারাদিনের পানিশূন্যতা দূর করে শরীরকে দ্রুত সতেজ করতে কার্যকর। এতে থাকা লাইকোপিন ও ভিটামিন-সি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ইফতারে কয়েক টুকরো ঠান্ডা তরমুজ শরীরকে মুহূর্তে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।
সহজলভ্য ফলের মধ্যে কলা আরেকটি চমৎকার বিকল্প। কলায় থাকা প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং পেশির দুর্বলতা বা ক্লান্তি দূর করে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। একইভাবে পেঁপে হজমের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। এতে থাকা বিশেষ এনজাইম সারাদিন না খাওয়ার পর পাকস্থলীকে শান্ত রাখে এবং খাবার হজমে সহায়তা করে। এছাড়া ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ আনারস হজমে সহায়ক হলেও অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
ইফতারে পানীয় হিসেবে ডাবের পানি ও মাল্টার রস সেরা হিসেবে বিবেচিত। ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের খনি, যা শরীরকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে। অন্যদিকে মাল্টা বা কমলালেবু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদদের মতে, মৌসুমি ফল সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে টাটকা থাকে এবং এতে কৃত্রিম সংরক্ষক কম থাকে বলে এর পুষ্টিমান অটুট থাকে। ফলের প্রাকৃতিক শর্করা ও ফাইবার শরীরকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক শক্তিতে ফিরিয়ে আনে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে ফল দিয়ে ইফতার শুরু করলে হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়।
সূত্র: হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ওয়েবএমডি, বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (মৌসুমি ফল তালিকা)
সুস্বাদু চায়ের রেসিপি: অতিরিক্ত পাতা বা ফোটানো চা ঠিক করার উপায়
সকাল হোক বা সন্ধ্যা, এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা চনমনে ভাব এনে দেয় মুহূর্তেই। কিন্তু সেই চা-ই যদি স্বাদে তেতো হয়ে যায়, তবে পুরো মেজাজটাই বিগড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সাধারণত তাড়াহুড়ো করে চা বানাতে গিয়ে অনেক সময় আমরা চা-পাতা বেশি দিয়ে ফেলি কিংবা চা অনেকক্ষণ ধরে ফুটিয়ে ফেলি। এর ফলে চায়ের প্রথম চুমুক দিলেই এক ধরনের কটু বা তিতকুটে স্বাদ পাওয়া যায়, যা পানের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তবে এই তেতো চা ফেলে না দিয়ে খুব সহজ কিছু ঘরোয়া কৌশলে আপনি এর স্বাদ আগের মতো সুস্বাদু করে তুলতে পারেন।
বিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, চা-পাতায় 'ট্যানিন' নামক একটি বিশেষ উপাদান থাকে। যখন চা অনেক সময় ধরে উচ্চ তাপে ফোটানো হয় কিংবা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত চা-পাতা যোগ করা হয়, তখন এই ট্যানিন বেশি মাত্রায় নিঃসরণ হয়। এই ট্যানিনের আধিক্যই মূলত চায়ের স্বাভাবিক স্বাদ নষ্ট করে একে তেতো করে তোলে। এছাড়া রান্নার সময় চুলার আঁচ খুব বেশি থাকলেও চায়ের স্বাদ তিতকুটে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যদি দেখেন চা খুব বেশি কড়া বা শক্ত হয়ে গেছে এবং পানের সময় তেতো লাগছে, তবে এতে সামান্য পরিমাণ গরম পানি যোগ করতে পারেন। কড়া চায়ে গরম পানি মেশালে সেটি লিকারকে কিছুটা হালকা করে দেয় এবং ট্যানিনের তিক্ততা দ্রুত কমিয়ে আনে। এটি তেতো ভাব দূর করার সবচেয়ে প্রাথমিক এবং কার্যকরী সমাধান। গরম পানি মেশানোর পর চা একবার নেড়ে নিলেই স্বাদে অনেকটা ভারসাম্য ফিরে আসে।
চায়ের তিক্ততা দূর করার আরেকটি চমৎকার উপায় হলো দুধের ব্যবহার। দুধে থাকা প্রোটিন চায়ের ট্যানিনের সাথে বিক্রিয়া করে এর তিতকুটে স্বাদকে প্রশমিত করে। যদি আপনার বানানো চা স্বাদে কটু লাগে, তবে তাতে আগের চেয়ে সামান্য বেশি পরিমাণে দুধ যোগ করে একটু জ্বাল দিয়ে নিন। এতে চায়ের স্বাদ যেমন উন্নত হবে, তেমনি এর রঙ এবং ঘনত্বও হবে আকর্ষণীয়। সামান্য বুদ্ধি খাটিয়ে এই ছোটখাটো কৌশলগুলো প্রয়োগ করলে আপনি অনায়াসেই নষ্ট হতে যাওয়া চায়ের স্বাদ পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
/আশিক
রমজানের প্রস্তুতি: এক মাসের বাজার নিশ্চিন্তে গুছিয়ে রাখার উপায়
বিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই আমাদের দৈনন্দিন রুটিন ও রান্নাঘরের কর্মব্যস্ততায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে ইফতার ও সেহরির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে গৃহিণীদের বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয়। রমজানে বাজারের ভিড়, হঠাৎ পণ্যের দাম বৃদ্ধি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত সরবরাহের ঘাটতি এড়াতে আগেভাগে পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করা অত্যন্ত জরুরি। পরিকল্পিতভাবে এক মাসের বাজার গুছিয়ে রাখলে যেমন সময়ের সাশ্রয় হয়, তেমনি পারিবারিক বাজেটও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রমজানের শুরুতেই যেসব শুষ্ক খাবার বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় পণ্য মজুত করা প্রয়োজন, তার মধ্যে অন্যতম হলো চাল, আটা বা ময়দা। এছাড়া সেহরি ও ইফতারে ভিন্নতা আনতে সেমাই, লাচ্ছা, ওটস কিংবা চিড়া কিনে রাখা যেতে পারে। তবে এসব পণ্য দীর্ঘসময় ভালো রাখতে বাতাস চলাচল করে এমন শুষ্ক পাত্রে সংরক্ষণ করা উচিত, অন্যথায় আর্দ্রতার কারণে পোকা ধরার ভয় থাকে। আমিষ ও প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডাল জাতীয় পণ্য যেমন—মসুর, মুগ, ছোলা ডাল, বুট, সয়াবিন ও কাবলি ছোলার স্টক করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। ডাল ও বুট দীর্ঘদিন ভালো থাকলেও এক মাসের জন্য কেনা ডিম অবশ্যই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
রান্নার অপরিহার্য অংশ হলো তেল ও মসলা। লবণ, চিনি, গুড়, সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ও ঘিয়ের পাশাপাশি গুঁড়ো মসলা যেমন—হলুদ, মরিচ, জিরা ও গরম মসলা আগেভাগেই তালিকাভুক্ত করা উচিত। এসব মসলা বায়ুরোধী বা এয়ারটাইট পাত্রে রাখলে এর স্বাদ ও সুগন্ধ দীর্ঘকাল অটুট থাকে। ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে খেজুর, চিঁড়া, মুড়ি, বেসন ও শরবতের সিরাপও এই তালিকায় রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে বেসন আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখলে এবং খেজুর শুষ্ক স্থানে রাখলে এর গুণমান বজায় থাকে।
বাজার থেকে কেনা মুরগি ও গরুর মাংস রান্নার সুবিধার্থে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। এছাড়া দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে আদা-রসুন বেটে আলাদা বাটিতে ডিপ ফ্রিজে রাখা এবং সবজি ধুয়ে পরিষ্কার করে পানি ঝরিয়ে জিপলক ব্যাগ বা বক্সে সংরক্ষণ করলে রান্নার সময় অনেকটাই বেঁচে যায়। পুষ্টির কথা মাথায় রেখে এই তালিকায় বাদাম, কিশমিশ, মধু, লেবু ও ইসবগুলের মতো খাবারগুলো রাখা জরুরি, যা রোজার দীর্ঘ সময় পর শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
তবে খাদ্য মজুতের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতামূলক নির্দেশনা রয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সবসময় খাদ্য সংরক্ষণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক পদ্ধতির ওপর জোর দেয়। অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অযথা অতিরিক্ত পণ্য কেনাকাটা বা অস্বাভাবিক মজুত না করার পরামর্শ দেয়, যাতে বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি না হয়। তাই রমজানের প্রস্তুতি যেন হয় পরিকল্পিত ও পরিমিত। সঠিক তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো আগেভাগে গুছিয়ে রাখলে একটি নিরুদ্বেগ ও স্বস্তির রমজান কাটানো সম্ভব।
/আশিক
হাতে-পায়ে জ্বালাপোড়া কেন হয় জানুন কারণ
হাতে-পায়ে অস্বস্তিকর জ্বালাপোড়া অনুভূত হওয়া অনেকের কাছেই পরিচিত সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে প্রায়ই “বার্নিং ফিট সিন্ড্রোম” বা স্নায়ুবিষয়ক জটিলতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপসর্গের পেছনে একাধিক শারীরিক কারণ কাজ করতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি কোনো গুরুতর রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিতও হতে পারে।
সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্নায়ুর ক্ষতি বা নিউরোপ্যাথি। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে অতিরিক্ত শর্করার প্রভাবে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে পায়ের পাতায় জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিনি ভাব, অসাড়তা কিংবা তীব্র ব্যথা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থাকে ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি বলা হয়, যা চিকিৎসা না করলে ক্রমে জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
পুষ্টিহীনতাও এই সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২, বি৬ এবং অন্যান্য বি-কমপ্লেক্স ভিটামিনের ঘাটতি স্নায়ুর কার্যকারিতা দুর্বল করে দেয়। দীর্ঘদিন এ ঘাটতি থাকলে হাতে-পায়ে জ্বালাপোড়া বা ঝিনঝিনি অনুভূতি বাড়তে পারে।
কিডনি ও লিভারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার ক্ষেত্রেও শরীরে টক্সিন জমে স্নায়ুকে প্রভাবিত করতে পারে। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে রক্তে ক্ষতিকর উপাদান জমে থেকে এমন উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও দায়ী হতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির কর্মক্ষমতা কমে গেলে বা মেনোপজ-পরবর্তী সময়ে নারীদের হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে স্নায়বিক অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া দেখা দেয়।
রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা থাকলেও পায়ে জ্বালাপোড়া হতে পারে। রক্তস্বল্পতা বা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের মতো অবস্থায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছায় না। এতে ক্লান্তি, ব্যথা ও জ্বালাভাব তৈরি হয়।
এ ছাড়া দীর্ঘ সময় পা ভেজা রাখা, ফাংগাল সংক্রমণ, ত্বকের অ্যালার্জি কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এই সমস্যার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। ক্যানসার বা যক্ষ্মার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল গ্রহণও স্নায়ুর উত্তেজনা বৃদ্ধি করে উপসর্গ তীব্র করতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
যদি হঠাৎ করে জ্বালাপোড়া তীব্র আকার ধারণ করে, পায়ে ক্ষত বা ঘা দেখা দেয়, অথবা সমস্যা ধীরে ধীরে পায়ের পাতা থেকে ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপসর্গ অবহেলা করলে জটিলতা বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে রক্ত পরীক্ষা, ভিটামিনের মাত্রা যাচাই এবং প্রয়োজন হলে স্নায়ুবিষয়ক পরীক্ষা করানো জরুরি। সময়মতো কারণ শনাক্ত করা গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।
ব্রণমুক্ত ত্বক পেতে ঘরোয়া ৪টি সহজ টিপস
তৈলাক্ত, সংবেদনশীল এবং ব্রণপ্রবণ ত্বকের সমস্যায় যারা দীর্ঘ সময় ধরে ভুগছেন, তাদের জন্য সারা বছরই গাল, চিবুক কিংবা কপালে ব্রণের উপদ্রব একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের প্রচলিত বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করেও অনেক সময় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। এই ধরনের ত্বকের সমস্যায় কৃত্রিম উপাদানের চেয়ে ভেষজ পদ্ধতির ওপর ভরসা রাখা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন এবং খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনলে ব্রণের এই জেদি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
প্রাকৃতিক উপায়ে ব্রণের প্রতিকারে হলুদ বাটা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। হলুদে বিদ্যমান অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের গভীর থেকে কাজ করে। এক টুকরো কাঁচা হলুদ বেটে তার সঙ্গে সামান্য মধু বা গোলাপ জল মিশিয়ে ব্রণের ওপর ব্যবহার করা যেতে পারে। ১৫ মিনিট রাখার পর ত্বক ধুয়ে ফেললে এটি ত্বকের প্রদাহ ও ফোলা ভাব কমিয়ে ব্রণের প্রকোপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। একইভাবে নিমপাতার ব্যবহারও প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের চিকিৎসায় জনপ্রিয়। নিমের শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ ত্বক থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। এক মুঠো নিমপাতা ভালো করে বেটে ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে এটি কেবল ব্রণই সারায় না, বরং ত্বকের অন্যান্য সংক্রমণ রোধেও সহায়তা করে।
ব্রণ ও এর জেদি দাগ দূর করার আরেকটি সহজ এবং প্রাকৃতিক সমাধান হলো অ্যালোভেরা জেল। এই ভেষজ উপাদানে থাকা বিশেষ ‘হিলিং’ উপাদান ত্বকের যেকোনো ধরনের ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তুলতে সক্ষম। অ্যালোভেরা জেল নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের আকার ছোট হয়ে আসে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় থাকে, যা ত্বককে সতেজ রাখে। পাশাপাশি ত্রিফলার ব্যবহারও ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। আমলকী, হরিতকি ও বহেরার এই সংমিশ্রণটি কেবল পেটের সমস্যার সমাধান দেয় না, বরং এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের সমস্যা কমাতেও সিদ্ধহস্ত। এক চা চামচ ত্রিফলা গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে মুখে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে আশাতীত ফল পাওয়া যায়।
তবে কেবল বাহ্যিক যত্নই ব্রণের সমস্যা দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়, এর জন্য খাদ্যাভ্যাসেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা জরুরি। অতিরিক্ত মসলাদার, ভাজাপোড়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার রক্তে টক্সিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি ত্বকে ব্রণের রূপ নেয়। এর পরিবর্তে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল এবং দানাশস্য অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। বিশেষ করে শসা ও পুদিনার মতো ঠান্ডা প্রকৃতির খাবার ত্বকের সুস্থতায় সহায়ক। এছাড়া শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পানের কোনো বিকল্প নেই।
ত্বক পরিষ্কার রাখার বিষয়টিও ব্রণের চিকিৎসায় সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত দুইবার উপযুক্ত ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা উচিত। রাসায়নিক ক্লিনজারের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক উপাদানে আস্থা রাখা যেতে পারে। বেসন, হলুদ এবং দইয়ের মিশ্রণ একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করার পাশাপাশি ব্রণের বিস্তার রোধে সাহায্য করে। নিয়মিত এই ভেষজ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে এবং জীবনযাত্রায় সচেতনতা আনলে দীর্ঘমেয়াদী ব্রণের সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
/আশিক
রমজানে শক্তি ধরে রাখার সেরা খেজুর–জানুন পুষ্টিবিদের পরামর্শ
রমজান মাস প্রায় চলে এসেছে। রোজা মানেই ইফতারে খেজুর থাকা প্রয়োজন। কয়েকটি খেজুরেই শরীরে দ্রুত শক্তি ফিরে আসে, রক্তে শর্করার ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়ার পর শরীরকে সজীব রাখে। তবে কোন ধরনের খেজুর বেছে নেবেন, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ধরনের খেজুর পাওয়া যায়, প্রতিটির স্বাদ, গঠন ও পুষ্টিগুণ আলাদা। রোজার জন্য কোন খেজুর সবচেয়ে উপযোগী, তা নিচে তুলে ধরা হলো।
১. খুরমা
সবচেয়ে সাধারণ ও পরিচিত খেজুর। এটি নরম, মিষ্টি এবং সহজে হজমযোগ্য। খুরমায় প্রচুর প্রাকৃতিক শর্করা থাকে—গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ—যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। এছাড়া এতে ফাইবারও থাকে, যা হজমে সহায়ক। শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
২. মেডজুল
মেডজুলকে খেজুরের রাজা বলা হয়। বড়, রসালো ও নরম এই খেজুর মিষ্টি স্বাদে সমৃদ্ধ। এর মধ্যে ভিটামিন বি–কমপ্লেক্স, আয়রন ও পটাশিয়াম থাকে, যা রক্তস্বল্পতা ও ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে।
৩. সাফাওয়ি
ছোট আকারের খেজুর, কিন্তু খুবই মসৃণ ও মিষ্টি। রোজার সময় পেট ভরাতে এটি ভালো। আকার ছোট হওয়ায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে বলে পুষ্টিবিদদের মতে এটি উপকারী।
৪. আম্বাবি বা হানি ডেট
ছোট হলেও স্বাদে মধুর মতো মিষ্টি। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ উপাদানের ভারসাম্য ভালো, যা সারাদিনের রোজা শেষে শরীর পুনরুজ্জীবিত রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ মিষ্টি ঘ্রাণ এটিকে আলাদা করে।
৫. স্থানীয় প্রজাতির খেজুর বা খাজুর
বাংলাদেশের খুলনা ও অন্যান্য অঞ্চলে সহজে পাওয়া যায়। তুলনামূলকভাবে কম মিষ্টি, তবে ফাইবার বেশি থাকায় পেট ভরাতে কার্যকর।
রোজার জন্য কোন খেজুর বেছে নেবেন?
পুষ্টিবিদরা বলছেন, রোজা ভাঙার সময় শরীরকে দ্রুত শক্তি দেওয়ার জন্য মেডজুল ও সাফাওয়ি খেজুর বেশি উপযোগী। খেজুরের সঙ্গে বাদাম, কাজু বা আখরোট যোগ করলে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাওয়া যায়, যা শক্তি ধরে রাখতে সহায়ক।
বাংলাদেশের বাজারে সহজে পাওয়া যায় খুরমা, মেডজুল, সাফাওয়ি, আম্বাবি ও খাজুর। প্রতিটিই পুষ্টিকর, তবে রোজার সময়ে মেডজুল ও সাফাওয়ি খেজুরকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।
সূত্র: হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ওয়েবএমডি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভে
/আশিক
রমজানের আগে শারীরিক প্রস্তুতি: মাথাব্যথা ও ক্লান্তি এড়ানোর সহজ উপায়
রমজান আসতে আর বেশি সময় নেই। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানীয় না নেওয়ার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে এখন থেকেই কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন করলে রমজানের প্রথম দিনগুলোতে ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা শক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা কমানো সম্ভব।
ক্যাফেইন ও চিনি কমানো
চা, কফি বা অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়ের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমান। এতে রোজার প্রথম দিনগুলিতে ক্যাফেইনের অভাবে মাথাব্যথা হওয়ার ঝুঁকি কমে।
খাবারের পরিমাণ ও সময়ের পরিবর্তন
হঠাৎ রোজা শুরু না করে ধীরে ধীরে খাবারের পরিমাণ কমানো শুরু করুন। বিশেষ করে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারে সামান্য পরিবর্তন আনলে শরীর দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে।
পুষ্টিকর খাবার নির্বাচন
প্রোটিন, শাকসবজি, ফল এবং আঁশযুক্ত খাবার তালিকায় রাখুন। এগুলো দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং হজমে সহায়ক।
পর্যাপ্ত পানি পান
প্রচুর পানি পান করে শরীরকে আর্দ্র রাখুন। পানিশূন্যতা রোজার সময় বড় সমস্যা হতে পারে, তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
ঘুমের অভ্যাস
সাহরির জন্য রাতে ভোরে উঠতে হবে, তাই এখন থেকেই রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো এবং ভোরে ওঠার অভ্যাস তৈরি করুন।
বয়স্কদের জন্য পানিশূন্যতা ও রক্তচাপের দিকে নজর রাখা জরুরি। যারা প্রথমবার রোজা রাখবে, তাদেরও ধাপে ধাপে মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি দিতে হবে।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রোজা শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও খাবারের পরিকল্পনা ঠিক করে নেওয়া উচিত।
প্রতিদিন হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করে শরীর সচল রাখুন। এটি রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে এবং রোজার দিনে শক্তি যোগায়।
রমজানের শুরুতে এই সহজ পরিবর্তনগুলো মেনে চললে শরীর দ্রুত মানিয়ে নেবে এবং রোজার প্রথম দিনগুলো আরও সুস্থ ও শক্তিশালীভাবে কাটানো সম্ভব হবে।
পাঠকের মতামত:
- রমজানজুড়ে আদা-রসুন বাটা তাজা রাখার জাদুকরী কৌশল
- ইফতারে বাহারি খাবার বনাম স্বাস্থ্য সচেতনতা: কোনটি বেছে নেবেন?
- সদরপুরে ভেজাল গো-খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা
- পবিত্র আল-আকসার ইমাম গ্রেপ্তার: রমজানের শুরুতেই জেরুজালেমে চরম উত্তেজনা
- আদালতে দেখা হবে! গণভোটের আইনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে শিশির মনিরের হুঙ্কার
- রমজানের চাঁদ দেখা গেছে: বাংলাদেশে কাল থেকে রোজা শুরু
- সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এতিমখানায় কোরআন শরীফ ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ
- কালিগঞ্জে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের উদ্বোধন, রমজানজুড়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা
- বেসরকারি বিনিয়োগে ধস ও সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ: ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে বিদায়
- স্কুল-কলেজে আর চলবে না মনগড়া ফি: নতুন নীতিমালায় কড়া হুঁশিয়ারি
- সেহরি-ইফতার ও তারাবিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- চাকরির টাকায় সংসার না চললে ছেড়ে দিন, দুর্নীতির কোনো ক্ষমা নেই: আইনমন্ত্রী
- কুমিল্লার ইয়াছিনকে বড় পুরস্কার দিয়েছে বিএনপি
- ঐতিহ্যবাহী নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নলতা শরীফ ক্রিকেট একাডেমির নতুন কমিটি
- প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু
- প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত
- ১৮ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ১৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, কী বার্তা দেবেন তারেক রহমান
- স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় বড় নিয়োগ, আবেদন চলছে
- রেমিট্যান্স পাঠাতে জানুন নতুন হার
- বঙ্গভবনে পরিবর্তনের হাওয়া: নতুন রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল
- সাভারে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বন্ধ হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ
- বিশ্বজুড়ে হঠাৎ অচল ইউটিউব: ভিডিও দেখতে বিপাকে কোটি কোটি মানুষ
- ইফতারের ভুল খাদ্যাভ্যাস থেকে বাঁচতে পুষ্টিবিদদের বিশেষ পরামর্শ
- ইফতারে মৌসুমি ফলের জাদু: সুস্থ থাকতে পুষ্টিবিদদের বিশেষ পরামর্শ
- হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
- ইতিহাসে প্রথম: অর্থ ও স্বরাষ্ট্রের মতো শীর্ষ দুই মন্ত্রণালয় পেল চট্টগ্রাম
- সুস্বাদু চায়ের রেসিপি: অতিরিক্ত পাতা বা ফোটানো চা ঠিক করার উপায়
- আকাশছোঁয়া স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি: আজ থেকেই দাম কমছে
- জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নয়: জামায়াত আমির
- আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়: বিড়ম্বনা এড়াতে দেখে নিন তালিকা
- ঢাকায় আজকের গুরুত্বপূর্ণ সব কর্মসূচি
- বুধবারের শপিং গাইড: জেনে নিন আজ রাজধানীর কোন কোন মার্কেট বন্ধ
- ১৮ ফেব্রুয়ারির নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত
- ইরানে মার্কিন হামলা হলে পাশে থাকবে তালেবান
- তারেক রহমানের ঐতিহাসিক অভিষেক: ২০ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি
- বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে তারেক রহমান
- তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির চিঠি
- সৌদি আরবে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে: প্রথম রোজা বুধবার
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুখবর: রিজার্ভে বড় প্রবৃদ্ধি দেখছে বাংলাদেশ
- লক্ষ্মীপুরের ঘরের ছেলে এখন সরকারের মন্ত্রী: এ্যানির কাঁধে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ভার
- বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে স্বর্ণের হ্রাসকৃত মূল্য
- রাষ্ট্রপতির আলোচনায় ড. খন্দকার মোশাররফ কুমিল্লা ছেলে
- সাতক্ষীরা সদরে সংস্কার বরাদ্দে অনিয়ম: কাঠগড়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
- এলিয়েনরা কোনো কল্পনা নয়, বাস্তব: ওবামা
- তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বিশাল চমক: বাদ পড়লেন একঝাঁক জ্যেষ্ঠ নেতা
- এশিয়ার দুই দেশে রোজার ঘোষণা: চূড়ান্ত হলো পবিত্র রমজানের দিনক্ষণ
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের শুভ সূচনা: প্রথম কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে
- রুপা স্থির, তবে কেন অস্থির শুধু সোনা
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- দাঁড়িয়ে দেখার দিন শেষ, এবার ভোট দিয়ে অধিকার বুঝে নেওয়ার পালা: মির্জা ফখরুল
- সুষ্ঠু ভোট হলে যেকোনো ফলাফল মেনে নেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের দাপুটে সূচনা: প্রথম কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে লিড








