বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে তারেক রহমান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ২১:৪৬:২০
বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় ১৮ মাস পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজকীয় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ দেড় যুগের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর গঠিত হওয়া এই নতুন সরকারের অভিষেককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের শপথগ্রহণের খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একে এক বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান’। রয়টার্স এই ঘটনাকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ণায়ক পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, এই পটপরিবর্তন শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে আমেরিকান বার্তা সংস্থা এপি তাদের শিরোনামে উল্লেখ করেছে, ‘নির্বাচনে তাঁর দলের নিরঙ্কুশ জয়ের পর শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী’। এপি তাদের প্রতিবেদনে একটি বিশেষ তথ্যের ওপর আলোকপাত করেছে; তারা লিখেছে যে তারেক রহমান গত ৩৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা সাড়ে তিন দশক ধরে তাঁর মা খালেদা জিয়া অথবা তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে তাদের শিরোনামে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের খবরটি প্রচারের পাশাপাশি বিএনপির এই বিপুল বিজয়কে একটি ‘সহজ জয়’ বলে অভিহিত করেছে। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম আলজাজিরা এবং পাকিস্তানের প্রধান ইংরেজি দৈনিক ডন তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়েছে। ডন তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী তারেক রহমান’। ডন আরও উল্লেখ করেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মা-বাবার রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে থাকার পর এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে পরিচিত তারেক রহমান অবশেষে সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ পদে আসীন হলেন। এই অভিষেকের মধ্য দিয়ে তিনি পারিবারিক ছায়া কাটিয়ে একজন একক শক্তিশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোও বাংলাদেশের এই ক্ষমতার রদবদল নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক দ্যা হিন্দু এবং টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি তারেক রহমানের শপথ নেওয়ার খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেছে। এনডিটিভি এই বিজয়কে বিএনপির ‘ভূমিধস জয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে লিখেছে, এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে মূলত ‘এক নতুন যুগের সূচনা’। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কেমন হবে, তা এখন বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম আগ্রহের বিষয়। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বের প্রথম সারির সব সংবাদমাধ্যমই তারেক রহমানের শপথ গ্রহণকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ এবং আধুনিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন ধাপ হিসেবে চিত্রিত করেছে।

/আশিক


এলিয়েনরা কোনো কল্পনা নয়, বাস্তব: ওবামা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৯:৩৫:৩৪
এলিয়েনরা কোনো কল্পনা নয়, বাস্তব: ওবামা
ছবি : সংগৃহীত

ভিনগ্রহী প্রাণ বা এলিয়েনদের অস্তিত্ব নিয়ে জল্পনা-কল্পনা দীর্ঘদিনের হলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি মন্তব্য এই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। ওবামার দাবি অনুযায়ী, এলিয়েন বা ভিনগ্রহী প্রাণের বিষয়টি স্রেফ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নয় বরং এটি 'বাস্তব'। তবে এই অস্তিত্বের কথা স্বীকার করলেও তিনি একটি জনপ্রিয় রহস্যের সমাধান করেছেন যা কয়েক দশক ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ছিল। নেভাদার মরুভূমিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সেই রহস্যময় সামরিক ঘাঁটি 'এরিয়া ৫১'-এ ভিনগ্রহী কোনো প্রাণীকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, ওবামা সেটিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এলিয়েনদের অস্তিত্ব থাকলেও তাদের এমন কোনো গোপন ভূগর্ভস্থ ল্যাবরেটরিতে আটকে রাখা হয়নি।

জনপ্রিয় ইউটিউবার ব্রায়ান টাইলার কোয়েনের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বারাক ওবামা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেন। ভিনগ্রহী প্রাণীদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো দ্বিমত পোষণ না করে জানান যে তারা বাস্তব। তবে এরিয়া ৫১ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের কন্সপিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো ল্যাবরেটরি নেই যেখানে ভিনগ্রহীদের রাখা হয়েছে। ওবামা রসিকতা করে আরও যোগ করেন যে, যদি সত্যিই এমন কিছু থেকেও থাকে তবে সেটি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেও অত্যন্ত সুকৌশলে গোপন করা হয়েছে। বর্তমানে পেন্টাগন এসব রহস্যময় মহাজাগতিক ঘটনা বা আনআইডেন্টিফাইড অ্যারিয়াল ফেনোমেনা (ইউএপি) তদন্তে একটি বিশেষ কার্যালয় খুলেছে এবং মার্কিন কংগ্রেসও সরকারকে এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে আইনগতভাবে বাধ্য করছে।

সাবেক প্রেসিডেন্টের এই জোরালো দাবির সমান্তরালে বিজ্ঞান মহলেও ভিনগ্রহী প্রাণের সন্ধানে তৎপরতা বহুগুণ বেড়েছে। মহাবিশ্বের গভীর থেকে আসা সংকেত শনাক্ত করতে বিজ্ঞানীরা একটি বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে গত ২১ বছরের সংগৃহীত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এই দীর্ঘ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রায় ১২ বিলিয়ন সম্ভাব্য মহাজাগতিক সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। ২০২০ সালে পুয়ের্তো রিকোর বিখ্যাত আরেসিবো টেলিস্কোপটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ধসে পড়লেও সেটি অকেজো হওয়ার আগে যে বিশাল তথ্যভাণ্ডার রেখে গিয়েছিল, এখন তা-ই বিজ্ঞানীদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ১০০টি অত্যন্ত জোরালো ও সুনির্দিষ্ট সংকেত আলাদা করেছেন যা সাধারণ মহাজাগতিক গোলমালের চেয়ে ভিন্ন।

বর্তমানে এই রহস্যময় সংকেতগুলোর সত্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ চীনের 'ফাস্ট' (FAST) ব্যবহার করছেন। যদিও এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সুনির্দিষ্ট বা চূড়ান্ত কোনো প্রমাণ মেলেনি, তবুও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন 'স্বীকারোক্তি' এবং সংকেত বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীদের আধুনিক তৎপরতা বিশ্বজুড়ে নতুন করে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। পেন্টাগনের তদন্ত রিপোর্ট এবং বিজ্ঞানীদের এই বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ কি শেষ পর্যন্ত ভিনগ্রহীদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো পথ খুলে দেবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সাবেক প্রেসিডেন্টের এই খোলামেলা আলোচনা নিঃসন্দেহে এলিয়েন শিকারি ও বিজ্ঞানীদের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

/আশিক


এশিয়ার দুই দেশে রোজার ঘোষণা: চূড়ান্ত হলো পবিত্র রমজানের দিনক্ষণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৯:০০:৪৫
এশিয়ার দুই দেশে রোজার ঘোষণা: চূড়ান্ত হলো পবিত্র রমজানের দিনক্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান দেশ সিঙ্গাপুরে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় স্থানীয় ইসলামি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সিঙ্গাপুরের ইসলামিক রিলিজিয়াস কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী, জ্যোতির্বিদ্যা ও ধর্মীয় হিসাব-নিকাশ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশটির মুসলিম সম্প্রদায় রোজা পালন ও তারাবি নামাজ আদায় শুরু করবেন। প্রতি বছরের মতো এবারও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও ধর্মীয় রীতির সমন্বয়ে দেশটিতে রমজানের সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিঙ্গাপুরের প্রতিবেশী দেশ ব্রুনেই থেকেও একই ধরনের ঘোষণা এসেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটিতে চাঁদ দেখার নির্ধারিত সময়ে কোনো চাঁদ দেখা যায়নি বলে রাষ্ট্রীয়ভাবে জানানো হয়েছে। ব্রুনেইয়ের রাষ্ট্রীয় বেতার ও টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ ঘোষণায় শরিয়াহ হাইকোর্টের বিচারক ইয়াং আরিফ আওয়াং হাজি হাসান বিন হাজি মেতালি নিশ্চিত করেন যে, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকেই দেশটিতে পবিত্র রমজান শুরু হবে। ঐতিহ্যগতভাবে চাঁদ দেখার প্রক্রিয়া এবং জ্যোতির্বিদ্যা কর্তৃপক্ষের চুলচেরা বিশ্লেষণের পরই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

একই দিনে রমজান শুরু হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াও। দেশটির ইসলামি কর্তৃপক্ষ ও জ্যোতির্বিদ্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো জানিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়ায় রমজান শুরু হবে। ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রোজা শুরুর তারিখে ভিন্নতা দেখা দিচ্ছে। মূলত শাবান মাসের সমাপ্তি ও রমজানের আগমন নিশ্চিত করতে বিশ্বের দেশগুলো নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটি এবং জ্যোতির্বিদ্যার আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রমজান উদযাপনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। ইতিমধ্যে সেখানে শাবান মাসের শেষ দিনের চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও রমজান মাস শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। দেশটির আনুষ্ঠানিক চাঁদ দেখা কমিটি বর্তমানে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে আজ রাতের মধ্যেই রোজা শুরুর সঠিক তারিখ নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সাধারণত দেশভেদে চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে কোথাও ১৮ ফেব্রুয়ারি আবার কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের এই দেশগুলো একই দিনে সিয়াম সাধনা শুরু করতে যাচ্ছে।

/আশিক

সূত্র: গালফ নিউজ


৭ পাক সেনাকে আটক করে বিএলএ-র মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১১:২১:৪৭
৭ পাক সেনাকে আটক করে বিএলএ-র মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি
৭ পাকিস্তানি সেনা ‘কব্জায়’ আছে বলে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবি: এনডিটিভি

বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) দাবি করেছে যে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সাতজন সদস্য বর্তমানে তাদের কব্জায় রয়েছে। আটক এই সেনাদের মুক্তির বিনিময়ে গোষ্ঠীটি পাকিস্তান সরকারকে সাত দিনের একটি সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

বিএলএ-র গণমাধ্যম শাখা ‘হাক্কাল’ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি পাকিস্তান সরকার বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনায় না বসে, তবে আটককৃত সেনাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। আলটিমেটামের পাশাপাশি একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্ধারিত সময়ের আর মাত্র ছয় দিন বাকি আছে। তবে বিএলএ-র এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিচ্ছিন্নতাবাদী এই গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, তাদের পরিচালিত ‘হেরফ অভিযানের’ দ্বিতীয় পর্যায়ে এই পাকিস্তানি সেনাদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ১৭ জনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। তবে এর মধ্যে ১০ জন জাতিগতভাবে বালুচ এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, স্থানীয় পরিস্থিতি এবং বালুচ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনা করে ওই ১০ জনকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে বিএলএ-র হেফাজতে থাকা বাকি সাতজন সদস্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিয়মিত ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। বিএলএ-র ভাষ্যমতে, তাদের নিজস্ব ‘বালুচ ন্যাশনাল আদালতে’ এই সেনাদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, বলপূর্বক অন্তর্ধান বা গুম করার কাজে সহায়তা এবং বালুচ জনগোষ্ঠীর ওপর ‘গণহত্যা’ চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গোষ্ঠীটি আরও দাবি করেছে যে, বিচারে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিচারে সাত সেনাই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে এবং তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তারা পাকিস্তানকে বন্দি বিনিময়ের একটি সুযোগ দিচ্ছে। বিএলএ-র প্রস্তাব অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার যদি তাদের হেফাজতে থাকা বালুচ বন্দিদের মুক্তি দেয়, তবে বিনিময়ে এই সাত সেনাকে ফেরত দেওয়া হতে পারে। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিএলএ এ ধরনের প্রস্তাব দিলেও পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ কখনোই আলোচনায় বসেনি বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার বরাবরই তাদের নিজস্ব সেনাদের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

/আশিক


চিকেন্স নেকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ: উত্তর-পূর্বে ভারতের বড় কৌশলগত চাল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৭:২৮:২০
চিকেন্স নেকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ: উত্তর-পূর্বে ভারতের বড় কৌশলগত চাল
'চিকেন্স নেক' আর আসামে মাটির নিচে গভীর সুড়ঙ্গ বানাচ্ছে ভারত (সংগৃহীত ছবি)

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ সরু স্থলপথ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেন্স নেক’ নামে পরিচিত, সেখানে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর নিচ দিয়ে দীর্ঘ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পেও অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

শিলিগুড়ি করিডরে ৩৬ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ি হয়ে রাঙাপাণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব রেলের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত হলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। তবে কেন্দ্রীয় বাজেট-পরবর্তী সময়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রকাশ্যে প্রকল্পটির উল্লেখ করায় অনুমোদন এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।

গড়ে মাত্র ২০–২২ কিলোমিটার চওড়া এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলসংযোগ। পূর্বে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন, পশ্চিমে নেপাল ও ভুটানের সান্নিধ্যে থাকায় এলাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই পথ ব্যবহৃত হয়।

নতুন পরিকল্পনায় প্রায় ৩৫.৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান দুই লাইনের রেলপথ চার লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগও রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি রুপি।

বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বিহারের কিশানগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটি নতুন ঘাঁটি নির্মাণাধীন, যার পাশ দিয়েই যাবে এই প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গপথ। তৃতীয় ঘাঁটি তৈরি হচ্ছে আসামের ধুবড়িতে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভূগর্ভস্থ রেলপথ এমনভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সম্ভাব্য আক্রমণের মধ্যেও যোগাযোগ সচল রাখা যায়। মোটা কংক্রিট কাঠামোয় নির্মিত সুড়ঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণেও টিকে থাকতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার প্রবীর সান্যালের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। তার ভাষায়, সুড়ঙ্গ চালু হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা শত্রুপক্ষের জন্য কঠিন হবে।

কৌশল বিশ্লেষক প্রতিম রঞ্জন বসু বলেন, বর্তমানে ভারতের অবকাঠামো পরিকল্পনায় সামরিক প্রয়োজন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। চিকেন্স নেক দিয়ে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট কেবল, তেল ও গ্যাস পাইপলাইন যাওয়ায় মাটির ওপর নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ; তাই ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থা বেশি নিরাপদ।

ব্রহ্মপুত্রের নিচে ভারতের প্রথম রেল–সড়ক সুড়ঙ্গ

১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণে অনুমোদন দেয়।

সমান্তরাল দুটি সুড়ঙ্গের একটিতে চলবে ট্রেন এবং অন্যটিতে থাকবে চার লেনের সড়ক। এতে গোহপুর ও নুমালিগড় সরাসরি যুক্ত হবে। বর্তমানে এই দুই এলাকার মধ্যে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দূরত্ব ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

মোট ৩৩.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ ব্যবস্থার মধ্যে প্রায় ১৫.৭৯ কিলোমিটার অংশ থাকবে ব্রহ্মপুত্রের নিচ দিয়ে। সরকারি বিবৃতিতে একে ভারতের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ প্রকল্প বলা হয়েছে।

এই সংযোগের মাধ্যমে বিশ্বনাথ ঘাট ও তেজপুর যুক্ত হবে। পাশাপাশি তেজপুর ও অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। তেজপুরের ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি চীন সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ; সেখানে সুকই যুদ্ধবিমানের বহর রয়েছে। সম্প্রতি ঘাঁটি সম্প্রসারণে ৩৮৩ একর জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে।

সরকারের দাবি, ব্রহ্মপুত্রের নিচে রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণ কেবল কৌশলগত নয়, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


মাত্র ১৩ বছরের কিম জু অ্য হতে পারেন উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী প্রধান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১১:৩১:৫৮
মাত্র ১৩ বছরের কিম জু অ্য হতে পারেন উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী প্রধান
ছবি : সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে পারিবারিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, কিম জং উনের কিশোরী কন্যা কিম জু অ্যকে দেশের পরবর্তী নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করার প্রস্তুতি চলছে। এ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে তার প্রভাবশালী খালা কিম ইয়ো জং-এর সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) জানিয়েছে, আনুমানিক ১৩ বছর বয়সী কিম জু অ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উত্তর কোরিয়া এ মাসের শেষে তাদের বৃহত্তম রাজনৈতিক সম্মেলনের আয়োজন করছে। সেখানে কিম জং উন নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন এবং নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবেন।

এনআইএসের কর্মকর্তারা বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি কংগ্রেসে হাজারো প্রতিনিধির সামনে কিম জু অ্য তার বাবার সঙ্গে উপস্থিত হবে কি না, তা তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কিম জু অ্য প্রথমবার জনসমক্ষে আসেন ২০২২ সালের নভেম্বরে এক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায়। এরপর থেকে তিনি অস্ত্র পরীক্ষা, সামরিক কুচকাওয়াজ, কারখানা পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিতভাবে বাবার সঙ্গে দেখা দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর তিনি বেইজিং সফরে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে চীনের নেতার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।

আগে সিউলের কর্মকর্তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে, পুরুষ-প্রাধান্য ও রক্ষণশীল নেতৃত্বের দেশে কোনো মেয়েকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হবে কি না। তবে কিম জু অ্যের ঘন ঘন উপস্থিতি এই মূল্যায়নকে বদলে দিয়েছে। এনআইএস মনে করছে, চীনে নেওয়া সফর সম্ভাব্য উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং-কে। ৩৮ বছর বয়সী তিনি দেশটির দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত এবং শক্ত রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন রয়েছে। বর্তমানে তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটিতে জ্যেষ্ঠ পদে রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাহ জং ইল মনে করেন, কিম ইয়ো জং সুযোগ পেলে শীর্ষ পদ দখলের চেষ্টা করতে পারেন। তিনি বলেন, “নিজের রাজনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার কোনো কারণ তার নেই।”

কিম ইয়ো জং দেশে ও বিদেশে কঠোর ভাষণের জন্য পরিচিত। ২০২২ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, সিউল “প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসের সমান করুণ পরিণতি” ভোগ করতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক স্টিমসন সেন্টারের ওয়েবসাইট ৩৮নর্থ-এ সতর্ক করেছেন, কিম জং উনের হঠাৎ মৃত্যু হলে ক্ষমতার লড়াইয়ে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে কিম জু অ্য এবং তার দুই ভাইসহ অন্যান্য সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীরা এখনো খুবই অল্পবয়সী ও রাজনৈতিকভাবে অপ্রতিষ্ঠিত। কিম ইয়ো জং রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থনের কারণে তারাৎক্ষণিকভাবে অন্যদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সুবিধা রাখেন।

উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে অভ্যন্তরীণ নির্মম শুদ্ধি অভিযানও ঘটেছে। ২০১১ সালে কিম জং উন তার চাচা ও পরামর্শদাতা জ্যাং সং থেককে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০১৭ সালে তার সৎভাই কিম জং নাওকেও মালয়েশিয়ায় হত্যা করা হয়।

আজ উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে বিবেচিত। ২০২৪ সালের জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী দেশটির কাছে প্রায় ৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, এবং আরও ৭০–৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মতো পদার্থ মজুত আছে। পাশাপাশি দেশটির রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র কর্মসূচি উন্নত অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি


জন্মহার কমায় রোবটনির্ভর উৎপাদনে ঝুঁকছে চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১১:১১:২৫
জন্মহার কমায় রোবটনির্ভর উৎপাদনে ঝুঁকছে চীন
ছবি : সংগৃহীত

জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমে আসা এবং কর্মক্ষম জনশক্তি সংকুচিত হওয়ায় চীন এখন উৎপাদন খাতে রোবট ও অটোমেশনের ওপর দ্রুত নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দেশটি এখন প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে।

বিয়ে সহজ করা, নগদ সহায়তা বা কর ছাড়ের মতো বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়েও জন্মহার বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবতায় শি জিনপিং প্রশাসন শিল্পখাতে রোবট ব্যবহারের গতি বাড়িয়েছে। লক্ষ্য—কম কর্মী দিয়েও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা এবং অর্থনীতির গতি সচল রাখা।

জনসংখ্যাগত এই পরিবর্তন চীনের পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক উৎপাদন কাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো শ্রমনির্ভর মডেলে স্থির থাকলে পরিস্থিতি বড় অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের কার্যকর প্রয়োগ সেই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে।

Hong Kong University of Science and Technology–এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোবোটিক্স ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে কম শ্রমশক্তি নিয়েও শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব।

বর্তমানে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিল্প রোবট বাজার। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী যত শিল্প রোবট স্থাপন করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি বসানো হয়েছে চীনে। অনেক কারখানায় এখন মানুষের বদলে রোবোটিক বাহু দিয়ে ওয়েল্ডিং, রং করা ও যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর কাজ চলছে। এমনকি ‘ডার্ক ফ্যাক্টরি’ ধারণাও জনপ্রিয় হচ্ছে—যেখানে মানুষের উপস্থিতি প্রয়োজন না হওয়ায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলো পর্যন্ত জ্বালানো হয় না।

উচ্চমাত্রার অটোমেশনের ফলে চীন কম খরচে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সোলার প্যানেল তৈরি করে বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে পারছে। এতে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় দেশটি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

শিল্প রোবটের পাশাপাশি মানবসদৃশ বা হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে চীন। সরকারি সহায়তা নিয়ে দেশটির ১৪০টির বেশি কোম্পানি এই খাতে কাজ করছে। তবে ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশে দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তর স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থানে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিবর্তন সামাল দেওয়া বেইজিংয়ের জন্য বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে চীন জনসংখ্যাগত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না।

সূত্র: সিএনএন


বুধবার না কি বৃহস্পতিবার থেকে রোজা? সৌদিতে চাঁদ দেখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ০৯:৩৫:৪১
বুধবার না কি বৃহস্পতিবার থেকে রোজা? সৌদিতে চাঁদ দেখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এ লক্ষ্যে হিজরি ১৪৪৭ সালের পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখার জন্য দেশটির নাগরিকদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়েছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। আজ সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে যে, আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হিজরি ২৯ শাবান তারিখে রমজানের চাঁদ পর্যবেক্ষণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট এই আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদি সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যদি রমজানের চাঁদ দেখা যায়, তবে পরদিন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। তবে যদি ওইদিন কোথাও চাঁদ দেখা না যায়, তবে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে এবং সে ক্ষেত্রে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশটিতে প্রথম রোজা শুরু হবে। বিবৃতিতে আরও অনুরোধ করা হয়েছে যে, দেশের কোথাও কেউ যদি খালি চোখে বা দূরবীনের মাধ্যমে চাঁদ দেখতে পান, তবে তারা যেন অতিদ্রুত নিকটস্থ আদালতে গিয়ে তাঁদের সাক্ষ্য নথিভুক্ত করেন।

তবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, এবার শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও মিসর অঞ্চলে চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব হবে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এদিন চাঁদ সূর্যের আগেই অস্ত যাবে এবং সূর্য ও চাঁদের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব ‘ড্যানজন সীমার’ নিচে থাকবে। ফলে খালি চোখে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বললেই চলে।

এই কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ যারা সরাসরি চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান শুরু করে, তাদের জন্য বৃহস্পতিবারই রমজানের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য, যা আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জানা যাবে।

/আশিক


কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১১:৪৭:২২
কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পিটিআই সমর্থকদের জোরালো দাবির মুখে পাকিস্তান সরকার এই ঘোষণা দেয়। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, ইমরান খান সম্প্রতি তাঁর দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলছিলেন, কিন্তু উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর সমর্থকরা পার্লামেন্টের বাইরে বড় ধরনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার নিশ্চিত করেছেন যে, ইমরান খানের চোখের সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁকে বিশেষায়িত হাসপাতালে পরীক্ষা করবেন। তাঁর চিকিৎসার সব আপডেট বিস্তারিতভাবে সুপ্রিম কোর্টেও জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছেন, একজন কারাবন্দি হিসেবে ইমরান খানকে মানবাধিকার অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হবে এবং দ্রুতই তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।

/আশিক


হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা: দক্ষিণ লেবাননে তুমুল উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ০৯:৩৪:৫৭
হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা: দক্ষিণ লেবাননে তুমুল উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার দক্ষিণ লেবাননের বেসলায়া, হুমিন আল-তাহতা ও দেইর আল-জাহরানসহ বেশ কিছু এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বিশেষ করে মেইস আল-জাবাল এলাকায় একটি ইসরায়েলি ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোনের আঘাতে একটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এই হামলার সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে মার্কিন মধ্যস্থতায় সাময়িক অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান থামেনি। ইউএনআইএফআইএল (UNIFIL)-এর শান্তিরক্ষী সদস্যরা জানিয়েছেন, চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ১০ হাজারেরও বেশিবার যুদ্ধবিরতির নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৩৪০ জন নিহত এবং ৯৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।

শান্তি চুক্তির তোয়াক্কা না করে বেইরুতের দক্ষিণাঞ্চল ও বাকা উপত্যকায় নিয়মিত ইসরায়েলি ড্রোন ও বিমান হামলা চলমান থাকায় পুরো অঞ্চলে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লেবানন সরকার এখনো এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই ইসরায়েল তাদের ‘টার্গেটেড অপারেশন’ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: