সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে শপথ গ্রহণ করলেও এখনই 'সংবিধান সংস্কার পরিষদে'র সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির কেউ শপথ নেয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো বিধান বা প্রক্রিয়া এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া বিএনপির কোনো সদস্য এই পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিতও হননি বলে তিনি জানান।
সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় অনুযায়ী যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হয়, তবে সেটিকে প্রথমে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে এই পরিষদের সদস্যদের কে বা কারা শপথ বাক্য পাঠ করাবেন, সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান তৈরি করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো শপথে তারা অংশ নেবেন না এবং বিএনপি সব সময় সংবিধান মেনেই রাজনীতি করে আসছে।
উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যা দলটির জন্য ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণের এক অনন্য মাইলফলক।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের দায়িত্ব নেওয়া প্রায় নিশ্চিত। একদিকে নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় এবং অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে দেশের সংসদীয় রাজনীতি এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে বিএনপির এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
বর্তমান সরকারকে বিগত ফ্যাসিবাদের আয়না বলে জি এম কাদেরের কড়া সমালোচনা
বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের দেখানো পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন এবং বৈষম্য কমেনি, বরং আরও তীব্র হয়েছে। সরকার যদি দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশে আবারও বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ এর পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘‘শক্তিশালী জনমতের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করতে না পারলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।’’
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী যে গণঅভ্যুত্থান দেখেছিলাম, সেই চেতনার প্রতিফলন এখনকার রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখছি না। বরং জুলাইয়ের চেতনার নামে এখন নতুন করে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তাঘাটে হেনস্তা করা, হাটে-বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।’’
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার চলমান ইস্যু নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বাদ দেওয়া বা দমন করলেই দেশে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আসবে না। বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে, যার দায়ভার এই সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
দেশের যুবসমাজের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, তরুণ সমাজ আজ ব্যাপকভাবে হতাশাগ্রস্ত। তাদের সামনে কর্মসংস্থান ও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ না থাকায় তারা মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
/আশিক
স্থানীয় নির্বাচনে একক পথে হাঁটতে চায় এনসিপি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এককভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় গড়ে ওঠা তরুণদের এই দলটি স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি বিস্তারের কৌশল হিসেবে জোটের বদলে নিজস্ব প্রতীকে ও নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন করার পথে এগোচ্ছে। দলটির ওয়েবসাইটেও নিজেদের জুলাই ২০২৪ অভ্যুত্থান-উদ্ভূত ছাত্রনেতৃত্বাধীন দল হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এনসিপির অবস্থান হলো এককভাবে নির্বাচন করা। তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা, সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাই এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে। এর আগে জুন মাসেও তিনি বলেন, এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রত্যেক স্তরে অংশগ্রহণের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচনে জোটগত সমীকরণ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি ও জামায়াত এখন পর্যন্ত আলাদা পথে হাঁটছে। দল দুটি পৃথকভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করায় ১১ দলীয় জোটের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতা বা সীমিত ঐক্যের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
এনসিপি নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় বাস্তব শক্তি যাচাইয়ের বড় সুযোগ। জাতীয় পর্যায়ের জোট রাজনীতির বাইরে গিয়ে ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি দেখাতে চায় দলটি। তাদের ধারণা, একক নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের ফল যাই হোক, প্রতিটি ইউনিটে কর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। পাঁচ সিটিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি সিটিগুলোতেও প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি উপজেলা ও পৌরসভায় শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত পদ্ধতি অনুসরণ করছে দলটি। সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এনসিপির ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন দল থেকে সরে আসা বা বহিষ্কৃত কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাও এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আসতে পারে।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ঘিরে এনসিপি ও জামায়াতের সম্পর্ক নতুন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের ভেতরে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার আলোচনা আছে। ফলে একই রাজনৈতিক বলয়ের তরুণ দুই মুখকে কেন্দ্র করে ভোটের সমীকরণ জটিল হতে পারে।
ঢাকা উত্তর সিটিতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং কুমিল্লা সিটিতে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার কথা দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে এনসিপি প্রার্থী তারিকুল ইসলাম স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। তার ভাষায়, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিটি ইউনিটে এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হবে এবং তরুণ নেতৃত্ব স্থানীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
তবে দলের ভেতরেও একক বনাম জোটগত নির্বাচন নিয়ে মতভেদ আছে। একাংশ মনে করছে, জাতীয় রাজনীতিতে জোট থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়াই দলীয় পরিচয় স্পষ্ট করবে। অন্য অংশের আশঙ্কা, মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একা লড়াই করলে ফল প্রত্যাশিত নাও হতে পারে। আবার কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতা জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অস্বস্তিও প্রকাশ করেছেন।
-রফিক
আপনার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম: মনিকে ট্যাগ করে ছাত্রদল সভাপতি
বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নিলোফার চৌধুরী মনির একটি টকশোতে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে ‘অযাচিত’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কঠোর ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রদল সভাপতি নিলোফার চৌধুরী মনির বক্তব্যকে ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ করার ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদল সভাপতি রাকিব লেখেন, ‘‘প্রিয় নিলোফার চৌধুরী মনি আপা, এমপি, আপনি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সারথি ছিলেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু গতকাল টকশোতে জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম।’’
এমপি নিলোফার চৌধুরী মনিকে ভবিষ্যতে এই জাতীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাকিবুল ইসলাম তাঁর পোস্টে আরও যোগ করেন, ‘‘আমরা অবগত রয়েছি, আপনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণকারী একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। সেহেতু জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্যে আপনি আরও বেশি সংযত ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন, সেই প্রত্যাশা করি।’’
বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের সংবেদনশীল ইতিহাস নিয়ে বিএনপিরই একজন শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রীর মুখে এমন মন্তব্যে ছাত্রদল সভাপতির এই প্রকাশ্য কড়া অবস্থান দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
গণভোটের রায় অমান্য করে সংশোধনের পথে সরকার, রাজপথে নামছে জামায়াত
সংবিধান সংস্কার নিয়ে ঐতিহাসিক গণভোটের রায়কে তোয়াক্কা না করে সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় বিরোধী দল রাজপথে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান। শফিকুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, বর্তমান সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের কথা বলার বা পর্যাপ্ত আলোচনার ন্যূনতম সুযোগ না থাকায় জনগণের মৌলিক দাবিকে সামনে রেখে তারা রাজপথের কঠোর কর্মসূচি বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের বিষয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্ট ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শুধু সিপিবি ব্যতীত সংলাপে অংশ নেওয়া অন্য সব দল এই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিল এবং পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পরও বর্তমান সরকার এখন সংবিধানের মৌলিক ‘সংস্কার’ করার পরিবর্তে পুরোনো কায়দায় কেবল ‘সংশোধনের’ দিকে হাঁটছে। আর এই উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যেই তারা সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের বিতর্কিত প্রস্তাব পাস করেছে।
সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করার অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘সংসদ যেহেতু আমাদের কথা বলার সুযোগ দিল না, তাই এখন আমরা সরাসরি ‘জনগণের পার্লামেন্টে’ চলে যাব।’’ তিনি আরও যোগ করেন, সংসদে কথা বলতে গেলে স্পিকারের অনুমতির বাধ্যবাধকতা থাকে, কিন্তু জনগণের পার্লামেন্টে বা রাজপথে কথা বলতে জনগণের কোনো অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। বিরোধী দল জনদাবি নিয়ে সবসময় জনগণের সাথেই রয়েছে এবং গণভোটে প্রতিফলিত জনগণের রায় বাস্তবায়নে তারা শেষ পর্যন্ত অনড় থাকবে।
সরকার কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটির তীব্র বিরোধিতা করে জামায়াত আমির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে ‘সংস্কারের’ জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে, কোনো জোড়াতালির ‘সংশোধনের’ জন্য নয়। তাই বিশেষ কমিটির পরিবর্তে পূর্বঘোষিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবিতে বিরোধী দল এখনও অটল। তবে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশে টেকসই ও সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেন বিরোধীদলীয় নেতা। একই সাথে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, যদি এবারও সঠিক ও কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা না যায়, তবে এই দেশ বারবার পথ হারাবে এবং সংকটের মুখে পড়বে।
জামায়াতের সংসদীয় দলের উদ্যোগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
পার পিস ৫০ টাকা: জুলাইযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে উমামা ফাতেমার রহস্যময় পোস্ট
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি রহস্যময় ও চরম ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে তিনি ‘জুলাইযোদ্ধা সার্টিফিকেট’ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে উমামা কিছুটা উপহাসের সুরে লেখেন, ‘‘জুলাইয়ের এই এক মাস জুলাই সবার থাকবে, ঠিকাছে?’’
এর পরপরই তিনি চলমান পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে আরও লেখেন, ‘‘১ মাস পর থেকে জুলাই আমার সম্পত্তি। আমি সবাইকে জুলাইযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেব, পার পিস ৫০ টাকা। ভোট করার সময় সার্টিফিকেট প্রাপ্তদের সঙ্গে জোট করব। দারুণ সব টাইটেল হবে, লেটস সে— ‘জুলাইয়ের ফিনিক্স পাখি’, ‘জুলাইয়ের আবাবিল পাখি’, ‘জুলাইয়ের ইমাম’, ‘জুলাইয়ের মাস্টারমাইন্ড’।’’
নিজের এই অভিনব প্রস্তাবের পর অনুসারীদের মতামত জানতে চেয়ে পোস্টের শেষদিকে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘‘কেমন লাগল আইডিয়াটা?’’
ব্যঙ্গাত্মক ও রূপক ভাষায় দেওয়া এই পোস্টে উমামা ফাতেমা ঠিক কাকে বা কোন পক্ষকে উদ্দেশ করে এমন তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেছেন, কিংবা এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কী প্রেক্ষাপট কাজ করছে, সে বিষয়ে তাঁর পোস্টে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
উমামার এই স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর থেকেই নেটদুনিয়ায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারী ও রাজনৈতিক সচেতন মহল থেকে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব নেওয়ার চলমান রাজনৈতিক ইঁদুর-দৌড় এবং ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা উপাধি ধারণের সস্তা প্রতিযোগিতার প্রতি এক চিলতে কড়া বাস্তবসম্মত ব্যঙ্গ (স্যাটায়ার) হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকেই এই পোস্টের অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক বার্তা ও আগামী দিনের জোট গঠনের সমীকরণ নিয়ে নিজস্ব ঢঙে নানা ব্যাখ্যা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ দাঁড় করাচ্ছেন।
/আশিক
আমরা সরকারি সুবিধা না নেওয়ার চেষ্টা করব, তবে কেউ নিলে অপরাধ নয়: জামায়াত আমির
বিনা ট্যাক্সের গাড়ি না কেনা এবং সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফ্ল্যাট ব্যবহারে কোনো অপরাধ বা প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত বাজেট পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে বলেছিলাম, সরকারি সুযোগ-সুবিধা যতটা না নিলে না হয় আমরা চেষ্টা করব। কিন্তু কেউ যদি এটা নিতে চায়, এখানে কোনো অপরাধ নাই। তবে আমরা সেটা রক্ষা করে চলার চেষ্টা করছি।’
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে ওয়াদা করেছিলাম, আমাদের কেউ নির্বাচিত হলে—এমপি হোক, মন্ত্রী হোক, যাই হোক—আমরা বিনা ট্যাক্সের গাড়ি কিনব না। সরকারি কোনো প্লটের সুবিধা নেব না। কিছু বন্ধু ওই গুড়ের সঙ্গে কিছু লবণ না ছিটাইলে আরাম পায় না।’
সরকারি ফ্ল্যাট নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা যা বলেছি স্পষ্ট বলেছি, অস্পষ্ট কোনো কথা বলিনি। এখানে লাগায়ে দিছে ফ্ল্যাট নেব না। এখন সরকারি ফ্ল্যাট এমপিদের জন্য ডেজিগনেটেড। এটা সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য। এটা কি সরকার আমাকে দিয়ে দিচ্ছে নাকি? ওইটা যত সময় সংসদ কার্যকর থাকবে, তত সময় উনি এটা ব্যবহার করবেন। সরকারি দল, বিরোধীদল সবাই ব্যবহার করবে। যখন সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে, তখন আর কেউ এক সেকেন্ড এখানে থাকার কোনো নৈতিক এবং বৈধ অধিকার নাই, ছেড়ে দিতে হবে। এটাকে নিয়ে আবার বিভিন্ন ধরনের জল ঘোলা করা হয়।’
/আশিক
ইরান সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে তেহরান যাচ্ছে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধিদল
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির বিদায়, জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আগামী ৩ জুলাই প্রতিনিধিদলটি ঢাকা ত্যাগ করবে এবং ৯ জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করবে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে দলটির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি’র নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি এবং ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। এই সফরকালে প্রতিনিধিদলটি ইরানের বর্তমান সরকার, নতুন নেতৃত্ব এবং শোকাহত জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা, শোক ও সংহতি প্রকাশ করবে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জামায়াত নেতারা দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এই বিশেষ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ইরানের সাধারণ জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক রাজনৈতিক বোঝাপড়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও সুদৃঢ় হবে। একই সাথে, এমন একটি আন্তর্জাতিক ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ইরান সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে দলটি।
/আশিক
নাহিদ ইসলাম কোনো ব্যক্তি নয়, একটি ইতিহাস: ড. ইউনূস
সাভারে ইউনূস সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত ১৬তম ‘সোশ্যাল বিজনেস ডে’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দুই দিনব্যাপী চলা এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মঞ্চে তার আগমন এবং তাকে বিশ্ববাসীর সামনে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক আবেগঘন মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘নাহিদ ইসলাম কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি নিজেই একটি আস্ত ইতিহাস।’
রোববার (২৮ জুন) বর্ণাঢ্য এই সম্মেলনের সমাপনী দিনে নাহিদ ইসলাম অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মঞ্চ আলো করেন। এর আগে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন ইউনূস সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈশ্বিক এই আয়োজনে বিশ্বের ৩৭টি ভিন্ন দেশ থেকে মোট ২১৯ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও চিন্তাবিদ অংশ নেন, যাদের সামনে বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের সাহসিকতার গল্প তুলে ধরা হয়।
নাহিদ ইসলামকে উপস্থিত সুধীজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ড. ইউনূস অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের মাঝে আজ এখানে যোগ দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। সে কোনো সাধারণ ব্যক্তি নয়, সে একটি জীবন্ত ইতিহাস। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করা মাত্র একজন ছাত্র একটি প্রতাপশালী সরকারের পতন ঘটিয়ে ছেড়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের সেনাবাহিনী, পুলিশ কিংবা আধাসামরিক বাহিনীর মতো বড় বড় শক্তিও সেই স্বৈরাচারী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি। সেই রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, আর সেই পুরো গণ-অভ্যুত্থানের সামনে থেকে বুক চিতিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিল এই তরুণ নাহিদ ইসলাম।’
আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নিজের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তরুণ রাজনৈতিক নেতা নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসের বৈশ্বিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড. ইউনূসের উদ্ভাবিত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং সামাজিক ব্যবসার অনন্য ধারণা আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও পরিচিত। তিনি আরও যোগ করেন, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ যখন এক চরম নেতৃত্বহীনতা ও সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তরুণদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের হাল ধরতে সম্মত হন ড. ইউনূস। তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেশের কোটি তরুণকে সংকটের দিনে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
বক্তব্যের শেষ অংশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নাহিদ ইসলামের পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন সরকার গঠনের সময় নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেই সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারের নীতিগত অবস্থান থেকে পদত্যাগ করে সরাসরি দেশের মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’ নামক নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ড. ইউনূস অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে জানান যে, দেশের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন দলটি ছয়টি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করেছে এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদে তাদের দলের সংরক্ষিত আসনে দুজন নারী সংসদ সদস্যও প্রতিনিধিত্ব করছেন।
/আশিক
বাংলাদেশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে ভারত: চরমোনাই পীর
বাংলাদেশের সাথে ভারত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ‘পুশইন’ করার মাধ্যমে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সমাপনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর তাঁর বক্তব্যে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে তারা দেশবাসীকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে এখন তারা ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের মধ্যে কোনো ধরনের সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বর্তমান জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলও জনগণের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকারকে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যদি জনকল্যাণে কোনো ভালো কাজ করে, তবে ইসলামী আন্দোলন সবসময় তাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, যদি বিগত স্বৈরাচারী আমলের মতো করে আবারও দেশ চালাতে চাওয়া হয়, তবে আমরা দেশবাসীকে সাথে নিয়ে রাজপথে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হব। উক্ত সমাপনী অধিবেশনে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদসহ কেন্দ্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের নতুন দায়িত্বশীলদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়; যেখানে সংগঠনটির নতুন মহাসচিব হিসেবে মনোনীত হন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- দাফন চলাকালীন হামলার চেষ্টা হলে আমেরিকা-ইসরায়েলকে ধ্বংস করার হুমকি তেহরানের
- ইতিহাসে আর্জেন্টিনার জন্য সুখবর, ব্রাজিল শিবিরে তাড়া করছে জয়হীন দুঃসংবাদ
- ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যৌথ হুমকি: আইনমন্ত্রী
- জাতিসংঘের অকাট্য প্রমাণের পরও গাজা গণহত্যা আর কতদিন চেপে রাখবে পশ্চিমা বিশ্ব ?
- খামেনিকে শেষ বিদায় দিতে প্রার্থনাকক্ষের বাইরে রাতভর অবস্থান হাজারো ইরানির
- মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের এক সিদ্ধান্তেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে বড় ধসের শঙ্কা
- ট্রাম্পের ‘বাস্তববাদী নেতৃত্ব’ ও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
- নরওয়ে ম্যাচের আগে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে কার্লো আনচেলত্তির মেগা আপডেট
- গোল উদযাপনে মাঠ ছেড়ে সোজা গ্যালারির দিকে দৌড়, কে এই নারী যাকে জড়িয়ে ধরলেন ক্যাব্রাল
- ৪০ বছরের বুড়ো হাড়ে মেসির আক্রমণ ঠেকিয়ে দেওয়া ভোজিনিয়ার অবিশ্বাস্য রূপকথা
- আমরা দয়ালু বলেই খামেনির দাফনের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি: ট্রাম্প
- ভঙ্গুর অর্থনীতি মেরামতের মাঝেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মেগা লক্ষ্যের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- ঘণ্টায় ২৭৮ কিমি গতির সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ধেয়ে আসার পূর্বাভাস
- স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির শাস্তি বদলি নয়, সরাসরি চাকরিচ্যুতির নতুন নিয়ম মন্ত্রীর
- বর্তমান সরকারকে বিগত ফ্যাসিবাদের আয়না বলে জি এম কাদেরের কড়া সমালোচনা
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- দেশে ৯০ দিনের তেল মজুত, বড় পরিকল্পনা সরকারের
- ডেঙ্গু শনাক্তে কোন পরীক্ষা কখন করবেন? পূর্ণ গাইড
- ৯ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কতা, ১ নম্বর সংকেত
- ১ আগস্ট থেকে অনলাইনে বয়স্ক-প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন, জানুন নিয়ম
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আজ দুই মহারণ, আজকের জমজমাট ক্রীড়া সূচি জেনে নিন
- নরওয়ের বিপক্ষে কি একাদশে ফিরছেন নেইমার?
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জেনে নিন
- শনিবারের মার্কেট বন্ধের তালিকা প্রকাশ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- জীর্ণ ও ছেঁড়া আল-কোরআন অপসারণের শরিয়তসম্মত বিধান: অবমাননা রোধে কী করণীয়?
- জুলাই-আগস্টে বড় বন্যার শঙ্কা, সতর্ক এফএফডব্লিউসি
- খামেনির ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে থাকছে যেসব আনুষ্ঠানিকতা
- ২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার
- যে ৮ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কবার্তা
- স্থানীয় নির্বাচনে একক পথে হাঁটতে চায় এনসিপি
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- পে স্কেলের গেজেট কবে? যা জানা গেল
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- আজকের খেলার সূচি, মাঠে নামছে মেসির আর্জেন্টিনা
- আজ শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ
- আজ শুক্রবারের নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন
- শীর্ষ দলগুলোর ওলটপালট, বিশ্বকাপের মাঝেই সিংহাসন হারাল আর্জেন্টিনা
- ২০০৬ সালের পুরোনো আইন ভেঙে নতুন ‘ভিসানীতি-২০২৬’ অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা
- ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় নানিয়ারচর সেনা জোনের আর্থিক সহায়তা প্রদান
- কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসি শুরু আজ: পরীক্ষার্থী ৯৫ হাজার ৭০২ জন
- দিবাগত রাত ১টার মধ্যেই ১৪ অঞ্চলে ঝড়ের তণ্ডব ও সতর্কসংকেত জারি
- নতুন নেতার অধীনেই ওয়াশিংটনকে রুখতে তেহরানের রণপ্রস্তুতি
- তীব্র লোডশেডিংয়ের মাঝেই বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন পদক্ষেপ
- সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা? জেনে নিন সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- ২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা








