সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমেদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১১:২৯:৫৬
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমেদ
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে শপথ গ্রহণ করলেও এখনই 'সংবিধান সংস্কার পরিষদে'র সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির কেউ শপথ নেয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো বিধান বা প্রক্রিয়া এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া বিএনপির কোনো সদস্য এই পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিতও হননি বলে তিনি জানান।

সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় অনুযায়ী যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হয়, তবে সেটিকে প্রথমে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে এই পরিষদের সদস্যদের কে বা কারা শপথ বাক্য পাঠ করাবেন, সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান তৈরি করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো শপথে তারা অংশ নেবেন না এবং বিএনপি সব সময় সংবিধান মেনেই রাজনীতি করে আসছে।

উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যা দলটির জন্য ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণের এক অনন্য মাইলফলক।

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের দায়িত্ব নেওয়া প্রায় নিশ্চিত। একদিকে নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় এবং অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে দেশের সংসদীয় রাজনীতি এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে বিএনপির এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই: সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ২২:১১:৪০
আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই: সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, সংবিধান সংস্কারের চূড়ান্ত রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটায় এখন আন্দোলনের পথই তাদের একমাত্র বিকল্প। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ সংক্রান্ত নোটিশের ওপর দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুশিয়ারি দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সংসদের ভেতরেই সমাধান চেয়েছিলাম এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্পিকার ও সরকারি দল তা গ্রহণ না করে জনগণের অভিপ্রায়কে অবমূল্যায়ন করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের তিনটি গণভোটে জনগণের রায় যথাযথভাবে গ্রহণ করা হলেও এবার সরকারি ও বিরোধী দল একমত থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষিত হয়েছে।

এই অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তারা সংসদ ‘গিভ আপ’ করেননি, বরং জনগণের দাবি আদায়ে সংসদের অংশ হিসেবেই লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা আরও জানান, জামায়াতসহ ১১টি দল দ্রুত বৈঠকে বসে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণ করবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এই আন্দোলন কোনো দল বা ব্যক্তির স্বার্থে নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক চরিত্র রক্ষা ও প্রকৃত সংবিধান সংস্কারের স্বার্থে।”

এর আগে সংসদে আলোচনার পর স্পিকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দল ওয়াকআউট করলে স্পিকার জানান, একটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে এবং সেখানে তারা তাদের উত্তর পাবেন। তবে বিরোধী দল সেই আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

/আশিক


সংখ্যাগরিষ্ঠরা ভণ্ডামি করছে: সংসদ ছেড়ে ফেসবুকে বিস্ফোরক হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ২১:১৮:৫৮
সংখ্যাগরিষ্ঠরা ভণ্ডামি করছে: সংসদ ছেড়ে ফেসবুকে বিস্ফোরক হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় এবং প্রস্তাব নিয়ে সৃষ্ট টানাপোড়েনের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবটি 'চাপা দেওয়ার' অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলো তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে। এর পরপরই কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি সরাসরি অভিযোগ করে লেখেন, ‘Hypocrisy by Majority- where truth and pretension are infused.’ অর্থাৎ, সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভণ্ডামিতে সত্য এবং ছদ্মবেশ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ এখানে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ বলতে সংসদে থাকা সরকারি দল বা ট্রেজারি বেঞ্চকেই ইঙ্গিত করেছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বিরোধী শিবিরের এই ক্ষোভ সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির এই ওয়াকআউট এবং পরবর্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।

/আশিক


মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিবারের রক্ত আছে: সংসদে আবেগঘন জামায়াতের আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ২০:০৭:৫৮
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিবারের রক্ত আছে: সংসদে আবেগঘন জামায়াতের আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান | ছবি : সংগ্রহীত

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের একটি মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি নিজেকে 'শহীদ পরিবারের সন্তান' হিসেবে দাবি করেছেন। মূলত গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করতে গিয়ে তিনি এই ব্যক্তিগত পরিচয় তুলে ধরেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও মানুষের পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। স্পিকারকে সম্বোধন করে তিনি বলেন, "আপনি একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর বিক্রম। আমিও ক্ষুদ্র একটি শহীদ পরিবারের সন্তান।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, তার পরিবারের সদস্যদের রক্তও সেই তালিকায় মিশে আছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজেকে শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও, জাতীয় সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে এবারই প্রথম এমন দাবি করলেন তিনি। তার এই বক্তব্য সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, কারণ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতার মুখ থেকে এ ধরনের পারিবারিক পরিচয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

/আশিক


নিয়ম সবসময় শাসকের অনুসারী: হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ২১:৫৩:৫৫
নিয়ম সবসময় শাসকের অনুসারী: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিয়মের জটিলতা ও সংসদীয় মারপ্যাঁচে পড়া নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিয়মের বেড়াজালে কখনো কখনো যেমন স্পিকারকে আটকে দেওয়া হয়, তেমনি সংসদ সদস্যদেরও নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, নিয়ম সবসময় শাসকদের অনুকূলে চলে; যখন তা পক্ষে থাকে তখন তাকে নিয়ম বলা হয়, আর বিপক্ষে গেলে তাকে প্রথা বা ‘কাস্টম’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। সাংবিধানিক ও অসাংবিধানিক যুক্তির মারপ্যাঁচে সংসদ বর্তমানে ঘুরপাক খাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার নির্বাচনী এলাকা দেবীদ্বারের ১ লাখ ৭২ হাজার ভোটারের আস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এলাকার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেবীদ্বার থেকে চান্দিনা পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির প্রস্থ মাত্র ১২ ফুট। সংকীর্ণ হওয়ার কারণে এই রাস্তায় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা একসঙ্গে পার হতেও প্রচণ্ড সমস্যায় পড়ে। সড়কটি ওই এলাকার ১১টি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, এই সড়কটি প্রশস্ত করা গেলে ওই অঞ্চলের ইউনিয়নগুলোতে শিল্প-কারখানা ও কোল্ড স্টোরেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা স্থানীয়দের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত এই সড়কটি উন্নত করা হলে কুমিল্লা, ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমে আসবে। সার্বিক অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে ১২ ফুটের এই সংকীর্ণ সড়কটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়েতে রূপান্তরের জন্য তিনি স্পিকারের মাধ্যমে জোরালো আবেদন জানান।

/আশিক


সংসদ কি তার প্রেক্ষাপট ভুলে যাচ্ছে? অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের কড়া সমালোচনা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ২০:০৩:৪৮
সংসদ কি তার প্রেক্ষাপট ভুলে যাচ্ছে? অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের কড়া সমালোচনা
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বর্তমান কার্যক্রমে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোট’-এর আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন নেই বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সংসদটি যে বিশেষ প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছে, সেই ইতিহাস যেন সবাই ভুলে যেতে বসেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমান সংসদের দৈনন্দিন কার্যক্রম দেখলে মনে হয় তেমন কিছুই ঘটেনি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ দাবি করেন, সংসদের নিয়মিত ও সাধারণ সব কার্যক্রমের চেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে ‘গণভোট’ এবং ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ আদেশের ওপর আলোচনার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, এই বিষয়টি অন্য যেকোনো জাতীয় ইস্যুর তুলনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের দাবি রাখে এবং দ্রুত এর একটি যৌক্তিক সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। এই বিষয়গুলোর যথাযথ সমাধান নিশ্চিত করার পরই সংসদের রুটিনমাফিক কাজগুলো পরিচালনা করা সংগত হবে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম জানান যে, সংসদীয় বিধি মোতাবেক বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর আগে আলোচনা শুরু করা হোক। হাউসের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এই নোটিশটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হোক।

/আশিক


সংসদে ইনসাফ থাকলে দেশজুড়ে ন্যায়বিচার সম্ভব: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১৭:৩০:২০
সংসদে ইনসাফ থাকলে দেশজুড়ে ন্যায়বিচার সম্ভব: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ যদি ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তবে পুরো দেশেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি সংসদকে দেশের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান ডেপুটি স্পিকারের নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “এই চেয়ারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইনসাফের একটি চেয়ার। আপনি যে নিরপেক্ষতার বার্তা দিয়েছেন এবং যার যা পাওনা তাকে সেভাবে দেওয়ার কথা বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ ঠিক এটাই কামনা করে।” তিনি ডেপুটি স্পিকারকে আশ্বস্ত করে জানান, সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর নেওয়া সকল সংগত পদক্ষেপে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

ডেপুটি স্পিকারের বিনয়ী আহ্বানের প্রতিধ্বনি তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক এবং দায়িত্ব পালনকালে কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তা নির্দ্বিধায় ও নিঃসঙ্কোচে শুধরে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে বিরোধী দল। তিনি বিশ্বাস করেন, ইনসাফের ভিত্তিতে সংসদ পরিচালনা করতে পারলে দেশের প্রতিটি স্তরেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পরিশেষে, তিনি ডেপুটি স্পিকারের সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা করে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

/আশিক


তারেক রহমানকে মাইনাস করার নীল নকশা দিয়েছিল এজেন্সিগুলো: আসিফ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১৯:১২:৫৩
তারেক রহমানকে মাইনাস করার নীল নকশা দিয়েছিল এজেন্সিগুলো: আসিফ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার জন্য ‘ডিপ স্টেট’ বা শক্তিশালী কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে কৌশলগত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন এনসিপি মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) বিকেলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদের দাবি অনুযায়ী, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যেখানে শেখ হাসিনার মেয়াদের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

আসিফ মাহমুদ জানান, সেই ‘ডিপ স্টেট’ এজেন্সিগুলো নির্দিষ্ট কিছু শর্তের বিনিময়ে রোডম্যাপও তৈরি করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “তারা আমাদের অফার করেছিল যেন আমরা ২০২৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করি। তাদের স্ট্র্যাটেজি ছিল বিএনপির সাজাপ্রাপ্ত নেতাদের আইনি মারপ্যাঁচে নির্বাচনের বাইরে রাখা। এমনকি তারেক রহমানের সাজার বিষয়টি ব্যবহার করে কীভাবে তাঁকে নির্বাচনের বাইরে রেখে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা যায়, সেই পরিকল্পনাও তারা দিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেই আপস বা সমঝোতায় রাজি হইনি।”

তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁরা নির্বাচন দিয়ে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু বর্তমান সরকারে বিগত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তিকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা আগে নির্বাচনের সমান সুযোগের কথা বলে তাঁদের পদত্যাগ চেয়েছিল, তারাই এখন সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করছে। আসিফ মাহমুদের মতে, ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার’ দোহাই দিয়ে চাইলে তাঁরাও ২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারতেন, যদি তারা ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে সেই সমঝোতা করতেন।

/আশিক


শাসক বদলালেও বদলায়নি শোষণের ধারা: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ২১:১৩:০৯
শাসক বদলালেও বদলায়নি শোষণের ধারা: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশে শাসক বদলালেও শোষণের ধারা এখনো বদলায়নি।

বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দল নির্বাচিত হয়েই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়ে জনগণের রায় অমান্য করার চেষ্টা করছে।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা জনরায় মূল্যায়ন না করায় যেমন তরুণরা অস্ত্র হাতে নিয়েছিল, বর্তমান সরকারও যদি ২০২৪ সালের গণআকাঙ্ক্ষা তথা জুলাই সনদ মেনে না নেয়, তবে তরুণ সমাজ আবারও কঠিন জবাব দেবে।

তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে এবং বাইরে জনগণের অধিকার আদায়ে লড়তে প্রস্তুত। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, বৈষম্যহীন সেবা নিশ্চিত করতেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু এখনো সেই বৈষম্য কাটেনি।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জনগণের রায়ের বিপক্ষে না হেঁটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে জাতির কাছে স্মরণীয় হওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনসহ অন্য বক্তারা জুলাই সনদ নিয়ে হাইকোর্টে রিট এবং সরকারের ‘৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়ার’ চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন।

/আশিক


সুনামগঞ্জে জামায়াত নেতার বাড়িতে বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৭:৫২:০৯
সুনামগঞ্জে জামায়াত নেতার বাড়িতে বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় একটি বিশেষ গোয়েন্দা অভিযানে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি পিয়ার আলী, যিনি উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামিসি (রসুলপুর) গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর আঞ্চলিক শাখার সভাপতি হিসেবে পরিচিত। অভিযানের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে, আনুমানিক রাত ২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় পিয়ার আলীর নিজ বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি বিদেশি রিভলভার, একটি একনলা বন্দুক এবং একটি দেশীয় পাইপগান রয়েছে। পাশাপাশি ১৩ রাউন্ড গুলি, ১৪ বক্স ক্যালিবারের এয়ারগানের গুলি এবং একটি খালি পিস্তলের ম্যাগাজিনও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ধারালো প্রাণঘাতী অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযান শেষে সেনাবাহিনী উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ জগন্নাথপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে পুলিশ অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করে, যেখানে পিয়ার আলীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অবৈধ অস্ত্র মজুদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: