জন্মহার কমায় রোবটনির্ভর উৎপাদনে ঝুঁকছে চীন

জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমে আসা এবং কর্মক্ষম জনশক্তি সংকুচিত হওয়ায় চীন এখন উৎপাদন খাতে রোবট ও অটোমেশনের ওপর দ্রুত নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দেশটি এখন প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে।
বিয়ে সহজ করা, নগদ সহায়তা বা কর ছাড়ের মতো বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়েও জন্মহার বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবতায় শি জিনপিং প্রশাসন শিল্পখাতে রোবট ব্যবহারের গতি বাড়িয়েছে। লক্ষ্য—কম কর্মী দিয়েও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা এবং অর্থনীতির গতি সচল রাখা।
জনসংখ্যাগত এই পরিবর্তন চীনের পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক উৎপাদন কাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো শ্রমনির্ভর মডেলে স্থির থাকলে পরিস্থিতি বড় অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের কার্যকর প্রয়োগ সেই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে।
Hong Kong University of Science and Technology–এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোবোটিক্স ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে কম শ্রমশক্তি নিয়েও শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব।
বর্তমানে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিল্প রোবট বাজার। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী যত শিল্প রোবট স্থাপন করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি বসানো হয়েছে চীনে। অনেক কারখানায় এখন মানুষের বদলে রোবোটিক বাহু দিয়ে ওয়েল্ডিং, রং করা ও যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর কাজ চলছে। এমনকি ‘ডার্ক ফ্যাক্টরি’ ধারণাও জনপ্রিয় হচ্ছে—যেখানে মানুষের উপস্থিতি প্রয়োজন না হওয়ায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলো পর্যন্ত জ্বালানো হয় না।
উচ্চমাত্রার অটোমেশনের ফলে চীন কম খরচে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সোলার প্যানেল তৈরি করে বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে পারছে। এতে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় দেশটি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
শিল্প রোবটের পাশাপাশি মানবসদৃশ বা হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে চীন। সরকারি সহায়তা নিয়ে দেশটির ১৪০টির বেশি কোম্পানি এই খাতে কাজ করছে। তবে ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশে দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তর স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থানে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিবর্তন সামাল দেওয়া বেইজিংয়ের জন্য বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে চীন জনসংখ্যাগত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না।
সূত্র: সিএনএন
আমি সবসময় এরদোয়ানকে খুশি রাখব: নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
তুরস্কের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তুরস্কের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে কেন বিলম্ব হচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি সবসময় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে খুশি রাখার পক্ষপাতী। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে নিজের একজন ভালো বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান যে, তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও ঠিক কবে নাগাদ এই নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানাননি।
এর আগে গত জুলাইয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের এক ফাঁকে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, 'কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট' বা সিএএটিএসএ-এর অধীনে তুরস্কের ওপর যে বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে, তা অপসারণ করা হবে। এর পাশাপাশি তুরস্কের কাছে উন্নতমানের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আশ্বাসও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে তুরস্ককে তাদের কাঙ্ক্ষিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান যৌথ উৎপাদন ও সরবরাহ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তখন যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, রাশিয়ান এই সামরিক প্রযুক্তি এফ-৩৫ এর মতো পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের জন্য নিরাপত্তাগত ঝুঁকি তৈরি করে এবং এটি ন্যাটোর সার্বিক সামরিক কাঠামোর সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
পরবর্তীকালে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন প্রশাসন কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্টের আওতায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প খাত এবং বেশ কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশটির জন্য মার্কিন রপ্তানি লাইসেন্স লাভ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে আঙ্কারার অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে, নিজস্ব জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা প্রয়োজনীয়তা মেটাতেই তারা বাধ্য হয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ব্যবস্থা সংগ্রহ করেছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ প্রকল্পে আঙ্কারার পুনর্বাসন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বিশ্বজুড়ে ডিজেলের চরম সংকটের আশঙ্কা, বৈশ্বিক সরবরাহ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে চরম সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানির মূল্য সাধারণ মূল্যস্ফীতির সাধ্যের মধ্যে রাখাটাই এখন হোয়াইট হাউসের জন্য সবচেয়ে বড় নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বিশ্ব ডিজেল বাজার সামাল দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন এক দ্বিধাদ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে বর্তমানে দুইমুখী বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি তাদের জরুরি রিজার্ভে থাকা অতিরিক্ত ডিজেল বৈশ্বিক বাজারে উন্মুক্ত না করে, তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে ডিজেলের তীব্র অভাব দেখা দেবে এবং বাজারদর দীর্ঘমেয়াদে রেকর্ড উচ্চতায় আটকে থাকবে।
অন্যদিকে, নিজ দেশের বাজারের চাপ সামলাতে যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজস্ব ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইউরোপজুড়ে জ্বালানির মূল্যে চরম মন্দা ও সংকট তৈরি হবে, যা পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক কাঠামোগুলোকে ওলটপালট করে দিতে পারে। এই উভয়সংকট কাটিয়ে উঠতে মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সমন্বিত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যাতে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সার্বিক ঘাটতি দেখা না দেয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি, যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট
ভারতের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও গণহারে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল বিক্ষোভ প্রতিহত করতে যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের ১.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় টানা ১২ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন দমন ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এয়ারটেল, রিল্যায়েন্স জিও এবং ভোডাফোন আইডিয়ার মতো প্রথম সারির টেলিকম অপারেটরগুলোকে সেবা বন্ধ রাখার সরকারি আদেশ দেওয়া হয়। বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত এই আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারী ছাত্রসহ প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে জুলাই মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে সিজিপি আন্দোলনের সময় একইভাবে মধ্য দিল্লিতে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল, যা তিন মাসের মাথায় আবারও পুনর্ব্যক্ত হলো।
/আশিক
পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরণের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের
রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন বাল্টিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদে সরাসরি হামলা চালানো হলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ মস্কোর সামরিক তহবিলে থাকা ‘সব ধরনের অস্ত্র’ ব্যবহারের সুস্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউরোপ আক্রমণ বা কোনো দেশে সামরিক আগ্রাসনের পরিকল্পনা মস্কোর নেই দাবি করে তিনি জানান, রাশিয়ার সার্বভৌম ভূখণ্ডে আঘাত এলে তার দাঁতভাঙা ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোয় বিখ্যাত ভালদাই আলোচনা ক্লাবের বার্ষিক বৈঠকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন এই চরম সতর্কবার্তা দেন।
পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে বাল্টিক সাগরের উপকূলে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটো জোটের একের পর এক সামরিক মহড়া ও রুশ জাহাজ আটকের চেষ্টাকে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য দায়ী করেন পুতিন। তিনি স্পষ্ট করেন যে কালিনিনগ্রাদ বা রাশিয়ার যেকোনো ভূমিতে সরাসরি হামলা চালানো হলে তার সুরক্ষায় পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার অনিবার্য হয়ে উঠবে।
যদিও ন্যাটোর পক্ষ থেকে রাশিয়ার এই বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক হুমকি’ বলে নিন্দা জানানো হয়েছে এবং ন্যাটোকে কেবল প্রতিরক্ষামূলক একটি জোট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে পশ্চিমাদের সংঘাত উসকে দেওয়ার পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে উল্লেখ করে পুতিন সতর্ক করেন যে, বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ স্পর্শকাতর সময় অতিক্রম করছে যেখানে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার কখনোই অসম্ভব নয়।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু
ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাইজ প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক অবস্থান ও রসদ সরবরাহ লক্ষ্য করে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ২০টি শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সশস্ত্র বাহিনী। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় টানা বিমান হামলার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, হুথিদের সৈন্য সমাবেশ, সামরিক যানবাহন, অস্ত্রাগার ও যোগাযোগের পথগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে এই সমন্বিত বিমান হামলাগুলো চালানো হয়। এতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের পাশাপাশি একাধিক সদস্য হতাহত হয়েছে বলে দাবি করে সেনাবাহিনী।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও রাজধানী সানা, সা’দা ও তাইজে হুথিদের একাধিক নিয়ন্ত্রিত ঘাঁটিতে ধারাবাহিক হামলা চালায় ইয়েমেনি বাহিনী। নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আগে সৌদি আরবের মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যার পেছনে হুথিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে হুথিরা অভিযোগটি পুরোপুরি অস্বীকার করে একে রিয়াদের ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাইজ অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি সংঘাত ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় নতুন করে বহু বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে মানবিক সংকট ও লোহিত সাগরের নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
/আশিক
জলপথ থেকে আকাশসীমা: ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিধ্বংসী সামরিক অভিযানের সাত মাস অতিক্রান্ত হলেও সংঘাত নিরসনে কোনো রূপরেখা দেখা যাচ্ছে না। বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে কোণঠাসা করতে ওই অঞ্চলের আশপাশের কৌশলগত জলসীমায় বিপুল পরিমাণ সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি ওই অঞ্চলের জলসীমায় ২ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের উদ্যোগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নতুন করে আরও তীব্র রূপ নেওয়ার বড় আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ সান দিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে এবং এর পরপরই দুই হাজার মেরিন সেনা নিয়ে ম্যাকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও যাত্রা করেছে। পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের চারপাশের কৌশলগত জলসীমায় তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং গ্রুপ এবং একাধিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে সামরিক সব বিকল্প কার্যকর রাখতেই এই কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অধীনে ইরানের বৃহত্তম অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইরান খোদ্রো ও সাইপাসহ দেশটির রেলওয়ে, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ইস্পাত খাতের ওপর নতুন অর্থসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে একটি সুপারট্যাঙ্কারে আগুন লাগার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। কাতারের মধ্যস্থতায় দুদেশের পরোক্ষ যোগাযোগের পথ খোলা রাখার জোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তেহরান সংলাপের পথ থেকে পিছিয়ে আসবে না এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের পৌঁছানো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
/আশিক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা ঘিরে শাশুড়ির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনিকে তাঁর বাবা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের রাতে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় দেখেছেন বলে দাবি করেছেন তাঁর শাশুড়ি তাইয়্যেবা মাহরুজাদেহ। গত বৃহস্পতিবার ‘আখবার মাশহাদ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে আলি খামেনির দাফন চলাকালে মোজতাবা খামেনি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আলহামদুলিল্লাহ সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছেন। ইরানের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম-আলি হাদ্দাদ-আদেলের স্ত্রী মাহরুজাদেহর বক্তব্যটি 'আসরিরাল'-সহ একাধিক রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হলেও, দাফনের সময় মোজতাবার উপস্থিতির কোনো দৃশ্যমান ছবি বা সাম্প্রতিক অডিও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও মোজতাবার স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল নিহত হওয়ার পর থেকেই মোজতাবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আয়াতুল্লাহর দাফনানুষ্ঠানের প্রকাশিত ভিডিওতে মোজতাবার তিন ভাইকে দেখা গেলেও মোজতাবাকে দেখতে না পাওয়ায় সেই সংশয় আরও ঘনীভূত হয়। পশ্চিমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছিল যে, হামলায় মোজতাবা খামেনি মুখ ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ধারাবাহিকভাবে তাঁর আঘাতের খবর খারিজ করে জানিয়েছেন যে তিনি পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং দীর্ঘ দলীয় বৈঠকসহ রাষ্ট্রপরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ির কারণেই সর্বোচ্চ নেতাকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখা হচ্ছে।
সূত্র : রয়া নিউজ ও আখবার মাশহাদ
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেহরানে পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক চিঠি তেহরানে পৌঁছেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৌখিকভাবে এই প্রস্তাবের সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যান করলেও, কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় আসা ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবি চিঠিটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে হস্তান্তর করেছেন।ইরান সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব হস্তান্তরের তথ্য নিশ্চিত করা হলেও, উক্ত চিঠিতে ওয়াশিংটনের ঠিক কী ধরনের প্রতিক্রিয়া বা শর্ত রয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গোপন রাখা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ সংঘাত বন্ধে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে তেহরান সাতটি শর্তসহ নতুন রূপরেখা দিয়েছিল। ইরানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্রে অবরুদ্ধ কোটি কোটি ডলার অর্থ মুক্তকরণ, তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সমুদ্র অবরোধ তুলে নেওয়া।
কূটনৈতিক পর্যায়ে মধ্যস্থতা বলবৎ থাকলেও মাঠের লড়াই ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রয়েছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে ছোট আকৃতির নৌযানের গতিবিধি দেখলেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান সংস্থাসমূহের ওপর নতুন দফায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং যেকোনো দেশ বা সংস্থা তাদের সহায়তা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সূত্র: সিএনএ
নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষে প্রথমবার ড্রিলিং, ভূগর্ভে মিলল অস্বাভাবিক বস্তুর সংকেত
ইরান সীমান্তবর্তী তুরস্কের আগ্রি দোগুবেয়াজিত জেলায় অবস্থিত জাহাজের আকৃতির একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামোতে সম্প্রতি মাঠপর্যায়ের যৌথ সমীক্ষা শেষ করেছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল। অনেকের ধারণা, এই বিশেষ কাঠামোটি হযরত নূহ (আ.)-এর সেই ঐতিহাসিক নৌকার ধ্বংসাবশেষ।
নতুন এই অনুসন্ধানে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত মাটির নমুনা এবং রাডার স্ক্যানে ভূগর্ভে কিছু অসামঞ্জস্য ও অস্বাভাবিক বস্তুর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। মাটির নিচে চিহ্নিত এই নমুনা ও বস্তু প্রাকৃতিকভাবে গঠিত নাকি মানুষের তৈরি, তা নিশ্চিত হতে বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণাগারে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, সব তথ্য-উপাত্ত মূল্যায়নের পর আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে।
ঐতিহাসিক এই কাঠামোটি প্রথম নজরে আসে ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যখন তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর হয়ে আকাশপথে জরিপ চালানোর সময় ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার এটি আবিষ্কার করেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা ধরনের গবেষণা চললেও, চলতি বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই সর্বশেষ প্রকল্পটিকে সবচেয়ে বিস্তৃত বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলার নেতৃত্বে গঠিত এই দলে পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন। তারা তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী ওই এলাকায় টানা ৯০ দিন কাজ করে আধুনিক ড্রোন, নতুন প্রজন্মের ভূগর্ভস্থ রাডার সিস্টেম ব্যবহার করে ভূখণ্ডের ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরি করেছেন এবং অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে স্থানটির বিভিন্ন গভীরতা থেকে প্রায় ১ হাজার মাটির নমুনা ও ড্রিলিং কোর সংগ্রহ করেছেন।
গবেষক দলের উপপ্রধান ও মার্কিন বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু জোনস জানান, এই অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—কাঠামোটি কোনো একক শক্ত পাথরখণ্ড নয়, বরং এটি মূলত মাটিতে গঠিত। ইতিপূর্বে পাথর ক্ষয়ে গিয়ে তৈরি প্রাকৃতিক আকৃতি হিসেবে যা ধারণা করা হচ্ছিল, ড্রিলিং অনুসন্ধানে তার বিপরীতে কেবল ধারাবাহিক মাটির স্তরই উঠে এসেছে।
খনন চলাকালে বিজ্ঞানীরা ভূপৃষ্ঠের গভীরে কিছু কালচে রঙের মাটি ও জৈব উপাদানের উপস্থিতি পেয়েছেন, যা প্রাচীন কাঠ পচে তৈরি হয়েছে নাকি মানুষের কোনো অতীত কর্মকাণ্ডের ফল—তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিরূপণ করা হচ্ছে। অগাস্টে পাওয়া রাডার স্ক্যানের অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংকেতগুলোকে ভিত্তি ধরে মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় নিখুঁত উপাত্ত সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
আগের গবেষণাগুলো কেবল ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, সরকারি অনুমোদন নিয়ে এটাই প্রথমবার সেখানে গভীর কোর ড্রিলিং চালিয়েছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সাম্প্রতিক সময়জুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার সুনির্দিষ্ট অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে বলে যে দাবি উঠেছে, তার জবাবে চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যান্ড্রু জোনস।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ শেষ হলেও বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল কাজ এখনো বাকি। সম্পূর্ণ ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল ও আন্তর্জাতিক রাডার টিমের বিশ্লেষিত প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই কেবল নিশ্চিত করে বলা যাবে যে এটি স্রেফ প্রকৃতির সৃষ্টি নাকি প্রাচীন মানবসভ্যতার কোনো হারিয়ে যাওয়া কীর্তি। তুরস্কের ইস্তাম্বুলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি সাবাহ’-এ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এই গবেষণাসংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মানবিক প্রয়াসে শীর্ষ নেতৃত্বের সহধর্মিণীরা
- ট্রাম্পের নৈশভোজের বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আমি সবসময় এরদোয়ানকে খুশি রাখব: নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
- ‘আমরা শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাইনি’: ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর স্পষ্ট বক্তব্য
- বিশ্বজুড়ে ডিজেলের চরম সংকটের আশঙ্কা, বৈশ্বিক সরবরাহ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি, যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট
- পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরণের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের
- ফেডের সিদ্ধান্তের আগে ডলারের সূচকে পতন, স্বর্ণের বাজারে নতুন মোড়
- ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ৩৫ যাত্রীকে রক্ষা, প্রাণ গেল চালকের
- লন্ডনে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের উপস্থিতিতে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময়
- খানাখন্দে ভরা সড়কের দিন শেষ: এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর বরাদ্দে পাকা হচ্ছে ইউছুফপুর সড়ক
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
- ১৪তম ওয়ানডে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ও ভেন্যু ঘোষণা
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু
- 'বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ ঠান্ডা মাথায় ভালো': রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার পর বোনের বিস্ফোরক মন্তব্য
- শপথ নেওয়ার পরের দিনগুলোর বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ড. আসিফ নজরুল
- ৯টি প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম করেছে মানুষ, ধেয়ে আসছে অপূরণীয় পরিবেশ বিপর্যয়
- ৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
- জলপথ থেকে আকাশসীমা: ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা ঘিরে শাশুড়ির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
- ইউরেনিয়াম নিয়ে ঢাকার পথে রাশিয়ার বিশেষ বিমান
- বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
- ‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে’: ফেনী থেকে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
- এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?
- চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষক পাবেন ‘কৃষক কার্ড’ ও প্রণোদনা: কৃষি মন্ত্রী
- জ্বালানি তেলের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি: অক্টোবর মাসের দর ঘোষণা
- স্কুল ভর্তি থেকে জমি কেনাবেচা: রাজ্যগুলোর কাছে ধর্মভিত্তিক হিসাব তলব ভারতের কমিটির
- উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থার তাগিদ আমীরে জামায়াতের
- দেশে এলপিজি গ্যাসের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট রোধে ডিসিদের কড়া নির্দেশ
- রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুরে এমপি মিষ্টির নাম, তদন্তে অপরাধী মিললে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেহরানে পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব
- লাইন পরিবর্তন কাজ: বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় জরুরি বার্তা তিতাসের
- কলকাতায় ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ধামাকা অফার
- নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষে প্রথমবার ড্রিলিং, ভূগর্ভে মিলল অস্বাভাবিক বস্তুর সংকেত
- এক দশক পর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ও গদর বন্দর ঘিরে নতুন সমীকরণ
- প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি ও ফ্যামিলি কার্ডে সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের চাপ, বাণিজ্যমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার
- এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির থাবা, সেমিফাইনালের আগে নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ
- আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে বাদীর বিশেষ আবেদন
- ডলারের দাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে নতুন টানাপোড়েন
- বিইআরসির নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বাড়ল শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই, রাজনীতি শেষ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নীতিতে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশসহ ২০ দেশ
- দলীয় বিবেচনা নয়, সর্বজনীন কল্যাণে কাজ করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়: মন্ত্রী জাহিদ হোসেন
- সাত মাসের সংঘাত থামাতে সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, নতুন আলোচনার ইঙ্গিত
- দাম বাড়তেই তেল সংকট কীভাবে মিটল? বিপিসির ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট সংসদীয় কমিটি
- সব পক্ষের মতামতেই আসবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান সংশোধনী: সালাহউদ্দিন আহমদ
- চরম অর্থনৈতিক সংকটে ইরান, নতুন রেকর্ড স্পর্শ করল দেশটির মুদ্রা
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের দিনেও ব্রাজিল শিবিরে নতুন অস্বস্তি
- ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের আস্থার প্রতীক: গাজী শওকাত হোসেনের পরিবার-সাড়ে পাঁচ দশকের জনসেবা
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বার্তা দিল চীন
- পৈতৃক জমির ওপর পিচঢালাই রাস্তার আশঙ্কায় আইনি নোটিশ, যৌথ ভূ-জরিপের দাবি
- জুলাই যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আমরা ব্যথিত: ন্যায়বিচারের আশ্বাস রাশেদ খাঁনের
- বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বিশ্বমঞ্চে শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে বিরাট কোহলি
- ক্রিকেট খেলায় নতুন দিগন্ত: সারা দেশে ট্রায়াল পর্বের সূচনা
- এশিয়ান গেমসের নকআউট পর্বের আগে বড় ধাক্কা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে
- চীনের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
- জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম
- আমরা জয়ী হয়েছি তবে বিজয় সুসংহত করতে হবে: তেহরানে ইরানি সেনাপ্রধান
- জাতীয় দল ও ইতালিয়ান ক্লাবের টানাপোড়েন: বড় সিদ্ধান্তের মুখে বিশ্বজয়ী তারকা
- 'ছাত্ররা নামলেই গুলি করে মারা হবে' ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন জুলাইযোদ্ধা
- শেষ হলো ভোট গ্রহণ, ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা








