জন্মহার কমায় রোবটনির্ভর উৎপাদনে ঝুঁকছে চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১১:১১:২৫
জন্মহার কমায় রোবটনির্ভর উৎপাদনে ঝুঁকছে চীন
ছবি : সংগৃহীত

জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমে আসা এবং কর্মক্ষম জনশক্তি সংকুচিত হওয়ায় চীন এখন উৎপাদন খাতে রোবট ও অটোমেশনের ওপর দ্রুত নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দেশটি এখন প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে।

বিয়ে সহজ করা, নগদ সহায়তা বা কর ছাড়ের মতো বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়েও জন্মহার বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবতায় শি জিনপিং প্রশাসন শিল্পখাতে রোবট ব্যবহারের গতি বাড়িয়েছে। লক্ষ্য—কম কর্মী দিয়েও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা এবং অর্থনীতির গতি সচল রাখা।

জনসংখ্যাগত এই পরিবর্তন চীনের পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক উৎপাদন কাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো শ্রমনির্ভর মডেলে স্থির থাকলে পরিস্থিতি বড় অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের কার্যকর প্রয়োগ সেই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে।

Hong Kong University of Science and Technology–এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোবোটিক্স ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে কম শ্রমশক্তি নিয়েও শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব।

বর্তমানে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিল্প রোবট বাজার। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী যত শিল্প রোবট স্থাপন করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি বসানো হয়েছে চীনে। অনেক কারখানায় এখন মানুষের বদলে রোবোটিক বাহু দিয়ে ওয়েল্ডিং, রং করা ও যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর কাজ চলছে। এমনকি ‘ডার্ক ফ্যাক্টরি’ ধারণাও জনপ্রিয় হচ্ছে—যেখানে মানুষের উপস্থিতি প্রয়োজন না হওয়ায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলো পর্যন্ত জ্বালানো হয় না।

উচ্চমাত্রার অটোমেশনের ফলে চীন কম খরচে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সোলার প্যানেল তৈরি করে বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে পারছে। এতে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় দেশটি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

শিল্প রোবটের পাশাপাশি মানবসদৃশ বা হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে চীন। সরকারি সহায়তা নিয়ে দেশটির ১৪০টির বেশি কোম্পানি এই খাতে কাজ করছে। তবে ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশে দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তর স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থানে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিবর্তন সামাল দেওয়া বেইজিংয়ের জন্য বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে চীন জনসংখ্যাগত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না।

সূত্র: সিএনএন


আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১০:২৯:২৬
আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা—পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে লক্ষ্য করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। তেল আবিবের ভাষ্য, এ ধরনের অভিযোগের কোনো বাস্তবভিত্তিক প্রমাণ নেই এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ‘ভুয়া’ ও ‘বাস্তবতার বিকৃত উপস্থাপন’ ছাড়া কিছুই নয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরানের প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে হত্যার পরিকল্পনার খবর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওই দুই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলার সময় ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন হামলা সংঘটিত হলে কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারত।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের অন্যতম অংশ ছিল ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ কর্মকর্তা আলী লারিজানিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একই প্রেক্ষাপটে আরাগচি ও গালিবাফও সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় থাকতে পারেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের মূল্যায়ন ছিল ভিন্ন। তাদের মতে, শান্তি আলোচনায় সরাসরি সম্পৃক্ত দুই শীর্ষ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপর হামলা হলে আলোচনার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেত এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। সে কারণেই ওয়াশিংটন সম্ভাব্য এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর একটি পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আব্বাস আরাগচি ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাময়িকভাবে তাদের নাম সেই তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পেরেছিল যে অন্তত গালিবাফ সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইসরায়েলকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়, যাতে আলোচনার পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে এবং নতুন করে আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি না তৈরি হয়।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলতি বছরের সামরিক উত্তেজনার সময় পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি গোপন বাঙ্কারে জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের ওপর হামলার ঘটনাতেও গালিবাফ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। ইরানের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দাবি, ওই দুই ঘটনাতেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।

তবে এসব দাবি ও প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে এবং সেগুলো বাস্তব পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের এই পর্বে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

-রফিক


খামেনির ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে থাকছে যেসব আনুষ্ঠানিকতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ১৩:৪৬:৫৩
খামেনির ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে থাকছে যেসব আনুষ্ঠানিকতা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় আয়োজন। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে কঠোর নিরাপত্তা, ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি এবং একাধিক ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় জানাজা নয়; বরং দেশটির রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীকী প্রদর্শন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লাখো মানুষকে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। আয়োজকরা আশা করছেন, অনুষ্ঠানজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন।

ইরানি প্রশাসনের ধারণা, পুরো আয়োজনজুড়ে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। যদি সেই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। রাজধানীর প্রধান সড়ক, ধর্মীয় কেন্দ্র এবং অনুষ্ঠানস্থলজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দলও মোতায়েন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত তেহরানে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের কার্যক্রম চলবে। এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পবিত্র শহর কোমের জামকারান মসজিদে, যেখানে শিয়া ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিশেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনকে ইরানের ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরবর্তী ধাপে মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। সেখানে ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোতে বিশেষ দোয়া ও স্মরণানুষ্ঠান শেষে কারবালায় আরও একটি ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সফরকে প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

সবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদের ঐতিহাসিক ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। দাফনের পর দেশজুড়ে টানা ৪০ দিনের শোকানুষ্ঠান এবং পরবর্তী এক বছর বিভিন্ন পর্যায়ে স্মরণসভা, ধর্মীয় আলোচনা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনেরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’। আয়োজকদের দাবি, এই বার্তার মাধ্যমে জাতীয় সংহতি, প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রীয় আদর্শের প্রতি জনগণের অঙ্গীকার নতুন করে তুলে ধরা হবে।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়ও বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে।

-রফিক


আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ১১:২০:৩৪
আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের উত্তপ্ত সময় চলমান যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে ঘিরে নতুন এক দাবি সামনে এসেছে। মিডল ইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, সে সময় মার্কিন প্রশাসনের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য পৌঁছেছিল যে, ইসরায়েল ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছিল। তবে এই দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মাধ্যমে তেহরানের কাছে আগাম সতর্কবার্তা পাঠায়। ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন ছিল, যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো উচ্চপর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তার ওপর হামলা হলে তা শুধু আলোচনা ব্যর্থই করবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তত পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম ছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানতে পারেন। এরপরই ওয়াশিংটন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইসরায়েলকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

মিডল ইস্ট আই একটি ঘটনারও উল্লেখ করেছে, যেখানে বলা হয়, এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর শেষে গালিবাফকে বহনকারী বিমান মাঝপথে রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় ইরানি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দেশের আকাশসীমার কাছে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পেয়েছিল। তবে এ ঘটনারও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, ওই সময় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছিল। পাশাপাশি কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনা চলাকালে সম্ভাব্য হামলা এড়ানোর বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ০৯:৪৯:১২
খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান ঘিরে তেহরানে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রায় চার মাস পর দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন পরিসরে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে, যা নিরাপত্তা, কূটনৈতিক উপস্থিতি এবং জনসমাগম—সব দিক থেকেই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খামেনির মরদেহবাহী কফিন রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সেই স্থানে নেওয়া হয়, যেখানে হামলায় তিনি নিহত হয়েছিলেন। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জানায়, এই প্রতীকী আয়োজনের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় বিদায় কর্মসূচির সূচনা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই শোকানুষ্ঠান কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে তেহরানে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন, এরপর পবিত্র নগরী কুমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং সবশেষে খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। দীর্ঘ যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েক মাস বিলম্বের পর অবশেষে এই রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তেহরানের বিভিন্ন সড়কে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছেন। কালো পোশাক পরিহিত শোকাহতদের অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কালো ব্যানার ও শোকের প্রতীকে সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত দৃশ্যে মানুষের কান্না, শোকমিছিল এবং ধর্মীয় স্লোগানে মুখর পরিবেশ দেখা গেছে।

খামেনির সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তার কফিন একটি বিশেষ কক্ষে রাখা হয়েছে, যার দেয়াল ইরানের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত। কফিনের ওপর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে লাল রঙের একটি ধর্মীয় পতাকা, যা ইমাম হোসেনের মাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং শিয়া ঐতিহ্যে আত্মত্যাগ, প্রতিরোধ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই প্রতীককে ‘সত্য ও আত্মত্যাগের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের’ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এদিকে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শোকমিছিলের রুট এবং ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কিংবা নতুন হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখেই এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

-রফিক


নতুন নেতার অধীনেই ওয়াশিংটনকে রুখতে তেহরানের রণপ্রস্তুতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ২০:৩৮:২৬
নতুন নেতার অধীনেই ওয়াশিংটনকে রুখতে তেহরানের রণপ্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ বা আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর, অনুশোচনামূলক ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে চরম সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক বিশেষ বার্তায় এই হুঁশিয়ারি দেন ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহি।

সদ্য প্রয়াত ইসলামিক বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির আসন্ন জানাজা উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহি তাঁর বার্তায় বলেন, শহীদ সর্বোচ্চ নেতা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন, কৌশলগত বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সুসংহত করার মাধ্যমে দেশের সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শত্রুপক্ষ অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হওয়া সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে অতীতে যেসব যুদ্ধ বা আগ্রাসন চালিয়েছে, তার জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে এবং প্রতিবারই তারা অপমানের স্বাদ গ্রহণ করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর এই শীর্ষ কর্মকর্তা সর্বোচ্চ নেতার আসন্ন জানাজা অনুষ্ঠানে দেশবাসীকে বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই শোকানুষ্ঠান ইরানের পবিত্র জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। প্রয়াত নেতাকে শ্রদ্ধা জানানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হলো তাঁর দেখানো দীপ্ত পথ অনুসরণ করে শত্রুর বিরুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া।

বার্তার শেষাংশে জেনারেল আব্দুল্লাহি ইরানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসাইনি খামেনির প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর অবিচল ও পূর্ণ আনুগত্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

সূত্র: মেহের নিউজ


উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারকে নিয়ে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন শাহবাজ শরিফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ১৮:১৬:২৫
উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারকে নিয়ে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন শাহবাজ শরিফ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে আগামী ৩ জুলাই ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করবেন এবং ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি জানাবেন।

ইরানে প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন ও জানাজায় ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হুংকার দিয়ে বলেছেন, এই বিপুল উপস্থিতির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে প্রতিশোধের দাবির স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

উল্লেখ্য, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রথম দিনে নিহত হন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় দেশটির নেতৃত্ব দেন।

সূত্র : ডন


নেতানিয়াহু প্রশাসন গুরু ট্রাম্পের কথা না শুনলে ইরানই শিক্ষা দেবে: আব্বাস আরাগচি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ১৮:৪৭:০০
নেতানিয়াহু প্রশাসন গুরু ট্রাম্পের কথা না শুনলে ইরানই শিক্ষা দেবে: আব্বাস আরাগচি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের দেওয়া চরম উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশটির সাধারণ জনগণ ও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক, কঠোর ও শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে দেওয়া এক বিশেষ সরকারি বিবৃতিতে আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমাদের জনগণ এবং দেশের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি বা আগ্রাসনের অপচেষ্টা তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।”

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক চরম বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি সরাসরি বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘হত্যার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে’ (টার্গেটেড ফর অ্যাসাসিনেশন)। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন, ইরান আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার ভান করে মূলত বিভিন্ন ধরনের বাড়তি কূটনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সেই সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে কাটজ কটাক্ষ করে আরও বলেন, ইরানিরা ‘দক্ষ ব্যবসায়ীর মতো’ আলোচনায় নিজেদের সুবিধা আদায়ের চাল চালছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন আগ্রাসী বক্তব্যের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকেও কড়া ভাষায় টেনে এনে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো একেবারে স্পষ্ট এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেল আবিবে তাদের মিত্রদের (ইসরায়েল) কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা যদি এখন তাদের প্রধান অভিভাবক তথা গুরুর (মাস্টার) কথা না শোনে, তাহলে ইরান নিজেই তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।” আরাগচির এই মন্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, ইসরায়েলকে সংযত রাখার মূল দায়িত্ব এখন সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের ওপর বর্তায়।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সরাসরি ‘হত্যার হুমকি’ দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনাকে এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি সামরিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে অলরেডি তীব্র বাকযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই নাজুক পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের এমন চরম আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও যুদ্ধমুখী করে তুলতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের জাতীয় পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং কেবল বেসামরিক বিদ্যুৎ ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, তেহরান আন্তর্জাতিক চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


১৪৪ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলল অলৌকিক প্রাণ: ভেনেজুয়েলায় ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ১৮:১৫:২৩
১৪৪ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলল অলৌকিক প্রাণ: ভেনেজুয়েলায় ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের দীর্ঘ ছয় দিন পর এক অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। রাজধানী কারাকাসের উত্তর প্রান্তের লা গুয়াইরা এলাকায় ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সি এক শিশুকে সম্পূর্ণ অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে জর্ডানের একটি বিশেষ সিভিল ডিফেন্স উদ্ধারকারী দল।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবন বাঁচানোর জন্য সবচেয়ে আশাপ্রদ বা গোল্ডেন আওয়ার ধরা হলেও, সেই আন্তর্জাতিক সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘ ১৪৪ ঘণ্টা পর এই শিশুর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিরলতম ঘটনা। উদ্ধারের পর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অত্যন্ত আবেগঘন ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পেয়ে জর্ডানের উদ্ধারকর্মীরা কান্না ও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পর তাকে পরম মমতায় উষ্ণ কম্বলে জড়িয়ে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

জর্ডান সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, অলৌকিকভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই শিশুটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে পুরোপুরি স্থিতিশীল রয়েছে এবং তার শরীরের সমস্ত ভাইটাল সাইন বা জীবনচিহ্ন স্বাভাবিক পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ধসে পড়েছে শত শত আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। তবে চারপাশের এই চরম বিপর্যয়, লাশের স্তূপ আর হাজারো মানুষের নিখোঁজ থাকার বুকফাটা বেদনার মাঝেও উদ্ধার অভিযান পুরোদমে সচল রয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ৬ হাজার ৪৬১ জনকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আর সবশেষ এই ছোট্ট শিশুটির মৃত্যুর দুয়ার থেকে অক্ষত ফিরে আসা ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া পুরো জনপদে নতুন করে বেঁচে থাকার এক উজ্জ্বল আশার আলো ছড়াচ্ছে।

—আরব নিউজ


ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির আগুনে পুড়ছে বিশ্ব, একমাত্র ‘স্পষ্ট বিজয়ী’ হিসেবে উদয় চীনের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ২১:৫৩:০৩
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির আগুনে পুড়ছে বিশ্ব, একমাত্র ‘স্পষ্ট বিজয়ী’ হিসেবে উদয় চীনের
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী মধ্যপ্রাচ্য নীতির জেরে বিশ্বজুড়ে যে নজিরবিহীন ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র সুস্পষ্ট ও বড় বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পরাশক্তি চীন। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এশিয়া গ্রুপ’-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ গবেষণামূলক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে এশিয়া গ্রুপ স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া এবং তার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যের বাজারে যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা অত্যন্ত নিখুঁত ও সফলভাবে মোকাবিলা করেছে বেইজিং। একই সঙ্গে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যে কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে, তা থেকেও দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ।

মূল সংকটের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানের সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় একযোগে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে। এই ঘটনার পর ইরান প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ পরিবহনের এই মূল নৌপথটি আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে খনিজ তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে, যার সবচেয়ে বড় ধাক্কা গিয়ে লাগে এশিয়ার আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর।

এশিয়া গ্রুপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার আগে এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৯০ শতাংশই একচেটিয়াভাবে এশিয়ার বাজারে আসত। এছাড়া অন্যান্য জরুরি বাণিজ্যিক পণ্যও এই রুটেই পরিবাহিত হতো। এই গবেষণায় মূলত চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান দেশগুলোর উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি ও কৃষি খাতের ওপর সংকটের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য অভিযানের ফলে সৃষ্ট এই বৈশ্বিক সংকটে চীনের কোনো ক্ষতি তো হয়ইনি, উল্টো তারা সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো চীনের কাছে থাকা অপরিশোধিত তেলের বিশাল কৌশলগত মজুত এবং গত কয়েক বছর ধরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে তাদের করা বিপুল পরিমাণ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ। ফলে অন্য সব দেশ যখন জ্বালানির অভাবে ধুঁকছে, চীন তখন এই ধাক্কা খুব সামান্যই টের পেয়েছে।

বেইজিং মূলত দীর্ঘদিন ধরেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কৌশলগত জ্বালানি মজুত (Strategic Petroleum Reserve) গড়ে তুলছিল। বিশেষ করে গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম থাকার পূর্ণ সুযোগ নিয়ে তারা রেকর্ড পরিমাণ তেল মজুত করে। বৈশ্বিক জ্বালানি নীতিবিষয়ক কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক এরিকা ডাউন্সের দেওয়া গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ দৈনিক ১ কোটি ১১ লাখ ব্যারেল থেকে এক লাফে বেড়ে ১ কোটি ১৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়, যার ৮০ শতাংশেরও বেশি তারা সরাসরি মাটির নিচে মজুত করে ফেলে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী, চীনের কাছে যে পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে ২০২৫ সালের আমদানির উচ্চ হার বজায় রেখেও কোনো প্রকার আমদানি ছাড়া টানা ১০৪ দিনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনায়াসে পূরণ করা সম্ভব।

একই সময়ে নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি খাতেও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চীন। গত এক বছরেই তারা তাদের জাতীয় গ্রিডে ৩১৫ গিগাওয়াট নতুন সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত করেছে, যা সমগ্র বিশ্বে ওই বছর নতুন স্থাপিত মোট সৌরবিদ্যুতের অর্ধেকেরও বেশি। এর আগের বছরও তারা ২৭৭ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করেছিল। বেইজিংয়ের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকই জীবাশ্ম জ্বালানিবহির্ভূত (নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক) উৎস থেকে উৎপাদন করা। একই সময়ে বায়ু ও সৌরশক্তির অংশ ২০২৫ সালের ২২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দ্রুত ৩০ শতাংশে নেওয়ার জোরালো পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যদিও বর্তমানে চীনের মোট জ্বালানির ৫০ শতাংশের বেশি এখনও কয়লাভিত্তিক, তবে গ্রিন এনার্জির অংশ সেখানে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

এশিয়া গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ১ দশমিক ৪ টেরাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চালু থাকা এবং ৯০ থেকে ১১০ দিনের অপরিশোধিত তেলের কৌশলগত মজুত ব্যাকআপ হিসেবে থাকায় ভারত বা জাপানের মতো আঞ্চলিক অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সংকটের প্রাথমিক ধাক্কা সবচেয়ে রাজকীয়ভাবে সামাল দিয়েছে চীন।

মজার বিষয় হলো, এই সংকটের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে পরিচ্ছন্ন বা সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে, তখনও ঘুরিয়ে লাভ হচ্ছে বেইজিংয়েরই। কারণ বর্তমান বিশ্বের সৌর প্রযুক্তি ও অন্যান্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরঞ্জামের বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সিংহভাগই চীনের নিয়ন্ত্রণে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা অবিশ্বাস্য কম দামে এসব পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করছে, যা আমেরিকা ও ইউরোপের পশ্চিমা দেশগুলোর নিজস্ব দেশীয় শিল্পের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় রেকর্ড ১১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একইভাবে এপ্রিল মাসে তাদের সৌর প্যানেল রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

রাজনৈতিকভাবে চীন অবশ্য শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক হাইপ্রোফাইল বৈঠকের পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দাবি করেছিলেন, এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধান চায় দুই দেশই। তবে এশিয়া গ্রুপের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটের পর বেইজিং আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি ‘অস্থিতিশীলতাসৃষ্টিকারী ও যুদ্ধবাজ’ শক্তি হিসেবে সফলভাবে ব্র্যান্ডিং করার সুযোগ পেয়েছে, যার ভুল মধ্যপ্রাচ্য নীতির খেসারত পুরো বিশ্বের সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে।

অবশ্য এই দৃশ্যমান সফলতার আড়ালে চীনের জন্য কিছু সুপ্ত ঝুঁকি ও চিন্তার কারণও রয়েছে। সিঙ্গাপুরের এস. রাজরত্নম আন্তর্জাতিক গবেষণা বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ফেলো ড্রু থম্পসন মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাওয়া চীনের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাভজনক নাও হতে পারে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের মতো জটিল গোলমেলে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিকল্প নিরাপত্তা প্রদানকারী শক্তি হিসেবে নিজেদের জড়াতে বেইজিং এই মুহূর্তে একেবারেই আগ্রহী নয়।

অন্যদিকে, তাইওয়ানভিত্তিক আটলান্টিক কাউন্সিলের গ্লোবাল চায়না হাবের নন-রেসিডেন্ট ফেলো ওয়েন-তি সুং একটি ভিন্ন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির এই সংকট ভবিষ্যতে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে। কারণ, শত্রুতাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিবেশে সমুদ্রপথে বিশাল জাহাজ বা নৌবহর পরিচালনার কৌশলগত জটিলতা ও ঝুঁকি এই সংকটের মাধ্যমে খুব স্পষ্টভাবে বেইজিংয়ের সামনে ফুটে উঠেছে।

তবে সব ঝুঁকি সমীকরণ সত্ত্বেও, বেইজিং এই মুহূর্তের মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে তাদের জন্য কোনো অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে দেখছে না। বরং তারা এটিকে একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা তারা নিজেদের অসামান্য অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা দিয়ে নিখুঁতভাবে মোকাবিলা করে উল্টো একটি বিশাল ভূরাজনৈতিক সুযোগে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

পাঠকের মতামত:

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ মূল্য পুনর্নির্ধারণের পর শনিবারও দেশের সব জুয়েলারি... বিস্তারিত