তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির চিঠি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন ও উষ্ণ অধ্যায় সূচিত হলো। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের নতুন সরকারের ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা ও আমন্ত্রণপত্র তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নিজে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই ব্যক্তিগত চিঠিটি তুলে দেন। চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাঁকে সুবিধাজনক দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার জমকালো শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় তিনি বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সেই বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে ওম বিড়লা চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি অত্যন্ত গঠনমূলক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো শুভকামনা সম্বলিত চিঠিটি তিনি হস্তান্তর করেছেন। চিঠিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠক সম্পর্কে ওম বিড়লা আরও জানান যে, ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও ঐতিহাসিক অংশীদারত্বকে আরও গভীর এবং সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন উষ্ণ অভিনন্দন ও সফরের আমন্ত্রণ দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সাথে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
/আশিক
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন সরকারের। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন চাঁদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার সকালে বিএনপি এবং সচিবালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া আ ন ম এহসানুল হক মিলনের শিক্ষা খাতে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নকলমুক্ত পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করে ব্যাপক আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছিলেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুর-১ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় ফিরছেন। তাঁর এই নিযুক্তি দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যক্তিগত ও শিক্ষা জীবনে এহসানুল হক মিলন অত্যন্ত মেধাবী একজন ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুরের কচুয়ায় জন্মগ্রহণ করা এই নেতা ঢাকার শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক শেষ করে ১৯৮২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি ব্রুকলিন কলেজ ও বোরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন এবং ওষুধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কারিগরি শিক্ষার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তাঁর কর্মক্ষেত্রে বিশেষ পাণ্ডিত্য যোগ করেছে।
/আশিক
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের শপথ নেন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এটি ছিল তার নেতৃত্বে নতুন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সূচনা।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠানের আগে দক্ষিণ প্লাজা ও সংসদ ভবন এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের সুযোগ পায়। সেই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণকে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-রাফসান
বেতনের বাইরে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের কী কী সুবিধা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিপরিষদ। বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাঁরা যাচ্ছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী তাঁদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে মন্ত্রীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জনমনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও সুবিধা
২০১৬ সালে সংশোধিত ‘প্রধানমন্ত্রীর পারিশ্রমিক ও বিশেষাধিকার আইন’ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাসিক এক লাখ ১৫ হাজার টাকা বেতন পান। এর পাশাপাশি মাসে এক লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া এবং দৈনিক তিন হাজার টাকা ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। তিনি একটি সরকারি বাসভবন পান, যার রক্ষণাবেক্ষণ, সজ্জা ও সকল ইউটিলিটি ব্যয় সরকার বহন করে।
মন্ত্রীর বেতন ও প্রাপ্য সুবিধা
‘মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পারিশ্রমিক ও বিশেষাধিকার আইন (সংশোধন), ২০১৬’ অনুযায়ী একজন মন্ত্রীর মাসিক বেতন এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা। এই বেতন করমুক্ত। ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা ও চিফ হুইপও সমপরিমাণ বেতন পান।
মন্ত্রীদের দৈনিক ভাতা দুই হাজার টাকা এবং মাসিক নিয়ামক ভাতা ১০ হাজার টাকা। তাঁদের জন্য ১০ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল নির্ধারিত আছে। মোবাইল ফোন কেনার জন্য এককালীন ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি, ঢাকার বাইরে সফরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জিপ, সরকারি খরচে রেল ও বিদেশ ভ্রমণ সুবিধাও দেওয়া হয়।
মন্ত্রীদের জন্য বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসভবন বরাদ্দ থাকে। সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও টেলিফোনসহ সব ব্যয় সরকার বহন করে। বাসায় সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকার আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়। সরকারি বাসায় না থাকলে বাড়িভাড়া বাবদ ৮০ হাজার টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সব বিল প্রদান করা হয়। বিমান ভ্রমণে আট লাখ টাকার বীমা সুবিধা এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরীও থাকেন।
প্রশাসনিক সহায়তার জন্য একজন উপ-সচিব পদমর্যাদার একান্ত সচিব, সহকারী সচিব পদমর্যাদার সহকারী একান্ত সচিব, আরও একজন সহকারী, দুইজন দশম গ্রেডের কর্মকর্তা এবং সহায়ক কর্মচারী নিয়োজিত থাকেন।
প্রতিমন্ত্রীর বেতন কাঠামো
প্রতিমন্ত্রীরা মাসিক ৯২ হাজার টাকা বেতন পান, যা করমুক্ত। তাঁদের দৈনিক ভাতা দেড় হাজার টাকা এবং মাসিক নিয়ামক ভাতা সাড়ে সাত হাজার টাকা। স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে সাত লাখ টাকা নির্ধারিত। সরকারি বাসভবন বা বিকল্প হিসেবে ৭০ হাজার টাকা বাড়িভাড়া সুবিধা দেওয়া হয়। বাসভবনে সর্বোচ্চ চার লাখ টাকার আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়। প্রশাসনিক সহায়তা কাঠামো প্রায় মন্ত্রীর মতোই।
উপমন্ত্রীর বেতন ও সুযোগ
উপমন্ত্রীর মাসিক বেতন ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা, যা করমুক্ত। দৈনিক দেড় হাজার টাকা ভাতা এবং পাঁচ হাজার টাকা নিয়ামক ভাতা রয়েছে। স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। বাসভবন ও আসবাবপত্র সুবিধা প্রতিমন্ত্রীর সমপর্যায়ের। সহকারী সচিব পদমর্যাদার একান্ত সচিবসহ প্রয়োজনীয় কর্মী সহায়তা দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত সুবিধা
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁরা সংসদ সদস্য হিসেবেও বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা পান। সংসদীয় ভাতা, এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দ ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা তাঁদের প্রাপ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেতন-ভাতার এই কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে দায়িত্বের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বিবেচনায়। তবে জনস্বার্থে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই নতুন মন্ত্রিসভার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
-রাফসান
পুরানো দপ্তরেই ফিরছেন মির্জা আব্বাস: অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখলো নতুন সরকার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে বিজয়ী হওয়ার পর পুনরায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপির প্রভাবশালী স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বিকেলেই তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।
ঢাকার সাবেক এই সফল মেয়র ইতিপূর্বেও খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত মির্জা আব্বাস ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকাকালীন নগরীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী থাকাকালে তার নেতৃত্বেই ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধিত হয়। দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরায় নিজ দপ্তরে ফিরে আসার এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর নতুন সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরায় মন্ত্রিসভায় ফিরছেন প্রবীণ এই রাজনীতিক।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়া মির্জা ফখরুল এর আগে ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পেশাগত জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির মেধাবী ছাত্র ফখরুল শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের হাত ধরে পথচলা শুরু হলেও পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্ব শুরু করা এই নেতা ২০১১ সাল থেকে দলের মহাসচিবের (ভারপ্রাপ্ত ও পূর্ণ) দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দেশব্যাপী বিএনপির আন্দোলন ও নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এবার তিনি দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের গুরুদায়িত্ব নিয়ে মন্ত্রিসভায় প্রবেশ করছেন।
/আশিক
অর্থনীতির সংস্কারে অভিজ্ঞ আমীর খসরুর ওপর ভরসা রাখলো বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নির্ভরযোগ্য দলীয় ও প্রশাসনিক সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বের হাতেই দেশের অর্থনীতির হাল তুলে দিচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকেলেই তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ নেবেন এবং তাকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক জ্ঞানকে কাজে লাগাতে চায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার।
রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’র সদস্য এবং দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির বাইরেও অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক খাতে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনি নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া আমীর খসরু চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি এবং দক্ষিণ এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল, সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্প বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবেও নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে থাকছে জামায়াতে ইসলামী, যারা জয় পেয়েছে ৬৮টি আসনে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/আশিক
তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসন থেকে টানা ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ নতুন সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজনৈতিক অঙ্গনের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। দলীয় ও প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিকেলেই তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন এবং তাকে গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তার নির্বাচনী এলাকা মুরাদনগরসহ সারা দেশের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ কুমিল্লা-৩ আসনের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ইতিপূর্বে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া নিজ এলাকা মুরাদনগর থেকে তিনি মোট ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এক অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে তার শক্তিশালী জনভিত্তি এবং দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা তাকে মন্ত্রিসভার অন্যতম যোগ্য সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কায়কোবাদ বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তিনি মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ সোহেল পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৯৯ ভোট। বিপুল এই জনরায়ের মধ্য দিয়ে তিনি পুনরায় সংসদে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন এবং এখন দেশ পরিচালনার বৃহত্তর দায়িত্বে শামিল হতে যাচ্ছেন।
/আশিক
দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার নতুন সোপানে পা রেখে আজ শপথ নিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নতুন সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের আইনপ্রণেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সংসদীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন।
যথাযোগ্য মর্যাদায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অসংখ্য আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে নতুন আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এ সময় সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম ও এ বিষয়ে দলীয় অবস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ সবার সামনে তুলে ধরেন। শপথগ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী নিজ নিজ শপথপত্রে সই করেন।
দিনের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিএনপির সংসদীয় দলের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা তথা 'সংসদ নেতা' হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।
নতুন সরকার গঠনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পর আজ বিকেলেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের দপ্তর বণ্টন করা হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
/আশিক
২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনামল শেষে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এর আগে আজ সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে দুই দফায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন, যার মাধ্যমে দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করছে।
নতুন মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, ৩৫ থেকে ৪০ সদস্যের এই মন্ত্রিসভা হবে নবীন, প্রবীণ ও দক্ষ রাজনীতিবিদদের এক অনন্য সমন্বয়। তিন প্রজন্মের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই হবে এই সরকারের মূল লক্ষ্য। মন্ত্রিসভায় ২৬ থেকে ২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে নতুন সরকারের সামনে রয়েছে পাহাড়সম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়লগ্নে নতুন সরকারের কাঁধে ২৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণের বিশাল বোঝা চেপেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আরও বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ লাখ ২৫ হাজার ১৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এরই মধ্যে জনপ্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা—মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নাসিমুল গনি। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসক এবং গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদে আরও বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এদিকে, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে গণভোটে সম্মতির পর এখন উচ্চকক্ষ গঠনের আইনি প্রক্রিয়া ও ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট এবং নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ঢাকা পৌঁছেছেন। আজ দুপুরে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে একটি ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত ১৮ মাসে দেশের মানুষ বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে এবং এই নির্বাচন গণতন্ত্রের নতুন যাত্রার সূচনা করেছে।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আসন্ন রমজানের পণ্য সরবরাহ। চট্টগ্রাম বন্দরসীমায় বর্তমানে ভোগ্যপণ্য বোঝাই প্রায় অর্ধশত জাহাজ আটকা পড়ে আছে। নির্বাচন ও কর্মবিরতির কারণে চাল, ডাল, তেল ও চিনির মতো জরুরি পণ্য খালাস না হওয়ায় বাজারে সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, নতুন সংসদেও ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বজায় থাকছে; যেখানে প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্যই ব্যবসায়ী এবং এদের মধ্যে ১৩ জন বিলিয়নিয়ারসহ মোট ২৩৬ জন কোটিপতি প্রতিনিধিত্ব করছেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির চিঠি
- সৌদি আরবে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে: প্রথম রোজা বুধবার
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুখবর: রিজার্ভে বড় প্রবৃদ্ধি দেখছে বাংলাদেশ
- লক্ষ্মীপুরের ঘরের ছেলে এখন সরকারের মন্ত্রী: এ্যানির কাঁধে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ভার
- বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে স্বর্ণের হ্রাসকৃত মূল্য
- রাষ্ট্রপতির আলোচনায় ড. খন্দকার মোশাররফ কুমিল্লা ছেলে
- সাতক্ষীরা সদরে সংস্কার বরাদ্দে অনিয়ম: কাঠগড়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
- এলিয়েনরা কোনো কল্পনা নয়, বাস্তব: ওবামা
- তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বিশাল চমক: বাদ পড়লেন একঝাঁক জ্যেষ্ঠ নেতা
- এশিয়ার দুই দেশে রোজার ঘোষণা: চূড়ান্ত হলো পবিত্র রমজানের দিনক্ষণ
- সেই ‘১০ নম্বর জার্সি’ পরে সংসদে শপথ নিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- রমজানে স্বস্তি: কালিগঞ্জে টিসিবির স্মার্ট কার্ডে পণ্য সরবরাহ,সাশ্রয়ী মূল্যে চাল-ডাল-তেল
- কুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যা
- রমজানের আগে কুমিল্লার বাজার ঊর্ধ্বমুখী: বেগুন, কাঁচামরিচ ও লেবু বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন
- তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা
- ‘সেলফি’ ভবিষ্যদ্বাণী মিলল বাস্তবের সঙ্গে
- প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
- সালাহউদ্দিন আহমদ ও মির্জা ফখরুল পাচ্ছেন যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন
- ১৭ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার
- ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ গেইনার কারা
- বেতনের বাইরে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের কী কী সুবিধা
- তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগোবে দেশ: মির্জা ফখরুল
- নতুন মন্ত্রিসভায় শপথের আমন্ত্রণ পেলেন যাঁরা
- পুরানো দপ্তরেই ফিরছেন মির্জা আব্বাস: অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখলো নতুন সরকার
- যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
- অর্থনীতির সংস্কারে অভিজ্ঞ আমীর খসরুর ওপর ভরসা রাখলো বিএনপি
- তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
- সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমেদ
- ৭ পাক সেনাকে আটক করে বিএলএ-র মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি
- দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন
- ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা
- রমজানের প্রস্তুতি: এক মাসের বাজার নিশ্চিন্তে গুছিয়ে রাখার উপায়
- শপথের প্রস্তুতিতে এমপিদের সংসদে আগমন
- সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান
- আবহাওয়া আপডেট: যেমন থাকবে রাজধানী
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- হাতে-পায়ে জ্বালাপোড়া কেন হয় জানুন কারণ
- সারা দেশে আজ থেকে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি; জেনে নিন নির্দিষ্ট পণ্যের দাম
- আজ কেনাকাটায় যাওয়ার আগে জেনে নিন রাজধানীর বন্ধ মার্কেটের তালিকা
- একই পরিবারের তিন সরকার প্রধান: বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল নজির
- অধীনতার চুক্তি করে বিদায় নিচ্ছেন ড. ইউনূস: আনু মুহাম্মদ
- আজ বিকেল থেকে দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ, দৃশ্যমান হবে যেসব দেশে
- ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ আজ
- ফুটবল-ক্রিকেটে জমজমাট ক্রীড়া সূচি
- আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- বৈশ্বিক বাণিজ্যে টাকার বিনিময় হার আপডেট
- ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের অংশবিশেষ
- নামাজ ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত সময় জানুন আজ
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- ২০০৮–এর পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন: গণতন্ত্রের গুণগত মানের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের শুভ সূচনা: প্রথম কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- রুপা স্থির, তবে কেন অস্থির শুধু সোনা
- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের দাপুটে সূচনা: প্রথম কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে লিড
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর








