২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১১:০২:৪৮
২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনামল শেষে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এর আগে আজ সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে দুই দফায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন, যার মাধ্যমে দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করছে।

নতুন মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, ৩৫ থেকে ৪০ সদস্যের এই মন্ত্রিসভা হবে নবীন, প্রবীণ ও দক্ষ রাজনীতিবিদদের এক অনন্য সমন্বয়। তিন প্রজন্মের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই হবে এই সরকারের মূল লক্ষ্য। মন্ত্রিসভায় ২৬ থেকে ২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে নতুন সরকারের সামনে রয়েছে পাহাড়সম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়লগ্নে নতুন সরকারের কাঁধে ২৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণের বিশাল বোঝা চেপেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আরও বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ লাখ ২৫ হাজার ১৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এরই মধ্যে জনপ্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা—মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নাসিমুল গনি। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসক এবং গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদে আরও বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এদিকে, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে গণভোটে সম্মতির পর এখন উচ্চকক্ষ গঠনের আইনি প্রক্রিয়া ও ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট এবং নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ঢাকা পৌঁছেছেন। আজ দুপুরে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে একটি ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত ১৮ মাসে দেশের মানুষ বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে এবং এই নির্বাচন গণতন্ত্রের নতুন যাত্রার সূচনা করেছে।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আসন্ন রমজানের পণ্য সরবরাহ। চট্টগ্রাম বন্দরসীমায় বর্তমানে ভোগ্যপণ্য বোঝাই প্রায় অর্ধশত জাহাজ আটকা পড়ে আছে। নির্বাচন ও কর্মবিরতির কারণে চাল, ডাল, তেল ও চিনির মতো জরুরি পণ্য খালাস না হওয়ায় বাজারে সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, নতুন সংসদেও ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বজায় থাকছে; যেখানে প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্যই ব্যবসায়ী এবং এদের মধ্যে ১৩ জন বিলিয়নিয়ারসহ মোট ২৩৬ জন কোটিপতি প্রতিনিধিত্ব করছেন।

/আশিক


শপথের প্রস্তুতিতে এমপিদের সংসদে আগমন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ০৯:৫৬:১৬
শপথের প্রস্তুতিতে এমপিদের সংসদে আগমন
ছবি: সংগৃহীত

অধীনতার চুক্তি করে বিদায় নিচ্ছেন ড. ইউনূস: আনু মুহাম্মদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ০৯:০৬:২১
অধীনতার চুক্তি করে বিদায় নিচ্ছেন ড. ইউনূস: আনু মুহাম্মদ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক কৃষি চুক্তির কঠোর সমালোচনা করে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষকদের করপোরেট পুঁজির শৃঙ্খলে আরও গভীরভাবে আবদ্ধ করা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, একটি ‘অধীনতার চুক্তি’ সই করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা থেকে বিদায় নিচ্ছেন।

সোমবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি নেত্রী ইলা মিত্রের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমানে কৃষি ব্যবস্থা আর আগের সামন্ততান্ত্রিক অবস্থায় নেই; বরং এটি এখন করপোরেট পুঁজির আগ্রাসনের শিকার। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের কৃষিকে স্বাধীন করার বদলে বিদেশি করপোরেট স্বার্থের কাছে আরও বেশি জিম্মি করে দিয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন মার্কিন কৃষি ও তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থের বাইরে যেতে পারবে না, যা দেশের খাদ্য সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ইলা মিত্রের জীবন ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ইলা মিত্র কেবল শ্রদ্ধা বা পূজার বিষয় নন, বরং তার আদর্শকে প্রতিদিনের লড়াইয়ের সাথী করতে হবে। সেলিম আক্ষেপ করে বলেন, ইতিহাসের পাঠ্যবই থেকে ইলা মিত্র ও তেভাগা আন্দোলনের কথা আড়াল করে রাখা হয়েছে, যা ইতিহাসের এক বড় বিকৃতি। তিনি মেহনতি মানুষকে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, যে কৃষক ও তাদের সন্তানেরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ দিল, রাষ্ট্র সেই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা না করে খাদ্য ব্যবস্থাকে অন্য দেশের জিম্মায় দিয়ে দিয়েছে। কবি সোহরাব হাসানও ইলা মিত্রের প্রতি রাষ্ট্রের অবহেলার কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতার পর এই মহান নেত্রীকে কেন সম্মানজনক নাগরিকত্ব দেওয়া হলো না বা ব্রিটিশ আমলের মিথ্যা মামলা থেকে কেন তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দায়মুক্ত করা হলো না।

এএলআরডি-র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন যে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের আগেই ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের মাধ্যমে এ দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক খুশী কবির ইলা মিত্রের উদাহরণ টেনে বলেন, যারা মনে করেন নারীরা কিছু করতে পারে না, তাদের ইলা মিত্রের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। অনুষ্ঠানে ইলা মিত্রের জীবন নিয়ে একটি বিশেষ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং তার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

/আশিক


আজ বিকেল থেকে দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ, দৃশ্যমান হবে যেসব দেশে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ০৮:৫৬:৪০
আজ বিকেল থেকে দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ, দৃশ্যমান হবে যেসব দেশে
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম এবং অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংঘটিত হতে যাচ্ছে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। আকাশপ্রেমীদের কাছে এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর একটি মুহূর্ত, কারণ চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে না পারায় সূর্যের চারপাশ দিয়ে একটি উজ্জ্বল আলোর বৃত্ত তৈরি হয়, যা বিশ্বজুড়ে 'রিং অব ফায়ার' বা আগুনের বলয় হিসেবে পরিচিত। বিরল এই দৃশ্য দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিশ্ববাসী।

গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সূর্যগ্রহণের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী এই গ্রহণটি সকাল ৭টা ১ মিনিটে শুরু হবে। সূর্যগ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্বকাল হতে পারে ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত। মহাকাশ বিজ্ঞানের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষণটি নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা পর্যবেক্ষণ।

বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, এই সূর্যগ্রহণটি মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শুরু হয়ে রাত ৮টা ২৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হবে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ থেকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি সরাসরি দেখার সুযোগ থাকছে না। মূলত দক্ষিণ গোলার্ধের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। বিশ্বের যেসব দেশ ও অঞ্চল থেকে এই বিরল 'রিং অব ফায়ার' দেখা যাবে তার মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, অ্যান্টার্কটিকার চিলির অ্যান্টার্কটিক গবেষণার ইয়েলচো ঘাঁটি থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে দক্ষিণ মহাসাগরে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে এই গ্রহণ শুরু হবে। সর্বশেষ মরিশাসের ভিংট-সিনক দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারত মহাসাগরে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে এই গ্রহণ শেষ হবে। মহাকাশ গবেষক ও পর্যটকরা এই মাহেন্দ্রক্ষণটি সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য এরই মধ্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যগুলোতে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।

/আশিক


ভিসা ছাড়াই ৩৭ দেশে ভ্রমণ সুবিধা বাংলাদেশিদের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ০৮:০৪:২১
ভিসা ছাড়াই ৩৭ দেশে ভ্রমণ সুবিধা বাংলাদেশিদের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের প্রভাবশালী পাসপোর্ট শক্তি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের বছরের তুলনায় উন্নত হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত ২০২৬ সালের হালনাগাদ হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন ৯৩তম স্থানে অবস্থান করছে। গত বছর দেশটির অবস্থান ছিল ৯৫তম। অর্থাৎ এক বছরে দুই ধাপ অগ্রগতি হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই ৩৭টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। এই সুবিধার মধ্যে সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশ, অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং কিছু ক্ষেত্রে ই-ভিসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সক্ষমতার বিচারে এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনো নিম্নমুখী।

ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা প্রক্রিয়ায় যেসব দেশে বাংলাদেশিরা ভ্রমণ করতে পারবেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহামা, বার্বাডোজ, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ, কোমোরো দ্বীপপুঞ্জ, কুক দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার ও মালদ্বীপ।

এ ছাড়া মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, মোজাম্বিক, নেপাল, নিউয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেইন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, গাম্বিয়া, তিমুর-লেসতে, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, টুভালু এবং ভানুয়াতুও তালিকায় রয়েছে। এসব দেশের কয়েকটিতে সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে পৌঁছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হয় অথবা অনলাইনে ই-ভিসা আবেদন করতে হয়।

সূচকের শীর্ষ অবস্থানে আগের মতোই রয়েছে এশিয়ার রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর। দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তৃতীয় অবস্থানে আছে সুইডেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা ও পর্তুগাল। আর ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, পাসপোর্ট শক্তি সূচক কোনো দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক ভিসা চুক্তি, আন্তর্জাতিক আস্থা ও বৈদেশিক নীতির প্রতিফলন বহন করে। যদিও ৯৩তম অবস্থান এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত দেশের পেছনে, তবুও দুই ধাপ অগ্রগতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও কূটনৈতিক সক্ষমতার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রফিক


আজ নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন যিনি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ০৭:৫৬:৩০
আজ নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন যিনি
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছেন। শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ গ্রহণ কক্ষে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

সোমবার জারি করা এক স্মারকপত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে অনুষ্ঠান আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সীমান্ত ও উপকূলীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর মহাপরিচালকরা। বিজিবি, র‍্যাব ও কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য ভিআইপি উপস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুসরণে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিও এই আয়োজনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংবিধান অনুসারে গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচিত সদস্যদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে হয়, অন্যথায় তাদের আসন শূন্য ঘোষণার বিধান রয়েছে।

নতুন সংসদের যাত্রা শুরুর এই আনুষ্ঠানিকতা কেবল একটি প্রথাগত আয়োজন নয়; বরং এটি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। মঙ্গলবারের এই শপথের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা পাবে।

-রফিক

আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে এসেছি: প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ২১:৪৯:৫৬
আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে এসেছি: প্রধান উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দীর্ঘ দেড় বছরের দায়িত্ব পালনের পর জাতির কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন। মূলত দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হওয়ার প্রেক্ষাপটেই তিনি এই আবেগঘন বিদায় বার্তা প্রদান করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সেই ক্রান্তিলগ্নে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন নোবেলজয়ী এই ব্যক্তিত্ব। তার নেতৃত্বে গত দেড় বছর দেশ এক সংস্কারমূলক এবং রূপান্তরকালীন সময় পার করেছে। এই সরকারের অধীনেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে এখন সরকার গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, “আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছি।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সমাপ্তি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের চূড়ান্ত পর্যায়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি তার ভাষণে গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতা, চড়াই-উতরাই এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা স্মরণ করেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নির্ধারিত রয়েছে। সেই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সশরীরে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই তার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের অবসান ঘটবে এবং বাংলাদেশে সংসদীয় রাজনীতির একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

/আশিক


রাষ্ট্র সংস্কারের দলিলে চূড়ান্ত সই: নতুন সূর্যের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ২১:১৮:৪৩
রাষ্ট্র সংস্কারের দলিলে চূড়ান্ত সই: নতুন সূর্যের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপিত হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে 'জুলাই জাতীয় সনদে' আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ দলিলে স্বাক্ষর করেন এনসিপি-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পথে দেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

অনুষ্ঠানে জুলাই জাতীয় সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এনসিপি এই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে—এটি ছিল সমগ্র জাতির প্রত্যাশা এবং আজকের এই আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে সেই বিশ্বাসের পূর্ণতা পেয়েছে। এনসিপি-কে এই মহতি উদ্যোগে শামিল হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলো। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই ঐতিহাসিক দলিল যেন প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।

এনসিপির পক্ষ থেকে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের মানুষের আস্থার প্রতি সম্মান জানানোর অঙ্গীকার করেন। তিনি জানান, এনসিপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আগামীকাল শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এই শপথকে তিনি দ্বিমুখী দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন—একদিকে সাংবিধানিক শপথ এবং অন্যদিকে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের শপথ। তিনি আরও পরিষ্কার করেন যে, যদিও এনসিপি এই সনদে সবার শেষে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু এর প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা শুরু থেকেই সর্বোচ্চ তৎপরতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করে আসছে। জনগণের রায় ও প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে এনসিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উক্ত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও সংস্কার প্রক্রিয়ার শীর্ষ প্রতিনিধিরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এছাড়া এনসিপি-এর প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন মনিরা শারমিন, সারওয়ার তুষার, জাভেদ রাসিন এবং জহিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য যে, জুলাই জাতীয় সনদে এনসিপির এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে একটি আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। এই সনদ স্বাক্ষরিত হওয়ায় এখন সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী নবনির্বাচিত সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণে আর কোনো বাধা রইল না। এই ঘটনাকে দেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থিতিশীলতা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

/আশিক


ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ, বদলে যাবে সমীকরণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৭:৫৯:০৭
ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ, বদলে যাবে সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, আর জোট হিসেবে তাদের প্রাপ্ত ভোট ৫১ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ২২৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের মোট ভোট ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াত জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অর্জন করেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট। বাকি অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ দলের ভোট ১ শতাংশের নিচে সীমাবদ্ধ থাকে।

গত তিন সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ১৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ০ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এ ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে মত দিয়েছেন। এর ফলে ভোটের অনুপাতে ১০০ আসনের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, অন্তত ১ শতাংশ ভোট পাওয়া দলগুলো উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব পাবে। সেই হিসাবে সম্ভাব্য বণ্টনে বিএনপি পেতে পারে ৫৬টি, জামায়াত ৩৬টি, এনসিপি ৩টি, ইসলামী আন্দোলন ৩টি এবং খেলাফত মজলিস ২টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট এই গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।

তবে বিএনপি জানিয়েছে, তারা নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় এবং ভোটের অনুপাতের পরিবর্তে সংসদে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, গণভোটে জনগণ সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিয়েছে, ফলে বিকল্প ব্যাখ্যার সুযোগ নেই।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, গণভোটের রায়ে অন্তত ৩৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় তৈরি হয়েছে। তবে যেসব প্রস্তাবে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই।

-রাফসান


বিদায় নিলেন উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৭:৫৭:১২
বিদায় নিলেন উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি বিদায় নেন।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আল সিয়ামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে বিদায় জানান।

বিদায়ের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে তৌহিদ হোসেন বলেন, তিনি পুরোনো জীবনে ফিরে যাবেন এবং লেখালেখিতে সময় দেবেন। তিনি বলেন, “আমি পুরোনো জীবনে ফিরে যাব। কিছু লেখালেখি করব। সেই সুবাদে আবারও আপনাদের সঙ্গে কথাবার্তা হতে পারে। ভালোমন্দ মিলিয়ে দেড় বছর কেটে গেল।”

এরপর মন্ত্রণালয়ের বাইরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

দেড় বছরের দায়িত্ব পালন শেষে তার এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

পাঠকের মতামত: